#রাগে_অনুরাগে
#পর্ব_৪০(প্রথম_অংশ)
#সুহাসিনি_ফাতেহা
“যাবে না তো কি হয়েছে তার বাপ তো যাবে। ফারাজ না গেলে আমরা তিতলিকে নিয়ে চলে যাবো। তোমার ছেলে বাড়িতে একা থাকুক। যখন দেখবে বউ চলে যাচ্ছে তখন ঠিকই দৌড়াবে।”
তিতলি কেশে উঠল শাশুড়ির কথা শুনে। লজ্জা পেলো কিনা। ফারাজকে সিঁড়ি দিয়ে থেমে যেতে দেখা গেলো। গম্ভীর সুদর্শন মুখখানা আরও গম্ভীর হয়ে উঠল। কে-জানি কি ভাবলো। তবে পেছন ঘুরে তাকাল না। তিতলি নিজেও ফারাজকে শুনিয়ে সবার মাঝে বলে বসল,
“আমরা সবাই যাবো আম্মু। ওনি না গেলে কি আমাদের যাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে? আমরা সবাই ঘুরেই আসতে পারি।”
আফজাল খান, ফারিন বেগম, ফরহাদ সবাই তিতলির কথায় সায় জানাল। ফারিন বেগম তো ভাবলেন একদম মনের মতো একটা বৌমা পেয়েছেন। ফারাজের চিবুক শক্ত হয়। চোখের দৃষ্টি তীক্ষ্ণ। করিডোর পেরিয়ে যেতে যেতে ঘাড় ঘুরিয়ে নিজের বউয়ের দিকে তাকায় বারবার। তিতলিও তাকিয়েই ছিলো সঙ্গে সঙ্গে চোখ মিলল দুজনের। তিতলি মুখ ভেংচি কাটল। ততক্ষণে ফারাজকে আর দেখা গেলো না। ফারাজ চলে যেতেই ফরহাদ হেসে গড়াগড়ি খেয়ে বলল,
“মাশাআল্লাহ এই না হলেন আমার ভাবি। এতদিন যেসব কেউ বলতে পারেনি আপনি সেসব বলে আগুনে পেট্রল ঢেলে দিলেন। ঠিকই বলছেন, একজন না গেলে আমাদের যাওয়া বাদ যাবে কেন? আমরা সবাই একমাস থেকে তারপর আসবো।”
তিতলি নিজের প্রশংসা শুনে খুব খুশি হলো। বারবারই সে নিজের প্রশংসা শুনলে খুশিতে গদগদ হয়ে যায়। মেকি হেসে বলল,
“জ্বি ভাইয়া।”
আফজাল খান হাতের পেপারস টেবিলে রেখে দিলেন। মাঝেমাঝে তিনি খবরের কাগজ পড়েন। শুধুমাত্র ছুটির দিনে। উঠে দাঁড়িয়ে স্ত্রীকে বললেন,
“তাহলে আজকে বিকালেই আমরা সবাই রয়না দিবো। যা যা লাগবে সব লিস্টি করে দিও তো। অনেকদিন পর শ্বশুর বাড়ি যাবো যা যা লাগবে সব নিয়ে যেতে হবে।”
ওনারা কথা বলায় ব্যস্ত হয়ে পড়লেন নিজেদের মধ্যে। অয়নের বাবা আমরুল খানকে কল দিয়েছেন যাওয়ার কথা বলতে। ওনারা যাবেন বলে জানিয়েছেন। হুশিয়ার সাহেব আগেই আমরুল খানকে ফোন করে জানিয়েছেন। এখন আফজাল খান আবার শিউর হয়ে নিলেন। ফরহাদ সুযোগ বুঝে একটু উঠে এসে ভাবির থেকে দুরুত্ব বজায় রেখে বসে বলল,
“ভাইয়াকে মানুষ করার জন্য আপনি একাই একশো সেটা আমি প্রথম দিনই বুঝতে পেরেছি ভাবি।”
তিতলি বুঝলো ফরহাদ তার সাথে মজা করছে। সেও উত্তরে মজার জবাব দিলো
“আপনার ভাই এখনো শিশু? আমি শিশুটাকে বড় করে মানুষ করবো।”
ফরহাদ একটু হাসিখুশি মজা করা স্বভাবের ছেলে। যদিও সেও ফারাজের মতো সাইন্সেরই স্টুডেন্ট কিন্তু সে পড়ছে ডাক্তারি নিয়ে। চিল আড্ডা এসব বেশি পছন্দ করে। তিতলিকে খটখট করে বলল,
“ওইযে সারাদিন মুখটা শেওলা গাছের পেচার মতো করে রাখে সেটা একটু হাসিখুশি বানানোর চেষ্টা করবেন। আমি জানি আপনি পারবেন। “
তিতলি ভাবে হাসে তো। তাকে দেখলে ঠোঁট কামড়ে হাসে,রহস্যময় হাসে, চওড়া হাসে, চোখ টিপ দেয় এগুলো গত কয়েকদিন ধরে খেয়াল করছে সে। আরো কত কি। ফরহাদ আবার বলল,
“আবার দেখবেন আপনি গিয়ে ভাইয়াকে যেন না বলেন আমি এসব বলছি পরে আমার কান টেনে ধরবে।’
“আচ্ছা বলব না।”
এটা বলার পর তিতলি আর কিছু বলল না। সে উঠে রুমের উদ্দেশ্য পা বাড়াল।
নাছিমা বেগম মুখ বাঁকালেন আড়ালে। ছেলেকে আসতে মানা করেছেন। একেবারে নানার বাড়িতে আসবে। তিতলি চলে যাওয়ার পরপরই সুন্দর করে বোনকে বললেন,
“আপা আমাদেরও তো আপনাদের সাথে যেতে হবে। আব্বা কল দিয়ে যেতে বললো।”
“যেতে হলে যাবি। তুই নীলা তো আর অন্য গাড়ি দিয়ে যেতে হবে না। আমাদের চারটা গাড়ি আছে সেগুলো দিয়ে হয়ে যাবে।”
নাছিমা বেগম বোনের কথা শুনে চলে গেলেন।
ফারিন বেগম মাঝেমাঝে বুঝতে পারেন না তার বোনটা কার মতো হলো। মায়ের পেটের বোন বলে কিছু বলতেও পারছেন না। অবশ্যই সেদিন তিতলির ব্যাপারটা নিয়ে অনেক কথা শুনিয়েছে। তখন মাফও চেয়েছে তার কাছে। তিনি আর না ভেবে দৌড়াদৌড়ি করে বাড়ির কাজ করা শুরু করলেন।
—-
তিতলি রুমে এসে দেখল ফারাজ স্টাডি টেবিলে ম্যাককুক নিয়ে বসেছে। তাকে রুমে আসতে দেখে একবার তাকিয়ে চোখ নামিয়ে আবার ম্যাকবুকে মনেযোগ দিয়েছে। সে সোজা ফারাজের সামনে গিয়ে হেটে এসে আবার আলমারি খুলে কাপড়চোপড় নিয়ে ট্রলি ব্যাগ নিয়ে বসলো। আজকে দুপুরের দিকেই রয়না দিবে। মানে তিনটা নাগাদ করে। এখন প্রায় সকাল দশটা বেজে এসেছে। জামাকাপড়ও তো গুছিয়ে নিতে হবে। ট্রলিতে নিজের দশ-বিশটা বেশির গোল ফ্রক, ওড়না, পাজামা যাবতীয় সবকিছু গুচাচ্ছে সে। এমনিকি পাশে পাশে ফারাজের শার্ট প্যান্ট, ট্রাউজার গেঞ্জিও নিচ্ছে যেগুলো সে পছন্দ করে সব নিজের জামার সাথে মিলিয়ে মিলিয়ে নিচ্ছে। ভাল্লুক কি তাকে দেখছে না সে কাপড় গুচাচ্ছে কিছু বলছে না কেন? এগুলো তো সংসারী বউ হওয়ার লক্ষণ। তার ইচ্ছে হয় ফারাজের জন্য সব কাজ করতে। যখন যা যা প্রয়োজন হয় সব সামনে নিয়ে হাজির থাকতে। এখন তো সকালে উঠে বিছানা টাও সে গুছায়। কিছু একটা মনে করে সে ফারাজকে শুনিয়ে শুনিয়ে গুনগুন করে গান গাইতেছে,
“ফাগুন মাসে কাচা বাসে….. গুনগুনিয়ে বোমর আসে প্রেমের লাইগা বুকটা করে আহআহ উহু। দুষ্ট কুকিল ডাকেরে কু কু কু…..!”
ফারাজ তিতলির গান গাওয়া শুনে পুরো তব্দা মেরে গেছে। ম্যাকবুক চালাতে পারছে না। সে ম্যাকবুকে নজর দিচ্ছে কম তিতলির দিকে তাকাচ্ছে বেশি। তার বুদ্ধিমতি বউ হয়তো জানে না সে এতক্ষণ তাকিয়েই ছিলো যখন তিতলি তাকাচ্ছিলো তখন সে ম্যাকবুকে নজর দিয়েছে। এবার সে সোজা উঠে এলো। তিতলি ফারাজের উঠে আসার আওয়াজ পেয়ে মুচকি মুচকি হাসলো। সে ইচ্ছে করেই এই গান গেয়েছে। যাতে ফারাজ তার দিকে মনেযোগ দেয়। এবারও যেন ফারাজ আসে বুঝতেই পারেনি তেমন ভাব ধরে রেখে আবার আরেকটা গান গেয়ে উঠল,
লা..লা লা…”
তিতলির গান গাওয়া পথিমধ্যেই থেমে গেলো। হুট করেই ঠোঁটে ফারাজের খসখসে হাতের তালুর চাপ বসল। তিতলি ফারাজের হাত ধরে হাসফাস করতে লাগলো৷ ফারাজ তিতলির মুখ ছেড়ে দিয়ে কপাল কুঁচকে রাখল কিছুক্ষণ। রুঢ় মানব অন্যন্ত ঠান্ডা স্বরে আওড়াল,
“এত জামাকাপড় ট্রলিতে কেন ঢুকাচ্ছো?”
তিতলি ছাড়া পেয়ে ট্রলি ব্যাগে আরও কাপড় গুছাতে গুছাতে বলল,
“নিচে আম্মু আব্বুরা কি বলছে শুনেন নি? টাঙ্গাইলে যাবে আপনার নানার বাড়ি। সেখানে যাওয়ার জন্য কাপড়চোপড় গুচাচ্ছি।”
“তো আমার শার্ট প্যান্ট কেন নিচ্ছো?”
“শার্ট প্যান্ট মানুষ কেন নেয়? নিশ্চয় আপনি পরার জন্য নিচ্ছি।”
“আমি যাবো বলছিলাম? আর তুমিও কার পারমিশন নিয়ে জামাকাপড় গুছাতে বসেছো?”
তিতলি মুখ ভেংচিয়ে নেয় একবার। যাবে নাকি যাবে না সেটা সেও দেখে নিবে। ফারাজের কথার প্রত্যুত্তরে তেজ ধরে বলল,
“আপনি না গেলে আপনার শার্ট প্যান্ট সেখানে গেলে আমি পরবো।”
ফারাজের কপালে সূক্ষ্ম ভাঁজ পড়েছে। তিতলির পাশে দাঁড়িয়ে থেকে ভয় দেখিয়ে বলল,
“আমি কয়দিন একটু ছাড় দিচ্ছি বলে মনে হচ্ছে না তুমি বেশি উড়ছো? ভয় লাগে না আমায়? আমি যেখানে যাবো না বলছি সেখানে তুমি নিজে নিজে এত এত কিছু ভেবে বসে আছো? আমি বলছি তোমার যাওয়া ক্যান্সেল!”
তিতলির চোখজোড়া ভিজে উঠেছে। পিটপিট করে তাকায় ফারাজের দিকে। কাঁদোকাঁদো মুখে জেদ দেখিয়ে বলল,
“না আমি যাবো। আর যদি না-ই যায় তাহলে আমি আব্বুর বাড়ি চলে যাবো। আপনি একা থাকবেন ঘরে। আমি কল করবো না আপনাকে।”
ঠোঁট কামড়ে হাসল ফারাজ। ভ্রু উচিয়ে শুধায়,
“ওয়েট! তো কাকে কল করবে হুমম? আমকে কল না করে থাকতে পারবে? একদিন কল রিসিভ না করলে কেঁদেকেটে বন্যা করো যে সে মেয়েটা তুমি না?”
তিতলি বুঝলো ফারাজ নিজের কথা দিয়ে আবারও গুলিয়ে ফেলতে চাইছে তাকে। তাই তো সে বুদ্ধি দিয়ে উত্তর দিলো,
“আবেগের বশে তখন কান্না করেছি ঠিকই কিন্তু এখন অনেক ভেবেচিন্তে বুঝেছি আবেগ দিয়ে দুনিয়া চলে না। তাই আর আপনার জন্য আমি কাঁদবো না।”
তিতলি একটু থেমে ফারাজের মুখের দিকে তাকালো। ফারাজ উঠে পিঠ ঘুরিয়ে অন্যদিকে মুখ করে নিয়েছে। তিতলির কথাটা শুনে চেহারাটায় কেমন আমাবস্যা নেমেছে। ঘোর আমাবস্যা। অন্তকোণে চোট লেগেছে কি তার। সুদর্শন মুখখানা তার ওমন ফ্যাকাশে হয়ে গেলো কেন?
তিতলি আবার মিটিমিটি হেসে বলল,
“আমি গেলে যাবেন না গেলে নাই। শুনেছি আপনার নাকি কয়টা মামাতো ভাই আছে.?”
ফারাজ রেগে যাচ্ছে যেমন। তিতলি সেটা দেখে আবার বলল,
“টাঙ্গাইলে অনেক ঘুরবো। আপনি না গেলে অয়ন ভাইয়া আছে, আপনার মামাতো ভাইরা আছে বোনেরা সবার সাথে ঘুরবো।”
ফারাজ এবার তিতলির দিকে ঘুরে কপালটা মাত্রাতিরিক্ত কু্ঁচকে নিয়ে শক্ত গলায় চিড়বিড়িয়ে বলল,
“যাবো।”
তিতলি খুশিতে গদগদ হয়ে বিড়বিড় করে বলল,
“এইতো ভাল্লুক লাইনে এসেছে।”
(আমার কোনো দোষ নেই। তোমরা বলছো ছোট হলেও দিতে তাই দিছি। পরের অংশ কালকে খুব তাড়াতাড়ি আসবে যদি রেসপন্স ভালো করো তবে।এই অংশ যেহেতু ছোট তাই পরের অংশ বড় হবে।)
#রাগে_অনুরাগে
#পর্ব_৪০(শেষাংশ) (লজ্জা
)
#সুহাসিনি_ফাতেহা
বিকেল তিনটা হতে না হতেই খান বাড়ির সবাই রেডি হতে শুরু করেছেন প্রায়। অয়নের মা বাবা’রা সবাই আগেভাগে চলে এসেছেন। সাথে আলভীও এসেছে। একটু ঘুরাঘুরি করার জন্য টাঙ্গাইলে যাবে। তিতলি একটা রেড, এমব্রয়েডারি করা কুর্তি-সাদা পাজামা পরেছে। সাথে গলায় ঝুলানো হোয়াইট ওড়না। ফারাজের জন্য বিছানায় নিজে পছন্দ করে শার্ট-প্যান্ট রেখেছে মেসিং মেসিং করে।
তিতলি আয়নার সামনে দাড়িয়ে মুখে মেকআপ দিচ্ছে টুকটাক। কিন্তু এই টুক-টাকই ফারাজের কাছে বড্ড বেশিবেশি মনে হচ্ছে। ফারাজকে এখনো রেডি হতে দেখা গেলো না। সে কিছুক্ষণ পরপর বেলকনি থেকে রুমে এসে তিতলির দিকে তাকিয়ে আবার বেলকনিতে চলে যাচ্ছে। এবার আবার আসলো। মেয়েটার এত সাজ কেন জানি তার চোখে নিতে পারছে না। অপ্রস্তুত তিতলির দিকে নজর রেখে সন্দিহান গলায় বলল,
“এত সেজেছ কেন?”
তিতলি ঠোঁটে গাঢ় লাল লিপিস্টিক দিচ্ছে। ফারাজের কথা শুনে একবার ঘুরে তাকাল সেদিকে। ফারাজ মনেযোগে তিতলির সাজ দেখে বারবার ঠোঁটের কোণ কামড়ে ধরছে। তার বলিষ্ঠ বাহু দুটো উন্মুক্ত। পরনে একখানা কালো রঙা
ট্যঙ্ক-টপ সেই সাথে পরেছে বড্ড ঢিলেঢালা একখানা ঘিয়ে রঙা ট্রাউজার। দেখতে মারাত্মক লাগছে। তিতলি কিছুক্ষণ চুপ থাকে। লিপিস্টিক দেওয়া কমপ্লিট করেই বলল,
“কেন সুন্দর লাগছেনা?”
সহসা নিজ নিম্নাংশের অধর বাঁকা করল ফারাজ। তার ইচ্ছে করছে এক্ষুনি তিতলির ঠোঁটের লিপিস্টিক মুছে দিয়ে সবকিছু এলোমেলো করে দিতে। ভ্রু কুঁচকে রেখে বলল,
“ঠোঁটে ঐসব কি লাগিয়েছো তুলো।”
“না তুলব না।”
ফারাজ শান্ত চোখে তাকিয়ে রইলো৷ ফারাজের শান্ত নজর অনেকটা সাদা ফকফকা আকাশ থেকে হুট করে বজ্রপাত শুরু হয়, ঠিক তেমনটাই লাগছে। তিতলির ঘাড়ের পশম দাঁড়িয়ে গিয়েছে৷ এভাবে তাকিয়ে থাকার কী আছে? চোখ নামিয়ে অস্পষ্ট স্বরে বলল,
“আপনি এখনো রেডি হননি কেন? আসেন আপনাকে তাহলে আমি রেডি করিয়ে দিচ্ছি।”
ফারাজ ভ্রু কুঁচকে তাকায়। বিদ্বিষ্ট চাহনি গভীরতা পেলো। তিতলির মাথা থেকে পা পর্যন্ত দেখে নিলো একবার। এটুকুন একটা পিচ্চি মেয়ে তাকে রেডি করাবে? দিনদিন তার উপর অধিকার দেখানো শুরু করেছে তো। ভ্রু নাচিয়ে শুধালো,
“প্যান্টও পরিয়ে দেবে?”
তিতলি হতভম্ব হয়ে যায় ফারাজের কথা শুনে। ভাবলো তার সাথে মজা করছে সে ও একটু মজা করার জন্য মেকি হেসে বলল ,
“আপনার ভাই তো বলছে আপনাকে মানুষ করতে হবে। শিশুকে প্যান্ট পরিয়েই দিতে পারি, ব্যাপার নাহ!”
তিতলি ভেবে রেখেছে ফারাজ এখন তাকে আকাশ ফাটিয়ে ধমক দিবে ৷ নাহলে বলবে তোমার যাওয়া ক্যান্সেল বেয়াদব। এটা শোনার জন্যই প্রস্তুতি নিচ্ছিলো সে। কিন্তু তখন তার আকাশ পাতাল চিন্তা- ভাবনা ভুল প্রমাণ করে দিয়ে ফারাজ তার দিকে এগিয়ে আসতে আসতে হুকুমের স্বরে বলল,
“ওকে ফাইন! এক্ষুনি আমাকে প্যান্ট পরিয়ে দাও দেখি।”
তিতলি তড়াক চোখ পাকিয়ে তাকায়। দাঁত খিঁচে জিভ কাটছে। আল্লাহরে এবার কি করবে সে? এই লোক তো এখন তাকে সহজে ছাড়বে না মনে হচ্ছে। ফারাজকে বিছানায় রাখা প্যান্ট হাতে নিতে দেখা গেলো। এমনিকি সে কোমরে তোয়ালে পেঁচিয়ে ট্রাউজারও খুলে নিচ্ছে। বউকে জ্বালানোর এমন একটা সুযোগ পেয়ে হাতছাড়া করবার মানুষ কি আর সে? কীভাবে তাকে প্যান্ট পরিয়ে দেয় সেও একটু দেখতে চাই। বিছানায় পা দুলিয়ে বসে তিতলির দিকে তাকিয়ে হাতে,চেখে প্যান্টের উপর ইশারা দিয়ে বলল,
“কি হলো? শুরু করো।”
“আমি আপনাকে প্যান্ট পরাব?”
ফারাজ ঠোঁট কামড়ে ভ্রু উঁচিয়ে হাসল,
“তো? তুমি-ই তো বললে আমাকে প্যান্ট পরিয়ে দিবে? রাইট নাও? এখন এত কথা শুনতে চাচ্ছি না আমি।”
তিতলি লজ্জায় হাঁসফাঁস করছে। ফারাজ তোয়ালে পরে প্যান্ট হাতে নিয়ে বসে আছে। ফোলা ফোলা বলিষ্ঠ লোমশ পায়ের হাটুর নিচের অংশগুলো উন্মুক্ত। তিতলির এগুলো দেখে লজ্জায় খাটের নিচে ঢুকে যেতে ইচ্ছে করছে। মনে মনে বলে, ছিঃ কি লুচু লোক। সে বলছে তাই বলে তার হাতে প্যান্ট পরতে চাইবে।
আমতাআমতা করে বলল,
“ইয়ে মানে? আমি তো মজা করে বলেছি।”
গালের ভাঁজে জিভ ঠেলল ফারাজ। তিতলির লজ্জালজ্জা পেলব মুখখানা দেখে তার পৈশাচিক আনন্দ লাগছে যেমন। দাম্ভিকতার ভারে উঁচু ঘাড় টা সামান্য কাত করে এক প্রকার হুমকির স্বরে আওড়ালো,
“মজা করে বলো কিংবা দুঃখ করেই বলো তুমি বলছো তো? এখন আমাকে প্যান্ট পরিয়ে দিতেই হবে আর এটাই ফাইনাল ওকে? আমাকে বসা থেকে উঠালে ফল ভালো হবে না বলে দিলাম।”
“আমি…আসলে আপনি…”
বাক্য এলোমেলো সপ্তদশীর। তাকে পথিমধ্যে থামিয়ে দিয়ে ফারাজ শেষাত্মক ভাব-ভঙ্গিমা ধরে রেখে বলল,
“হুঁশশশ! এত রকম বাহানা না করে এক্ষুনি কাছে আসো। নয়তো আমি-ই উঠে আসছি।”
ফারাজ উঠার ভান করতেই তিতলি এক দৌড়ে ফারাজের সামনে চলে এলো। নিজের কথায় নিজেই ফেঁসে গেছে বেচারি। চোরাচোখে ফারাজের মুখের দিকে তাকাতেই দুজনের চোখাচোখি হলো। ফারাজ বাঁকা হাসল। তিতলির দিকে প্যান্ট বাড়িয়ে দিয়ে বলল,
“নাও! উঠে দাঁড়াতে হবে নাকি বসে থাকবো?”
“ন..না, না বসে থাকুন উঠা লাগবে না।”
“ওকে বসে থাকলাম।”
তিতলি প্যান্ট হাতে নিয়ে ফারাজের পায়ের সামনে বসল। হাত পা থরথর করে কাঁপছে। মনে হয় ওনার হাত নেই তাই তার হাতে শিশুদের মতো প্যান্ট পরতে চাচ্ছে। দোষটা তো তারই কেন যে মজা করে বলতে গেল। এখন তার কথায় তাকে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে ফাঁসিয়ে দিলো।
[Writer page : সুহাসিনি ফাতেহা]
কাঁপা হাতদুটো ফারাজের পায়ে দিতেই পুরো শরীর হিম হয়ে উঠলো তিতলির। ফারাজ গভীর চোখে তাকিয়ে তিতলির কার্যকলাপ দেখছে।
সে মেঝে থেকে পা টা সামান্য উঁচু করলো যাতে তিতলি পরাতে সুবিধা হয়। কিন্তু বালাইষাট! তিতলি ফারাজের পা দিয়ে প্যান্টের মাথা ঢুকাতেই পারছে না হাতের কাঁপাকাঁপির জন্য। ফারাজ ফের বলল,
“এত সময় লাগছে কেন হুমম? এতক্ষণে তো আমি অন্যকাজ….”
ফারাজের কথার মাঝেই তিতলি কুণ্ঠা ঠেলে মিনমিনিয়ে বলল,
“হাত কাঁপে।”
ফারাজ কিয়ৎক্ষণ চোখ ছোট করে রেখে,জিভের ডগা ভিজালো। পাতলা অধর নেড়েচেড়ে বলল,
“আমার সামনে আসলেই এসব কাঁপাকাঁপি শুরু হয় না? সামান্য একটা প্যান্টও ঠিক মতো পরিয়ে দিতে পারছো না? স্বামী অসুস্থ হলে তখন সেবা করবে কীভাবে?”
“পারি তো। আর একটু ধৈর্য ধরুন।”
“তোমার বেলায় ওত ধৈর্যশীল হতে পারব না আমি। দশ মিনিটের বেশি সময় হয়ে যাচ্ছে। আর দুই মিনিট সময় দিলাম নয়তো এখন অন্যকিছু ঘটে যাবে নিশ্চিত।”
“কি ঘটে যাবে?”
“করিয়ে দেখাব নাকি?”
“না, না থাক।”
তিতলি ফারাজের দু পায়ে প্যান্টের দু মাথা ঢুকাতেই ফারাজ উঠে দাঁড়াল। প্যান্ট নিজে উপরে তুলতে তুলতে পুরো প্যান্ট পরে তোয়ালে বের করছে। তিতলি সেটা দেখে সরু নাকের পাটাটা সামান্য ফুলিয়ে বলল,
“এখন আমি কি পাবো? আপনাকে প্যান্ট পরিয়ে দিয়েছি এবার আপনি আমাকে পারিশ্রমিক দেন।”
ফারাজ সোফার দিকে তোয়ালেটা ছুড়ে ফেলে দিয়ে ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসির রেশ ফুটিয়ে শুধালো,
“ও তাই? পারিশ্রমিক লাগবে তোমার?”
“হুমম!”
ফারাজের অভিব্যক্তি বদলাল না। তিতলির চোখে চোখ রেখে অন্যরকম গলায় বলল
“ওকে আবার কাছে আসো দেখি। তুমি আমাকে প্যান্ট পরিয়ে দিয়েছো তো? আমি তোমার পাজামা খুলে দিচ্ছি! এতে পারিশ্রমিক বরাবর হয়ে যাবে। রাইট! এর চেয়ে বেশি পারিশ্রমিক চাই দেবো?”
তলপেটে মুচোর দিয়ে উঠল লাজুকময়ী সপ্তদশীর। সে সুন্দর ভাবে কথা বললে এই লোক সেটাকে বান্দর বানিয়ে ফেলছে। কেন যে আবার একথা বলতে গেল। তক্ষুনি নাকমুখ কুঁচকে চেঁচিয়ে বলে ওঠে,
“আসতাগফিরুল্লাহ! নাউজুবিল্লাহ, নাউজুবিল্লাহ!
এটা কেমন পারিশ্রমিক। অসভ্য লোক।”
“তাহলে অন্যভাবে পারিশ্রমিক দেওয়ার ব্যবস্থা আছে। নো প্রবলেম!”
বলে ফারাজ নিজের ঠোঁটে ইশারা করল।
তিতলি সেটা অবলোকন করতেই দুহাতের আঁজলায় মুখ ঢেকে লাল নীল গোলাপী হয়ে বলল,
“আপনার কোনো পারিশ্রমিক আমার প্রয়োজন নেই। সরুন তো।”
“উমমম, তা তো হবে না। একটু আগে তো ঠিকই বললে তোমার পারিশ্রমিক চাই আর এখন আমি তোমাকে তোমার পারিশ্রমিক সুদে আসলে বুঝিয়ে দিচ্ছি।”
কথাটা বলে ফারাজ নিজের পেশিবহুল হাতের সাহায্য তিতলিকে এক হেঁচকা টানে টেনে এনে নিজের সাথে পুরোপুরি মিশিয়ে নিলো। আকস্মিক ঘটনায় তিতলি ভড়কে গেলো। থরথর কাঁপছে সম্পূর্ণ দেহ। সে কিছু বুঝে উঠার আগেই ফারাজ একহাতে তিতলির নরম চোয়ালখানা ধরে অন্যহাতের বৃদ্ধা আঙুল দিয়ে তিতলির ঠোঁটের লিপিস্টিক মুছতে ব্যস্ত হয়ে গেলো। তিতলি এত কষ্ট করে ঠোঁটে লিপিস্টিক একেছে।
দুঃখে কেন্দে দিয়ে বলল,
“আমার..লি..লিপিস্টিক মুছে ফেলছেন কেন?”
ফারাজ তিতলির নাকে গালে নাক ঘষছে। আর অস্পষ্ট স্বরে আওড়ালো,
“ললিপপ খাওয়াবো তাই।”
তিতলি ললিপপ খাওয়ার আশায় চোখ চকচক করে বলল,
“ললিপপ কোথায় আপনার কাছে আছে?”
ফারাজের কন্ঠসুর গভীর,
“হুমম!”
“কই আমাকে দিন তাহলে।”
“নিচে আছে। চোখ দিয়ে খুঁজে দেখো।”
তিতলি নিচে তাকিয়ে আবার উপরে মুখ তুলে কিছু বলতে যাবে তার আগেই ফারাজ কোনো রকম পূর্বাভাস ছাড়ায় তিতলির কম্পিত নরম ঠোঁটদুটো নিজের অধরের ভাঁজে আকড়ে ধরলো। অনবরত চুষে নিচ্ছে তিতলির ঠোঁটজোড়া। ফারাজ কিছুসময় পর ছেড়ে দিয়ে তিতলির মুখের কাছে মুখ রেখে ঠোঁটের উপর দৃষ্টি রেখে হিসহিসিয়ে বললো,
“আর পারিশ্রমিক লাগবে হুমম? আর লিপিস্টিক দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এভাবেই ঠিকাছে।”
তিতলি হাঁসফাঁস করছে। বুকের ভেতরে দ্রিমদ্রিম আওয়াজ যেন কমছে না বরং বাড়ছে। তার ঠোঁটের লিপিস্টিক মুছে দিয়ে বলছে, এভাবে ঠিকাছে।
“ললিপপ দেন।”
ফারাজ তিতলির গালে নিজের ক্লিন সেভ করা চোয়ালের খোঁচা দিতে দিতে চোখ বুঁজে রেখে বলল,
“সময় হলে দিবো।”
এর মাঝেই ফারাজের ফোন বেজে উঠল। সে এবার তিতলিকে একেবারে ছেড়ে দিয়ে স্টাডি টেবিলের দিকে এগালো। মোবাইলের স্ক্রিনে তাকিয়ে ফোন রিসিভ করল। জরুরী ফোন হওয়ায় ব্যস্ত ভঙ্গিতে কথা বলতে ব্যস্ত হয়ে গেলো। ভাবখানা এমন যেন এতক্ষণ কিছু হয়নি। কপালে ভাঁজ পড়েছে।
তিতলিকে আর পায় কে? ভেজা ঠোঁট দুটো হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে মুছে দরজা খোলে বেরিয়ে গেলো। লাস্টের দিকে এসে অনেক ভাবনা-চিন্তা করার পর বুঝতে পেরে গেছে তাকে ললিপপ বলতে কি বুঝিয়েছে। যেতে যেতে বিড়বিড় করে বলল,
“অসভ্য, নির্লজ্জ, বেহায়া লোক। ভাল্লুক কোথাকার!”
★
মোট চারটি গাড়ি নেওয়া হয়েছে। দুটো বড় গাড়ি এবং দুটো ছোট গাড়ি। বড় একটাতে মুরুব্বিরা বসবেন। দুটোতে ছেলেমেয়েরা। অন্য একটাতে একটাতে সবার ট্রলি কাপড়চোপড় ফলমূল মিষ্টি সহ যাবতীয় সব জিনিসপত্র। কিন্তু বিপত্তি ঘটেছে। ফারাজ যেতে পারবেনা। দুপুরে রাজী হলেও ফারাজ এখন যেতে পারবে না সরাসরি বলে দিলো। কলেজে পরিক্ষা চলছে তার উপর অনেক দায় দায়িত্ব। এসব ফেলে তার কাছে কিছুতেই যাওয়া পসিবল না। তিতলির মনটা খারাপ হয়ে গেছে একথা শোনার পর থেকে। শাশুড়ি আদর করে বুঝিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। ফারাজ তিতলিকে যেতে দিবে না বলায় ফারিন বেগম বলেছেন তিতলি যাবে একা সে গোটা বাড়িতে থাকতে পারবেনা। ফারাজ শেষবারের মতো তিতলিকে রুমে ডেকে এনে অনেকক্ষণ দেখে নিলো। অনেক হুশিয়ারি দিলো। যেমন অতিরিক্ত দৌড়াদৌড়ি হাতাহাতি,টইটই করা,মাথায় ওড়না দেওয়া ছাড়া রুম থেকে বের হওয়া নিষেধ। সাজুগোজু নিষেধ! আরো কয়েকটা হুশিয়ারি দিলো। যেন একটা রচনা বুঝিয়ে বলেছে যেটা তিতলি ডান কান দিয়ে শুনেছে বাম কান দিয়ে বের করেছে।
ফারাজ বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে আছে। সেখানে অয়ন,আলভী,ফরহাদ ওরাও আছে। আলভী অনেকক্ষণ যাবত ফারাজকে কিছু একটা বলে খোঁচা দিতে চাচ্ছে। কিন্তু ব্যাটার চোখমুখ দেখে দেওয়ার সাহস পাচ্ছে না। কাজিনদের মধ্যে সবার বড় ফারাজ। সবাই একটু আধটু ফারাজকে ভয় পায়। তবে আলভী তেমন একটা ভয় পায়না। সে ফারাজকে খোঁচা দিতেই পারলেই নিজেকে অনেককিছু ভেবে বসে। এবার খোঁচা দিলো,
“কি ব্রো? বাসর রাতে তো নাচতে নাচতে ঢুকেছিলি। এখনও তো কোনো খুশির খবর শুনলাম না। তো বলি কি চুলে পাকান ধরলে তখন খুশির খবর শোনাবি নাকি?”
ফারাজ আলভীর কথা শুনে রেগে যাবে যাবে ভাব নিয়েও শান্ত থাকার চেষ্টা করে বলল,
“মেজাজ খারাপ করিস না।”
আলভি আরো খোঁচা মারার জন্য বলল,
“ভাবি তোকে রেখে আমাদের সাথে যাচ্ছে। উফফ নাদান শিশুটা একেবারে ঠিক করেছে।
তিতলিকে দেখা গেলো। আলভী ভাবি বলে ডাক দিলো,
“ওই ভাবি। ওদিকে আসেন।”
তিতলি অয়নের বোন আয়েশা, আর ঝিলিকের সাথে দাঁড়িয়ে। আয়েশা বাপের বাড়িতে বেড়াতে এসেছে। চারমাসের প্রেগন্যান্ট এখন। মা বাবারা সবার সাথে যাচ্ছে ফারাজের নানার বাড়ি। আর ঝিলিকও যাচ্ছে তাদের সাথে। এখন আলভীর ডাক শুনে এদিকে তাকাল তিতলি। হিল জুতো পরেছিল সে। কিন্তু ফারাজ সেগুলো খুলে নিয়েছে সেদিন হিল পরে পড়ে গিয়ে পায়ে ব্যথা পেয়েছে। আজ আবার সে ভুল দ্বিতীয় বার হোক সে চাইনা। তাই বিকেলের মধ্যেই দামী দেখে কম হিল থেকে দশজোড়া জুতো কিনে এনেছে তিতলির জন্য। তিতলি এখন সেগুলো থেকে একজোড়া পরেছে। কাঁধে ক্রসবডি ব্যাগ ঝুলানো। ঠোঁটে তেমন লিপিস্টিক নেয়। ধীরে ধীরে হেঁটে এসে আলভীদের সামনে এসে দাঁড়াল। ফারাজ একবার তিতলির দিকে তাকিয়ে অন্যদিকে মুখ ঘুরে তাকালো। তিতলি এমনিতে মুখশ্রী অন্ধকার করে রেখেছে ফারাজ যাচ্ছে না তাই। তাও হেসে আলভীকে বলল,
“জ্বি কিছু বলবেন ভাইয়া?”
“বলতে তো চাই অনেককিছু। তো বিবাহিত জীবন কেমন চলছে ভাবি? সুখের তো? না মানে বলছিলাম যে আপনার জামাইয়ের ….”
ফারাজ আলভীর কান টেনে ধরে শক্ত মেজাজে বলল,
“এখান থেকে যা তোরা।”
“কেন? আমরা ভাবির সাথে কথা বললে দোষ কোথায়?”
তিতলি আলভীর কথা শুনে বলল,
“কোনো দোষ নেই ভাইয়া।”
অয়ন যেদিন শুনেছে ফারাজ ভাই তিতলিকে বিয়ে করবে সেদিনই তিতলির প্রতি নিজের সবটুকু ভালালাগা কোরবানি দিয়ে ফেলেছে। তিতলিকে নিজের বোন ভাবি দুচোখেই দেখে। অয়ন বলল,
“তিতলি তোমাকে….”
অয়নের অর্ধেক কথার মাঝেই তিতলিকে ঝিলিক এসে টেনে অন্যদিকে নিয়ে গেলো। ফারাজ অয়নকে হুশিয়ারি দিয়ে বলল,
“তুই আমার বউয়ের নাম ধরে ডাকবি না।”
“আমি তো পিটার খেতো যে তখন থেকেই তিতলি বলে ডাকি।”
“তখন ডেকেছিস সেটা অতীত। কিন্তু এখন বর্তমানে তোর ভাবি হয়। ভাবি ডাকবি ওকে।”
আলভী হো হো করে হেসে বলল,
“জ্বলে?”
ফারাজ কটমট দৃষ্টি ছুড়ে দিয়ে অদূরের তিতলির দিকে তাকিয়ে থাকল।
চারটা বেজে যেতেই সবাই গাড়িতে উঠে বসল। তিতলি, ঝিলিক, আয়েশা, অয়ন, ফরহাদ, আলভী ওরা সবাই এক গাড়িতেই বসেছ। তিতলির দুপাশে ঝিলিক আর আয়েশা। পেছনের গাড়িতে মুরুব্বিরা বসেছেন। তিতলি ঝিলিককে আস্তে করে বলল,
“ঝিলিক ভাবি। তলেতলে আমার ভাইয়ার সাথে টেম্পু চলছে?”
ঝিলিক লজ্জা পেয়ে বলল,
“কি যে বলো না তিতণি। তোমার ভাইয়া নিজেই আমার সাথে টেম্পু চালাতে আসছে।”
আয়েশা পাশ থেকে বলল,
“কি চালাচালির কথা বলছিস ঝিলিক।”
তখন ফারাজ তিতলিদের গাড়ির জানালার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। তিতলি মাথা বের করে ফারাজকে দেখার সুযোগ করে দিলো যে তারা ভেতরে আনন্দ ফূর্তি করছে। মেকি হেসে আবার বলল,
“যাবেন?”
ফারাজ জানালা দিয়ে হাত ঢুকিয়ে তিতলির ওড়না ঠিক করে দিচ্ছে। ছোট ছোট বেবি হেয়ার গুলো চুল কানের পিঠে গুঁজে দিয়ে বলল,
“আমি যদি শুনি সেখানে গিয়ে কোনো অঘটন করেছ, বিলিভ মি! গিয়ে পা কেটে ঘরে বসিয়ে রাখব।”
তিতলিও মুখে মুখে বলল,
“কোনো কিছু করব না। একদম হুজুর সেজে রুমের ভেতরে ঢুকলে আর আসা পর্যন্ত বের হবো না।”
আলভী ডাইভিং করবে। সে স্টিয়ারিং এ হাত রেখে তিতলির কথা শুনে ফারাজের উদ্দেশ্য বলল,
“তোর বউ নাদান শিশু হতে পারে কিন্তু খুব চালাক। তাইনা ভাবি ঠিক বলছি না?”
#চলবে।
[লাস্ট কথা। 5 হাজার রিয়েক্ট না হলে গল্প আসবে না। তোমরা চুপিচুপি পড়ে না গিয়ে বড়বড় কমেন্ট আর কষ্ট করে রিয়েক্ট দিয়ে যাও। চু আর ফারাজকে একটু বুঝাবো বউয়ের শূণ্যতা তাই একটু দূরে পাঠাচ্ছি। চিন্তা নাই কালকের পর্বে ফারাজ থাকবে আবার।]
Share On:
TAGS: রাগে অনুরাগে, সুহাসিনি ফাতেহা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ২৬(প্রথমঅংশ+শেষাংশ)
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ৪৬
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ৪৪((প্রথমঅংশ+শেষাংশ)
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ২৩
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ১৫(প্রথমঅংশ+দ্বিতীয় অংশ)
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ১৬
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ৩
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ৪৮(প্রথম অংশ+শেষাংশ)
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ১০
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ২৯