Uncategorized

রাগে অনুরাগে পর্ব ৫১(প্রথম অংশ+শেষাংশ)


৫১ পর্বের প্রথম অংশ

___________________

“বিকেলে তুষার এসেছে খান বাড়িতে। বোনের বাড়ি আসার সময় ফলমূল সহ যাবতীয় যা যা লাগে সব নিয়ে এসেছে। সাথে বোনের পছন্দের রসমালাই নিয়ে এসেছে। তুষার মাঝেমধ্যে বোনকে এসে দেখে যায়। একমাত্র আদরের বোন তার। বোনের খুশিই তার খুশি। বোনের মন খারাপ শুনে বিকেলে দেখতে চলে এসেছে। আসলে মেয়েদের একটা বড় ভাই থাকা খুব ভাগ্যের ব্যাপার। যাদের নেই তারাই বুঝে বড় ভাইয়ের অভাব কতখানি। তাছাড়া তিতলি যেমন বড় ভাই পেয়ে খুশি তেমনি একটা ছোট ভাইয়েরও অভাববোধ করে সেই ছোটবেলা থেকে। একদিন তো ছোট ভাই লাগবে বলে বাড়ি মাথা তুলে ফেলেছে। তখন সে ক্লাস ফাইভে পড়তো। একদিন তিতলি বাবা মার সামনেই বলে বসে,

‘আমার একটা ছোট ভাই লাগবে আব্বু।’

কথাটায় নিজের জেদ ধরে বসে থাকল। ছোট ভাই লাগবে মানে লাগবে। সে তখন বুঝতো শুধু বিয়ের পর বাচ্চা অটোমেটিক পেটে চলে আসে। আল্লাহ দেয়। তার ছোট ভাই চাই মানে চাই। সেদিন আলেয়া শেখ রেগে মেয়েকে আকাশ ফাটিয়ে ধমক দিলেন। বড় ছেলের বয়স ১৯ হয়েছে এখন বাচ্চা নেওয়ার বয়স আছে? মানুষ শুনলে কি বলবে? মেয়েকে ধমক দিয়ে বললেন,

‘এতবড় হয়েছিস জ্ঞানবুদ্ধি কিছু হয়নি?’

‘ছোট ভাই লাগবে বলছি লাগবে।’

‘ দেখছেন আপনার মেয়ে এসব কি বলে? ‘

তিতলি মায়ের ধমক খেয়ে কেঁদে দিলো।

তৌসিফ শেখ মেয়ের মাথায় আদুরে হাত বুলিয়ে দিয়ে স্ত্রীকে বলছিলেন,

“আমার মেয়েকে বকাঝকা করলে তোমার খবর আছে বলে দিলাম। ছোট ভাই চাইতেই পারে। তাই বলে এভাবে ধমক দিবে?”

তিতলি মায়ের উপর অভিমান করে বাবাকে বলছিল,

“আমার ভালো আব্বু। আম্মু একদম ভালো না।”

সেদিন বিকেলে তুষার বোনকে আদর করে বাইরে ঘুরতে নিয়ে গেলো। অনেক চকলেট আইসক্রিম কিনে দিলো। তারপর তিতলির মন ভালো হয়ে যায়। বড় ভাইয়ের আদরে ভুলেও যায় ছোট ভাই লাগবে কথাটা।

তিতলি ভাইয়ের জন্য নিজের হাতে নুডলুস ভাজা করেছে । বাকিগুলো ফারিন বেগম করেছেন। ছয় রকমের নাস্তা সহ ফলমূল কেটে ডাইনিং টেবিলে সাজিয়ে দিলেন। তুষার তাড়া দেখিয়ে বলল,

“এতকিছুর কী দরকার ছিলো মইজি। আমাকে এখনই বের হতে হবে।”

ফারিন বেগম বললেন,

“কি যে বলোনা। আজকে রাতটা থেকে যাও।”

“না, না এখনই চলে যেতে হবে। কাজ আছে।”

“এ বাড়ি আসলেই তোমার কাজ বেড়ে যায়। বোনের বাড়ি যখন খুশি আসতে পারো।”

তুষার তিতলির দিকে তাকাল। যদিও সে জানে এখন তিতলিকে নিয়ে যাওয়ার কথা বললেও সাথে দিবেনা। তাও বলল,

“তিতলিকে নিয়ে যেতে এসেছি। অনেকদিন তো হলো।”

“সে ব্যাপারে তুমি ফারাজের সাথে কথা বলো তুষার।”

“জ্বি অবশ্যই বলব।”

ফারিগ বেগম কি মনে করে তিতলিকে বললেন,

“তুষারের কী কী লাগবে দেখো তো তিতলি আমি একটু আসছি।”

“জ্বি আম্মু।”

তিতলি ভাইয়ের দিকে নিজের বানানো নুডলুস এগিয়ে দিলো। অন্যঅন্য নাস্তাও এগিয়ে দিলো। ভাইকে বললো,

“নুডলুস কিন্তু আমি বানিয়েছি ভাইয়া খেয়ে বলোতো কেমন হয়েছে?”

তুষার নুডলুসের কাটা চামচ হাতে নিয়ে একটু একটু করে খেতে শুরু করল। বলল,

“কীরে অনেক বড় হয়ে গেছিস দেখছি।”

“আমাকে কি তোমার ছোট মনে হয় ভাইয়া?”

“বললাম তো বড় হয়ে গেছিস। আর শোন নুডলুস কিন্তু সেই স্বাদ হয়েছে।”

তিতলি মনেমনে অনেক খুশি হলো ভাইয়ের কথা শুনে। ভাবছে একটু আগে তুষার বলল তাকে নিয়ে যেতে এসেছে। কিন্তু তারা তো হানিমুনে যাবে। হানিমুন থেকে আসলে যাবে না হয়। তুষার খেতে খেতে বলল,

“কী ভাবছিস? কিছু বলবি?”

“আসলে ভাইয়া আমরা…”

“তোরা কি?”

তিতলি বুঝল হানিমুন বলা যাবেনা। ফারাজের হানিমুন ব্যাপারে কথা শুনে তার কেমন জানি লজ্জা লজ্জা লাগছে। ফারাজের ইশারা ইঙ্গিতে যা বুঝলো হানিমুন বলা ঠিক হবেনা। তাই বলল,

“আমরা ঘুরতে যাবো তো তাই বাড়িতে এখন যেতে পারব না। সেখান থেকে আসলে তারপর যাবো।”

“তা কোথায় যাচ্ছিস?”

“সেটাতো জানিনা। ওনি এখনো বলেন নি কোথায় নিয়ে যাবেন। কিন্তু আমি চাচ্ছি মালদ্বীপ বা কক্সবাজার যেতো। কোনটা ভালো হবে বলোতো?”

“মালদ্বীপ এত দূরে গিয়ে কী করবি? কক্সবাজার যা।”

তিতলি ভাইয়ের কথার উপর কিছু বললনা। তার ভাই বিয়ের আগেও তাকে জামা কাপড় ছাড়া যতকিছু তার প্রয়োজন হতো সব নিজে পছন্দ করে দিতো। তিতলিও ভাইকে পছন্দ করে দিতে বলতো ভাইকে। কোন জায়গায় ঘুরলে ভালো হবে কোনটা খারাপ কোনটা তার জন্য মুক্ত পরিবেশ হবে তা তুষার ভালো জানে। তুষার আবার কিছু ভেবে বলল,

“আর যদি ফারাজ ভাই অন্য জায়গায় নিয়ে যায় তাহলে সেখানেই যাবি। সব কথা শুনবি বুঝছিস?”

তিতলি ফারাজের সব কথা শুনে যেমন। ভাইকে বলল,

“জ্বি ভাইয়া।”

“ফারাজ ভাইকে দেখছিনা যে?”

“তুমি আসার একটু আগে বেরিয়ে গেছে। বলল জরুরী কাজ আছে।”

তুষার বোনের সাথে আরো কথা বলে সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বেরিয়ে গেলো। তিতলি আবারও একা হয়ে গেল। রুমে গিয়ে কিছুক্ষণ এপাশ ওপাশ করে ফারাজকে কল দিয়ে ডিস্টার্ব করতে শুরু করল। কোনো কারণ ছাড়াই ফারাজকে কল দিতে লাগল। তার যা মন চাই আরকি? ফারাজ কল তুলল না। তিতলি হাল ছেড়ে দিয়ে নিধিকে কল দিলো এবার। তিনবার রিং হওয়ার পর রিসিভ হলো।

তিতলি:-‘হ্যালো। কেমন আছিস?’

নিধি:-‘ভালো তুই?’

তিতলি: ‘আমার চেয়ে ভালো কেউ নেই আজকে।’

নিধি:- ‘এত খুশি কেন? ব্যাপার কি বান্ধুবি?’

তিতলি:- ‘ অবশেষে হানিমুন।’

নিধি:- ‘কিহহ! সিরিয়াসলি? স্যার যেতে রাজী হয়েছে? তুই পারিসও বটে।’

তিতলি:-‘আমি পারিনা এমন কিছু নেইরে বোকা।’

নিধি:- ‘তাহলে তো তোর স্বপটা পূরণ হচ্ছে। তো কোথায় যাচ্ছিস শুনি?’

তিতলি:- “সেটা জানিনা। তবে আজকে রাতে জেনে নিবো।’

নিধি:- ‘শোন হানিমুনে যাচ্ছিস ভালো কথা কিন্তু দুজন গিয়ে চারজন হয়ে ফিরে আসিস যেন। তবেই ভাববো তুই আসলেই সব পারিস। আর এটাও পারবি। তোরা মা-বাবা হয়ে সাথে আমাদেরও খালামনি হওয়ার সুযোগ করে দে।’

তিতলি ঠাস করে কল কেটে দিলো। গাল দুটো জ্বলে ওঠছে। মুখশ্রী থেকে গরম আভাস পাওয়া যাচ্ছে। লজ্জায় হতভম্ব হয়ে গেল। নিধিও তাকে লজ্জায় পেলে দিলো। ইসস্ কি লজ্জা কি লজ্জা।

★

ঘড়িতে রাত দশটা। ফারাজ একটা নামীদামী স্বর্ণের দোকান থেকে বের হয়েছে। সেই আসরের পর বাড়ি থেকে বের হয়েছে আর এখন যাচ্ছে। হাতে কিছুটা লম্বা জাতীয় দেখতে চিকন কারুকাজ করা একটা পাথরের বক্স। সেটা ঘুরেফিরে দেখে সযত্নে প্যান্টের পকেটে নিয়ে বাইকের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আশেপাশ দিয়ে মানুষজনের আনাগোনা। পাশ কেটে অটো, বাইক,বিভিন্ন গাড়ি চলে যাচ্ছে। রাস্তার কর্ণার ধরে হাঁটতে লাগল ফারাজ। কারণ বাইক কিছুটা দূরে রেখে এসেছে। কিছুটা দূরে যেতেই হঠাৎ সামনে এসে দাঁড়াল একটা ছেলে। ছেলেটাকে চিনতে ফারাজের একটুও সময় লাগল না। রোহান দাঁড়িয়ে আছে সামনে। টাঙ্গাইল থেকে কবে আসলো ভাবছে ফারাজ। শক্ত গলায় বলল,

“তুই এখানে?”

রোহান রহস্যময় হাসি দিয়ে বলল,

“অন্য কাউকে আশা করছিলি নাকি?”

অসময়ে পথ আটকে দাঁড়ানোতে ফারাজের মেজাজ খারাপ হচ্ছে। ইচ্ছে করছে ঘুষি মেরে নাক ফাটিয়ে দিতে। রোহানের সাথে এমনিতেই তার অনেক হিসেব নিকেশ বাকি আছে। শুধু সঠিক সময়ের অপেক্ষায় ছিল। তাও বলল,

“পথ সরে দাঁড়া।”

“ভয় পাচ্ছিস নাকি? তোকে ভয়ে মানায় না।”

ফারাজ কপালটা কুঁচকে রোহানের দিকে তাকায়। মেজাজ সপ্তম আসমানে পৌঁছে যেতে সময় লাগবেনা বোধহয়। তখন কি করে বসবে।

ঠোঁটের কোণে তাচ্ছিল্যর বিদ্রুপ হাসি এনে বলল,

“তোকে ভয় পায় আমি? যে ফারাজ খান মৃত্যুকে পর্যন্ত ভয় পায়না সে তোর মতো একটা রাস্কেল কে ভয় পাবে? তোর ভাবনাটা এখনো ঠিক করতে পারলিনা।”

“তাহলে তোকে মৃত্যুবরণ করিয়ে দিই কি বলিস? তুই তো মৃত্যুকে ভয় পাস না। তুই মরলে তোর বউকে নিজের করে পেতে কোনো বাঁধা থাকবেনা …”

আকাশসম রাগে ফারাজ রোহানের নাক বরাবর ঘুষি বসিয়েই দিয়েছে। মস্তিষ্কে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে তিতলিকে নিয়ে কথা বলায়। হঠাৎ সতর্ক দৃষ্টিতে আশেপাশে তাকাল। ষষ্ট ইন্দীয় বলছে রোহান ছাড়া আশেপাশে আরো কয়েকজন ছেলে আছে। যারা কিছুটা দূরে। কোনো কুমতলব নিয়ে এসেছে এরা। ধীরেধীরে আরো দুতিনজন তার সাসনে এসে দাঁড়াল। ফারাজ সবকয়টাকে একবার দেখে নিলো। জনিও আছে। বাঁকা হেসে নিজের শার্টের কলার উঁচু করে আবার নিচে নামিয়ে দিলো ফারাজ। যেমন শত্রুদের নিজেই আহব্বন করল। জনি বলল,

“হট বউ পেয়ে দেখছি মাথা গরম তোর। আসলেই বলতো এই হট মাল কই পেলি? শালী টালী আছে নে?”

ফারাজের রাগ আকাশ ছুঁলো। ফেলা রাখা হাতদুটো মুষ্টিবদ্ধ করে নিচ্ছে বারবার যেন সবকিছু ধ্বংস করে দিবে। সবকয়টাকে মাটিতে ফুঁতে দিবে। চোয়ালের দুপাশের হাড়ে কটমট শব্দ হলো ফারাজের। সে-ই শব্দ গিয়ে আচমকা কানে পৌঁছাল রোহানদের কানে। রোহান জনিকে কিছু একটা ইশারা করল। জনি ইশারা দেখে বাঁকা হেসে বলতে শুরু করল,

“সেদিন তুই আমার কলার টেনে ধরেছিলি? হাত ভেঙ্গে দিয়েছিলি? সব মনে রেখেছি। ভাবছিস কিছুই করব না তোকে?”

ফারাজ ওর কথা শুনতে গেলে এই সুযোগে রোহান একটা কান্ড করে বসল। প্যান্টের পেছন থেকে ছুড়ি বের করে ফারাজের বুক বরাবর বসিয়ে দিতে গেল। ফারাজ কিছু বুঝে উঠার আগেই রোহান ছুড়িটা বসিয়ে দিলো। তবে তা ঠিক ভালোভাবে সম্পূর্ণ হতে পারল না। বুকে লম্বালম্বি ভাবে কিছুটা জখম করতে পেরেছে। তরল রক্ত বের হতে শুরু করল বেয়ে বেয়ে। শার্ট ছিড়ে গেছে ধাড়ালো ছুড়ির আঘাতে। কিন্তু রক্ত বেরোচ্ছে কিনা সে দিকে ফারাজের বিন্দুমাত্র খেয়াল নেই। ক্রোধের তারনায় ব্যথা অনুভব করেও করছেনা সে। কালো শার্ট পরে থাকায় রক্তও শার্টে বুঝা যাচ্ছেনা তেমন। তবে ভিজে যাচ্ছে শার্ট যেন পানিতে ভিজে গেছে। এবার জনি রোহান দুদিক থেকে আক্রমন করতে গেলে ফারাজ সেটা হতে দিলোনা। তাদের নিজের শক্তপোক্ত বলিষ্ঠ হাতের থাবায় ধাক্কা দিয়ে রোহানের হাত থেকে ছুড়িটা এক ঝটকায় কেড়ে নিলো। দুজনকেই আঘাত করল এবার। ওরাও উল্টো আক্রমন করতে আসলে ফারাজ রোহানকে আবার আঘাত করে ক্রোধে দাঁতে দাঁত চাপল। দুহাতে রোহান সহ জনি দুটারই কলার ধরে কেমন চিড়বিড়িয়ে বললো,

“হারতে শিখিনি কখনো। আমার পেছনে কিংবা আমার বউয়ের দিকে কুদৃষ্টিতে নজর দেওয়া প্রত্যেকটা কাপুরুষকে আমি নিজ হাতে জ্যন্ত মাটিতে ফুঁতে দিবো।”

#চলবে।

[কালকে ওরা হানিমুনে চলে যাবে চিন্তা নেই। জীবনে চলার পথে এমন হাজারো বাধা বিপদ আসবে তাই বলে তাদের হানিমুন বাদ যাবেনা। সবাই,রিয়েক্ট কমেন্ট করবেন অবশ্যই । শিঘ্রই ৫১ পর্বের শেষাংশ আসবে।]

#রাগে_অনুরাগে

#পর্ব_৫১(শেষাংশ)বেচারা রোহান🐸🫣

#সুহাসিনি_ফাতেহা

“ফারাজ খান কখনো হারতে শিখেনি। আমার পেছনে কিংবা আমার বউয়ের দিকে কুদৃষ্টিতে নজর দেওয়া প্রত্যেকটা কাপুরুষকে আমি নিজ হাতে জ্যন্ত মাটিতে ফুঁতে দিবো।”

ফারাজ রোহানের চোখে চোখ রেখে চিবিয়ে চিবিয়ে কথাটা বলল। আচমকা ঠকাস করে একটা শব্দ হলো। জনি আর রোহান কিছু বুঝে উঠার আগেই তারা দুজন দুজনের মাথার সাথে প্রচন্ডজোরে বাড়ি খেল বসল। এতটাই জোরে ছিল যে সেখানে দুমাথার আওয়াজে অদ্ভুত শব্দ সৃষ্টি হলো। ওদের বুঝতে সময় লা

গল না ফারাজ তাদের দুজনের মাথা দুপাশ থেকে ধরে একসাথে ধাক্কা দিয়েছে। মাথায় বারি খেয়ে রোহানের মাথায় আগুন বেড়ে গেল। রোহান ফারাজকে ছোট থেকেই ভীষণ হিংসা করে। ফারাজের সাথে মারামারি করে কখনো জিতে ফিরতে পারেনি। ছোট বেলায় ভাবতো, বড় হয়ে ফারাজকে দেখিয়ে দিবে তার শক্তি। কিন্তু বড় হয়ে ফারাজের সামান্য নখের যোগ্যতাও নিজের মধ্যে পায়নি রোহান। তাই হিংসা কমার বদলে উল্টো দ্বিগুন বেড়ে গিয়েছে। হিংসা মানুষকে খারাপ পথে ঠেলে দেই রোহানের ক্ষেত্রেও তাই হলো। এখন যেকোনো বিষয় নিয়েই হিংসা করে ফারাজকে। যেভাবেই হোক ফারাজের সুন্দরী, হট বউকে তার এক রাতের জন্য হলেও চাই। নিজে একা কিছু করতে পারবেনা বলে জনির সাথে হাত মিলিয়েছে। রোহান বাঁকা চোখে দেখল ফারাজের শার্ট ছিড়ে গিয়েছে ছুড়ির আঘাতে। লম্বাভাবে কেটে যাওয়া জায়গা থেকে বেয়ে বেয়ে অনবরত রক্তক্ষরণ হচ্ছে। সেদিকে ফারাজের বিন্দুমাত্র কেয়ার’স নেই। ব্যথাহীন নির্দয় মানব যেন। ওদিকে পৈশাচিক আনন্দে লাগছে রোহানের। রোহান, জনি কারোর মধ্যে কোনো অনুশোচনা নেই। মাথায় বাড়ি দেওয়ায় রোহান তেড়ে গিয়ে ফারাজের শার্টের কলার চেপে ধরল। চোখে আগুনের মতো দাউদাউ করে জ্বলছিল হিংসা, ক্ষোভ। আওয়াজ বাড়িয়ে দিয়ে ক্ষীপ্ত গলায় বলল,

“শালা হেডা*ম থাকলে মাটিতে ফুঁতে দেখা। তুই একা একজন আর আমরা চারজন তুই যতই শক্তিশালী হস না কেন আমাদের সাথে তুই একা কিছুতেই জিততে পারবিনা উল্টো লাশ হয়ে বাড়ি ফিরবি। আমি নিজেই তোর মৃত্যুর খবর সবার আগে তোর বউয়ের কাছে পাঠাবো তখন।”

ফারাজ ঝাড়া মেরে নিজের কলার ছাড়িয়ে নিয়ে ধাক্কা মেরে দূরে সরিয়ে দিলো রোহানকে। চোখে জ্বলছিল এক অমিত শক্তির লেলিহান আগুন। যা সবকিছু পুড়িয়ে ফেলতে প্রস্তুত ছিল। ওরা তিনজন চারজন কেন দশ জনও হোক! ফারাজ তাতে কোনো পরোয়া করেনা। শত্রুদের কীভাবে মোকাবেলা করতে হয় সেটা তার মস্তিষ্কের নিউরনে নিউরনে সেট করা আছে।

হ্যাঁ এটাই ফারাজ খান। তার মস্তিষ্কে সূক্ষ্ম বুদ্ধি আর আর কৌশলে ঠাসা। হঠাৎ জনসমক্ষে শত্রুপক্ষ আক্রমন করা তার ডিকশনারিতে নেই। যা করার ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিয়ে করা-ই তার আসল হাতিয়ার। কিন্তু এখন তার মারামারি করার একদম ইচ্ছে নেই। বাড়িতে ফিরতে হবে যথাসম্ভব। পিচ্চি বউটা তার চিন্তা করছে নিশ্চয়ই। এখনো না ঘুমিয়ে বসে বসে অভিমানে গাল ফুলাবে। অনেক কলও দিয়েছে সে ইচ্ছে করেই রিসিভ করেনি। তাই নিজেকে শান্ত করল কিছুটা। সে জানেনা তার সাথে রোহানের ঠিক কিসের শত্রুতা। কিন্তু এটা শিউর হলো ওরা ফারাজ খানের জানের দিকে হাত বাড়িয়েছে। যেটার শাস্তি মৃত্যুর চেয়েও ভয়ঙ্কর। শান্ত অথচ কথার ধারায় ইঙ্গিত দিলো তার জানের দিকে হাত বাড়ানোর ফল ঠিক কতটুকু ভয়ঙ্কর হতে পারে। রুক্ষ কর্কশ গলায় অর্নথক হাসি হেসে চাপা স্বরে বলল,

“তুই সম্পর্কে আমার খালাতো ভাই হস শুধুমাত্র সেটা ভেবে এতদিন তোকে শুধরানোর সুযোগ দিয়েছি কিন্তু তুই শুধরালি না। তুই লিমিটের বাইরে চলে গিয়েছিস। এবার এমন খেলা খেলাব তুই ভাবতেও পারবিনা যে তোর সাথে ঠিক কি হতে পারে।”

রোহান ফারাজের শক্তিশালী হাতের ধাক্কায় পিছনে সরে আসে কয়েক কদম। তবুও ক্ষোভ একটুও কমেনা। কেমন বিদগুটে হেসে বলল,

“ভয় দেখাচ্ছিস? ভয় পেলে তোর বুকে ছুড়ি দিয়ে আঘাত করার সাহস দেখাতাম নারে। তোর মতো খেলোয়ার আমার একটা বালও ছিড়তে পারবেনা।”

আচমকা ফারাজের নিভে আসা ক্রোধ পুনরায় দপদপ করে জ্বলে উঠল। সে বুঝল রোহান ইচ্ছেকৃতভাবে তাকে উসকাচ্ছে তার ধৈর্য ভাঙার খেলায় মেতেছে। গালিগালাজ করা ফারাজের পছন্দ নয়। নয়তো গালি দিয়ে এতক্ষণে রোহানের চৌদ্দগুষ্টি সহ নাচিয়ে ছাড়তো। সহসা ঠোঁটের কোণ বাঁকিয়ে হাসল ফারাজ। পরপরই আচানক একটা কান্ড করে বসল। নিজের হাত দিয়ে রোহানের গোপাঙ্গের লোমকূপ ধরে শক্ত করে টান দিলো। এতটাই জোরে যে রোহান চিৎকার করতে গিয়েও থেমে গেল। রাত বেড়ে যাওয়ায় মানুষজন কমে গেছে রাস্তা থেকে। মাঝেমধ্যে গাড়ি চলাচল করছে। সে যদি চিৎকার দেই মানুষ জড়ো হতে পারে। নিজেই ফারাজের হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করে দাঁতে দাঁত চেপে বলল,

“ছাড় কুত্তার বাচ্চা।”

জনিও রোহানের গোপন জায়গা থেকে ফারাজের হাত সরানোর চেষ্টা করতে লাগল। জনি ফারাজের পেটের সামনে ছুড়ি ধরে বলল,

“ছাড়, নয়তো পেটে ঢুকিয়ে দেব।”

“দে।”

ফারাজ তাচ্ছিল্য করে বলল। তাও রোহানকে ছাড়লনা। সামান্য ছুড়ির ভয়ে হার মেনে নেওয়ার মানুষ ফারাজ খান না। রোহান ব্যথায় কুঁকড়ে বলে উঠল,

“ভালোর ভালোই ছেড়ে দে বলছি নয়তো আমি চিৎকার দিয়ে মানুষ ডেকে আনব। জনিকে ইশারায় মানুষ জড়ো করতে বলল রোহান।

ফারাজ শব্দ করে হেসে উঠল। পরপরই সে হাসি মিলিয়ে গেল। সচারাচর শব্দ করে হাসেনা ফারাজ। রোহানের কান্ডে তার হাসি আটকে রাখা সম্ভব হচ্ছেনা। সুদর্শন মুখবয়বে রাগের বদলে কৌতুক ছড়িয়ে পড়েছে। কেমন বিদ্রুপ করে বলল,

“তুই চিৎকার দিবি সেটা আগে বলবি না দাঁড়া মাইক নিয়ে আসি। শুধু আশেপাশের মানুষ কেন? দূরের মানুষও চলে আসবে তোর আত্মচিৎকারে। মাইকে নিশ্চয়ই এটাই বলবি কেউ তোর বাল ধরে টানছে। এতবড় বড়বড় করে মেয়ে মানুষের চুল বানিয়ে রেখেছিস ছিহঃ!”

রোহান জনিদের উদ্দেশ্য দাঁতে দাঁত চেপে বলল,

“তোরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কি দেখছিস শালার পুতেরা। হাত কেটে দে এই কুত্তার বাচ্চার।”

জনি,সহ সাথে আরো দুজন ফারাজের হাত ছাড়ানোর জন্য ফারাজের হাতে ছুড়ি দিয়ে আঘাত করতে গেল। কিন্তু চতুর ফারাজ সুযোগ বুঝে নিজের হাত সরিয়ে নিলো যার ফলস্বরপ সে আঘাত রোহানের হাতে গিয়ে লাগল। গলগলিয়ে রক্ত বের হতে লাগল।

ফারাজ সেটা দেখে ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল,

“অন্যের ক্ষতি করতে গেলে যে নিজের ক্ষতি হয় কথাটা মনে রাখিস। তোর মাও নিজের ককর্মের ফল পেয়েছে। তুইও পাবি শিঘ্রই। মরবি তুই।”

রোহান নিজের হাতের দিকে তাকাতেই চোখে আগুন ধরে গেল। বলল,

“তাহলে খেলাটা এখনই শুরু করা যাক। কে বেঁচে ফিরতে পারে সেটা না হয় খেলার মাধ্যমেই বুঝা যাবে।”

ফারাজ কিছু একটা ভাবল। মুখে বললেও মানুষ মারার মতো পাপী কাজ সে কখনো করবেনা। মানুষ শুধরায় আরও জঘন্য কাজ থেকেও ভালো পথে ফিরে আসে। রোহান যদি নিজের ভুল বুঝতে পেরে ভালো পথে ফিরে আসে সে সুযোগ দিবে। পাপ করতে করতে পাপের গভীরে চলে যাওয়া মানুষদেরও আল্লাহ ভালো পথে আসার সুযোগ দেই আর সেখানে সে তো সামান্য মানুষ। কিছুক্ষণ পর ফারাজ কিছু একটা ভেবে আবার বলল,

এখানে আমার সাথে যু্দ্ধে নামলে ক্ষতি তোর নিজেরেই হবে। ভেবে দেখ, এখানকার সবাই আমাকে চিনে আমার বিশ্বাসী মানুষজন। আর এই দেখ তুই আমাকে ছুড়ি দিয়ে আঘাত করেছিস এজন্য মানুষ আসলে কি হতে পারে সে ব্যাপারে তোর কোনো ধারনা আছে? তাছাড়া তুই পুলিশের হাতে যা সেটা আমি চাইনা তোদের সম্পূর্ন বিচার আমি নিজ হাতে করবো।

রোহান নিজের লোমকূপ ধরে টানায় এমনিতেই ফারাজের উপর ক্ষেপে আছে। ক্রোধে ফারাজের বুকে ক্ষত হওয়া জায়গাটায় ঘুষি বসিয়ে দিল। ফারাজ নিজের জায়গা থেকে একটুও নড়ল না। এমন সামান্য ঘুষিতে তার কিছুই আসবে যাবেনা। ফারাজের মনের কথা এটা হলেও ঘুষি লাগায় ওর বুকের কেটে যাওয়া অংশ যেন থেতরে গেল। রোহান তখন বলল,

“বাল টান দিয়ে কিন্তু ঠিক করলিনা তুই।”

“তুই বললি না আমি তোর একটা বালও ছিড়তে পারর না? তাই ছিড়ে দেখিয়ে দিলাম আমি কি করতে পারিনা। আমার সাথে এরচেয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করতে আসলে অন্যকিছু হারাবি। কখনও অন্যের বউয়ের দিকে নজর তো দূরের থাক। নিজে বিয়ে করার নাম নেওয়ারও মুখ থাকবেনা তখন। মাইন্ড ইট!”

“তোকে আমি দেখে নিবো। এটার দাম দিতে হবে তোকে। তোর দুর্বল জায়গা গুলোতে আঘাত করবো আমি। তুই একটু একটু ভেঙে ভেঙে মৃত্যু যন্ত্রনা উপলদ্ধি করবি তখন।”

রোহানের কথা শুনে ফারাজ অট্ট হাসিতে ফেটে পড়ল। যেন পৈশাচিক আত্মা ভর করেছে তার দেহে। রোহানের থামল না। নাকের ডগায় তর্জনী আঙুল ছুঁয়ে দিয়ে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করল। কেমন অদ্ভুত রহস্যময় হেসে বলল,

“যত পারিস হেসে নে হতে পারে এটাই তোর শেষ হাসি। তোর মৃত্যু আমার হাতে লেখা।”

“ও তাই? তুই আমার জান কবজ করতে এসেছিস তাহলে? উফফ ভয় পেলাম আজরাইল দেখি আমার সামনেই দাঁড়িয়ে আছে তাও মানুষ রুপী।”

“ভেবে নে তাই। দেখ তোর বুক থেকে রক্ত ঝড়ছে। আর আমি সেটা উপভোগ করছি। কিন্তু তোর মধ্যে ব্যথা বা কষ্টের ছিঁটেফোটাও নেই। তোকে কীভাবে কষ্ট দিতে হবে সেটাও আমার জানা আছে।

“পাগলের মুখ মনেমনে। তুই যেদিন কিছু করতে পারবি সেদিন নাহয় বলিস এসব কথা। শোন রাতের বেলায় ঝামেলা করতে চাইনা।

ফারদার তোদের আমার বউ নিয়ে কথা বলতে দেখব কোনো কথা চলবেনা আর। সোজা গলা থেকে মাথা আলাদা করে নদীতে ভাসিয়ে দেবো। কেউ টেরও পাবেনা।”

রোহানের চোখেমুখে একটুও ভয়ের চাপ ফুটল না। তার মাঝেই হঠাৎ ফারাজের পকেটে থাকা মোবাইলখানা বেজে উঠল। ফারাজ ধরল না। বেরও করল না। থেমে গেল। পরপর আবার বাজল। মেসেজের শব্দ আসল। ফারাজ বুকে রক্ত বের হওয়াতে তেমন একটা পাত্তা না দিয়ে রোহানদের আগমনী সংকেত দিয়ে বলল,

“রাত বেড়ে গেছে তাই তোদের সাথে কথা বলে সময় নষ্ট করবো না। কিন্তু এই না যে ছেড়ে দিয়েছি তোদের। আবার দেখা হবে, সেটা এমন খোলামেলা রাস্তায় না। কোথায় হতে পারে আপাতত ভাবতে থাক।”

ফারাজ নিজের মতো কদম ফেলে চলে গেলো বাইক নিয়ে। রোহানেরা এবার বাঁধা দিলো না। বুঝল ফারাজের সাথে ফেরা উঠা সম্ভব হবেনা উল্টো নিজের জীবনের সঙ্কা আছে এতে। কিন্তু তাও নিজের বাল ধরে টান দেওয়ায় আত্মসম্মানে আঘাত লেগেছে। এটার দাম ফারাজকে দিতে হবে। যেভাবেই হোক।

★

পুরো রুমে এপাশ ওপাশ ধরে পাইচারি করছে তিতলি। রাত বারোটা দশ মিনিট। ফারাজ আসেনি। কল দিলেও ধরেনা। ওই বিকেলে বেরিয়েছে আর আসেনি। চিন্তায় তিতলি শেষ। তার মন বলছে, ফারাজের কোনো বিপদ হয়েছে। নয়তো কেন কল ধরছেনা? তার মস্তিষ্কের একটি নিউরনের কাজ সর্বক্ষণ ফারাজকে নিয়ে ভাবা। সে মস্তিষ্কজুড়ে কু ডাকছে এখন। চোখের পাতায় ভুল করেও ঘুম আসছেনা। কেঁদেকেটে ভাসিয়ে ফেলতে ইচ্ছে করছে। কিছুক্ষণ আগে নিচে গিয়ে শাশুড়ি আম্মুকে কেঁদেকেট বলে এসেছে,

“আম্মু আপনার ছেলে এখনো আসেনি কেন? আমার কল ধরেনা।”

ফারিন বেগমের খুব ভালো লাগলো ছেলেকে নিয়ে পুত্রবধুর এত চিন্তা দেখে। তার ছেলে মাঝেমধ্যেই রাত করে বাড়ি ফিরে সেটা ফারিন বেগমের। অজনা নয়। বিয়ের আগে রাত একটা বাজেও ফিরতো। এখন বিয়ের পর থেকে দশটার পর ঘরের বাইরে দেখে যায়না ছেলেকে। এতে তিনি ভীষণ খুশি। কিন্তু এখন ফারিন বেগমও চিন্তিত হলেন। পরপর ভাবলেন হয়তো বন্ধ-ুবান্ধবদের সাথে আছে। পুত্রবধুকে আশ্বস্ত করতে বললেন,

“চলে আসবে। তুমি চিন্তা করো না। ফারাজ আগে ১ টা বাজেও বাড়ি ফিরতো। বন্ধুদের সাথে আছে হয়তো। তোমার ঘুম আসলে ঘুমিয়ে পড়ো ওর কাছে চাবি আছে।”

“কখন আসবে? আমি নিচে অপেক্ষা করি তাহলে?”

তিতলির মুখ ফেটে কান্না বেরিয়ে আসছিল। ফারিন বেগম পুত্রবধুকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে চোখের পানি মুছে দিয়ে রুমে পাঠিয়ে দিয়েছেন। ছেলের জন্য ভাত বেড়ে রুমে দিয়ে এসেছেন আসলে খেয়ে নিবে।

তিতলি সেটা ভাবছে। কিন্তু এখনো আসলোনা কেন? অভিমানে বুক ফেটে কান্না আসছে। চোখমুখ লাল। মনেমনে ভাবছে,

“আজকে আসলে একদম কথা বলব না।”

তাও গিয়ে বিছানার মাঝখানে বসে বসে অপেক্ষা করতে লাগল। হঠাৎ বাইর থেকে বাইকের আওয়াজ কানে এলো। তিতলির বুঝতে সময় লাগলানা। এটা যে ফারাজ। মন থেকে ভয় কেটে গিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল। কিন্তু পরক্ষণেই অভিমানে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে এলো তার সর্বাঙ্গ। দরজার ছিটকানি খুলে সামান্য ঠেলে রেখে লাইট অফ করে ডিম লাইটটা অন করে দিল। তারপর সোজা বিছানায় এসে শুয়ে পড়ল। যেন সে ঘুমে বিভোর। সে অপেক্ষা করেছে সেটা বুঝতে দিবেনা একদম।

কিছুক্ষণ পর দরজা ঠেলার শব্দ হলো। ফারাজ এসেছে। আসুক নাহলে নদীতে ভাসুক! তিতলি ঘুম থেকে উঠবেনা।

ফারাজ নিজের দীর্ঘদেহী শরীরটা ঠেলেঠুলে রুমের ভেতরে নিয়ে এলো। মাথা ঘুরছে। চোখমুখ অন্ধকার লাগছে। ডিমলাইটের আলোয় রুমটা আবছা নীলনীল হয়ে আছে। ফারাজ লাইট দিলো না আর। ফ্যালফ্যাল নয়নে তাকিয়ে দেখল বউ বিছানায় ঘুমিয়ে পড়েছে। কেন জানি এটা তার একদম সহ্য হলোনা। সে ভাবছিল হয়তো তিতলি তার অপেক্ষা করে বসে থাকবে। ঘুমিয়ে গেলো? বিছানার দিকে এগিয়ে গিয়ে নিজের অবস্থা ভেবে আবার পিছিয়ে গেল। আবার এগিয়ে তিতলিকে ছুঁতে গিয়ে হাত নামিয়ে নিলো। যে হাত দিয়ে রোহানের গোপাঙ্গের লোমকূপ স্পর্শ করেছে সে হাত পরিষ্কার করার আগে তিতলিকে ছুঁতে পারবেনা। তিতলি ঘুমের মাঝে নড়েচড়ে উঠল। ফারাজ সেটা দেখে আলামারি থেকে নিজের আরও একটা কালো শার্ট নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকল। নিজের শার্টটা খুলে ওয়াশরুমের মিররে নিজেকে দেখতে লাগল। রক্ত দিয়ে বুক থেকে পেট পর্যন্ত রক্তাক্ত হয়ে আছে। মনেমনে ভাবছে এসব দেখলে তিতলির রিয়াক্শন কেমন হবে। অনেক কাঁদবে নিশ্চয়ই।

ফারাজ নিজের হাত মুখ ধুয়ে অন্য কালো শার্টটা পরে নিলো। আবার ওয়াশরুম থেকে এসে দেখল তিতলি অন্যভাবে শুয়ে আছে এবার। তিতলি এতক্ষণ উঠে বসে ছিল যখনই দেখল ফারাজ বের হচ্ছে দ্রুত যেভাবে পারে সেভাবে শুয়ে পড়ল। ফারাজ কিছু একটা মনে করে নিজের প্যান্টের পকেট থেকে বক্স টা হাতে নিয়ে বিছানার দিকে এগিয়ে গেলো। ভাবছে পছন্দ হবে কিনা। তিতলির পায়ের কাছে গিয়ে মেঝেতে হাটু গেড়ে বসে তুলতুলে নরম ফর্সা পাজোড়া টেনে আনলো। নিজের পা ধরায় তিতলির শয়তানি ঘুমের বারোটা বেজে গেল। মুহূর্তেই শুয়া থেকে উঠে বসল। ফারাজের হাতে একটা বক্স দেখল না দেখার ভান ধরে কিছু না জানার মতো করল। যেন সে এতসময় ফারাজের জন্য অপেক্ষা করেনি। কাঁদেনি। সত্যি ঘুমিয়ে গিয়েছিল। ঠিক তেমন ভঙ্গিতে বলল,

“আপনি কখন এসেছেন?”

ফারাজের মুখটা মলিন দেখা যাচ্ছে। পরমুহূর্তেই তা মিলিয়ে গেল। নিজেকে শক্ত রাখার চেষ্টা করল। তিতলি তো ঘুমিয়েছিল। সে আসার কথা এখনই জেনেছে। তাই গম্ভীর গলায় বলল,

“অনেক আগে এসেছি কেন?”

তিতলি মনেমনে ফারাজকে গালি দিলো । তাকে বলছে অনেক আগে এসেছে। সে বুঝি জানেনা। হুহ! নাটক। গাল ফুলিয়ে নিচু সুরে বলল,

“ও আচ্ছা। আমাকে ডাকেন নি কেন?”

“তুমি ঘুমিয়ে পড়েছো তাই।”

তিতলি অভিমানে অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে নিলো। সে রাগ করেছে আর রাগের মাঝেও না পারতে কথাগুলো বলে ফেলেছে। ভেবেছে তো কথায় বলবেনা। চোরাচোখে একবার ফারাজের হাতের দিকে তাকাল। দেখল বক্সের ভেতরে আলোর মতো চকচক করা কিছু। কি এনেছে? যেই আনুক তাতে কি? তিতলি মুখখানা অন্ধকার করে বলল,

“আবার ঘুমিয়ে গেলাম তাহলে।”

তিতলি চুপচাপ বিছানায় শুয়ে নরম বালিশে মুখ গুঁজে দিলো। চোখ পিটপিট করছে। পানি জমেছে। ফারাজ তিতলির কান্ডে ভ্রু উঁচায়। সুদর্শন মুখখানায় তার সে-কি সন্দিহান ভাব। তার বুদ্ধিমতী বউ যতই তার সাথে আলগা অভিনয় করার চেষ্টা করুক না কেন উল্টো সেটা ফারাজের মনে সন্দেহ সৃষ্টি করে। এতক্ষণে তার সাথে যুদ্ধ করা ফেলা বউ এত চুপচাপ কেন?

ফারাজ আর তিতলিকে কিছু না বলে বক্স থেকে নুপুরজোড়া বের করল। কখনো কারোর জন্য এই ধরনের মেয়েলী জিনিস কিনে নাই। আজই প্রথম। তাও বউয়ের জন্য। সে জানে তিতলির নুপুর অনেক পছন্দ। তাই কেনা। তিতলির পায়ে পরানো শুরু করল মনেযোগ সহকারে।

তিতলির বুঝতে বাকি থাকেনা যে এগুলো নুপুর। খুশিতে নাচতে ইচ্ছে করছে। অভিমান গলে পানি হয়ে এসেছে। আর নিজের মুখ ধরে রাখতে পারছেনা। কেমন লজ্জাও লাগছে নুপুর এনেছে তার জন্য। আর সে কিনা অভিমান করে ঘুমিয়ে যাচ্ছে। এটা কোনো কথা? তিতলি আবার উঠে বসে বলতে লাগল,

“এই..আপনি আমার পায়ে হাত দিয়ে কি করছেন?”

তিতলি না বুঝার মতো করে বলল। কিন্তু তার কথার উত্তর কে দেবে? ফারাজ তো উত্তর দেওয়ার নামও নিচ্ছেনা। যেন তিতলির কথা শুনেও শুনেনি।

অথচ এখন এই মূহুর্তে কি সুন্দর করে মনোযোগ দিয়ে তিতলির পায়ে নুপুর পরাচ্ছে সে। দেখে মনে হচ্ছে এর চেয়ে প্রয়োজনীয় আর সুক্ষ্ম কাজ কোনোদিন করেনি ফারাজ। ফারাজ দুপায়ে নুপুর পরালো। তিতলি নিজের পা দেখতে ব্যস্ত ফারাজও তাই। তিতলির ফর্সা পাদুটো জ্বলজ্বল করছিল। যেন দুটো মোমের পা যেখানে যত্ন করে আলগা সৌন্দর্য যোগ করা হয়েছে। নুপুর জোড়া যেন তিতলির জন্যেই বানানো হয়েছে। আসলে তো তার জন্যেই। তিতলি ভাবছে এত দাম দিয়ে স্বর্ণের নুপুর না এনে রুপের নুপুর আনলেও তার অভিমান গলে পানি হয়ে যেত। ফারাজ হঠাৎ তিতলিকে অবাক করে দিয়ে তিতলির দুপায়ের পাতায় চুুমু খেল। ভাবুক তিতলির চোখের দিকে তাকিয়ে মৃদুস্বরে জিজ্ঞেস করল,

“পছন্দ হয়েছে?”

“খুব খুব খুব পছন্দ হয়েছে? কিন্তু এত দাম দিয়ে স্বর্ণের নুপুর না কিনে…”

ফারাজের মেজাজ যেমন শান্ত তেমন খিটখিটে। এমনিতেই বাহির থেকে মেজাজ খারাপ করে এসেছে। এখন তিতলি এটা বলায় মাথা খারাপ হচ্ছে। ফারাজ জানে তিতলি কি বলবে স্বর্ণের নুপুর কেন হেনতেন এসব। তিতলির কথা শুনে একটা ধমক দিয়ে উঠল।

“দোকান থেকে ১০০ টাকার গুলো এনে দেবো।”

ধমকে তিতলি চুপসে গেল। মিহি গলায় বলল,

“রাগ করছেন? আমি বলতে চাইছি এত টাকা নষ্ট করার কি দরকার ছিলো।”

“তোমাকে যা ইচ্ছে কিনে দেওয়ার সাধ্য আমার আছে বলেই কিনেছি। আমার সব টাকা-পয়সা তোমার, গোটা আমিটাই তো তোমার তাহলে এত চিন্তা কিসের?”

কী ব্যাপার বলুন তো? দিনদিন বউয়ের বক্ত হয়ে যাচ্ছেন। ভালোটালো বেসে ফেলেছেন বুঝি?

তিতলি বিছানায় পা ঝুলিয়ে বসে ছিলো। ফারাজ তিতলির কথার জবাব না দিয়ে আচমকা বাচ্চাদের মতো তিতলির চিকন চিকন দু উরুর মাঝখানে নিজের মুখটা গুঁজে দিলো। কিছুটা পেটের দিকে মুখটা নিয়ে এসে হাতদুটো তিতলির পেট জড়িয়ে রেখে পিঠের পেছনে রাখল। অকস্মাৎ কান্ডে তিতলির নড়াচড়া বন্ধ হয়ে গেলো। এতোক্ষণ ধরে ছোট্ট মেদহীন পেটটা শ্বাস-প্রশ্বাসের তালে তালে যে ওঠানামা করতো সেটাও পুরোপুরি বন্ধ। এর মাঝেই ফারাজ তিতলিকে অবাকের চরম সীমানায় পৌঁছে দিতে বলল,

“মাথাব্যাথা করছে। আমি ঘুমাব। মাথায় হাত বুলিয়ে দাও।”

তিতলি অবাক হয়ে তাকাল। কখনো এমন করেনি ফারাজ। মাথা ব্যথা করলেও নিজেই কপাণে হাত চেপে শুয়ে থাকত না হয় ঘুমিয়ে পড়ত তাকে কিছু বলত না। তিতলি কি হয়েছে বললে, ফারাজ বলত কিছু না। বিয়ের এতদিন পর আজই যেন প্রথম এমন আবদার করল তার কাছে। আজকে ফারাজকে অন্যরকম লাগছে। মনে হচ্ছে কিছু একটা হয়েছে। শক্ত হৃদয়েে মানুষটাকে ভেতর থেকে কেমন নরম দেখাচ্ছে। বিচলিত হয়ে উঠল তিতলি। ফারাজকে বলল,

“আপনার কী শরীর খারাপ লাগছে?”

“না।”

“মিথ্যা বলবেন না। সত্যি করে বলুন এতরাতে বাইরে কী করছিলেন?”

“তুমি জেনে কি করবে?”

“আপনার ব্যাপারে সবকিছু জানার হক আছে আমার। আজকে থেকে রাত দশটার পরে আপনার বাইরে থাকা নিষেধ।”

“ফারাজ খানকে শাসন করছো তুমি?”

” স্ত্রী হিসেবে আপনাকে শাসন করা আমার কর্তব্য।”

“এসব কর্তব্য টর্তব্যর ধার ধারিনা আমি।”

“তাহলে কিসের ধার ধারেন আপনি?”

“তোমার।”

ফারাজের কেমন যেন লাগছে সব। মানুষের রক্ত বের হতে হতে একটা সময় মানুষের শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। যতই শক্তিশালী আর ব্যথাহীন হোক না কেন। ফারাজের ক্ষেত্রেও তাই হলো। তাও তিতলিকে বুঝতে দিলোনা কিছু। তার মাঝেই তিতলি আবেগে বলে উঠল,

“আমি আপনাকে ভালোবাসি ভীষণ ভালোবাসি। আপনি এতরাত করে বাইরে থাকলে আমার চিন্তা হয়।”

ফারাজ ভেবে পায়না তার মতো একজন রুঢ় মানবকে মেয়েটা এত ভালোবাসে কেন? অথচ সে কখনো ভালোবাসি বলেনা তাও নিজেনিজে ভালোবাসি বলতেই থাকে। তার বুকের শক্ত পাঁজরের হাড় গুলো নাড়িয়ে দেই এই মেয়ে। ভালোবাসুক এমন পাগল নারীর ভালোবাসা সে গোটাজনম চাই জোর করে হলেও চাই। কখনো হারিয়ে যেতে দিবেনা এই নারীকে। বুকে আগলে রাখবে। শান্ত গলায় জিজ্ঞেস করল,

“এত যে ভালোবাসো আমি মরে গেলে তখন কি করবে শুনি?”

ফারাজের কথাটা তিতলির ঠিক পছন্দ হলোনা। ফারাজ কি জানে সে ছাড়া তিতলির কোনো অস্তিত্ব নেই। সোজাসাপটা উত্তরে বলল,

“আপনি মরে গেলে আমিও মরে যাবো।”

ফারাজ ধমক দিয়ে উঠল,

“শাটআপ!”

“আপনি এসব কথা বললে আমি কান্না করবো কিন্তু।”

“তুমি এমনিতেই মরা কান্না শুরু করবে কিছুক্ষণ পর।”

“কিছু বললেন?”

ফারাজ অস্পষ্ট গলায় বলছিল কথাটা। তিতলি ঠিক শুনতে পাইনি। তিতলির উরু থেকে মাথা তুলে মুখটা উপরে তুলল ফারাজ। তার শান্তির প্রয়োজন। এই মুহূর্তে তার মনে হচ্ছে তিতলিই তার শান্তি। তিতলির চোখে চোখ রেখে হাস্কি সুরে বলল,

“নাতো। কি বলছি তোমায়? মাথা ব্যথা করছে তো।”

তিতলি নিশ্চুপ দেখে ফারাজ আবার বলল,

“হাত বুলিয়ে দিতে পারবে না?”

তিতলির বুক কাঁপছে। তার ফারাজ তাকে দু’দুবার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে বলছে আর সে পারবে না তা কি করে হয়। ফারাজ আবার বললেও সে করত। ভীষণ পারবে। নিজের তুলতুলে নরম দুহাত ফারাজের খোঁচাখোঁচা দাড়িযুক্ত দুগালে রাখল। ফারাজের চোখদুটো আবেশে বুঁজে এলো। আশ্চর্য! আজকাল সেও তিতলি নামক একটা সপ্তদশীর কাছে নিজের শান্তি খুঁজে। ফারাজের মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে তিতলি আদুরে গলায় বলল,

“পারবো খুব করে পারবো।”

তিতলির বলতে দেরি ফারাজের মাথায় হাত দিতে দেরি হলোনা। হাত বুলিয়ে দিতে লাগল। তিতলির উরুর মাঝখানে মুখগুঁজে দিয়ে ফারাজ চোখজোড়া বন্ধ করে নিলো। তিতলি ফারাজের মাথা থেকে নজর সরাচ্ছেনা অনেকক্ষণ। কিন্তু হঠাৎ নজর সরে গেল। আর যা দেখল তাতে আতঙ্গে উঠল মেয়েটা। ডিমলাইটের আলোয় তার সাদা জামাটায় লাল লাল হয়ে আছে । কেন? তিতলি হঠাৎ থেমে যাওয়ায় ফারাজ অস্পষ্ট গলায় বলল,

“থামলে কেন? ভালো লাগছিল তো।”

তিতলি নিজের হাত দিয়ে জামা ধরে ধরে দেখছিল। তার হাতে রক্ত লেগে গেছে। তার গলা শুকিয়ে এলো। এই একটাই জিনিস যেটা সে ভয় পায়। তার তো কিছু হয়নি তাহলে রক্ত কোত্থেকে এলো? ফারাজ তিতলি কিছু বলছেনা দেখে আবার মুখ তুলে দেখল তিতলি ভয়ার্ত দৃষ্টি নিয়ে হাতের দিকে তাকিয়ে আছে। তিতলির গলা দিয়ে কথা বের হচ্ছিলো না। খুব কষ্টে বলতে লাগল,

“র..র রক্ত! আমার জামাতে র..ক্ত কোত্থেকে এলো? আমার হাতে র..ক্ত।”

ফারাজ আচমকা বসা থেকে সটান করে দাঁড়িয়ে গেল। রক্ত যেহেতু দেখেই নিয়েছে তাহলে আর লুকানোর কি আছে? নিজের পরনের শার্টটা খুলে ছুড়ে ফেলে দিলো মেঝেতে। এগিয়ে গিয়ে রুমের লাইট টা অন করে দিয়ে ঠিক তিতলির মুখোমুখি হয়ে দাঁড়াল। পুরো রুম লাইটের আলোতে ঝকঝক করছে। ফারাজকে দেখে তিতলির চোখের সামনে সব আবছা হতে শুরু করল। যেন স্বপ চোখ খুললেই,সে তার ফারাজকে একদম সুস্থসবল দেখবে। চোখের কোণ থেকে অনবরত পানি বেয়ে বেয়ে পড়তে লাগল বেচারির। চারপাশ ঘুরছিল। পড়ে যাওয়ায় আগে কেউ একজন তাকে বলিষ্ঠ বাহুডোরে আগলে নিলো। তার মুখ ফারাজের বুকে আঘাত লাগা জায়গায় পর্যন্ত আসল। গালে রক্ত লেগে যেতে লাগল। চোখের পানিতে ফারাজের বুক ভেসে যেতে লাগল। ফারাজ খসখসে দুহাতের আঁজলায় তিতলির মুখ তুলে হঠাৎ নিজের জিব্বা দিয়ে চুষে নিলো তিতলির চোখের পানি। হাতের আঙুলের আগায় একটু রক্ত নিয়ে তিতলির কানের একদম কাছে মুখ এনে নিলো। সে জানে তিতলি শুনবেনা। তাও ফিসফিসিয়ে বলল,

“আমার রক্ত দিয়ে তোমাকে আলতা লাগিয়ে দিই? নুপুরের সাথে খুব ভালো মানাবে।”

চলবে।

[সবাই রেসপন্স করে ৩.৮ কে রিয়েক্ট করে দিও। আগেতো ৬ হাজার হতো আমি বেশ কিছুদিন অনিময়িত হওয়ায় রিচ কমে গেছে তাতে আমার কিছু যায় আসেনা। যারা পড়ে তাদের জন্যই লিখছি। সো তারা পড়ে বড় করে মন্তব্য জানাও। হানিমুন হবে কালকের পর্বে। সবাই প্রস্তুত তো?]

Share On:



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 


0 Responses

Leave a Reply