#রাগে_অনুরাগে
#পর্ব_৫৩
#সুহাসিনি_ফাতেহা
তিতলি শাশুড়িকে ডাকার নাম করে রুমে আসলো ফারাজকে কল দেওয়ার জন্য। সে যে ডাক্তারকে বলে এসেছে একঘন্টার ভেতরেই ফারাজ ওয়াশরুম থেকে বের হবে। যদি ফারাজ আসতে একঘন্টার চেয়েও বেশি দেরি হয়? তখন? তার’উপর ফারাজ যাওয়ার সময় বলে গেছে আজকে আসতে দেরি হবে। তাই যেভাবেই হোক ফারাজকে এক্ষুনি বাড়িতে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। ডাক্তার এসেছে বললে ফারাজ সহজে আসবেনা। তাই অন্য বুদ্ধি খাটিয়ে নিয়েছে ইতিমধ্যেই। অবশেষে ফারাজকে কল দিলো। প্রথমে চারবার রিং হয়ে কেটে গেল। কিন্তু তিতলি হাল ছাড়ল না। পরেরবার ফোন দিতে সাথেসাথেই রিসিভ হলো। তিতলি গলাটা একটুখানি অভিমানি করার চেষ্টা করে বলল,
“কল রিসিভ করতে এতসময় লাগলো কেন শুনি?”
“কাজ করছি।”
তিতলি ফোনটা কান থেকে নামিয়ে রাখল খানিকক্ষণ। দাঁতে নখ কাটতে কাটতে ভাবুক হয়ে রইল। ভাবছে ফারাজ তার কথা বিশ্বাস করবে কিনা? সে এখন যে কথাগুলো বলবে সে কথাগুলো মূলত ফারাজকে পটানোর টিপস। ওড়না আঙুলে পেচাতে পেচাতে পটানোর সুরে বলল,
“এখন কাজ বাদ দিলে হয়না?
“কেন?”
তিতলি নিজেকে প্রস্তুত করল। আদুরে,আদুরে গলায় একনাগাড়ে বলল,
“আমার…আমার আপনার প্রতি খুউউব প্রেমপ্রেম পাচ্ছে প্রফেসর সাহেব। আপনি কলেজে আর আমি বিছানায় বসেবসে আপনার আদর পাওয়ার অপেক্ষায় প্রহর গুনছি। এখন আপনার উচিত আপনার বউয়ের কাছে ছুটে আসা, তাইনা বলুন?”
ওপাশ থেকে কোনো সাড়াশব্দ এলো না। শুধু টুকটুক ল্যাপটপের বাটন চাপার শব্দ আসছে। তিতলি ভাবছে আরে বিশ্বাস করল না নাকি?
তিতলি ফের বলল,
“শুনছেন কী বলছি আমি?”
“মতলব কী সেটা বলো?”
“কোনো মতলব নেই সত্যি বলছি। আপনাকে ভীষণ মনে পড়ছে। আদর পেতে…”
তিতলির কথার মাঝেই ওপাশ থেকে গম্ভীর গলায় ফারাজ বলল,
“ভিভিও কল দেওয়া হোক।”
তিতলি সাথেসাথেই জবাব দিলো,
“মোবাইলে আদর করলে হবেনা। বাড়িতে আসা হোক।”
” ইমর্পোটেন্ট কাজ করছি আমি।”
তিতলি গলায় তেজ এনে বলল,
“আপনার কাজ আগে নাকি আমি আগে? কোনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ?”
“যখন কাজ করব তখন আমার কাজ আগে, আর যখন তোমার সাথে রোম্যান্টিক মুডে থাকব তখন তুমি আগে। এবার ক্লিয়ার?”
“নাহ, মোটেও ক্লিয়ার হয়নি আরও পরিষ্কার করে….
তিতলির কথার মাঝেই ওপাশ থেকে ফারাজ খানিকটা কৌতুক করে বলল,
“হোয়াট? আরও পরিষ্কার করতে হবে বুঝলাম ? ওকে ব্যাপার নাহ। বাড়িতে আসলে আমি নিজ হাতে সব পরিষ্কার করে দেবো।”
তিতলি হতবাক। এই লোকের ঠোঁটকাটা কথায় তার কান বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম, মনেমনে ভাবলো,
“কি বলতে চাইলাম। আর উনি কথা কেড়ে নিয়ে কিসব বলছে, এই লোকের মাথায় কি সবসময় এইসবই ঘোরে?ছিহঃ!”
কিন্তু কিছু না বুঝার ভান করল। সে যদি এখন রেগে যায় তাহলে তার জ্যান্টেলম্যান ফারাজ বুঝে যাবে তার মতলব সুবিধার না। ফারাজকে বাড়িতে আনা পর্যন্ত নিজেকে রোম্যান্টিক রাখতে হবে। এখন তার উদ্দেশ্য ফারাজকে পটানো। তাই বলল,
“হ্যাঁ, হ্যাঁ কিন্তু আগে আমার পুরো কথাটা তো শুনুন।”
দীর্ঘক্ষণ মনেযোগ দিয়ে কাজে ডুবে থাকায় হঠাৎ তিতলির একটা ফোনে কাজ থেকে সম্পূর্ণ মনেযোগ সরে গিয়েছে ফারাজের। অজান্তেই ল্যাপটপের শাটার বন্ধ করে দিয়ে কাজ থেকে বিরতি নিলো। বউয়ের মতলব সুবিধার না সেটা সে প্রথমেই বুঝে গিয়েছে। নিশ্চয়ই এবারও কোনো মতলব নিয়ে তাকে কল করেছে। নয়তো নিজ থেকে তাকে ফোন দিয়ে আদরের কথা বলবেনা। তার বুদ্ধিমতি বউয়ের আগাগোরা বুদ্ধিসুদ্ধি দিয়ে ঠাসা। কিন্তু তার কাছে এসব বুদ্ধি নিছক বোকামি ছাড়া কিছুই না। কেন যেন তার ভালোই লাগে ঐসব। ঠোঁট কামড়ে ভাবলো বউকে একটু জ্বালাতে পারলে মন্দ হয়না। এবার শক্ত গলায় বলল,
–“ঠিকমতো কোনো কাজ করা যাবেনা দেখছি। এত জ্বালাও কেন আমায়? কি সুখ পাও আমাকে জ্বালিয়ে?”
তিতলি চেতে গিয়ে বলল,
–“আমি আপনাকে জ্বালায়?”
–“সন্দেহ আছে?”
–“দরকার পড়লে আরও বেশি জ্বালাবো। আপনার কি তাতে? হুহ!”
–“কিছু লাগলে বলো নিয়ে আসবো। তাও নাটক শেষ করো।”
–“আমার কিছু লাগবেনা শুধু আপনাকে লাগবে। আপনার সব লাগবে।”
–“রাতে সব দিবো। পেন্ডিং কাজটাও বাদ রাখবোনা।”
–“আপনি সেদিন বলছেন আদর করতে রাত দিন লাগেনা। আপনার কাছে এসবে রাতদিন সমান।”
–“হু কোনসবে?”
–“ওসবে?”
–“ওসবের নাম না বললে বুঝবো কী করে?”
তিতলি খুব ভালোভাবে বুঝলো ফারাজ সব জেনেও না জানার ভান করছে। সেও কম কিসে? বলল,
“আমি কিসের কথা বলছি আপনি সব জানেন,বোঝেন কিন্তু এখন না জানার ভান করছেন তাইনা? ওকে , এখন থেকে আপনি কাছে আসতে চাইলে তখন আমিও না জানার ভান করব হুহ! দেখে নিয়েন।”
–“তুমি নিজের ইচ্ছেতে দেখাতে চাইলে আমি কেন থোড়াই না করব।”
তিতলি কান থেকে মোবাইল নামিয়ে মনেমনে বলল,
–“কি বজ্জাত লোক।”
এবার কিন্তু সে চরম বিরক্ত হয়ে যাচ্ছে। রেগে বলল,
–“আপনি আসবেন নাকি আসবেন না?
–“না।”
–“সত্যি আসবেন না?”
–“ফোন রাখো।”
–“আপনি যদি এখন বাড়িতে না আসেন, আর কখনো আমাকে আদর করতে পারবেন না। আমি এক্ষুনি বাপের বাড়ি চলে যাবো।’
ওপাশ থেকে ফারাজ খুব শান্ত ভাবে বলল,
–“যাও।”
তিতলি কী তবে নিজের কাজে সফল হতে পারবেনা? হার মেনে যাবেনা সে। বলল,
–“আমি আর কখনো আপনার সাথে ধার কাছে যাবো না।”
ফারাজ কিছু বলছেনা দেখে তিতলি ফের বলল,
“আলভি ভাইয়া, অয়ন ভাইয়া এসেছে। আমি যায়!”
“কখন এসেছে?”
“আপনাকে কেন বলব শুনি? আপনি আপনার কাজ করুন। যান! আজকে থেকে কাজ আপনার বউ,কাজকে চুমু খান,কাজকে জড়িয়ে ধরুন,কাজকে বউ ডাকেন,আমি আপনার বউ না।”
চেতে গিয়ে কথাটা বলে তিতলি কল কেটে দিলো। করুক কাজ। হুহ! হুমকি ধুমকি দিয়ে আয়নায় একবার নিজেকে দেখে নিলো। কত এক্টিং না পারে সে। নিধি আর সিয়াম বলতো তাকে বাংলা নাটকের সিরিয়ালে নাম দিতে। তাদের কথা ধরে যদি নাম দিতো এতদিনে নামকরা নায়িকা হয়ে যেত আর ফারাজকে তার নায়ক বানিয়ে দুজনে মিলে নাটক করতো।
★
তিতলি ফারাজের সাথে কথা বলার প্রায় ত্রিশ মিনিট পর নিচে নামল। ফারাজ তো আসবেনা এখন নিচে গিয়ে কি জবাব দিবে সেটা ভেবে যায়নি। এখন অনেক দোনোমনা মধ্যে দিয়ে নিচে নেমে এসেছে। এসে দেখল আলভী আর অয়ন এসেছে। ওদের দেখে তিতলি আরো অবাক। কারণ সে আলভী আর অয়নের কথা ফারাজকে বানিয়ে বানিয়ে বলেছে। যাক তার বানানো কোনো কথা অবশেষে সত্যি হলো। নয়তো ফারাজকে বলা তার সব কথা মিথ্যা হয়ে যেত। ফারিন বেগম নাস্তা দিয়েছেন ওদের সাথে ডাক্তারও আছে। ডাক্তারের আফজাল খানের সাথে ভালো সম্পর্ক বলেই এতক্ষণ বসে আছেন। নয়তো কখন চলে যেতেন।
তিতলিকে আসতে দেখে আলভী আর অয়ন একসাথে বলে উঠলো,
“কি অবস্থা ভাবি?”
“ভালো আছি। আপনারা কেমন আছেন ভাইয়া?”
অয়ন ঠিক ভাবে ভালো আছি বললেও আলভী বলল,
“আমরা আর ভালো থাকি কেমনে?”
তিতলি সোফায় শাশুড়ির পাশে বসতে বসতে বলল,
“কেন কি হয়েছে ভাইয়া?”
শুনলাম ফারাজ ভাই নাকি….”
আলভী মুখথেকে তিনতিনটা বাক্য বের করেছে সবে। তক্ষুনি সদর দরজা দিয়ে ফারাজকে ঢুকতে দেখা গেল। সবাই সেদিকে তাকাল। আলভী বলল,
“এইতো নাম বলতে না বলতেই মাস্টর সাহেব হাজির।”
ওদিকে তিতলি হতবাক। সে তো ভেবেছে ফারাজকে পটাতে পারেনি। ফারাজ তার কথা বিশ্বাস করেনি। তবে কী? বিশ্বাস করে নিলো? মনেমনে নিজের প্রশংসা করে বললো,
“ডোজ তাহলে কম হয়নি, কাজ হয়ে গেছে।”
ফারাজ ড্রয়িংরুমের মাঝামাঝি আসতেই ডাক্তার সমেত অয়ন আলভী তিতলিকে দেখে দাঁড়িয়ে পড়ল। সবাই তার দিকে তাকিয়ে। ডাক্তার ফারাজকে দেখা মাত্রই ভ্রু কুঁচকে বললেন,
“কী ব্যাপার ফারাজ? তোমার স্ত্রী বললো তুমি নাকি ওয়াশরুমে তাহলে বাইর থেকে আসছো কেন?”
ফারাজ ভ্রুদ্বয়ের মাঝখানে সূক্ষ্ম ভাঁজ নিয়ে ডাক্তার করীমের দিকে তাকাল। সে কখন ওয়াশরুমে? তারচেয়ে বড়কথা ডাক্তারকে দেখে তার বুঝতে বাকি থাকেনা তিতলির ফোনে তাকে এসব বলে বাড়িতে ডেকে আনার কারণ টা যে কি। য যদিও সে সন্দেহ করেছে। কিন্তু ডাক্তারের বিষয়টা ভাবেনি। চারদিকে তাকিয়ে দেখল আলভী, অয়ন তিতলিও শাশুড়ির পাশে বসে মিটিমিটি হাসছে। ফারাজ চোখ কটমট করে তাকাতেই সকলের মুখের হাসি উধাও হয়ে যায়।
ফারিন বেগম পুত্রবধুর বুদ্ধিকে প্রশংসা করলেন মনেমনে। কিন্তু ডাক্তারকে বললেন,
“আরে ডাক্তার সাহেব ফারাজ গোসল করে পেছনের দরজা দিয়ে কখন যে বেরিয়ে গিয়েছে। এখন এসেছে। তাইনা ফারাজ বল?”
ফারাজ চোয়াল শক্ত করে তিতলির দিকে তাকিয়ে আছে। কারণ সবকিছুর পেছনে তিতলির হাত। আজকে এই বউকে হাতের কাছে ফেলে আদরের শখ মেটাবে না? তিতলি আড়চোখে তাকিয়ে ফারাজের রাগী দৃষ্টি দেখে মুখ ভেংচি কাটল। ফারাজ দাঁতে দাঁত চেপে চলে যেতে চাইলে ফারিন বেগম ছেলেকে বললেন,
“একী উপরে কেন যাচ্ছিস ফারাজ? ডাক্তারকে দেখা তোর বুকে আঘাত লেগেছে যে ওটা সেলাই করতে হবে কিনা।”
অয়ন,আর আলভী বলল,
“ফারাজ ভাইয়ের আঘাত লেগেছে কী করে চাচিমনি?”
“সেদিন রাতে…”
ফারিন বেগমের কথার মাঝেই ফারাজ গম্ভীর গলায় বলল,
“ডাক্তারকে রুমে আসতে বলো।”
ডাক্তার করীম গলা খাকারি দিয়ে বললেন,
“আসলে ফারাজ বাবা আমরা ডাক্তার হলেও আমাদেরও অনেক সমস্যা আছে। মাজাই ধরা আমার। এত লম্বা সিঁড়ি দিয়ে উঠলে আর গাড়ি চালিয়ে বাড়িতে যেতে পারব না। তুমি যদি সোফায় বসতে।”
ফারিন বেগম ছেলেকে কিছু না বলে চলে যেতে দেখে বললেন,
“হে বাবা বড়দের কথা শোন। “
ফারাজ চুপচাপ সোফায় এসে বসল। নিজের রাগী ভাব এখন আর মুখে নেই। যা আছে স্পষ্ট গম্ভীর ভাব। কিন্তু এই গম্ভীরের উপর দিয়েই যেন হাজারো ঝড় অপেক্ষা করছে তিতলির জন্য যা তিতলির বুঝতে সময় লাগেনা। আল্লাহ আদর আদর যে করল এখন কী হবে? তাকে তো ছাড়বেনা সেটা সে নিশ্চিত। তাও পাত্তা না দিয়ে বসে থাকল।
ডাক্তার শার্ট খুলতে বললে ফারাজ শুধু সামনের কয়েকটা বোতাম খুলে দিলো। শার্ট খুলতে পারবেনা। তার বউয়ের করা নখের আঁচরের দাগ দেখলে এখন আবার আরেক সমস্যা। এখানে দুইটা ধান্দাবাজ বসে আছে। হাসিঠাট্টা করবে। যেটা ফারাজের বিরক্তির কারণ হতে পারে। আর বিরক্তি বাড়লে রাগ বাড়বে রাগ বাড়লে তিতলির উপর দিয়ে ঝড় যাবে। এটাই স্বাভাবিক না?
ডাক্তার করীম ফারাজের বুকের ক্ষত স্থান দেখে বললেন,
“আল্লাহর রহমতে আঘাতটা গভীর হয়নি। চিন্তার কোনো কারণ নেই।”
ফারিন বেগম চিন্তিত হয়ে বললেন,
“কোনো সমস্যা হবে নাতো?”
দেখুন আঘাতটা গভীর না হলেও লম্বাভাবে বেশ ক্ষত হয়েছে এটা পুরোপুরি শুকাতে হলে যত্ন আর নিয়মিত ঔষুধ মলম সবকিছু ঠিকঠাক লাগাতে হবে।
তিতলি সবার মাঝে হঠাৎ মুখ ফসকে বলল,
“ওটা নিয়ে কোনো চিন্তা নেই। আমি আ…”
তিতলি কথা থেমে গেল ফারাজের ভয়ঙ্কর চোখ রাঙানো দেখে। তিতলি তুতলিয়ে বলল,
“ন..না মা..মানে কিছুনা আরকি।”
সবাই একে অপরের দিকে চাওয়াচাওয়ি করল।
ডাক্তার সব বুঝিয়ে দিয়ে চলে গেলেন। ফারাজও ডাক্তার যাওয়ার সাথেসাথে রুমে চলে গেল। তিতলিকে বলল,
রুমে আসতে। তিতলি না গিয়ে সবার মাঝে চুপ হয়ে বসে রইল।
আলভী আর অয়ন তিতলিকে বলল,
ডাক্তার কি বললো প্রথমে? ফারাজ ওয়াশরুম থেকে আসছে? পেছনের দরজা দিয়ে বের হয়ে গেছে? এসবের মানে কি ভাবি?
তিতলি মুখ ফসবে বলল,
“এসব সব ডোজের প্রতিক্রিয়া।”
আলভী ভ্রু কুঁচকে বলল,
“কিসের ডোজ জ্বরের?”
তিতলি বলল,
“না মানে হ্যাঁ জ্বরের।”
আরো কিছুক্ষণ গল্পগুজব চলল ওদের। আলভী আর অয়ন দুপুরে এই পথ দিয়ে যাওয়ায় দেখতে এসেছে। দুপুরের ভাত ওরা এখানেই খেয়েছে।
★
এর ভেতরে কেটে গিয়েছে টানা তিনদিন। কীভাবে যেন সময় চলে যাচ্ছে নিজ গতিতে। আফজাল খান ফারিন বেগম রোহনকে গিয়ে দেখে কালকে চলেও এসেছেন। রোহানের আঘাত গুলো বেশি বেশি হওয়ায় কোমায় চলে গেছে। যতদিন জ্ঞান ফিরবেনা ততদিন হাসপাতলে থাকবে আপাতত।
★
আজকে শনিবার। এখন সন্ধ্যা সাতটা। কাল তিতলি হানিমুনে যাচ্ছে অবশেষে। তিতলি খুশিতে আত্মহারা। কারণ তারা সাজেক কক্সবাজার দুজাগাতেই যাচ্ছে দুদিন দুদিন করে চারদিন থাকবে। যাওয়ার জন্য তিতলি ব্যাগ প্যাক করছিলো। লাগেজটা বিছানার উপরেই তুলে ফেলেছে, লাগেজের চেইন খোলা, তিতলি সেটাতে কাপড় ঢোকাচ্ছে নিজের। ভীষণ ব্যস্ত ও। ফারাজ ওয়াশরুমে ছিলো। বেরিয়ে এসে দেখে তিতলি বেকুবের মতো লাগেজের দিকে তাকিয়ে আছে। লাগেজ ইতিমধ্যেই উপচে পড়ছে জামা-কাপড়ে। তার হাতে সর্বশেষে এখন কালো, সাদা, লাল রঙের অন্তবার্স দেখা যাচ্ছে ফারাজ কিছুক্ষণ ভ্রু কুঁচকে সেই দৃশ্য দেখল। পরপর নিজেও কি মনে করে কার্বাডের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে গম্ভীর গলায় বলল,
“এক জামাকাপড় নিচ্ছো কেন?”
কথাটা বলে ফারাজ কার্বাড খুলল। তিতলি নিজের পার্সোনাল জিনিস গুলো ল্যাগেজের একেবারে নিচে রেখে দিলো। যাক ফারাজ দেখেনি। অন্য জামা গুছাতে গুছাতে বলল,
“এত জামাকাপড় কই নিলাম এখনো,তো সবে শুরু করছি।”
“হোয়াট?”
“আমার মনে হয় ল্যাগেজ তিনটা লাগবে।”
“এত ল্যাগেজ দিয়ে কি হবে? আমরা একমাসের ট্যুরে যাচ্ছি না ওকে? যেকোনো ৫-৬ টা জামা নিলেই তো এনাফ।”
তিতলি ভ্রু কুচকে আবার তাকালো লাগেজের দিকে। তারপর আবার ফারাজের দিকে চেয়ে ঠোঁট উল্টে বলল,
“যদি আমরা ৪ দিন থাকি তাহলে সকাল, বিকেল, রাত তিনভেলা তিনটা করে জামা লাগবে আমার। বুঝছেন?”
রাতে আপাতত কিছুই পরা লাগবে না।
“মা..মানে?”
ফারাজ জবাব না দিয়ে হাতে কালো কালো দেখতে কিছু নিয়ে এবার তিতলির দিকে এগিয়ে এলো। তিতলির মনেযোগ কাপড় গুছানোতে ব্যস্ত তাই সেসব খেয়াল করার সুযোগ পেলোনা। ফারাজ সোজা এসে তিতলির ঠিক পেছনটায় দাঁড়াল। ফারাজ হঠাৎ পেছনে এসে দাঁড়ানোতে তিতলি একবার মাথা ঘুরিয়ে ফারাজের দিকে তাকাল,
“কি হয়েছে?”
ফারাজ তিতলির পাশ কাটিয়ে ল্যাগেজ থেকে জামা কাপড় বের করতে শুরু করল। তিতলি অবাক, তাড়াহুড়ো করে বলল,
‘আরে কি করছেন? এগুলো লাগবে তো আমার। বের করবেন না।’
ফারাজ উপরের কিছু কাপড় বের করল। তিতলির রাখা সেই মুল্যভান পার্সোনাল জিনিসের সাথে নিজের জিনিসটা রাখল তারপর একসাথে রেখে দিলো। তিতলি অপ্রস্তুত হয়ে গেল হঠাৎ। কি করছে ওনি? তার সব গুছানো জিনিস উলোটপালট করে দিলো? রেখে মিনমিননে গলায় বলল,
আপনার এটা এখানে কেন ঢুকিয়েছেন।”
“কিসব ঢুকাঢুকির কথা বলছো? শুনতে কেমন কেমন জানি লাগছে বউ।”
“এটা বের করুন বলছি। “
“উঁহু,এগুলো কাজে আসবে রাতে।”
“বালের কাজে আসবে।”
“হুমম। নিজেকে প্রস্তুত রেখো আমার জন্য।”
“সরুন সরুন অসভ্য লোক!”
“সভ্য ছিলাম বলে এতদিন তুমি আমার কাছে পবিত্র ছিলে বউ! তবে এখন থেকে আমি ফারাজ খান চূড়ন্ত লেভেলের অসভ্য হবো।”
“আপনিতো সবসময় অসভ্য ছিলেন, এ আবার নতুন কী?”
“এবারের প্রণয়টা একটু অন্যরকম হবে। আগে তো শুধুই অসভ্য ছিলাম। এবার অভদ্র,উন্মাদ, বোপরোয়া,বেসামাল ভয়ঙ্করভাবে তোমাতে ডুবে যেতে চাই আমি।”
তিতলি সব বুঝেও না বুঝার ভান ধরে ঠোঁট উল্টে বলে,
“পানিতে ডুব দিবেন বুঝি?”
“না অন্যকিছুতে।”
“তাহলে বরফে?”
“না। “
“তাহলে ড্রেনের পানিতে?”
“না।”
“তাহলে বাথরুমের টাঙ্কিতে?”
“তোমার টাঙ্কিতে ডুব দিবো স্টুপিড! এত প্রশ্ন করতে কে বলছে হুমম? মেজাজ খারাপ হলে…”
“কি করবেন মারবেন আমায়? থাপ্পড় দেওয়ার ভয় দেখাবেন নাকি?”
“খেয়ে ফেলবো তোমায়, হয়ছে এবার?”
ফারাজ তিতলিকে ধরতে গেলে তিতলি নড়াচড়া করে যার ফলস্বরপ অজন্তেই তার লম্বা লম্বা আঙুল গুলো তিতলির অদ্ভুত এক জায়গায় ছুঁয়ে দেয়।
এমন অসহ্যনীয় স্পর্শে তিতলি থরথর করে কেঁপে উঠল। ফারাজের বুকের টিশার্ট খামচে ধরে দুটো আঙুলে, বড়বড় শ্বাস ফেলে নিজেকে স্বাভাবিক করে আবারও। ফারাজ এবার তিতলির কোমর টেনে নিজের সাথে চেপে ধরে। ফারাজ ওর কানের কাছে মুখ নিয়ে ভয়ঙ্কর ভাবে কামড়ে ধরে কানেরনরম অংশ। তিতলি ব্যথাতুর শব্দ করে উঠল ঠিক তার জের ধরেই ফারাজ ওর কানের কাছে ফিসফিস করল,
“আজ কিছু করার ইচ্ছে ছিল না। অনেক কষ্টে নিজেকে দমিয়ে রেখেছি। কন্ট্রোল হারিয়ে ফেললে দুদিনের শর্ত ভুলে গিয়ে তোমাকে এক্ষুনি নিজের খাবার বানাতে দুবার ভাববো না আমি। সো..লেট মি গো।”
[তোমরাদের রেসপন্মের উপর ভিত্তি করে পরবর্তি পর্ব দেওয়া হবে। যদি গল্প চাও সকলে রেসপন্স করো।]
Share On:
TAGS: ফরাগে অনুরাগে, সুহাসিনি ফাতেহা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ২৪
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ৩২
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ২
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ৪০(প্রথম অংশ+শেষাংশ)
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ৩৫
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ৭
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ২১+বোনাস
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ৪৭(প্রথম অংশ+শেষাংশ)
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ৫
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ৫৯