Golpo Love or hate romantic golpo

Love or Hate পর্ব ৪৭


#Love_or_Hate

|#পর্ব_৪৭|

#ইভেলিনা_তূর্জ

⛔কপি করা সম্পূর্ন নিষিদ্ধ

⛔প্রাপ্ত বয়স্ক ও মুক্ত মনস্ক দের জন্যে

রোজ অবকলন করলো ইউভান ফর্মাল পোশাকে দাঁড়িয়ে আছে।কানে এয়ারপড গোঁজা যেনো কারোর সাথে কথা বলতে বলতে কোথাও যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলো। ইউভানের কন্ঠস্বরে রোজের ভেতরটা তীব্র আতঙ্কে মোচড় দিয়ে উঠলো। ইউভান যদি এই মুহূর্তে নিচে নামে, তবে রান্নারুমের দৃশ্য তার অক্ষীদ্বয়ে পড়া কেবল সময়ের ব্যাপার আর তেমনটা হলে যদি ইউভান রেগে কুরুক্ষেত্র ঘটায় তখন??

​রোজ নিজের সমস্ত শক্তি আর সাহস এক জায়গায় জড়ো করে সিঁড়ির ওপর ইউভানের পথ আগলে দাঁড়িয়ে রইলো। রোজের এমন মরিয়া ভাব দেখে ইউভান কানে হাত দিয়ে এয়ারপডের ওপাশের কথা সাময়িক থামালো। দুই সিঁড়ি ওপরে থাকা ইউভান কিছুটা ঝুঁকে এসে রোজের ঘর্মাক্ত ললাটে নিজের তর্জুনি ছোঁয়ালো। শিউরে উঠলো রোজ।

​ইউভান ক্ষিপ্রতায় রোজের নরম চোয়ালটা নিজের শক্ত মুঠোয় পুরে নিজের অগ্নি-ধূসর নেত্রপল্লব রোজের চোখের ওপর স্থির করলো। চাউনিতে এক তীব্র কর্তৃত্ব। তবে রোজ ভয় পেলো না, বরং সম্ভব্ব দৃঢ় করে বললো

—কোথাও কি যাচ্ছেন আপনি? বললাম না…একসাথে ডিনার করবো!

​ইউভান পিয়ার্সিং করা ওষ্ঠাধর বেঁকিয়ে হেসেই হুট করে রোজকে শূন্যে তুলে সিঁড়ির রেলিংয়ের ওপর বসিয়ে দিলো। আচমকা ভারসাম্য হারিয়ে শুষ্ক ঢোক গিলে আর্তনাদ করে উঠলো রমণী।

—ক…কী হলো? কী করছেন?

​ইউভান কোনো জবানবন্দী দিলো না। রোজের গালে লেপ্টে থাকা ভেজা চুলের গুচ্ছগুলো অত্যন্ত যত্নে সরিয়ে দিয়ে নিজের তপ্ত ওষ্ঠ সেখানে ছোঁয়ালো।মিহি স্পর্শে রক্তিম হলো রমণীর গালদুটো।ইউভান তিব্রমোহের চোটে হাস্কিস্বরে বলল,

—খাইয়ে দিবি আমায়? বল?? আমাকে খাইয়ে দিবি রোজ? জীবনে কোনোদিন চামচ ছাড়া খাবার খাইনি আমি! আজ তোর খালি হাতের ছোঁয়ায় খেতে চাই… দিবি? বল, দিবি?

​ভিতরের রান্নারুমের পরিস্থিতির কথা মনে করে রোজ এক সেকেন্ডও সময় নষ্ট করলো না। তড়িঘড়ি করে জবান টানলো রমণী।

—দিবো! সব করবো। এখন প্লিজ আমাকে নামিয়ে দিন… পড়ে যাব তো!

​মনস্টার ব্রিস্ট নিচে তো নামালোই না,উল্টো ছটফট করতে থাকা তন্বী শরীরটাকে এক ঝটকায় নিজের চওড়া কাঁধের ওপর তুলে নিলো। অত্যন্ত ক্রূর মিশ্রিত আসক্ত গলায় বললো।

—Come with your daddy, sweetheart!

—আরে আরে! কী করছেন কী? নামিয়ে দিন বলছি মি.ইউভান!

হাত-পা ছুড়তে এলোপাতাড়ি দিগবিদিক ছুঁড়তে লাগলো রমণী। কিন্তু সমস্ত মনযোগ তখনও রান্নারুমের ওপাশে।বারবার মনে হচ্ছে ভুল কিছু দেখে ফেলেছে সে। ইউভানের পূর্ণ মনোযোগ যাতে এক চুলও কিচেনের দিকে না যায়, সেজন্য রোজ নিজের দুই হাত বাড়িয়ে ইউভানের চওড়া গলাটা শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো। মন্সটারের সমস্ত ইন্দ্রিয়কে নিজের দিকে টেনে নিলো।

​রোজের আকস্মিক ও বাধ্য আত্মসমর্পণ ইউভানকে এতটাই মোহাবিষ্ট করলো যে, সে কিচেনের মৃদু আলোর দিকে নজর না দিয়ে রোজকে কাঁধে নিয়েই সোজা ম্যানশনের প্রধান ফটক পেরিয়ে গ্যারেজের দিকে হেঁটে গেলো। বাইরের খোলা হাওয়ায় এসে রোজ এক বুক দমছাড়ানো নিঃশ্বাস ফেললো। কিন্তু বুকসাহসিনী তখনও বুঝতে পারলো না যে যেই পুরুষ দেয়ালের ওপার প্রান্তে থাকা শত্রুর নিঃশ্বাসের সূক্ষ্মতম শব্দও টের পেয়ে যায়, সে নিজের ম্যানশনের নিভৃত কোণে ঘটা এত বড় একটা দুর্ঘটনার বিন্দুমাত্র আঁচ কি তার সিক্সথ সেন্সে লাগেনি? নাকি সে জেনেশুনেই খনিকের জন্যে চুপ রইলো?

​গ্যারেজ থেকে মুহূর্তের মধ্যেই গর্জন করে বেরিয়ে এলো একটা ছাঁইরঙা লাক্সারি ল্যাম্বরগিনি। ড্রাইভিং সিটে বসে ইউভান পাশের ডোরটা এক ধাক্কায় লক খুলে উন্মুক্ত করে দিলো। অক্ষীদ্বয়ের ওপর কালো সানগ্লাসটা লাগিয়ে বলল।

—ডিনারে যেতে চাইলে উঠে পড়ো! আফটার অল, যেতে না চাইলেও জেতে হবে… কাম, ফায়ারফেইরি… কাম!

​রোজ নিজের এলোমেলো পোশাক আর অবিন্যস্ত ভেজা চুলের দিকে একবার দৃষ্টিপাত করে কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত গলায় তাচ্ছিল্য করেই বললো।

—এই পোশাকে… এভাবে যাব আমি?ডেনমার্কের একজন পাবলিক ফিগার আপনি।আর.সি.গ্রুপের মালিক।আপনার সাথে ডিনার ডেইটে আমাকে মানাবে বুঝি??

​ইউভান ল্যাম্বরগিনির এক্সিলারেটরে চাপ দিয়ে ক্রূর হাসলো।

—ইউ্য আর মাই কুইন।আর.সি গ্রুপ এর মালকিন তুমি।স্পাইডার কুইন।দ্যান নটাংকি না করে এসে বসে পড়ো কুইক।

​রোজ আর কোনো বাক্যব্যয় না করে গাড়িতে উঠে বসলো। ইউভান সামান্য ঝুঁকে এসে রোজের শরীরের ওপর দিয়ে সিটবেল্টটা টেনে লক করে দিলো। ইউভানের অক্ষীপলের ভীতিপ্রদ কালো সানগ্লাসের কারণে মনস্টার টার ধূসরমণি দেখা যাচ্ছিলো না। রোজ অত্যন্ত বিরক্ত হয়ে এক ঝটকায় ইউভানকে সরিয়ে দিয়ে বেল্ট টেনে লাগালো।

—এভাবেই চোখে কালো চশমা লাগিয়ে রাখবেন সবসময় যেনো আপনার ভয়ানক, দানবীয় চোখগুলো আমার নজরে না আসে!এটা খুবই বিরক্তিকর মিস্টার ইউভান।

—ওহহ ফা*ক!তাহলে কিসে নজর দিতে চাস?ইউ্যর পার্সোনাল খাজানায়? তুই যতটুকু না ডিজার্ভ করিস, তার থেকে অনেক বেশিই পেয়েছিস আই গেস।

​রোজ ইউভানের কথায় না পেরে নিজের দুই কানে আঙুল গুঁজে মুখটা বাঁকিয়ে রাখলো। ইউভান আড়চোখে তা দেখে ক্ষিপ্ত কন্ঠে ধমকে উঠলো।

—এই বান্দী! কান থেকে হাত সরা… নাহলে একেবারে সারাজীবনের জন্য বধির বানিয়ে দেবো!

তৎক্ষণাৎড্যাশবোর্ডে থাকা ইউভানের ফোনটা বেজে উঠলো। ডেনমার্কে ইউভানের আন্ডারে থাকা ডেনিশ গ্যাংস্টার ‘জেব্রাইল’ কল করেছে। ইউভান কলটা রিসিভ করে স্পীকারে দিতেই ওপাশ থেকে অত্যন্ত সমীহভরা কণ্ঠ ভেসে এলো। ইউভান তাকে কোনো গৌরচন্দ্রিকা না করে স্পষ্ট ও কর্কশ গলায় বললো।

—এক ঘণ্টা পর আমি আসছি। এখনকার মতো সব ক্যানসেল করো!

—কিন্তু বস! সব কিছু তো রেডি আছে।

—Shut your mouth ! বলেছি না আই অ্যাম বিজি… সি ইউ লেটার!আমার পাশে এই মুহূর্তে পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান কিছু আছে।

​গাড়ি কুপেনহেগেনের হাইওয়ে ধরে তীরের গতিতে ছুটছে। ইউভান হঠাৎ রোজের পানে দৃষ্টি আরোপ করে লাইটহাউসের ভ ঘটনার বিবরণ দিতে লাগলো। কীভাবে তুষারের চলন্ত হেলিকপ্টারে এক ঝটকায় ঝুলে পড়েছিলো আর সেই সময় আগুনের তীব্র উত্তাপে পায়ের নিচের একদলা চা*মড়া পুড়ে গিয়ে ফোঁসকা পড়ে গিয়েছিলো।তা অত্যন্ত সাবলীলভাবে বললো।রোজের বক্ষঃস্থল ছ্যাৎ করে উঠলো। ইউভান গাড়ি চালাতে চালাতেই নিজের প্যান্ট সামান্য টেনে সেই পোড়া দাগটা রোজকে দেখালো।রোজ নিগুঢ় দৃষ্টিতে তা দেখলো।কি আশ্চর্য যাকে এতো ঘৃণা করে এই লোক তার জন্যেই মাঝে মাঝে এতো পাগল হয়ে উঠে, সে যেই পুরুষটাকে পৃথিবীর সবচেয়ে ঘৃণিত কীট ভাবে তার জন্যে তার মন পুড়ে।ঘৃণারও এতো জঘন্য পরিনাম হয় বুঝি??

​এসব শুনে রোজের মস্তিষ্কে ক্যাট্রিনার বলা কথাগুলো তড়িৎ গতিতে হানা দিলো। থমথমে গলায় ইউভানের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো।

—আপনার তো অনেক শত্রু, তাই না? আপনার ক্ষতি করার জন্য বুঝি দুনিয়ার সব মানুষ ওত পেতে থাকে?অবশ্য পাপেরও বাপ থাকে।নর*পশুদের সাথে উঠা বসা করলে তারা তো মাং*স খোবলে খেতে আসবেই।

ইউভান খানিক চুপ রইলো। পরক্ষণেই নিজের পিয়ার্সিং করা ওষ্ঠাধরে বাঁকা হাসলো।

—হ্যাঁ, আমি তো সেলিব্রেটি! তাই আমার পেছনে কু*কুরেরা সর্বদাই লেগে থাকে। সুন্দর হওয়ার এই এক জ্বালা… মেয়েরাও পিছু ছাড়তে চায় না!

​ইউভানের এমন বেখাপ্পা কথা শুনে রোজের পিত্তি জ্বলে গেলো। মনে মনে বিড়বিড় করতে লাগলো নিজের রূপের এত অহংকার! রূপ নিয়ে বোধহয় মেয়েরাও এত নাটক করে না। যতসব ঢং! পরক্ষণেই ইউভানের তীক্ষ্ণ চোয়ালের দিকে দৃষ্টি আরোপ করে অত্যন্ত গম্ভীর গলায় বললো।

—আমি আপনার সম্পর্কে জানতে চাই ইউভান!কাছ থেকে জানতে চাই।আমাকে বলবেন?আপনি আমার স্বামী এই টুকু অধিকার কি আমার নেই??বিশ্বাস করুন আমি কিছুই চাই না।শুধু একটু শান্তি চাই।অনেক তো হলো।আর কতো??পরকালের কথা তো জানি না।তবে যতদিন বেঁচে আছি ততোদিন।

​ইউভান কোনো জবাব না দিয়ে কেবল ল্যাম্বরগিনির স্পীডটা এক ধাক্কায় বাড়িয়ে দিলো।​কিছুক্ষণ পর গাড়ি এসে থামলো শহরের মধ্যেস্থলে অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম বিলাসবহুল একটা ‘সেভেনস্টার হোটেল অ্যান্ড মল’।সাধারণ মানুষের জন্য নয়, এখানে কেবল পৃথিবীর শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ড এবং ডেনমার্ক ও প্যারিসের বিখ্যাত ফ্যাশন আইকনদের কাস্টমাইজড পোশাক পাওয়া যায়।​ইউভান রোজের হাত ধরে সোজা নিয়ে গেলো শোরুমের একদম ভিআইপি সেকশনে। সেখানে ম্যানিকুইনে সাজানো একা লাইট-ওয়েট গর্জিয়াস শর্ট গাউন। যা পুরো পৃথিবীতে এই ডিজাইনের কেবল ‘ওয়ান পিস’ ই তৈরি করা হয়েছে।ড্রেস টা পড়ে রোজ ট্রায়াল রুম থেকে বের হলো।

​পরপরই ইউভান সেভেন-স্টার হোটেলেরই আলিশান রুফটপ রেস্তোরাঁয় ডিনারের ব্যবস্থা করলো।নিয়ন আলোয় ঝিলমিল চারিধার।

​টেবিলের ওপর ধোঁয়া উঠা এতো এতো সুস্বাদু খাবার পরিবেশন করায় রোজ বেশ খুশি হলো।পেটে সত্যিই ক্ষুধা ছিলো রমণীর।খাবারের লোভ সমলাতে না পেরে ইউভানের দিকে নজর না বুলিয়ে খেতে লাগলো।সবগুলো আইটেম একটু একটু করে খেলো।খাওয়ার স্টাইল দেখলে যে কেউ বলে ফেলবো এই রমণী এতো খেতে পারার পরও স্লিম ফিগার কি করে?ইউভান না খেয়ে রোজের খাওয়া দেখতে থাকে।মুখে আঙুল রেখে খানিক হাসলো।মেয়েটার চালচলন এতো খুশিমনে খাওয়ার ভঙ্গিমা,তেজ রাগ,সব কিছু আজকাল চৌম্বক এর মতো টেনে ধরে মাফিয়া বসকে।তাই তো আর নিজের অবাধ্য অনূভুতিকে আজকাল জোরপূর্বক বাঁধা প্রয়োগ করে না।যা হওয়ার হচ্ছে হবে।হৃদয়ান্তরে যা আছে তার বহিঃ ঘটায়। পরক্ষণেই ইউভান নিজের দুই হাত চেয়ারের হাতলে অলস ভঙ্গিতে এলিয়ে দিয়ে রোজের দিকে নিস্পৃহ দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো।

—কী রে? বলেছিলি না হাত দিয়ে খাইয়ে দিবি? চামচটা দূরে সরিয়ে রাখ… আজ তোর হাত থেকেই খাবো!খায়িয়ে দে আমায়।

রোজ ঢকঢক করে পানি খেয়ে ইউভানের দিকে তাকালো।ইউভানের চাহনিতে কিছু একটা আছে।বক্ষঃস্থল পিটপিট করে উঠলো রমণীর।এমন ভাবে লোকটা আকুতি করছে যেনো কখনো কারোর হাত থেকে খায় নি।গন্ডঃস্থলে শুষ্ক ঢুক গিলে রোজ নিচুস্বরে বলল।

—আপনি কি সত্যিই আমার হাত দিয়ে খেতে চান??

ইউভান মাথা এপাশওপাশ নাড়ালো।​রোজ আর কোনো জেদ দেখাল না।স্থিরহাতে চামচটা টেবিলের একপাশে রেখে, অত্যন্ত আলতো করে নিজের কোমল আঙুলে খাবার মেখে ইউভানের মুখের সামনে ধরলো।অবচেতন হাত আকষ্মাৎ কেঁপে উঠলো রমণীর।ইউভান অক্ষীজোড়া বুজে রোজের হাতের প্রথম ছোঁয়া পরম তৃপ্তিতে নিজের মুখে পুরে নিলো।কিছুক্ষণবাদে ইউভান টিস্যু দিয়ে মুখ মুছে দুষ্টু ভঙ্গিতে হাসলো।

—খেতে তো মন চায় কতো কিছু।তবে হাওয়া খেয়ে খেয়ে পেট পুড়োতে হয়।শালী ধান্দাবাজ অধিকার দেয়ার নাম নেই আবার অধিকার চাওয়াতে এক্সপার্ট।

রমণীর নরম তুলতুলে চোয়ালখানা মুহূর্তেই শক্ত হয়ে এলো।লোকটা ভারী বজ্জাত।মুখে বিন্দুপরিমাণ লাম টানার ছিঁড়ি নেই।কর্ণকুহর রক্তিম হতেই ইউভানের মুখের উপর একধাবলা টিস্যু ছুঁড়ে মারলো রোজ।

**

ডিনার শেষ হতেই দু’জনেই নিচে নেমে এলো, ল্যাম্বরগিনির স্টার্ট দেওয়ার মুহূর্তে ইউভান জানালো রোজকে ম্যানশনে ড্রপ করে দিবে ইউভান তবে ​কিন্তু রোজ আজ কিছুতেই রাজি হলো না। সে ভালো করেই জানে, ইউভানের এই হুট করে ফর্মাল পোশাকে তৈরি হওয়া, জেব্রাইলের সাথে রহস্যময় ডিল ক্যানসেল করার কথা সবকিছু মিলিয়ে রোজের ষষ্ঠেন্দ্রিয় বলছিলো ইউভান কোনো বড়সড় ধ্বংসয*জ্ঞে মেতে উঠতে চলেছে। রোজ শক্ত গলায় বললো।

—আমি ম্যানশনে ফিরবো না। আপনি যেখানে যাবেন, আমি ঠিক সেখানেই যাব!

মস্তিক রীতিমতো বিষ্ফোরিত হলো মাফিয়া মনস্টারের।শক্ত হয়ে এলো চোয়াল।​তবে রোজের উপর হিংস্রতার বহিঃপ্রকাশ ও কোনো বাক্যব্যয় না করে এক ঝটকায় ল্যাম্বরগিনির স্টিয়ারিং ঘুরিয়ে নিলো।গাড়ি এখন ছুটে চললো কোপেনহেগেনের হাই-প্রোফাইল কূটনৈতিক এলাকার দিকে, যেখানে রয়েছে ডেনমার্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মিস্টার রাটসল বেঞ্জোর আলিশান সুরক্ষিত ম্যানশন।মিনিস্টার বেঞ্জোর বাড়ির ঠিক এক মাইল আগে, এক জনমানবহীন নিঝুম নিস্তব্ধ রাস্তার মোড়ে এসে আচমকা ব্রেক চেপে গাড়ি থামালো ইউভান। গাড়ি থামতেই চটজলদি নিচে নেমে এলো রোজ কিছু বুঝে ওঠার আগেই এক ঝটকায় সেন্ট্রাল লকিং সিস্টেমের মাধ্যমে গাড়ির সবকটি ডোর ও উইন্ডো লক করে দিলো মাফিয়া বস।

​ভেতরে বসে রোজ চমকে উঠে কাঁচের ওপর হাত চাপড়ে চিৎকার করে উঠলো।

—ডোর লক করলেন কেনো? ইউভান! ওপেন দ্য ডোর।

​ইউভান গাড়ির কাঁচ সামান্য নামিয়ে নিজের গোল্ডেন আইফোনটা ছুড়ে মারল রোজের কোলের ওপর। শীতল, ভারী গলায় বললো।

—যতক্ষণ না আমি ফিরে আসছি, আমার ফোনটা বসে বসে টিপ। গেমস আছে, খেলতে পারিস। চুপচাপ ভেতরে বসে থাক।

দেখুন মিস্টার ইউভান…! রোজ আরও কিছু বলতে চাইলো, কিন্তু তার আগেই ইউভান ল্যাম্বরগিনির ডার্ক গ্লাসগুলো পুরোপুরি ওপরে তুলে একদম এয়ারটাইট লক করে দিলো।

​রোজ মরিয়া হয়ে ভেতর থেকে হ্যান্ডেল ধরে টানাটানি করতে লাগলো, কিন্তু সব ব্যর্থ। ঠিক তখনই রমণী ক্ষীণ দৃষ্টিতে দেখলো, জলহস্তীর মতো বিশাল ও দীর্ঘকায় দুজন কৃষ্ণাঙ্গ বডিগার্ড কালো স্যুটে এসে ল্যাম্বরগিনির দুপাশে যমদূতের মতো পাহারা দিয়ে দাঁড়ালো। রোজ ভেতর থেকেই কাঁচ চাপড়ে সেই গার্ড দুটোর ওপর পাগলের মতো চিল্লাতে লাগলো।

—ওপেন দ্য ডোর! খুলুন বলছি! আই সেইড ওপেন দ্য ডোর! এটা আমার আদেশ!দরজা খুলুন!

লাভ হলো না।ভিতর থেকে কোনো শব্দ বাহিরে যাবেও না।রমণী ​ভেতরের ড্যাশবোর্ডেও ক্ষিপ্রতায় হাত চালাতে লাগলো কোনো আনলক বাটন খোঁজার আশায়। কিন্তু না, আলবার্ট মাফিয়ার পার্সোনাল গাড়ির দুর্ভেদ্য লক বাইরে থেকে তার সিগন্যাল ছাড়া খোলার সাধ্য কারও ছিলো না।রোজ ক্লান্ত হয়ে সিটে হেলান দিয়ে হাঁপাতে লাগলো।এক তীব্র আশঙ্কায় তার বক্ষঃস্থল কাঁপছে।

​এদিকে নিঝুম রাস্তা পেরিয়ে ইউভান সোজা এসে প্রবেশ করলো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাটসল বেঞ্জোর বাঙ্কার-সদৃশ সুরক্ষিত প্রাসাদে। বাইরে কোনো কোলাহল নেই, ইউভানের নির্দেশে তার ব্ল্যাক স্কোয়াডের নিঃশব্দে চারদিকের পাহারাদারদের সরিয়ে দিয়েছে।

​ভেতরের বিশাল ডাইনিং হলের রাজকীয় ওক কাঠের টেবিলটিতে তখন মন্ত্রী রাটসল এবং তার স্ত্রী আঞ্জেলিনা নৈশভোজ সারছিলেন। ঠিক তখনই হলের ভারী দরজা ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করলো ইউভান। পুরুষটার বুটের খটখট শব্দে পুরো হলের নীরবতা ভেঙে চুরমার হয়ে গেলো। ইউভানের দীর্ঘ, চওড়া অবয়ব আর চোখের চাউনি দেখেই মন্ত্রী রাটসলের আত্মার পানি মুহূর্তেই শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেলো।​ইউভান কোনো প্রকার অনুমতি ছাড়াই ধীরপায়ে এগিয়ে এসে ডাইনিং টেবিলের একটা চেয়ারে বসলো। তারপর অত্যন্ত রাজকীয় ভঙ্গিতে নিজের বাম পায়ের ওপর ডান পা তুলে দিলো। মন্ত্রী সম্পূর্ণ হতবাক ও বাকরুদ্ধ হয়ে গেলেন। কোনো প্রকার পূর্ব নোটিশ বা মিটিংয়ের আয়োজন ছাড়া, এত গভীর রাতে স্বয়ং তার খাস বাসভবনে ঢুকে পড়েছে ইউভান। অথচ বাইরের এত এত কড়া সশস্ত্র দেহরক্ষী তাকে বিন্দুমাত্র খবর দিলো না!​মন্ত্রী স্বাভাবিক হওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করে কাঁপাকাঁপা গলায় বলে উঠলেন।

—মিস্টার আলবার্ট? তুমি… এত রাতে এখানে?

​মন্ত্রীর স্ত্রী আঞ্জেলিনা তীব্র আতঙ্কে নিজের পরনের সিল্কের নাইটগাউনটা টেনেটুনে ঠিক করে স্বামীর চেয়ারের পেছনে গিয়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেন। কিন্তু তার আগেই বিভিন্ন কোণ থেকে একদল কালো পোশাকধারী ও মুখোশধারী আলবার্ট শুটার ক্ষিপ্র গতিতে এগিয়ে এসে আঞ্জেলিনার চুল মুঠো করে ধরে এক হ্যাঁচকা টানে মন্ত্রী থেকে বেশ খানিকটা দূরে সরিয়ে নিয়ে গেলো।

​মন্ত্রী রাটসল রাগে ও ভয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে চেঁচিয়ে উঠলেন।

—হোয়াট দ্য হেল! গার্ডস! কোথায় তোরা?

​কিন্তু ইউভানের সেই পৈ*শা*চিক, ভাবলেশহীন শান্ত ভঙ্গি দেখে মন্ত্রীর মস্তিষ্ক সায় দিলোআজ তার শেষ সময় উপস্থিত। ইউভান কখনো কোনো কাঁচা খেলায় মাঠে নামে না। ক্ষমতাশালী মন্ত্রী বেঞ্জো সমস্ত আশা হারিয়ে ধপ করে নিজের চেয়ারে বসে পড়লেন।

মূল ঘটনা হলো মিনিস্টারের জন্যেই এতোদিন পর ইউভান ডেনমার্কে এসেছে। মন্ত্রী বেঞ্জো জানতেন না যে তার সব সিক্রেট এতক্ষণে লিক হয়ে গিয়েছে। ইউভান ডেনমার্কে ভিতরে যেই পার্শ্ববর্তী আঞ্চলগুলোতে আন্ডারওয়ার্ল্ড মাফিয়া সিন্ডিকেট, ড্রা*গ সাপ্লাই, অ*বৈধ অস্ত্রোপচার আর ব্ল্যাক মানির সাম্রাজ্য পরিচালনা করে তার সকল নিরেট প্রমাণ মন্ত্রী বেঞ্জো জোগাড় করেছিলেন। আগামীকাল সকালেই ডেনমার্কের টপ নিউজ চ্যানেলগুলোতে সেই নথিপত্র লিক করে ইউভানের বিরুদ্ধে ‘ক্রসফায়ার’ এবং ‘শুট অন সাইট’ অর্ডার জারি করার সম্পূর্ণ ব্লু-প্রিন্ট তৈরি ছিলো।ইউভান ডেনমার্ক আসার পর মিনিস্টার এই সিদ্বান্ত নেন।কিন্তু এই খবর মন্ত্রীর টেবিল থেকে সরাসরি ইউভানের কান অবধি পৌঁছে যায়।​ইউভান পা নাড়াতে নাড়াতে বলল।

—ব্যাপারটা বড্ড হাস্যেকর না মিনিস্টার? যে মানুষ নিজে ডেনমার্কের সাধারণ আর নিচু শ্রেণীর মানুষদের র*ক্ত চুষে সিন্ডিকেট চালায়, নিজে একটা আস্ত পাপের গুদাম তার নাকি আজ অন্য পাপীর বিচার করার শখ জেগেছে! এক পাপী বুঝি অন্য পাপীর পাপের দাঁড়িপাল্লা মাপার ক্ষমতা রাখে?হুয়াট দ্যা ফা*ক অফ দিস ইজ।আপনি গদিতে বসার পরও কেনো এতো হজবরল পরিবেশ??কোপেনহেগেনে??পেট পুড়িয়ে পুড়িয়ে আলুর বস্তা বানিয়েছিস যে সেই খবর আছে??সেটাই ফাঁটাতে এসেছি।তোর যম আমি যম।

সোজা উপরে যাওয়ার টিকেট ধরাবো।

​পুরো হলের দেয়ালগুলো সাউন্ডপ্রুফ হওয়ায় বাইরে বিন্দুমাত্র আওয়াজ যাওয়ার সুযোগ ছিলো না। ইউভান পুরো পরিবেশটা এমনভাবে সাজাচ্ছিলো, যেন মনে হয় মন্ত্রী আর তার স্ত্রীর মাঝে কোনো তীব্র পারিবারিক কোন্দল বা ঝামেলার ফলে এই মর্মান্তিক তাণ্ডব ঘটেছে। মন্ত্রীর অতীতে করা বেশ কিছু গোপন খু*নের ফাইল এবং তার স্ত্রী আঞ্জেলিনার বিভিন্ন আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাসিনোতে গিয়ে কোটি কোটি টাকা জুয়া খেলার সমস্ত তথ্য প্রমাণ টেবিলে ছড়িয়ে দেওয়া হলো।

​পুরো ডেনমার্ক জানতো, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার সহধর্মিণী আঞ্জেলিনাকে কতটা অন্ধের মতো ভালোবাসেন। আর ইউভান ঠিক সেই দুর্বলতাতেই আঘাত করলো। মন্ত্রীর চোখের সামনেই আঞ্জেলিনার হাতে জোরপূর্বক একটা রিভলবার ধরিয়ে দেওয়া হলো এবং অন্য একজন শুটার তার হাতটা লক করে সরাসরি আঞ্জেলিনার নিজের মাথায় তাক করলো।

​মন্ত্রী বেঞ্জো নিজের চেয়ার থেকে ছিটকে এসে ইউভানের বুট পরা পা দুটো জড়িয়ে ধরলেন। এক হৃদবিদারক ও আর্তনাদ ভরা সুরে ভিক্ষা চাইলেন,

—দোহাই তোমার রিক! আমার স্ত্রীকে কিছু করো না! ও ওকে ছেড়ে দাও! যা করার আমার সাথে করো!ওও বিদেশ চলে যাবে।আমাকে মেরে ফেলো।ওকে মেরো না।

​কিন্তু ইউভানের অক্ষীদ্বয়ে দয়ার বিন্দুমাত্র লেশ ছিলো না। চোখের পলকে আঞ্জেলিনার নিজের আঙুল দিয়েই ট্রিগার চাপানো হলো। এক বিকট শব্দে আঞ্জেলিনার মাথার খুলির এক প্রান্ত দিয়ে বুলেট প্রবেশ করে অপর প্রান্ত দিয়ে মগজ ছিটকে বেরিয়ে গেলো। নিথর দেহটা মেঝেতে আছড়ে পড়লো।

মন্ত্রীর বুকফাটা আর্তনাদে দেয়ালগুলো কেঁপে উঠলো।

​কিন্তু পৈশা*চিকতার তখনও বাকি ছিলো। আঞ্জেলিনার সেই শক্ত হয়ে আসা মৃত হাত থেকে বন্দুকটি নিয়ে এবার মন্ত্রীর বক্ষঃস্থল লক্ষ্য করে পর পর দুটো শট চালানো হলো। নিজের মৃত্যুর দোরগোড়ায় দাঁড়িয়েও, তীব্র যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে মন্ত্রী রাটসল তখনও শক্ত করে ধরে রাখলেন ইউভানের পা। এত পাপের পরও নিজের স্ত্রীর এই নৃশং*স মৃ*ত্যু মেনে নিতে তার বুকটা ফেটে যাচ্ছিলো। উন্মাদের মতো কাঁদতে কাঁদতে বললো।

—যা করার… যা করার আমায় করতি! অন্যের সুখ কেড়ে নিয়ে কি এমন পৈ*শা*চিক তৃপ্তি মিলে তোর? আজ তুই আমার ঘরে যে তাণ্ডব চালালি, তা একদিন ঘুরে গিয়ে তোর নিজের ওপরই আছড়ে পড়বে না তো? প্রকৃতির মার বুঝিস ??”

​ইউভান নিজের পা-টা এক ঝটকায় মন্ত্রীর বক্ষস্থলের ওপর লাথি মেরে সরিয়ে দিলো। ছিটকে গিয়ে মেঝেতে আছড়ে পড়লেন মন্ত্রী। ইউভান মেঝেতে থুতু ফেলে অত্যন্ত শীতল ও ক্রূর গলায় বললো।

—আমার ওয়াইফের কসম মিনিস্টার সাহেব… আমি আমার বাপের থেকেও বড় হারামি হয়ে জন্মেছি! যে আমার পেছনে লাগতে আসে, আমি তার পুরো চৌদ্দ গোষ্ঠী জ্বালিয়ে ছারখার করে দিই। আপনি ভুল পথে পা বাড়িয়েছিলেন। আপনার এই ফালতু চালের কারণেই আজ বহু দিন পর আমাকে ডেনমার্কে আসতে হলো!

​মন্ত্রীর মুখ থেকে গলগল করে তাজা র*ক্ত বেরিয়ে আসছিলো। কাঁপা হাতে মুখের উষ্ণ র*ক্ত মুছে মন্ত্রী রাটসল এক পৈশাচিক হাসি হাসলেন।

—মজা পেয়েছিস খুব? তাই না ?? আমার মতো এক আস্ত নরপশুকেও তুই যেভাবে কাঁদালি, ছটফট করালি…

​ইউভান এবার অগ্নিশর্মার মতো এগিয়ে গিয়ে নিজের বুট পরা ভারী পা-টা সরাসরি মন্ত্রীর গলদেশের ওপর চেপে ধরলো।মটমট করে ভেঙ্গে গেলো গলার হাড়। শ্বাসনালী আটকে আসায় মন্ত্রী ছটফট করতে লাগলেন।

—দেখ, তুই আমার পেছনে না লাগলে তোকে কিছুই করতাম না আমি। আমি আগের রিক আলবার্ট নই,কথাটা মাথায় রেখে মর!

​মন্ত্রীর আর কথা বলার সক্ষমতা ছিলো না। কিছুক্ষণের মধ্যেই তার দেহটা সম্পূর্ণ নিথর হয়ে গেলো। ডেনমার্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের স্ত্রীর লাশের পাশেই চিরতরে স্তব্ধ হয়ে গেলেন।​ইউভানের ইশারায় তার ব্ল্যাক স্কোয়াডের সশস্ত্র সেনারা পুরো বাড়ি জুড়ে তাণ্ডব চালাতে লাগলো। আলিশান বাঙ্কারের প্রতিটি আসবাবপত্র, দেয়ালের পেইন্টিং, সিন্দুক ভেঙে চুরমার করে এক ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা হলো পুরো প্রাসাদকে।​ইউভান যখন পকেটে হাত দিয়ে তৃপ্তির সাথে হল রুম ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়ালো ঠিক তখনই এক অলৌকিক ও ভৌতিক কাণ্ড ঘটলো! মৃত্যুর ঠিক শেষ মুহূর্তে, মন্ত্রীর অবশ হয়ে আসা হাতটা শেষবারের মতো ইউভানের বুটের গোড়ালিটা শক্ত করে আঁকড়ে ধরলো। তার অর্ধনিমিলিত র*ক্তাভ অক্ষিকোটর দুটো যেনো নরকের অতল গহ্বর থেকে ইউভানের দিকে তাকালো। মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে হাড়কাঁপানো অশরীরী কণ্ঠে মন্ত্রী রাটসল তার শেষ জবান ছুঁড়ে দিলেন।

মৃত্যুর দ্বোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে বলে যাচ্ছি,

—তুই তো আমার থেকেও বড় ঘাতক! পৈশাচিকতায় ভরপুর তোর কালো অন্তর! দেখিস রিক আলবার্ট, মিলিয়ে নিস… খুব শীঘ্রই তুই নিজেই কোনো এক সর্বনাশের আগুনে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে পাগলের মতো ধড়ফড় করে কেঁদে বুক ভাসাবি! চাতক পাখির মতো ছটফট করবি, কিন্তু কোথাও তা পাবি না! কোথাও না…!

​মন্ত্রীর হাতটা এবার চিরতরে আলগা হয়ে মেঝেতে পড়ে গেলো।জিহ্বা আলগা হয়ে গালে পড়ে রইলো।ইউভান পৈশাচিক উৎফুল্লতায় হাসলো।কতো শয়তান ই মরার আগে তাকে একশো গালি দিয়ে দিয়ে মরে তার হিসাব রাখতে গেলে তার লিস্ট ইহকালেও শেষ হবে না।

********************★———★***********

হাড়হিম করা এক দিগন্তবিস্তৃত নিশীথ রজনী। জানালার কাঁচ ভেদ করে বাইরে তাকালে দেখা যায়, রাস্তার ধারে হওয়া ঝিরিঝিরি বর্ষণের অবিরল ধারায় ভিজে সিক্ত হয়ে উঠেছে পুরো কৃষ্ণপক্ষীয় পরিবেশ।

এই মিহিক ও থমথমে রজনীতে ধূসর ল্যাম্বরগিনির রুদ্ধশ্বাসে বসে অষ্টাদশী রমণী রোজ তার স্বামীর ব্যক্তিগত আইফোনটা ঘাঠছে। রাগের তীব্রতায় তার গলার সূক্ষ্ম রগগুলো ফুলে ফেঁপে উঠেছে। এতকাল পর আজ এই রুদ্ধ কামরায় বসে মেয়েটা উপলব্ধি করতে পারল যে তার নিজ হাতে ডি-অ্যাক্টিভেট করে রাখা পুরনো ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলটি স্বয়ং ইউভান পুঃনরায় অ্যাক্টিভেট করেছিলো!

​লোকটার কত বড় স্পর্ধা, কত বড় ধৃষ্টতা যে সে রোজের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে নিজের কব্জায় নিয়ে নিয়েছে! কিন্তু এসব সে করল কবে? রোজের মনে হলো তার চিন্তাশক্তি বুঝি এখনই অবশ হয়ে যাবে, মস্তিষ্কটা ফেটে চৌচির হয়ে যাবে রাগে।

​সবচেয়ে আশ্চর্যজনক ব্যাপার হলো, লোকটার ফোনের পুরো গ্যালারি জুড়ে অন্য কোনো জাগতিক ছবি নেই যা আছে, তার প্রতিটা ফ্রেমে কেবল রোজ নিজেই বন্দি! সে-সব ছবি কবেকার, কোন সুদূর অতীতে কোন গোপনে ক্যামেরাবন্দি করা হয়েছে, তার বিন্দুমাত্র হদিশ এই তন্বী রমণীর জানা নেই। একটা যুবতী মেয়ের বেডরুমের ছবি কি করে তুলতে পারে এই লোক!ফোনটা

হাতে ধরে আজ রোজের এমন ভ্রম হচ্ছে যেন সে ইউভানের কোনো বহু পুরনো, জন্ম-জন্মান্তরের প্রেমিকা সে!এতো এতো পার্সোনাল বেডরুম ছবি ইউভানের ফোনে। একটা সম্পূর্ণ অপরিচিত আন্ডারওয়ার্ল্ডের মাফিয়া এতদিন ধরে ছায়ার মতো ব্যবহার তার আইডি ব্যবহার করে চলেছে, অথচ সে নিজে কতটা বোকার মতো একটা দিনও তা টের অব্দি পায়নি! নিজের চরম ব্যর্থতায় ধিক্কার জানিয়ে রোজ নিজের মাথায় নিজেই আঘাত করে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো।​অতিরিক্ত ও নিয়ন্ত্রণহীন রাগের তাড়নায় রোজ নিজের পরনের ড্রেস খামচে ধরে নিজের মসৃণ উরুর ওপর নখ বিঁধিয়ে দিলো। তীক্ষ্ণ নখের হিংস্র আঁচড়ে মুহূর্তেই রক্তজমাট হয়ে লালচে রূপ নিলো স্থানটুকুতে। হাত কাঁপছে তীব্র বেগে, বক্ষঃস্থল দুলছে এক প্রলয়ঙ্কারী কম্পনে। দিশাহীন, উন্মাদের মতো ভঙ্গিমায় হাতের আইফোনটা সজোরে আছাড় মারতেই ঠিক সেই মুহূর্তেই গাড়ির দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করা ইউভানের কোলের ওপর ফোনটা সশব্দে গিয়ে আছড়ে পড়লো।

ড্যানিশ মিনিস্টারকে ধ্বংস করে আসা ইউভান গাড়িতে বসতেই রোজের এমন ধৃষ্টতাপূর্ণ কাণ্ড দেখে পরম ক্ষিপ্র ও ক্রুদ্ধ দৃকপাত করল রমণীর নয়নজোড়ায়। দেখলো, কোমল হরিণীর মতো নয়নজোড়া ক্ষোভে ছলছল করছে।রমণীর চোখের অশ্রুধারা দেখামাত্রই মাফিয়া বসের মস্তিষ্কে যেনো একসাথে কয়েক ঘা হাতুড়ির সজোর বারি পড়লো! মন্ত্রীর ওপর থাকা ক্ষোভ আর আক্রোশে এমনিতেই ইউভানের পুরো পুরুষালী দেহাবয়ব পাথরের মতো শক্ত হয়ে আছে, তার ওপর রোজের কান্না তার ভেতরের রাগের তীব্রতাকে এক ধাক্কায় একশো ডিগ্রি বাড়িয়ে দিলো।

​রোজ কোনো ভয় পেল না।সাপের ন্যায় ফোঁস করে উঠে ইউভানের স্যুট কোট খোলা শার্টের কলারটা দুই হাতে খামচে ধরে নিজের দিকে টেনে আনলো। ল্যাম্বরগিনির সেই রুদ্ধ ও আবছা অন্ধকারের ভেতর দুই মেরুর, দুই চরম ব্যক্তিত্বসম্পন্ন জীব আজ পুরোদমে নিয়ন্ত্রণহীন।

​রোজ দাঁতে দাঁত চেপে, হিসহিসিয়ে এক চরম হুঙ্কার ছেড়ে বললো।

—আপনি আর কী কী করেছেন আমার সাথে?? বলুন?? যদি আজ এই মুহূর্তে নিজের মুখে না বলেন আমার আড়ালে আর কী কী লুকিয়েছেন। ইউভান রিক আলবার্ট, আমার এই দু-চোখ যেদিকে যাবে, আমি চিরদিনের জন্য সেদিকে চলে যাবো! এই নরকেও আর একটা সেকেন্ডের জন্য আমাকে খুঁজে পাবেন না!

ইউভানের দৃষ্টিতে তখনো আগ্নেয়গিরি অগ্নুৎপাতের মতো জ্বলে আছে। ফোনের দিকে দৃষ্টি রেখে আবার রোজের দিকে তাকালো। রোজের অঁধর তিড়তিড় করে কাঁপছে। ইউভানের এমন ভয়ানক দৃষ্টি দেখেও চোখ নামালো না।শক্ত থাবায় রোজকে উপড়ে এনে টেনে বসালো উরের উপর।রাগের তাড়নায় বক্ষঃস্থল প্রলয়কম্পিত হচ্ছে। আঙুল চেপে ধরলো রমণীর নরম তুলতুলে অঁধরদেশে।চাপের মাত্রাতিক্ত প্রয়োগে ঠোঁট ফেটে যাওয়ার উপক্রম।

—হুশশ!অসম্ভব কথা বলো না ওয়াইফি।যা হওয়ার নয় তা বলা মানে সময় অপচয়।রাগান্বিত হওয়ার কারণ কি??

অসহ্যতায় রোজ ইউভানর উরুর উপর থেকে উঠার উপশম ঘটালে ইউভান আরও শক্ত থাবায় রোজকে বসিয়ে দিলো।আতর্কিত হয়ে রোজ দু’পায়ে আক্রে ধরলৌ ইউভানকে।

—একটা মেয়ের বেডরুম পিকচার ফোনে রাখতে লজ্জা করলো না আপনার???কখন তুলেছেন এসব??তাই বলে টাও….

ইউভান শক্ত করে পিষে ধরলো রমণীর চোয়াল।বাক্যবিনিময়ের সুযোগ না দিয়ে ক্রোর গলায় বলে উঠলো।

—সো হুয়াট??সামান্য ইশ্যু নিয়ে এমন ব্যবহার মাত্রাতিক্ত বলে মনে হচ্ছে না তোমার?আফটার অল এখন তো তুমি আমার ও্যাইফ হয়ে গিয়েছো প্রব্লেম কোথায়??

ব্যথাসিক্ত হলো রমণীর। গাঢ দৃষ্টিতে তাকালো পুরুষটার অবয়বের দিকে।পুরুষটার বক্ষস্থল পরপর উঠানামা করছে।তরঙ্গধ্বনিতে উপরনিচ হলো এড্যাম অ্যাপেল’স।ক্ষোভের তাড়নায় কামড় বসিয়ে দিলো নরম অধরে।দু-সেকেন্ডেই ছেড়ে দিতেই রোজ মুখ ফিরিয়ে নিলো।ফুলে ফেঁপে উঠছে অধর।

—আপনি এমন করতে পারেন না আমার সাথে!কে হন আপনি আমার??

ইউভান নাক গুঁজে ঘ্রাণ টেনে নিলো রমণীর গলদেশ থেকে।কথার পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে জবান টানলো।

—ইউর হাসবেন্ড। হু অনলি মেইড ফর ইউ্য।দূরে যাওয়ার কথা বলো না ওয়াইফি। জানে মারা পরবে।আমি মানুষটা ততোটাও খারাপ না।তবে আমি তোমার ভাবনার জগৎ থেকে আরও বড় খারাপ।আমার রাণী আমার রাজ্যেই মানায়।

ইউভান ওষ্ঠাধরের তিব্রতার তাল সামলাতে না পেরে রি রি করে উঠলো রমণীর সর্বাঙ্গ।হাস্ত অবশ হয়ে ঝুলে পড়লো।তরঙ্গধ্বনি বাজতে লাগলো দেহাবরণ জুড়ে।পুরুষালীর মাতাল স্পর্শে দিশাহীন হয়ে পড়লো।অসহনীয় নৈশঃশব্দে অতিবাহিত হলেও ইউভান মুখ সরালো না রোজের ঘাড় থেকে। রিক্তশূন্য মাফিয়ার অনুভূতিকিণারা।কিয়ৎকালের মধ্যেবর্তি সময়ে ইউভান বেসামাল হাতে রমণীর উদরে হাতের স্পর্শ ছোয়ালো।

হাঁপড়ের মতো বেড়ে চলেছে রমণীর হৃদস্পন্দন।ভেতরটা যেনো অজানা আশঙ্কায় কুড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে। অনেক কিছু বলতে মন চাইলো তবে পারছে না।অশ্রু জমে উঠলো নয়নে।

—আমাকে সত্যিই ভালোবাসবেন ইউভান??আমি আপনার কাছে থাকতে চাই না,তবে দূরে যাওয়ার কথা কেনো ভাবতে পারি না আজকাল!ইউভান আপনি কি আমায় আপনাকে জানার অধিকারটুকু দিবেন??

ক্ষুধার্ত সিংহের ন্যায় হিংস্রতায় ইউভান আঁকড়ে ধরলো রমণীর কেশযুগল।।আতর্কিত গম্ভীর স্বরে তড়িৎ গতিতে হুঙ্কার দিলো।

—তোর জবান আজকাল বেশি চলছে রোজ।তুই কি চাস তোকে মেরে আমি মরি??ভালো চাইলে নিজের জবানে লাগাম টান।

—আপনার কাছে থাকতে চাওয়ার দুটো কারণ বলুন!

ইউভান দু’হাতে গ্রিবায় বন্ধি করলো রমণীর চোয়াল।ফুঁসে ফুঁসে জবাব দিলো।

১:কারণ আমি তোর।

২:কারণ আমি তোর।

৩:কারণ এই ইউভান রিক আলবার্ট শুধু তোর।তার পুরো অস্তিত্ব পুরো জীবন জন্যে তোর নামে বরাদ্দ।আমার উপন্যাসের প্রতিটা পৃষ্ঠা জুড়ে শুধু তোর নাম লিখা।

ইউভান কোনো কোনো কারণে রেগে আছে ভীষন তা বুঝতে পারলো রমণী।তবে তাকে আগে এমন ধড়ফড় করতে দেখে নি রমণী।কার্টেন কার্ট চুলগুলো আচমকাই স্পর্শ করে হাত বুলিয়ে দিলো।এতে মাফিয়া মনস্টার আরও ক্ষিপ্র হয়ে ক্ষুধার্ত সিংহের ন্যায় ওষ্ঠপ্রগাড় করলো রমণীর গলদেশে।বরফের ন্যায় দ্বিখন্ডিত হলো রমণীর সর্বাঙ্গ।মাফিয়া মনস্টারের হাত প্রগাঢ গতিতে উদরের তলদেশ বেয়ে নামতে লাগলো।পাখির ন্যায় ছটফটিয়ে উঠলো রমণী।তাতেও যেনো আরও তিব্র হলো সেই হাতের স্পর্শ। শরীরের টাল সামলাতে না পেরে মাথা এলিয়ে দিলো তিব্র আবেশে।ইউভান হাত প্রগাঢ রেখেই ঝুঁকে এলো রমণীর পানে।অসহনীয়তায় চোখবুজলো রোজ।ইউভান টেনে আনতেই রোজ আকড়ে ধরলো মাফিয়া বসের পৃষ্ঠদেশ।ঢলে পড়লো বক্ষঃস্থলে।

ঘন্টাখানিকের মাথায় ইউভান নিজের ভেজা তর্জুনিতে ওষ্ঠাধর ছুঁয়ে গাড়ি স্টার্ট দিলো। পুরো শরীর অবশতায় বুঁজে আছে রমণীর।পুরুষালী বক্ষদেশের আশ্রয়স্থল থেকে গোঙিয়ে উঠে ভেজা নেত্রপল্লব মুছলো।বক্ষঃস্থলে দুটো কিল-ঘুষি দিয়ে বললো।

—পাষাণ লোক ব..বলুন..বলুন যে আপনি আমাকে ভালোবাসেন।যতদিন না বলবেন আমার ধারে কাছে ঘেষার চেষ্টাও করবেন না।

ইউভান শক্তচুমু খেলো রোজের মাথায়।একহাতে গাড়ি ড্রাইভ করে অপর হাতে রোজকে পৃষ্ঠ করে ধরে রেখে বললো।

—এতো উতলা কেনো তুই??শোন,

ঊনচল্লিশটি ব্যঞ্জনধ্বনি, এগারোটি স্বরধ্বনি, ছাব্বিশটি ইংরেজি অক্ষর, ঊনত্রিশটি ড্যানিশ বর্ণ কিংবা পৃথিবীর সাত হাজার ভাষার সমস্ত অক্ষর একসাথে জড়ো করলেও আমার অনুভূতির গভীরতা প্রকাশ করা সম্ভব না!অ্যাম আই ক্লিয়ার??

ইউভান নিকোটিন পুড়লো কালচে ঠোঁটে নিস্পৃহ স্বরে পুনঃরায় বললো।

“আমার ধ্বংসাত্মক টানের কাছে পৃথিবীর সমস্ত ভাষা নিজেরাই অপূর্ণ। “

#চলবে???

পরবর্তী পর্ব তাড়াতাড়ি পেতে রেসপন্স করিও কেমন??রিয়েক্ট না দিলে গল্পের আশা করার দরকার নেই।

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply