অসম্ভবরকমভালোবাসি_তোমায়
লেখিকাসুমিচৌধুরী
পর্ব ৫৩
অতীত,,,,
পাঁচদিন কেটে গেছে। এই পাঁচদিন রিদিকে রুমের চার দেয়ালের বাইরে এক কদমও বের হতে দেওয়া হয়নি। হাত থেকে ফোনটা কেড়ে নিয়ে তাকে একদম দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। খাওয়ার সময় দরজার ওপাশে থালা রেখে আসা হয়। কেবল টিকে থাকার তাগিদে রিদি দুই এক লোকমা মুখে দিয়ে কোনোমতে প্রাণটা ধরে রাখছে। রাতে এক ফোঁটাও ঘুমাতে পারে না সে। কাঁদতে কাঁদতে বালিশ ভিজিয়ে ফেলে আর শুভ্রকে হারানোর ভয়ে বুক ফাটা যন্ত্রণায় ছটফট করে। এদিকে ইকবাল এহসান মেয়ের জন্য উঠেপড়ে পাত্র দেখা শুরু করেছেন। সোহান চৌধুরী কড়া নির্দেশ দিয়েছেন শুভ্র দেশে ফেরার আগেই রিদির বিয়েটা সেরে ফেলতে হবে। কারণ শুভ্র একবার টের পেলে এই বিয়ে কোনোভাবেই হতে দেবে না।
বিকালের দিকে সোহান চৌধুরী সাহেরা চৌধুরী আর শুভ্রাকে নিয়ে রিদিদের বাড়িতে হাজির হলেন। আজ রিদিকে ছেলে পক্ষ দেখতে আসবে। সাহেরা চৌধুরীর বুকের ভেতরটা হাহাকার করছে। তিনি অনেকবার চেষ্টা করেছেন রিদির সাথে একটু নিরিবিলিতে কথা বলতে অথবা শুভ্রকে খবরটা জানাতে। তিনি লুকিয়ে শুভ্রর নাম্বারে বারবার কল দিয়েছেন কিন্তু ফোনটা বন্ধ পেয়েছেন। সোহান চৌধুরী সারাক্ষণ স্ত্রীর ওপর বিষ নজরে রাখছেন যেন কোনোভাবেই সে শুভ্রকে খবর দিতে না পারে আর রিদির সাথে কথা বলতে না পারে।
শুভ্রা আর রাবেয়া এহসান রিদির রুমে ঢুকলেন। রিদি তখন বিছানায় কুঁকড়ে শুয়ে ছিল। চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি গড়িয়ে পড়ছে। চোখের নিচে গভীর কালি আর মুখটা শুকিয়ে একদম কাঠ হয়ে গেছে। রিদির এই জীর্ণ আর বিধ্বস্ত দশা দেখে শুভ্রার কলিজা ধক করে উঠল। শুভ্রা রিদির পাশে বসে অতি মমতায় ওর মাথায় হাত বুলাতে লাগল। রিদি হঠাৎ স্পর্শের আশায় চমকে উঠে আর্তনাদ করে বলে উঠল।
“শুভ্র ভাই?”
কিন্তু চোখ খুলে দেখে সামনে শুভ্রা বসে। শুভ্রর নাম রিদির মুখে শুনে রাবেয়া এহসান রাগে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেললেন। তিনি কর্কশ স্বরে আঙুল উঁচিয়ে গর্জে উঠলেন।
“শুভ্র তোর বড় ভাই লাগে। তাই বড় ভাইয়ের নজরেই ওকে দেখবি। আর একবার যদি ওর নাম মুখে নিস তবে তোকে আমি নিজের হাতে গলা টিপে মেরে ফেলব।”
রিদি অনেক কষ্টে বিছানায় উঠে বসল। রাবেয়া এহসানের দিকে তাকিয়ে সে এক টুকরো বিষাদমাখা হাসি হাসল।
“মেরেই ফেলো না মা। কারণ তোমরা আমাকে এখন যে জীবন্ত লাশ বানিয়ে তিলে তিলে যন্ত্রণা দিচ্ছো মৃত্যুও হয়তো এতটা যন্ত্রণার হবে না।”
রাবেয়া এহসান আর কথা বাড়াতে চাইলেন না। তিনি গুমোট মুখে নির্দেশ দিলেন।
“তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে চুপচাপ নিচে আয়। আর শুভ্রা তুই ওকে জলদি সাজিয়ে নিচে নিয়ে আসবি।”
বলেই রাবেয়া এহসান গটগট করে রুম থেকে বেরিয়ে গেলেন। রিদি শূন্য দৃষ্টিতে শুভ্রার দিকে তাকাল। শুভ্রা ব্যথিত গলায় অভিমানে ফেটে পড়ল।
“তুই আমার ভাইকে ভালোবাসতিস অথচ আমাকে কখনো বলিস নাই, কেন রে? আমি কি তোর একটুও ভরসার বন্ধু ছিলাম না? এতটাই পর ভাবতিস আমাকে?”
রিদি আর নিজেকে সামলাতে পারল না। মুহূর্তের মধ্যে শুভ্রাকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে উঠল। তার কান্নার তোড়ে বুকের ভেতর জমে থাকা সব পাথর যেন গলতে শুরু করেছে। সে হিক্কা তুলে কাঁদতে কাঁদতে বলতে শুরু করল।
“আ-আমি আ-আমি শুভ্র ভাইকে অনেক আগে থেকেই ভালোবাসি। এই কথাটা শুধু নিজের মাঝেই আগলে রেখেছি। কাউকে বলিনি। শুধু ডায়েরির পাতার সাথে শেয়ার করেছি। শুভ্র ভাইও কিচ্ছু জানত না। হঠাৎ একদিন ওই ডায়েরি শুভ্র ভাই পেয়ে যায় আর আমাকে অনেক বকাঝকা করে তাকে ভুলে যেতে বলে। কিন্তু আমি শুভ্র ভাইয়ের পিছু ছাড়িনি। আমাকে যখন নির্ভান ধরে নিয়ে গেল নির্ভান আমাকে জোর করে বিয়ে করতে চেয়েছিল। কারণ শুভ্র ভাই তখন ওখানে বন্দি ছিল। আমি যদি তাকে বিয়ে না করি তবে সে শুভ্র ভাইকে মেরে ফেলবে। আমি নিরুপায় হয়ে শুভ্র ভাইকে বাঁচাতে নির্ভানকে বিয়ে করতে রাজি হই। কিন্তু বিয়ের দিন হঠাৎ আমার কীভাবে শুভ্র ভাইয়ের সাথে বিয়ে হয়ে গেল আর শুভ্র ভাই আমাকে সকলের সামনে সবার অগোচরে বিয়ে করে নিল। সেদিন শুভ্র ভাই আমাকে বলেছিল আমি যেন এই বিয়ের কথা কাউকে না বলি। তাই আমি তোকেও বলিনি। আমাকে ভুল বুঝিস না রে। জীবনে নিজের আপন কিছু ধরে রাখতে হলে কিছু সত্যি লুকিয়ে রাখতে হয়। আমি তাই করেছি। যদি কাউকে বললে শুভ্র ভাই আমার ওপর রাগ করে বা ডিভোর্স দিয়ে ফেলে এই ভয়ে কাউকে বলি নাই। কারণ আমি শুভ্র ভাইকে হারাতে পারব না। অনেক ভালোবাসি আমি শুভ্র ভাইকে। অনেক বেশিই ভালোবাসি।”
কথাগুলো বলেই শুভ্রাকে আরও শক্ত করে চেপে ধরে রিদি পাগলের মতো ডুকরে কাঁদতে লাগল। শুভ্রা পাথরের মতো জমে গেল। তার মুখে কোনো ভাষা নেই। সে শুধু এইটুকু বুঝতে পারছে যে রিদি তার ভাইয়ের জন্য সত্যিই উন্মাদ। কিন্তু এই পাগল মেয়েটাকে এখন কে সামলাবে। তার ভাই তো এখন বহুদূরে। ফোন দিয়েও তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। শুভ্রা নিজে চেষ্টা করেছিল কিন্তু সোহান চৌধুরী কড়া নজরে থেকে তার ফোনটাও কেড়ে নিয়েছেন। রিদির তপ্ত চোখের পানি শুভ্রার বুকের ভিজে একাকার হয়ে যাচ্ছে। রিদির প্রতিটি কান্নার শব্দ যেন এই বদ্ধ ঘরের দেওয়ালে দেওয়ালে হাহাকার তুলে বলছে যে সে তার ভালোবাসা ছাড়া বাঁচবে না।রিদি যেন হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে। সে শুভ্রার হাত দুটো শক্ত করে আঁকড়ে ধরে আবার ডুকরে কেঁদে উঠল। তার কণ্ঠস্বরে এক বুক হাহাকার আর তীব্র আকুতি ফুটে বেরোচ্ছে। সে ধরা গলায় বলতে শুরু করল।
“আমাকে একবার একটু শুভ্র ভাইয়ের সাথে কথা বলিয়ে দিবি? আমি… আমি উনাকে বলব আমাকে এই নরক থেকে নিয়ে যেতে। আ-আমার ভী-ভীষণ কষ্ট হচ্ছে রে। বিশ্বাস কর আমি একটা সেকেন্ডও শান্তিতে নিশ্বাস নিতে পারছি না। প্রতিটা মুহূর্ত বেঁচে থেকে মরে যাচ্ছি আমি। আমি এই বুকফাটা কষ্ট আর সইতে পারছি না। প্লিজ… প্লিজ একটু আমাকে শুভ্র ভাইয়ের সাথে কথা বলিয়ে দে না!”
রিদির এই চরম অসহায়ত্ব দেখে শুভ্রার শক্ত মনের বাঁধও যেন ভেঙে গেল। তার চোখ থেকেও অজান্তেই তপ্ত অশ্রু গড়িয়ে পড়ল। সে রিদিকে দেওয়ার মতো কোনো সান্ত্বনা খুঁজে পাচ্ছে না। পরিস্থিতি এখন এতটাই জটিল যে শুভ্রা নিজেও নিজেকে খুব তুচ্ছ আর ক্ষমতাহীন মনে করছে। সে একদম পাথরের মতো নিথর হয়ে বসে রইল কিছুক্ষণ। তারপর অসীম মমতায় রিদির ঘামে ভেজা চুলে আর মাথায় হাত বুলিয়ে কাঁপা গলায় বলল।
“রিদি শান্ত হ। কান্না থামা বোন। এভাবে পাগলের মতো কান্না করলে তোর শরীর একদম ভেঙে পড়বে। তুই এভাবে ভেঙে পড়িস না। নিজেকে একটু শক্ত কর। আল্লাহর ওপর ভরসা রাখ। তিনি নিশ্চয়ই সব দেখছেন। তিনি তোকে এতটা পথ নিয়ে এসেছেন তিনি কখনও তোর সাথে খারাপ কিছু হতে দিবেন না। দেখবি সব ঠিক হয়ে যাবে।”
শুভ্রার কথাগুলো রিদির কানে কতটুকু পৌঁছাচ্ছে তা বোঝা যাচ্ছে না। সে শুধু শুভ্রাকে আঁকড়ে ধরে নিজের সমস্ত যন্ত্রণা উগরে দিচ্ছে।কিছুক্ষণ পর সোহান চৌধুরী আর ইকবাল এহসান ঝড়ের বেগে রুমে ঢুকলেন। রিদিকে এখনো সেই বিধ্বস্ত অবস্থায় বিছানায় পড়ে থাকতে দেখে ইকবাল এহসানের রাগের পারদ চড়চড়িয়ে উঠে গেল। তিনি শুভ্রার দিকে তাকিয়ে কড়া গলায় গর্জে উঠলেন।
“ওকে এখনো তৈরি করোনি কেন। নিচে ওর জন্য সবাই অপেক্ষা করছে।”
রিদি যেন আকাশ থেকে পড়ল। সে বড় বড় চোখে পাথর হয়ে বাবার দিকে তাকিয়ে ধরা গলায় বলল।
“তৈরি মানে। কিসের তৈরি।”
সোহান চৌধুরী এগিয়ে এলেন। তার কণ্ঠে কোনো আবেগ নেই। তিনি শীতল গলায় চরম সত্যটা ছুড়ে দিলেন।
“ছেলে পক্ষ দেখতে এসেছে তোকে। এখন কান্নাকাটি আর চেঁচামেচি না করে লক্ষ্মী মেয়ের মতো রেডি হয়ে নিচে আয়।”
কথাটা শোনার সাথে সাথে রিদির মনে হলো তার মাথায় যেন আস্ত একটা আকাশ ভেঙে পড়ল। শরীরটা রি রি করে উঠল তার। সে বুক ফাটিয়ে চিৎকার করতে নিলেই ইকবাল এহসান চিতার মতো এগিয়ে এসে রিদির মুখ চেপে ধরলেন। তিনি চোখ লাল করে দাঁতে দাঁত চেপে শাসিয়ে বললেন।
“চুপ। একদম চুপপ। মুখ দিয়ে একটু সাউন্ড বের হলে আজ তোকে আমি একদম জবাই দিয়ে ফেলব।”
বলেই তিনি ঝটকা দিয়ে হাত সরিয়ে নিলেন। রিদি আর স্থির থাকতে পারল না। সে বিছানা থেকে আছড়ে পড়ে মেঝেতে ইকবাল এহসানের পা দুটো জাপ্টে ধরল। নখ দিয়ে বাবার পা কামড়ে ধরে বুক ফাটা আর্তনাদে ফেটে পড়ল।
“ও আব্বু। আমাকে এত কষ্ট কেন দিচ্ছো। কী অপরাধ করেছি আমি। একজনকে ভালোই তো বেসেছি। কোনো পাপ তো করিনি যে আমাকে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারছো।”
ইকবাল এহসান এবার তপ্ত নিশ্বাস ফেলে পা সরিয়ে নিতে চাইলেন কিন্তু রিদি ছাড়ল না। তিনি চিৎকার করে উঠলেন।
“পাপের কথা বলছিস। তাহলে শোন। তুই পাপই করেছিস। ছোট থেকে কত আদরে তোকে বড় করেছি। শরীরের রক্ত জল করে তোকে তিল তিল করে মানুষ করেছি। চাওয়া পাওয়া সব সাধ্যমতো দিয়েছি। সেই হিসেবে আমারও তো স্বপ্ন ছিল তোকে ধুমধাম করে রাজপুত্রের মতো ছেলের সাথে বিয়ে দেব। নিজে আমি ছেলে পছন্দ করব। কিন্তু সেই স্বপ্নের মুখে তুই চুনকালি মাখালি। লুকিয়ে বিয়ে করে ফেললি। তাও আবার শুভ্রকে। তুই জানতিস তোদের এই সম্পর্ক এই পরিবার কোনোদিন মানবে না। তারপর কেন তুই এই নোংরামিটা করলি।”
রিদি তখনো মেঝেতে পড়ে বাবার পা জড়িয়ে ধরে হিক্কা তুলে কেঁদেই যাচ্ছে। সে কাঁদতে কাঁদতে গোঙানির স্বরে বলতে লাগল।
“আব্বু। আমি নিজেও জানি না শুভ্র ভাইয়ের প্রতি আমার এত মরণকামড় ভালোবাসা কীভাবে হলো। ভালোবাসা তো সময় বা সমাজ মানে না আব্বু। মানলে তো আজ এই হাহাকার হতো না। আব্বু। আমি শুভ্র ভাইকে অনেক ভালোবাসি। আমি শুভ্র ভাইকে ছাড়া আর কারও হতে পারব না। যদি এই বুকে কারও নাম লেখা থাকে তবে সেটা কেবল শুভ্র। যদি কারও সাথে মরতে হয় তবে সেটা শুভ্র। আমার প্রতিটা নিশ্বাস প্রতিটা স্বপ্নের সাথে শুধু একজনই জড়িয়ে আছে। সে হলো সাইফান শুভ্র চৌধুরী। তোমরা আমাকে মেরে ফেলো আব্বু। তবু অন্য কারও গলায় মালা দিতে বলো না।”
রিদিকে লাল খয়েরী কাতান শাড়ি আর হালকা সাজে সাজিয়ে তুলল শুভ্রা। কারণ একটু আগে রিদির একটা আর্তনাদও ইকবাল এহসান শোনেননি। বরং নিজের মরা মুখ দেখানোর হুমকি দিয়ে তিনি রিদিকে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করে গেছেন। রিদি এখন এক জ্যান্ত লাশের মতো পাথর হয়ে আছে। চোখের কাজলের সাথে চোখের পানি লেপ্টে একাকার হয়ে যাচ্ছে। শুভ্রা বারবার টিস্যু দিয়ে সেই কালো দাগ মুছে দিচ্ছে আর ফিসফিস করে বলছে।
“রিদি কান্না থামা প্লিজ। সোনা কান্না করিস না। তুই একটু শক্ত হ।”
শুভ্রা রিদিকে ধরে ধরে সাবধানে নিচে নামিয়ে আনল। রিদির মাথা নিচু হয়ে আছে। সে শারীরিকভাবে এখানে থাকলেও মানসিকভাবে এই জগতে নেই। সে যেন অন্য কোথাও হারিয়ে গেছে। সোফায় তখন ছেলে পক্ষের সদস্যরা বসে আছে। পাত্রের বাবা-মা পাত্রের মামা আর স্বয়ং পাত্র। পাত্রের নাম রোমান। একজন সফল বিজনেসম্যান আর দেখতে বেশ সুদর্শন। রিদিকে নিয়ে সবার সামনে বসানো হলো। পাশেই রিদির কাঁধ ধরে শুভ্রা শক্ত হয়ে দাঁড়াল। পাত্রের মামা রিদির দিকে তাকিয়ে হাসিমুখে জিজ্ঞেস করলেন।
“নাম কী তোমার মা?”
রিদি তখন গভীর এক ঘোরে আচ্ছন্ন। সে একদম অবচেতন মনে বলে উঠল।
“শুভ্র ভাই।”
রিদির মুখে হুট করে অন্য কোনো ছেলের নাম শুনে ছেলে পক্ষের মানুষজন একে অপরের দিকে চাওয়া-চাওয়ি শুরু করল। ইকবাল এহসান রাগে সোফা খামচে ধরলেন। তিনি রিদির দিকে তাকিয়ে বোঝাতে চাইলেন যেন সে ভালোভাবে কথা বলে কিন্তু রিদির মাথা নিচু। পরিস্থিতি সামাল দিতে সোহান চৌধুরী দ্রুত পাত্রের মামার দিকে তাকিয়ে এক অদ্ভুত মিথ্যা সাজালেন।
“আরে ভাইসাব আসলে ও একটু আগে একটা স্বপ্ন দেখেছে আমার বড় ছেলেকে নিয়ে। আমার বড় ছেলে নাকি তাকে খুন করেছে স্বপ্নে। সেই থেকে ভয়ে ও মাঝে মাঝে আনমনে আমার ছেলের নাম বলে ফেলছে। প্লিজ আপনারা কিছু মনে করবেন না। আপনারা আবার জিজ্ঞেস করেন।”
পাত্রের মামা আবারও রিদির দিকে ঝুঁকে পড়ে বললেন।
“মা তোমার নাম কী?”
“শুভ্র ভাই।”
“মানে নাম কী তোমার?”
“শুভ্র ভাই।”
“পাগল তুমি?”
“হ্যাঁ শুভ্র ভাইয়ের জন্য।”
“শুভ্র কে?”
“আমার স্বামী।”
রিদির এই চূড়ান্ত স্বীকারোক্তিতে পুরো ড্রয়িংরুমে যেন বজ্রপাত হলো।পাত্রের মামা রাগে সোফা ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন। তার মুখভঙ্গি তখন অত্যন্ত কঠোর। তিনি উপস্থিত সবার দিকে তাকিয়ে তিক্ত গলায় বললেন।
“এ কেমন মেয়ে। বারবার অন্য ছেলের নাম বলছে আবার বলছে স্বামী। নিশ্চিত কোনো গন্ডগোল আছে এখানে। জেনেশুনে আমি কোনোভাবেই আমার ভাগ্নের জীবন নষ্ট করব না। আসি। আমাদের ক্ষমা করবেন আর নিজেরা ভালো থাকবেন।”
পাত্র পক্ষ কোনো কথা শোনার অপেক্ষা না করেই রাগে আর অপমানে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। ড্রয়িংরুমের দরজাটা সজোরে লাগানোর শব্দ হতেই ইকবাল এহসান আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলেন না। তিনি হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে সোফা থেকে উঠে রিদির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন। রিদির গালে পিঠে এলোপাথাড়ি ঠাস ঠাস চড় দিতে থাকলেন। প্রতিটি আঘাতের শব্দে রুমের বাতাস ভারি হয়ে উঠল।
“নির্লজ্জ মেয়ে। আর কতভাবে এই বাবার মাথা নিচু করবি তুই। তুই কি আসলেই তোর বাবার লাশ দেখতে চাস।”
রিদি কোনো বাধা দিচ্ছে না। একটি শব্দ পর্যন্ত তার মুখ থেকে বের হচ্ছে না। সে নিথর পাথরের মতো বসে শুধু মার খেয়ে যাচ্ছে। তার চোখ দিয়ে অঝোরে পানি পড়ছে কিন্তু আর্তনাদ করার শক্তিটুকুও যেন হারিয়ে ফেলেছে। শুভ্রা পাগলের মতো ইকবাল এহসানকে থামানোর চেষ্টা করছে। পাশ থেকে ছোট ভাই ইমনও কেঁদে উঠে বাবার হাত জড়িয়ে ধরল।
“আব্বু মেরো না আপুকে। আপুর অনেক ব্যথা লাগছে। তোমরা আপুর সাথে এমন কেন করছো। আপু তো শুভ্র ভাইকে ভালোই বাসে। তাহলে দিয়ে দাও না ভাইয়ার সাথে বিয়ে, দিলে কী এমন ক্ষতি হবে তোমাদের।”
রানিং…!
Share On:
TAGS: অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায়, সুমি চৌধুরী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোকে পর্ব ১
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ৭
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ৩২
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৬৩
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ৪৪
-
বাঁধন রূপের অধিকারী পর্ব ৯
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৮৪
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৮৫
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোকে পর্ব ২
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ৩০