Golpo romantic golpo আসবো ফিরে আবারো

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৫৯(প্রথমাংশ+শেষাংশ)


আসবো_ফিরে_আবারো

#পর্ব_৫৯[ প্রথমাংশ ]

#সুরভী_আক্তার

( অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষেধ ❌ ) 

আদ্রের এমন লজ্জাহীন কথায় শিশির অস্থিরতায় চোখ নুইয়ে ফেলে । পরক্ষনে চিবুক নামায় গলায় । লাজে আরো বেশি রক্তিম হয়ে ওঠে নাজুক শ্যামলা মুখখানি । ঠোঁটের কোণে ভিড় জমায় অপ্রস্তুত উৎকণ্ঠিত হাসি । 

প্রফেসর লোকটা ওর এমন নাকাল অবস্থা খুব কাছ থেকে খুঁটিয়ে লক্ষ্য করে । কপালের কাছে কপাল ঠেকিয়ে ফিসফিস করে…

” কবে আদব শিখবে, বেয়াদব ? স্বামীকে কষ্ট দিতে নেই , জানো না ? কোথায় পাবে এমন স্বামী ? যে এতোটা ধৈর্যশীল হবে তোমার সম্মতির অপেক্ষায় ! ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছি যে বড্ড ! কবে ঘটবে এই ক্লান্তির অবসান ? কবে বাসবে ভালো ?

অধৈর্যতা কন্ঠে । শিশিরের কান‌ গরম হয়ে আসে । ঘাম গড়ায় শিরদাঁড়া বেয়ে । ছিপছিপে নারী তনু কাঁপে । আদ্রের ও অভিন্ন অবস্থা । কপালের ধারে জমেছে বিন্দু বিন্দু ঘাম । 

শিরা উপশিরা গুলো ফেঁপে উঠেছে অবাধ্য নিয়ন্ত্রণে । ঢোক গেলে শিশির । ধীরে চোখ তোলে । বলে নিভে আসা স্বরে…..

” খুব শীঘ্রই । 

চট করে চোখ খুললো আদ্র । আবছা বুঝেছে । ফট করে প্রশ্ন ছুড়লো ছোট্ট…..

” হু ? 

শিশির মুখ নামিয়ে লাজুক হাসলো । 

” কিছু না । শাড়ি ঠিক করতে হবে , সরুন । 

” ঠিক করে কি হবে ? আমার তো এলোমেলো করতে ইচ্ছে করছে আরো বেশি ! 

আদ্রের ঠোঁট চাপা স্বর । শিশির চোখ তুলে তাকালো । ওষ্ঠপূটে দাঁত বসিয়ে হাসছে লোকটা । তার বুকে ধাক্কা দিয়ে আওড়ালো শ্যামলিনী…..

” অসভ্য ! 

” একটু অসভ্যই না হয় হলাম ,, ক্ষতি কি ? বউ হও তো ! তোমার কাছে অসভ্যতা করাটা হলফ করে অর্জন করেছি, মিসেস আদ্রিয়ান । জায়েজ আছে এটা । নাযায়েজ নয় । এবার তো একটু ভালোবাসো ‌। বাসতে দাও আমাকেও । 

শিশির আড়ষ্টতায় নুইয়ে পড়ে পুরোপুরি । চোখ মুখ নামিয়ে এক করে । লোকটাকে ঠেলে দূরে সরায় । জড়িয়ে আসা ভেজা স্বরে বলে……

” ভার্সিটিতে আপনি আমার টিচার ! মি. আদ্রিয়ান কাবির আদ্র , ভুলে যাবেন না এটা । 

” আচ্ছা ? তাহলে তুমি কেনো ভুলে যাও , যে বাড়িতে তুমি আমার বউ ? 

” ভুলে তো যাই না । 

” মনেও তো রাখো না । এ কেমন অবিচার ? 

” সুবিচার কি ? 

” বোঝাতে হবে ? 

“……….

” একটু খানি ভালোবাসলে তাতেই হবে । অবিচার ঠেকিয়ে এই বিরাট সুবিচার দিয়ে উদ্ধার করো আমায় । 

,,,,,,,

শাফাহ্ আর মেঘা বসে আছে এককোণে । এতক্ষণ কান ঝালাপালা করে দিয়েছে বাড়তি সব মেয়েগুলো । সবার আগ্রহ আদ্র আর শিশির কে নিয়ে । এক প্রশ্ন , শিশির সত্যিই কি আদ্রের বউ ? কবে বিয়ে হয়েছে , কিভাবে ? উত্তর করতে করতে চোয়ালে ব্যথা ধরেছে । শেষে কড়া দুখানি কথা শুনিয়ে বাকিদের বিদায় করেছে শাফাহ্ । ফারিন বেশ কাঁচুমাচু । সে একটা প্রশ্ন ও করে নি । ওর হয়ে বাকিরাই প্রশ্ন করেছে । ও কেবলই একপাশে চুপটি করে দাঁড়িয়ে উত্তর শুনে গেছে । 

ফাঁকা হতেই চেয়ারে পিঠ এলিয়ে দম ফেললো শাফাহ্ । মেঘার মন অন্যথায় । ইয়াশের খোঁজ নেই এখনো । বেজায় টেনশন ধরেছে একবিংশীকে । শুকিয়ে ছোট হয়ে গেছে মুখখানা । 

ক্ষণিকের মধ্যেই পাশে কারোর উপস্থিতি অনুভব করলো । বেখেয়ালে ঘাড় কাত করে ইয়াশ কে দেখা মাত্রই ধক্ করে উঠলো একবিংশী । দাঁড়িয়ে গেলো চকিতে । ভেতরে ঢুকলো কি করে ইয়াশ ? আসলোই বা কখন ? 

” ভাইয়া ! তুমি ? 

অস্ফুট স্বর জবানে ‌। ইয়াশের ভঙ্গিমা বরাবরের ন্যায় দাম্ভিক । বোঝা মুশকিল । সে সোজাসুজি মেঘার হাত ধরলো । বললো শক্ত কন্ঠে…..

” চল । 

মেঘা তাড়াহুড়ো করে শুধোয়…..

” ভাইয়া, কোথায় ছিলে কাল থেকে ? তুমি জানো , কতবার ফোন করেছি তোমায় ? বন্ধ ছিলো তোমার ফোন । কেনো ? 

” আগে চল , পরে বলবো । 

মেঘার হাত ধরে বাইরের দিকে পা বাড়ায় সে । শাফাহ্ ভ্যাবাচ্যাকা খায় । উঠে দাঁড়িয়ে তড়িঘড়ি পায়ে নিজেও পা মেলায় । 

” আরে , কোথায় যাচ্ছেন মেঘাকে নিয়ে ? ইভেন্ট শেষ হয় নি এখনো । 

উত্তর নেই । আর না পরোয়া । 

ওকে ফেলে নিজের বোনকে নিয়ে চলে যাচ্ছে এই লোক ? শাফাহ্ কিড়মিড় করে পিছু নেয় । মেঘা কে গাড়িতে বসায় ইয়াশ । নিজে বসে ড্রাইভিং সিটে । শাফাহ্ জানালার পাশে দাঁড়িয়ে তড়িঘড়ি করে বাগড়া দিয়ে বলে…..

” আরে শুনুন না , যাচ্ছেন কোথায় ? আমাকে ফেলে যাচ্ছেন কেনো ? এখানে একলা কি করবো আমি ? আমিও যাবো । 

উত্তরের আশা না করে নিজে থেকেই উঠে বসলো পেছনে । ইয়াশ বিভ্রান্ত হয় । রেগে মেগে আগুন হয়ে তাকায় ফ্রন্ট মিররের দিকে । শাফাহ্ বাঁচালের মতো আগ বাড়িয়ে আবার বলে,,,

” আচ্ছা যাচ্ছেন টা কোথায় , সেটা তো বলুন । 

ইয়াশ দাঁত খিচলো । ধমকালো বজ্রকণ্ঠে….

” শাট আপ ,,, 

চুপসে যায় শাফাহ্ । মেঘা অবাক হয় । ইয়াশ রেগে আছে ? আজ পর্যন্ত ওর রাগ দেখে নি সে । শাফাহ্ গুটিয়ে গিয়ে মেঘার সিটের দিকে চেপে বসে । গাল ফুলিয়ে কন্ঠ চিপে বলে……

” দেখেছিস , বলেছিলাম না উনি ধমকেছেন আমায় । বিশ্বাস করিস নি তখন , এখন হলো বিশ্বাস ? দেখ , কি বদরাগী ভাই তোর ।

ইয়াশের কানে পৌঁছাতেই ইয়াশ ভস্ম করা চোখে তাকায় । যেনো চোখের আগুনে ঝলসে দেবে । 

ওর এমন রাগী দৃষ্টিতে গলা শুকিয়ে আসে শাফাহ্’র । ফ্যাল ফ্যাল করে হেসে নিজেকে শুধরে আমতা আমতা করে,,,,

” না না , আপনাকে কিছু বলি নি । আপনি খুব ভালো । সেটাই বলছিলাম । বদরাগী না , ঠান্ডা রাগী আপনি । 

রাগ সামলে গাড়ি স্টার্ট করতে করতে বিপরীতে হিসহিসিয়ে উঠলো ইয়াশ…..

” টকেটিভ লেডি….

” গাড়ি কার ভাইয়া ? 

” আমার ! 

ইয়াশ গাড়ি কিনেছে ? মেঘা বাকি প্রশ্ন করার ঔদ্ধত্যতা দেখালো না আর । 

,,,,,, 

ওদের গাড়িটা সোজা কাবির ম্যানসনে এসেছে । 

তিনজনে একসাথে বাড়িতে ঢুকলো । দুপুর গড়িয়েছে । মেঘার হাত ছাড়ে নি ইয়াশ , নেমেই ধরেছে আবার । ড্রইং রুমের কাউকে তোয়াক্কা না করে গটগটিয়ে বোনকে নিয়ে সিঁড়ির দিকে পা বাড়ালো সে । এমতসময় রিনরিনে ডাক পড়লো পিছন থেকে…..

” মেঘা ! 

সিঁড়ির মাঝে থামলো দু’জনেই । কন্ঠ পরিচিত ‌। মেঘা চকিতে তাকায় । হেসে ওঠে খুশিতে…..

” সারা ? তুই ? কখন আসলি ? 

সারা অপ্রস্তুত । মেঘার ডাকে ইয়াশের থেকে চোখ সরিয়ে মেঘার দিকে তাকালো । পরক্ষনে চোখ নামিয়ে দীর্ঘ হাঁফ ছেড়ে সামলালো মনের উচাটন । গিললো কয়েক ঢোক । ফের চোখ তুলে হাসার চেষ্টা করলো । এগিয়ে উত্তর করলো……

” একটু আগে এসেছি । 

অতঃপর পূর্ণ দৃষ্টিপাত করলো ইয়াশের পানে । ইতস্তত স্বরে বুলি ফুটালো….

” কেমন আছেন ভাইয়া ?

” ভালো । তুমি ? 

” আলহামদুলিল্লাহ । 

” তোমরা কথা বলো । আমি রুমে যাচ্ছি । আর মেঘা , চেঞ্জ করে ফ্রেশ হয়ে এক্ষুনি আমার কাছে আসবি । ইম্পর্ট্যান্ট কথা আছে তোর সাথে । দেরি যেনো না হয় । 

আর থামলো না । লম্বা লম্বা ধাপে সিঁড়ি উঠলো সে । চোখের আড়াল হতেই মুখ টিপে হাসলো মেঘা । সারার বাহুতে মৃদু ধাক্কা দিয়ে আহ্লাদী সুরে বললো ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে….

” কি ব্যাপার সারা মনি ? তড় সয় নি ? অসুস্থতা নিয়েই ছুটে এসেছো ?

” ধ্যাত, বাজে বকবি না ! আমি সুস্থ আছি এখন । 

” আদ্র ভাইয়ার বউ ভাতে আসলি না কেনো তাহলে ? 

” জানিসই তো , জ্বর ছিলো । 

এখন ঠিক আছি । 

” ঠিক হয়ে গেছো , তাই না ? ডক্টর কে দেখেই ঠিক হয়ে গেলে ? চিকিৎসার প্রয়োজনই পড়লো না দেখছি । 

সারার মুখখানি রাঙা হয়ে ওঠে । হাঁসফাঁস করে বলে….

” মেঘা , জ্বালাবি না কিন্তু । 

” আচ্ছা । তোকে জ্বালানোর জন্য আছে অন্যকেউ । এখন চল….

শাফাহ্ কে নিচে একা ফেলে ওরা দুটোতে উপরে উঠে গেলো । নিচে ওষ্ঠ উল্টে দাঁড়িয়ে আহত চোখে চেয়ে রইলো শাফাহ্ । সারা কে সহ্য হয় না মেঘার পাশে । 

সময় নিয়ে চেঞ্জ করে গেস্ট রুমের দিকে পা বাড়িয়েছে মেঘা । সাথে সারা আছে । কড়া নেড়ে ঘরে ঢুকলো । নিজেও ফ্রেশ হয়েছে ইয়াশ । লম্বা ডিভানের উপর বসে আছে গুরুভার হয়ে । শক্ত মুখো ভঙ্গিমা । মেঘা উচ্ছ্বাস মাখা হাসি সমেত আলগোছে ওর পাশে বসলো । আহ্লাদী ভাইয়ের আদুরে বোন হয়ে শুধালো……

” কাল থেকে কোথায় ছিলে, ভাইয়া ? বললে না তো ! 

” বাইরে ।

” কোথায় ? 

” আমাদের বাড়িতে ! 

মেঘা কিছুটা নড়েচড়ে ওঠে । ওদের বাড়িটা এখন তালাবদ্ধ । পাঁচ বছর ধরে ওভাবেই জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে আছে । না জানি কি হাল হয়েছে ! মেঘা আর কখনো যায় নি ও বাড়িতে । সাহস কুলোয় নি ও মুখো হওয়ার । কতশত স্মৃতি জড়িয়ে আছে , সেসব দেখলেই কান্না আসবে । তাই যাওয়া হয় নি আর । 

ইয়াশ বিরতি নিয়ে নরম গলায় শুধালো…..

” আম্মু, আব্বু , ভাইয়া আর দাদু মনির কবরস্থানে গেছিলাম । তুই যাস না কতদিন ? 

মেঘা চোখ নামায় । ইতোমধ্যে ঝাপসা হয়ে এসেছে দুচোখ । বলে ধরে আসা কান্না গিলে….

” যাই নি অনেকদিন হয় ! 

ইয়াশ পরিপ্রেক্ষিতে কিছু বললো না । আড়চোখে সারা কে দেখলো । ওর সামনে বলতে চাইলো না কিছু । 

সেকেন্ড কয়েকের মাথায় মেঘা সামলে নেয় নিজেকে । চঞ্চলা হয়ে উঠে । সারা কে টেনে পাশে বসায় । বলে উৎকন্ঠায়……

” ভাইয়া জানো,,, সারা কদিন ধরে খুব অসুস্থ । তুমি না ডক্টর হয়েছো । বিশাল বড় কার্ডিওলজিস্ট । এসবের জন্যই তো এতো দিন একলা থেকেছো কত দূরে । আমাকেও ফেলে রেখে চলে গেছিলে । দেখি কত বড় ডক্টর হয়ে ফিরেছো তুমি ? সারা কে দেখে বলতো , ওর কি হয়েছে ? 

ইয়াশ ভ্রু কুঁচকে নিলো । ভার গলায় বললো প্রশ্ন সূচকে…..

” আমি কেনো ,, তোর বান্ধবীর কি হার্টে প্রবলেম ? 

মেঘা মুখ টিপে হাসে । গলা ঝেড়ে বলে……

” বড্ড ব্যথা হার্টে ! 

” তাহলে তো ইমিডিয়েট ট্রিটমেন্ট করতে হবে । এভাবে উপর উপর দেখে তো বোঝা যাবে না । এতো কম বয়সে হার্টে ব্যাথা জন্মায় কিভাবে ? 

মেঘার সাথে তাল মিলিয়ে ইয়াশ ও কৌতুক করলো । সারা চোখ তুলে বলে লজ্জা ঢেকে…..

” ভাইয়া আপনিও এই পাগলকে সায় দিচ্ছেন ? 

ইয়াশ মুচকি হাসলো । প্রসঙ্গ ঘুরিয়ে আলতো স্বরে শুধালো….

” কি হয়েছে তোমার ? 

” তেমন কিছু না । জ্বর ছিলো একটু ! 

” এখন সুস্থ ? 

” হু । 

সারা মেয়েটা কেমন শুকিয়ে গেছে । আগে বেশ গুলুমুলু ছিলো । ইয়াশ ওকে দীর্ঘ পলকে পরখ করলো । ছোট বেলা থেকেই মেয়েটাকে চেনা । বড্ড ভালো একটা মেয়ে । মেঘার খুব আপন । ইয়াশের ও বেশ পছন্দের । সেটা কেবলই ছোট বোনের মতোই । 

ইয়াশ উঠে দাঁড়ালো । টেবিলের পাশে ল্যাগেজ রাখা । সেখান থেকে কিছু একটা বের করে নিয়ে আসলো । একটা মাঝারি আকারের গিফট বক্স বোধহয় । পূনরায় নিজের জায়গায় বসে মিষ্টি হেসে বক্স টা বাড়িয়ে দিলো সারার দিকে …..

” এটা তোমার জন্য ,, নিয়ে এসেছিলাম । 

সারা অবাক হতে ভোলে না । এক রাশ অবিশ্বাস নিয়ে তাকায় । মেঘা গদগদ হয়ে ওঠে । ছোঁ মেরে বক্স টা ছিনিয়ে নিয়ে বলে….

” সত্যিই ভাইয়া ? সারার জন্য ? কি আছে এতে ? 

” খুলে দেখ । 

মেঘা অধৈর্য হয়ে খুলে দেখে । একটা ঘড়ি আছে মূল্যবান । বেশ চকচকে স্বচ্ছ ডিজাইনের । দামি বলে মনে হয় । সারা অবাক বিমুঢ় লোচনে চেয়ে আছে এখনো । মেঘা উল্টে পাল্টে দেখে বেশ মাতামাতি করলো । ঘড়িটা ইয়াশের হাতে দিয়ে সারার হাত টেনে বাড়িয়ে ধরলো । বললো বিচলিত হয়ে…..

” পড়িয়ে দাও তুমি । 

ইয়াশ আঁখি লতা কুঁচকায় ‌। বিব্রত স্বরে বলে….

” আমি কেনো ? ওকে দে , ও পড়ে নেবে ! 

” কিন্তু এটা পড়ে কিভাবে ? দেখো , ইউনিক মডেল । খুলতে পারছি না । তুমি একবার শিখিয়ে দাও । 

ইয়াশ দেখলো, নতুন মডেলের এটা । 

না করলো না দ্বিতীয় বার । আগ বাড়িয়ে সারার কব্জি টেনে নিলো নিজের দিকে । 

আকস্মিক স্পর্শে চমকালো নমনীয় রমনী । ধক্ করে উঠলো ছোট্ট নারী হৃদয় । মৃদু কেঁপে উঠলো সে । ইয়াশ আলগোছে কব্জিতে বেঁধে দিলো ঘড়িটা । 

রমনীর হৃৎস্পন্দন বেড়েছে অস্বাভাবিক । বেগতিক চলাচল হৃৎপিণ্ডের । ঘড়ি বাঁধা হতেই তড়িঘড়ি করে হাত টেনে সরালো সে । চোখ নামিয়ে শুল্ক ঢোক গিললো । 

কিছু মুহুর্ত মেঘার পকর পকর শোনার পর ইয়াশ নিজেকে ধাতস্থ করে ডাকে…….

” সারা ? 

” জি ?

” ডোন্ট মাইন্ড ,, বাট একটু বাইরে যাবে ? মেঘার সাথে আমার কিছু কথা আছে । 

দ্বিমত করলো না সারা । উঠে দাঁড়িয়ে অবিলম্বে ঘর ছাড়লো । ইয়াশ গম্ভীর মুখে সটান বসে আছে । মেঘার হাসি হাসি মুখ খানা কিছুটা মলিন হয় ওর এমন গাম্ভীর্যতা দেখে । কাছ ঘেঁষে বলে নরম গলায়….

” কি হয়েছে ভাইয়া ? 

উত্তর না করে আবার উঠে দাঁড়ালো ইয়াশ । ফের ল্যাগেজ থেকে কিছু বের করলো । একহাতে সাদা খাম । অন্যহাতে আরো কিছু একটা । সেটাকে মেঘার সামনে ডিভানের উপর শব্দ করে ফেললো সে । মেঘা চকিতে চায় । পাসপোর্ট একটা । রমনী ছ্যাত করে ওঠে । বুঝেও অবুঝের ন্যায় প্রশ্ন ছোড়ে…..

” এটা কার ভাইয়া ? 

” তোর ! 

তৎক্ষণাৎ ধক্ করে ঢোক গিললো মেঘা । ইয়াশ আবার বলে…..

” বলেছিলি তো , সব গোছগাছ করে রেখেছিস । একুশ তারিখে চলে যাচ্ছি আমরা । সকাল ন’টায় ফ্লাইট । 

নড়েচড়ে পিছিয়ে বসে একবিংশী । একহাত চেপে ধরে অন্যহাতে । পরপর ঢোক গেলে । ইয়াশ পাশে বসে । রাশভারী গলায় শুধোয়….

” কি হলো ? 

উত্তরের অপেক্ষায় থাকে না । ব্যাস্ত হাতে খাম থেকে একটা টানটান কড়কড়ে কাগজ বের করে । 

সেটাও রাখে মেঘার চোখের সামনে কাঁচের ডিভানের উপর । মেঘা আধো ভেজা চোখে তাকায় । কাগজটা পুরোপুরি লক্ষ্য না করলেও উপরে ভেসে ওঠা একটা ইংরেজি ওয়ার্ড দেখে কলজে ছ্যাঁত করে উঠলো রমনীর । 

বড় বড় এ্যালফাবেটে লেখা “Divorce” । বাকিটা দেখার প্রয়োজন হলো না । এই একটা শব্দ , এটা দেখেই মাথা চড়কে ওঠে একবিংশীর । ছলাৎ করে চমকে তাকায় ইয়াশের দিকে । চোখের পানি আটকায় বহু কষ্টে । অস্ফুটে উচ্চারণ করে বাঁধা গলায়…..

” ভা…ভাইয়া !! এ…এটা কি ? 

” ডিভোর্স পেপার ! 

ইয়াশের নির্বিকার উত্তর । একটা কলম বাড়িয়ে দিয়ে আবার আদেশ…..

” সাইন কর । বাকিটা আমি সামলে নেবো । 

🛑 ভাবুন তো পরে কি হবে 🥹? আজ দিতে চেয়েছিলাম , তাই ছোট করে হলেও দিলাম । বাট উল্টো পাল্টা চিন্তা করে মাথা নষ্ট কইরেন না । ঠান্ডা থাকুন । স্পয়লারের অংশ সহ বাকিটা কাল আসবে ইনশাআল্লাহ । আজ এটুকুই । রেসপন্স করবেন । হ্যাপি রিডিং । 🛑

#চলবে……….

#আসবো_ফিরে_আবারো

#পর্ব_৫৯ [ শেষাংশ ]

#সুরভী_আক্তার

( অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষেধ ❌ ) 

মেঘার মস্তিষ্ক এলোমেলো হয়ে যায় । যেনো প্রবল ঝংকার তুলে দুনিয়া কেঁপে ওঠে তার নিকট । ভাইয়ের আদেশে হাসে অবুঝের ন্যায় , অথচ আঁখি কোটর ফেটে পানি বেরোতে চাইছে । নোনা জলে টইটুম্বুর দুচোখ । মেয়েটা মাথা নাড়িয়ে মুখ খোলে করুন স্বরে….

” ভাইয়া ,,, হঠাৎ কি বলছো বলতো ! ক.. কিসের ডিভোর্স পেপার ? 

তুমি এসেছো থেকে আমার সাথে কথাই বলো নি সেভাবে ।  আমি তোমাকে কিছুই বলতে পারিনি । কত কথা জমিয়ে রেখেছি সামনাসামনি বলবো বলে । অনেক কিছু বলার আছে তোমায় । তার আগে এই কাগজ , এটা কেনো করিয়েছো তুমি ? আগে শুনবে তো আমার কাছে ! 

” কি শুনবো ?

ওকে বোঝাতে বিচলিত হয়ে পড়লো মেঘা……

ইয়াশের হাত দুটি আঁকড়ে ধরলো । 

” ভাইয়া , ভাইয়া তুমি জানো…..আমরা ওনাকে যেমন ভেবেছিলাম , উনি মোটেও অমন নন । তুমি তো ওনাকে চেনোই না । কথাই বলো নি এখনো । কথা বললে ঠিক বুঝবে দেখো ‌। উনি খুব ভালো , ভাইয়া । বিশ্বাস করো , আমি চিনেছি ওনাকে । উনি এখন আর আগের মতো নেই । আমি জানি , যা হয়েছে তাতে ওনাকে ভুল বুঝেছি আমরা । কিন্তু সেটা শুধুই ভুল । উনি অন্যরকম । নেশা করেন না । সিগারেট খান না এখন । জানো, আমি এক বলাতেই উনি সব ছেড়েছেন । ভাইয়া ,, উনি আমাকে ভালোবাসেন । 

মেঘার হাঁসফাঁস কন্ঠের শেষ কথায় ইয়াশ রক্ত চক্ষু পাত করে । 

এমন অগ্নি চোখে ভড়কায় রমনী । ছিটকে ইয়াশের হাত ছাড়ে । 

” কি বললি ? 

ইয়াশের ধারালো স্বর । মেঘার কম্পিত হালকা উত্তর…..

” উনি আমাকে ভালোবাসেন ভাইয়া ! 

” আর তুই ? 

মেঘা চিবুক নামালো । পেঁচিয়ে উত্তর করলো…..

” আমি ডিভোর্স দিতে চাই না ওনাকে । আ…আমি এই সম্পর্ক টা টিকিয়ে রাখতে চাই । 

ইয়াশ হাত মুঠিয়ে নেয় । চোয়াল খিচে চোখ বন্ধ করে । নিজের বোনের উপর ঔদ্ধত্য হয় নি আজ অবধি । আজও পারলো না । জমে রাখা রাগ সংবরণ করে চড়া গলায় আদেশ করলো পূণরায়…..

” ডিভোর্স পেপারে সাইন কর মেঘা । এক্ষুনি মানে এক্ষুনি । আর কিচ্ছু শুনতে চাই না আমি । 

মেঘার মাথায় এবার যেনো আকাশ ভেঙ্গে পড়লো । চোখ ছাপিয়ে দুফোঁটা পানি গড়ালো অজান্তেই । সে আবার ইয়াশের হাত টেনে ধরে । গুড়িয়ে যায় ভেতর থেকে । কাকুতি করে…

” ভাইয়া ,, প্লিজ । তুমি আগে একটা বার রৌদ্রের সাথে কথা বলো । সব ভুল বোঝাবুঝি মিটে যাবে । তুমি ওনাকে চিনবে ভালো করে । দেখবে , উনি সম্পুর্ন আলাদা । 

বিপরীতে তিরষ্কারের হাসি হাসলো ইয়াশ । কিছুটা শব্দ করে । ফিরলো বোনের দিকে । 

” আলাদা ? আর আমি আবার চিনবো ওকে ? 

হাহহ্ , ওকে তিল পরিমাণ চেনাও বাকি নেই আমার । তুই কদিন ধরে চিনিস ওকে ? সেই তো পাঁচ বছর আগে দেখেছিস । কতটুকু ছিলি তখন ? তারপর দেখলি এই কদিন আগে । এ কদিনে চিনে ফেললি ? বুঝে ফেললি ওকে ? আরে আমি ওকে চিনি নয় বছর ধরে । নয় বছর ,, বুঝেছিস ? কম সময় নয় ! তোর থেকে হাড়ে হাড়ে চিনি আমি ওকে । ওর ব্যাপারে মুখ খুলতে বাধ্য করাস না আমায় । সহ্য করতে পারবি না । বোকা মাথায় দুদিনে যা ইমোশন ঢুকিয়েছিস , ঝেড়ে ফেল সব । রৌদ্র ভালো নয় । ওর খারাপ দিকটা তোর সামনে আনতে চাইছি না আমি । সাইন কর …..

মেঘা বুঝলো না । একটু শব্দ করে কেঁদে উঠলো । 

” কি খারাপ দিক আছে ওনার ! কি বলছো তুমি ? ওনাকে কি করে চেনো ? ওনার খারাপ দিক কি , উনি ছন্নছাড়া বেপরোয়া নেশা খোর , তাইতো ? কিন্তু এখন উনি নিজেকে পরিবর্তন করে ফেলেছেন বিশ্বাস করো । উনি বেপরোয়া নেই । পরোয়া করেন আমার । শোনেন আমার কথা । নেশা করেন না  বদলে গেছেন । 

” সিরিয়াসলি ? পরশু রাতে একসাথে সিগারেট খেয়েছি আমরা ! 

থেমে যায় মেঘা । কান্না বিজড়িত গলায় দলা পাকিয়ে শ্বাস আটকে আসে কোথাও একটা । সে এসব মানতে নারাজ ! রৌদ্রের থেকে কিছুতেই বিচ্ছিন্ন হতে পারবে না । লোকটা যে তার সর্বস্ব জুড়ে আধিপত্য বিস্তার করে ফেলেছে । এখন যে আর কুল নেই । 

মেঘা কাঁদে কিছুক্ষণ । শব্দহীন কান্না । ফিকড়ে ওঠে মাঝে মাঝে । ইয়াশ তাকালো না ওর দিকে । লম্বা শ্বাস টেনে ধরা গলায় বলল…..

” এ দুনিয়ায় তুই ছাড়া আমার আর কে আছে বল ? কি পাসনি জীবনে ? কি দেইনি আমি তোকে ? মানছি আমি অসময়ে তোকে ফেলে রেখে গেছিলাম । কিন্তু সেসময় তোকে কাছে নেওয়ার উপায় ছিলো না আমার । তুই জানিস সবটা । কথা তো এটা ছিলো না । কথা ছিলো সময় এলে তুই আমার সাথে চলে যাবি । আমার দুনিয়াকে আমি সাথে নিয়ে যাবো । এখন পাল্টি খাচ্ছিস কেনো ? ভাইয়া তুচ্ছ হয়ে গেলো ? 

” না ভাইয়া । এমন নয় । আই লাভ ইউ । 

বাট , আই অলসো লাভ রুডভিক কাবির রৌদ্র । আমি ওনাকে ছাড়তে পারবো না আর । প্লিজ ভাইয়া,,, 

” সাইন কর । 

ইয়াশের এক নির্দেশ । মেঘা ফিকড়ে ওঠে । অস্ফুটে ডাকে…

” ভাইয়া ! প্লিজ !

” সাইন কর মেঘা । সময় নেই আমাদের হাতে । 

পাঁচদিন পর ফ্লাইট । এসব ঝামেলা চুকে গেলে আর বাঁধা থাকবে না । 

আর সহ্য করতে পারলো না একবিংশী । কেঁদে উঠলো । ইয়াশ ওর দূর্বলতা । আর রৌদ্র ও তাই । সে ছাড়তে পারবে না রৌদ্র কে , অবাধ্য হতে পারবে না ইয়াশের কথায় । 

ভেজা গাল মুছে এলোমেলো কদমে বাইরের দিকে ছুটলো মেঘা । পালাতে চাইলো এসব থেকে । ইয়াশ পিছু ডাকে…..

” মেঘা…..

শোনে না একবিংশী ।

বোনের নুপুরের ক্ষিণ নিক্যনের শব্দ মুছে যেতেই ডিভানে শরীর এলিয়ে দিলো ইয়াশ । চোখ বুজে নিলো ভারী যন্ত্রনায় । গলা কাঁপছে , সাথে হাত-পা । মেঘার চোখের পানি তার বড্ড দূর্বলতা । তাইতো একবারও কান্নারত বোনের পানে তাকাতে পারে নি । 

চোখ দুটি জ্বলছে ভীষণ । গরম হয়ে আসছে । আঁখি কার্নিশে ভেজা ভেজা কিছু অনুভব করলো তপ্ত যুবক । অক্ষিপটের ধার ঘেঁষে ক্ষুদ্র এক ফোঁটা অশ্রু গড়ালো । শ্বাস পড়লো ভারাক্রান্ত বুক চিরে । বিড়বিড়ালো নিজের মাঝে…….

” আমার থেকে তুই সব কেড়ে নিলি রুডি ? সব ! কিচ্ছু রাখলি না । না বন্ধু , না ভালোবাসা, আর না একমাত্র সম্বল টা । সেটাও গুছিয়ে কেড়ে নিলি ? কি ক্ষতি করেছিলাম তোর ? এবার আমি বাঁচবো কাকে নিয়ে ? কেউ যে রইলো না আমার ! কেউ না…. আমি কেবলই নিঃস্ব । 

আরো কয়েক ফোঁটা তিক্ত পানি গড়ায় একই ধারায় । 

মেঘা ছুটে এসে দরজা আটকে দিয়েছে ধাম করে । মুখ চেপে কেঁদে উঠলো একান্তে একলা হয়ে । এলোমেলো হয়ে গেলো সে । তড়িঘড়ি করে ফোন খুঁজলো । খুঁজে নিয়ে কাঁপা কাঁপা হাতে কল লাগালো রৌদ্রের ফোনে । বরাবরের মতো লোকটা বাধ্যের ন্যায় প্রথম বারেই কল রিসিভ করলো । এক গাল হেসে বললো আদুরে গলায়…..

” হেয়য়য় জান পাখি ! কি হলো , ভার্সিটির ইভেন্ট শেষ ? নিতে আসবো ? 

মেঘা লোকটার এমন আবেগঘন কণ্ঠে ফুঁপিয়ে ওঠে । রৌদ্রের কানে পৌঁছায় সেই ফোঁপানির মৃদু রেশ । ওদিকে বিচলিতের ন্যায় ছ্যাত করে ওঠে সে ।‌ 

” সুইটহার্ট , কি হয়েছে ? কাঁদছিস তুই ? এই বল না , কি হয়েছে ? আমার মনে হলো কান্নার শব্দ শুনলাম তোর । 

ইভারা , কি হয়েছে জান । ঠিক আছো তুমি ? 

মেঘা অতি কষ্টে কান্না গিলে নেয় । বলে আধো আধো স্বরে…..

” কোথায় আপনি ? এক্ষুনি বাড়িতে আসুন প্লিজ । আপনাকে এক্ষুনি লাগবে আমার । এক্ষুনি মানে এক্ষুনি । প্লিজ চলে আসুন ।

” হ্যাঁ আসছি তো , এক্ষুনি আসছি আমি । জাস্ট দশ মিনিট সময় দাও,জান । আমি চলে আসবো খুব শীঘ্রই । তুমি ঠিক আছো , বলো আগে ! 

” হু । 

মেঘা আর কিছু না বলেই ফোন কাটলো । মেঝেতে বসলো আলগোছে । হাঁটু জড়িয়ে ফুঁপিয়ে উঠলো । 

ঠিক মিনিট দশেকের মাথাতেই রৌদ্রের হন্তদন্ত আগমন ।ঠাস করে সদর খুলে হুড়মুড়িয়ে বাড়িতে ঢুকলো । বেপরোয়া ছেলেটার শরীরের অবস্থা অনেকটা এলোমেলো । কথা রাখতে সব তুচ্ছ করে ছুটে এসেছে । 

বাড়িতে ঢুকে কোনো দিকে তাকালো না । ধড়ফড় করে সিঁড়ি বেয়ে উঠলো । ছেলের এমন উদ্বিগ্ন অবস্থা দেখে পেছন থেকে রুবিনা কাবির ডেকেও সাঁড়া পেলেন না । 

আপন টানে ছুটে যায় বেপরোয়া যুবক । মেঘার ঘরের দরজা ধাক্কা দিয়ে খোলে । ডাকে উদগ্রীব হয়ে…..

” MP ? 

মেঘা সেই একই অবস্থাতেই হাঁটু জড়িয়ে বসে ছিলো । রৌদ্রের ডাকে ধ্যান ভাঙল । কেঁপে উঠলো খন্ডিত হৃদয় । বিচলতি হয়ে নিজেও ডাকলো…..

” রৌদ্র ! 

রৌদ্র তেড়ে যায় । মেঘার সামনে অগ্রসর হতেই নিজে কিছু করার আগে মেঘা উন্মাদের ন্যায় আছড়ে পড়লো ওর নাজেহাল বুকে । লোকটাকে শক্ত করে জড়িয়ে পিঠ খামচে ধরলো । ধেয়ে আসা কান্না চাপতে হিমশিম খেলো । কেঁদে ফেললো এক পর্যায়ে । 

রৌদ্র ওকে আগলে নেয় । ধড়ফড় করে হেতু না জানা অবধি । তোলপাড় অন্তঃস্থল । শুধোয় হাঁসফাঁস করে…..

” কি হয়েছে সানি ? এমন করছো কেনো ? কেঁদেছো কেনো তুমি ? বলো আমায় ? ভার্সিটিতে কিছু হয়েছে ? কেউ কিছু বলেছে ? কে কি বলেছে বলো একবার , জানে মেরে ফেলবো তাকে আমি । 

মেঘা সামলায় নিজেকে ! 

” কেউ কিছু বলে নি আমায় । কিন্তু আমি আপনাকে চাই রৌদ্র । সারাজীবন চাই ! গোটা জীবন সাথে থাকতে চাই আপনার ? বলুন আপনি আমার হয়ে থাকবেন ! 

” এইতো আমি আছি , আর থাকবো । আমি তো তোমারই । তুমি চাইলেও তোমার , না চাইলেও তোমার । কারন তুমি বাধ্যতামূলক আমার । 

” আমি আপনাকে ডিভোর্স দেবো না ! 

রৌদ্র খেয়ালে ফেরে । চোখ কুঁচকায়….

” ডিভোর্স ? কি বলছো হঠাৎ ? 

” হু । আমি আপনার থেকে বিচ্ছেদ চাই না । মরে যাবো । 

ভাইয়া আমাকে নিয়ে অনেক দূর চলে যাবে রৌদ্র ,, আমি যেতে চাই না । আমি আপনার সাথে থাকতে চাই । সারাজীবন আপনার সাথে থাকতে চাই । প্লিজ আমাকে আটকান । আমি আপনাকে ডিভোর্স দেবো না । ভাইয়া ডিভোর্স পেপার রেডি করেছে । আমি সাইন করিনি । 

আপনি ভাইয়াকে বোঝান প্লিজ । বলে দিন আপনি আমাকে ভালোবাসেন । 

রৌদ্রের চোয়াল শক্ত হয়ে আসে নিমিষেই । খিচে ফেলে দাঁত মুখ । হাত মুঠিয়ে উদ্যত হয় রাগে….

” হোয়াট ? ডিভোর্স পেপার ? ওর সাহস কি করে হয় এসব করার ? আমি তো ছাড়বো না ওকে….

রৌদ্র রাগে বাঁধন ছাড়াতে গেলে মেঘা আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো ওকে । ক্লান্ত হয়ে বললো……

” আমি আমার ভাইয়া কে ভীষণ ভালোবাসি, রৌদ্র । আমি ছাড়া ওর আর কেউ নেই । ওর কথার অবাধ্য হতে পারবো না আমি । ও আমার সব । আর আপনিও । আমি কাউকেই ছাড়তে পারবো না । আপনি প্লিজ ভাইয়ার সাথে শান্ত হয়ে কথা বলুন । ভাইয়া বুঝবে আপনাকে । দেখবেন , সব মেনে নেবে । ও আমার সুখ চায় । আপনি দেখিয়ে দিন , আপনি আমাকে সুখে রাখতে পারবেন । 

শান্ত হলো রৌদ্র । চোখ বুজে সামলে নিলো ক্ষুব্ধতা । মেঘার পিঠে হাত রাখলো আলগোছে…..

বললো ঠান্ডা হয়ে…..

” ‌হু , দেখিয়ে দেবো ! 

” মানিয়ে নেবেন ভাইয়াকে ? 

” নেবো ! 

” খুব শান্ত হয়ে বোঝাবেন , কেমন ? 

” হু , বোঝাবো । 

” অধৈর্য হবেন না , রাগবেন না বলুন ! 

” আচ্ছা । 

এজন্যই এতো জরুরি তলব ? কাঁদছিলে এ কারনেই ? 

মেঘার ওর বুকের মধ্য থেকেই মাথা নাড়ালো হ্যাঁ বোধক । মৃদু হাসলো রৌদ্র । খানিকক্ষণ বাদ রমনীকে আলগোছে নিজের থেকে ছাড়িয়ে নিলো । ভেজা চোখ,মুখ মুছিয়ে দিলো আজলে নিয়ে । কপালে গাঢ় চুম্বন আঁকলো । এতক্ষণে ভার দাবিয়ে হালকা করে দৃষ্টি তুলে তাকালো একবিংশী । সহসা রৌদ্রের চেহারা দেখে আঁতকে উঠলো অবিলম্বে । 

লোকটার কপালে, ঠোঁটের কোণে , বাম চোয়ালের ধারে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ক্ষতচিহ্ন । দগদগে ঘা । রক্ত তাজা । টকটকে তরল গড়িয়ে পড়ার চিহ্ন রেখে গেছে । 

মেঘা ছ্যাঁত করে ওঠে । ঘোলাটে চোখে পুরো দৃষ্টিতে রৌদ্র কে পরখ করে । লোকটার ডেনিমে ধুলো , ছেড়া হাতের কাছে । বাম হাতের উপরি পিঠে ছুলে যাওয়া ক্ষত । রক্ত ছোপ ছোপ । এলোমেলো পুরো । 

মেঘা ঢোক গিললো । ব্যাস্ত হয়ে লোকটার চোয়ালে হাত তুললো । আলগোছে ক্ষতচিহ্ন ছুঁইয়ে দিয়ে বললো ভড়কানো গলায়……

” রৌদ্র , এসব কি করে হলো ? কি হয়েছে এসব ?  

রৌদ্রের অবিসন্ন জবাব…..

” তাড়াহুড়ো করে ড্রাইভ করতে গিয়ে বাইক থেকে পড়ে গেছিলাম । বাট , নাউ আ’ম অল রাইট । ডোন্ট প্যানিক সুইটহার্ট ! 

মেঘা বিমুঢ় লোচনে তাকিয়ে রয় । লোকটার ঠোঁটে হাসি । আচ্ছা পাগল লোক তো ! ক্ষত বিক্ষত শরীরে হাসছে ? আবার বলছে, ঠিক আছেন উনি ! ইশশ্, কি অবস্থা শরীরের ‌।

ফোঁস করে শ্বাস ফেললো মেঘা । ওষ্ঠ উল্টালো । ওর জন্যই অতিষ্ঠ হয়ে ছুটে এসেছে এই লোক । আর সেজন্যই এ দশা । 

নাক টানলো রমনী । 

” ব্যথা পেয়েছেন খুব বেশি ? লেগেছে তাই না ? ইশশ্ , ছুলে গেছে কিভাবে দেখুন তো ! নিজের খেয়াল রাখতে পারেন না, রাইনো মুখো ! যন্ত্রণা হচ্ছে ভীষণ ? 

” হু ! একটু আদর করে দাও ! সেরে যাবে ! 

লোকটার আবেশিত চাহনা । মেঘা চোখ সরু করলো । একটু খানি উঁচু হয়ে বাম চোয়ালের পাশের ছোট্ট ক্ষতটাতে আলগোছে ঠোঁট ছোঁয়ালো । ওরনার এক কোণে জমাট রক্ত মুছিয়ে দিতে দিতে বললো ……

” এভাবে ছুটে আসতে কে বলেছিলো ? 

” তুমি ! ডেকেছো আমায় , ছুটে আসবো না ? তক্ষুনি চেয়েছিলে আমায় । দেরি করে ফেলেছি আসতে । 

” তাই বলে পাগলের মতো এক্সিডেন্ট করবেন ? 

” পাগলের মতো নয় , আমি তো পাগলই তোমার জন্য । হয়ে গেছে পাগলের দ্বারা একটা পাগলামো । 

” উঠুন এখন ! 

আবারো ভেজা চোখ মুছে রৌদ্র কে নিয়ে ঘর ছাড়লো সে । 

নিচে নামতেই ছেলের এমন অবস্থা দেখে আঁতকে উঠলেন রুবিনা কাবির । রৌদ্র বসতেই তড়িঘড়ি করে ছুটে গেলেন…..

” এ কি , তোর অবস্থা এমন কেনো ? কি করেছিস তুই ? ছুলে গেছে কি করে হাত পা ? 

” বাইক থেকে পড়ে গেছিলাম, মম । টেনশন করো না, কিচ্ছু হয় নি । 

বিচলিত হয়ে পড়লেন রুবিনা কাবির । 

মেঘা ফার্স্ট এইড বক্স নিয়ে পাশে বসেছে । মুখ ভার । কথা বললো না । রৌদ্র কে নিজের দিকে ঘুরিয়ে তুলোয় অয়েনমেন্ট নিয়ে আলগোছে ক্ষত চিহ্নে চেপে ধরলো । চিনচিনে ব্যাথায় দাঁত চেপে খিচলো রৌদ্র । চোখ খিচে নিলো । মেঘা কাতর চোখে পরখ করলো তা । স্টিরি-স্ট্রিপ লাগিয়ে ক্ষত ঢাকলো । 

মেঘার এমন টুকটাক যত্নে ঠোঁট ফেটে তৃপ্তিময় হাসলো বেপরোয়া যুবক । রুবিনা কাবিরের উপস্থিতির তোয়াক্কা না করে রমনীর খোঁপায় আটকানো ক্লিপটা খুলে নিলো একটানে । অভ্যাসবশত এক গোছা চুল টেনে চেপে ধরলো নাকের ডগায় । দীর্ঘ শ্বাসে ঘ্রাণ টানলো উন্মত্তের ন্যায় । 

মেঘা আড়চোখে রুবিনা কাবির কে দেখে অপ্রস্তুত হয় । বিড়বিড় করে বকা ঝেড়ে উঠে দাঁড়ায় ঝটপট । 

ওদিকে করিডোরের একপ্রান্তে দাঁড়িয়ে নিচের সবটা তীক্ষ্ণ চোখে অবলোকন করলো এক তপ্ত যুবক । তার প্রতিক্রিয়া খুব একটা বোঝা দায় । চোয়াল শক্ত হলেও ভঙ্গুর দৃষ্টি জোড়া । ক্রোধ হীন নরম চাহনি । 

এক পর্যায়ে দৃষ্টি বুজে বুক ভরে দীর্ঘ শ্বাস টানলো । 

🛑 ঘুমেশে পড়েছেন ? দেরি হয়ে গেলো । কারেন্ট বেইমানি করে খালি । যাই হোক । হ্যাপি রিডিং । 🛑

#চলবে…………

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply