Golpo romantic golpo আসবো ফিরে আবারো

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৫৪


#আসবো_ফিরে_আবারো

#পর্ব_৫৪

#সুরভী_আক্তার

( অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষেধ ❌ ) 

কেটেছে আরো কটা দিন । 

বেশ স্বাভাবিক চলছে সবটা । ফেব্রুয়ারির দিন কয়েক পেরিয়েছে । আদ্রের বিয়ের ও বেশ অনেকদিন পেরোলো ।  টুকটাক কাছের মানুষ ব্যাতীত ওর বিয়ের খবরটা বাইরে ছড়ায় নি সেভাবে । যেহেতু বিয়েটা হয়েই গেছে , তাই সবাই খুব সহজেই মেনে নিয়েছে সবটা । 

আজ বিকেলের দিকে ড্রইং রুমে এসে বসলেন তোফায়েল কাবির । সাথে বড় ভাই আছেন । আদ্র সহ বাড়ির সব বাচ্চাদের ডেকে পাঠালেন তিনি । সবাই উপস্থিত হতেই ভরে উঠলো পুরো বসার ঘর ।

তিনি কিয়ৎ কাল চুপ থেকে কথা গুছিয়ে নেন । অতঃপর রাশভারী গলায় মুখ খোলেন…

” আদ্র , আমি একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি ! 

” জি, আব্বু ? 

আদ্র জানতে চাইলে তোফায়েল কাবির ছেলের দিকে তাকিয়ে স্মিত হেসে বলেন….

” তোমার আর শিশিরের বিয়েটা তো হঠাৎ করে হয়ে গেছে । সেভাবে কাউকে জানানো হয় নি । আমি চাইছি ছোট খাট একটা অনুষ্ঠান করতে । গেট টুগেদার করবো একটা । তোমার স্ত্রী হিসেবে শিশিরের পরিচিতি প্রয়োজন । 

থামলেন তিনি । আদ্র শোনা মাত্রই শিশিরের দিকে তাকায় । থম মেরে দাঁড়িয়ে আছে মেয়েটা । প্রতিক্রিয়া কঠিন । চোখ নামালো আদ্র । প্রশ্ন করলো…

” কবে ? 

” আজ ছয় তারিখ । বারো তারিখে করা যাক । হাতে ছয় দিন পাবো তাহলে । অসুবিধা হবে না । তোমার সাথে সাথে বাকিদের মতামত ও চাই । 

” আমার মতামত আলাদা করে নেওয়ার প্রয়োজন নেই । 

” কিন্তু শিশির ? 

” ওর আপত্তি হওয়ার কথা নয় । 

শিশির কে কিছু বলার সুযোগ দিলো না আদ্র । তোফায়েল কাবির রুবিনা কাবিরের উদ্দেশ্যে বলেন…

” তোমার কি মতামত ? ছেলের বিয়ে নিয়ে অভিযোগ ছিলো ! অভিযোগ মেটাতে চাইছি । 

রুবিনা কাবির মুখ ফিরিয়ে বলেন গমগমে স্বরে….

” আমার মতামত নেওয়ার প্রয়োজন বোধ করছেন কেনো হঠাৎ ? ছেলের বিয়ে নিয়ে অভিযোগ ছিলো , থাকার যথেষ্ট কারন আছে । তবে ছেলের বউকে নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই আমার । ছিলোও না কোনো দিন । অনুষ্ঠান করবেন , এতো ভালো কথা । 

আদ্র নিঃশব্দে হাসে । রুবিনা কাবির উঠে শিশিরের কাছে যান । স্মিথ হেসে গালে মুখে স্নেহের সহিত হাত বুলিয়ে বলেন…

” তুই বড্ড মায়াবী । দেখলেই চোখ জুড়িয়ে যায় । অভিযোগ করবো কি করে তোকে নিয়ে ? আমার বউমাকে পছন্দ হয়েছে আমার । নিজের পছন্দের উপর অভিযোগ আমি করি না । বারো তারিখে অনুষ্ঠান হবে । ছোট কেনো ? বড় করে হবে । অনেক বড় করে অনুষ্ঠান হবে আমার ছেলে আর বউমার । 

একটু থামলেন ভদ্রমহিলা । শিশিরের হাত ধরে বললেন….

” আমার রুমে চল । দরকার আছে তোর সাথে । 

মেঘা গুটিসুটি মেরে দাঁড়িয়ে আছে একপাশে । মুখ মলিন । একটু হিংসে হলো । রুবিনা কাবির ওকে আদর করলেন না । অবশ্য এখনো ওকে বউ মানেন কি না সন্দেহ ! 

শিশিরের সাথে কয়েক সিঁড়ি উঠে পিছু ফিরলেন ভদ্রমহিলা…

” মেঘা , তুই দাঁড়িয়ে আছিস কেনো ? আয় আমার সাথে । 

অমনি চিকচিক করে উঠলো মেঘা । 

পিছু ছুটলো সেও । 

দুই বউমাকে বিছানার উপর বসিয়ে রেখে আলমারি ঘাটছেন রুবিনা কাবির । মেঘা আগ্রহ নিয়ে দেখছে তাকে । অবশেষে কতকগুলো গয়নার বাক্স নিয়ে ওদের সামনে এসে দাঁড়ালেন তিনি । একেকটা বাক্স খুলে খুলে সব গয়না একে একে বের করে বিছানায় উপর ছড়িয়ে দিলেন । প্রত্যেকটাই সেম ডিজাইনের দুটো করে গহনা । দেখে মনে হচ্ছে অনেক আগের । দুই ছেলের দুই বউয়ের জন্য একভাবে গড়া হয়েছে । সব ধরনের জুয়েলারি আছে । রুবিনা কাবির দায়িত্ব নিয়ে দুটো ভাগ করলেন । একে একে দুজনের হাত,গলা, আঙ্গুল, কপাল, কান , সবখানে গহনা গুলো ধরে ধরে দেখলেন । অতঃপর হাঁফ ছেড়ে দু’জনের মাঝে বসে বললেন….

” এগুলো তোদের দুজনের । সামনে অনুষ্ঠান । শিশির , সেদিন তুই এগুলো পড়বি । আর মেঘা, তোর খবর কি বলতো ? ভেবেছিস কি , আমরা অন্ধ ? দেখিনা কিছু ? তোর আর রৌদ্রের মধ্যকার সবটা বুঝতে পারছি আমরা ! বউ তুই আমার ছেলের , বউমা আমার । তোর ভাগের গহনা এগুলো । এতো বছর আমি সামলে রেখেছি । এখন থেকে এগুলো তোর । আমার ছেলেকে যেভাবে সামলাচ্ছিস , নিজের কথায় নাচাচ্ছিস , এই গহনা গুলোও ঠিক সেভাবে সামলাবি । 

মেঘা মুখ কাঁচুমাচু করে । মিনমিন করে কিছু না বোঝার ভান ধরে….

” আমি তোমার ছেলেকে কি করলাম ? 

” ফাঁসিয়েছিস , বড্ড ফেঁসেছে ও । আমি চাই ফাঁসুক । খুব করে বেঁধে যাক তোর সাথে । তবেই না ও বাধ্য হবে । দেখেছিস , ইদানিং কেমন শান্ত হয়ে গেছে । তোর কথাতেই তো । তোর কথা মেনে চলছে ও । তুই যা বলিস , তাই শোনে । পাগল তোর জন্য । আমি সব বুঝি । আর এটাও চাই , ও আজীবন এমন থাকুক । তুই থাক আজীবন । সামলে রাখ ওকে । আঁচলে বেঁধে বাধ্য করে রাখ । আমার ছেলেটা বড্ড বেপরোয়া । কাউকে মানতো না । এই প্রথম তোর পরোয়া করছে ও , মানছে তোকে । 

ছেড়ে যাস না ওকে । কথা দে । আমি জানি , তোদের মাঝে ভেতর ভেতর সব ঠিকঠাক । আমাদের সামনে প্রকাশ করিস না তোরা । কিন্তু ইয়াশ , ও আসলে তুই চলে যাবি না তো ? মেঘা, আমার কথা শোন ,, আমি না তোর মা । মা ডাকিস তো আমায় ? আমার কথা শুনবি না ? আমার ছেলেকে ছেড়ে যাস না দয়া করে । আমি জানি রৌদ্র কেমন , ও পাগলাটে । তোর প্রতি ওর পাগলামো দেখেছি আমি । প্রথম বার ওকে এমন দেখছি । আর হলফ করে বলতে পারি , ও থাকতে পারবে না তোকে ছাড়া । ও নিজের জিনিস কক্ষনো ছাড়ে না । যা চায় , তা সারাজীবন ধরে রাখে । তোকেও ছাড়বে না , ধরে রাখবে । শুধু তুই ওকে ছেড়ে যাস না । নয়তো আবার আমার ছেলেটা বেপরোয়া হয়ে যাবে । ওকে আটকানোর কেউ থাকবে না । কথা দে আমায় , তোদের মাঝে সবকিছু সম্পূর্ণ ঠিকঠাক করে নিবি । ইয়াশ কে ফিরিয়ে দিবি তুই । যাবি না ইয়াশের সাথে । তুই আমার ছেলের বউ , থাকবি আমার ছেলের সাথে , বল ! 

তার কন্ঠ জড়িয়ে আসে এক পর্যায়ে । কাঁপে ছলছল দৃষ্টি । মেঘার হাত আঁকড়ে ধরে অনুনয় করেন । থমকে যায় মেঘা । সামলায় পরক্ষনে, মুখ ফসকে বলে…..

” মা , এভাবে বলছো কেনো ! আমি যাবো না কোথাও । 

খুশি হলেন ভদ্রমহিলা । ভীষণ খুশি হলেন । ছলছল চোখে চেয়ে ভরা গালে হাসলেন । মেঘার ভাগের গহনা গুলো বাক্সে ভরে ওর দিকে বাড়িয়ে দিলেন । বললেন ছটফট করে…..

” তাহলে এগুলো এখন নিজের কাছে রাখ । আদ্রের বিয়ের অনুষ্ঠান টা আলাদা করে হয়ে যাক । তার পর ধুমধাম করে তোদের বিয়ের অনুষ্ঠান করবো । তখন পড়বি এসব গহনা । কেমন ? নিজের কাছে নিয়ে যা এসব । 

” না , মেঘা ওসব গহনা রাখবে না নিজের কাছে । ফিরিয়ে নাও ওসব । মেঘা , গহনা ফিরিয়ে দাও….

আকস্মিক ভরাট কন্ঠে ছলকায় সকলে । চোখ যায় দরজার দিকে । সটান দাঁড়িয়ে তোফায়েল কাবির । মুখো ভঙ্গিমা নিরেট । তাকে দেখে ঢোক গেলে মেয়েটা । চোখ নামিয়ে নেয় দ্রুত । তোফায়েল কাবির এগিয়ে আবার বলেন….

” কি হলো , গহনার বাক্স ফিরিয়ে দাও । 

মেঘা যা বোঝার বুঝে নিলো । তোফায়েল কাবির এদিক থেকে কাঠখোট্টা । একরোখা বটে । ইয়াশের রেখে যাওয়া কথার বিন্দুমাত্র নড়চড় হতে দেবেন না তিনি । তাইতো দূরে থাকতে বলেন রৌদ্রের থেকে ।

মাথা নত করে গহনার বাক্স টা ফিরিয়ে দিলো সে । চোখ ভরে আসলো টইটুম্বুর হয়ে । ওষ্ঠ উল্টে কান্না আসলো । সে যে এখন মত পাল্টেছে । তা কি করে বোঝাবে ? এই গহনা রৌদ্রের বউয়ের জন্য । সে গহনা চায় না , কিন্তু রৌদ্রের বউ হতে চায় , হয়ে থাকতে চায় । লোকটা গুঁড়িয়ে দিয়েছে ওর সব জেদ । এটা কেবলই তার মন জানে । বহু কষ্টে কান্না গিলে নিলো মেঘা । 

তোফায়েল কাবির ভারী গলায় আদেশ করলেন….

” রুমে যাও দু’জনে । শিশির তুমি গহনা নিয়ে যাও । 

শিশির মাথা তোলে । কম্পন হীন গলায় বলে….

” আমি এসব নিতে পারবো না ! 

” কেনো ? 

প্রশ্ন রুবিনা কাবিরের । শিশির ধীরে বলে….

” না মানে, এসব আপনার কাছেই রাখুন । আমি রাখতে পারবো না । 

” ঠিক পারবি । আলমারিতে তুলে রাখ । নয়তো আদ্র কে দিবি । ও ভালো করে রাখবে । 

” একদম । শিশির, নিজের কাছে নিয়ে যাও এসব । আর মেঘা তুমিও রুমে যাও । 

অগত্যা তোফায়েল কাবিরের আদেশ তামিল করলো দু’জনে । শিশির ধীরে সুস্থে বেরোলেও , এক ছুটে বেরোলো মেঘা । দরজা মারানো মাত্রই টুপ করে গাল ভিজলো । 

দু’জনে বেরিয়ে যেতেই রুবিনা কাবির তীক্ষ্ণ চোখে তাকান স্বামীর দিকে । ভারী গলায় বলেন…..

” আবার কি হলো আপনার ? ফের ঘোল পাকাচ্ছেন কেনো ? ছেলেকে বাঁধার জন্য বউমাকে প্রয়োজন , এটা তো আপনি বুঝিয়েছেন আমায় । তাহলে আবার কি হলো ?

তোফায়েল কাবির একটু হাসলেন ঠোঁট বাঁকিয়ে । পেছনে হাত গুটিয়ে শান্ত নিরেট কন্ঠে বললেন….

” ঘোল পাকাচ্ছি না রুবিনা , ঘোল পরিষ্কারের চেষ্টা করছি । এগুলো তো গোল্ড, তাই না ? আমাদের গড়া ! তোমার ছেলের দায়িত্ব আছে তার বউকে কিছু কিনে দেওয়া । এসব রাখো তুমি । তোমার ছেলে তার বউকে ঠিক কিনে দেবে । 

” কি বলছেন ? কে দেবে ? রৌদ্র ?

” আর নয়তো কে ? তোমার ছেলের মাঝে একটু ঘাপলা আছে , বুঝলে ? দেখি কত ক্ষমতা তার । বলেছিলো না , কাবির ইন্ডাস্ট্রির মতো বিজনেস ইন্ডাস্ট্রি দিনে দশবার কেনার ক্ষমতা রাখে সে ! আসলেই রাখে কি-না তাই দেখবো । বউয়ের জন্য কি কি করতে পারে , আর কত ক্ষমতা তার তাই দেখবো আমি । কি কি লুকিয়ে রেখেছে সে । দেখার বাকি আছে । 

” আপনাকে বুঝি না আমি । যা বলবেন পরিষ্কার করে বলুন না । এতো মারপ্যাঁচ করেন কেনো ? 

” তোমাকে অতো বুঝতে হবে না । তুমি শুধু দেখে যাও । 

” তাহলে এসব গয়না কি করবো ? 

” তুলে রাখো আপাতত । পরে দিয়ে দিও । ওসব মেঘার , মেঘার’ই থাকবে । তোমার ছেলে কি করে , তা দেখার জন্য প্রস্তুত হও শুধু । 

রুবিনা কাবির এহেন কথায় দুদিকে মাথা নাড়িয়ে তপ্ত শ্বাস ফেললেন । ছেলের মাঝে যেমন ঘাপলা , বাপের মাঝেও ঠিক তেমনই । 

রাত্রি বারোটার কাছাকাছি । 

মেঘার চোখে বড্ড ঘুম । নিভিয়ে আসছে দুচোখ । টেনে টুনে খুলে রেখেছে । ঘুমাবে না আজ আর । 

আজ রৌদ্র বেপরোয়া হয়েছে আবার । বাড়ি ফেরেনি এখনো । সে জাগ্রত রৌদ্রের জন্যই । 

বেপরোয়া লোকটা বাড়ি ফিরলে নিশ্চয়ই আসবে মেঘার কাছে ।

ঠিক বারোটা আটে খট করে শব্দ হলো দরজায় । ঝিমুচ্ছিলো মেঘা । শব্দ পেয়ে চমকালো । ভড়কে তাকালো এপাশ ওপাশ । এখনো ব্যাকবোর্ডে হেলান দেওয়া । ঘরে ঢুকে ওকে এভাবে দেখে ভ্রু গুটায় রৌদ্র । অবাক হয় চরম । পরক্ষনে চিন্তিত হয়ে ছুটে যায় । এলোমেলো হয়ে রমনীর পাশে বসে , বিচলিত হয়ে বলে…

” ইভারা , কি হয়েছে ? ঘুমোস নি কেনো এখনো ? 

মেঘা আধো আধো চোখে ওষ্ঠ উল্টে তাকায়‌, রৌদ্র মাথা ঝাঁকিয়ে শুধরে নেয় নিজেকে….

” সরি , কি হয়েছে ? ঘুমাও নি কেনো ? কি সমস্যা বলো ? জ্বর এসেছে , মাথা ধরেছে , না অন্যকিছু ? মেডিসিন নিয়েছো ? 

মেঘা মুখ শুকনো করে উত্তর করলো ফিসফিস করে…..

” কিচ্ছু হয় নি ! 

” তাহলে ঘুমাও নি কেনো ? 

” আপনার অপেক্ষায় ছিলাম ! দেরি করে আসলেন কেনো আজ ? সারাদিন ছিলেন না । কোথায় ছিলেন ? 

রৌদ্র উত্তরে সময় নেয় কিছুটা….

দোনামোনা করে বলে গলা নামিয়ে….

” কোথাও ছিলাম না । এমনি আসিনি । 

” মিথ্যে বলবেন না ! 

” বলছি না । সত্যিই । আচ্ছা , টুকটুকি ঘুমোচ্ছে এখানে , কথা বললে জেগে যাবে ! আমার রুমে যাই ? 

মেঘা মুখ বিকৃত করে । 

” বাহানা খুঁজবেন না রাইনো মুখো । আমি যাবো না । ঘুমাবো , যান আপনি ! 

হাসে রৌদ্র । মেয়েটার কিছু একটা তো হয়েছেই । একটু কাছ ঘেঁষে সেও ব্যাকবোর্ডে হেলান দিলো । পাশাপাশি হয়ে আলগোছে রমনীর কাঁধ জড়িয়ে নিলো । আহ্লাদ পেলো একবিংশী । দ্বিধা হীন মাথা সহ পুরো শরীরের ভার এলিয়ে দিলো লোকটার উপর । বললো…

” আদ্র ভাইয়া আর শিশিরের গেট টুগেদার হবে । 

রৌদ্র রমনীর সিঁথির নিকট নাক ডুবিয়ে বুক ভরে শ্বাস টানে । চোখ বুজে আলতো করে ওষ্ঠাস্পর্শ এঁকে বলে পরোয়া হীন….

” ওও । 

” হু ! 

” তো ? 

মেঘা চোখ তুলে তাকালো । কিছু একটা বলতে গিয়েও থামলো । রৌদ্রের গলাটা উন্মুক্ত । ট্যাটু দেখা যাচ্ছে । মেঘা ওষ্ঠ উল্টে বলে….

” এখানে বাইট করেছিলো কে ? সত্যিই বলবেন ! 

” তুমি ! 

” আমার মনে নেই কেনো ? 

” ছোট ছিলে তখন । বাইট করার জন্য রেগে গিয়ে থাপ্পড় মেরেছিলাম । তারপর জ্ঞান হারিয়েছিলে । তাই মনে নেই হয়তো । 

” অনেক গুলো মেরেছেন আমায় ! দূরে যান….

” মারার শাস্তি হিসেবে বহুদিন দূরে ছিলাম । এবার একটু আদরের জন্য কাছে আসি ? শাস্তির পর শান্তি প্রয়োজন । প্লিজ ! 

রৌদ্র ফিসফিসিয়ে বলে । মেঘা ঠেলে দেয় ওকে । বাহুর নিকট মুখ লুকিয়ে বলে….

” অসভ্য লোক , সবসময় বাজে কথা । 

” সভ্য মেয়ে , ভালোবাসি তো । এমন করো কেনো ? 

” বাইট করেছিলাম , কি ভেবে ট্যাটু করিয়েছেন ? 

” জানি না । 

” আমার জায়গায় যদি সেদিন অন্য কোনো মেয়ে থাকতো , তাহলে তাকেও এভাবে ভালোবাসতেন ? ওর কামড়ের দাগ এভাবে ট্যাটু করে গলায় বসিয়ে নিতেন ? 

” উহু , তোমার জায়গায় অন্য কেউ থাকতো না । কারন তোমার জায়গা শুধু তোমার । 

” বাচ্চাটা কে ? 

আকস্মিক প্রশ্ন ! 

” কোন বাচ্চা ? 

মেঘা মাথা তুললো । চিকচিক করছে দুচোখের কার্নিশ । নাক টেনে কাঁদো কাঁদো হয়ে বললো….

” আমাকে একটা সত্যি কথা বলবেন রাইনো মুখো ? আপনি বিদেশে গিয়ে বিয়ে করেছেন ? বাচ্চা আছে আপনার , তাই না ? 

রৌদ্র ভড়কায় । মুখশ্রীতে ভয়ের আঁধার নামে । ডিম লাইটের আলোয় বোঝা যায় না অতটা । তবে ভয় পেয়েছে এমন প্রশ্নে । গলা ভিজিয়ে নিজেকে স্বাভাবিক রেখে বললো…..

” কি বলছো এসব ? 

” ঠিক বলছি , আপনি একদিন বলেছিলেন , বাচ্চা জন্ম দিয়ে বাচ্চা সামলানো শিখেছেন আপনি । আমি একদিন আপনার ফোনে বাচ্চার ছবিও দেখেছিলাম । কল স্ক্রিনে দেখেছি । আপনাকে কেউ ফোন করে । তখন আপনি লুকিয়ে লুকিয়ে হেসে হেসে কথা বলেন । সব দেখেছি আমি । 

রৌদ্র হাঁফ ছাড়ল । 

” পাগল , কি না কি ভাবো । আমি তো সেদিন মজা করে বলেছি । আর ফোন আসে টুকটাক , তখন আলাদা করে একটু কথা বলি । তেমন কিছু নয় । আমার জীবনে শুধু আমার ইভারার স্থান । আর কেউ নেই । আর না কোনোদিন আসবে । 

,,,,,,,,,

শুক্রবার ছিলো আজ । ভার্সিটি না থাকায় দুপুরের দিকে শপিংয়ে বেরিছিলো সবাই । চারদিন পর ইভেন্ট । সবার শপিং শেষ আজকেই । তুলকালাম শপিং করে নিয়ে ফিরে আসতে আসতে সন্ধ্যা । এসেই ফ্রেশ হয়েছে সকলে । যার যার শপিং , তার তার ঘরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে । শপিংয়ে সবাই গেলেও মেঘা যায় নি । মেয়েটা ভীষণ উদগ্রীব ছিলো যাওয়ার জন্য । কিন্তু তোফায়েল কাবির যেতে দেন নি । 

এখন একবিংশী মনমরা হয়ে ড্রইং রুমে বসে আছে পায়ে পা তুলে । হাতে এক বাটি নুডলস্ । খাচ্ছে আনমনে । মনটা খারাপ ভীষণ । 

শপিংয়ের কথা জানতো না রৌদ্র । 

সে ছিলো না বাড়িতে । ফিরলো সাতটার দিকে । মেঘা কে থমথমে মুখে এক কোণে বসে থাকতে দেখে চোখ সরু করে । আগে কিছু না বলে ফ্রেশ হয়ে আসে । নামতে নামতে হাঁক ছাড়ে…

” মম , এক কাপ কফি দাও । 

রৌদ্র মেঘার পাশে গিয়ে বসলো । খুব কাছ ঘেঁষে বসলো । খোপা করা চুলে রমনী কে দেখতে চায় না সে । তাই খোঁপার কাঁটা টেনে খুলে নিলো । চুল ঝাঁপিয়ে পড়তেই হাসলো ঠোঁট ঠেলে । শান্ত আবেশিত দৃষ্টিতে চেয়ে ক’গাছি কুন্তল টেনে ঘ্রাণ নিলো । 

ধীরে জানতে চাইলো কি হয়েছে । মেঘা নেতিবাচক মাথা নাড়ায় । অর্থাৎ কিছু হয় নি । এটা মেয়েদের এক স্বভাব,, কিছু হলেও , সহজে বলতে নারাজ । রুবিনা কাবির কফি নিয়ে আসেন । ততক্ষণে ছেলের গলা পেয়ে তোফায়েল কাবির নিচে নেমেছেন । 

চুপচাপ সোফায় বসে বাসি খবরের কাগজ ধরলেন চোখের সামনে । তাকে দেখেই রৌদ্রের থেকে দূরত্ব বাড়ায় মেঘা । 

আর বাদ বাকি কেউ নেই । রৌদ্র ভরাট কন্ঠে বললো….

” মম , কি হয়েছে বলতো ? বাকিরা কোথায় ? থমথমে কেনো বাড়ি ? ইভারার কি হয়েছে ? কথা বলছে না কেনো ? 

রুবিনা কাবির জোরে শ্বাস ফেললেন….

” সবাই ক্লান্ত, শপিংয়ে গেছিলো । ঘরেই আছে । মেঘা যায় নি শপিংয়ে । তাই এখানে বসে আছে । 

” যায় নি কেনো ? সুইটহার্ট , শপিংয়ে যাও নি ? আমাকে মিস করছিলে ? 

ঠোঁট কাটা কথা ছেলের । কটমট করে স্বামীর দিকে তাকালেন রুবিনা কাবির । তোফায়েল কাবির খবরের কাগজে মুখ ঢেকে নেন । মেঘা রেগে তাকাতেই সিরায়াস হয় রৌদ্র….

” কি হয়েছে বলো ? 

” সামনে তো শিশিরের বউভাত । ওর উপরই ফোকাস হবে বেশি । ওকে অনেক গুলো গহনা কিনে দেওয়া হয়েছে আজ । ওর শপিং একটু বেশিই ছিলো ।

শাড়ি , কাপড় কিনেছে অনেক গুলো । আমাদের সবার জন্য ও কিনেছে । কিন্তু মেঘার জন্য কেনা হয় নি কিছু । মেঘা তো সহজে কিছু পছন্দ করে না । 

আর আমাদের এসব কিনতে কিনতেই দেরি হয়ে গেছে । তাই আলাদা করে মেঘার জন্য কিছু কেনা হয় নি । এতে মেঘার মন খারাপ হয়েছে একটু । এমনিতেও ও তো আমাদের টাকায় চলে না । শপিংয়ে যায় নি , তাই আগ বাড়িয়ে ওর জন্য কিছুই কিনিনি । 

বলতে বলতে একপাশে বসলেন রুবিনা কাবির , আরো বললেন ….

” মেঘা , আমি আদ্র কে বলেছি, কাল ও তোকে শপিংয়ে নিয়ে যাবে । তখন পছন্দ মতো কিছু একটা কিনে নিস । টুকটাক জুয়েলারি ও নিস , কেমন ! 

মেঘা আশ্চর্য বনে গেলো এমন পরপর মিথ্যে বলায় । মার্কেট থেকে মেঘার জন্য ও ড্রেস নিয়ে আসা হয়েছে । সে তো মন খারাপ করে বসে আছে , কারন ওকে শপিংয়ে যেতে দেওয়া হয় নি তাই । এখন রুবিনা কাবিরের এসব কথার অর্থ বুঝলো না সে । মুখ ফাঁক করে তাকালো । মুখের উপর কথার ভুল ধরতে পারলো না ।

এদিকে চোয়াল খিচে আসে রৌদ্রের । সত্য মিথ্যার পার্থক্য না বুঝেই বিভৎস রেগে গেলো সে । সবার সবকিছু হয়েছে , অথচ মেঘার জন্য কিছুই নেওয়া হয় নি ? গ্রাহ্যই করা হয় নি তার বউকে ! 

রাগে ফেটে পড়লো তার ক্ষুব্ধ মস্তিষ্ক ‌। কফির মগ ছুঁয়েও দেখলো না । গজগজ করে পকেট থেকে ফোন বের করলো সে । কড়া কন্ঠে জানতে চাইলো…..

” ইভারা , কি কি প্রয়োজন আছে তোর ? 

চটপটে উত্তর করলেন রুবিনা কাবির…..

” ঐ কয়েকটা ড্রেস , শাড়ি , আর টুকটাক ম্যাচিং জুয়েলারি । 

রৌদ্র কেবলই শুনেছে ,, আর কথা বাড়ায় নি । মনযোগ দিয়েছে ফোনে । কিছু একটা করলো বোধহয় । 

মিনিট ত্রিশেক পেরোতেই সদরে কড়া পড়ে । এতক্ষণ ওভাবেই চোয়াল খিচে ঠায় বসে ছিলো সে । সাথে মেঘা কে বসিয়ে রেখেছে হাত চেপে ধরে । কড়া পড়তেই সে নিজে গিয়ে দরজা খুলে দিলো । দরজার বাইরে জন তিনেক যুবক । সকলের হাতেই ব্যাগ অগনিত । রৌদ্র কে দেখে মাথা নোয়ালো তারা । ইশারা করতেই ভেতরে এসে একে একে সব ব্যাগগুলো সোফার উপর রেখে বিনা বাক্যে একেবারে বিদায় নিলো তারা । রুবিনা কাবির কিচেনে ঢুকেছিলেন , হাত মুছতে মুছতে বেরোলেন তিনি । 

” এসব কি রৌদ্র ? 

রৌদ্র উত্তর করে না । শক্ত চোয়াল তার । ব্যাগ গুলো নিজে দেখে নিলো সে । অতঃপর একেকটা করে খুলতে লাগলো । প্রথম সাতটা ব্যাগে ড্রেস । সবগুলো ঝিকঝিক করছে পুরো । রৌদ্র মেঘা কে টেনে দাঁড় করায় । প্রত্যেক টা ড্রেস ওর গায়ে ধরে দেখে । ঝলমলে সব ভারী কাজের গাউন । ভিন্ন ভিন্ন রংয়ের । 

আর বাকি চারটেতে বোধহয় শাড়ি । মেঘা কিংকর্তব্য বিমূঢ় । এসব কি হচ্ছে ? তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে ওর ! চক্কর দিচ্ছে মাথা । 

আরো তিনটে বড় বড় ব্যাগ আছে । ড্রেস রেখে সেগুলো উপুড় করে রৌদ্র । কতগুলো জুয়েলারি বক্স হুবড়ি খেয়ে পড়ে সোফায় । রুবিনা কাবির আঁতকে স্বামীর দিকে তাকান । তৎক্ষণাৎ ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসেন ভদ্রলোক । চোরা চোখে দেখছেন সবটা । 

শাহিনা কাবির এগিয়ে আসতে আসতে অবাক হয়ে বললেন…..

” এসব কার জন্য ? 

” ইভারার জন্য ।

রৌদ্রের অকপট উত্তর । মেঘা বিষ্ময়ে শুল্ক ঢোক গেলে । শাহিনা কাবির আগ্রহ দমিয়ে রাখতে না পেরে একটা জুয়েলারি বক্স হাতে তুলে নিলেন । খুলতেই চোখ ছানাবড়া । রুবিনা কাবিরের দিকে তৎক্ষণাৎ তাকান তিনি । বেশ মোটা একটা নেকলেস । ঝিকঝিক করে জ্বলে উঠলো যেনো । সাদা চিকচিকে ডায়মন্ড পাথর গেঁথে রয়েছে একে অপরের সাথে ‌। শাহিনা কাবির আরো বক্স গুলোর দিকে তাকান । মোটে সাতটা বক্স । বাকি গুলো বাইরে থেকে দেখেই হতবাক হয়ে সন্দিহান বলেন….

” এসব মেঘার জন্য ? 

রৌদ্র উত্তর করলো না । বিরক্তিতে ভাঁজ কপালে । সে টান মেরে জুয়েলারি বক্স টা একপ্রকার ছিনিয়ে নেয় তার হাত থেকে । বাকি গুলো দেখতে দেয় না আর । ড্রেস গুলো সহ প্রত্যেক টা জিনিস একহাতে সামলে অন্য হাতে মেঘার হাত শক্ত করে চেপে ধরলো । পূরু কন্ঠে বললো….

” রুমে চল । 

মেয়েটাকে টেনে সিঁড়ি ডিঙ্গিয়ে উঠতে উঠতে দ্বিতীয় বার হুংকার ছাড়লো…..

” আজকের পর আমার স্ত্রীর জন্য এক পয়সাও খরচ করবে না এ বাড়ির কেউ । ভুল করে করলেও তার হিসেব চাই আমার । এক পয়সা খরচ হলে তাকে দু পয়সা ফিরিয়ে দেওয়ার দায়িত্বও আমার । আমার স্ত্রীর সব ভরণপোষণ আমার । একটা সুতোও বাড়তি কেউ খরচ করবে না তার নামে । 

বাজ ফেলে বেপরোয়া ছেলে উপরে উঠে গেছে । 

রুবিনা কাবির থমকে গেছেন পুরো । মুখ হা হয়ে এসেছে তার । তোফায়েল কাবিরের ঠোঁটে বাঁকা হাসি । ভদ্রমহিলা মহিলা বিষ্ময়ে জানতে চাইলেন…..

” রৌদ্র কি করে ? আপনি জানেন ? বলুন না ! এতো সবের টাকা কোথা থেকে আসে ওর কাছে ? 

তোফায়েল কাবির কেবলই হাসলেন । 

,,,,,,, 

মেঘা কে টেনে নিজের রুমে নিয়ে গেছে রৌদ্র । মেঘা এখনো হতবিহ্বল । রৌদ্র ঠাস করে দরজা লাগাতেই ঘোর কাটলো । চমকালো একবিংশী । এখনো চোয়াল শক্ত রৌদ্রের । চোখ রক্তিম । যেনো রেগে আছে সাংঘাতিক । মেঘা ভয়ে ভয়ে শুল্ক ঢোক গেলে । মিনমিনে গলায় বলে…..

” এসব কি করলেন আপনি ? 

” চুপ , কথা বলবি না ! ড্রেস, জুয়েলারি , সব আলমারিতে তুলে রাখ । 

ধমক তার কন্ঠে । মেঘা মুখ কালো করে । রৌদ্র তাকালো না ওর দিকে । ধপ করে বসলো সোফায় । চোখ বুজে ডান হাতে ললাটের একধারে স্লাইড করতে লাগলো । 

মেঘা নীরবে পরখ করে কিছুক্ষণ । গুটি গুটি পায়ে রৌদ্রের পাশে গিয়ে বসে । লোকটার বাহু জড়িয়ে ধরে হুট করে । অকস্মাৎ ভড়কে তাকায় রৌদ্র । মেঘা হাসি হাসি মুখে মিষ্টি কন্ঠে বলে….

” রেগে গেছেন ? রাগলে আপনাকে পুরো রাইনো মুখো লাগে ! 

বলেই ফিক করে হেসে উঠলো । তা দেখে চোখ সরু করে রৌদ্র । মেঘা আবার বলে…..

” মা আপনাকে মিথ্যে বলেছে । আমার জন্যেও শপিং করা হয়েছে । কিন্তু বাবা যেতে দেয় নি আমায় ‌। তাই একটু মন খারাপ ছিলো ‌। 

” মম মিথ্যে বলবে কেনো ? 

রৌদ্রের শান্ত প্রশ্ন । 

” আমি কি জানি । তবে আমার জন্যেও শপিং হয়েছে । সত্যিই বলছি । আপনি বেকার বেকার এসব করলেন । টাকা কোথায় পেয়েছেন ? জুয়েলারি , এসব ইমিটেশন ? 

” উহু , ডায়মন্ড ! 

মেঘা বিশ্বাস করলো না । 

” ইমিটেশন হলেই চলবে । বেশ সুন্দর ।

” সত্যিই ডায়মন্ড ! 

এ বেলায় চোখ বড় করলো মেঘা । বাহু ছেড়ে বললো সন্দিহান হয়ে….

” রাইনো মুখো , এসব ডায়মন্ড ? 

” হু । আলমারিতে তুলে রাখো । 

” আগে বলুন এতো সবের টাকা কোথায় পেয়েছেন ? কি করেন আপনি ? 

” আগে তুলে রেখে এসো , তারপর বলছি । 

” আপনার আলমারিতে ? 

” হু । রেখে এসো । 

মেঘা তড়িঘড়ি করে এলোমেলো অবস্থাতেই সব ড্রেস গুটলি পাকিয়ে আলমারির ভেতর ঠেসে ঢোকালো । একেই পুরো আলমারি জুড়ে রৌদ্রের কাপড় এলোমেলো । জুয়েলারি বক্স গুলো রাখবে কোথায় ? কাবাডের ডানদিকে দুটো ড্রয়ার । রমনী বিনা দ্বিধায় উপরের ড্রয়ার খোলে । ভেতরের দৃশ্য দেখা মাত্রই চোখ জোড়া ছলকে ওঠে তার । বড় বড় হয়ে আসে দৃষ্টি যুগল । 

হা বনে যায় সে । অগত্যা চকিতে ঘাড় ঘুরিয়ে রৌদ্রের দিকে তাকায় । যুবকের মন নেই এদিকে । চোখের সামনে হাত উঠিয়ে বুজে রেখেছে দুচোখ । মেঘা হতভম্ব বনে গেলো ড্রায়ারের জিনিস গুলো দেখে । 

🛑 গেইস করুন কি হতে পারে । আর দ্বিতীয়ত বলে রাখি , সামনে ধামাকা হতে চলেছে । তৈরি থাকুন🥱। যে রেসপন্স করবে না , তাকে উগান্ডা পাঠামু । টিকিট কাটতে যাচ্ছি🚶🏻‍♀️ ।🛑

#চলবে……….

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply