দুইজনাতেই
পর্ব_২২
লেখনীতেঃ অলকানন্দা ঐন্দ্রি
বাস মাত্রই চলা শুরু করেছে। বাইরে থেকে ফুরফুরে হাওয়া এসে ভিড়ছে ভেতরেই। দ্বিতী সাক্ষ্যর সাথে এইসেই বলাবলি করে জানালার দিকটাতেই বসল। যদি জানালার দিকে না বসতে দিত দেখা যেত পেঁচার মতো মুখ করেই সারাটা পথ গেল। দ্বিতী অবশ্য খুশিই জানালার পাশে বসতে পেরে। বাতাসে ছেড়ে দেওয়া চুলগুলো একটুআধটু উড়ে সাক্ষ্যর মুখেও লাগছে।সাক্ষ্য শুধু শান্ত চোখেই তাকাল। দ্বিতী এতোটা সময় চুপ থাকলেও এবারে শুধাল,
“ বন্ধুর বউ পরিচয় না পেলে নিশ্চয় এই আন্টিটাও আজ ছেলের বউ করতে চাইতেন আমায়। দুঃখ! উনি আগেই জেনে গেলেন। ধুর, মনটা খারাপ হয়ে গেল। ”
সাক্ষ্য ভ্রু নাচিয়ে চাইল। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই চাপা গলায় প্রশ্ন ছুড়ল,
“ অন্যের ছেলের বউ হওয়ার এত শখ?”
“ শখ থাকবে না? কারোর ছেলের বউ হয়ে একটা মিষ্টিমতো সংসার করার শখ আমার বহুদিনের। ”
সাক্ষ্য ফের ভ্রু নাচাল। ওভাবেই বলল,
“ তাই নাকি? তো শখ পূরণ করছেন না কোন দুঃখে ? ”
“ হু? ”
গম্ভীর চাপা স্বরে উত্তর এল,
“ বাসায় ফিরেই সংসার করার প্রস্তুতি শুরু করে দিবেন। নয়তো পরে প্রস্তুত হওয়ার সময় দেওয়া হবে না।”
দ্বিতী ভ্রু বাঁকাল প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই। বলে উঠল,
“ কি বলতে চাইছেন? ”
“ তেমন কিছু না। আমার আম্মুর পুত্রবধূকে বহুদিন তার সংসারে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সংসারের প্রতি এই অনীহা তো আর মানা যায় না। আপনার যখন এত সংসার করার শখ তখন আম্মুর পুত্রবধূর সংসারটা এবং পুত্রটাকে সামলানোর দায়িত্ব নিলে বড্ড ভালো হয়। ”
দ্বিতী শুনল। শুনেই বলে উঠল,
“ আপনার আম্মু বড়ই ভালো মানুষ। তার খাতিরে তার পুত্রবধূর সংসারটার দায়িত্ব নাহয় নিব, কিন্তু আপনার আম্মুর পুত্র? পুত্র কি পুত্রবধূকে ভালো টালো বাসত বা বাসে? ”
প্রশ্ন শুনে সাক্ষ্য হেসে ফেলল যেন। তবুও মুখ চেপে উত্তর করল,
“ পুত্রকে পুত্রবধূ অনেক ভালোবাসে।”
দ্বিতী নাক লাল করল। ভালোবাসে। তো? এটাকে কি পেয়েছে সাক্ষ্য? ভেবে নিয়েছে যে দ্বিতী ভালোবেসেছে বলে পঁচে গিয়েছে? চটফট বলে উঠল,
“ কানে কম শুনেন?পুত্র, পুত্রর কথা বলেছি।”
“ এটা পুত্রকে জিজ্ঞেস করে নিয়েন।”
দ্বিতী কটমট করে চাইল। এই পুরুষের পেটের কথা যে সহজে বের হবে না তা বুঝে উঠল যেন। বলল,
“পুত্রকেই জিজ্ঞেস করেছি। উত্তর দিন এবার।”
“সরি, উত্তর দিতেই হবে এমন কোন বাধ্যবাধকতা দেখছি না ম্যাম। ”
দ্বিতী প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই মুখ কুঁচকাল। বলে উঠল,
“এমন অহংকারী পুত্রর দায়িত্ব না নেওয়াই ভালো। এর চেয়ে ভালো একটা ছেলে দেখে তার দায়িত্ব নিব।”
সাক্ষ্য এবারে বাম হাতটা প্রসারিত করে নিয়ে গেল দ্বিতীর কোমড়েই। অতঃপর কোমড় চেপে বসেই চাহনিটা বাসের সবার দিকে বুলাল একবার। সবাই মোটামুটি সবার কাজেই ব্যস্ত। পরমুহূর্তেই দ্বিতীর দিকে চেয়ে বলল,
“ আবার বলুন। ”
দ্বিতী প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই রেগে তাকাল। বলে উঠল,
“ বাসে এসব কি? আশ্চর্য! ”
ভ্রু নাচিয়ে প্রশ্ন ছুড়ল পুনরায় সাক্ষ্য,
“কোনসব?”
“ হাত সরান কোমড় থেকে। ”
“ না সরালে? ”
“ চিৎকার করব। ”
সাক্ষ্য হাসল এবারে। ওভাবেই বসে থেকে বলল,
“ করতে পারেন। নো প্রবলেম। ”
দ্বিতী খুব রেগে আছে এমনভাবেই বসে থাকল। মাঝেমাঝেই সাক্ষ্যর দিকে চেয়ে এমন একটা চাহনি দিচ্ছে যেন রাগে তার শরীর জ্বলছে। সাক্ষ্য অবশ্য তা দেখে বারবারই দ্বিতীর আড়ালে ঠোঁট চেপে হাসছে। আর দ্বিতী রেগে তাকানো মাত্রই ভ্রু নাচিয়ে বুঝাতে চাইছে, “এনি প্রবলেম?”
.
কিছুটা সময় পরই রাদিফ এল। হাতে কয়েকটা তেঁতুলের আচার। মোটামুটি বাসের সামনের দিকের প্রতিটা সিটেই সুন্দরীদের সাথে সে আচার গুলোর বাহানায় এক টুকরো ফ্লার্টিং করে এসেছে। অবশেষে এল দ্বিতীদের সিটের দিকেও। সাক্ষ্যর হাতটা তখনও দ্বিতীর কোমড়েই। শাড়ির আঁচল আর দ্বিতীর খোলা চুলের জন্য খুব একটা বুঝা যাচ্ছে না সাক্ষ্যর হাতটা। রাদিফ প্রথমে এসেই দাঁত কেলিয়ে হেসে বলে উঠল,
“ ভাবী? আপনি এমন মুখ কুঁচকে বসে আছেন কেন? নিন আচার খান। খুবই সুস্বাদু আচার। ”
দ্বিতীর চোখ চকচক করে যেন। উচ্ছ্বাস দেখিয়ে বলে উঠল,
“ আচার বিক্রি করছেন নাকি?”
“ না ভাবি, আপনার জন্য একেবারে ফ্রি। আপনি আর অন্য সবার মতো না।”
দ্বিতী বেশ উচ্ছ্বাস নিয়ে পুণরায় উত্তর করার আগেই সাক্ষ্য কপাল কুঁচকে বলে উঠল,
“ সর, আচার খায় না ও। ”
রাদিফ মুখটা বাংলার পাঁচের মতো করে দ্বিতীর দিকে চাইল। বলল,
“ খান না?”
“ আরেহ খাই রাদিফ ভাই। এদিকে দিন তো। ”
এইটুকু দ্বিতী বলতেই রাদিফ হাসল।উত্তর করল,
“ অবশ্যই। আপনার মতো সুন্দরী পরীদের জন্য সব আচার ফ্রি তে দিতে পারব। ”
রাদিফ আচার বাড়িয়ে ধরল। অন্যদিকে সাক্ষ্যর বিরক্ত লাগল যেন। একবার শীতল চাহনিতে দ্বিতীর দিকে চেয়েই নিজের হাতে আচার নিল। অতঃপর গম্ভীর কন্ঠে বলল,
“ রাদিফ। সর। অন্যদের দে।”
দ্বিতী প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই বলল,
“ একদম না৷ আমায় দিন। আচার আমার খুব প্রিয়। ”
সাক্ষ্য প্রায় শীতল চাহনিতেই নিরব ধমক নিয়ে চেয়ে চিমটি কাঁটল দ্বিতীর কোমড়েই। বোকা দ্বিতী চিমটিতে সঙ্গে সঙ্গেই কোমড়ের দিকে ফিরে বলল,
“ উহু, কি হলো? ”
রাদিফ প্রশ্ন করল এবার,
“ কি ভাবি? ”
“ উনার হা…পিঁপড়া!”
বলতে বলতে নিয়েও কথাটা বলতেই রাদিফ শুনল। সাক্ষ্য ফের তাড়া দিতে কথাদের সিটের দিকে ফিরল সে। সাক্ষ্য ততক্ষনে ঠোঁট চেপে হাসে। বিস্ময় নিয়ে বলে,
“ বাসে পিঁপড়া ও আছে? আশ্চর্য। ”
দ্বিতী প্রায় কোমড়ে হাত রেখেই রেগে বলল,
“ হু। ছোট নয়, বড়সড়ো পিঁপড়া। ”
পরমুহূর্তেই বলে উঠল,
” বুঝলাম না। আচার খেলে আপনার প্রবলেমটা কোথায় ভাই? ”
“ ঐসব ভেজাল মিশ্রিত খাবার না খাওয়াই ভালো। ”
“ ভেজাল মিশ্রিত কে বলেছে? ”
“ আমি।”
দ্বিতী ভ্রু বাঁকাল। বলল
“ যদি ভেজালবিহীন হতো দিতেন? ”
এবারে গম্ভীর চাপা স্বরে উত্তর এল
“ না। ”
“ কারণ? ”
“ আপনাকে বলব কেন?”
দ্বিতী মুখ ভেঙ্গিয়ে জানালায় তাকাল। মুখ বাঁকিয়ে বলল,“বলতে হবেও না। ”
_
দ্বিতীরা মেয়ের বাড়িতে পৌঁছাল দুপুরের আগে আগেই। দ্বিতী একপাশে বসে ছিল কথার সাথে। একটু আগে কথাও উঠে গিয়েছে। তারপরই দ্বিতীর আম্মু কল করেছে। দ্বিতী কল রিসিভড করতেই ওপাশ থেকে বলল,
“ কি পরেছিস? পেয়েছিস শাড়ি? ”
এটা এখন জিজ্ঞেস করছে আম্মু? দ্বিতী ফোঁস করে শ্বাস টেনে বলল
“ পেয়েছি। ”
“ কোথায়? ”
“ তোমার সাক্ষ্য…আমার ব্যাগে। ”
দ্বিতী চটফটই বলতে যাচ্ছিল সাক্ষ্যর ব্যাগে। পরমুহূর্তেি কথা বদলে নিজের ব্যাগে বলল।আর তা শুনেই তার আম্মু বলল,
“ বলেছিলাম না দিয়েছি আমি। সারাদিন মোবাইল দেখলে চোখে এমনই দেখবি। তো কে খুঁজে দিল? সাক্ষ্য? ”
দ্বিতী ফোঁস করে শ্বাস ছেড়ে মিথ্যেটাই বলল,
“ হু। ”
“ দেখ কত ভালো ছেলেটা। তবুও রাজি হচ্ছিস না বিয়ের অনুষ্ঠানে। ”
দ্বিতী কপাল কুঁচকায়।আহা! যদি সত্যিই খুঁজে দিত তাহলে নাজানি আরো কত প্রশংসা করত। বলল,
“ ভেবেচিন্তে দেখলাম উনার মাথা খাওয়ার জন্য হলেও বিয়েতে রাজি হওয়া উচিত। তো, সাজি আম্মুকে বলে দিও আমার সমস্যা নেই। তবে এটা বলবা না যে, আমি রাজি। বুঝেছো? ”
“ সমস্যা নেই মানেই তো রাজি। ”
“ নাহ, সমস্যা নেই আর রাজি হওয়া একই না। উনি যেমন না পারতেই আকদে হ্যাঁ বলেছে, আমিও না পারতেই হ্যাঁ বলছি। ”
দ্বিতীর পুণরাং অবাক হয়ে বলল,
“ না পারতেই? তোকে জোর করেছে কে? সাক্ষ্য? ”
“ তোমরা। বাড়ি বয়ে এসে বুঝিয়ে গেল। এখন পুরোপুরি না করলে তো খারাপ দেখাচ্ছে তাই। ”
“ ঢং করবি না দ্বিতী। না পারতেই হ্যাঁ বলেছে শুনলে কষ্ট পাবে ওরা। সাক্ষ্যও তো কষ্ট পাবে। আমি পারব না বলতে। ”
“ কে কষ্ট পাবে? সাক্ষ্য এহসান?”
“ পাবে না? ও কি জোর করে বিয়ে করেছে তোকে যে এখন তোর অখুশিতে বিয়ের অনুষ্ঠান হবে? ”
“ আমিও কষ্ট পেয়েছিলাম আম্মু। শোনো আম্মু? যদি কখনো জানতে পারো একটা ছেলে জেনেবুঝেই তোমার দুর্বলতা জেনে তোমাকে তার পিছনে ঘুরঘুর করে ঘুরিয়েছে কি করবে? যদি জানতে পারো ভালোবেসেও ঐ ছেলেটা ইচ্ছে করেই প্রকাশ করেনি। কি করবে তুমি? মাথায় তুলে রাখবে ঐ ছেলেকে? ”
এইটুকু বলেই দ্বিতী ফের বলল,
“ চৌদ্দ বছর বয়স থেকে জ্বলছি আম্মু। একটু তো তাপ তারও সহ্য করা উচিত। তো এই কারনেই বিয়েতে রাজি দেখাচ্ছি। আর কোন কারণ না বুঝেছো? সাক্ষ্য সাক্ষ্য করা বন্ধ করো এবারে। ”
__
সাক্ষ্যর কানে এই খবর পৌঁছাতে দেরি হলো না। বিয়েবাড়ি থেকে আকদ শেষে শামিমের বাসায় ফেরার পরই কথাটা কানে এল। এতো সহজে রাজি হয়ে এ দ্বিতীকা তাসনিম? এতো সোজা মেয়ে তো সে নয়। মাথায় আসলে ঘুরছে টা কি? সাক্ষ্য পা এগিয়ে রুমের দ্বারেই এল। দরজাটা আটকানো ভেতর থেকে। সাক্ষ্য দুটো টোকাই দিল । ওপাশ দরজা খোলা হলো না দেখে ছোট করে বলল,
“ দরজা খুলুন। ”
দ্বিতী প্রায় তার একটু পরই বলল,
“ কথাকে ডাকুন তো একটু। দরকার আছে। ”
“ কি কাজে? ”
“ দরকার আছে মানে দরকার আছে তো। ডাকুন। ”
সাক্ষ্য না পারতেই কথাকে ডেকে দিল। একরুমে নিধি সহ বসা ছিল। নিধি এতক্ষন তাকে দ্বিতী আর সাক্ষ্যকে নিয়েই জিজ্ঞেস করছিল। সে এখনো বোধহয় বিশ্বাস করে উঠতে পারছে না সাক্ষ্য সত্যি সত্যিই বিয়ে করেছে। তাও তাদেরই ডিপার্টমেন্টের দ্বিতী। যে নিধি একটু একটু করে অনুভূতি সাজাল, ভেবেও নিয়েছিল বন্ধুর বোন বলে তার অনুভূতিকে অসম্মান করবে না সাক্ষ্য। অথচ এখন শুনছে সাক্ষ্য বিবাহিত। নিধির রাগ হবে না?
কথা এল। এসেই দরজা আটকিয়ে দেখল দ্বিতী পিন খুলতে নিয়ে পিক বাঁকা করে ফেলেছে প্রায়। শাড়িটাও একটুখানি ছিড়ে গেল যেন।পিনের মাথাটাও বাহু আর কাঁধের সংযোগস্থানে আটকে চিরচিরে রক্ত বের হয়েছে। কথা ছোটশ্বাস ফেলে। ধৈর্য্যবিহীন দ্বিতীর থেকে এর থেকে ভালো কিছু আশা করাও যায় না অবশ্য। বলল,
“ এমন তাড়াহুড়ো করছিলি কেন? ব্যথা লাগছে? ”
“ আরেহ একটুই। ভালো হয়ে যাবে। ”
অতঃপর কথা বেরিয়ে গেল। সাক্ষ্য জিজ্ঞেস করাতে বলল পিন গেঁথে গিয়েছিল তাই। দ্বিতীও ততোটা সময়ে অন্য ড্রেস পরে চেঞ্জ করে নিয়েছে। সাক্ষ্যকে দেখেই বলল,
“ আপনার জন্যই আমার শাড়িটা ছিড়ে গেল। এত ডাকাডাকি করতে হবে কেন?”
দ্বিতীর পিনটা আগেই আটকেছিল। শাড়িটাও সাক্ষ্য ডাকার আগেই ছিড়েছে। তবুও দোষটা সাক্ষ্যর উপরই ছাপাল। সাক্ষ্য শুনল। ধীর পায়ে ঘরে ডুকে বলল,
“ ধৈর্য্যহীন মানুষজনদের এমনই হয়। দোষ রাখে অন্যের উপর। ”
“ আপনারই দোষ। ”
“ হু। আপনার তো কোন দোষ নেই। সাধু মহিলা আপনি। ”
সাক্ষ্য ঘুরে চাইল। আচমকা দ্বিতীর কাঁধের দিকে চোখ রেখে প্রশ্ন ছুড়ল,
“ কোন জায়গায় কেটেছে? ”
“ কে বলল কেটেছে? ”
সাক্ষ্য এবারে ঝুঁকল একটুখানি। শীতল কন্ঠে বলল,
“ আপনাকে নিয়ে এলাম অক্ষত অবস্থায়। যাবেন পিন গেঁথে। দায়িত্বের অবমাননা হয়ে যাবে না? ”
“ কথা বলেছে? পিন গেঁথে কেন যাব? একটুখানি লেগেছিল। ঠিক হয়ে গেছে এখন। ”
“ ঠিক হলেই ভালো। ”
এইটুকু বলেই ফের আবার প্রশ্ন ছুড়ল,
“ পার্মানেন্ট সংসারে রাজি হয়ে গেলেন? এত ভালো কবে থেকে হয়েছেন? ”
দ্বিতী সাক্ষ্যর চোকে তাকাল ততক্ষনে। সাক্ষ্য ততক্ষনে কাঁধের দিকটায় জামার গলাটা সরিয়ে অল্প রক্তের রেশ থাকা অংশটায় আঙ্গুল বুলিয়ে ফের বলল,
“ একই রুমে খুনোখুনি হয়নি বলেই কি সংসার করতে রাজি হয়ে গিয়েছেন? নাকি অন্য প্ল্যান? ”
দ্বিতী ছটফট সরে দাঁড়িয়ে বলল,
“ কে বলল আমি রাজি? না পারতে হ্যাঁ বলেছি। আম্মু ইমোশনালি বলেছে তাই। ”
সাক্ষ্য পা এগোতে এগোতেই ভ্রু নাচিয়ে জিজ্ঞেস করে,
“ তাই? ”
দ্বিতী পেছাল। উত্তরে ধীর গলায় জানাল,
“ তাই নয়তো কি? ইচ্ছে করে নেচে নেচে সংসার করতে চাইব আপনার সাথে? ”
দ্বিতীর পিঠ প্রায় দেওয়ালেই ঠেকল। সাক্ষ্য তখন চোখে হেসে দুই হাত রাখল দ্বিতীর দুই পাশেই, দেওয়ালে। ঝুঁকে দ্বিতীর চোখে চোখ রেখে ভ্রু নাচিয়ে বলে,
“ চাইবেন না? ”
“ না। ”
সাক্ষ্য ঝুঁকতে ঝুঁকতে প্রায় দ্বিতীর মুখের দিকে এল। ফু দিয়ে দ্বিতীর কপালে পড়া চুলগুলো উড়িয়েই বলে উঠল,
“ শিওর? ”
সাক্ষ্য এবারে দ্বিতীর কানের কাছে মুখ নিয়েই ফিসফিস করে বলে উঠল,
“ হ্যাঁ বলতে বুঝে শুনে হ্যাঁ বলা উচিত ছিল ম্যাম। পরে যদি পস্তান? সাক্ষ্য এহসান আবার সবার সামনে অতিভদ্র পুরুষ হলেও আম্মুর পুত্রবধূর সামনে খুব একটা ভদ্র রূপ দেখাবে না। ”
চলবে……..
( রেসপন্স করবেন কি? না করলে নাই। তবে মন্তব্য কইরেন সবাই হুহ? নাইলে কথা কমু না
)
Share On:
TAGS: অলকানন্দা ঐন্দ্রি, দুইজনাতেই
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দুইজনাতেই পর্ব ১৭
-
দুইজনাতেই পর্ব ১৯
-
দুইজনাতেই পর্ব ১১
-
দুইজনাতেই পর্ব ২৬
-
দুইজনাতেই পর্ব ২১
-
দুইজনাতেই পর্ব ২০
-
দুইজনাতেই পর্ব ৩
-
দুইজনাতেই পর্ব ১৫
-
দুইজনাতেই পর্ব ৩০
-
দুইজনাতেই পর্ব ৩৬