Golpo romantic golpo অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা

অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৮২


অ্যাঞ্জেল_অ্যাঞ্জেলিনা

[পর্ব ৮২]

লেখিকাফারহানানিঝুম

(
দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয়।)
(
কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)
[দ্বিতীয় খন্ড]
নিস্তব্ধ ফ্ল্যাটজুড়ে বিরাজ করছে এক অস্বস্তিকর নৈঃশব্দ্য। বিশাল সুইমিংপুলের নীলাভ জলরাশি কাচের দেয়ালে প্রতিফলিত হয়ে চারপাশে ছড়িয়ে দিচ্ছে শীতল আলো।
পুলসাইডের লাউঞ্জারে আধশোয়া এক রমণী। তার পরণে সাহসী নকশার রক্তিম পোশাক, যেন লাল রঙের প্রতিই তার এক দুর্বার আসক্তি। দীর্ঘ নখে চকচকে রুবি-রঙা নেলপলিশ, অধরে গাঢ় লাল লিপস্টিক, আর কোমর ছুঁয়ে নামা চুলের প্রান্তে হালকা রেড টোন সব মিলিয়ে তার উপস্থিতি যেন বিপদেরই এক নীরব প্রতীক।
তার ওপর সামান্য ঝুঁকে দাঁড়িয়ে আছে এক দীর্ঘদেহী পুরুষ। দুজনের মাঝখানে কথার চেয়ে দৃষ্টির আদান-প্রদানই অধিক প্রবল। সেই দৃষ্টিতে মিশে আছে গোপন ষড়যন্ত্র, অন্ধকার উদ্দেশ্য আর এক অদ্ভুত মানসিক খেলা।
“ফা*** মি হার্ডার, বেইবি!”
নারীর কন্ঠে পুরুষটি যেন উন্মাদ হয়ে উঠে!তাকে তো আনাই হয়েছে এসবের জন্য!
“ডু ইউ লাইক দিস পজিশন?”
“ইয়েস!”
পুরুষটির দৃষ্টি ছিল না কোনো ভালোবাসার, না কোনো কোমলতা। সেখানে ছিল কেবল ভোগের নির্মম ক্ষুধা। আর রমণীর চোখেও প্রেমের কোনো আভাস নেই বরং এক অতৃপ্ত, বিকৃত তৃষ্ণা, যা কখনো পরিতৃপ্ত হয় না। যেন মানুষ নয়, মানুষ তার কাছে কেবল ক্ষণস্থায়ী এক বস্তু; ব্যবহার শেষে যার আর কোনো মূল্য থাকে না।
তার ঠোঁটের কোণে লেপ্টে থাকা হাসিটুকুও ছিল অস্বাভাবিক শীতল, হিসেবি, হিংস্র। প্রতিটি স্পর্শ, প্রতিটি অঙ্গভঙ্গি যেন আবেগের নয়, ছিল নিজের অন্তহীন শূন্যতা আর মানসিক বিকারের খাদ পূরণ করার এক ব্যর্থ প্রয়াস। যতবারই সে নতুন পুরুষের সান্নিধ্যে আসে, ততবারই মনে হয় এবার বুঝি সেই অতৃপ্তি মুছে যাবে। অথচ কয়েক মুহূর্ত পরই আবার গ্রাস করে আরও গভীর শূন্যতা।


“জীবনে দুটো জিনিসকে আমি সবচেয়ে বেশি ভয় পাই। এক আমার বউ যেন আমাকে ছেড়ে না যায়। দুই আমার বউ যেন কখনো কষ্ট না পায়। এর বাইরে ভয়ের অভিধানে আর কোনো শব্দ নেই, অফিসার।”
রসিকতার সুরে কথাটা বললেও তার কণ্ঠে লেশমাত্র কৃত্রিমতা ছিল না। বরং সেই স্বাভাবিক ভঙ্গিটাই যেন আরও বেশি অস্বস্তিকর করে তুলছিল পরিস্থিতিকে।
সমুদ্রের ধারে বিস্তৃত Port Vell এর নির্জন ডেকজুড়ে তখন হুহু করে ছুটে বেড়াচ্ছে লবণাক্ত বাতাস। উত্তাল ঢেউগুলো কাঠের পাটাতনে ধাক্কা খেয়ে একটানা শব্দ তুলে চলেছে। আকাশে মেঘের ভেলা, চারপাশে অস্বস্তিকর এক নিস্তব্ধতা।
ডেকের মাঝ বরাবর মুখোমুখি রাখা দুটি ধাতব চেয়ারে বসে আছে দুই ভিন্ন জগতের মানুষ।একজন আইন অন্যজন আইন ভাঙার সম্রাট। আর বহু দূরে, একটি পরিত্যক্ত জাহাজের ডেকের কিনারায় নিখুঁত ভঙ্গিতে শুয়ে রয়েছে এক পেশাদার স্নাইপার। কালো ট্যাকটিক্যাল পোশাকে আচ্ছাদিত দেহ, চোখ স্থির স্কোপের ভেতর। রাইফেলের ট্রিগারে রাখা তর্জনী এক চুলও কাঁপছে না। নিয়ন্ত্রিত শ্বাস-প্রশ্বাস, অনুভূতিহীন দৃষ্টি।
তার ক্রসহেয়ারের ঠিক কেন্দ্রে বসে আছে ইস্ক্রিয়াস।
শুধু একটি নির্দেশের অপেক্ষা।একটি আঙুলের সামান্য চাপ আর সবকিছুর সমাপ্তি।
অথচ নিচে বসে থাকা মানুষটি এসবের কিছুই জানে না।
ইস্ক্রিয়াস তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে সামনের মানুষটির দিকে তাকিয়ে রইল। তার চোখে সন্দেহ, কৌতূহল আর অদৃশ্য এক চাপা উত্তে’জনার সহাবস্থান।
অবশেষে দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে সে ধীর অথচ কঠিন স্বরে বলল,
“এত অপরাধ, এত সুপরিকল্পিত ছদ্মবেশ বিশ্বের কাছে একজন সফল ব্যবসায়ী, আন্তর্জাতিক অঙ্গনের প্রভাবশালী টাইকুন, আর অন্ধকার জগতের আড়ালে সেই একই মানুষ ‘মাস্টার মাইন্ড’ আফরিদ এহসান।
সবকিছু যখন এত নিখুঁতভাবে গোপন রেখেছিলে, তখন হঠাৎ নিজেই সামনে চলে এলে কেন?”
আফরিদ এহসানের ঠোঁটের কোণে ধীরে ধীরে একটি ক্ষীণ হাসি ফুটে উঠল।
“গুড। অন্তত এটুকু বুঝতে পেরেছো যে আমি নিজেই সামনে এসেছি। কারণ ছাড়া আমি কখনোই নিজেকে কারও সামনে উন্মুক্ত করি না।”
ইস্ক্রিয়াস নির্বাক রইল।সে জানে, এই মানুষটিকে খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব।আফরিদ চাইলে অদৃশ্য হয়েই থাকতে পারত।তবু আজ সে নিজেই দেখা করতে এসেছে।
এতেই লুকিয়ে আছে বড় কোনো উদ্দেশ্য।আফরিদ আর সময় নষ্ট করল না।
চেয়ারে হেলান দিয়ে বসলো আফরিদ। পকেট থেকে বের করে আনে সিগার। লাইটার জ্বালিয়ে দিল একজন গার্ড। সিগার জ্বলে ওঠতেই সেথায় সুখটান দিলো পুরুষটি।বলল,
“রুলস, প্রটোকল, কূটনীতি এগুলো আমার ধাতে নেই। ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে কথা বলতে ভালো লাগে না।যে কারণে তোমাকে এখানে ডাকা হয়েছে, চল সরাসরি সেই প্রসঙ্গে আসি।”
ইস্ক্রিয়াস একবার পাশ ফিরল।রাইসা নীরবে দাঁড়িয়ে আছে।দু’হাত পিছমোড়া করে বাঁধা।সমুদ্রের বাতাসে এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে তার চুল। মুখে কোনো শব্দ নেই, অথচ চোখদুটি যেন হাজারো অপ্রকাশিত আ’র্তনাদে ভারী।সেই দৃশ্য দেখেই আফরিদের ঠোঁটে ফুটে উঠল দুর্বোধ্য এক হাসি।
“একজন আইনের মানুষ হয়ে একজন অপরাধীকে ভালোবাসা,,,
সে মৃদু মাথা নাড়ল।
“বেশ বড় অপরাধ, অফিসার।”
ইস্ক্রিয়াসের চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল।সে বুঝেছে আফরিদ ঠিক কী ইঙ্গিত করছে। হঠাৎ আফরিদ বলল,
“লেটস মেক আ ডিল।”
ইস্ক্রিয়াস ভ্রু কুঁচকে তাকাল।
“হোয়াট?”
আফরিদ ঘাড় ডানে-বামে কাত করে আলগোছে ম্যাসাজ করতে করতে বলল,
“আমি জানি তুমি রাইসাকে ভালোবাসো।এটাও জানি রাইসাও তোমাকে ভালোবাসে।একজন পুলিশ অফিসার আর একজন ক্রিমিনাল কী অদ্ভুত সমীকরণ, তাই না?”
ব্যঙ্গের আভাস থাকলেও ইস্ক্রিয়াস নির্বিকার।সে ঠান্ডা গলায় বলল,
“মূল কথায় এসো।”
আফরিদ এবার সম্পূর্ণ গম্ভীর হয়ে গেল।
“তোমাকে দুটো পথ দিচ্ছি। অপশন ওয়ান রাইসাকে নিয়ে চলে যাবে। পৃথিবীর যেখানেই যেতে চাও, যাও। নতুন জীবন শুরু করবে।”
সে থেমে গেল।ইস্ক্রিয়াসের কণ্ঠ বজ্রের মতো গর্জে উঠল।
“না হলে?”
আফরিদ ধীরে ধীরে চারপাশে তাকাল।তারপর সামান্য ঝুঁকে এসে ইস্ক্রিয়াসের চোখে চোখ রেখে বলল,
“না হলে? অপশন টু ইস্ক্রিয়াস নামটা আর ইস্ক্রিয়াসের অস্তিত্বটা দুটোই পৃথিবীর বুক থেকে মুছে দেব।”
রাইসার গলা শুকিয়ে এল।ইদ্রানও অনড় হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।কয়েক সেকেন্ড নীরবতার পর ইস্ক্রিয়াস। সমুদ্রের প্রবল বাতাসে তার কোটের প্রান্ত উড়ে উঠল।
ইস্ক্রিয়াস ঠান্ডা দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল আফরিদের দিকে। তারপর ধীরে ধীরে চেয়ারে হেলান দিয়ে গম্ভীর স্বরে বলল,
“ওয়েল,এতক্ষণ ধরে শুধু তুমিই বলছিলে। এবার আমি বলি, আর তুমি মন দিয়ে শুনো।অপশন ওয়ান নিজে থেকে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করো। নয়তো প্রস্তুত থাকো, খুব শীঘ্রই তোমার সাম্রাজ্যের হিসাব-নিকাশ আদালতের কাঠগড়ায় হবে।
অপশন টু এই মুহূর্তেই তোমার সমস্ত কালো ব্যবসার ইতি টানো। অন্ধকারের সাম্রাজ্য ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসো। এটা শুধু রাইসার কথা ভেবেই তোমাকে দেওয়া শেষ সুযোগ।এখন সিদ্ধান্ত তোমার।”
আফরিদের ঠোঁটের কোণে এক চিলতে দুর্বোধ্য হাসি ফুটে উঠল। ঠিক সেই মুহূর্তেই দূরে, মানুষের দৃষ্টিসীমার বহু বাইরে, স্নাইপারটির চোখে ঝিলিক খেলে গেল।
সুযোগ।দীর্ঘক্ষণ ধরে সে অপেক্ষা করছিল এই একটি মুহূর্তের জন্য।রাইফেলের স্কোপের ভেতর টার্গেট স্পষ্ট।
নিয়ন্ত্রিত শ্বাস,স্থির আঙুল,একজন পেশাদার ক্লিলার।
দ্বিধা যার অভিধানে নেই। পরমুহূর্তেই ঠাস শব্দে একসঙ্গে ছুটে এলো দুটি বুলেট।
বিদ্যুৎগতিতে বাতাস চিরে ধেয়ে এলো ডেকের দিকে।
মুহূর্তের জন্য সময় যেন স্থির হয়ে গেল। আফরিদ ঠিক ইস্ক্রিয়াসের সামনেই বসে ছিল। যদি লক্ষ্য আফরিদ হয়, তবে বুলেট সোজা বিদ্ধ হবে তার কপালে।
আর যদি লক্ষ্য ইস্ক্রিয়াস হয়, তবে গুলি আ’ঘাত হানবে তার মাথার পেছনে।কিন্তু ঠিক সেই ক্ষণেই বাজপাখির মতো তীক্ষ্ণ হয়ে উঠল আফরিদের দৃষ্টি।কোনো রকম চিন্তা না করেই এক ঝটকায় ইস্ক্রিয়াসকে সজোরে ধাক্কা দিল পাশের দিকে। ঠাস শব্দে বুলেট ছিটকে গিয়ে আ’ঘাত করল জাহাজের ধাতব রেলিংয়ে।আগুনের ফু’লকির মতো ছিটকে উঠল স্ফুলিঙ্গ।
পরের মুহূর্তেই চারদিকে শুরু হয়ে গেল হুলস্থুল।
“কভার নাও!”
আফরিদের বজ্রকঠিন গর্জন প্রতিধ্বনিত হলো সমুদ্রের বুক জুড়ে। একই সঙ্গে প্যান্টের পকেট থেকে বিদ্যুৎগতিতে বেরিয়ে এলো তার কালো রিভলভার।
ঠাস,ঠাস,ঠাস! পরপর গু’লির শব্দে কেঁপে উঠল পুরো Port Vell।যে যার মতো আড়াল নিতে ছুটল।
ইস্ক্রিয়াস এক মুহূর্তের জন্য নির্বাক হয়ে গেল।
আফরিদ তাকে বাঁচিয়েছে?এই ভাবনাটা মাথায় এলেও তা স্থায়ী হওয়ার সুযোগ পেল না।পেশাদার অফিসারের মতো সেও কোমর থেকে নিজের রিভলভার বের করে নিল।
আড়াল নিয়ে পাল্টা গু’লি চালাতে শুরু করল।
অন্যদিকে আফরিদ অবিশ্বাস্য ক্ষি’প্রতায় একের পর এক শট ফায়ার করে চলেছে।
ঠিক তখনই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিল।
সমুদ্রের ঢেউ কেটে তিন-চারটি স্পিডবোট এসে ভিড়ল ডেকের গায়ে।সেখান থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ল মুখোশধারী একদল সশস্ত্র হামলাকারী।
মুহূর্তের মধ্যেই যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হলো চারপাশ।
ঠাস! অবিরাম গু’লির শব্দে কেঁপে উঠছে সমুদ্রের বাতাস।
হঠাৎই একটি বু’লেট সোজা ধেয়ে এলো ইস্ক্রিয়াসের দিকে।
এক সেকেন্ডও দেরি করল না আফরিদ।তার কব্জি শক্ত করে টেনে নিল নিজের দিকে।ভারসাম্য হারিয়ে ইস্ক্রিয়াস সোজা এসে পড়ল আফরিদের বুকের ওপর।দু’জনেই এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল।
তারপর আফরিদ নাক-মুখ কুঁচকে বিরক্তির ভান করে বলল,
“উফ্,ইন্সপেক্টর, আমার ইজ্জত লুটতে এতটাই উদগ্রীব নাকি? আরে ভাই, আই অ্যাম নট সিঙ্গেল অ্যান্ড ডেফিনিটলি নট লেসবিয়ান! আমার বউ যদি এই দৃশ্য দেখে, আজ রাতেই আমাকে বাড়ির বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখবে!”
ইদ্রান আড়াল থেকেই হাসি চেপে রাখার প্রাণপণ চেষ্টা করল।রাইসা হতবাক। এই মৃ’ত্যুপুরীতেও লোকটা রসিকতা করছে! ইস্ক্রিয়াস দাঁত চেপে ধীরে ধীরে নিজেকে সরিয়ে নিল। কাঁধের ধুলো ঝাড়তে ঝাড়তে তীক্ষ্ণ, বিদ্রূপমিশ্রিত কণ্ঠে বলল,
“নিজেকে এত গুরুত্বপূর্ণ ভাবার রোগটা কবে থেকে শুরু হয়েছে? নিশ্চিন্ত থাকো, তোমার তথাকথিত ‘ইজ্জত’ লুটার মতো দুর্ভাগ্য আমার এখনো হয়নি। আমি শুধু নিজের প্রাণটাই বাঁচাচ্ছিলাম। আর হ্যাঁ পৃথিবীতে সুদর্শন পুরুষের অভাব নেই, তাই তোমার দিকে দ্বিতীয়বার তাকানোরও কোনো প্রয়োজন অনুভব করছি না।”
একটি বুলেট সাঁই করে দু’জনের মাঝখান দিয়ে বেরিয়ে গেল। আফরিদ আবারও নির্বিকার।
রিভলভারের ম্যাগাজিন বদলাতে বদলাতে চোখ টিপে বলল,
“আরে রাগ করছো কেন অফিসার! ওই গানটার মতো বলো। just chill chil ,just chill,,,
ইস্ক্রিয়াস দাঁতে দাঁত চিপে ওষ্ঠে মেকি হাসি টেনে বলল,
“Just cheyao cheyao, just cheyao,,,
আফরিদ হালকা হাসল,
“এই তো! রাগলে তোকে আরও হ্যান্ডসাম লাগে, অফিসার। তবে সাবধান এতক্ষণ ধরে যদি আমার গায়েই পড়ে থাকো, আশপাশের মানুষ কিন্তু অন্য কিছু ভেবে বসবে!”
ঠাস! কথা শেষ করেই এক গু’লিতে দূরের এক হামলাকারীকে মাটিতে ফেলে দিল সে।
তারপর মুচকি হেসে যোগ করল,
“আর যদি আমার ওয়াইফ পরে জিজ্ঞেস করে ‘এহসান, স্পেনে গিয়ে নতুন কাউকে জড়িয়ে ধরেছিলে?’ তখন কিন্তু সাক্ষী হিসেবে তোমাকেই হাজির করব!”
ইস্ক্রিয়াস বিরক্তিতে কপালের রগ ফুলিয়ে বলল,
“তুমি পৃথিবীর সবচেয়ে অসহ্য অপরাধী!”
আফরিদ নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে কাঁধ ঝাঁকাল।
“থ্যাঙ্ক ইউ। তবে ‘ভীষণ সুদর্শন’ কথাটা বাদ পড়ে গেছে, অফিসার।”
চারদিকে তখনও মৃ’ত্যুর উন্মত্ত নৃত্য।
অবিরাম গোলাগুলি।
আফরিদ ঠিক তখনই আড়াল বদলাতে যাচ্ছিল। ইস্ক্রিয়াসও বিপরীত পাশ থেকে ছুটে এল। দু’জনের কাঁধ সজোরে ধাক্কা খেল।
আফরিদ বিরক্ত মুখে জামার কাঁধ ঝাড়তে ঝাড়তে বলল,
“আরে ব্রাদার, একটু দেখে চলবে? আমার বউ জানলে ভাববে স্পেনে এসে নতুন কাউকে জড়িয়ে ধরেছি!”
ইস্ক্রিয়াস দাঁত চেপে উত্তর দিল,
“তোমার মুখ বন্ধ রাখার কোনো সুইচ নেই?”
আফরিদ গম্ভীর মুখে কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে রইল। তারপর দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
“আছে তো! কিন্তু সেটা শুধু আমার ওয়াইফের কাছে থাকে। তুই চাইলে আবেদন করতে পারিস, তবে অনুমোদনের সম্ভাবনা শূন্য।”
রাইসা অনিচ্ছা সত্ত্বেও ঠোঁট চেপে হাসি আটকে রাখল।
ইস্ক্রিয়াস বিরক্ত হয়ে রিভলভার রিলোড করতে করতে বলল,
“তুমি পৃথিবীর সবচেয়ে অসহ্য ক্রিমিনাল।”
আফরিদ ভ্রু নাচিয়ে উত্তর দিল,
“ধন্যবাদ। এটাকেও আমি কমপ্লিমেন্ট হিসেবেই নিলাম। তবে একটা কথা গু’লি চালানোর আগে যদি আরেকটু আমার দিকে তাকিয়ে থাকো, আমার বউ কিন্তু সত্যিই ভুল বুঝবে।”
“চুপ!”
গর্জে উঠল ইস্ক্রিয়াস।
আফরিদ দু’হাত সামান্য তুলে আত্মসমর্পণের ভঙ্গি করল।
“ওকে ওকে রাগ করিস না। জানিস তো, সুন্দর ছেলেদের দেখলে মানুষ একটু বেশিই তাকিয়ে থাকে। এটা আমার দোষ না, আল্লাহর ডিজাইন।”
ইস্ক্রিয়াস এবার সত্যিই কপালে হাত ঠেকাল।
“আমি জীবনে অনেক অপরাধী দেখেছি, কিন্তু তোমার মতো নির্লজ্জ দেখিনি।”
আফরিদ দুষ্টু হেসে চোখ টিপে বলল,
“এখনও তো পুরো ক্যারেক্টার দেখিসনি, অফিসার। বেঁচে থাকলে আরও অনেক কিছু দেখাব।”
ইস্ক্রিয়াস রিভলভারের ম্যাগাজিন পরীক্ষা করতে করতে নির্বিকার গলায় বলল,
“তোমাকে নিয়ে একটা জিনিস স্বীকার করতেই হবে।”
আফরিদ ভ্রু তুলল।
“বলুন অফিসার, প্রশংসা শুনতে আমার আপত্তি নেই।”
“তোমার আত্মবিশ্বাসটা অস্বাভাবিক।”
আফরিদ ঠোঁটের কোণে তাচ্ছিল্যের হাসি টেনে বলল,
“ভুল বলেছ। আত্মবিশ্বাস না,এটাকে বলে অভ্যাস।”
ইস্ক্রিয়াস কাঁধ ঝাঁকাল।
“অভ্যাস?”
“হ্যাঁ। সবাই আমাকে হারানোর পরিকল্পনা করে, শেষে নিজেরাই হেরে যায়।”
ইস্ক্রিয়াস মৃদু হেসে রিভলভারটা কোমরে গুঁজে দিল।
“অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসই মানুষের পতনের কারণ হয়।”
আফরিদ গভীরভাবে তার মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর হঠাৎ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
“উফ্… কী দুঃখের বিষয়!”
ইস্ক্রিয়াস ভ্রু কুঁচকে প্রশ্ন করল,
“কী দুঃখের বিষয়?”
আফরিদ মাথা নেড়ে আফসোসের ভঙ্গিতে বলল,
“তোমার মতো সুদর্শন একটা পুলিশ যদি আমার সিকিউরিটি টিমে থাকত, তাহলে বিদেশি ক্লায়েন্টদের ইমপ্রেস করতে সুবিধা হতো।”
রাইসা কপালে হাত ঠেকাল।
“ভাই!”
আফরিদ নির্বিকার।
“কী? ছেলেটা দেখতে তো খারাপ না।”
ইস্ক্রিয়াস ঠান্ডা চোখে তাকিয়ে রইল।
“আমি পুলিশের চাকরি ছেড়ে তোমার বডিগার্ড হব এমন দিবাস্বপ্ন দেখো না।”
আফরিদ গম্ভীর মুখে কয়েক সেকেন্ড ভাব করার পর বলল,
“বডিগার্ড না হলে পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট হলেও চলবে। দিনে দু’বার কফি এনে দিলেই বেতন বাড়িয়ে দেব।”
ইদ্রান মুখ ফিরিয়ে হাসি চেপে রাখল।ইস্ক্রিয়াস এবার বিরক্ত হয়ে বলল,
“তুমি কি সবসময় এত বিরক্তিকর?”
কয়েক সেকেন্ড দুজনের দৃষ্টি আকাশে বিদ্যুতের রেখার মতো সংঘর্ষে আবদ্ধ রইল।
তারপরই ঠাস!
দূর থেকে ভেসে এল প্রথম গু’লির শব্দ।
তার দৃষ্টি তখনও শিকারি বা’জপাখির মতো চারদিক চিরে বেড়াচ্ছে। প্রতিটি নড়াচড়া, প্রতিটি ছায়া, প্রতিটি সম্ভাব্য আক্রমণের উৎস সবকিছুই যেন মুহূর্তে বিশ্লেষণ করে ফেলছে তার স্নায়ু।হঠাৎই নী’লাভ দৃষ্টি গিয়ে স্থির হলো রাইসার ওপর।
মেয়েটি আতঙ্কে দিশেহারা হয়ে ঠিক খোলা ডেকের মাঝ বরাবর দাঁড়িয়ে পড়েছে।আফরিদের বুক ধক করে উঠল।
“রাইসা!”
তার বজ্রকঠিন কণ্ঠস্বর সমুদ্রের গর্জন ছাপিয়ে প্রতিধ্বনিত হলো।এক মুহূর্ত বিলম্ব না করে সে বিদ্যুৎগতিতে ছুটে গেল। শক্ত হাতে রাইসার বাহু চেপে ধরে সজোরে ডানদিকে টেনে ফেলতেই ঠাস! অগ্নিগর্ভ এক বুলেট বাতাস বিদীর্ণ করে এসে সজোরে বিদ্ধ হলো আফরিদের বাম বাহুতে।
মাংস ছিন্ন করে র’ক্ত ছিটকে উঠল।আর মাত্র এক মুহূর্ত দেরি হলেই সেই বুলেট রাইসার বক্ষ ভেদ করত।
রাইসা আতঙ্কে থরথর করে কেঁপে উঠল। নিঃশ্বাস গলায় আটকে এল।
কাঁপা কণ্ঠে ফিসফিস করে উঠল,
“ভাই…
কিন্তু আফরিদ যেন ব্যথার অস্তিত্বই অনুভব করল না।
র’ক্ত ঝরছে।তবুও তার তীক্ষ্ণ নয়ন অবিরাম ঘুরে বেড়াচ্ছে চারপাশে। শ’ত্রু কোথায় সেই একটিমাত্র প্রশ্নেই নিবদ্ধ তার সমস্ত মনোযোগ।
ঠিক তখনই যুদ্ধক্ষেত্রের সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তে বাতাস কেঁপে উঠল আরেকটি শীতল শব্দে। দূরবর্তী কোনো অদৃশ্য উচ্চতা থেকে আবারও গর্জে উঠল স্নাইপার রাইফেল।ঠাস! শব্দটা কর্ণগোচর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আফরিদের দেহ সামান্য ঝাঁকুনি খেল।
পরের মুহূর্তেই তার বাম বক্ষের অল্প নিচে সীমানা ঘেঁষে জ্ব’লন্ত অগ্নিশ’লাকার মতো বিদ্ধ হলো আরেকটি বুলেট।
প্রচণ্ড অভিঘাতে শরীরটা এক পা পেছনে টলে গেল।
কালো শার্টের বুকের অংশ মুহূর্তেই রক্তে সিক্ত হয়ে উঠল।
সময় যেন আচমকা স্তব্ধ হয়ে গেল।
সমুদ্রের গর্জন,গুলির শব্দ,মানুষের আ’র্তচিৎকার সবকিছু যেন কয়েক সেকেন্ডের জন্য দূরে সরে গেল।
অদূরে, অন্ধকারে আত্মগোপন করে থাকা সেই পেশাদার ঘা’তকের ঠোঁটের কোণে ধীরে ধীরে প্রস্ফুটিত হলো নির্মম তৃপ্তির হাসি। সে স্কোপের ভেতর দিয়ে শেষবারের মতো নিজের টার্গেটকে পর্যবেক্ষণ করল।
রক্তাক্ত দেহ,টলে যাওয়া পদক্ষেপ,অবনত কাঁধ সবকিছু তার প্রত্যাশামতোই ঘটেছে।
অবশেষে সে ধীর, অনুভূতিহীন কণ্ঠে ফিসফিস করে উচ্চারণ করল,
“Target down”
কথাটা বলেই নিঃশব্দে রাইফেল নামিয়ে আনল সে।
তার মিশন সমাপ্ত।


এতগুলো কল করার পরেও একটা মানুষ কল রিসিভ করছেনা! শুধু সে-ই নয় তার সঙ্গি অবধি ব্যস্ত এখন!
রাগে দপদপ করে জ্বলছে ন্যান্সি! অসহ্য!
এরই মধ্যে কেটে গিয়েছে দু’দিন। এই দুদিন ধরে রাত দিন এক হয়ে গেছে ন্যান্সির! আফরিদ কিনা দু’দিন ধরে একটা কল অবধি করেনি? এতটা বেপরোয়া হয়ে গেল? মনে মনে আহাত হলো মেয়েটা, আপন মনে বিড়বিড় করে আওড়ালো।
“আমরা তাদেরকে-ই কেন ভালোবাসি, যারা আমাদের ভালোবাসার মূল্য দেয়না?”
তপ্ত নিঃশ্বাস ছেড়ে বলল,
“আপনি কোথায় আফরিদ এহসান?আপনার বাবু এবং বাবুর আম্মু দুজনেই আপনাকে মিস করছে। তারা আপনার সাথে দোলনায় উঠতে চায়…
সন্ধ্যা নেমেছে, নিজ দায়িত্বে খাবার রান্না করছে তিতলি। তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছে স্মাইলি। এখানে তো তার কাজ নেই, তবে এখানে আসার পর থেকে ন্যান্সির কাছে দারুন সব রেসিপি শিখেছে সে।
“এই নাও ইলহাম আপু তুমি এটা ট্রাই করো।”
তিতলি স্মাইলির বানানো নতুন একটা ডিশ সামনে রাখল। ন্যান্সি আড়চোখে স্মাইলি আর তিতলি দুজন কে পরখ করে হালকা হাসার চেষ্টা করে বলল,
“বাড়ির বাকিরা কোথায়?”
স্মাইলি আশপাশটা দেখে বলল।
“সকলে ব্রেকফাস্ট করে যে যার মতো বেরিয়ে গেছে। কল্পনা আর মাইমুনা আন্টি ওনারাও বেরিয়েছেন, একসাথে।”
ন্যান্সি কিছু একটা ভেবে মাথা দোলায়। তপ্ত নিঃশ্বাস ছেড়ে চামচ দিয়ে অল্প খাবার মুখে তুলল।
তৎক্ষণাৎ মনে পড়ল আফরিদের কথা! সে এখনো কল করেনি তাকে।
তিতলি স্মাইলির সঙ্গে কি নিয়ে যেনো আলোচনা করছে। তাদের কথোপকথনে ব্যাঘাত ঘটে ন্যান্সির প্রশ্নে।
“তোমাদের কি ইদ্রান ভাইয়া আর ঈশান ভাইয়ের সাথে কথা হয়েছে?”
তিতলি চট করে জবাব দেয়।
“না কাল সকালে একবার কথা হয়েছিলো এরপর আর হয়নি।”
স্মাইলি একই সুরে বলে উঠে,
“হ্যাঁ আমারো।”
ন্যান্সির ক্ষোভ হলো প্রচণ্ড। এদিকে জাঁদরেল পুরুষ তার সাথে সেদিন রাতে অল্প সময় কথা বলেছিল, এরপর তো ভুলেই বসেছে।
তিতলি অনেক্ষণ যাবত লক্ষ্য করছে ন্যান্সি কেমন অন্যমনস্ক হয়ে আছে। মৃদু স্বরে রিনরিনে গলায় শুধোয়,
“তুমি ঠিক আছো ইলহাম আপু?”
ন্যান্সি আমতা আমতা করে বলল,
“হ্যাঁ আমি ঠিক আছি। নাও তোমরা খেয়ে নাও।”
তিতলি স্মাইলির পাশাপাশি বসল, দু’জনের এতকি কথা তা বুঝতে পারছেনা ন্যান্সি। সে টেবিল ছেড়ে প্লেট নিয়ে ওঠে পড়ে।
এমন সময় তিতলির ফোনটা বেজে উঠলো।
“হ্যাঁ ঈশান বলুন।”
ওপাশের ঈশান কি বলল তা স্মাইলি শুনতে পেলো না। কিন্তু তার কথায় আঁতকে উঠে তিতলি। বসা থেকে ত্বরিত গতিতে উঠে দাঁড়ালো, চাপা স্বরে চ্যাঁচাল কন্যা।
“কী বলছেন এসব ঈশান? ভাইয়া… ভাইয়া ঠিক আছে তো?”
ঈশান কি বলছে স্মাইলি জানেনা, কিন্তু তিতলির কথায় বুঝতে পারল খুব বাজে কিছু হয়েছে।
“তিতলি কি হয়েছে?”
তিতলি ফোন রেখে অবশ হয়ে ধপ করে চেয়ারে বসে পড়ল। ঘাম ছুটে যাচ্ছে মেয়েটার। স্মাইলি বিচলিত হয়ে ওঠে, তিতলির কাঁধে হাত স্পর্শ করিয়ে বলে।
“কী হয়েছে তিতলি? তুমি অস্থির হচ্ছো কেন?”
তিতলি হাপুস নয়নে তাকালো স্মাইলির দিকে। খুবই চাপ স্বরে বলল,
“ইলহাম আপু কোথায়?”
স্মাইলি সন্দিহান কন্ঠে বলে,
“কিচেনে গিয়েছে। তোমার কি হয়েছে বলো? ঈশান ভাইয়া কি বলছিল?”
তিতলি কাঁপছে, নিঃশ্বাস ভারী হয়ে আসছে। ধরাশায়ী গলায় বলে উঠে।
“আফরিদ ভাইয়ার…গ.. গু’লি লেগেছে, তাও আবার বুকে।”
স্মাইলি যেন কথা বলতেই ভুলে গেল, কিঞ্চিৎ কেঁপে উঠলো তার কথায়।
“কি বলছো তুমি এসব? গু’লি লেগেছে মানে…
বিকট শব্দে হাতে রাখা কাঁচের প্লেট ফ্লোরে পড়ে কয়েকশ টুকরোতে রুপান্তরিত হয়েছে।
চকিতে সেদিকটায় তাকালো তিতলি আর স্মাইলি।
ন্যান্সি টলছে, বুকের ভেতর বন্দি হৃৎপিণ্ড ক্রমাগত কাঁপছে। নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম! টলটলে চোখে তাকায় মেয়েটা।
ঈশান বারবার বলেছে ন্যান্সি কে কিচ্ছুটি জানতে না দিতে অথচ মেয়েটা সব শুনে নিয়েছে!
ন্যান্সির মাথা ঘুরছে, সবকিছু ঝাপসা হয়ে আসছে। চোখে শুধু প্রিয় পুরুষের মুখশ্রী ভাসছে। কি শুনলো সে? গু’লি লেগেছে? সত্যি গু’লি লেগেছে? আর দাঁড়িয়ে থাকা সম্ভব নয়, টলে পড়ে ফ্লোরে। সহসা চিৎকার করে উঠল তিতলি।
চলবে…………..।
(
আজকের পর্ব পুরোটাই ভায়োলেন্স, জানিনা কি হবে,১৮+ রাস্ট্রিকশন খেলে আমি শেষষষ….
)
(
সবাই একটু রেসপন্স করবেন,বাই দা চৌরাস্তা বলুনতো আগুন্তক নারীর পছন্দের রঙ কি? আপনাদের কি মনে হয় কে ওই মহিলা?) See less

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply