১২ বছর বয়সী একটা বাচ্চা মেয়ে ফার্মেসিতে এসেছে প্রেগনেন্সি কিট কিনতে। ভয়ে তার জুবুথুবু অবস্থা! ঠোঁট বারবার ভিজিয়ে নিচ্ছে শুষ্ক জিভ দিয়ে। পাছে তাকে কেউ দেখে ফেলে!
ফার্মেসিতে আসার আগে স্কুলের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বান্ধবীর কাছে বোরখাটা ধার চেয়েছিল নিয়তি। কিন্তু নিয়তির বান্ধবী মুনা তার বোরখা ধার দিতে নারাজ। সে শুধুমাত্র এই তথ্যটুকু দিয়েই নিয়তিকে সাহায্য করেছে যে, তার লক্ষণগুলো একজন অন্তসত্ত্বা নারীর সাথে মিলে যায়। মুনার বড় বোন যখন অন্তসত্ত্বা হয়েছিলেন তখন সামান্য পেট ব্যাথা, অহেতুক বমি বমি ভাব, খাবারে অরুচি এসবের মাঝ দিয়েই গিয়েছেন।
নিয়তি ঢোক গিলে কাঁপা কণ্ঠে বলল,
-আংকেল একটা মানুষ প্রেগন্যান্ট নাকি বোঝার জিনিসটা আছে আছে?
ফার্মেসির মালিক আলাউদ্দিন আপাদমস্তক দেখল নিয়তি কে। খুব বেশি হলে ক্লাস সিক্সে পড়ে এই মেয়ে! প্রেগন্যান্সি কিট দিয়ে করবেটা কি?
অবশ্য যে যুগ পড়েছে বাচ্চা বাচ্চা ছেলে-মেয়েরা এসে কন*ডম চেয়ে বসে! আমাদের এই সমাজটা কোন দিকে যাচ্ছে কে জানে!
আলাউদ্দিন সন্তপর্ণে একদলা থুথু ফেলল ময়লার বালতিতে। এরপর চোখমুখ কুঁচকে উত্তর দিল,
-আছে।
নিয়তি কিছুক্ষণ চুপ থেকে মনে কিছুটা সাহস যুগিয়ে বলল,
-একটা দেন।
আলাউদ্দিন দোকানের কর্মচারীর দিকে ইশারা করল। কর্মচারী মুচকি হেসে প্রেগনেন্সি কিট আনতে গেল। এতটুকু সময় আলাউদ্দিনের বিষদৃষ্টি নিবদ্ধ রইল নিয়তির ওপর।
কর্মচারী কিটটি কাগজে পেচিয়ে নিয়তির হাতে দিল। নিয়তি সেটি হাতে নিয়ে উসখুস করতে লাগল। কোনোমতে বিল মিটিয়ে একছুটে সেই এলাকা থেকে বেরিয়ে এলো। কিটটা স্কুল ব্যাগে ভরে একটা রিকশা নিয়ে বাড়ি চলে এলো।
নিয়তি যখন তাদের দোতলা বাড়ির লোহার গেটটা ঠেলে ভেতরে ঢুকল। তার বুকটা তখন দুরুদুরু করে কাঁপছে। স্কুল ব্যাগের চেইনটা টেনে সে পুনরায় নিশ্চিত হয়ে নিল, ভেতরের কাগজের প্যাকেটটা দেখা যাচ্ছে কি না!
হৃদপিণ্ডটা ভয়ে যেন থমকে আছে।
গেটের ভেতরে ঢুকতেই নিয়তির শ্রবণগোচর হল ড্রইং রুমের শোরগোল। দুটো বড় বড় সস্তা রেক্সিনের সুটকেস নামানো হচ্ছে সিড়ি ভেঙ্গে।
ড্রয়িংরুমের দরজা গলে সামান্য বেরিয়ে এলেন নিয়তির মায়ের চাচাতো ভাই। যাকে নিয়তি ‘শফিক মামা’ বলে ডাকে। পেছনে শফিকের বউ রিনা মাথার অর্ধেকটা ঘোমটা টেনে দাঁড়িয়ে আছে। মহিলা বিশ্রি ভাবে পান চিবায়। কেমন চপচপ শব্দ বেরোয়! তারা চলে যাচ্ছে।
এ দৃশ্য দেখে নিয়তি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
গত দেড়টা মাস এই মানুষ দুজনের উপস্থিতি নিয়তির চেনা ঘরটাকে একদম বদলে দিয়েছিল। নিজের বাড়িতে থেকেও নরকযন্ত্রণা ভোগ করেছে মেয়েটা!
আজ তারা চলে যাচ্ছে এটা ভেবে নিয়তির বুকের ওপর থেকে মস্ত বড় একটা পাথর নেমে গেলো।
কিন্তু ব্যাগের ভেতর লুকিয়ে রাখা ওই ছোট্ট প্লাস্টিকের জিনিসটার অস্তিত্ব তার স্বস্তিটুকু কেড়ে নিয়েছে। মুক্তি কই? নিয়তি তো নিজের ভেতরেই যন্ত্রণায় জ্বলে পুড়ে শেষ হয়ে যাচ্ছে! এক চরম বন্দিদশা বয়ে বেড়াচ্ছে!
নিয়তি ড্রইং রুমে প্রবেশ করতেই তার মা রেহানা বেগম রান্নাঘরের দিক থেকে আঁচলে হাত মুছতে মুছতে বেরিয়ে এলেন। মেয়েকে দেখেই তার কপাল কুঁচকে গেল।
ঘরের দেয়ালঘড়িতে তখন বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যার আবছা অন্ধকার নামতে শুরু করেছে। রেহানা বেগম ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বললেন,
-আজ কোচিং থেকে ফিরতে এত দেরি হলো কেন রে, নিয়তি? ছুটি তো হয়েছে সেই কখন! মাগরিবের আজান পড়তে চলল! সাহস বেশি বেড়ে গেছে বোধহয়?
মায়ের চড়া গলায় নিয়তি আরও বেশি আড়ষ্ট হয়ে গেল। সে কোনোদিন বানিয়ে মিথ্যা বলতে পারে না। মিথ্যা বলার চেষ্টা করলেই তার ঠোঁট তিরতির করে কাঁপতে থাকে। চোখ দিয়ে ঝরঝর করে জল গড়িয়ে পড়ে।
কাজেই মায়ের তীক্ষ্ণ দৃষ্টির বিপরীতে নিয়তি কেবলমাত্র মাথা নিচু করে রইল। টু শব্দটিও তার গলা দিয়ে বেরুলো না। নিয়তি বোবার মতো দাঁড়িয়ে নিজের কামিজের খুঁট আঙুলে সূক্ষ্মভাবে জড়াতে লাগল।
রেহানা বেগম মেয়ের এহেন নীরবতায় আরও বিরক্ত হল। যেই না আবার ধমক দিতে যাবেন, ঠিক তখনই শফিক ড্রয়িংরুমের পর্দা সরিয়ে মুখে এক চিলতে হাসি ঝুলিয়ে এগিয়ে এলেন।
রেহানাকে থামিয়ে দিয়ে অত্যন্ত দরদী গলায় বললেন,
-আহা, থাক না আপা! বাচ্চা মানুষটারে এত বকা দিতাছো কেন? হয়তো বন্ধু-বান্ধবীদের সাথে একটু আধটু খেলাধুলা করতেছিল। আমরাও তো ছোটবেলায় কত খেলাধুলা করছি। কত রাত করে বাড়ি ফিরছি।
মুখে এই প্রবোধের বাণী বলতে বলতে শফিক নিয়তির দিকে সামান্য এগিয়ে আসলেন। তার পরনে একটা মলিন ফতুয়া। চোখে খেলা করছে কুৎসিত চাউনি। এ চাউনি ঠিক কতটা জঘন্য তা নিয়তি খুব ভালোমতো জানে।
শফিককে নিজের দিকে এগিয়ে আসতে দেখে আতঙ্কে নিয়তির পায়ের তলার মাটি যেন সরে গেল! ভয়ে পুরো শরীর গুটিয়ে আসতে চাইল।
শফিক নিয়তির ঠিক সামনে এসে দাঁড়াল।
তার ঘামের একটা ভ্যাপসা গন্ধ আসছে। মুখ দিয়ে বেরুচ্ছে সস্তা জরদার গন্ধ। নিয়তি খুব কাছ থেকেই
দুটি গন্ধ পেয়েছে। কিংবা ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে তাকে পেতে হয়েছে!
পুনরায় সেই গন্ধটা নিয়তির বমি বমি ভাবটাকে আরও তীব্র করে তুলল। শফিক অত্যন্ত স্নেহ দেখানোর ভান করে নিয়তির মাথায় নিজের খসখসে হাতটা রাখলেন।
হাতের তালুর সেই স্পর্শ নিয়তির মাথায় লাগামাত্রই থরথর করে কাঁপতে থাকল নিয়তি। দাঁতে দাঁত লেগে ঠকঠক শব্দ হওয়ার উপক্রম হলো!
নিয়তির চোখ দুটো বড় বড় হয়ে গেল। মনে মনে চিৎকার করতে লাগল,
-আমাকে বাঁচাও! আমাকে বাঁচাও।
নিয়তির এই অস্বাভাবিক কাঁপুনি আর তীব্র ভয়ার্ত চাউনি দেখে শফিকে একটু নড়েচড়ে উঠল। অবস্থা বেগতিক বুঝতে পেরে সে আর এক মুহূর্তও সেখানে দাঁড়াতে চাইল না। পাছে রেহানা কিছু টের পেয়ে যায়!
শফিক দ্রুত হাতটা সরিয়ে নিয়ে আমতা আমতা করে বললেন,
-উমম… আপা, তাইলে আমরা রওনা দেই। বাস কাউন্টারে আবার সময়মতো পৌঁছাতে না পারলে ঝামেলা হব। তাছাড়া মাগরিবের পর জ্যামও বাড়ব।
রেহানা শফিককে বিদায়ের তটস্থতায় ব্যস্ত হয়ে পড়লেন।,
-হ্যাঁ ভাই, সাবধানে যাও। গিয়ে একটা ফোন দিও।
রিনা এসে রেহানাকে জড়িয়ে ধরল। বলল,
-আসি আপা। আপনারে কষ্ট দিলাম শুধু শুধু। কিছু মনে নিয়েন না।
রেহানা আবেগে আপ্লুত হয়ে বলল,
-কিসের কষ্ট! এত বড় বাসায় আমি, নিয়তির আব্বা আর নিয়তি এই তিনজনই তো থাকি! বরং তোমরা এতদিন ছিলে বলে বাসাটা ভরা ভরা লাগত। এখন আবার খালি হয়ে যাবে।
শফিক তার বউকে তাড়া দিতে লাগল।
-কই বউ আসো!
-হ চলেন।
তড়িঘড়ি করে তারা বাসা থেকে বেরিয়ে গেলো।
নিয়তি একছুটে তার ঘরে চলে গেলো। বিছানায় ধপাস করে শুয়ে ঘনঘন শ্বাস নিতে লাগল।
এই শফিক আর শফিকের বউ রিনা দীর্ঘ দেড়টা মাস তাদের বাড়িতে জেঁকে বসেছিল। প্রথম প্রথম যখন এসেছিল তখন নিয়তির বাবা-মা জানত সে বেড়াতে এসেছে। কিন্তু যত দিন এগোতে লাগল, বোঝা গেল গল্পটা ভিন্ন।
শফিক অনেকদিন হলো চাকরি হারিয়েছে। কেন তার চাকরিটা চলে গেল, সেই আসল কারণটা সে বাড়ির কাউকেই বলেনি।
একদিন দুপুরে নিয়তির মা যখন শফিককে হেসেল ঘরে রান্নার ফাঁকে একটু জেরা করেছিলেন, তখন সে বেশ বিরক্ত হয়ে মুখঝামটা দিয়ে বলেছিল,
-কী যে বলো না আপা! অফিসের পলিটিক্স বুঝো না? গ্রামের হইলেও আমি ছিলাম বেশি ভালো এমপ্লয়ি। সৎ ছিলাম। স্যারদের মুখের ওপরেও সত্যি কথা
বলতাম। এইটা বাকি চোর-বাটপার কলিগদের সহ্য হইল না। হারা*মীর বাচ্চাগুলা ষড়যন্ত্র কইরা আমারে বাইর কইরা দিল। আসলে ভালো মানুষের কদর নাই এই দুনিয়ায়!
চাকরি হারানোর পর ঢাকার ওই ভাড়া বাসার খরচ টানতে না পেরে শফিক বলতে গেলে নিয়তির বাবার বাড়ি ফ্রিতে থাকতে আর খেতে উঠেছিল। সাথে তার বাচাল বউ। দেড় মাস ধরে তাদের তিন বেলার রাজকীয় খাওয়া, চা-নাস্তার খরচ সবই নিয়তির বাবার পকেট থেকে গেছে।
নিয়তির বাবা আসলাম সাহেব অত্যন্ত ভালো এবং সাদা মনের মানুষ। তিনি খাঁটি বাঙালি সংস্কৃতির ‘অতিথি দেবো ভবঃ’ নীতিতে বিশ্বাসী। আত্মীয়-স্বজন বাড়িতে এলে কখনোই কপালে ভাঁজ ফেলেন না। শফিক চাকরি হারিয়ে বিপদে পড়েছে শুনে তিনি উল্টো স্ত্রীকে ধমকেছিলেন,
-আহা রেহানা, বিপদে পড়েছে বলেই তো তোমার ভাই তোমার কাছে সাহায্য চেতে এসেছে। বেচারার চাকরিটা নাই। এবাড়িতে থাকলে তো খাবার আর মাথার ওপরের ছাদের চিন্তাটা করতে হচ্ছে না! ওরা যতদিন খুশি আমাদের এখানে থাকুক। কোনো সমস্যা নাই।
আমার সংসারে তো আর অন্ন কম পড়বে না!
আসলাম সাহেবের এই অতিরিক্ত ভালোমানুষি আর সরলতার সুযোগটাই নিয়েছিল শফিক। আর সেই সুযোগের সবচেয়ে বড় বলী হতে হলো মাত্র ১২ বছরের অবুঝ মেয়ে নিয়তিকে।
সেদিন আসলাম সাহেব এবং রেহানা বিশেষ কোনো এক কাজে বাইরে গিয়েছিলেন। যেহেতু বাসায় রিনা ছিল, তাই নিয়তিকে নিয়ে চিন্তার কোনো কারণ ছিল না।
মানুষ চিনতে ভুল করলে তার মাশুল কিভাবে দিতে হয় তার সবচেয়ে নৃশংস উদাহরণ হয়ে রইল সেদিনের নির্জন দুপুরবেলা।
নিয়তি নিজের রুমের নরম বিছানার ওপর উপর হয়ে শুয়ে ড্রইং করছিল মনের মাধুরি মিশিয়ে। সহসা শফিক তার ঘরে ঢুকলেন। নিয়তিকে জিজ্ঞেস করলেন,
-কি করতাছো নিয়তি?
নিয়তি হাসিমুখে বলল,
-আর্ট করি মামা।
-কি আর্ট করো দেখি?
নিয়তি হাসিমুখে নিজের আর্টের খাতাটা শফিকের হাতে দিয়ে দিল। শফিক খাটের ওপর পা তুলে বসল। পান চিবাতে চিবোতে কিছুটা অন্যমনস্ক হয়ে আর্টখাতার পৃষ্ঠাগুলো উল্টিয়ে পাল্টিয়ে দেখল। এরপর আদর করার ছলে নিয়তিকে টেনে নিজের কাছে নিয়ে এলো। গাল টিপে দিয়ে বলল,
-সেই আর্ট করো তো তুমি! আমিও কিন্তু ছোটবেলায় আঁকিবুঁকি করতাম। একটা আর্ট কইরা পুরষ্কারও পাইছিলাম। শিখবা নাকি ওই আর্টটা?
নিয়তি একথা শুনে বেশ খুশি হল। সে আগ্রহভরে বলল,
-জ্বি মামা, শিখব!
শফিক নিয়তিকে নিজের কোলের ওপর উল্টো করে বসালো। আর্টের খাতা কোলের ওপর নিয়ে সেখানে ছন্নছাড়া রঙের খেলা চলল ক্ষণিককাল।
এরপরই শুরু হল সেই কালো অধ্যায়।
শফিক হঠাৎ এক হাত দিয়ে চেপে ধরল নিয়তির সদ্য স্ফীত হওয়া বুক। ঘটনার আকস্মিকতায় হতভম্ব নিয়তি নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে চাইল বারবার। কিন্তু ওই পেটা শরীরের শক্তির সাথে কি সে পারে?
শফিকের জর্দার গন্ধ নিয়তির মুখের খুব কাছ অব্দি পৌঁছালো। মেয়েটা চিৎকার করতে চাইল। সাথে সাথে মুখটা চেপে ধরল শফিক।
গোসল শেষ করে রিনা যখন বেরিয়েছে বাথরুম থেকে, নিয়তির ঘর থেকে চাপা গোঙানোর শব্দ সে শুনেছে। দরজার ফাঁক গলে উঁকি দিয়ে দেখেছে। মুখে তীব্রভাবে কুলুপ এঁটেছে!
শফিক সেদিন নিয়তিকে বলেছিল,
-এ কথা যদি সে মা-বাবাকে বলে তাহলে তাদের খু*ন করে ফেলবে। কেউ বাঁচাতে পারবে না।
মা-বাবার কথা ভেবে অবুঝ নিয়তি তার সাথে ঘটে যাওয়া এই পৈশাচিক কর্মকাণ্ড ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করতে থাকে।
কিন্তু এরপর থেকে সুযোগ পেলেই চলতে থাকে শফিকের এসকল ঘৃণিত অন্যায় কর্মকাণ্ড। সে সুযোগ পেলেই নিয়তিকে বিশ্রিভাবে ছুয়ে দিত।
একেই বোধহয় বলে প্রকৃত পরজীবী। যে শুধুমাত্র আশ্রয়দাতার রক্ত চুষে তৃপ্ত হয় না, সুযোগ পেলে তার পুরো অস্তিত্বের মেরুদণ্ডটাই গুঁড়িয়ে দেয়!
(চলবে…)
গল্পঃ #মিস্টার_মাংকিম্যান 🌸
পর্ব_নংঃ ১
লেখনীতে, #আতিয়া_আদিবা
Share On:
TAGS: আতিয়া আদিবা, মিস্টার মাংকিম্যান
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
তুমি এলে অবেলায় পর্ব ১৫
-
নিষিদ্ধ রংমহল পর্ব ২৬
-
নিষিদ্ধ রংমহল পর্ব ৭
-
মিস্টার মাংকিম্যান পর্ব ৪
-
নিষিদ্ধ রংমহল পর্ব ৩৩
-
নিষিদ্ধ রংমহল গল্পের লিংক
-
নিষিদ্ধ রংমহল পর্ব ১১
-
নিষিদ্ধ রংমহল পর্ব ২৫
-
নিষিদ্ধ রংমহল পর্ব ৩০
-
তুমি এলে অবেলায় পর্ব ৩