Golpo romantic golpo রাগে অনুরাগে

রাগে অনুরাগে পর্ব ৬০


#রাগে_অনুরাগে

#পর্ব_৬০(ভালোবাসা)🌹

#সুহাসিনি_ফাতেহা

ফারাজ তিতলিকে পাঁজা’কোলে তুলে ধীরেসুস্থে ওয়াশরুম থেকে বের হলো। গোসল শেষে দুজনের শরীর ভিজে একাকার। ফারাজের কোলে জড়সড় হয়ে লেপ্টে আছে তিতলি। সম্পর্ণ শরীর থরথর করে কাঁপছে মেয়েটার। জ্বালা করছে। হাঁসফাস করছে। ছটফট করছে। বড্ড অশান্ত সে। যন্ত্রণায় পেট গুলিয়ে আসছে। দীর্ঘ অন্তর*ঙ্গতায় তার দুর্বল শরীর পুরোপুরি জ্ঞান হারাবার পথে। ক্রমশ নিথর হয়ে আসছে তার ছোট্ট দেহখানা। সে মুহূর্তে ফারাজ অস্থির কন্ঠে আওড়ায়—-“

“একদম জ্ঞান হারানোর ভয় দেখাবেনা। আর একটু সহ্য করো। বুকে তুলে নেবো।”

ফারাজ সময় নষ্ট করলো না। নিরুদ্বেগ ভঙ্গিতে তিতলি সমেত বিছানার দিকে এগালো। বিছানার সামনে এসে দাঁড়িয়ে পড়ল। বিছানায় শুবার মতো অবস্থাতে নেই। বিছানায় চাদর নেই। বালিশ ছড়িয়ে ছিটিয়ে মেঝেতে পড়ে আছে। সম্পূর্ণ বিছানার একটা নাজেহাল অবস্থা। যেন কোনো ভূমিকম্প এসে সবকিছু উলটপালট করে দিয়েছে।

ফারাজ ঘাড় ঘুরিয়ে সোফার দিকে তাকায়। কিছু সময়ের জন্য তিতলিকে আনায়েসে সোফায় রাখতে পারবে। ফারাজ এগিয়ে এসে আলগোছে তিতলিকে সোফায় শুইয়ে দিলো। সময় নেয়নি ফারাজ। ল্যাগেজ খুলে দ্রুত নিজেদের জামাকাপড় বের করে নিল। তিতলির পাশে বসেই প্যান্ট পরল সে। তারপরই অতি যত্নসহকারে তিতলির ভেজা শরীর মুছে দিয়ে নিজের একটা শার্ট পরিয়ে দিয়েছে। ফারাজের শার্টটা তিতলির পরনে প্রচুর ঢিলে। হাটু অবধি নেমেছে।

ফারাজ বিছানায় নতুন চাদর বিছিয়ে দিয়েছে। ইতোমধ্যে তিতলিকে তুলে বিছানায় শুইয়ে দিলো। তারপর তিতলির মাথার পাশে এসে বিছানায় পা ওঠাল। তিতলির মাথা নিজের দু’উরুর উপর নিলো। কপালে হাত ছুঁয়েছে। ভেজা চুল মেলে দিয়েছে। মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়েছে। তিতলির এক হাত আলতো করে ধরে রাখল। সেমুহূর্তে সহসাই তিতলির দুর্বল দেহ হালকা কেঁপে উঠল। নিজের হুশে নেই মেয়েটা। চোখ বন্ধের মাঝেই তার কম্পিত হাত নড়ে। দুর্বল হাতে ফারাজের হাত শক্ত করে ধরে রাখে মেয়েটা। ধীরলয়ে পুরুষালি হাতটা টেনে নিয়ে নিজের তুলতুলে নরম গালে চেপে রাখল। তিতলির বন্ধ চোখের কোণ বেয়ে পানি গড়িয়ে ফারাজের হাতে পরে। ফারাজ হাতটা একটুও সরায়নি। খানিকটা ঝুঁকে এসে তিতলির চোখের পানিগুলো চুমুর দ্বারা চুষে নিলো। ফারাজের চুমুতে তিতলির ঠোঁট নড়ে উঠে। যেমন কিছু বলতে চায় সে। দুর্বলতায় তার কথার আওয়াজ বের হয়না। ফারাজ সেটা লক্ষ্য করে তিতলির মুখের কাছে কান পেতে দেয়। অস্পষ্ট ব্যাথাতুর সুরে ভীষণ কষ্টে দুটো শব্দ বেরিয়ে আসে তিতলির ঠোঁট গলিয়ে,

“আ…আপনি….আপনি…খু…”

অনুশোচনায় ভুগছে গম্ভীর মুখো মানব। তার হ্যাজেল রঙা চোখদুটো বড্ড অসহায় দেখাচ্ছে। মায়াবিনীর বিবর্ণ মুখের পানে স্থির হয়ে তাকিয়ে থাকে খানিকক্ষণ। তারপর নিজ অজান্তেই বলে উঠলো,

“হু! আমি…আমি খুব খারাপ! “

কথাটা বলে ফারাজ তিতলির মুখ নিজের দু’হাতের আঁজলায় নেয়। আদুরে চুমুতে ভরিয়ে দিলো তিতলির ঘুমন্ত মুখশ্রী। মন মস্তিষ্কে কঠিন ঝড় বইছে তার। বুকের ভেতর জমাট বেধে আছে দুর্বোধ্য অস্থিরতা। হৃদয়টা বড্ড অবসন্নতায় পুড়ছে। ফারাজ নিদারুণ সুরে ডাকল,

“জান……!”

“অনেক..অনেক বেশি খারাপ লাগছে?”

“আমার কথা শুনতে পাচ্ছো? চোখ মেলে তাকাও? আমি আছি তো দেখো।”

যুবকের ওমন অসহায় কন্ঠে বলা কথাগুলো আদৌ দুর্বল তিতলির কান অবধি পৌঁছায় কিনা কে-জানে। নিস্তব্ধ ঘর আর ঝুম বৃষ্টির আওয়াজে ফারাজের কথাগুলো হাওয়ায় মিলিয়ে গেল যেন। ফারাজ তিতলিকে নিজের বুকে টেনে নিলো। ফারাজের খোলা প্রসস্থ বুকে থুবড়ে লেপ্টে গেল তিতলি। ফারাজ আষ্ঠেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে একহাতে তিতলির মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়। অন্যহাত আলতো ভাবে তিতলির পিঠে রাখে। যদি একটু শান্তি পায় এতে। ব্যথা কমে তাতে কম কিসে? তিতলির পিঠে থাকা ফারাজের হাতের বাঁধন দৃঢ় হয়। আঁধার কক্ষে তার গলার স্বর বড়ো গভীর,

“ইউ্য হ্যাভ টু এনডিউর সো মাচ, পেইন এন্ড সাফারিং বিকজ অফ মি। দোষ আমার-ই! তোমার সংস্পর্শ পেলে মাথা ঠিক থাকেনা।”

ফারাজ থামেনি। গভীর দৃষ্টিতে তিতলির ক্লান্ত, বির্বণ, ঘুমন্ত মুখখানার পানে তাকিয়ে থাকে। আজ তার ভেতর বাইর দুটোই বড্ড নরম। গম্ভীর ফারাজ সচারচর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে পছন্দ করেনা। মনেমনে যা অনুভব করে সেটা নিজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখে। আর কখনো কখনো অতি অনুভূতিতে বলে ফেললেও অপর মানুষটাকে তা শোনার সুযোগ দেয়না। আজ তার অনেক কিছু বলতে ইচ্ছে করছে। নিজ অজান্তেই তার বাদামী ঠোঁটজোড়া অস্থির ভাবে বিড়বিড়ালো,

“তুমি কবে থেকে আমার এতটা আপন হয়ে গেলে প্রজাপতি। আমার নেশায় পরিনিত হয়েছো। তোমাকে ছাড়া কিছুই ভাবতে পারছিনা। পাগল করে ছেড়েছো আমায়।”

“অথচ তোমাকে বিয়ে করার মূল উদ্দেশ্যই ছিলো কি জানো? এমন একটা শাস্তি দেওয়া। যেমনটা ছিলো, তুমি দিনরাত এক করে আমার ভালোবাসা পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠবে। আমাকে কাছে পাওয়ার জন্য রোজ ব্যাকুল হয়ে পড়বে। কিন্তু কখনোই আমাকে কাছে পাবেনা। ভালোবাসা তো দূরের বিষয় ছিল। আর এখন আমি নিজেই তোমাকে কাছে চাই। আমার ভালোবাসায় তোমাকে রাঙিয়ে দিতে চাই। তোমার ব্যর্থতা, তুমি আমার ভালোবাসা! আমার আদরগুলো নিতে পারোনা।’

একটু থেমে কিছুক্ষণ পর খানিকটা শব্দ করেই ফারাজ আওড়ালো,

“কি সাংগাতিক মেয়ে তুমি। একজন স্টুডেন্ট হয়ে প্রফেসরের জন্য পাগলামি করা শুরু করেছিলে?আমি তোমাকে কখনোই পাত্তা দেইনি। তোমার এসব পাগলামি আমার কাছে বোকামি ছাড়া কিছুই মনে হয়নি। তবে আজকাল মনে হচ্ছে তুমি সঠিক কাজটাই করেছিলে।”

_____

ধীরেধীরে অন্ধকার ছেড়ে ভোরের মিষ্টি স্নিগ্ধ আলো ফুটতে শুরু করেছে। বাইরে পাখিদের কিচিরমিচির শোনা যাচ্ছে। জানালার পর্দা ভেদ করে আসছে হুড়হুড়ে মৃদু বাতাস। রাতের মুষরধারা বৃষ্টির প্রভাব এখনো কমেনি। আকাশে কালো মেঘের ভেলা এখনো। দেওয়াল ঘড়ির কাঁটায় ঘুরছে সাতটা একুশ মিনিট।

ভোর ছয়টার দিকে তিতলির গা কাঁপানো জ্বর এসেছিল। হঠাৎ তিতলির গা এতো গরম হতে দেখে ফারাজ জলপট্টি নিয়ে এসেছিল। তারপর জলপট্টি ভিজিয়ে তিতলির কপাল মুছে দিয়েছে এতক্ষণ। এতে জ্বর পুরোপুরি না কমলেও একটু হলেও কমেছে।

তবে ঘটনা এখানেই শেষ হয়নি। তিতলির পরনে ল্যাভান্ডার রঙা শার্টের নিচের দিকে অনেকগুলো রক্তের দাগ দেখা যাচ্ছে। ফারাজ রক্ত দেখে কয়েক সেকেন্ডের জন্য থমকে গেল। রাতে গোসল করার সময় বিছানার চাদর যেটা তিতলির শরীরে পেঁচিয়েছিল সেটাতেও অনেক রক্তের দাগ ছিলো।

বিষয়টা ফারাজ খুব সাধারণ ভাবেই নিয়েছিল রাতে। প্রথমবার হওয়ায় এমন হচ্ছে। তাছাড়া সাইন্সের টিচার হওয়ায় এসব মেয়েলী সমস্যার সবকিছু কমবেশ জানা তার। কিন্তু এখনো রক্ত বের হচ্ছে। এভাবে বের হতে থাকলে পরে সমস্যা হতে পারে। ফারাজ মনেমনে বললো,

“আমি তোমাকে নিয়ে আমি কোনো রিস্ক নিতে চাইনা।”

পরপর পাশ থেকে মোবাইলটা হাতে নিলো। আলভীর নাম্বারে কল দিলো। রিসিভ হলো সময় নিয়ে। ফারাজ গম্ভীর গলায় সোজাসাপটা বললো,

“এখানকার কোনো কোনো মহিলা গাইনি ডক্টর নিয়ে আয়।”

ওপাশ হতে আলভীর হামি দেওয়ার শব্দ। ঘুমঘুম কন্ঠে বললো,

“সাত সকালে ডাক্তার দিয়ে কি করবি?”

“তোকে কৈফিয়ত দিতে হবে?”

“আমাকে ডাক্তার আনতে বলছিস অথচ কৈফিয়ত দিতে পারবি না?

ফারাজ এবার দাঁতে দাঁত চেপে বললো,

“তোর সুন্নতে খাৎনা করাবো?”

আলভী বিছানা থেকে লাফ দিয়ে উঠে বসেছে। হাত সোজা নিজের স্পর্শকতার জায়গায় চলে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। বললো,

“নাউজুবিল্লাহ মিন জালেক! আমার মুসলমানি তো ছোটবেলায় হয়ে গেছে। এখন কি আমার টুনটুনিটা একেবারে কেটে ফেলে দেওয়ার চিন্তা করছিস নাকি? না ভাই সামনে আমার ভবিষ্যৎ পড়ে আছে। এখনও এক বাচ্চার বাপ হয়ছি মাত্র।”

“মেজাজ খারাপ করিস না। জাস্ট ১৫ মিনিট টাইম দিলাম তোকে। ডক্টর নিয়ে আয়।”

আলভী মনেমনে বললো,

“এ্যাহ আইছে নবাব সিরাজউদুল্লাহা।”

আলভী হঠাৎ ফোনের দিকে তাকাল। গিং গিং শব্দ করছে। সুমির কল। এক কলের ভেতরে আরেক কল। আলভীর কাছে এরা দুটাই বিপদ সংকেত। আলভী বললো,

“রাতে বউয়ের উপর ভূমিকম্প চালিয়ে এখন আমাকে ডাক্তার আনতে বলছিস? আমি পারবো না। আমার বউ ফোন দিছে। মাফ কর।”

ফারাজ এবার অধৈর্য হয়ে পড়ল। কিছু একটা ভেবে ঠোঁটের কোণ বাঁকালো। চিবিয়ে চিবিয়ে বললো,

“আমি কি করতে পারি সে ব্যাপারে তুই খুব ভালো করেই জানিস। যা বলছি তা কর, নয়তো তোর বউয়ের সাথে তোর ডিভোর্স করিয়ে আমি নিজে অন্য ছেলের সাথে বিয়ে দিয়ে দেবো। ভুলে যাস না তোদের বিয়েটা আমার সার্পোটে….”

ওপাশ থেকে আলভী ফারাজের কথার মাঝেই দুঃখিত গলায় বললো,

“ক্ষমা করবেন মহারাজ। এই তো যাচ্ছি, এক্ষুনি যাচ্ছি! কোন ডাক্তার আনতে বলছেন ভাই?”

ফারাজ বললো,

“ফিমেল গাইনোকোলজিস্ট।”

“ওকে ভাই!”

★

মুখে হালকা আলো পড়ায় ধীরেধীরে চোখ মেলতে চেষ্টা করছে তিতলি। কিন্তু পারছেনা। মাথাটা বড্ড ভার ভার লাগছে। অসহ্য লাগছে সব। সব ব্যথা,ব্যথা লাগছে। টানটান লাগছে। শক্তি পাচ্ছেনা! কেন! অনেকক্ষণ পর চোখ মেলে তাকাতে সফল হয়েছে তিতলি। চোখ খুলতেই সবকিছু বুঝার চেষ্টা করছে। নিভুনিভু চোখে দেখল ফারাজের বুকের উপর সে। ফারাজ তার দিকে তাকিয়ে আছে উদ্বিগ্ন হয়ে। তিতলির মস্তিষ্ক কাজ করা শুরু করেছে। গায়ে জ্বালা, ব্যথা, এবং জ্বর, থাকা স্বত্তেও হঠাৎ লজ্জায় হতভম্ব হয়ে পড়েছে তিতলি। মুহূর্তেই রাতের সব ঘটনা ধীরেধীরে মাথায় আসতে শুরু করল। তিতলি লজ্জার কাছে এসব ব্যথা, জ্বর, জ্বালাযন্ত্রণা সবকিছু হার মানবে। লাজুক মেয়েটা হঠাৎ করেই লজ্জায় দু’হাতের সাহায্য মুখ গুঁজানোর চেষ্টা করছে।

কয়েকঘন্টা অপেক্ষার পর ফারাজ একটু স্বস্তি অনুভব করল বোধহয়। বুক পিঞ্জরে লুকানো হৃদয়টা শান্তি শান্তি লাগছে তার। পরপর তিতলির এমন কান্ডে সে ভ্রু তুলে তাকায়। তিতলির কপালে টকাস করে একটা গভীর চুমু খেয়ে নির্লিপ্ত কন্ঠে শুধালো,

“ব্যাথা কমেছে জান?”

ফারাজের কথা শুনে তিতলি আঙুলের ফাঁক দিয়ে ফারাজকে দেখার চেষ্টা করছে। ফারাজও তাকিয়ে থাকায় দুজনের চোখাচোখি হলো। ফারাজের চোখের দৃষ্টি গম্ভীর। তিতলি আবার মুখ গুঁজাচ্ছে। ফারাজ তিতলির হাত মুখ থেকে সরিয়ে দিয়েছে। এদিকে তিতলি লজ্জায় মরে যাচ্ছে। ফারাজ তার সবকিছু দেখে নিয়েছিল রাতে। সব জায়গায় চুমু দিয়েছিল। হাত দিয়ে স্পর্শ করেছিল। ভাবতেই লজ্জায় শেষ মেয়েটা। হঠাৎ চোখে ভেসে উঠল ফারাজের নগ্ন শরীর। লোকটার কি একটুও লজ্জা লাগছেনা? ইশশ্ এতো এতো লজ্জায় পড়ে তিতলি একটু নড়াচড়া করে সরতে চাইলো। সরতে তো পারেনা উল্টো পচন্ড ব্যথা পায় বেচারি। শরীরে কোনো নড়চড়া সহ্য করছেনা। ভেতর বাইর কোনোটারই ব্যথা কমেনি। একটুও না। ব্যথাতুর শব্দ উচ্চারণ করে তিতলি আবার পড়ে গেল ফারাজের প্রসস্ত বুকে। বাচ্চাদের মতোই ফ্যাচফ্যাচিয়ে কেঁদে উঠে বললো,

“আমার…আমায় খুব জ্বলছে।”

তিতলির কথায় ফারাজ উদ্বিগ্ন হয়ে শুধালো,

“কোথায়… কোথায় জ্বলছে?”

তিতলির সব ব্যথা করছে জ্বলছে। সব বলতে সবকিছু। কোনটা রেখে কোনটার কথা বলবে সে। মিনমিনিয়ে নিচু,সুরে বললো,

“জানিনা।”

তিতলি না বললেও ফারাজ বুঝতে পারল বিষয়টি। তিতলি আর ফারাজের বুক থেকে উঠার চেষ্টা করছেনা। থুবড়ে লেপ্টে আছে। ফারাজের বুকে কান পেতে হৃদস্পন্দন শুনছে। তার ভীষণ ভালো লাগছে শুনতে। ব্যথা করছে! তিতলি সব ব্যথা চুপসে সহ্য করে নেবে, যদি ফারাজ তার পাশে থাকে। তার কাছে থাকে। তাকে ধরে রাখে। তার যত্ন করে। আদর করে। হঠাৎ নিজের দিকে খেয়াল হলো। তার গায়ে ফারাজের শার্ট। এই শার্ট তিতলির অনেক ভালো লাগে। ফারাজ যখন এই শার্টটা গায়ে দেয় তখন তিতলি নিজের লাজ লজ্জা সব ভুলে হা করে তাকিয়ে থাকে। সেই শার্ট এখন সে পড়েছে? ফারাজের শরীরের ঘ্রাণ লেগে আছে। কেমন শান্তি শান্তি অনুভব করছে মেয়েটা। সাথে লজ্জায় শেষ। দুর্বল গলায় জানতে চাইলো,

“আমাকে…আমাকে আপনি আপনার শার্ট পরিয়ে দিয়েছেন?”

ফারাজের সোজাসাপটা উত্তর,

“হুমম!”

তিতলি আবার একই সুরে জিজ্ঞেস করলো,

“প্লাজু পরিয়ে দিয়েছেন?”

ফারাজ নিচের ঠোঁট কামড়ে ধরল। আলগোছে ভিজালো জিভ। নিজ উদ্যেগেই তিতলিকে বুক থেকে টেনে নিলো নিজের উন্মুক্ত বাহুবন্ধনে। অতঃপর তিতলির কানের কাছে মুখ ঠেকিয়ে নিচু কন্ঠ শুধালো,

“তো কি মনে হয়? অন্য কেউ এসে তোমাকে পরিয়ে দিয়েছে? আমি বেঁচে থাকতে এমন কিছু হতে দেবো?”

লজ্জায় হতভম্ব তিতলির এবার খাটের নিচে ঢুকে যেতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু সে শুয়া থেকে বসার শক্তিও পাচ্ছেনা। দ্বিতীয়বার আর কিছু বলতে পারল না বেচারি। ফারাজের বাহুতেই চুপটি মেরে রইল। তিতলি হঠাৎ তার ছোট নাক ঘষে দিল ফারাজের উন্মুক্ত বাহুতে। লম্বা নিশ্বাস টানল। তিতলি দুর্বল সুরে বিড়বিড়িয়ে বললো,

“আপনার থেকে একটা মিষ্টি সুভাস আসছে। আমার খুব ভালো লাগে।”

“খিদে পেয়েছে নিশ্চয়ই!”

তিতলি চুপ হয়ে রইল। ফারাজ এবার তিতলিকে আলগোছে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে নাস্তার উদ্দেশ্য গেল। কিন্তু এর ভেতরেই ডক্টর এসেছে। ফারাজ নাস্তা রেডি করেছিল। আলভী ডাক দিছে গলা ছেড়ে,

“দরজা খোল। ডাক্তার নিয়ে এসেছি!”

ফারাজ নাস্তা রেখে রুমে গিয়ে তিতলির গলা পর্যন্ত পাতলা কম্বল দিয়ে ঢেকে দিলো। তারপর নিজের উদোম গায়ে শার্ট জড়িয়ে নিলো। তিতলি বলছে কেন করছে। ফারাজ উত্তর না দিয়ে দরজার দিকে এগিয়ে দরজা খোলে দিলো। ডক্টর মেহেরুনেসা দাঁড়িয়ে আছেন। হাতে বিভিন্ন যন্ত্রপাতির ব্যাগ। বয়স ৩১-৩১ হবে। চোখে চশমা। ফারাজ ডক্টরকে জায়গা করে দিয়ে আলভীর উদ্দেশ্য বললো,

“এবার তুই যা!”

আলভী বললো,

“আমি যাবো মানে? কাজ হয়ে গেছে তাই এখন আর আমাকে দরকার নাই?

“না! যা এবার।”

“ভাবির কি অবস্থা তা দেখব না?”

“না দেখবি না।”

“মনে হয় তোর বউকে আমি ভাগিয়ে নিয়ে যাবো আজব!”

কথাটা বলে আলভী চলে গেল নিজেনিজে বকবক করতে করতে। কাজ শেষ তাই তাকে আর লাগবেনা। এর শোধ কোনো না কোনো ভাবে সে নিবেই।

____

ডক্টর মেহেরুনেসা রুমে এসে চেয়ার টেনে বসেছেন বিছানার পাশে। তিতলিকে দেখে কয়েক মুহূর্ত থমকে রইলেন তিনি। এত সুন্দর আর মিষ্টি একটা মেয়ে। চেহারা জুড়ে অসম্ভব মায়া। কিন্তু এখন মেয়েটার চেহারা বড্ড বির্বণ আর ফ্যাকাশে দেখাচ্ছে। ঠোঁটগুলো দেখে তিনি কিছু বলার মতো ভাষা পেলেন না। যা বোঝার বুঝে গেলেন তিনি। ইশশরে কিভাবে ঠোঁটে জখম হয়েছে মেয়েটার। রক্ত জমাট বেধে গোলাপি নরম ঠোঁট ফোলে কলাগাছ। না জানি আরও কত কি হয়েছে। তিতলি হাত দিয়ে নিজের ঠোঁট ঢাকার চেষ্টা করছে। ফারাজ তার ঠোঁটে কামড় দিয়েছে এটা ডক্টরের এভাবে দেখার কি আছে? কিছু বলবে নাকি?

পাশে ফারাজ দাঁড়িয়ে। তিতলি তাকায় ফারাজের দিকে। ফারাজ চোখ রাঙায়। তিতলি নাকমুখ কুঁচকে রাখল। হুহ! এখন চোখ রাঙানো হচ্ছে? রাতে আমার জানপ্রান, সোনা কে ডাকল?

তিতলি এবার শোয়া থেকে একটু উঠে বসার চেষ্টা করে। তার কোমর শেষ। পা নড়ছেনা। এত ব্যথা কেন সবকিছু। সে কি আর উঠে দাঁড়াতে পারবে? ব্যথায় জর্জরিত হয়ে চোখমুখ খিঁচে ডক্টরকে হঠাৎ বলেই বসল,

“আমার কি কি সমস্যা হয়ছে দেখুন। আমি উঠে দাঁড়াতে পারছি না কেন?”

হতবিহ্বল ফারাজ তিতলির কথা শুনে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল চুপ করে। তারপর গম্ভীর গলায় ডক্টরের উদ্দেশ্য বললো,

“আমার ওয়াইফ যাতে বিকেলের মধ্যেই সুস্থ হয়ে যায় সে ব্যবস্থা করে দিন ডক্টর।”

ডক্টর মেহেরুনেসা মুচকি হেসে বললেন,

“তুমি শান্ত হও। আমি দেখছি বিষয়টা।”

ডক্টর মেহেরুনেসা তিতলিকে চেকআপ করালেন। সাধারত মহিলা গাইনি ডক্টররা তাদের সব জরুরী যন্ত্রপাতি সাথে নিয়ে আসেন ঔষুধ নিয়ে আসেন। তারা নরমাল ডেলিভারি ও করিয়ে থাকেন। তিনি তিতলির শরীর যন্ত্র দিয়ে পরিক্ষা নীরিক্ষা করে দেখলেন। মেয়েটার রক্তক্ষরণ হচ্ছে। পাজামায় উপরিভাগ রক্ত দিয়ে দাগ দাগ হয়ে আছে। তিনি বুঝে গেলেন ব্যাপারটা। বলতে লজ্জিত হচ্ছিলেন। একটা পুরুষ যে কিনা পাপ্ত বয়স্ক। কিভাবে যে বলবেন কথাটা।

“বিষয়টা কিভাবে বলব আসলে…”

ফারাজ ভয় পেয়ে গেল সঙ্গেসঙ্গে। তার গম্ভীর সুদর্শন মুখশ্রীতে বড্ড ভয়ের রেশ দেখা যাচ্ছে। তিতলি কিছু বুঝতে পারছেনা? ফারাজ তিতলির পাশে বসে তিতলির হাত ধরল। কেমন একটা দিশেহারা হয়ে গেলো ফারাজ। ডক্টরকে বললো,

“কি হয়েছে আমার ওয়াইফের?”

“তোমার ওয়াইফের….”

ডক্টর পরপর আবার বললেন,

“তোমার ওয়াইফের সাথে প্রথম বার সহবাস ছিলো এটা?”

ফারাজ সেটার উত্তরে কিছু বলল না। কিন্তু তিতলি লজ্জায় শেষ। ডক্টরও জেনে গেল। তাদের মধ্যে ইয়ে হয়েছে। তিতলিকে এখন কেউ জমিন ফাঁক করে ঢুকিয়ে দিলে তিতলি স্বেচ্ছায় ঢুকে যেত।

ডক্টর কিছু ঔষুধ দিলেন। জ্বরের ঔষুধ! ব্যাথার ওষুধ”,আরো কি কি ওষুধ সহ মলম দিলেন। তারপরও বাকিটা বলতে পারলেন না। তিনি একটা কাগজে ফটফট কিছু লেখা লিখলেন। তারপর ভাঁজ করে ফারাজের হাতে দিয়ে বললেন,

“এটা দেখো।”

তারপর তিনি উঠে দাঁড়ালেন। ফারাজ তার ওয়ালেট থেকে ছয় হাজার টাকা বের করে ডক্টরকে দিলো। ডক্টর অবাক হয়ে বললেন,

“আমার পিস আর ঔষুধের দাম তিন হাজার। এখানে ছয় হাজার কেন?” ফারাজ এড়িয়ে গিয়ে তিতলির বিষয় নিয়ে কথা বলতে বলতে ডক্টরকে এগিয়ে দিলো। ডক্টর যেতে যেতে মনেমনে বললেন,

“এমন দম্পত্তি আমি খুব কমই দেখেছি। মেয়েটা আসলেই খুব ভাগ্যবতী।”

______

তিতলি নাক ফুসছে। আজকে ফারাজ রুমে এলে কিছু একটা হবে। শুধু সে শুয়া থেকে বসতে পারছেনা। নয়তো এতক্ষণে উঠে যেত। ডক্টরকে এগিয়ে দিয়ে ফারাজ রুমে আসল। হাতের কাগজটা খুলবে খুলবে ভাব।

তক্ষুনি তিতলি দুর্বল গলার জোর বাড়াল। শরীরের সমস্ত শক্তি ব্যবহার করে বললো,

“খবরদার! এই কাগজে কি লেখা আছে আমি সব জানি। খুলবেন না।”

ফারাজের ভ্রুদ্বয়ের মাঝখানে সূক্ষ্ম ভাঁজ পড়েছে।ঠোঁট টিপে হাসি সংবরণ করলো সে। অসুস্থ হয়েও কথার তেজ কমেনি। যা নাজেহাল অবস্থা হয়েছে কয়দিন আর উঠে দাঁড়াতে পারবে কিনা সন্দেহ। ফারাজ আবার কাগজ টা খুলল। সেমুহূর্তে তিতলি আবার বললো,

“হাঁটতে পারিনা বলে আমার দুর্বলতার সুযোগ নিতে পারেন না আপনি। ভুলে যাবেন না এগুলো সব আপনার কারণেই হয়েছে।”

“আমি তোমার দুর্বলতার সুযোগ নিচ্ছি?”

“নিচ্ছেন। নয়তো আমি বলার পরও এ কাগজ খুলছেন কেন? ওই ডক্টর লাভ লেটার দিয়েছে আমি সব জানি। তাই খুশিতে তিন হাজার টাকা বাড়িয়ে দিয়েছেন। আবার এগিয়েও দিয়েছেন।”

তিতলির কথা শুনে ফারাজ বড়বড় কদম ফেলে বিছানার কাছে আসল। কাগজ টা নিয়ে তিতলির হাতে দিলো। তিতলি দেনামোনা করে প্রথমে খুলে দেখল। আবার পড়ল না। কাগজে গোটা গোটা স্পষ্ট অক্ষরে কিছু লেখা ছিল। নিশ্চয়ই ভালোবাসার কাহিনী লিখেছে,

“আপনাকে দেখে আমার হার্ট ব্লক হয়ে গেছে। নিশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। i love you।।

এসব লিখছে তিতলি সব জানে।

তিতলি না পড়েই পুনরায় কাগজটা ফারাজের হাতে দিয়ে বললো,

“আপনাকে লাভ লেটার দিছে। আমি পড়তে পারব না।”

ফারাজ এখনো কাগজে কি লিখেছে পড়েনি। পড়বে ভেবেছিল তখন তিতলির কথা শুনে আর পড়া হয়নি। ফারাজ তিতলিকে নিজের কাছে টেনে নিয়ে নিজের কোলের উপর বসাল। তারপর নরম গলায় বললো,

“তাহলে আমি পড়ে শোনাবো?”

উত্তরের ধার ধারলো না ফারাজ। কাগজের লেখাগুলো নিজের মতো পড়া শুরু করল,

“বিষয়টা নিয়ে চিন্তার কোনো কারণ নেই। প্রথমবার সহবাসে অতিরিক্ত ধকলে ভেতরের হাইমেন ছিঁড়ে গিয়েছে তোমার ওয়াইফের। তাই ব্লি*ডিং হচ্ছে। এটা গুরুতর কিছু না। কয়েকদিন পর এমনিতেই ঠিক হযে যাবে।”

“তোমার ওয়াইফের শরীর অতিরিক্ত দুর্বল। একটু রেস্টে রাখবে। আর…আর পরেরবার সহবাস করার সময় সাবধান থাকবে। নয়তো পরবর্তিতে এসব নিয়ে সমস্যা হতে পারে।”

তিতলি লাভ লেটারের কথা ভুলতে বসেছে প্রায়। ভয় ঢুকেছে মনে। কখনো হাইমেনের নামও শুনেনি সে। ভয়ে ভয়ে ফারাজের শার্ট খামছে ধরেছে। ফারাজ তিতলির চুলের,ভাঁজে একটা চুমু খেল ভয় পেতে দেখে। তিতলি অবুঝ ভঙ্গিতে বললো,

“আমার হাইমেন ছিড়ে গেছে। হাইমেন কী? আমি এখন বাঁচবো তো? “

ফারাজ কাগজটা ড্রেসিন টেবিলের উপর রাখল। উদ্দেশ্য নাস্তার। তিতলি আবারও জিজ্ঞেস করলো। ফারাজ এবার গম্ভীর হয়ে বললো,

“তোমার যেখানে এখন ব্লিডিং হচ্ছে? সেখানের ভেতরে হাইমেন থাকে!”

তিতলি নিশ্চুপ। ফারাজ বললো

“নাস্তা খাবে এখন। আমি নিয়ে আসছি।”

ফারাজ নাস্তা নিয়ে এসেছে। তিতলি তেমন একটা খেতে পারেনি। জ্বরে সব তিতা তিতা লাগছে। ফারাজ তাও ধমক দিয়ে একটু খাইয়েছে। নাস্তা খাওয়া শেষে ওষুধ নিয়ে বললো,

“ওষুধ থেকে হবে এখন।”

তিতলির ওষুধ খেতে ভালো লাগেনা। বমিবমি লাগে। কত সময় কত ওষুধ খাওয়ার নাম করে জানালা দিয়ে ফেলে দিয়েছে হিসেব নেই। প্রয়োজনে দুদিনের জায়গায় দশদিন অসুখ নিয়ে ঘুরেছে। তিতলি বললো,

“ওষুধ খেলে বমি আসবে।”

“রাতের ভেতর পেটে বাচ্চা চলে আসেনি নিশ্চয়ই!”

কথাটা বলে ফারাজ তিতলিকে ওষুধ খাইয়ে দিতে চাইলো। তিতলি মুখ বন্ধ করে রেখেছে। ফারাজ তাকে ওষুধ খাইয়ে ছাড়বেই। তিতলি বললো,

“আমি নিজে খেতে পারব।”

ফারাজ কথা না বাড়িয়ে চুপচাপ তিতলির হাতে ওষুধ দিলো। তিতলি ওষুধ হাতে নিয়ে হেলাম দিয়ে বসে আছে অনেক কষ্টে।বসে থাকতে পারছেনা। কোমরে প্রচুর ব্যথা। তার হাতের তালুতে গুনা গুনা তিনটা ওষুধ। এতগুলো সে কি করে খাবে। তিতলি ফারাজকে জিজ্ঞেস করলো,

” কোনটা কিসের!”

“একটা জ্বরের একটা ব্যথার।”

“আরেকটা কিসের?”

“খেতে বলছি!”

“খাচ্ছি তো।”

“আমি ওয়াশরুমে যাচ্ছি এসে যেন দেখি ওষুধ খেয়েছো।”

তিতলি পানির গ্লাস হাতে নিলো। ফারাজ তিতলি ওষুধ খাচ্ছে কিনা সেটা দেখে দেখে ওয়াশরুমের দিকে যাচ্ছে। ওয়াশরুমের দরজায় গিযে দাঁড়িয়ে দেখছে আবার খাচ্ছে কিনা। তিতলি একটা খেয়েছে। ফারাজ ওয়াশরুমের দরজায় দাঁড়িয়ে আবার বললো,

“বাকি গুলো খাও।”

‘খাচ্ছি।”

তিতলি একটা একটা করে দুইটা খেয়েছে। তিতলি খাচ্ছে দেখে ফারাজ নিশ্চিতে ওয়াশরুমে গেল। অন্যটা মুখের সামনে নিতেই এবার বোধহয় বমি করেই দিবে তিতলি। শেষের ঔষুধটা এত গন্ধ! আবার অন্য দুটো থেকে অনেক বড়। তিতলি ওয়াক করে উঠল। হাতে নিয়ে বসে থাকল। না খেলে কি হবে। ফারাজ তো জানবে সে সবগুলো খেয়েছে। তিতলি দর্বল হাতে ওষুধটা খাটের নিচে ফেলে দিল।

#চলবে।

যদি পরবর্তী পর্ব চাও তাহলে এই পর্বে 3.k রিয়েক্ট আর ৫০০ কমেন্ট করে দিও পাখিরা। রাতে দিতে পারিনি আমাদের এলাকায় অনেক ঝড় বজ্রপাত হচ্ছে কারেন্ট ছিলোনা তাই ওয়াইফাই না থাকায় ফেসবুকে ঢুকতে পারিনি।

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply