অবাধ্য_হৃৎস্পন্দন (৫৭)
সোফিয়া_সাফা
গাড়ির সিটে হেলান দিয়ে চোখ বুজে ছিল ফুল। তার অবস্থা এমন যে ক্লান্ত থাকার পরেও ঘুমাতে পারছে না। লুহান স্টিয়ারিং-এ হাত রেখেই রেয়ার মিররে তাকাল।
“আজ ভার্সিটিতে না গেলে হতো না?”
ফুল চোখ না মেলেই বলল, “বাড়িতে দম বন্ধ হয়ে আসছিল।”
লুহান একটু থেমে বলল, “তোমার সাথে কথা ছিল।”
ফুল একচোখ মেলে তার দিকে তাকাল। এই কথাটা সে এর আগেও বাকিদের মুখে শুনেছে।
“হুম বলুন।”
“অনিকে দেখলাম অনিলাকে নিয়ে ভালোই আছে। রিদম আর উর্বীর মাঝেও ভাব জমতে শুরু করেছে। আজ ওরাও মেক্সিকোতে ফিরে যাবে।”
“হুম জানি। সোহম স্যার বলেছে, সবাই খুব ভালো আছে।”
লুহান চুপ হয়ে গেল। হয়তো ভাবতে লাগল ফুলকে কীভাবে সবটা খুলে বলবে। তার সংকোচ টের পেয়ে ফুল নিজেই বলল, “আমারও একটা কথা ছিল আপনার সাথে।”
লুহান অবাক হলো, “আমার সাথে?”
“ঠিক আপনার সাথে নয়, ভেবেছিলাম সোহম স্যারকে বলবো। বাট আপনাকেও বলা যায়।”
“বলে ফেলো।”
“আগে আপনি বলুন কী বলবেন তারপর বলবো।”
লুহান হালকা হাসল, “আমার ব্যাক্তিগত জটিলতা নিয়ে তোমার সাথে পরামর্শ করতাম তুমি আবার অস্বস্তি বোধ করবে না তো?”
ফুল চোখ বুজে নিরাসক্ত কণ্ঠে বলল, “নিজে এতো বড় জটিলতার মধ্যে আছি যে অন্য কারো জটিলতার কথা শুনলে একটু হালকা লাগে। এটা ভেবে যে শুধু আমার একার জীবটাই জটিলতায় ভরা নয়।”
লুহান একটু সহজ হলো, “রুমার ব্যাপারে তুমি তো জানোই তাইনা?”
“কোনটা? রুমা আপুর সাথে আপনার দেখা হওয়ার ব্যাপারটা?”
“হুম। ওর সাথে আমি কী করেছিলাম সেটাও জানো তো?”
“জানি, আপনাদের তেহ গতরাতে যা করতে গিয়েছিল আপনিও তাই করেছিলেন তাইনা?”
লুহানের কণ্ঠ জড়িয়ে গেল, “না, তেহ কারো সাথে রাত কাটাতে যায়নি। ও শুধু একটা মেয়েকে কিনে নিয়ে আনতে চেয়েছিল। কিন্তু আমি গিয়েছিলাম…”
“বুঝতে পেরেছি। আচ্ছা আপনারা এমন কিছু করেনই বা কেন যা মুখে নিতে গিয়েও থেমে যেতে হয়।”
“আমি করতে চাইনি ফুল। বাধ্য হয়েই গিয়েছিলাম।”
“বাধ্য হয়েছেন? কেন শুনি?”
লুহান শুকনো ঢোক গিলল। ফুল বলল, “পরামর্শ আমি তখনই দিতে পারব যখন আপনি সবটা আমাকে খুলে বলবেন। নয়তো আমি তো কিছু বুঝতেই পারবো না।”
“ব্যাপারটা শুধু আমার ব্যাক্তিগত হলে গড়গড়িয়ে বলে ফেলতাম। কিন্তু তার সাথে জড়িয়ে আছে অন্য একজনের ব্যক্তিগত জীবন।”
ফুল একটু ভেবে বলল, “কে সে? আমি কি চিনি তাকে?”
লুহানের মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল। ফুল সোজা হয়ে বসে বলল, “আপনি তার বিষয়ে বলতে না চাইলে বলতে হবেনা। মানে তার নাম বলতে হবেনা। আপনি তার নাম উহ্য রেখেও বলতে পারেন।”
লুহান স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। এবার সে বলতে পারবে। “আসলে আমি একজনকে খুব ভালোবাসি। তাকে প্রপোজ করার পর সে আমাকে বলে দেয় সে আমার যোগ্য নয়। আমি নানাভাবে বোঝাতে চেয়েও তাকে বোঝাতে পারিনি।”
ফুল কিছুই বুঝতে পারল না। “তো আপনি এখন কী চাইছেন?”
লুহান হাতের কনুই দিয়ে কপালের ঘাম মুছে বলল, “আমি এখনো ভালোবাসি তাকে। তুমি শুধু বলে দাও কী করলে সে আমার হবে।”
ফুল ম্লান হাসল, “আপনার পরিস্থিতি কি রিদম স্যারের মতো?”
লুহান চমকে তাকাল। “পুরোটা না হলেও খানিকটা একই রকম। বাট সবচেয়ে বড় পার্থক্যটা হলো, সে মনে মনে হয়তো অন্য কাউকে ভালোবাসে।”
“হয়তো? আপনি সিওর নন?”
“সে নিজেই সিওর নয়। আমি খুঁচিয়ে দেখতে গেলেও এড়িয়ে যায় সবসময়। বলে প্রেম, ভালোবাসা, সংসার করার মতো কোনো অ্যাবিলিটি তার নেই।”
“এ তো দেখি মারাত্মক জটিলতা, আপনি কি আমাকে বলতে পারবেন কেন সে নিজেকে নিয়ে এমন ভাবে?”
লুহানের আবারও ঘাম ছুটে গেল। তার মতো এমন শক্তপোক্ত লোককে এভাবে হাঁসফাঁস করতে দেখবে ফুল ভাবতেও পারেনি। “আপনি বলতে না চাইলে থাক। আমি একটু ভেবে আপনাকে কিছু পরামর্শ দিয়ে দেবো।”
লুহান গাড়ির স্পিড কমিয়ে দিল। কিছুক্ষণ পর বলল, “আমি বলতে চাই তোমাকে।”
ফুল কিছুই বলল না। লুহানকে সময় দিল। লুহান নিজেকে সামলে নিয়ে বলল, “আসলে ওর পাস্ট অনেক টেরিবেল ছিল। ওর নিজের মা-ই ওকে দিয়ে খারাপ কাজ করাতো।”
ফুলের শরীর শিউরে উঠল। জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করল, “কোন ধরনের খারাপ কাজ?”
“রাতে মেয়েদের যেই ধরনের কাজ করতে দেখলে সেই ধরনের কাজ। অনেক ছোট বেলা থেকেই ওর মা ওকে দিয়ে ওসব করাতো।”
ফুলের কান দিয়ে ধোঁয়া বের হতে লাগল। রাগে লালবর্ণ ধারণ করল তার ফর্সা মুখশ্রী। “কোনো মা তার সন্তানকে দিয়ে এমন কিছু কীভাবে করাতে পারে?”
“আমি জানিনা, তবে শুনেছি ওর মা ড্রাগ অ্যাডিক্টেড ছিলেন। সেই টাকা জোগাড় করার জন্যই ওকে দিয়ে খারাপ কাজ করাতো।”
ফুল ঠোঁট চেপে বাইরে তাকাল। ভেবে পেল না কী বলবে। লুহানই আবারও বলল, “প্রথমবার ওকে প্রপোজ করার পর ও আমাকে এই কারণ দেখিয়েই বলেছিল, ও আমার যোগ্য নয়। আমি সেই জন্যই বাধ্য হয়েই রুমার সাথে ওমন কিছু করে ফেলেছিলাম। ভেবেছিলাম এরপর হয়তো ও নিজেকে আর অযোগ্য ভাববে না। কিন্তু তেমন কিছুই হলো না। ও যখন রিদমের মুখে জানতে পারল আমি অন্য মেয়ের সাথে ঘনিষ্ঠ হয়েছি। তখনই এমন ভান করল যেন ও জোর বাঁচা বেঁচে গেছে। আমার কথা না শুনেই বলল, ‘এটা শুনে আমি খুব খুশি হয়েছি। এখন আর আমাকে বিরক্ত করবি না ভেবেই শান্তি শান্তি লাগছে।’ ওর ওই কথাটা শুনে আমি বুঝে গিয়েছিলাম ও আমাকে বোঝা মনে করে। তাই আমিও ওকে বিরক্ত করা কমিয়ে দিই আস্তে আস্তে।”
“উফফ আপনি ভুল করেছিলেন লুহান স্যার। আপনার মোটেও উচিত হয়নি রুমা আপুর সাথে তেমন কিছু করা।”
“আমি জানি ফুল। কিন্তু যা করে ফেলেছি তাতো আর বদলাতে পারব না তাইনা?”
“আচ্ছা আপনার কেন মনে হয় সেই মেয়েটা হয়তো অন্য কাউকে ভালোবাসে?”
“মনে হয় কারণ ও একটু বেশিই ইন্টারেস্টেড সেই বিশেষ একজনের প্রতি।”
ফুল হঠাৎই নিশ্চুপ হয়ে গেল। তার এই নিরবতা লুহানকে ভয় পাইয়ে দিল। সে কার কথা বলেছে সেটা ফুল বুঝে গেলে ভালো হবেনা, রাইট?
“কিছু বলবে না?”
ফুল ঠোঁট নাড়ল, “হুম ভাবছি।”
লুহান নিশ্চিন্ত হলো। মনে হয়না ফুল কিছু অনুমান করতে পেরেছে। বেশ অনেকক্ষণ ভাবার পর ফুল বলল, “তুড়ি মেরে সব ঠিক করতে পারবেন না লুহান স্যার। সময় লাগবে।”
“সেটা আমিও জানি, শুধু হাত গুটিয়ে বসে থাকতে চাইছি না।”
“এক কাজ করুন, আজ আবারও তাকে প্রপোজ করুন। তারপর আমি দেখছি কী করা যায়।”
লুহান সন্দিহান চোখে তাকাল, “তুমি কী করবে?”
ফুল মিষ্টি হাসল, “তেমন কিছু না, যা করার আপনি করবেন।”
“আমি কী করবো?”
ফুল তাকে আস্তেধীরে বুঝিয়ে বলল সবটা। “তার মুখ থেকে যে করেই হোক বের করবেন, সে সেই বিশেষ একজনকে ভালোবাসে কী না।”
“আমার মনে হয়না ও স্বীকার করবে।”
“যদি না করে তাহলে আমি যা যা বলব তাই তাই করে দেখবেন একবার, ঠিক আছে?”
লুহান মাথা নাড়ল। “ঠিক আছে।”
,
,
,
এখন রাত্রীবেলা। মেলো নিজের রুমে বসে ফোন টিপছিল। তখনই কেউ নক করল তার দরজায়। সে একরাশ অনীহা নিয়ে দরজা খুলে দেখল ফুল দাঁড়িয়ে আছে সামনে।
“তুমি?”
ফুল মাথা ঝাকিয়ে বলল, “হ্যাঁ, আমি ফুল। একটু ভেতরে আসবো?”
মেলো পথ ছেড়ে দাঁড়াতেই ফুল ভেতরে ঢুকল। পুরো রুমে চোখ বুলিয়ে খাটের সামনে গিয়ে থামল, “বসবো খাটে?”
মেলো ক্লান্ত ভঙ্গিতে একহাত কোমরে রেখে আরেক হাতে নিজের ঘাড় চেপে ধরল। “তোমার মন চাইলে বসো। জিজ্ঞেস করার কী আছে?”
ফুল খুশি মনে খাটের ওপর আসন করে বসল। মেলো টেবিল থেকে ওয়াটার বটল নিয়ে পানি খেয়ে বলল, “তুমি আমার রুমে, কী ব্যাপার?”
খাটের ওপর রাখা কিউব টা হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করতে লাগল ফুল, “এমনি, একা একা ভালো লাগছিল না তাই এসেছি। অনিলা আপু, উর্বী আপুকে মিস করছিলাম খুব।”
মেলো মাথা চুলকাতে চুলকাতে টুল টেনে বসল, “আমার কাছে এসে খুব একটা লাভ হয়েছে বলে মনে হচ্ছে না।”
“কেন, আপনি কি আলাপচারিতা করতে পছন্দ করেন না?”
“করিনা বলতে পারো।”
“কেন, পারেন না?”
মেলো ভ্রু উঁচিয়ে তাকাল। ফুল মুহূর্তেই কিউব গুলো মিলিয়ে সেটা আবারও উল্টোপাল্টা করে ফেলল।
“আপনাকে করতে হবে না। আমি একা একাই আলাপচারিতা করতে পারি। শুধু শোনার জন্য কাউকে প্রয়োজন।”
“হুম বলো, আমি শুনছি।”
“আচ্ছা মেলো ম্যাম, পৃথিবীতে সবচেয়ে রেয়ারেস্ট ইমোশন কী জানেন?”
“এটা কী তোমার স্টাডি রিলেটেড প্রশ্ন? ওয়েট আমি ইন্টারনেটে সার্চ দিয়ে দেখছি।”
মেলো বিছানা থেকে ফোনটা তুলে নিতেই ফুল বলল, “সার্চ দিতে চাইলে লিখুন, What is the rarest form of love?”
মেলো একমুহূর্ত থমকে গেল। উচ্চারণ করল, “লাভ?”
“হ্যাঁ, সার্চ দিন।”
মেলো অতো শতো না ভেবে সেটাই লিখে সার্চ দিল। পরপরই স্ক্রিনে কয়েকটা আর্টিকেলের শিরোনাম ভেসে উঠল, “Unconditional Love: The Purest and Rarest Form of Love.”
মেলো সেটা দেখে বলল, “রেজাল্ট এসেছে নিঃস্বার্থ ভালোবাসা।”
ফুল কিউবটা রেখে মেলোর দিকে তাকাল, “হুম, তো মেলো ম্যাম আপনার কি মনে হয় এমন ভালোবাসা পেলে সেটা ফিরিয়ে দেওয়া কতোটা বুদ্ধিমানের কাজ?”
মেলো এসে ফুলের সামনে বসল, “তুমি আবেশের কথা বলছো?”
“না আমি তার কথা বলছি না। আমার মতো নির্বোধ বুদ্ধিমানের কাজ করতে পারবে না, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আপনাকে দেখে তো নির্বোধ মনে হয়না।”
“তুমি কী বলতে চাইছো?”
“বলতে কিছুই চাইছি না। শুধু বোঝাতে চেয়েছি। আমার মতো নির্বোধ হবেন না। এমন ভালোবাসা খুব কম লোকই পায়।”
“তোমার কি আবেশের কথা মনে পড়ছে? ফিরে যেতে চাও তার কাছে?”
“না ম্যাম, আমি তার কথা বলছি না। কারণ আমি আপনাদের তেহকে ভালোবেসে ফেলেছি। তাকে ছাড়া অন্য কাউকে নিয়ে ভাবাটাও অসম্ভব। কিন্তু আপনি তো কাউকে ভালোবাসেন না তাইনা?”
মেলো নিঃসাড় দৃষ্টিতে চাইল তার দিকে। ফুল বলল, “শুনুন একটা কথা বলি, আমিও বিয়ের আগে কাউকে ভালোবাসতাম না। কিন্তু আপনাদের তেহুর প্রতি আমার মনে একটা সফট কর্ণার ছিল। তবুও যদি আবেশ ভাই আমাকে ভালোবাসার কথা জানিয়ে দিতো আমি ফিরিয়ে দিতাম না। কিন্তু আপনাদের তেহ মাঝখান থেকে একেবারে বিয়েই করে নিল। এমনিতেই তাকে ঘিরে দুর্বলতা ছিল আমার মনে। তার ওপর বিয়ের পর আর সম্ভব হয়ে ওঠেনি অন্য কারো ভালোবাসার কদর করার। কিন্তু আপনার পরিস্থিতি তো আমার মতো নয়, তাইনা? পুরো একটা জীবন ভালোবাসা বিহীন কাটিয়ে দেওয়া অতটাও সহজ হবেনা মেলো ম্যাম। যদি পারেন, এমন ভালোবাসা পেলে খুশি মনে নিজের কাছে রেখে দিয়েন।”
কথার মাঝেই মেলোর ফোন বেজে উঠল। সে ফোনের দিকে তাকিয়ে দেখল লুহান কল দিচ্ছে। “ও আবার কেন কল দিচ্ছে?”
ফুল উঠে দাঁড়াল, “কিছু মনে করবেন না মেলো ম্যাম, আসলে আমি মাঝেমধ্যেই অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা বলে ফেলি। এতোদিন অনিলা আপু আর উর্বী আপুর সাথে বলতাম। তারা নেই তো সেই জন্যই আপনার কাছে এসেছিলাম। আপনি তাহলে কথা বলুন, আমি আসছি।”
মেলো কিছু বলার আগেই ফুল দ্রুত পদক্ষেপে রুম ত্যাগ করল। মেলো কলটা রিসিভ করে কানের কাছে নিল। ওপাশ থেকে লুহান বলল, “ফ্রি আছিস? টেরেসে চলে আয়।”
মেলো জানতে চাইল, “তেহ বা সোহম আছে ওখানে?”
লুহান নিচু গলায় বলল, “না ওরা কেউ নেই। আমি একাই আছি।”
মেলো ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখল এখন রাত এগারোটা। “ইম্পর্ট্যান্ট কিছু বলবি? তেহ, সোহমকে কল করে থাকতে বলব?”
লুহান ধৈর্য ধরে বলল, “হ্যাঁ ইম্পর্ট্যান্ট কিছুই বলব, শুধু তুই থাকলেই হবে। বাট যদি আমাকে ভয় পাস তাহলে ওদেরকেও নিয়ে আয়। তবে বলে রাখছি, ওরা উপস্থিত থাকলেও আমি তোকে সেটাই বলব যেটা একান্তে বলতে চাইছি। আমি অপেক্ষা করছি, জলদি আয়।”
লুহান কল কেটে দিয়ে অস্থির চিত্তে পায়চারি করতে লাগল। কয়েক মিনিট পরেই টেরেসের দরজার সামনে এসে দাঁড়াল মেলো। লুহানের মুখে হাসি ফুটে উঠল তাকে দেখে। টেরেসের আলো ঝলমলে পরিবেশ দেখে মেলো বুঝে গেল লুহানের ইম্পর্ট্যান্ট কথাটা কী। একমুহূর্ত দেরি না করে পেছন ফিরে চলে যেতে নেবে তার আগেই লুহানের ক্ষিপ্র হাত তার কবজি আঁকড়ে ধরল। টেনে নিয়ে গেল ক্যান্ডেল দিয়ে সাজানো টেবিলের নিকটে। সেখানে রাখা ছিল মেলোর পছন্দের ব্র্যান্ডের রেড ওয়াইন।
মেলো ভিন্ন প্রসঙ্গে গিয়ে লুহানের মনোযোগ ঘোরানোর চেষ্টা করল, “বাহ, তুই এতো ভালো হয়ে গেছিস কবে? নিজে থেকেই ড্রিংকস অফার করছিস।”
মেলো বোতল খুলে দুটো গ্লাসে ওয়াইন ঢালল। একটা গ্লাস লুহানের দিকে বাড়িয়ে দিতে গিয়ে দেখল, লুহানের পলকহীন দৃষ্টি তার ওপরেই আটকে আছে। মেলো একটু অপ্রস্তুত হয়ে এদিক ওদিক তাকিয়ে গ্লাসটা হাতে নিতেই লুহান সেটা তার হাত থেকে নিয়ে নিল। ঠোঁট নেড়ে গেয়ে উঠল,
“আমি বলতে পারিনা, প্রিয় গুছিয়ে কথা।
চেয়ে থাকি অকারণ, ভাবি শুধু অযথা।
তবে আমার কী দোষ বলো,
বলো বলো তুমি বলো…
তোমাকে ভালোবাসি তাই, আমি এলোমেলো হয়ে যাই।”
মেলো অস্বস্তি চেপে হাসল, “ভালো গেয়েছিস।”
লুহানও হাসল তার সাথে। মেলোর হাত ছেড়ে দিয়ে বলল, “আই লাভ ইউ এ-মেলো।”
মেলো পুরোটা ওয়াইন খেয়ে ফেলল ঢকঢক করে। তারপর উঠে দাঁড়িয়ে বলল, “আমি শুনেছি লুহান, এবার আসি?”
লুহান উঠে গিয়ে তার বাহু চেপে ধরল, “আমাকে রাগিয়ে দিস না মেলো। উত্তর চাই আমার।”
মেলো বিরক্ত সূচক শব্দ উচ্চারণ করল, “ভালোবাসি না তোকে।”
“ওকে, কাকে ভালোবাসিস তবে? তেহকে?”
মেলোর চোখে কাঠিন্য ভাব ফুটে উঠল, “পাগল হয়ে গেছিস?”
“আমি উত্তর পাইনি।”
“উত্তর দিতে বাধ্য নই।”
লুহান রেগেমেগে মেলোর দুই বাহুই চেপে ধরল শক্ত হাতে। ব্যাথা পেলেও মেলো টু শব্দটিও করল না। লুহান থিতু স্বরে বলল, “তুই বাধ্য, উত্তর চাই আমার। তোর মনে কী চলছে জানা প্রয়োজন। তুই তেহুর সামনে বলতে চাইলে ওকে কল দিচ্ছি দাঁড়া।”
লুহান ফোন বের করতেই মেলো তাকে থামিয়ে দেয়। “কেন করছিস এমন? থাকতে দে না আমাকে একটু ভালো। তেহুর সামনে লজ্জায় ফেলে দিয়ে তোর কী লাভ হবে?”
“আমার অবশ্যই লাভ হবে। তুই ওর সামনে চুপ করে থাকতে পারবি না।”
লুহান উদ্যানের নম্বর ডায়াল করতে যাবে তখনই মেলো বলে ফেলল, “ভালো বাসিনা আমি ওকে।”
“মিথ্যা বলছিস তুই?”
“বিশ্বাস করবি না জানতাম সেই জন্যই বলতে চাইনি।”
লুহান ঝট করে ঝুকে গিয়ে মেলোর হাতটা নিজের মাথায় রাখল। তটস্থ হয়ে গেল মেলো, “কী করতে চাইছিস?”
“একটু মায়া তো আমার জন্যও আছে। শুনেছি, মাথায় হাত রেখে মিথ্যা বললে মানুষ মারা যায়। তুই নিশ্চয়ই আমার মৃত্যু চাইবি না?”
মেলো নিস্তব্ধ হয়ে গেল। হাত সরিয়ে দিতে চাইলেও পারল না। লুহানের সাথে পেরে ওঠার কোনো সুযোগ অবশ্য তার নেই। ভাঙা গলায় সে বলল, “আমার ভালো লাগছে না লুহান।”
“আমারও লাগছে না, কতবছর হলো এ-মেলো? তুই কেন বুঝতে পারছিস না?”
“তুই বুঝতে পারছিস না।”
“আমি বুঝতে চাইছি, তুই-ই এবার বল তেহকে ভালোবাসিস কী না।”
মেলোর কণ্ঠ আটকে এল, “আমার জীবনে তেহুর ভূমিকা অপরিসীম। ও আমাকে রেসকিউ করেছে। ও আমার কাছে বিশেষ একজন। ওর কাছাকাছি থাকলে সুরক্ষিত অনুভব করি আমি। মাঝেমাঝে ওর দিকে তাকালে যেন নিজেকেই দেখতে পেয়ে যাই। তেহ ও আমার মতো কোনো কিছু অনুভব কিংবা এক্সপ্রেস করতে জানেনা। আমাদের মাঝে মিল রয়েছে। তাই ভেবেছিলাম, ওর পাশে আমাকে বেশ মানাবে। দুজন দুজনের কম্ফোর্ট জোন হয়ে উঠতে পারব, ব্যস এটুকুই! এটাকে কী বলে আমি জানিনা। যদি ভালোবাসা বলে তো ভালোবাসি। আর যদি না বলে তাহলে ভালোবাসি না।”
লুহান অসহায় কণ্ঠে বলল, “এইবার তুই কেন সরাসরি বলতে পারলি না যে তেহকে ভালোবাসিস না?”
“বলতে পারিনি কারণ অনুভূতি সম্পর্কে আমার বেশি জ্ঞান নেই। যদি তেহুর প্রতি আমার অজান্তেই ভালোবাসা থেকে থাকে তাহলে তুই ষ্টুপিট ম*রে যাবি!”
লুহান এক তিক্ত হাসিতে মুখ বাঁকাল। অবজ্ঞার সুরে বলল, “আমি মরে গেলে তো তোর ভালোই হবে। কেউ জ্বালাতন করবে না। ভালো থাকতে পারবি। মিথ্যা বলে দিলেই ভালো হতো। অন্তত এটা জেনে শান্তিতে মরতে পারতাম যে তুই ভালোবাসিস না তেহকে।”
“তোর কি মনে হয় আমি ভালোবাসি ওকে?”
“এখনই বুঝতে পারব, তুই মনে কর একদিকে তেহ পানিতে ডুবে যাচ্ছে। আরেকদিকে আমার পা রেললাইনে আটকে গেছে। তুই কাকে বাঁচাতে যাবি?”
মেলো সরল মনে বলল, “তোকে, কারণ তেহ খুব ভালো সাতার জানে।”
লুহানের মেজাজ খারাপ হলো। “ধর তেহ সাতার জানেনা তখন?”
মেলো আবারও বলল, “তারপরও তোকেই বাঁচাতে যাবো কারণ তেহকে আমি একা পানি থেকে তুলতে পারব না।”
লুহান নিজেই এবার ধাঁধায় পড়ে গেল। “আচ্ছা বাদ দে, ধর এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো যেখানে তোকে আমাদের মধ্যে থেকে একজনকে গুলি করতে হবে তখন তুই কাকে করবি?”
মেলোর চোখদুটো এবার বড় বড় হয়ে উঠল। সে কোনো দ্বিধা ছাড়াই বলল, “আমি নিজেকেই গুলি করে দেবো।”
লুহান আঁতকে উঠল, “কেন করবি এমন? আমাকে গুলি করে দিলেই তো ল্যাঠা চুকে যাবে।”
“আমি পারব না, শুধু তোকে নয় তোর জায়গায় সোহম, অনি, রিদম থাকলেও পারব না। তোরাও গুরুত্বপূর্ণ আমার কাছে।”
লুহান ওবার গলার স্বর খাদে নামিয়ে ধীরলয়ে শুধাল, “আচ্ছা ধর, তোর কাছে তেহকে বিয়ে করার অপশন আছে। তুই এখন কী করবি?”
মেলো কথায় কথায় বলে ফেলল, “যদি ও চায় আমাকে বিয়ে করতে তবে করব, নয়তো না।”
“আর যদি আমাকে বিয়ে করার অপশন থাকে, তখন তুই কী করবি?”
এই প্রশ্নে মেল হোঁচট খেলো। তারপরও ভারী গলায় সত্যিটাই বলে দিল, “আমি বিয়ে করব না তোকে।”
লুহান উত্তর টা পেয়েই গেল অবশেষে। কান্না পেয়ে গেল তার। কণ্ঠে উপচে পড়ল তীব্র অভিমান, “যোগ্য অযোগ্যের হিসেব কষতে কষতে তুই আমার সাথে আনফেয়ার করে ফেললি মেলো?”
মেলো উলটো হাতে নাকের নিচে জমে থাকা ঘামটুকু মুছে নিয়ে বলল, “কী করেছি?”
“কংগ্রাচুলেশন, তুই ভালোবাসিস তেহকে।”
লুহান মেলোর হাত ছেড়ে দিয়ে টেবিলের দিকে এগিয়ে গেল। ওয়াইনের গ্লাসটা হাতে নিয়ে চুমুক লাগাল। সেটুকু শেষ করে বোতল হাতে নিতেই মেলো এসে তার পাশে দাঁড়াল।
লুহান একহাতে তাকে নিজের কাছে টেনে নিল।
মেলো চোখ বন্ধ করতেই উদ্যানের গম্ভীর মুখটা ভেসে উঠল।
মেলো শিউরে উঠে চোখ খুলল। আতঙ্কে তার কণ্ঠরোধ হয়ে এল, “এ আমি কী করে ফেললাম? ও এই ব্যাপারে জানতে পারলে আমি মুখ দেখাতে পারব না।”
লুহান মেলোকে ছেড়ে দিয়ে বলল, “চিন্তা করিস না, আমি বলবো না কাউকে।”
লুহান বোতল থেকেই ওয়াইন খেতে লাগল। মেলোর খারাপ লাগল তার জন্য। যেই সে এতোদিন বলে এসেছে কাউকেই ভালোবাসবে না কখনো সেই সে লুহানের কাছে এভাবে এক্সপোজ হয়ে গেল? নিজে জানার আগে লুহান জেনে গেল সে উদ্যানকে ভালোবাসে?
,
,
,
“এখানে হচ্ছে কী, আমি কিছুই বুঝতে পারলাম না।”
হঠাৎ পাশ থেকে কারো কণ্ঠ শুনে বিস্মিত হলো ফুল। ধরা পড়ে যাওয়ার মতো করে উলটো ঘুরে হাঁটা ধরল একদিকে। এতোক্ষণ যাবত সে টেরেসের বন্ধ দরজার এপাশ থেকে কথা শুনছিল মেলো আর লুহানের। সে এতোটাই বিভোর হয়ে ছিল যে পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা সোহমকে খেয়ালও করেনি। সোহম তার পিছু ছাড়ল না, বরং তাল মিলিয়ে হাঁটতে হাঁটতে বলল, “গানটা আমিও জানি, শুনবে?”
ফুলের পা থেমে গেল। বাঁকা চোখে তাকাল তার দিকে। তখনই সোহম একগাল হেসে গাইল,
“পাহাড়ে ফুটেছে দেখো কতো রঙিন ফুল,
সকল ফুলের রানী তুমি, হয়েছি ব্যাকুল।
প্রিয় আমি শুধু তোমাকেই সাজাই।”
ফুল বিরক্ত হলো তার গান শুনে। এ নতুন নয়, বরাবরই সে বিরক্ত হয় সোহমের আচরণে। সোহম যেন কিছুই বোঝেনি এমন ভান করে স্বাভাবিক গলায় শুধাল, “খেয়েছো রাতে?”
ফুল উত্তর না দিয়ে বলল, “আমি তাদের কথা শুনে ফেলেছি এটা যেন লুহান স্যার না জানে।”
“ওকে, বাট তোমার আড়ি পাতার স্বভাব টা কবে যাবে শুনি?”
ফুল ছোট্ট করে শ্বাস ফেলল, “কখনো না, অবশ্য সবসময় আড়ি পাতার প্রয়োজন পড়ে না। এমনিতেই শুনে ফেলি।”
“তো ওদের কথা শুনে তোমার ফিলিংস কেমন?”
“খুব ভালো।” ফুল সংক্ষিপ্ত উত্তর দিল।
সোহম বুঝতে পারল মেয়েটা সঠিক মুডে নেই, তাকে খোঁচানো ঠিক হবেনা। শেষে কী না সব রাগ তার ওপরেই উগড়ে দেয়। সে ফুলকে একা ছেড়ে দিয়ে নিজের রুমের দিকে পা বাড়াল।
ফুল সোজা নিচে নেমে এসে সোফায় বসে পড়ল। কিছুক্ষণের মধ্যেই উদ্যান এস্টেটে ঢুকল। লিভিং রুম পেরোনোর সময় ফুলকে বসে থাকতে দেখে সে একবার তাকাল সেদিকে। তারপর না দেখার ভান করে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে লাগল।
ফুল আচমকা উঠে দাঁড়িয়ে ডাকল, “তেহজিব।”
উদ্যানের পা থেমে গেল। পিছু ফিরে ভ্রু কুচকে তাকাতেই ফুল বলল, “একটু এদিকে আসুন।”
উদ্যান তার দিকে যেতে যেতে বলল, “কী হয়েছে? কেন ডাকছো?”
ফুল কোনো উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করল না। সে হঠাত এক উন্মাদনায় ঝাঁপিয়ে পড়ল উদ্যানের বুকে। দুই হাতে তাকে এতটাই শক্ত করে জড়িয়ে ধরল, যেন ছেড়ে দিলেই হারিয়ে ফেলবে লোকটাকে। ঘটনার আকস্মিকতায় উদ্যান হতভম্ব হয়ে গেল।
ফুলের কণ্ঠ বুজে এল কান্নায়, “আপনাকে আমি খুব ভালোবাসা দেবো। এতোটা যে আপনার কখনো অন্য কারো ভালোবাসার প্রয়োজনই পড়বে না। বিনিময়ে শুধু আপনি আমার থাকুন।”
উদ্যান তাকে সরিয়ে দিল তৎক্ষনাৎ। হাত উঁচিয়ে বলল, “কিছু খেয়েছো তুমি? দেখতে পাচ্ছো না আমি ঘামে ভিজে আছি?”
ফুল আবারও তাকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরল। একগুঁয়ে সুরে বলল, “তাতে কী হয়েছে? সর্বাবস্থায় আপনার ওপর অধিকার আছে আমার।”
উদ্যান একটু নিচু হয়ে ফুলের কানের কাছে বিড়বিড়িয়ে বলল, “তুমি কি চাইছো, আমি তোমাকে কোলে তুলে নিয়ে রুমে চলে যাই?”
ফুল লজ্জায় আড়ষ্ট হয়ে সরে দাঁড়াল। উদ্যানও আর কিছু না বলে রুমে চলে গেল।
,
,
,
“তেহকে ভালোবাসি জানার পরেও তুই ভালোবাসবি আমাকে?” মেলোর প্রশ্নে লুহান ভ্রুক্ষেপ করল না।
“কী হলো বল।”
“তা জেনে তুই কী করবি। আমি তোর জন্য ছটফট করবো আর তুই করবি তেহুর জন্য। ব্যস শোধবোধ!”
মেলো বুঝতে পারল লুহান ড্রাংক হয়ে গেছে।
মেলো বলল, “আমি তেহুর জন্য ছটফট করবো না কখনো। আমি চাই ও ভালো থাকুক। তবে কেউ একজন বলেছে নিঃস্বার্থ ভালোবাসা খুবই দূর্লভ অনুভূতি। আই থিংক তোকে ফিরিয়ে দেওয়াটাও বোকামি হবে।”
লুহান তিতকুটে হাসল, “তুই তো বোকাই। মেয়েরা হয়তো বোকাই হয়। ওরা ভালোবাসা মূল্যায়ন করতে জানে না। যারা ওদের বেশি ভালোবাসে ওরা তাদের মন টাই যত্ন করে ভাঙে।”
“খুব একটা ভুল বলিসনি৷ আর ছেলেরাও অদ্ভুত, যারা ওদেরকে ভালোবাসে তাদেরকে ওরা চোখেই দেখে না যেন।”
“তুই তো মেয়ে হয়েও চোখে দেখিস নি আমাকে। ভেঙে দিলি আমার মন।”
“তুইও হয়তো কারো ভালোবাসা চোখেই দেখিস নি।”
লুহানের মনে পড়ে গেল রুমার কথা। “রুমার কথাটা কি তোকে বলে ভুল করেছি?”
“একদমই না, ওর দূর্দশার পেছনে আমিও দায়ী ছিলাম পরোক্ষভাবে। আমার জানা দরকার ছিল।”
লুহান চুপ হয়ে গেল। মেলো হালকা হেসে বলল, “চল নিয়মের বাইরে গিয়ে কিছু করে ফেলি। মানুষ একবার ভালোবাসতে পারলে দ্বিতীয় বারও পারবে নিশ্চয়ই? আমি কি চেষ্টা করে দেখবো তোকে ভালোবাসার?”
লুহানের চোখ জ্বলজ্বল করে উঠল, “মিথ্যা আশা দিচ্ছিস না তো?”
“আমি সিরিয়াস বাট এখনই বিয়ে করতে পারব না তোকে।”
“বিয়ে পরে হোক সমস্যা নেই, তুই চেষ্টা করবি বলেছিস এটাই অনেক।”
,
,
,
পরেরদিন,
সকাল সকাল ফুল রেডি হয়ে নিচে নেমে দেখল লুহান আর সোহম অপেক্ষা করছে তার জন্য। সোহম এগিয়ে গিয়ে তার লাগেজ হাতে নিয়ে বলল, “তেহ যদি জানতে চায় আমি কিন্তু কিছু বলতে পারব না।”
ফুল নাক কুচকে বলল, “আপনাকে বলতে হবেনা কিছুই, যা বলার লুহান স্যার বলবে। কী লুহান স্যার, আপনিও ভয় পাচ্ছেন নাকি?”
লুহান আজ ভীষণ চনমনে। সে মৃদু হেসে বলল, “একদমই না, তুমি চিন্তা কোরোনা, আমি যতদ্রুত সম্ভব ওকে পাঠিয়ে দেবো।”
সোহম লুহানের উদ্দেশ্যে খোঁচা মেরে বলল, “তুই এতো খুশি কেন? ব্যাপার কী?”
লুহান মুখটাকে গম্ভীর করে বলল, “কই, কিছু না তো! এমনি। তোর জন্য কি একটু হাসতেও পারব না নাকি? আজব তো!”
“এমনি এমনি হাসা সুবিধাজনক নয়। চিন্তা হচ্ছে তোর জন্য।”
“আমার জন্য অকারণে চিন্তিত না হয়ে ফুলকে হেলিকপ্টারে উঠিয়ে দিয়ে আয়।”
সোহম মাথা নেড়ে ফুলকে নিয়ে টেরেসে উঠল। হেলিকপ্টারে আগে থেকেই কয়েকজন গার্ড, সার্ভেন্ট সহ প্রয়োজনীয় লোক উপস্থিত আছে।
“ওখানে পৌঁছে কোনো প্রকার সমস্যা হলে গার্ডদের জানিও।”
ফুল সৌজন্যমূলক হেসে বলল, “হ্যাঁ জানাবো।”
চলবে,,,
শব্দসংখ্যা: ৩৩০০+
(আগামী পর্বটা খুব স্পেশাল হতে চলেছে। যার প্রতিক্ষায় ছিল সবাই। ক্যান এনিওয়ান গেইস?)
Share On:
TAGS: অবাধ্য হৃৎস্পন্দন, সোফিয়া সাফা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
অবাধ্য হৃৎস্পন্দন পর্ব ২২
-
অবাধ্য হৃৎস্পন্দন পর্ব ৯
-
অবাধ্য হৃৎস্পন্দন পর্ব ৩২
-
অবাধ্য হৃৎস্পন্দন পর্ব ৪১
-
অবাধ্য হৃৎস্পন্দন পর্ব ৩৩
-
অবাধ্য হৃৎস্পন্দন পর্ব ১০
-
অবাধ্য হৃৎস্পন্দন পর্ব ২৩
-
অবাধ্য হৃৎস্পন্দন পর্ব ১৪
-
অবাধ্য হৃৎস্পন্দন পর্ব ৪৫
-
অবাধ্য হৃৎস্পন্দন পর্ব ২৬