Golpo romantic golpo কাছে আসার মৌসুম

কাছে আসার মৌসুম পর্ব ৮৭


#কাছেআসার_মৌসুম!__(৮৭)
#নুসরাত_সুলতানা_সেঁজুতি
হাসপাতালে ভিড় আজও। সেই ছয় বছর আগে রায়ান জন্মানোর সময় পরিবারের সকলের যেমন উৎকণ্ঠা আর চিন্তা ছিল, আজকেও তাই! করিডোরের স্টিলের চেয়ারগুলো সাক্ষী একেকজন ক্লান্ত স্বজনদের হাহুতাশ কেমন হয়! তবে তফাত, সেদিন তুশির প্রাণের সংশয় ছিল না। যা আজ ইউশার আছে! মেয়েটার অবস্থা ভালো নয়। একটুও না!
চঞ্চল,চপল, হাসিখুশি ইউশার শরীরটা ওর মতো ছিল না। অপেক্ষাকৃত দূর্বল,রুগ্ন মেয়েটার শোকে রেহণূমা গুণগুণ করে কাঁদছেন। তনিমার চোখদুটোও জলে ডুবে আছে। মিন্তু বোনের খবর পেতেই রওনা করেছে ।
তুশি সাইফুল মাত্রই পৌঁছাল। ভদ্রলোক পাগলের মতো সারা করিডোর চক্কর কেটে ফেলেছেন। অয়ন আশেপাশে নেই। ও এই হাসপাতালেই কর্মরত। তারই স্ত্রী ইউশা, গুরুত্ব কয়েক ধাপ বেশি। রেহণূমা বিলাপ করলেন কেঁদে কেঁদে,
“ সকাল থেকেই তো ভালো ছিল। হুট করে কী হয়ে গেল আমার মেয়েটার! আপা,ও আপা, মেয়েটা বাঁচবে তো আপা?”
তনিমা জবাব দিতে পারলেন না। তবে তুশির ভেতরটা ঠেলে এলো কান্নায়। চুপ করে বিমর্ষ,বিবর্ণ মুখে বসে রইল সে। ইউশা আইসি-ইউতে এখন। লেবর পেইন ছাড়া চোখ উলটে যাওয়ার এই ঘটনায় ওর রক্তচাপ আগে নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি। নাহলে বাচ্চাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সেজন্যে শ-খানেক যন্ত্রের ভিড়ে অবজারভেশনে রাখা হয়েছে ওকে। অয়ন নিরন্তর ছোটাছুটি করছে। পেশায় শিশুবিদ ও,এমন দৃশ্য তো এই হাসপাতাল প্রাঙ্গণে সে প্রতিদিন দেখেছে। কিন্তু আজ! আজকের গল্প ভিন্ন। অয়ন আজ অনাগত সন্তানের বাবা,ইউশার স্বামী। চোখের সামনে স্ত্রী পড়ে আছে অক্সিজেন মাস্কের তলায়,এই দৃশ্য কি কাউকে দুমড়েমুচড়ে দেবে না?
সাইফুল কতগুলো পায়ের শব্দে পেছন ফিরে চাইলেন। দুজন ডাক্তারের সাথে কথা বলতে বলতে আসছে অয়ন। গায়ে এপ্রোন! গলায় স্থেটো। সাইফুল ছুটে গিয়ে বললেন,
“ অয়ন,ও-ওর কী অবস্থা?”
অয়নের চোখমুখ অস্থির। শুষ্ক ঠোঁটটা তিরতির করছিল। ঢোক গিলে জিভে ঠোঁট চুবিয়ে চাচার কাঁধ চাপড়ে বলল,
“ চাচ্চু, আল্লাহর ওপর ভরসা রাখো। প্যানিক করো না!’’
তারপর বড্ড ব্যস্ত পায়ে নিজের কেবিনের দিকে হেঁটে গেল ও। সাইফুল কনুই ভাঁজ করে চোখ দুটো মুছলেন। রেহণূমা তখনো প্রলাপ গাইছেন,
“ আমার জন্যে এমন হয়েছে। আমিও তো অসুস্থ ছিলাম আপা। আমার জন্যেই,আমার অসুস্থতাও আমার মেয়েটাকে গিলে নিলো!”
তনিমা সামলানোর চেষ্টা করছিলেন ওনাকে। সাইফুলের পকেটে ফোন বাজল। শওকত কল করছেন। উনি ধরলেন। স্যাঁতসেঁতে কণ্ঠে জানালেন,
“ ভাইজান, ডান দিকে আছি।”
অয়ন নিজের কেবিনে এসে দরজা ঠেলে দিলো। স্থেটোটা খুলে রেখে দুহাতের ভর দিয়ে টেবিলে ঝুঁকে রইল কিছু পল। সঙ্গে সঙ্গে এক ফোঁটা জল গড়িয়ে ওর নাক ছুঁয়ে টপ করে পড়ল কাচের ওপর। তুরন্ত ঘুরেই দেওয়ালে একটা ঘুষি মারল অয়ন। পরপর দুইহাতে দেওয়াল খাবলে বুক মিশিয়ে আকড়ে ধরল সেটা।
হাঁসফাঁস করে বলল,
“ কেন আমি তোর কথা শুনলাম,কেন আমি তোর জেদ রাখতে গেলাম! আমি কেন তোকে আটকাইনি ইউশা? এখন তোর কিছু হয়ে গেলে আমি বাঁচব কীভাবে?
আমি তো তোকে ছাড়া নিজেকে ভাবতেই পারি না!’’
ফাঁকা কেবিনে অয়নের হাহাকার কেউ শোনেনি। শুধু চারপাশটা আরো ভারি হয়ে উঠল।
গত ছ-টা বছর সার্থ-তুশির রায়ানকে নিয়ে যেমন আনন্দ,উল্লাস আর খুনশুঁটিতে কেটেছে,ইউশা-অয়নের দিন কেটেছে ততটাই উদ্বেগে,অপেক্ষা ভয় আর চিন্তায়। ইউশা কিছুতেই কনসিভ করতে পারছিল না।
ছয়টা বছর ঢাকার নামী-দামী সব ইনফার্টিলিটি স্পেশালিস্টদের চেম্বারের চক্কর কাটতে কাটতে দিন পার হয়েছে ওর। প্রেসক্রিপশনের স্তূপ, শত শত আল্ট্রাসনোগ্রাম আর হরমোনের ইনজেকশনের নীলচে দাগে পেটটা ক্ষতবিক্ষত হয়ে গিয়েছিল ইউশার। ডাক্তাররা নিজেদের বিদ্যা জাহির করে ওষুধের ডোজ বাড়াতেন, আর প্রতি মাসে পিরিয়ডের ডেট এলে ইউশা বাথরুমে গিয়ে মন খারাপ করে ফিরতো। কিন্তু ওরা এসব কাউকে বলেনি,কাউকে না। আর
যখন সব আশা ছেড়ে দিয়েছিল, প্রেগন্যান্সি টেস্টের স্ট্রিপে দুটো গাঢ় লাল দাগ ভেসে উঠল তখনইই। অথচ সেই আনন্দ ওদের উদ্বেল হয়ে ভাসতেও দিলো না, এর আগেই দুয়ারে এসে দাঁড়াল আরেক নতুন বিপত্তি।
প্রেগন্যান্সির ৪র্থ মাসের রুটিন চেকআপে ধরা পড়ল ইউশার ব্লাড প্রেশার স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি। ​আরো আরো জটিলতায় ভরা ঐ শরীর। অয়ন নিজে ডাক্তার, বুঝে গিয়েছিল এই বাচ্চা পেটে রাখা ইউশার জন্য কতটা আত্মঘাতীর কারণ! মেয়েটার ভালোর জন্যে বাবা হওয়ার খুশিকে দাহ করে কতবার বোঝাল,অনুনয় করল, রাগ দেখাল – বাচ্চাটাকে ড্রপ করার জন্যে। কিন্তু মা তো! কোনো মা কি পারে, এত অপেক্ষার পর পাওয়া যক্ষের ধন ধ্বংস করে দিতে? ইউশাও পারেনি। শোনেনি ওর কথা। বরং ইমোশনালি ব্লাকমেইল করে মানা করে দিয়েছিল,এই কথা বাড়ির কাউকে না বলতে।
কিন্তু দিনের পর দিন ইউশার শারিরীক অবনতি,ওর ফোলা হাত পা দেখে অয়ন শান্তিতে ঘুমোতে পারেনি। প্রতিটা দিন ওর ভয়ে কেটেছে,আতঙ্কে গিয়েছে। এই বুঝি মেয়েটা অসুস্থ হয়! এই বুঝি হয়ে যায় কিছু। আজ বুঝি সেইদিন এসেই গেল তবে! অয়নের বুকটা কি খালি হবে? আবার সর্বশান্ত হবে ও?
অয়ন তড়বড় করে হেঁটে এসেই গ্লাস তুলে এক ঢোকে সব পানি খেয়ে ফেলল৷ শ্বাস নিলো বড়ো করে। বিড়বিড় করে বলল,
“ সেইফ মাই ওয়াইফ গড! আমি আর কিচ্ছু চাইব না,কিচ্ছু না।”
রায়ান বাবার সাথে হাসপাতালে এসে কেমন আহাম্মক হয়ে গেল। নান,দিদান থেকে শুরু করে সবাই কান্নাকাটি করছে। মাম্মামের চোখদুটো ভেজা, মুখ লাল। পাপা আসতেই পাপার বুকে মাথা গুজে বসে আছে ! নানাভাই হাঁটছেন শুধু,দাদুভাই এদিক-ওদিক কথাবার্তা বলছেন। চাচ্চুকে তো দেখাও যাচ্ছে না। কী এমন বাবু আসবে রে,যার জন্যে সব কেঁদেকেটে অস্থির? কেউ খেয়ালও করেনি ও এসেছে? কোলে নেয়নি এখনো।
রায়ান দুই গাল ফুলিয়ে ভ্রু কুঁচকে রইল।
যে বাবু আসার আগেই ঘরের সবাইকে এমন হেনস্তা করে দিচ্ছে,তার সাথে ওর একটা কঠিন বোঝাপড়া দরকার!
টানা এক ঘন্টা পর আই সি-ইউ থেকে এক টুকরো ভালো খবর এলো। ইউশার ব্লাড প্রেশার নেমেছে। ওটিতে শিফট করবে এক্ষুনি!
সিনিয়র সার্জন খবর দিলেন অয়নকে। বিনয় নিয়ে বললেন,
“ আমরা ইউশাকে হ্যান্ডেল করছি। আপনি প্লিজ বাচ্চার রিসাসিটেশন এর দায়িত্বটা নিন। আপনার বাচ্চার জন্যে আপনার চেয়ে ভালো ডাক্তার তো আর এই হাসপাতালে নেই!”
অয়ন চুপ করে রইল। বুকের পাঁজর টনটন করছে ওর। এই মূহুর্তে ও পারবে এসব? মাথা নাড়ল তাও। সময় নিয়ে জানাল,
“ আসছি!”
বুকের জোর বাড়িয়ে গায়ে ওটির পোশাক চড়িয়ে টলতে টলতে ওটি রুমে ঢুকল অয়ন। অচেতন ইউশাটা ফোলা পেট সহ কেমন নিথর হয়ে পড়ে আছে বেডে। চোখের নিচটা কালো,ভেজা। শ্যাওলা জমা মেঝের মতো স্যাঁতসেঁতে সারামুখ। অয়নের বুক মুচড়ে উঠল । বিষণ্ণ ফাঁকা হৃদয় নিয়ে দাঁড়িয়ে রইল এক কোণে। বেডের ঠিক ফোকাস পয়েন্টের ওপরে ঝুপ করে একটা আলো জ্বলে উঠল। ঐ আলোতে আজ অয়নের চোখ ধরে যায়।
এই ডাক্তারি জীবনে ও হাজারখানেক অস্ত্রোপচার দেখেছে। কিন্তু আজ,ইউশার পেটে স্কালপেল দিয়ে সার্জন যেই পো-চ দিলেন,অয়ন চোখ খিচে মুখ ঘুরিয়ে ফেলল। আস্তেধীরে দক্ষ হাতগুলো ব্যস্ত হলো কাজে। একজন ওর বাহুর কাছে দাঁড়িয়ে অনবরত প্রেসার মেপে গেলেন। ছুরি-কা-চি চলল দ্রুত ভাবে। কেবল অয়ন মাথা নুইয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। হাত পা জমে যাচ্ছে ওর। চোখমুখ ডলে,ঢোক গেলে! ফ্যাসফ্যাস করে শ্বাস নেয়। তাকায় না তবু। ইউশার শরীর মোমের মতো নরম। ওই শরীরে এত কাঁটাছেড়া হচ্ছে! ইস…
মিনিট কয়েক বাদেই সার্জন দুইহাতে থলির মতো টেনে পেট থেকে বাচ্চা বের করে আনলেন। অয়ন প্রহৃত চোখ তুলে চাইল। নয় মাস পূর্ণ হওয়া ক্ষুদ্র দেহের পিঠে, ঘাড়ে আর কপালে মাখা ধবধবে সাদা পনিরের মতো ঘন ভার্নিক্সের স্তর, রক্তের হালকা ছাপ। একটা ঘামের কণা দরদর করে অয়নের মাথার চুল ছুঁয়ে কানের পাশ দিয়ে নামল অমনি। ওই মূহুর্তে হাজারটা আশঙ্কায় কুঁকড়ে গেল সে। মায়ের ওই ভয়াবহ খিঁচুনির ওষুধ কি বাচ্চার স্নায়ু অবশ করে দিল? জরায়ুর ভেতরে অক্সিজেনের অভাবে ওর ফুসফুস ঝিমিয়ে পড়েনি তো! বাচ্চাটাকে অমন অবস্থায় ত্রস্ত অয়নের কাছে বাড়িয়ে দেয়া হলো, রিসাসিটেশন এর জন্যে। অথচ অয়ন,কাঁপছিল ছেলেটা। একবার চোখ উঁচিয়ে অবচেতন ইউশাকে দেখল সে।
চিকিৎসক নিজেই বললেন,
“ ওনার অবস্থা আপাতত ঠিক নেই। এখন মেয়েকে ধরুন।”
অয়নকে অশান্ত দেখাল। চমকে বলল – “মেয়ে! মেয়ে হয়েছে আমার?”
তারপর খুব ছটফট করে সন্তানকে টেনে কাছে আনল সে। তাড়াহুড়ো করে দক্ষ হাতে নরম গজ দিয়ে বাচ্চার মুখের ভেতরের তরলটুকু পরিষ্কার করল। একটা শুকনো নরম তোয়ালে দিয়ে বাচ্চার পিঠে,কুটিকুটি পায়ের তলায় আলতো করে ঘষল। মাত্র কয়েক সেকেন্ড লাগল তাতে। অথচ অয়নের মনে হলো এটুকু ওর জীবনের দীর্ঘতম এবং সবচেয়ে ভয়ানক কয়েক বছর।
ঘামছিল ও! স্রোত নামছিল পিঠ ছুঁয়ে। উত্তেজনায় ধড়ফড়ে বুক। বাচ্চা কাঁদছে না কেনো? কেনো কাঁদছে না?
অয়ন উদ্ভ্রান্তের ন্যায় বলল-কাঁদছে না, আমার বাচ্চা কাঁদছে ন…”
তক্ষুনি ওর হাতের ছোঁয়ায় ওই একচিলতে শরীরটা ধনুকের মতো কেঁপে উঠল হঠাৎ। ছোট্ট দুটো হাত-পা ছুঁড়ে ওটির ছাদ কাঁপিয়ে কাঁদল – ওয়াাঁ… ওয়াাঁ…
অয়ন থমকে যায়। থমকে যায় ওর সারা শরীর। বাকিরা স্বস্তির শ্বাস ফেলল। সার্জন হাসলেন অয়নের পিঠ চাপড়ে। সঙ্গে সঙ্গে বাচ্চাকে তুলেই বুকের সঙ্গে জড়িয়ে ধরল অয়ন। হাসপাতালে এতদিন যাদের সাথে কাজ করেছে,সিনিয়র-জুনিয়র সবার সামনেই সন্তানের দেহ বুকে নিয়েই ঝরঝর করে কেঁদে ফেলল সে। যেই কান্নায় ছিল তৃপ্তি, আর বাবা হওয়ার সুখ সুখ গল্প। ডাক্তার অয়ন প্রথম বাবা হলো,এই কান্না তো সেই আনন্দের কাছে কিচ্ছুটি নয়!
এদিকে করিডোরে আল্লাহকে ডাকার ধুম পড়েছে। তুশি ফোঁপাচ্ছে। মাঝেমধ্যে মাকে ধরছে,বড়ো মাকে আগলাচ্ছে। দিদুন আর দাদিও বাড়ি বসে ফোন করে করে জ্বালিয়ে মারছে ওকে। তুশিকে ভান করতে হচ্ছে শক্ত থাকার। মন ভরে একটু কাঁদতেও পারছে না। ভেতরটা যে ভয়ে চৌচির,বোঝাতেও পারছে না কাউকে। অথচ ও দেখেছে এই ক মাস ইউশা কী কী সয়েছে, চাক্ষুষ দেখেছে ও। মেয়েটার আগে থেকে কষ্ট কি কম ছিল? কত সাধনার পর পেয়েছিল অয়নকে! কেন ওর একার এত কষ্ট? তুশির তো কিছু হলো না! ইউশার থেকে ওসব নাহয় ওকে দিয়ে দিতো!
তুশি চোখ মুছল। রায়ানের ছোট বুক হুহু করল তাতে। নিশ্চিত ওই পচা বাবুর জন্যেই মাম্মাম কাঁদছে! আসুক, শুধু একবার আসুক বাইরে!
হঠাৎ ওর চোখ পড়ল অদূরে৷ খুব দ্রুত পায়ে তোয়ালে মোড়ানো কিছু একটা নিয়ে হেঁটে আসছে অয়ন। রায়ান চোখ ছোট করে বিড়বিড় করল,
“ চাচ্চুর কোলে ওটা কী? আটার বস্তা!”
তুশি শুনতে পেয়ে চটক কাটার মতোন চাইল সে পথে। হাস্যহীন ঠোঁটে এগিয়ে আসা অয়নকে দেখে অমনি বসা থেকে তড়াক করে দাঁড়াল। সবাইকে পেছনে ফেলে হন্তদন্ত পায়ে ছুটে গেল মেয়েটা। ওকে আসতে দেখে থামল অয়ন। তুশি হাঁসফাঁস করে বলল,
“ ই-ইউশা? আমার বোন!”
“ সেন্স নেই। আইসিউতে শিফট হবে আবার।”
“ ঠিক হয়ে যাবে তো অয়ন ভাই?”
অয়নের কণ্ঠ দৃঢ়,
“ হতেই হবে।”
তুশি ভেজা চোখ নামিয়ে ওর কোলের দিকে চাইল এবার। বিহ্বল বনে বলল,
“ মেয়ে!”
একটু হাসল অয়ন,মাথা নাড়ল। তুশি উদ্বেগ নিয়ে দুইহাত পাততেই কোলে দিলো ওর। ততক্ষণে বাড়ির লোকেরাও ছুটে ছুটে এসে জটলা বাঁধিয়ে ফেললেন। একেকটা তেড়ে আসা প্রশ্নের উত্তর গুছিয়ে দিচ্ছিল অয়ন।
ইউশার কী অবস্থা,এরপর কী কী হবে সব বোঝাচ্ছিল পেশাদার ডাক্তারদের মতো! কিন্তু নাকমুখ কুঁচকে মায়ের দিকে চেয়ে রইল রায়ান। মাম্মাম বাবু পেয়ে বুকে দোলাচ্ছে, আদর করছে,গালে-মাথায় চুমু দিচ্ছে! বাকিরাও সাথ দিচ্ছে সেসবে।
রায়ান ঠোঁট উলটে মায়ের কনুই ধরে টানল। তুশি খুশির উত্তেজনায় টেরই পায়নি। ওর কোল থেকে সার্থ নিলো বাবুকে। রায়ান এবার আর সইতে পারল না। বাবার হাত ধরে জোরে জোরে টেনে বলল,
“ পাপা,আমাকেও কোলে নাও না একটু।”
“ একটু পরে নিচ্ছি বাবা!”
রায়ান আহত হলো। পাপা ওকে কখনো মানা করে না,আজ বলল পরে?
বলল,
“ আমাকে কেন পরে? এখন যে বাবুকে নিলে!”
তুশি ভ্রু কুঁচকে বলল,
“ এ আবার কী কথা, ও তো ছোটো। কিন্তু তুমি তো বড়ো হয়ে গেছো!”
রায়ানের কথাটা পছন্দ হয় না। মুখ ফুলকো লুচির মতো বানিয়ে চেহারা বিকৃত করে রাখল সে। বাবুর দিকে চেয়ে মনে মনে কটমট করে বলল,
“ নাম বস্তা,আমার পাপার কোল থেকে নাম বলছি!”
চলবে… See less

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply