Golpo romantic golpo রাগে অনুরাগে

রাগে অনুরাগে পর্ব ৫৯


#রাগে_অনুরাগে

#পর্ব_৫৯_(বাসর_স্পেশাল)

#সুহাসিনি_ফাতেহা 

🔞যাদের অতিরিক্ত রোমান্টিক পছন্দ নয় দূরে থাকো দয়া করে।

“এতদিন তোমার সব…সব ধরনের বাহানা আমি মেনে নিয়েছি। কিন্তু আর সম্ভব না। আজকে রাতের জন্য তোমার ঘুম পুরোপুরি নিষিদ্ধ করে দিলাম আমি।”

ফারাজের মাদকীয় কন্ঠে ধ্বনিত হওয়া কথাগুলোর বিপরীতে নিভু কেঁপে উঠলো তিতলির অন্তঃকোণ।  চোখে চোখ রাখতে গিয়েও তিতলি হার মানতে বাধ্য হলো। ফারাজের চোখের চাহনি আজকে অন্যরকম। কোনো রাগ নেই, ক্ষোভ নেই, বিরক্তি নেই,গম্ভীরতা নেই, যা আছে তা কেবল একরাশ মাদকতা। তিতলিকে কাছে পাওয়ার ব্যাকুলতা। এচোখদুটোর দৃষ্টি তিতলির রুহু অবধি পৌঁছে গিয়েছে। হৃদস্পন্দন আকাশ ছুঁয়েছে। শ্বাস-প্রশ্বাস অস্বাভাবিক হয়েছে। বুকের উঠারামার গতি বেড়েছে। এটা ভেবেই যে কি হতে পারে তার সাথে?

 ওদিকে অধৈর্য ফারাজ  ততক্ষণে তিতলিকে পাঁজা কোলে তুলে নিলো। কোলে রেখে ওভাবেই গলায় ঠোঁটে বেসামাল ভঙ্গিতে চুমু আঁকতে আঁকতে তিতলিকে বিছানায় শুইয়ে দিলো। ফুলে সাজানো নরম বিছানায় পিঠ ঠেকল তিতলির। সর্বাঙ্গজুড়ে লাজ। লজ্জায় তার চিবুক এসে ঠেকেছে গলায়। চোখ মেলে তাকাতে পারছেনা। কি করবে না করবে ভেবে দুহাত বুকে গুঁজে রাখল।

তিতলির নিশ্চুপতায় ফারাজ সম্মতির লক্ষণ ধরে নিলো। মুহূর্তে ফারাজ তিতলির উপর ঝুঁকে তিতলির দু’হাত নিজের একহাতে মুঠোবন্দি করে তিতলির মাথার পেছনে টানটান করে চেপে রাখল।

অতঃপর কোনো রকম ভনিতা না করে তিতলির কানের কাছে মুখ ঠেকিয়ে ফিসফিস করে শুধালো,

“মাঝপথে এসে বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করবে না। বাঁধা দিলেও আমি শুনব না। আজ জ্ঞান হারালে কিছুতেই মানবো না।”

বলেই তিতলির নরম তুলতুলে শরীরের উপর নিজের সম্পূর্ণ ভার ছেড়ে দিল ফারাজ। বুক থেকে সরিয়ে দিলো শাড়ির আঁচল। ঠোঁটের ছোঁয়ায় ভিজিয়ে দিতে লাগল রমণীর গলা,ঘাড়। তিতলি মুঁচড়ে উঠল। ছটফটিয়ে উঠল পুরুষালি দেহের নিচে থেকে ছাড়া পাওয়ার আশায়। তিতলিকে আজ নড়াচড়া করার কোনো সুযোগ দেওয়া হলো না। সেখানে ছাড়া পাওয়া তো দূরের বিষয়। ফারাজ এমন ভাবে তাকে আষ্টেপৃষ্টে ধরে রেখেছে। যে তার দুপা ফারাজের বলিষ্ঠ দু’উরুর মাঝখানে শক্ত করে চেপে রাখা। হাত মুঠোবন্দি করে রাখা। ফারাজের পেশিবহুল শরীরের ভারে পেটের নাড়িভুঁড়ি সব বেরিয়ে আসার উপক্রম। যার কারণে অজান্তেই তিতলির মুখ দিয়ে “ছাড়ুন” শব্দটা বের হয়ে গেল। 

“ছা–ছা–ছাড়ুন!”

এমন একটা মুহূর্তে তিতলি এই “ছাড়ুন” শব্দটা উচ্চারণ করায় ফারাজের মাথায় আগুন ধরে গেল। আজকে রাতে তিতলি তাকে বাঁধা দিলে সে কি করবে নিজেও জানেনা। সে রেগে বললো,

“চুপ…চুপ একদম! আর একটাবার ছাড়ুন শব্দ মুখে উচ্চারণ করবেনা। আজকে আমি নিজ থেকে না ছাড়া অবধি আমার থেকে কোনো নিস্তার নেই তোমার।”

কথাটা বলে ফারাজ নিজের গায়ের শার্টটা ছুঁড়ে তিতলির ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে দিলো আবার। ছাড়ুন বলায় ঠোঁটে দুএকটা কামড়ও বসিয়েছে। ঠোঁটের ব্যথায় এবার চোখের কোণ ভিজে গিয়েছে তিতলির। শ্বাস নিতে না পেরে আবারও ফারাজকে রাগিয়ে দিতে অস্ফুট গলায়  দু’একবার ছাড়ুন! ছাড়ুন! শব্দ উচ্চারণ করলো। ফারাজ তিতলির ঠোঁট ছেড়ে তিতলির মুখের পানে তাকায়। অস্থির ফারাজ নিশ্বাস ফেলতে লাগলো ঘনঘন। অতো ঠান্ডাতেও সে  ঘামছে। শরীরের প্রতিটা স্নায়ুকোষ দাউদাউ করে জ্বলছে। ভস্ম করে দিচ্ছে। নিশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে।

সে জানে তিতলি তাকে বারবার বাধা দিতে চাইবে। 

 এই মেয়ে তাকে একটু শান্তিতে চুমুও খেতে দিচ্ছেনা। আসল কাজে গেলে তখন কি করবে আল্লাহ জানে। ব্যাপার না! মুরগী শিকার করার আগে একটু পটাতে হয় সেটা ফারাজ খানের অজানা নয়। ফারাজ ফিচেল হেসে বললো,

“জন্মদিনের গিফট চাইনা তোমার?  তুমি-ই তো বলছিলে তোমার গিফট হিসেবে বাচ্চা চাই। আমি তোমাকে গিফট না দিয়ে থাকতে পারবো?স্যরি বউ এতটা পাষান আমি ফারাজ খান নয়। আর তোমার ক্ষেত্রে তো একদমই নয়।”

 তিতলি ভয় পায়। দিশেহারা হয়ে পড়লো। কেন এমন গিফট চেয়েছিল! কানামাথা গলায় বললো,

“আমার…আমার আপনাকে ভয় করছে।”

ফারাজের কন্ঠস্বর এক মুহূর্তে যেন বদলে যায়। তিতলির মনে হয় এই কন্ঠস্বর ওর কাছে নতুন আবিষ্কার—-

“ভয় করবেনা। আমি আছি ভয় করবেনা জান। একটু শান্ত হও।”

তিতলি চোখ বন্ধ অবস্থায় কানামিশ্রিত গলায় বললো,

কিভাবে শান্ত হবো আপনি…আপনি আমাকে ব্যথা দিচ্ছেন।

ফারাজ তিতলির নাকে নাক ঘষে হাস্কি সুরে বললো,

“সহ্য করে নাও। আমি আগেই বলছি আমার নরমসরম আদরে পোষায় না। আর এখনও তো আসল কাজেই যায়নি। তার আগে এসব কথা বললে হবে।”

ফারাজ চাই তিতলি নিজ থেকে তাকে চাক।  জোর করে অধিকার খাটানোর মতো কিছু করার ইচ্ছে ছিল না। নেইও। যদি জোর করার ইচ্ছে থাকতো তাহলে অনেক আগেই জোর করে নিজের অধিকার খাটাতে পারতো। কিন্তু এমুহূর্তে সে তিতলি এসব ছাড়ুন ওয়ার্ড উচ্চারণ করায় ফারাজের মাথা গরম হয়ে যাচ্ছে রীতিমত! কন্ঠ আটকে যা্চ্ছে,

“আমি…আমি চাই তোমার শরীরের প্রতিটা ভাঁজেভাঁজে আমার ছোঁয়া আমার অস্তিত্ব মিশে একাকার হয়ে যাক। আই ওয়ান্ট টু মেক ইউর মাইন। তুমি…তুমি কি চাও না  পুরোপুরি আমার হতে?”

অতো ব্যাকুল কন্ঠ। এই কন্ঠের মানুষটার জন্য তিতলি ভীষণ দুর্বল। বিশেষ করে যখন ফারাজ তার সাথে ওমন নরম গলায় কথা বলে। তার ফারাজকে সে ফিরিয়ে দিতে পারবে! উহু মোটে পারবেনা। ব্যথা সহ্য করে নিবে। না চাইতেও নিভুনিভু চোখে তাকায় ফারাজের মুখের দিকে । অসম্ভব লাল চেহারা। নেশাতুর চোখে তাকিয়ে ফারাজ। তিতলি আর কিছু বলার মতো ভাষা খুঁজে পেল না। বুক ভরে শ্বাস নিলো। অজানা অনুভূতিতে আবার চোখজোড়া বন্ধ করে ফারাজের পিঠে হাত রাখল।

ফারাজের ঠোঁটের কোণে মৃদুহাসি ফুটল। 

শ্বাসরুদ্ধকর কণ্ঠ ভেসে বেড়াল মুষলধারা বৃষ্টির আওয়াজ ছাপিয়ে, 

“ম রে যাচ্ছিলাম, এখন মনে হচ্ছে দেহে প্রাণ ফিরে পেলাম।”

ওদিকে লজ্জায় তিতলি খানিক পরপর শাড়ির আঁচল টেনে নিতে চাইছে। বারবার একই কাজ করায় ফারাজ বিরক্ত হয়ে বুক থেকে খামছে ধরে সম্পূর্ণ শাড়ি একটান দিয়ে খুলে ফেলল। কিন্তু বুকের অংশ ধরে শাড়ি টান দেওয়ায় পিঠের পেছনে ব্লাউজের  সব ফিতার গিট গুলো খুলে গেল। ব্লাউজ টাও শাড়ির সাথে ঢিলে হয়ে ফারাজের হাতে চলে এলো। উন্মুক্ত হয় সব। এপর্যায়ে লজ্জায় তিতলির মরিমরি অবস্থা হয়েছে। 

ফারাজ মোহাবিষ্ট নয়নে তিতলির দিকে তাকিয়ে আছে। ডিমলাইটের নিয়ন আলোয় তরঙ্গিত হয় তার পুরুষালী এ্যাডামস অ্যাপেল। অস্থির মানব শব্দ করে ঢোক গিললো বোধহয়। তিতলি সর্বোচ্চ  চেষ্টা করছে নিজেকে ঢাকার। উপুড় হয়ে শুয়ে নিজের বুকে দুহাত চেপে রাখল। সেমুহূর্তে ফারাজ তিতলিকে একহাতে শূণ্য তুলে আবার সোজা করে শুয়ে দিলো। তিতলির দুহাত পুনরায় চেপে ধরে পরপর ঘোর লাগা কন্ঠে আওড়ায়—

“লেট মি সি হোয়াটস মাইন।”

তিতলির প্রফেসব সাহেব নিজের নির্লজ্জতার সকল সীমা লঙ্ঘন করে আচমকা তিতলিকে আবদ্ধ করলো নিজ বলিষ্ঠ দেহের আড়ালে। 

অতঃপর উন্মুক্ত গলায়, ঘাড়ে, ব*ক্ষে পাগলের মতো চুমু আর কামড় দিতে শুরু করল। নাভির কাছে এসে চারপাশে জিভ দিয়ে লেহন করতে করতে পেটের নরম চামড়া কামড়ে ধরে রাখল। একটা মানুষরূপী রাক্ষসে পরিনিত হয়েছে ফারাজ।ধীরেধীরে তার সকল স্পর্শ আরো লাগামহীন হওয়া শুরু করল। তিতলির চোখ ভিজে গাল বেয়ে পানি পড়ছে। ফারাজের লাগামহীন আদরগুলো সামলাতে গিয়ে বড্ড দিশেহারা সে। 

সময়ের সঙ্গেমঙ্গে লাজুক রমণীর শরীর থেকে সকল আবরণ সরতে শুরু করল। দুজনের শরীরের সমস্ত আবরণ স্থান পেল রুমের ঠান্ডা মেঝেতে। 

 তিতলির লজ্জায় নিজেকে ঢাকতে চেষ্টা করছিল। তার শরীরের প্রত্যেকটা ভাঁজ আজ ফারাজের সামনে উন্মুক্ত। ফারাজের ঠোঁটের ছোঁয়া তিতলির নগ্ন শরীরের প্রতিটা ভাঁজেভাঁজে স্পর্শ করে যাচ্ছে। ভিজিয়ে দিচ্ছে। কামড় দেয়নি এমন কোনো জায়গা বাদ রাখল না। মৃদুসুরে বলতে লাগলো,

“এখন যা করবো তাতে তোমার কষ্ট হবে। চোখ বুঁজে সহ্য করে নিবে! ওকে? তবে চাইলে আমাকে আরও উৎসাহিত করতে পারো।”

অবশেষে গনিয়ে এলো দুজনের মধ্যেকার সেই অন্তরঙ্গ মুহূর্ত। রাত বাড়ছে। বাড়ছে সময়ের গতিও। বাইরে ঝমঝমিয়ে ঝরছে অসময়ী বৃষ্টি। শাোনা যাচ্ছে মেঘের গর্জন। সাথে একেঅপরের সাথে মত্ত হয়েছে দুটি নগ্ন দেহ।

______

শিফা গোসল সেড়ে ওয়াশরুম থেকে বের হয়েছে। গায়ে সাদা তোয়ালে জড়ানো। লম্বা চুল বেয়েবেয়ে পানি পড়ছে। ফর্সা ঘাড়ে,গলায় পানি চাকচিক করছে। ল্যাগেজ খুলে কামিজ হতে নিলো। কিন্তু হঠাৎ পেছন থেকে আক্রমণ ঘটল। শাওন পেছনে দাঁড়িয়ে। তার শক্ত হাত শিফার কোমরে বিচরণ করছে। শিফা কেঁপে উঠল। চেঁচিয়ে উঠল,

“এই ছাড়ো আমি গোসল করে এসেছি  ঘুমাবো।”

শাওন শিফাকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে আনলো। তড়িৎ শিফার ঠোঁটে একটা চুমু বসিয়ে দিলো

পরপর দুষ্ট গলায় বললো,

“গোসল করেছো তো কি হয়েছে আবার করবে।”

শিফা হতভম্ব! নিজের ঠোঁটে হাত দিয়ে রেখেছে। কিছুক্ষণ পর রেগে বললো,

“অসম্ভব! আমি আবার গোসল করতে পারব না। তুমি করো।”

“আমি একা গোসল করবো? নো নেভার। কক্ষনো না।”

কথাটা বলে শাওন বাঁকা হেসে আচমকা শিফার হাত থেকে কামিজটা চিনিয়ে নিলো একপ্রকার। তারপর শিষ বাজাতে বাজাতে পুরো রুমজুড়ে ঘুরতে শুরু করল।

“আমার জামা দাও বলছি।”

শিফা শাওনের পেছনে ছুটতে শুরু করল। পরনে তোয়ালেটা বারবার ঢিলে হয়ে আসছে। সে আবার ঠিক করে নিচ্ছে। এই দৃশ্যটা দেখে শাওনের হাতের থেকে জামাটা ঢিলে হয়ে এলো। ঢোক গিললো,

“তুমি যদি জামা চাও তাহলে আমি…. আমি না”

“আমি তোমার কোনো কথা শুনতে চাইনা শাওন। আমার ভীষণ ঘুম পাচ্ছে নাটক শেষ করো তো।”

শাওন ধীরপায়ে শিফার দিকে এগিয়ে আসতে শুরু করল ফের। শিফাও পেছাতে লাগল। শাওন এখন শিফার কাছে এসে দাঁড়িয়েছে। বলছে,

“আচ্ছা তোমার কি মনে হচ্ছে না পাশের রুমে টর্নেডো চলছে। বাইরে ঝড় বৃষ্টি বাতাস। আমরাও তো হানিমুনে এসেছি তাইনা?আজকের ওয়েদার টা দেখছো কত রোমান্টিক।”

শিফার মুখটা লাজে লাজুক হয়ে উঠল মুহূর্তেই।  মাথা নত করে নিয়ে নিলো। কি পাঁজি লোক। মাঝেমধ্যে এমন অসভ্য কথা বলে। শিফা নিজেকে স্বাভাবিক করে বললো,

“তো আমি কি করবো শুনি?”

” তুমি কিছু করা লাগবে না আনরোমান্টিক বউ। যা করার আমাকেই করতে হবে দেখছি।”

কথাটা বলেই শাওন কোনোরুপ ভনিতা ছাড়া শিফারর একদম কাছে চলে আসে। দুজনের নিশ্বাস একত্রিত হয়। শিফার  চোখে চোখ রেখে শাওন হুট করেই  শিফাকে তুলে নেয় কোলে। শিফা কিছু বলার জন্য উদ্যেত হতেই শাওন ফিচেল হেসে বললো,

“চলো বউ! একটা শিশু আনার মিশনে নেমে পড়ি?”

________

রাতের শেষ প্রহর চলমান। ঘড়ির কাঁটা ঘুরছে রাত চারটা একুশে। প্রথমে মুষলধারা বৃষ্টি আর এখন দানবীয় ঝড়। তারউপর ঘূর্ণিবায়ু। ঘর্ণিঝড়ের বিপদ সংকেত দেখা যাচ্ছে আগামী কাল থেকে। যার ফলস্বরপ আজকে রাত থেকেই ঝড় তুফান সব একসাথে পৃথিবীতে হানা দিয়েছে। রুমে ঠান্ডা আবহাওয়া  বাইরে সুমদ্রের বিশাল গর্জন। বেলকনি ভেদ করে হুড়হুড়ে বাতাস, রঙবেরঙ ফুলের রুষ্টে যাওয়া সুভাসে অন্যরকম একটা সুভাসে পরিনিত হয়েছে। 

ফারাজের দীর্ঘ সাতাশ বছর ধরে জমিয়ে রাখা বেপরোয়া আদরের তীব্রতায় তিতলির নরম তুলতুলে শরীরের সকল অঙ্গপ্রত্যঙ্গ চূর্ণবিচূর্ণ করে ছেড়েছে। ভূমিকম্পের ন্যায় কাঁপিয়ে তুলেছে তুলতুলে শরীরের প্রতিটা হাড়গোড়। তিতলি অর্ধজ্ঞানে। অসহ্যনীয় যন্ত্রনায় তার মায়াবী মুখশ্রী বিবর্ণ,অধরযুগল কম্পমান। নিভুনিভু চোখের পাতা  কাঁপছে। ব্যথায় গুঙিয়ে উঠছে একটু পরপর। মুচড়ে উঠছে শরীর। অথচ সেদিকে ফারাজের কোনো খেয়াল নেই। সে নিজ কাজের আদিম নেশায়  মত্ত। 

অর্ধজ্ঞানে থাকা তিতলি সব উপলব্ধি করতে পারছে। মনে হচ্ছে যেন সে বিছানায় প্রচন্ড ঝাঁকুনিতে দুলছে।  বিছানা নড়ে উঠছে। সাজানো সব ফুল ছিড়েছুড়ে তার গায়ে পড়ছে। তিতলি প্রচন্ড ভয় পায়। মস্তিষ্কের কোথাও একটা ভূমিকম্পের নাম প্রবাহিত হয়। বলতে ইচ্ছে হয়,

” ফারাজ  এখনো কেন থামছেনা। ভূমিকম্প কি সে উপলদ্ধি করতে পারছেনা।”

কিন্তু কিছু বলতে পারেনা। কথা বলার শক্তিটুকুও সে পাচ্ছেনা।। মুখ খুলার আগেই তার গোলাপের পাপড়ির মতো ঠোঁটদুটো ব্যথায় টনটন করে উঠে।

ফারাজের বলিষ্ঠ দেহের প্রচন্ড ঝাঁকুনিতে কেঁপে উঠছিল বিছানা। কিন্তু সেটা অর্ধজ্ঞানে তিতলির কাছে ভূমিকম্প রুপে ধরা দিচ্ছে। 

____

সময় চলে যায়। ফজরের আযান শুনা যাচ্ছে অদূরে। টানা চারঘন্টা সময় পর নিজেকে শান্ত করতে পেরেছে ফারাজ। তখন বিছানায় অর্ধজ্ঞানে থাকা তিতলিকে দেখে ফারাজ বাকরুদ্ধ হয়ে অসহায়ের মতো তাকিয়ে রইলো তিতলির বির্বণ মুখপানে। ধবধবে ফর্সা নগ্ন শরীরে অসংখ্য ক্ষত বিক্ষত দাগ। ফারাজকে বড্ড হেল্পল্যাস লাগছে। করুণ দেখাচ্ছে। সময় নষ্ট না করে ফারাজ বিছানার চাঁদর পেঁচিয়ে তিতলিকে পাঁজাকোলে তোলে নেয়। তিতলি অস্পষ্ট স্বরে কেঁদে দেয়। শরীরে সামান্য নড়াচড়া টুকুও সহ্য করছে না। একেকটি শ্বাসপ্রশ্বাসের সঙ্গেও ব্যথা জর্জরিত হয়ে আছে যেন। এক নাজেহাল অবস্থা তৈরি হয়েছে। সে চোখ মেলে তাকাতে চায়। জানতে চায়,

 “ফারাজ এখনো কেন এমন  করছে! তাকে কেন ঘুমোতে দিচ্ছে না! তার কান্না কি চোখে পড়ছেনা? তার কষ্ট হচ্ছে সেটা কি উপলদ্ধি করতে পারছেনা।”

 কিন্তু সেটা বলার শক্তিটুকুও অবিশিষ্ট নেই। হঠাৎ গায়ে উপর ঠান্ডা পানির স্পর্শ অনুভব করল তিতলি। তেলেবেগুনে জ্বলে উঠলো মেয়েটা। সমস্ত ত্বক জ্বলসে যাবে যেন। ছটফটানির মাঝেই  মৃদু আর্তনাদ করল, 

“আহহহ!”

রমণীর ওমন ব্যথাতুর আওয়াজে অস্থির হয়ে উঠে ফারাজ। নিজের বুকের সাথে  আরও শক্তভাবে তিতলিকে জড়িয়ে ধরল। কেন  নিজেকে একটু জ্যান্টেল রাখতে পারল না সে। ফারাজ তিতলির কপালে আদুরে ঠোঁট ছুঁয়ে দিচ্ছে ক্ষনে ক্ষনে। মুখশ্রী করুণ দেখাল। ব্যাকুলতা আষ্ঠেপৃষ্ঠে লেপ্টে রয়েছে। লম্বা শ্বাস টানলো,

“কি হয়েছে? জান কষ্ট হচ্ছে? অনেক বেশি ব্যথা করছে?”

প্রত্যুত্তর করার ফুরসত নেই তিতলির। ব্যথাতুর যন্ত্রনায় গলা কাঁটা মুরগীর মতো করছে। চোখের কোণ বেয়ে পানি পড়ছে। সে অনুভব করে ফারাজ তাকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে রেখেছে। তারা ওয়াশরুমে গোসল করছে। অন্যসময় হলে তিতলি লজ্জায় খাটের নিচে ঢুকে যেতো। কিন্তু এখন সে চোখ মেলে তাকাতেও পারছেনা। 

#চলবে।

পরবর্তী পর্ব চাইলে রিয়েক্ট কমেন্ট সব করো। তবেই আসবে। নয়তো কখন আসবে জানিনা। আমি আরো নরমাল করে লিখতে চেয়েছি কিন্তু তোমরা বলো রোমান্টিক তাই🐸

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply