দ্যাব্ল্যাকমার্ক
লেখনীতেআশুও_নিশু
পর্বসংখ্যা_২০
তুবা এবার আরো জোরে মুখে ধাক্কা দিল নিহানের। এবার নিহান ছাড়ল তুবাকে।তুবাকে কাছে পাওয়ার তীব্র আকাঙ্খা যে তাকে চেপে ধরেছে।নিহান নেশালো কন্ঠে বলে,
—“আজকে একবার প্লিজ।”
—“সরুন খারাপ লোক।আপনি খুব খারাপ খুব।আপনি আমাকে বারবার ব্যবহার করেছেন।আপনিও সব পুরুষের মতো তাদের থেকেও খারাপ খুব খারাপ।”
—”আচ্ছা।”
—”আমি আগেও বলেছি এখনো বলছি আমি দরকার হলে প’তিতালয়ে থাকবো তাও আপনার সাথে থাকবো না।”
—”নিজের সীমা ছাড়িচ্ছো কিন্তু, এর পরিমাণ হবে আরো নিষ্ঠুর।”
—“আপনি কেনো এত নিষ্ঠুর খারাপ লোক।কেনো এত নিষ্ঠুর আম..আম..আমার কি দ..দোষ।
কথাটা আর শেষ করতে পারলো না।নিহানের বুকেই ঢলে পড়ল।নিহানের যেনো বুকে এবার মোচড়িয়ে উঠল।একেতো পুরো শরীর ভেজা তার উপরে সে এতক্ষণ কত জ্বালিয়েছে সব মিলিয়ে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছে।নিহান বিড়বিড় করে আওড়ালো,
—”পুরো দুনিয়াকে জিজ্ঞেস করো আমি পুরো দুনিয়ার কাছে কেমন করো জিজ্ঞেস।তুমি বললে আমি তোমার উপর নিষ্ঠুর কিন্তু তুমি জানোনা পুরো দুনিয়ার কাছে আমি নিহান এহসান কেমন আর তুবা’র কাছে কেমন।”
মেয়েটা এখনো অজ্ঞান। নিহান কি করবে বুঝতে পারেনা।বাইরে প্রচন্ড বৃষ্টি।তার উপর তুবার এরকম অবস্থা।এখনো তার বুকের উপর ঢলে আছে।কি নিষ্পাপ তার চেহারা।নিহানের হৃৎস্পন্দনের মাত্রা যেনে স্বাভাবিকের চেয়ে আরো বেশি হচ্ছে। নিহান ঠোঁট গোল করে শ্বাস নিয়ে বিড়বিড় করে বলে,
“একেতো এই বৃষ্টি তার উপর তুমি আমি কীভাবে নিজেকে কন্ট্রোল করবো।কিন্তু তোমার শরীরের অবস্থা ও তো ভালো না।একটা কিস দিলেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকো।একদিন ই*ন্টিমেট হলেই ছয়-সাত দিন জ্বরে পড়ে থাকে।এমন কেন করো?আমার খারাপ লাগেনা?মানছি আমি একটহ বেশিই কন্ট্রোল হারায় তাই বলে তুমি এমন করবে?”
নিহানের শরীর ভেজা তার উপর তুবার ও বোরকা সহ সব ভেজা।নিহান তুবাকে কোলে নিয়েই গাড়ি স্টার্ট দিলো।অর্ধেক রাস্তা যেতেই নিহান সর্টকার্ট নিল কিন্তু অর্ধেক যেতেই দেখল সেখানে গাছপালা ভেঙে রাস্তায় পড়ে আছে।যাওয়ার কোনো রাস্তায় নেই।আর বৃষ্টির রাস্তা দিয়ে আসার সময় নিহানের গাড়ির টায়ারে ফুটো হয়ে গিয়েছে কোনো উপায় না পেয়ে জঙ্গলের মতো রাস্তায় গাড়ি নিয়ে বসে থাকল।তুবার এখনো জ্ঞান ফিরেনি।
কানাডার রাস্তায় হাটছে নোভা আর নিশান।নোভা সামনে আর নিশান পেছনে।নোভা জেদ ধরেছে সে নাকি আজ কানাডার রাস্তায় হাটবে।নিশান না পারতে নিয়ে এসেছে এখানে।কিছুক্ষণ ঘুরাঘুরির পর নোভা থেমে গেল।
“আমি হাটতে পারছিনা।high heel পড়ার কারণে।”
“তো? আসার জন্য লাফাচ্ছিলে কেনো?”
“আমি কি জানতাম আমার পা এর অবস্থা এমন হবে।দেখুন ছি’লে ও গেছে।”
“তো এখন তুমি কি চাচ্ছো?”
“আমি বাসায় যাবো।”
“গাড়ি পাবোনা এখানে।তোমাকে তো বলেছিলাম গাড়ি নিয়ে আসবো নাকি তুমি মানা করেছিলে তুমি নাকি হাঁটবে এখন হাঁটো।”
“আআআ।আমি বাসায় যাবো।”
নিশান কিছুক্ষণ দাড়িয়ে ভাবল।এরপর নোভাকে কোলে তুলে নেয়।নোভা থতমত খায়।চোখ দুটো যেন এবার বেরিয়ে আসবে।কে কোলে নিয়েছে তাকে?নিশান?সত্যিই নিশান?নিশান তাড়াতাড়ি করে হাটতে থাকে।নোভা নরম স্বরে বলে,
“এত তাড়াতাড়ি হাটছেন কেনো?”
“চুপ করো!”
নিশানের এক ধমকে নোভা চুপ করে যায়।নেভা এটা কিছুতেই মানতে পারলো না সেটা।মাথায় দুষ্টু বুদ্ধি খেলতেই আস্তে আস্তে গুটিগুটি হাত দিয়ে শার্টের উপরের দুটো বোতাম খুলল।নিজের দাঁত গুলে দিয়ে বুকের কামড়ে দিল।নিশান ব্যাথা পেয়েছে ঠিকই কিন্তু কোনো শব্দ করলো না।নোভা দেখলো নিশান কোনো প্রতিক্রিয়া করলো না আবারো কামড়ে দিলো বুক বরাবর।নিশান নোভার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল,
“বাসায় গেলে সুধে আসলে পূরণ করে নিব প্রাণপরি।”
নোভা আবারো অবাক হয়ে তাকালো।সুধে আসলে পূরন করে নিবে মানে বুঝতে পেরেই শুকনো ঢোক গিলল।আবারো গুটিগুটি হাত দিয়ে শার্টের বোতম লাগিয়ে দিল।নিশান অন্যদিকে তাকিয়ে দুষ্টু হাসল।
নিশান খেয়াল করল আড়ালে কেও দেখছে তাদের।অনুমান ও করল কে দেখছে।নিমিশেই মুকটা গম্ভীর,রাগীতে পরিনত হলো।নোবা সেসব খেয়াল না করে চারপাশটা দেখছে।কানাডার (torento)শহরটা সত্যিই মনোমুগ্ধকর।
তুবার জ্ঞান ফিরেছে কিছু সেকেন্ড আগেই।হালকা হালকা চোখ খুলতেই নিজেকে শক্ত কিছুর উপর আবিষ্কার করল।শরীর ভিজে একাকার।ধীরে ধীরে বলল,
—“আমি কোথায়?”
—“চোখ খুলো।”
তুবা চোখ টেনে খুলল।নিহানের শরীরে নিজেকে দেখে সড়ে যেতে নিলো।কিন্তু নিশান শক্ত হাতে ধরে রেখেছে তুবার কোমড়।তুবার অসস্তি লাগছে।নিহানের হাত সড়াতে চেয়েও পারলোনা।ছটফট করে বলে,
—“ছাড়ুন আমাকে।”
—“কেনো?
—“আমি চলে যাবো।”
—“কই যাবে?”
—“যেদিকে দুচোখ যাবে।”
*“তোমার দুচোখ কোনোদিন আমার কাছে আসতে চাই না?”
তুবা চুপ।মুখটা কিঞ্চিৎ ফাঁক হয়ে গেল।নিহান আবারো বলে,
—“বলোনা আমার কাছে আসতে চাই না তোমার দুচোখ?আমার স্পর্শে আসতে চাই না?”
—“আপনার স্পর্শ নোংরা খুব নোংরা।”
*“এই নোংরা স্পর্শ আবারো পেলে কেমন লাগবে?”
—“জঘন্য!”
—“আমাকে এত ঘৃণা করার কারণ কি?”
তুবা সহসা বলল,
—“আপনি।হু আপনি আপনাকে ঘৃণা করার সবচেয়ে বড় কারন আপনি!আপনি খুব খারাপ খুব।আমার কাছে আাসার ভুলটুকুও করবেন না।চারপাশে একরম অন্ধকার কেনো?আমি কোথায়?আমি বেরিয়ে যাবো এখনিই। এখনিই বেরিয়ে যাবো।”
নিহান গম্ভীর আওয়াজে বলে,
—“আমার থেকে পালিয়ে কতটুক যেতে পারবে?কতটুক?তুমি জানো তোমার পা থেকে মাথা পর্যন্ত আমার দখলদারি।আমার সীমানা ছেড়ে তুমি কোথাও যেতে পারবে না।মরলেও আমার সাথে মরতে হবে বাচলেও আমার সাথে বাঁচতে হবে।”
—“থাকবো না আমি!থাকবো না আপনার সাথে।”
এই বলেই ড্রাইভিং সিটের ডোর খুলে বের হতে চাই।বাইরে এখন গুড়িগুড়ি বৃষ্টি। সন্ধ্যা নেমেছে চারপাশটা আঁধারে ঢাকা।জঙ্গল থেকে নানা পশুর আওয়াজ আসছে।তুবা বের হতে যাবেই নিহান হাতে হেঁচকা টান মেরে বলে,
—“তোর কলিজা কতটুকু রে?বেয়াদবের বাচ্চা,কু’ত্তা’র বাচ্চা।”
তুবা ছটফটিয়ে বলে,
—“আমাকে যেতে দিন।যেতে দিন বলছি।আমি চলে যাবো।”
নিহান এবার নিজের রাগ ধরে রাখতে পারলোনা। নিজের শক্তপোক্ত হাত দিয়ে আবারো থাপ্পড় মারলো তুবার নরম গালগুলোতে।তুবা চিল্লওয়ে বলে,
—“ছাড়ুন আমাকে।ছাড়ুন আপনার মতো মানুষের ছোঁয়া যেনো আমার শরীরে না লাগে।”
ঠাসস্!আবারো থাপ্পর পড়ল।তুবা এবার কাঁদো কাদের মুখ করে বলে,
—“বেয়াদব লোক,বজ্জাত লোক।কথা বলবেন না একদম আমার সাথে।”
ঠাসস্!তুবাকে আরো এক দফা অবাক করে দিয়ে থাপ্পড় মারল।তুবা এবার কাঁদতে থাকে।নিহানের শাট আকড়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে।নিহান তুবার গাল চেপে ধরে বলে,
—“কখনো বুঝেছিস আমাকে?বুঝেছিস?হারামির বাচ্চা।তোরা মেয়ে জাত স্বার্থপর!খুব স্বার্থপর।
বজ যদি প’তিতালয় থেকে আমি না আনতাম তোকে তাহলে এখানে তোকে সব পুরিষ ছিঁড়ে খেত।হ্যা ছিঁড়ে খেত।”
তুবা ফুপিয়ে কেঁদে বলল,
—“আপনি তো আমাকে দয়া করেছেন।আমি সবার দয়ার উপরেই বেঁচে আছি।ছোট থাকতেই বাবা-মা ছেড়ে চলে গগেছে। কেউ নেই আমার!কেউ নেই!রাস্তার কু’কুররা ছিঁড়ে খেলেও কেউ কিছু বলবে না কারণ আমি এতিম।”
নিহান তুবার গাল চেপে বলে,
—“একটা কথা মনে রাখবি আমার মনে কারো জন্য ফিলিংস নেই না আছে ভালোবাসা।আমি দরকার হলে ম’রল যাব তাও কাওকে ভালোবাসব না।নারী মাবেই ছলনাময়ী।”
—“তো ভার্সিটির সবার সামনে চিল্লিয়ে কেন বলেছিলেন আমি আপনার প্রিয় জিনিস?কেন?
কেন বলেছিলেন..”
আর কথা শেষ করতে পারলোনা দ্বিতীয় বারের মতো অজ্ঞান হয়ে গেল।নিহান তাকালো নিষ্পাপ মুখটার দিকে।কিছু ঘন্টা আগের ঘটনা এখনের রাগ সব মিলিয়ে নিহান বিরক্ত।নিজের ফোনেও চার্জ নেই যে গার্ডদের বলবে গাড়ি আনতে।তাও মোবাইল বের করে দেখে চার্জ আছে একটু।তাড়াতাড়ি কল লাগায় গার্ডকে।তার জন্য গাড়ি নিয়ে আসতে বলে।ফেন কেটে আবাোর তাকালো তুবার দিকে।সকালে শুধু খিচুড়ি খেয়ে এসেচে।আর এখন রাত হবে।নিহান মুখের চারপাশে হাত বুলাতে বুলাতে বলল,
—“স্যরি!খুব করে স্যরি!”
কিছুক্ষণ পর গার্ডগুলো এসে গাড়ি দিয়ে দুজনকেই নিয়ে গেল।তুবার তখনো জ্ঞান ফিরেনি।নিহানের বুকের ভেতর দুমড়ে-মুচড়ে যাচ্ছে।এহসান বাড়ির সামনে এসে গাড়ি থামে।নিহান তুবাকে পাজাকোলে নিয়ে ভেতের চলে যায়।রুমে এসে আলতো করে শুইয়ে দেয়।নিজের জামাকপড় না খুলে আগে তুবার বোরকা তারপর জামা চেন্জ করে দেয়।পরে ওয়াশরুমে গিয়ে লম্বা এজটা শাওয়ার নেই নিহান।বেরিয়ে দেখে তুবার একনো জ্ঞান ফিরেনি।
তাড়াতাড়ি করে পানি নিয়ে তুবার পাশে বসল।চোকে মুখে পানি ছিটকে দিতে দিতে তুবা হালকা হালকা চোখ খুলল।নিহানের মনে যেনো স্বস্তি পেল। তুবার গালে হালকা চাপড়ে বলল,
—“তুবা,তুবা।উঠো উঠো।কিছু খেয়ে নাও।”
তুবা চোখ খুলল।চোখ মুখ লাল হয়ে ফুলে আছে।
নিহান নরম কন্ঠে বলে,
—“উঠো পাখি!উঠোনা।”
তুবা’র যেনো কিছু কানে পৌছাচ্ছেনা।কিছুক্ষণ নিহানের ডাকার পর চোখদুটো খুলল।চারপাশে তাকাতেই রুমে দেখল নিজেকে।ধীরে ধীরে বলল,
“আমি বাবা-মার কাছে যা.যাবো।আমি ম*রে কবরে যে..যেতে চাই।”
নিহান তুবার মুখে হাত দিল।এরপর আলতো করে ঠোঁট ছোঁয়ালো কপালে।
—“ম*রার পরেও পিছু ছাড়বো না আমি।”
নিহান এগুলো কেন বলছে কেন করছে সবকিছু নিজেরই অচেনা।নিহানের নিজের কাছেই এ কর্মকান্ডগুলো অবাক লাগে।সে তো এমন ছিলোনা।তো কেন বারবার এ মেয়েটার সামনে এমন দুর্বল হয়ে পড়ে।মেয়েটাকে কটু কথা বলতে কেন তার বুকে ব্যাথা হয়?কেনো ওর কষ্টে কষ্ট হয়।
তুবা এবার পুরোপুরি হুসে আসে।ধড়ফড়িয়ে উঠে বসে।তারাহুরো করে বলে,
“আমার ড্রেস কে চেন্জ করেছে?ক..কে?”
“আমি চেন্জ করেছি।”
“আপনি আমার সাথে খারাপ কিছু করেছেন নিশ্চয়?”
“একবার অনুমতি চাইলাম দিলানা এখন তাই..”
তুবা থতমত খেয়ে বলল,
“তাই কি?ক..ক..কি করেছেন?”
নিহান কিছু না বলে বিছানা থেকে উঠে রুমের বাইরের দিলে পা বাড়ায়।তুবা পেছন থেকে এসে নিহানের কলার ধরে বলে,
“বলুন না।কি করেছেন?আমার পেট ব্যাথা করছে।”
“ইন্টি*মেট হলে কি পেট ব্যাথা কের নাকি?”
“তাহলে আপনি ওগুলো করেছেন আমার অজ্ঞান হওয়ার সুযোগ নিয়ে?”
চলবে??
(আসসালামু আলাইকুম। অগ্রিম ঈদ মোবারক প্রজাপতিরা।আরো লিখতে চেয়েচিলাম কিন্তু সব কাজিনরা আনন্দ করতেছে।আর মেহদী ও দিবো এখন। আল্লাহ হাফেজ কালকে গল্প দেওয়ার চেষ্টা করবো)🥺🤎💫
Share On:
TAGS: আশু ও নিশু, দ্যা ব্ল্যাক মার্ক
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১৭
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ৮
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ২
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ২৩
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ৩(প্রথমাংশ +শেষাংশ)
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১৪
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১০
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ৫
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ৭