Golpo romantic golpo তোমাতেই আসক্ত তোমাতেই আসক্ত সিজন ২

তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ৫৩


#তোমাতেই_আসক্ত
#পর্ব:৫৩
#তানিশা
আদ্রিতার কলিজা কাঁপছে। কেবিনের দরজা খোলা। আবরার এক হাতে জড়িয়ে রেখেছে তাকে। এ্যানিটাও কেবিনে ঢুকেছে। সে মিউ মিউ আওয়াজ তুলে নিজের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে। মাথার ওপরে ভন ভন করে ঘুরছে সিলিং ফ্যান। আবার এসিও আছে।
আদ্রিতার নরাচরা করতেও ভয় করছে। যদি মানুষটা ব্যাথা পায়। আবার এভাবে থাকতেও অস্বস্তি হচ্ছে।
তাই কাঁপা-কাঁপা গলায় বললো
“প্লিজজ ছাড়ুন
দরজা খোলা
বাইরে সবাই রয়েছে।
আবরার বোধহয় বিরক্ত হলো। একটুখানি শক্তি প্রয়োগ করে আদ্রিতাকে আরও কাছে নিয়ে আসলো। এবার দুজনের ওষ্ঠ ছুঁই ছুঁই। একে অপরের নিঃশ্বাস ছুঁয়ে যাচ্ছে দুজনকে।
আবরার হাঙ্কি স্বরে বলে
” দরজা খোলা
কেউ দেখে ফেলবে
ছাড়ুন
সরুন
এসব ফাকিং এক্সকিউজ দিবে না। আমি কাছে আসলে চুপচাপ অনুভব করবে আমায়।
জবাব দিলে না আদ্রিতা। বা জবাব দেওয়ার সুযোগ পেলো না। তার আগে ওর ওষ্ঠদ্বয় দখলে নিয়ে নিয়েছে জল্লাদ হাতি।
প্রথমে সফলি চুমু খেলেও পরমুহূর্তেই বেপরোয়া হয়ে ওঠে। পাগলের মতো চুমু খেতে থাকে। অজান্তেই আদ্রিতার হাত চলে যায় আবরারের মাথায়। ক্ষত স্থানে ছোঁয়া লাগতেই ব্যাথা পেলো লোকটা। তবে ছাড়লো না।
আদ্রিতা বুঝতে পারলো হাতির খারাপ লাগছে। কষ্ট হচ্ছে।
তাই নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করলো। বলতে চাইলো
“আগে সুস্থ হন।
তারপর যা বলবেন তাই হবে।
কিন্তু বলতে পারলো না।
আর নিজেকে ছাড়িয়ে নিতেও পারলো না।
কতক্ষণ চললো এমন অমানবিক নির্যাতন জানা নেই মেয়েটার। তবে ঠোঁট জ্বলছে। কে/টে গেছে বেশ বুঝতে পারলো।
এবার বেপরোয়া লোকটা অন্য কিছু করার পরিকল্পনা আঁটছিলো সেই মুহূর্তে কেবিনে নার্স প্রবেশ করে।
কারো আগমনের শব্দ কানে যেতে আবরার ছেড়ে দিলো। আদ্রিতাও তাড়াহুড়ো করে দাঁড়িয়ে পড়লো এবং এক হাতে ঠোঁট ঢেকে ফেললো। দুজনই ভেবেছিলো আব্দুর রহমান এসেছে হয়তো।
কিন্তু নার্সকে দেখে বিরক্ত হলো আবরার।
চোখ মুখ কুঁচকে বলল
“নক করে ঢুকতে হয় মেনার্স শেখেন নি?
নার্সের খুব বলতে ইচ্ছে করলো “একজন মৃত্যু পথযাত্রী রুগী এভাবে রোমান্স করতে পারে আগে তো জানা ছিল না। জানা থাকলে অবশ্যই নক করে ঢুকতো”
আদ্রিতার বেশ লজ্জা লাগছে। সে মাথা তুলে তাকাতে পারছে না। ইচ্ছে করছে এখান থেকে অদৃশ্য হয়ে যেতে। কিন্তু সেটাও পারছে না।
নার্স কোনো কথা না বলে আবরারের ক্যানেলো পাল্টে দিলো। এবং একটা ঔষধ খেতে বলে চলে গেলো। বেচারাও বেশ অস্বস্তিতে পড়েছিলো।
উনি বেরিয়ে যেতেই আমান আহাদ ইভান এবং সিয়াম ঢুকলো।
ঢুকতে ঢুকতেই সিয়ামের নজর পড়লো আদ্রিতার দিলে। এমন কাচুমাচু হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বুঝে ফেললো অনেক কিছু। এবং বলে উঠলো
“কিরে তুই বেঁচে আছিস?
ম/রে গেছিস ভেবে আমি যে এত কাদলাম। এখন চোখের পানি ফেরত দে।
আবরার কিছু বলল না।
তবে চুপ থাকলো না সিয়াম।
সে আবরারের পাশে বসে পড়লো পা তুলে। দুই গালে হাত রেখে বলল
“তোকে ভাবে দেখে আমি একটা কবিতা আবিষ্কার করে ফেললাম।
” বন্ধু আমার যবর খারাপ
রগে রগে নষ্টামি
আম্মোকে দেখলেই তার
মাথায় ওঠে দুষ্টামি
চেপে ধরে খায় চুমু
মানুষ গরু মানে না
আবরার তাসনিন বেপরোয়া সাইকো
আদব কায়দা জানে না।
আমান হাততালি দিয়ে বলে ওঠে
“জীবনে প্রথমবার একটা ঠিকঠাক কবিতা আবৃতি করলি।
এইজন্য তুই অবশ্যই নোবেল ডিজার্ভ করিস।
ইভান বললো
“আমি তাহলে এখুনি জুতা দিয়ে নোবেল বানিয়ে নিয়ে আসি।
সিয়াম রেগে বললো
” আহাদ কেবলই আরাম করে বসেছি। আমার হয়ে শালারে দুইডা থা/প্প/ড় মার তো।
আদ্রিতা আর এক মুহূর্ত সেখানে দাঁড়ালো না। দৌড়ে বেড়িয়ে যেতে নেয় কেবিন থেকে। কিন্তু দরজা ওবদি যেতেই দেখতে পায় বাড়ির সবাই চলে এসেছে। আতিয়া বেগম কাঁদছে। সে ঝড়ের গতিতে এগিয়ে এসে জড়িয়ে ধরে ছেলেকে।
আব্দুর রহমানের চোখে মুখে ভয়। ছেলের এই অবস্থার জন্য তিনি চিন্তিত সেটা দেখেই বোঝা যাচ্ছে।
তবে আরিফ বিরক্ত।
এই ছেলে সুস্থ হয়ে গেছে মানে আবার তার মেয়ে নিয়ে ঝামেলা করবে।
এবার আর ঝামেলা কে প্রশ্রয় দেবেন না উনি। যা করতে হয় করবে।
পেছনে অহনা, অহনার হাজব্যান্ড এবং আসিফও রয়েছে।
আবরারের নজর পড়লো আসিফের দিকে।
সে আদ্রিতার সামনে দাঁড়িয়ে বলছে
“ঠিক আছো তুমি?
কিভাবে কিডন্যাপ হলে?
আদ্রিতা এক পলক তাকালো আবরারের দিকে। তারপর বললো
” তাহলে আবার কিডন্যাপ হয়ে দেখাবো?
“না না
সেটা কখন বললাম।
বর্ষা আবরারের সাথে টুকটাক কথা বলে নিজের মেয়ের কাছে আসলো।
যখনই আবরার বাংলাদেশে এসেছে তখন থেকেই তিনি চিন্তা মুক্ত। আর যাই হোক আবরার থাকতে তার মেয়ের কোনো ক্ষতি হবে না।
সিয়াম এক পলক তাকায় অহনার দিকে।
তারপর এক গাল হেসে কেবিন থেকে বেড়িয়ে গেলো।
আরিফও আদ্রিতার হাত ধরে বললো
” আম্মু চলো আমাদেরও বাসায় ফিরতে হবে।
আদ্রিতা আবরারের মুখ পানে তাকিয়ে আছে। ভাবছে লোকটা হয়ত থাকতে বলবে। কিন্তু সে কিছুই বললো না। বা বলার সুযোগ পেলো না। আব্দুল রহমান আদ্রিতার আরেক হাত ধরে টেনে নিয়ে চলে যায়।
আবরার চোখ বন্ধ করে ফেললো।
এ্যানি গেলো না মালিকের পেছন পেছন। বরং আবরারের শিওরে গিয়ে বসলো।
আতিয়া বেগম বললেন
“আব্বা তুই জলদি সুস্থ হয়ে যা।
তারপর আমি দেখছি কি করা যায়।
বর্ষা বললো
” তুই বরং ওকে বিয়ে করে ফেল লুকিয়ে। বাকিটা আমি বুঝে নিবো।
চলবে See less

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply