৪৩.
–
আকাশের চাঁদটা সেদিন অতিমাত্রায় জ্বলজ্বল করছিল। মনে হচ্ছিল কারও আগমনের জন্যই সেজেছে সে। জ্বলজ্বল করা চাঁদটার ঠিক নিচেই কালো রঙের মার্সিডিজটা। মার্সিডিজের আশেপাশে অজস্র গাড়ির স্রোত। হাসপাতালের সামনের এই রাস্তাটুকুতে রীতিমতো জ্যাম লেগে গিয়েছে হঠাৎ এসে জলদস্যুর মতো নিজের আওতায় নেয়া গাড়িগুলোর জন্য। হাসপাতালের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসা মানুষ দুটো আনোয়ার খন্দকার, আদিল মির্জার ম্যানেজার। মার্সিডিজটির সামনে সটানদেহে দাঁড়ানো শান্ত তাকে ফিরতে দেখে টোকা দিলো ব্যাকসিটের কাঁচে। কাঁচটা নামল সময় নিয়ে। দেখা মিলল আদিল মির্জার থমথমে, নির্বিকার সাইড প্রোফাইলের। চেয়ে আছে কোলের ওপরে থাকা ম্যাকবুক প্রো-তে। আনোয়ার খন্দকার কাছে এসে আস্তে করে জানালেন –
‘বাচ্চা সপ্তাহ দুয়েক ধরে হাসপাতালেই। তাদের দায়িত্বে আছে।’
আদিলের চেহারার পরিবর্তন আসে না। মাথা তুলে তাকায় না। শুধু মুখে শুধায় –
‘ডিসিশন কি নিয়েছে?’
আনোয়ার সাহেব দম নিলেন, ‘হাসপাতালকে দায়িত্ব দিয়েছে কাউকে দত্তক দিয়ে দিতে।’
আদিলের কোনো প্রতুত্তর আসে না অনেকটা সময় হয়। আনোয়ার সাহেব একপলক দৃষ্টি তুলে দেখে নেন বসের নিস্তব্ধ অভিব্যক্তিটুকু। পাশে দাঁড়ানো ভারী চোখমুখের শান্ত দাঁতে দাঁত পিষে আওড়ে বসে –
‘যেই দেখল বসকে বাচ্চা দিয়ে কন্ট্রোল করতে পারছে না ওমনি হাত ধুয়ে সরে গেল? ফেলে গেল? মা এমনও হয়? স্বার্থবাদী, লোভী একটা -’
এলেন সাথে সাথে কনুই দিয়ে খোঁচা মারল রাগান্বিত ছেলেটিকে। শান্ত থামল, দৃষ্টি নোয়াল। অথচ বুকের ওঠানামার গতি জানাচ্ছে রাগে কাঁপছে সে। অথচ আদিল মির্জার চোখমুখের কোনো পরিবর্তনই এলো না। একপর্যায়ে শোনা গেলো নিভু স্বরে আওড়ানো শব্দগুলো –
‘ডিএনএ টেস্ট এসেছে? কি বলে?’
প্রশ্নের উত্তর দিতে নিয়ে আনোয়ার সাহেবের কণ্ঠ অন্যরকম শোনাল, ‘আপনার রক্ত, এই মির্জা বংশের র ক্ত।’
‘ছেলে না মেয়ে?’
আনোয়ার সাহেব ধরে আসা গলাতেই আওড়ায়, ‘মেয়ে, অবিকৃত আপনার মতন – চোখ, নাক…সব।’
আদিলের আঙুলগুলো থমকাল। নীরবতায় কাটল কিছুটা সময়। শান্তকে সময় দেয়া হয় না ব্যাকসিটের দরজা খুলে ধরার। হঠাৎ করেই দরজা ঠেলে বেরুল আদিল। ওই দৃশ্যে আনোয়ার সাহেব থমকান, পরমুহূর্তেই তার চোখের কোণ ভিজে ওঠে। চোখে জল নিয়েই হাসেন কেমন। এগুনো বসের পেছনে ছোটে্ন দ্রুতো কদমে। পাশাপাশি এলেন, শান্ত সামনের পথের লোকজন সরিয়ে দিচ্ছে। দোতালার কিডক্যাবিনের একশো নয় নম্বর রুমে এসে থামল তাদের দলবল। আনোয়ার সাহেব দরজা মেলে ধরেন। আদিল প্রবেশ করল। সাদাসিধা একটা রুম। অপ্রয়োজনীয় কিছু নেই। একটা বাচ্চা রাখার শুভ্র রঙা ট্রলি এককোণেতে পড়ে আছে। ওতে একটা ছোটো প্রাণের অস্তিত্ব আছে। আদিল বাড়াল কদম। তার নেয়া একেকটা কদমের ভার ওইমুহূর্তটায় অনেক ওজনের ছিলো। ট্রলির ভেতরে শুভ্র রঙা কম্ফোর্টারে জড়িয়ে আছে একটি ছোটো প্রাণ। কতটুকু হবে? হবে কি আদিলের হাতের সাইজের? হাতের সাইজ থেকেও বুঝি ছোটো। ছোট্ট মুখের চোখ দুটো বন্ধ, র ক্তিম ঠোঁট দুটো ঘুমের মধ্যে নাড়াচ্ছে ক্রমাগত। জিহ্বা বের করছে। ছোটো হাত দুটো মুষ্টিবদ্ধ হয়ে পড়ে আছে মাথার দু-পাশে। আদিল দাঁড়িয়ে থেকে শুধু দেখল। আনোয়ার সাহেব আস্তে করে বলেন –
‘বস..হাত বাড়ান। ধরুন।’
আদিল সময় নিলেও অবশেষে হাত বাড়াল। ধরল মুষ্টিবদ্ধ পুতুলের মতো হাতটা। সাথে সাথে ওতটুকু হাতটা আদিলের একটা আঙুল মুষ্টিতে আগলে নিলো। আনোয়ার সাহেবের হাসি চওড়া হয় মুহূর্তে। পেছনে দাঁড়ানো শান্ত, এলেন মুখ ভরে হাসছে। তবে শব্দ করছে না কেউই। আদিল হতবিহ্বল চোখে চেয়ে থেকে অনুভব করল তার একটা আঙুল নরম মুঠোয় নেয়া ছোটো হাতে অনেক শক্তি। এক অদৃশ্য টানে আদিল অজান্তেই এগিয়ে গিয়ে মিশে দাঁড়াল ট্রলির সাথে! হাতটা আরও বাড়িয়ে দিলো যেন সহজেই ধরে রাখতে পারে। খোলা দরজার সামনে তখন নার্স, ওয়ার্ড বয় এসে দাঁড়িয়েছে। এলেনের ভয়ংকর ইশারায় চুপসে আছে তারা। হঠাৎ ঘুমন্ত শিশু নড়েচড়ে ওঠে। শব্দ করে মুখে, গোঙানির মতো। আস্তে করে যখন চোখ মেলে সোজা তাকাল আদিল থমকে পড়ল। আটকাল শ্বাসপ্রশ্বাস। ধূসর চোখের মণি দুটোর চাহনি স্থির আদিলের দিকে। পরমুহূর্তেই দু-গাল ভরে হেসে উঠল শিশুটি। ছোটো শরীরটা মুষড়ে গেল সমানে। ওই হাসির সামনে আদিলের কালো দুনিয়াটাই যেন ধ্বসে পড়ে একমুহূর্তে।
‘বেবি হাসছে? কী সুন্দর! অথচ আমরা এতোদিন ধরে টেককেয়ার করছি, মুখে কোনো হাসিই ছিলো না! এই প্রথম এভাবে হাসতে দেখছি। কী মিষ্টি!!’
নার্স একজন প্রবেশ করেছে। বাচ্চাকে ওভাবে হাসতে দেখে ভদ্রমহিলা আদিলকে একপলক দেখে নিজেই বলে –
‘বাবা আপনি? চেহারায় কী মিল! একেই বলে র ক্তের টান। খোদার দেয়া আলৌকিক শক্তি। বাবাকে দেখে ঠিকই চিনে নিয়েছে। নিন..নিন কোলে নিন। বাচ্চা কোলে উঠবে আপনার। কেমন করছে!’
আনোয়ার সাহেব চেপে দাঁড়ালেন। থামালেন না নার্সকে। বয়স্ক মহিলাকে তোড়জোড় দেখাতে দিলেন। ভদ্রমহিলা বাচ্চাটিকে দু-হাতে তুলে নিয়ে এগুলেন আদিলের সামনে। বাড়িয়ে দিয়ে বোঝাতে থাকলেন কীভাবে নেবে! ফানুশের মতো নরম, হালকা। আদিলের হাত কাঁপল, ভয় হলো সে পিষে ফেলবে কি-না। ব্যথা পাবে কি-না তার স্পর্শে! ভদ্রমহিলা ধৈর্যের সাথে আদিলের শক্ত বুকের সামনে বানানো ডান হাতের কোলে শুয়ে দিলেন। আদিলের বুকে মিশে থাকা শিশুর ডাগরডোগর চোখের চাহনি তখনো আদিলের মুখে। দেখছে, দু-গাল ফুলিয়ে হাসছে। দু-হাত উঁচিয়ে কিছু ধরতে চেয়ে অস্পষ্ট শব্দে গুঙিয়ে আওয়াজ তুলছে সমানে। আদিল বাম হাতটা বাড়িয়ে দিতেই একটা আঙুল পুনরায় চলে গেলো নরম মুঠোতে। আদিল নিজের অজান্তেই কেমন আরও গাঢ়ভাবে মিশিয়ে নিলো বুকের সাথে। ভদ্রমহিলা ওই দৃশ্যে হেসে বলে –
‘বেবিকে দেখতে আসেননি কেনো, স্যার? দেশের বাহিরে ছিলেন বুঝি? ফ্যামিলিতে আর কেউ নেই? বেবিকে দেখতে কেউই এলো না। মা-ও না। আমার আন্ডারে ছিলো এতোদিন।’
আদিল ফিরে তাকাল। আনোয়ার সাহেব ইশারা বুঝে নিলেন। চটপট পকেট থেকে মানিব্যাগ বের করে হাজার টাকার অনেকগুলো নোট ধরিয়ে দিলেন নার্সের হাতে। হতবিহ্বল মহিলা। এতোগুলো টাকা হাতে ধরে অবিশ্বাস নিয়ে চেয়ে আছেন। যখন সম্বিত ফেরে মুখ ভরে হেসে বলেন –
‘থেংকিউ স্যার। স্যার, বেবির নাম কী? নাম রাখেননি?’
প্রত্যুত্তরে আদিল নিশ্চুপ। তার দৃষ্টি কোলে থাকা ছোটো প্রাণটিতেই নিবদ্ধ। তাই আর ভদ্রমহিলা জবাব আশা করেননি। তবে সময় নিয়ে আদিলের জবাব এলো –
‘আমিরা…আমার আমিরা। আমার রাজকন্যা।’
ততক্ষণে আদিলে মাথাটা নুইয়ে আসে। কাইকুই করা ঠোঁটে, মুখে ছুঁয়ে দেয় তার ঠোঁট। সর্বক্ষণ থমথম করা মুখে অন্যরকম প্রাপ্তির উজ্জলতা। আনোয়ার সাহেব কেঁদে ফেললেন নিঃশব্দে। শান্তর চোখদুটোও লাল। ওতসব বোঝেন না নার্স। তিনি প্রশংসা করে গেলেন –
‘কী সুন্দর নাম!!’
পরপর ব্যস্ত ভাবে বাচ্চার জন্য দুধ বানাতে এগুলেন ট্রলির সামনে। না ফিরে জিজ্ঞেস করলেন –
‘বেবি নিয়ে যাবেন, স্যার?’
প্রত্যুত্তর পেলেন না। ফিডার তৈরি করে ফিরেই আশ্চর্য হলেন। কেউই নেই, ফাঁকা! ভদ্রমহিলা ফিডার হাতে ছুটলেন। দেখলেন একগুচ্ছ বডিগার্ডের সামনে ছোটো বাঁচ্চাটা যত্নের সাথে একহাতে বুকে জড়িয়ে হেঁটে চলে যাচ্ছে…
.
‘বস…’
শান্তর ডাকে চোখ মেলে তাকাল আদিল। নির্ঘুম কেটেছে কটা দিন। কাজের চাপে খাওয়াদাওয়ার সময়টুকুও হয়নি। মাথাটা সোফার হাতল থেকে সরিয়ে সোজা হয়ে বসল। ফর্মাল প্যান্ট লুজ হয়ে পড়ে আছে কোমরে। গায়ের শার্ট, টাই, ভেস্ট, কোট সব পড়ে আছে পাশে। সামনের টি-টেবিলে তখনো জ্বলছে লম্বা সিগারেটটা। গ্লাসে মদ আছে। ওই গ্লাসের অবশিষ্ট মদটুকু গিলে নিলো শুকনো গলা ভেজাতে। অন্ধকার চারিপাশটা। কাঁচের দেয়ালের বাইরের দৃশ্য জানাচ্ছে বেশ রাত হয়েছে। গভীর হয়ে আসা কণ্ঠে প্রশ্ন করে আদিল –
‘কটা বাজে?’
ততক্ষণে শান্ত বাতিগুলো জ্বালিয়ে দিয়েছে। এলেন জানায় –
‘বারোটা…’
আদিল উঠে দাঁড়াল। পকেটে দু-হাত ভরে এসে দাঁড়াল গ্লাস ওয়ালের সামনে।
রাস্তাঘাটে যানবাহন কমে গিয়েছে। সব নীরব হতে শুরু করেছে। দিকপাল চ্যাটার্জির আসার কথা আছে। এতক্ষণে পৌঁছানোর কথা। তখুনি দরজায় করাঘাত পড়ে। শান্ত গিয়ে দরজা খুলে ধরল। দিকপাল চ্যাটার্জির হাতে কার্ডের ব্রিফকেস। তিনি প্রবেশ করতে করতেই জানালেন –
‘নিজে কার্ড নিয়ে এসেছিইই কিন্তু। আমার মেয়ের ওয়েডিং অ্যাটেন্ড করতে হবেই তোমায়। উইদ ম্যাডাম অফকোর্স। কোনো না শুনছিই না।’
–
আদিল মির্জার উপস্থিতিতে গোটা বাড়ি জুড়ে যেমন এক অন্যরকম অস্থিরতা বিরাজ করে, তেমনি থমথমে শূন্যতা ডুবে থাকে তার অনুপস্থিতিতে। বোঝা যায়, বাড়ির মালিক বাড়িতে নেই। আজ নিয়ে তিনদিন হতে চলল রোযা আদিলকে দেখেনি। সম্ভবত লোকটা বাড়িতেই ফেরেনি সেই যে বেরিয়েছে! ওইতো সময় বুঝে শুধু হৃদির সাথে একবার করে ভিডিও কলে কথা বলেছে। একদিক দিয়ে অবশ্য রোযার জন্য স্বস্তির। মানুষটা ব্যতীত তার দিনগুলো ভীষণ শান্তির কাটছে। ওতটাও মন্দ না, দমবন্ধ অনুভূতিটা আর হচ্ছে না। প্রাসাদের মতন এই বাড়ির চারদেয়ালে যে সে বন্দী হয়ে আছে – এই ব্যাপারটা সয়ে নেয়া যাচ্ছে। ইদানিং সে বাগান জুড়ে হাঁটতে পছন্দ করছে। ড্রাইভওয়ের পথ ধরে বিশেষ করে। ল্যাম্পপোস্টের আলোয় কী দারুণ লাগে! মাথার ওপরে চাঁদ থাকলে আরও অন্যরকম চমৎকার হয়ে ওঠে সবটা। বাগানের জমিনে ট্রিম করে রাখা সবুজ ঘাসে নগ্ন পায়ে হাঁটতে এতো ভালো লাগে রোযার। যখন সে হাঁটে, ওই সময়টা হৃদি তাকে অনুসরণ করে পিছুপিছু হাঁটবে। সাথে আবার তিতান – থোরও আছে। কুকুর দুটো রোযাকে বেশ পছন্দ করে। এতো আপন করে কীভাবে নিলো কে জানে! কী ভয়ংকর দেখতে না ওরা! কী বিশালদেহী! অথচ স্বভাবে সদ্য জন্মানো বাচ্চাদের মতো। এতো আদুরে! মাথা ছুঁয়ে দিলে কোলে এসে গলে পড়ে। এইতো আজও, রাতের খাবার খেয়ে রোযা হেঁটেছিল বাগান জুড়ে। হৃদির সাথে তিতান – থোরও পেছন পেছন হেঁটেছে টুকটুক করে। আধঘণ্টার মতো ছিলো বাগানে তারা।
বেশ রাত হয়েছে দেখে হৃদিকে নিয়ে শোয়ার প্রস্তুতি দ্রুতো নিয়েছিল। ইদানিং হৃদিকে ঘুম পাড়ানো ভীষণ কষ্টের হয়ে উঠেছে। ঘুমাতেই চায় না। ওকে বুকে নিয়ে কতশত গল্প, গান করে ঘুম পাড়াতে হয়। রাতের তখন একটা বিশ। হৃদিকে ঘুম পাড়িয়ে রোযা নেমে এলো। পরনে শুভ্র রঙের সিল্কের নাইট-গাউন। দুপুরে ঘুমানো হয়েছে অনেকটা সময়। এখন আর ঘুম আসবে না। হাতে নেই ফোন, নেই বই – লিভিংরুমে মুভি দেখা ছাড়া হাতে তেমন আর অপশন নেইতো। রোযা এসে টেলিভিশন চালু করল। পা-জোড়া তুলে বসল। নেটফ্লিক্স থেকে চেনাপরিচিত ক্রাইম থ্রিলারের একটা সিরিজ ছেড়ে গা এলালো। সিরিজ নিজের মতো চললেও রোযা বেশিক্ষণ সজাগ থাকতে পারেনি। আধঘণ্টার মাথাতেই সোফার হাতলে মাথা রেখে আধশোয়া ভাবে ঘুমিয়ে পড়েছে। সেই ঘুম ভাঙেনি একগুচ্ছ গাড়ি ঢোকার আওয়াজেও।
যখন আড়মোড়া ঘুমটা ছুটে আসে ততক্ষণে তার সামনে লম্বাচওড়া একটা শরীরকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখল। রোযা সামান্য হকচকিয়ে ওঠে। জুবুথুবু হয়ে কোনোভাবে উঠে বসতেও পারে না। আদিল খপ করে ধরল হাতটা। নড়তে দিলো না। বলপ্রয়োগ করে বসিয়ে রেখে নিজেও পাশে বসে কপাল ঠেকাল রোযার কাঁধে। রোযা নড়চড় করে না। স্তব্ধ হয়ে থাকে শুধু। দৃষ্টি থমকে থাকে আদিলের উষ্কখুষ্ক চুলের ভাঁজে। অনেকটা সময় যাবত আদিল ওভাবেই আছে। একপর্যায়ে ধীরে ধীরে মুখটা কাঁধ থেকে নিয়ে গিয়ে গুঁজল স্পর্শকাতর ঘাড়ের ভাঁজে। রোযা মিইয়ে যায়। গা কাটা দিয়ে ওঠে। দ্রুতো হাতে সরাতে চাইলে আদিল নিজের ডান হাতে চঞ্চল হাত দুটো সযত্নে চেপে রাখে। কণ্ঠ নিভু নিভু শোনাল –
‘মাসখানেক বাড়ি না ফিরেও থেকেছি আমি। আই ক্যান বি দ্যাট বিজি রোজ-আ। কিন্তু এখন দেখো, তিনদিনও থাকতে পারছি না। তিনদিন লাগে তিন বছরের মতো।’
রোযা গলা শুকিয়ে আসে। পরমুহূর্তেই বলা আদিলের কথাগুলোতে থমকে পড়ে তার দুনিয়া –
‘আমার একটা ভয়ংকর অসুখ হয়ে আছে। ওই অসুখের ঔষধ তুমি। ডু ইউ নো?’
রোযার হৃৎপিণ্ড এতো বাজেভাবে লাফায় যে কিছুক্ষণের জন্য গলায় শ্বাস আটকে আসে। অনুভব করে ইতোমধ্যে আদিলের ঠোঁট চুমুর বর্ষণ তুলেছে ঘাড়ে। চোখের পলকে তাকে শুইয়ে দিয়েছে সোফায়। ওমন ভারি শরীরটা ছেড়ে দিয়েছে তার ওপর। দমবন্ধ হয়ে এলেও রোযা মুখে একটা শব্দ উচ্চারণ করতে পারে না। অসহায়ের মতো দেখে আদিল চোখ বুজে, ঘাড়ে মুখ গুঁজে পড়ে আছে। তার আর নড়চড় নেই। রোযা আঁতকে ওঠে যখন অনুভব করে লোকটা ঘুমিয়ে পড়েছে! আশ্চর্য! দু-হাতে ঠেলতে চেয়ে দ্রুতো আওড়ায় –
‘এইযে..উঠুন। ওপরে গিয়ে ঘুমান।’
আদিলের জবাব এলো না। সে যে ভীষণ শান্তির ঘুম দিচ্ছে তা তার স্বাভাবিক শ্বাসপ্রশ্বাস দেখলেই বুঝে নেয়া যায়। কিছু মুহূর্তের মধ্যে কীভাবে ঘুমিয়ে পড়ল? এই লোক কি ঘুমায়নি এই তিনদিনে একটুও? ভাবনাটুকু আসতেই রোযার হাত দুটো থমকাল সঙ্গেসঙ্গে। মুখ দিয়েও আর একটা শব্দ বেরুলো না। সে পড়ে রইল ওমন ভারি শরীরটা নিয়ে। মনে হচ্ছে আস্তো একটা ওভেনের ভেতরে সে ঢুকে বসেছে। শীতল লিভিংরুমে এই উষ্ণতাটুকু বেশ স্বাচ্ছন্দ্যের বটে। একপর্যায়ে রোযার চোখজোড়া লেগে আসে। পুরোপুরি ঘুমের ঘোরে যাওয়ার পথে মনে হলো কেউ ফিসফিস করে যাচ্ছে কানের কাছটায় –
‘মাই বিলাভড…ভেরি মাইন – ওল মাইন।’
__________
চলবে –
®নাবিলা ইষ্ক।
[ মাই লাভস, ভয়াবহ রাইটিং ব্লক কাটিয়ে এতটুকু লিখে উঠলাম। এতো চাপ লাগছিল কদিন যাবত। আমি ভালো ছিলাম না। পর্ব ছোটো হয়েছে, আই নো। আমি আজ প্রমিজ করে যাচ্ছি, রেগুলার দেবার চেষ্টা করব। আগামীকাল না হলেও তার পরদিন গল্প দেব। ]
Share On:
TAGS: আদিল মির্জা’স বিলাভড, নাবিলা ইস্ক
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
আদিল মির্জা’স বিলাভড পর্ব ৩৫
-
আদিল মির্জা’স বিলাভড পর্ব ৩৭
-
আদিল মির্জাস বিলাভড পর্ব ৫
-
আদিল মির্জাস বিলাভড পর্ব ২৩
-
আদিল মির্জাস বিলাভড পর্ব ২২
-
আদিল মির্জা’স বিলাভড— ৩৯
-
আদিল মির্জা’স বিলাভড পর্ব ২৪
-
আদিল মির্জা’স বিলাভড পর্ব ৩১
-
আদিল মির্জা’স বিলাভড পর্ব ৪১
-
আদিল মির্জা’স বিলাভড পর্ব ২৯