#অ্যাঞ্জেল_অ্যাঞ্জেলিনা
[পর্ব ৮৮]
#লেখিকা_ফারহানা_নিঝুম
(
দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয়।)
(
কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)
[দ্বিতীয় খন্ড]
সময় কখনো ধরে বেঁধে রাখা যায় না।সে ঠিক আপন মনে চলে যায় ফাঁকফোকর দিয়ে,যেমন নদীর স্রোত বয়ে চলে ঠিক তেমন করেই।
এইতো একটি মাস চোখের পলকে পেরিয়ে গেছে। চোখ বুঁজতেই যেন ত্রিশটি দিন চলে গেল।
প্রভাতের সূর্য উঠেছে পূর্ব দিগন্তে। আলোক রশ্মি প্রকৃতিকে ঝলমলে করে তুলছে।
জানালার ফাঁকফোকর দিয়ে ভেতরে গলিয়ে আসা আলোকছটা চোখে মুখে উপছে পড়ছে কন্যার। বাতাস বইছে, বাগান থেকে ভেসে আসছে ভিন্ন ভিন্ন ফুলের মিষ্টি সুবাস।সেই সুবাস দেদারসে নাসারন্ধ্রে প্রবেশ করে ভেতরে অন্যরকম এক অনুভূতির সঞ্চার করে চলেছে। আহ্ কি শান্তি!
খোলা চুলগুলো বাতাসের দোলাচলে দুলছে। কৃত্রিম গোলাপী আভায় রঙিন ঠোঁট দুটো চওড়া হলো। একচিলতে হাসি প্রস্ফুটিত হয়। ঠিক যেন সদ্য ফোঁটা পবিত্র গোলাপের পাপড়ি।
পরণে শুভ্ররঙের একটি ঘের দেওয়া জামা। গলায় ঝুলছে একই রঙের ওড়না। ন্যান্সি রয়েসয়ে উঠে দাঁড়ালো। হাত দুটো আপনাআপনি চলে গেল আপন উদরে। কি ভেবে যেনো হাসলো মেয়েটা। অতঃপর ধীর কদমে রুম থেকে প্রস্থানের উদ্দেশ্যে বেরুতে লাগল।
ড্রয়িং রুমে ইতিমধ্যেই হৈচৈ শুরু করেছে।সেই হাস্যরোল আনাচেকানাচে ছড়িয়ে পড়েছে। সেই হাসির শব্দ ঠিক কর্ণকুহুতে নিরন্তর অভিঘাত হানছে ন্যান্সির। অন্তর উদগ্রীব হয়ে উঠেছে। ইচ্ছে করছে এক দৌড়ে নিচে চলে যেতে কিন্তু তা সম্ভব হয়। নিষ্ঠুর নিয়মের শৃঙ্খলে আবদ্ধ । এমনিতেই নির্দয় পুরুষের কড়া নজরদারি করে চলেছে তার প্রতিটি পদক্ষেপকে সীমাবদ্ধ।
অতঃপর অনিচ্ছা সত্ত্বেও ধীর কদম ফেলে এগুচ্ছে মেয়েটা। বিধিবাম কয়েক কদম এগুতেই নিজেকে শূন্যে ভাসছে। ঘটনার আকস্মিকতায় কিয়ৎক্ষণের জন্য জড়বস্তুর ন্যায় স্থবির হয়ে গেল মেয়েটা। গ্রীবা বাঁকিয়ে দেখল হাতের মালিককে। চিরচেনা সেই গম্ভীর মুখমণ্ডল। এলোমেলো কেশরাশি কপালে ছড়িয়ে আছে কিছুটা।শ্বেতশুভ্র বর্ণের অধিকারী মানুষটা দেখতে কতই না সুন্দর! সে যেন অপার্থিব সৌন্দর্যের প্রতিমূর্তি। এখন বুঝতে পারে ন্যান্সি কেন এই পুরুষ এতটা সুদর্শন!সে যে ভিনদেশী। থুড়িইনা বাংলাদেশের মানুষের মতো হবে!
“নামিয়ে দিন, আমি হাঁটতে পারব তো।
কাল বিলম্ব না করে পুরুষটি স্বভাবজাত গম্ভীর স্বরে প্রত্যুত্তর করলো ,
“রোজ সকালে কয়েক ঘণ্টা ধরে যে এক্সারসাইজ করি সেটা কবে কাজে আসবে?”
অনিচ্ছা সত্ত্বেও তার গলা আঁকড়ে ধরে ন্যান্সি। দৃষ্টি তখনো ওই কাঠখোট্টা লোকটার মুখপানে। ব্লেডের প্রান্তের ন্যায় ধারালো চোয়াল ছুঁয়ে দেওয়ার অদম্য বাসনা জেগে উঠেছে অন্তরে। ভেতরের ইচ্ছাটুকু তৎক্ষণাৎ বাস্তবায়ন করতেই হাত বাড়িয়ে ছুঁয়ে দিলো ন্যান্সি।
“আপনি এমন কেন? শেইমশেস।”
অধর বেঁকে গেল পুরুষের। তির্যক রেখা প্রস্ফুটিত হলো । আমোদিত চিত্তে বলল,
“জাস্ট বিকজ ইউ। শুধু তোর কাছে শেইমলেস ম্যান।”
ন্যান্সি নাক টানল। উঁকি দিয়ে দেখল নিচের সকলকে। আচম্বিতে লজ্জারা ঘিরে ধরল তনুমন। অস্থির চিত্তে বলল,
“এই এই আমাকে কিন্তু নামিয়ে দিবেন সিঁড়ির কাছে। আমি চাইনা আপনার জন্য সকলের সামনে লজ্জা পেতে।”
কথাগুলো শুনলো আফরিদ কিন্তু মোটেও আমলে নিলো না। আফরিদ অবিচল মেয়েটাকে পাঁজাকোলে নিয়ে এগিয়ে গেল নিচের দিকে।
উপস্থিত প্রত্যেকে উৎসুক দৃষ্টিতে চেয়ে দেখছে তাদের। লজ্জায় মুখমণ্ডল আরক্ত আভা ছড়িয়ে পড়ল। লোকটা যা তা।দিলো তো সকলের সামনে লজ্জা!
সাপের মতো ফোঁস ফোঁস করছে ন্যান্সি।
তিতলি অচিরেই হাসলো, চুপচাপ কিচেনে চলে গেল। বাকিরা যে যার মতো দৃষ্টি সংযত করে আপন কর্মে ধ্যানমগ্ন হয়েছে। “অস’ভ্য” ক্রোধের বশে অচিরেইই বাক্যটি ছুড়ে দিলো।
আফরিদ শুনলো কি-না তা জানার বিন্দুমাত্র আগ্রহ দেখালো না ন্যান্সি।
অপরাহ্নের অবসানপ্রায় প্রহরের দিবাকারের সোনালী কিরণ ক্রমশ অপসৃত হয়ে দিগন্ত জুড়ে তমসায় বিস্তার করছে। সূর্য্যি মামা ব্যস্ততায় কাটছে সময়। এইতো পৃথিবীর এক প্রান্ত হতে অন্য প্রান্তে ছুটে চলেছে আপন আলোয় উদ্ভাসিত করতে ধরণী।
এই সাঁঝবেলায় দোলনায় বসে আছে ন্যান্সি। ওইতো বাগান থেকেই মেইন ফটক দেখা যাচ্ছে। মূর্তিমান দুই সিকিউরিটি গার্ড আপন কর্মে লিপ্ত। সর্বদা সজাগ তারা। বাড়ির আশেপাশে চারি ধারে সিকিউরিটির উপস্থিতি রয়েছে।
মৃদু মন্দ সমীরণের অভিঘাতে দোলনাটা নড়েচড়ে উঠেছে ক্ষণিক পরপর। সেই সাথে পাল্লা দিয়ে দুলছে ন্যান্সির দেহাবয়ব। অদ্ভুত অনূভুত হচ্ছে মেয়েটার। এর চেয়ে দ্বিগুণ প্রশান্তি তার অন্তঃকরণে সঞ্চারিত সে মাতৃত্বের সুধা আস্বাদন করতে যাচ্ছে। যতবার সমান্তরাল উদরে দৃষ্টি যাচ্ছে ততবারই পুলকিত হচ্ছে অন্তর। ইশ্ কতদিন পর এই উদর একটু একটু করে স্ফীত হবে। তারপর এক ফুটফুটে ফুল তার কোল জুড়ে আগমন ঘটাবে। আচ্ছা তখন আফরিদের প্রতিক্রিয়া কেমন হবে? লোকটা পিতৃত্বের স্বাদ গ্রহণ করবে। বাবা হচ্ছে সেই তার পাথুরে হৃদয় কেমন শিশুসুলভ উচ্ছ্বাসে চনমনে হয়ে উঠেছিল,যখন সেই ক্ষুদ্র শিশু তার কোলে আসবে তখন তার কি রূপান্তর ঘটবে?
তার ওই বিস্মায়বিষ্ট সুপ্ত বাসনা অন্তর্নীলে আলোড়ন সৃষ্টি করছে ক্রমশ।
কর্ণকুহুতে নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে ভেসে এলো মেয়েলি স্বর,
“ইলহাম আপি, তুমি এখানে কি করছো?”
তৎক্ষণাৎ মনোযোগ ক্ষুন্ন হয় ন্যান্সির। দৃষ্টি যায় ডান পাশে দাঁড়ানো রমণীর মুখপানে। চিন্তিত মুখাবয়ব।কপাল জুড়ে কয়েকটা ভাঁজ। হাতে দুধের গ্লাস নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ন্যান্সি তাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে আবারো দৃষ্টি ফেলল দূরের শিউলি গাছটার দিকে।
তিতলি অস্থির চিত্তে বলল,
“আমি পুরো বাড়ি খুঁজে এসেছি। তোমার জন্য দুধ গরম করেছি। ডক্টর তো বলেছে এখন থেকে পুষ্টিকর খাবার খেতে। তাহলে আমাদের বাবু সোনা স্বাস্থ্যবান হবে।”
ন্যান্সি আড়চোখে তাকে একপল দেখে ধীম আওয়াজে বলল,
“আমার ইচ্ছে নেই।”
তিতলি আশ্চর্য হলো। আগের ইলহাম আর এখনকার ইলহামের আকাশপাতাল পার্থক্য রয়েছে। তিতলি জানেনা কেন তার সাথে তার প্রিয় ইলহাম আপি এমন আচরণ করছে?
অচিরেই মনটা খারাপ হয়ে গেল মেয়েটার। হাপুস নয়নে কতক্ষন তাকিয়ে রইল তার দিকে।
“তুমি কি কোনো কারণে আমার উপর রেগে আছো আপি?”
“রাগব কেন?”
নিরাসক্ত ভঙ্গিতে বলল ন্যান্সি, চোখ দুটো ছলছল করে উঠল তিতলির। অশ্রুয় সিক্ত হলো। মেয়েটা অস্ফুট স্বরে বলে,
“আমার কেন মনে হচ্ছে তুমি আমার উপর কোনো কারণে নারাজ?”
ন্যান্সি দুটো কটু কথা বলতে গিয়েও বলল না। একচিত্তে চেয়ে রইল তিতলির দিকে। এইতো সেই মেয়েটা যাকে আফরিদ ভালোবেসে এ বাড়িতে নিয়ে এসেছে! আচ্ছা তিতলি যদি সেদিনের সেই আগুন্তক নারী হয়ে থাকে? যে কি-না কৃষ্ণবর্ণের আচ্ছাদনে তমসায় তার উপর অনাকাঙ্ক্ষিত আক্রমণ করে বসে ছিল!
“ভুল বুঝছো তিতলি। আমি রেগে নেই।”
মন তবুও মেনে নিতে পারল না। ন্যান্সির ওই দায়সারা জবাব তাকে শান্ত করতে পারল না। উল্টো অন্তরের দহন আরো কয়েকদফা বাড়িয়ে দিলো। মেয়েটা অপ্রতিভ ভাবে বলল,
“তাহলে নাও দুধটা খাও।”
ন্যান্সি এক নজর দুধের গ্লাস তো অন্যবার তিতলির মুখশ্রীতে দৃষ্টি বুলিয়ে চলেছে।বক্ষ ছিঁড়ে তপ্ত এক নিঃশ্বাস নির্গত করে হাত বাড়িয়ে গ্লাসটা নিলো। ভেতরে সংশয় নিয়ে দুধটা খেলো।
ঠোঁটের কোণে স্বচ্ছ হাসি প্রস্ফুটিত হয় তিতলির। পুনরায় গ্লাসটা নিয়ে বাড়ির ভেতরে চলে গেল।
এমন সময় গুনে গুনে তিনটে গাড়ি প্রবেশ করল মেইন গেট দিয়ে। শব্দ শ্রবণ ছুঁয়েছে ন্যান্সির কিন্তু উঠতে ইচ্ছে করল না দোলনা থেকে।ঠায় বসে রইল।
মিনিট পেরুতেই দোলনাটা নড়েচড়ে উঠল, পেছন থেকে কেউ ধাক্কা দিচ্ছে। নাসারন্ধ্রে প্রবেশ করল clive christian expensive perfume এর মিষ্টি সুবাস। আঁখিপল্লব বুঁজে এলো আবেশে।
পরিচিত পাথুরে লোকটা পিছন থেকে বলিষ্ঠ হাতে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে। কন্যার পিঠ ঠেকল তার পুরুষ্ট বক্ষে। হাত দুটো স্থির হলো রমণীর উদরে। লোকটা কাঁধে থুতনি ঠেকিয়ে লম্বা নিঃশ্বাস টানল। মিঠে সুবাস দেদারসে নাসারন্ধ্রে প্রবেশ করছে লোকটার। ভেতরে ভেতরে পুলকিত হচ্ছে লোকটা।
ধীর গলায় বলল,
“এখানে কেন?”
ন্যান্সি মৃদু হাসলো। স্বভাবজাত মৃদু স্বরে বলল,
“ভালো লাগছে বসতে।”
আফরিদ প্রশ্রয়ের হাসি টেনে কাঁধে ঠোঁট ছুঁয়ে বলে,
“তাহলে এখানে ছোট্ট কটেজ বানিয়ে দেই?যখন খুশি এসে বসবি?”
ভীষণ ভাবে হকচকালো ন্যান্সি। চকিতে ঘাড় ফিরিয়ে তাকালো পিছনে দাঁড়ানো লম্বাটে লোকটার দিকে। বিস্ফারিত কন্ঠে বলে,
“সত্যি?”
আফরিদ স্নিগ্ধ হাসি হেসে চোখের পাতা ফেলে ‘হ্যাঁ’ সূচক সম্মতি দিয়েছে। ন্যান্সি চট করে উঠে দাড়ালো। ভেতরে ছোট্ট একটা ভয় দানা বেঁধেছে। ম্লান মুখ করে তাকালো। ম্রিয়মাণ গলায় বলল,
“কিন্তু বাগানের ফুল গাছ গুলো তো তাহলে কেটে ফেলবেন? না না ফুলগাছ থাকুক। প্রয়োজন নেই কটেজের।”
আফরিদ এগিয়ে এলো। বিনা পূর্বাভাসে চট করে হাঁটুর নিচে হাত গলিয়ে কোলে তুলে নিল প্রিয় পরাণকে।
“ওগুলোর চিন্তা তোকে করতে হবে না,বউ।”
আর কোনো বাক্য বিনিময় হয়নি। কপালে কপাল ছুঁয়ে সামনের দিকে হাঁটা দিলো আফরিদ। ন্যান্সি কোনো বাঁধা দিলো না, আফরিদ তার প্রশান্তির জায়গা। তার তো কেউ নেই এই মানুষটা ছাড়া।
যেখানে সর্বসাধারণের পদার্পণ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ, সেই নিষ্প্রবেশ্য ভূখণ্ডে এক রহস্যাবৃতা নারী নিরবচ্ছিন্ন সতর্ক দৃষ্টি নিক্ষেপ করে চলেছে। এহসান মঞ্জিল হতে প্রায় বিশ মিনিট দূরবর্তী ঘন অরণ্যবেষ্টিত যে দুর্গম পাহাড়চূড়া, তার অন্তরালে সুগোপনে প্রতিষ্ঠিত এক গোপন রিসার্চ সেন্টার। যার অস্তিত্ব সাধারণের অজ্ঞাত সে বিষয়ে এই নারীর জ্ঞানের পরিধি বিস্ময়করভাবে সুদূরপ্রসারী। কেবল জ্ঞাতই নয়, অভ্যন্তরস্থ প্রতিটি নাড়ি-নক্ষত্র যেন তার মুঠোবন্দী।
এক হাতের অন্তর্গত গোপন ভিডিওচিত্র, অপর হাতে মদের স্বচ্ছ পাত্র; ফ্ল্যাটের পছন্দের কেবিনে বসে আছে নারী। ল্যাপটপের পর্দায় নিবিষ্ট দৃষ্টিতে সেই ফুটেজ পর্যালোচনায় রত আগন্তুকা রমণী। তার চাহনিতে প্রাথমিকভাবে এক অগাধ বিস্ময়ের আভা প্রতিফলিত হলেও, অতি দ্রুতই তা বিলীয়মান হয়ে ওষ্ঠপ্রান্তে উদ্ভাসিত হয় এক পৈশাচিক, শীতল হাস্যরেখা।
“আফরিদ এহসান যে এক পরাকাষ্ঠার ধূর্ত শিকারি তা আমার ন্যায় আর কে-ই বা জানতে সক্ষম?”
তার ওষ্ঠযুগলে তখন প্রস্ফুটিত রহস্যঘন, দুর্বোধ্য এক হাস্যরেখা।
ফুটেজে সুস্পষ্ট মিস্টার আলবার্ট, যিনি দিনদিন শারীরিক অবক্ষয়ে ন্যুব্জ হয়ে পড়ছেন; তার পার্শ্বে অবস্থানরত মিস্টার কামাল।
আহা, এরা কি অনবদ্য কৌশলী খেলোয়াড় নয়? অন্যথায় এত দীর্ঘকাল ধরে এমন নিখুঁত পরিকল্পনাজাল বিস্তার করা কি আদৌ সম্ভব? এ কারণেই তো সে আন্ডারওয়ার্ল্ডের সম্রাট অপরাধজগতের একচ্ছত্র আধিপতি, এক মাফিয়া সম্রাট।
টেবিলের উপর স্থাপিত মোবাইল যন্ত্রটি ধীর স্থির ভঙ্গিতে তুলে নিল রহস্যময়ী নারী। সূক্ষ্ম , কর্তৃত্বমণ্ডিত কণ্ঠে অপর প্রান্তের অজ্ঞাত ব্যক্তিকে সংক্ষিপ্ত কিছু নির্দেশ প্রদান করল সে। নির্দেশ পাওয়া মাত্রই ওপারস্থিত ব্যক্তি নিঃশর্ত আনুগত্যে নিজ কর্তব্য সম্পাদনে নিমগ্ন হয়ে পড়ল।
পরিতৃপ্ত নিশ্চিন্ততায় ল্যাপটপের শাটার অবলীলায় বন্ধ করে সম্মুখস্থ দেয়ালের সংলগ্ন সুবিশাল এলইডি টিভির পর্দার প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করল সে। সেখানে তখন সম্প্রচারিত হচ্ছে ইংরেজি রোমান্টিক মুভি “The Notebook”। পর্দাজুড়ে আবেগঘন গানের সূচনা ঘটতেই, মদের গ্লাস হাতে উঠে দাঁড়ালো সেই আগন্তুক নারীটি।
অতঃপর মৃদু সুরের তালে, আপন ভঙ্গিমায় শরীর দুলিয়ে এক প্রকার মায়াবী নৃত্যলীলায় নিমগ্ন হয়ে পড়ল সে। তার প্রতিটি পদক্ষেপে যেন লুকিয়ে আছে অদৃশ্য কোনো ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত, আর প্রতিটি ভঙ্গিতে প্রতিফলিত হচ্ছে এক দুর্বোধ্য, গাঢ় রহস্যের ছায়াপাত। যা সম্পর্কে কেউ জানেনা, স্বয়ং মাফিয়া কিং নিজেও।
ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে পূর্ব আকাশে। মৃদু মন্দ হাওয়ায় উড়ছে সফেদ রঙা পর্দাগুলো।
পেছন থেকে ন্যান্সিকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে আফরিদ এহসান। ঘুম জড়ানো কন্ঠে ঘোরলাগা স্বরে বলল,
“জানকি, বাচ্চা দিনকে দিন মারাত্মক সুন্দর হচ্ছিস, আমি নিজেকে কিভাবে কন্ট্রোল করি বলতো?”
ন্যান্সি আফরিদের কথায় ভ্রু উঁচিয়ে বলল।
“এক সন্তানের বাবা হতে চলেছেন আপনি,তবুও উত্তেজনা কমে না হুঁ? ছাড়েন নষ্ট লোক একটা!”
আফরিদ আরো শক্ত করে জড়ায় ন্যান্সি কে। কাঁধে থুতনি ঠেকিয়ে বলল।
“চুপ শালী, আমি আমার দেহের মোস্ট ইম্পর্ট্যান্ট জিনিস ডোনেট করি, সেটার রিটার্ন গিফট হিসেবে আমার বাচ্চা ডেলিভারি দেওয়া তোর কর্তব্য!”
ন্যান্সি ধাক্কা দিলো আফরিদ কে।
“সরেন। আপনার মোস্ট ইম্পর্ট্যান্ট জিনিস আমি চাইনা। কুত্তাকে দেন সে আপনাকে ডজন খানেক বাচ্চা ডেলিভারি দেবে!”
আফরিদ ঠোঁট কামড়ে হাসলো। হাসিটা ভীষণ স্বচ্ছ। ন্যান্সির ঘাড়ে পরপর অনেকগুলো চুমু খেলো সে।
“তুই জানিস অ্যাঞ্জেলিনা আমার এই মূহুর্তে তোকে মারাত্মক কিছু করতে ইচ্ছে করছে!”
ন্যান্সি শুকনো ঢোক গিললো।
“অস’ভ্য লোক যান গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আসুন। ভুলে যাচ্ছেন এখন দিনের বেলা!”
“ফাক ইওর ডে-টাইম।”
ন্যান্সির কোমড় আরো শক্ত করে চেপে ধরল আফরিদ। ন্যান্সি ব্যাথায় ককিয়ে উঠলো।
“কি হয়েছে জান? জান বাচ্চা কোথায় ব্যাথা পেলি দেখা আমায়!”
বেপোরোয়া আফরিদ কে অস্থির হতে দেখে অজান্তেই হেসে ফেলল ন্যান্সি। আফরিদের গাল স্পর্শ করে। নিস্প্রভ চাহনিতে। বেপোরোয়া এই পুরুষ তাকে ভালোবাসে, তার স্বামী।
“কিছু না। আই হেইট ইউ!”
প্রত্যুত্তরে হাসল আফরিদ। এক ঝটকায় তাকে নিজের দিকে ঘুড়িয়ে গলার খাঁজে মুখ গুঁজতে গুঁজতে বলল,
“বাট আই লাভ ইউ!”
চলবে………….।
(
সবাই বেশি বেশি রেসপন্স করবেন, মন্তব্য প্রয়োজন। ভালো খারাপ দুটোই বলবেন!
Share On:
TAGS: অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা, ফারহানা নিঝুম
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৭১
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩৯
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১৭
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৬২
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা [ পর্ব ৫৭] প্রথম অর্ধেক
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৮৫
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৫১
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা বাসর স্পেশাল
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৬
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৬৭