Golpo romantic golpo জেন্টাল মন্সটার

জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৬২


#লামিয়া_রহমান_মেঘলা

#পর্ব_৬২

[ 🚫কপি করা সম্পূর্ণ কঠোর ভাবে নিষেধ ]

একটি ৬ মাসের গর্ভবতী মেয়েকে শক্ত পোক্ত করে চেয়ারের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে৷

মেয়েটির জ্ঞান নেই তখনো।

তার সামনে বসে সমানে সিগারেট টানছে মাফিয়া টোটো। চোখে মুখে এক অদ্ভুত প্রশান্তি।

যেন এই মেয়েকে ঠিক এভাবে দেখার আকাঙ্খা তাকে কত রাত ঘুমাতে দেয়নি।

টোটো গত প্রায় ঘন্টা খানেক সময় এখানে বসে আছে।

কিছুক্ষণ পর হটাৎ সামনে চেয়ারে বাঁধা মেয়েটা একটু নড়েচড়ে উঠলো।

টোটোর দৃশ্য তখনো স্থির।

চোখ খুলতে নিজের শরীর কিছুর সাথে শক্ত করে বাঁধা অনুভব করে আদ্রিতা৷

শরীর নড়াতে পারছে না সে।

কোন মতে নিজেকে সামলে চোখ দু’টো খুলে তাকায় সে।

ঘুটঘুটে একটা রুম। মাটি থেকে ভেজা আর ভ্যাপসা একটা বিশ্রী গন্ধ ভেসে আসছে।

চারিদিকে ঘুমট পরিবেশ। আলো প্রবেশের একটা পথ ওই উঁচুতে ছোট্ট একটা জানালা।

আদ্রিতা ঘামছে, এই প্রেগন্যান্সির সময়ে মেয়েটা গরম একটু বেশিই লাগে।

তার উপর এই রুমটা সাভাবিক হয়।

শুধুমাত্র ওই জানালার ওই টুকুনই মাটির উপরে আর সব টুকুন মাটির নিচে। এটা মূলক মেনশনের নিচে একটা বন্ধ বেসমেন্ট।

আদ্রিতা মৃদু আলোতে চোখের সামনে টোটেকে দেখতে পায়৷

সে নিজের মাথাটা সোজা করে একটু নড়তে চেষ্টা করে। ঠিক তখনি পেটে যন্ত্রণা করে ওঠে।

আদ্রিতা দেখতে পায় দঁড়ির একটা অংশ তার বেবি বাম্পের উপর দিয়ে গেছে।

আদ্রিতা অবাক হয়ে যায়।

সে সামনে টোটোর দিকে তাকায়।

তবে কেন জানিনা মেয়েটা আগের মত ভয় পাচ্ছে না। সে নিজের বজ্রকন্ঠে জিজ্ঞেস করে,

“এগুলো কি হচ্ছে? আমাকে এভাবে বেঁধে রাখার মানে কি?”

আদ্রিতার বজ্রকন্ঠ শুনে টোটো হাতের উপর থেকে মাথাটা উঠিয়ে সোজা হয়ে বসে।

আদ্রিতার চোখে চোখ রেখে বলে,

“তোমার কন্ঠে এত তেজ কিভাবে এলো মেয়ে?”

আদ্রিতা ভ্রু কুঁচকে তাকায় ,

“সমস্যা কি আপনার? আমাকে বেঁধেছেন ভালো কথা আমার পেটে কেন দড়ি বেঁধেছেন? আপনি দেখতে পাচ্ছেন না আমি যে প্রেগন্যান্ট? “

“জানি আদ্রিতা এটাইত আমাকে কষ্ট দিচ্ছে, এই পেটে আমার বেবির থাকার কথা ছিলো।

তা নয় তুমি আদ্রিসের বেবি ক্যারি করছো। আমিত তা হতে দিতে পারিনা৷”

টোটোর ভয়ঙ্কর কথা গুলো শুনেও আদ্রিতার ভেতর কোন পরিবর্তন লক্ষ করা গেলোনা।

মেয়েটা ঠিক আগের মতই দৃঢ় কন্ঠে বললো,

“কাপুরুষ, অন্য পুরুষের বউ তুলে এনেছিস। আবার সেই মেয়ে প্রেগন্যান্ট জেনেও তার পেটে দড়ি দিয়ে বেঁধেছিস। তোর মত কাপুরুষের বাচ্চা যে নারীর গর্ভে যাবে তার লজ্জায় মরে যাওয়া উচিত।”

কথা গুলো হজম হলোনা টোটোর।

লোকটা চেয়ার থেকে উঠে আদ্রিতার গালে সজোড়ে থাপ্পড় বসিয়ে দেয়। থাপ্পড়ের ফলে মেয়েটার গাল কেটে রক্ত চুইয়ে পড়তে লাগে।

তবুও যেন আদ্রিতার তেজ কমল না।

সে সোজা হয়ে তাকায় টোটোর দিকে। টোটোর চোখে চোখ রেখে বলে,

“কি রে সত্য সহ্য হলোনা? এত যখন পুরুষালি ভাব। পারিসত আমাকে খুলে দে।

আমাকে স সম্মানে একটা রুমে রাখ।

আমার আদ্রিস যদি ২৪ ঘন্টার মাঝে আমাকে তোর থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যেতে না পারে। আমি তোকে নিজের ইচ্ছায় বিয়ে করব। “

টোটোর চোখ দু’টো উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। সে আদ্রুতার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে,

“আদ্রিতা, যা বলছো ভেবে বলছোত?”

আদ্রিতা বাঁকা হাসে,

“হ্যা ভেবে বলছি আর এটাও বলছি আগামী ২৪ ঘন্টা সময় আছে জীবনে। খোলা হাওয়ায় নিঃশ্বাস নিয়ে নে। কারণ আমার স্বামী আসার পর এই নিঃশ্বাস কেঁড়ে নেবে। “

আদ্রিতার কথায় টোটো ফের শব্দ করে হাসে,

“ওহো আদ্রিতা, নিজের অবস্থান দেখেছো তুমি? এই অবস্থায় এসব কথা বলার সাহস তুমি কোথায় পাচ্ছো? একটুও ভয় করছে না?”

“ভয়ত তার করে যে অন্যায় করে।

তাই ভয় আমারনা আপনার পাওয়া উচিত।”

টোটো রক্তচক্ষু নিক্ষেপ করে আদ্রিতার দিকে। আদ্রিতা চোখ ঘোরায় বিরক্তিতে।

টোটো গিয়ে আদ্রিতার চুল গুলো খামচে ধরে শক্ত করে।

আদ্রিতার শরীরে ব্যথা তার উপর চুল গুলোতে তার ভীষণ ব্যথা করে।

টোটো এতটা শক্ত করে চেপে ধরেছে যেন মাথার খুলি থেকে চুল গুলো ছিড়েই আনবে।

কিন্তু আদ্রিতা সেই যন্ত্রণা উপেক্ষা করে টোটোর ওই চোখে চোখ রাখে।

আদ্রিতার আত্মবিশ্বাস দেখে টোটো ওর চোখের দিকে তাকিয়ে থাকতে পারেনা।

আদ্রিতার চুল ছেড়ে দু কদম পিছিয়ে যায়।

“ভালো মানুষের মত বলছি আমার পেট থেকে এই দড়িটা সরিয়ে দিন। আমার বাচ্চার কিছু হয়ে গেলে আমি নিজের হাতে সব জ্বালিয়ে দেব৷”

আদ্রিতার থ্রেট শুনে টোটো ফের হেঁসে ওঠে,

“ও মাই গড আদ্রিতা। লুক এট ইউ। ইয়োর পজিশন।

আমাকে থ্রেট দেওয়ার আগে একটা সেকেন্ড ভাবো কি বলছো আর কোন অবস্থায় বলছো।”

“আমার পেটের উপর থেকে দড়িটা সরিয়ে দিন মিস্টার টোটো। আমি আমার স্বামীকে বলে আপনার জীবন বাঁচিয়ে দিব।”

টোটোর যেন আগুনে বার বার ঘি পড়ছে।

টোটো সহ্য না পেয়ে ফের আদ্রিতার গালে চড় বসিয়ে দেয়।

আদ্রিতা এবার মুখ ফিরিয়ে টোটোর মুখে থুথু ছিটিয়ে দেয়,

“ছোট লোক, কাপুরুষ, একটা প্রেগন্যান্ট মেয়েকে তুলে এনে এভাবে বেঁধে রেখে মারছিস।

তোর মত কাপুরুষ আমি জীবনে দেখিনি৷’

টোটো এবার পকেট থেকে বন্দুক বের করে সোজা আদ্রিতার পেটে ধরে,

” আর একটা কথা বল তুই আর তোর এই নোংরা বাচ্চা দুটোকেই মেরে দেব।’

আদ্রিতা ফের তাচ্ছিল্য হাসলো,

“মার। মেরে দে। আমি তোকে ভয় পাইনা। একটুও না। সাহস থাকলে আমাকে খুলে দে।”

টোটো আর কিছু বলবে তার আগেই একজন গার্ড ভেতরে প্রবেশ করলো,

“ব বস৷ এদিকে সমস্যা হয়েছে। “

টোটো থেমে যায়।গার্ডের দিকে ফিরে বলে,

“আসছি। “

গার্ড চলে যায়। গার্ড চলে যেতে টোটো আদ্রিতার দিকে তাকায়,

“আমিও দেখি আদ্রিস তোকে কিভাবে বাঁচায়।”

কথাটা বলে টোটো বেরিয়ে যায়। টোটো বেরিয়ে যেতে আদ্রিতার চোখ দু’টো নরম হয়ে আসে।

একমাত্র সে বুঝতে পারছে এই মুহুর্তে তার কি পরিমাণ কষ্ট হচ্ছে।

হয়ত যখন তাকে এখানে এনেছিলো কোন ভাবে তার পেটে সে আঘাত পেয়েছে।

নাহলে এত যন্ত্রণা হবার কথা নয়।

আদ্রিতা ঠোঁট কামড়ে নিজের যন্ত্রণা সহ্য করার চেষ্টা করে,

“কিছু হবেনা বাচ্চা, তোমার বাবা এখনি চলে আসবে। বাবা এসে আম্মু আর বাবুকে নিয়ে যাবে।

আরেকটু সোনা আরেকটু কষ্ট করো।”

আদ্রিতার এগুলো মুখে বললেও ভেতর থেকে তার যে ঠিক কি অবস্থা এটা শুধুমাত্র সেই জানে।

কিন্তু এই মুহুর্তে নিজেকে শক্ত করতে হবে।

নিজেকে এখন আদ্রিতা নয় সানা সুবহান আলভি হিসাবে দেখতে হবে। এবং একটা বাচ্চার মা হিসাবে।

———-

প্রিয়ার সম্পূর্ণ কথা শুনে আদ্রিসের খাওয়া থেমে যায়। চোখে মুখে ক্রোধ ভেসে ওঠে।

সে হিংস্র কন্ঠে বলে ওঠে,

“তুই সিসিটিভি অরগানাইজার দের রুমে যা আমি আসছি৷”

প্রিয়া কাঁদতে কাঁদতে ওকে বলে ফোন কেটে দেয়।

সায়ের এবং রেভেন আদ্রিসের দিকেই তাকিয়ে ছিলো।

আদ্রিস উঠে হাত ধুয়ে নেয়।

“ভাই আদ্রিতাকে কেউ তুলে নিয়ে গেছে। “

সায়ের এবং রেভেন বসা থেকে উঠে বসে,

“হোয়াট?”

“ইয়াহ দ্রুত বের হতে হবে আমাদের৷”

রেভেন দ্রুত বেরিয়ে যায়।

ওদের তিনজনকে এমন হন্তদন্ত হয়ে বেরিয়ে যেতে দেখে অফিস এমপ্লয়িরা বেশ অবাক হয়।

আদ্রিস এবং সায়ের ফোন করে ওদের পার্সোনাল গার্ড’স এবং পুলিশকে বলে দেয় সব কিছু৷

সায়ের মানতেই পারছে না আদ্রিতাকে যে তুলে নিয়ে গিয়েছে।

রেভেন ড্রাইভ করছে দ্রুত।

বেশ কিছুক্ষণ পরা ওরা পৌঁছে যায় ভার্সিটিতে।

ইতিমধ্যে ভার্সিটির গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যে যে আছে কেউ বের হতে পারবে না৷ আর কেউ প্রবেশ ও করতে পারবে না।

আদ্রিস, সায়ের এবং রেভেন গাড়ি থেকে নেমে মাফিয়া স্টাইলে হেঁটে সিসিটিভি কনট্রোল রুমে চলে যায়।

এটা মূলত ভিসি এর রুম।

ভিসি নিজে ঘামছে। আদ্রিস এবং সায়েরকে তিনি চিনেন।

তার ভার্সিটি থেকে এত বড় ঘটনা ঘটেছে এটা প্রমাণ হলে সুবহান কম্পানি থেকে ভার্সিটি কোন ফান্ড পাবেনা। তখন মুসকিল হয়ে যাবে সব কিছু।

প্রিয়া ভাইকে দেখে জড়িয়ে ধরে কান্না করে দেয়।

আদ্রিস বোনের পিঠে হাত রেখে সন্তনা দেয়,

“রিলাক্স প্রিয়া আমি খুঁজে নেব আদ্রিতাকে।”

আদ্রিস এগিয়ে গিয়ে ভিসির সামনে বসে,

“সিসিটিভি ফুটেজ বের করুন৷’

ভিসি দ্রুত সেই সময়ে আদ্রিতার ক্লাসরুমের সিসিটিভি অন করে।

দেখা যায় কিছু লোক ক্লাসরুমে আগে থেকেই ছিলো। ওদের মুখ শন সর্বাঙ্গ কালো কাপড়ে মুড়ে।

আদ্রিতা যখন ক্লাসরুমে আসে তখন তাকে একজন পেছন থেকে ধরে ওর নাকের কাছে একটা কাপড় চেপে ধরে।

আদ্রিতা নিজেকে যথেষ্ট প্রটেক্ট করতে চায় যার ফলে ধস্তাধস্তি হয়।

আর এক পর্যায়ে আদ্রিতার পেট টেবিলের কোণায় লাগে। মেয়েটা আঘাত পেয়ে চিৎকার করে ওঠে।

এরপর আর বেশিক্ষণ সে ধস্তাধস্তি করতে পারেনা।

ধিরে ধিরে জ্ঞান হারায় সে।

আদ্রিতার জ্ঞান হারালে ছেলে গুলো ওকে নিয়ে বেরিয়ে যায়৷

এত টুকু দেখে সায়ের, আদ্রিস উভয়ের চোখ দু’টো লাল হয়ে গিয়েছে।

চোখের সামনে এসব কি দেখলো তারা।

আদ্রিতা যে প্রেগন্যান্ট কথাটা ভুলেই গেছে টোটো।

আদ্রিস গম্ভীর কন্ঠে বলে,

” এটা টোটোর লোক।’

“কিভাবে?”

“টোটোর সব চামচার হাতে এই একই ট্যাটু।”

“ছাড়ব না ওই টোটোকে।

আমার বোনকে এভাবে নিয়ে যাওয়ার শাস্তি ওর জীবন দিয়ে চুকাতে হবে।”

“সায়ের ভাই আমার কথা শুনো৷”

চলবে?

[ সত্যি বলতে শরীর যে খারাপ প্রচন্ড কাশি তার উপর বোন বাড়িতে এসেছি এত গরম। আামর দ্বারা লেখা সম্ভব হচ্ছে না। দয়া করে একটু মানিয়ে নিও। আসসালামু আলাইকুম ]

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply