Love or Hate পর্ব ৪৫
|#পর্ব_৪৫|
#ইভেলিনা_তূর্জ
কপি করা সম্পূর্ন নিষিদ্ধ
প্রাপ্ত বয়স্ক ও মুক্ত মনস্ক দের জন্যে
পিটারর্সবার্গের ঘন অরন্যের শেষ প্রান্তে মাউন্ট আড়ান্তুকের উচু চূড়ায় একটা ক্লিফসাইড গ্লাস পেন্টহাউজ আছে।বুনো গাছপালা আবছা পড়ায় লোকচক্ষুর আড়ালে সেই গ্লাসহাউজ।সূর্যাস্তের সময় লাল আভার দিগন্তের সীমা পেরিয়ে পেন্টহাউজে পড়লে তার রঙে পরিবর্তন আসে।মুহূর্তেই এক অপার্থিব রূপবদল ঘটে সেখানে!পেন্টহাউসের উর্ধ্বাংস সিংহের মাথার আকৃতির।ডেনমার্কের একজন সফল বিজনেস ম্যান রাশিয়ার একজন মোস্ট ওয়ান্টেড আন্ডারওয়ার্ল্ড মাফিয়ার গোপন ডেরা মূলত এটা।
বেডরুমের একপ্রান্তে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ কাঁচের তৈরি বাথরুম বেডরুমে শাওয়ারের ঝর্ণা থেকে অবিরাম ঝরে পড়া পানির উষ্ণতায় কাঁচের দেয়ালগুলো ক্রমেই ঘন, ধোঁয়াটে বাষ্পের চাদরে আবৃত হয়ে পড়ছে।সেই ঝাপসা কাঁচের ওপাশে দেখা যাচ্ছে এক দীর্ঘদেহী পুরুষের অবয়ব। বাষ্প আর পানির মেলবন্ধনে তার ন*গ্ন শরীরের ভাঁজ, চওড়া কাঁধ আর ফুলো ফুলো পিঠের পেশীগুলো বেডরুম থেকে আবছা অবকোলন করা সম্ভব।
ভেতরে থাকা পুরুষটা যে মাত্রাতিরিক্ত রাগে উ*ন্মত্ত হয়ে এই অসময়ে শাওয়ার নিচ্ছে, তা বেডরুমের আলিশান বিছানায় পায়ের ওপর পা তুলে বসে থাকা রমণী নিখুঁতভাবে অনুধাবন করতে পারলো। রমণীর পরনে ওভারসাইজড শার্ট আর ফ্লেয়ার্ড জিন্স। বাঁ-হাতে একটা YSL এর চেরি রেড ব্যাগ।গোসল শেষ করে কোমরে একটা সাদা তোয়ালে পেঁচিয়ে ধীরপায়ে বাথরুম থেকে বেরিয়ে এলো দীর্ঘদেহী পুরুষ। শরীরটা ঠিকমতো মোছা হয়নি, চওড়া বুক আর পিঠ বেয়ে এখনো জলের অবাধ্য ফোঁটাগুলো টপটপ করে গড়িয়ে পড়ছে মেঝেতে। হাত দিয়ে সিক্ত চুলগুলো পেছনের দিকে ঝেড়ে ঝাপসা দৃষ্টি পরিষ্কার করতেই পাঁ থামিয়ে দাঁড়ালো আদ্রিয়ান!বেডরুমের বেডে রাহাকে এক হাঁটুর উপর অপর হাঁটু ভর দিয়ে বসে থাকতে দেখে ক্ষণিকের জন্য আদ্রিয়ানের পায়ের গতি শ্লথ হয়ে গেলো। পরক্ষণেই রাহাকে উপেক্ষা করলো এমন ভাবে যেনো রাহা রুমে এক অদৃশ্য মানবী বৈ কিছু নয়।কেবিনেট থেকে একটা নাইটস্যুট বের করে কোনো দ্বিধা ছাড়াই গাতিয়ে নিলো পুরুষালী দেহে।
অতঃপর টেবিলের ওপর রাখা ওরেঞ্জ জুসের গ্লাসটা এক চুমুকে পুরো শেষ করে নিলো। কাটা হাতের ক্ষ*তবি*ক্ষত স্থানে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় মেডিসিন প্রয়োগ করলো।আদ্রিয়ান তাকে উপেক্ষা করছে দেখে ওষ্ঠাধরের কোণে এক চিলতে তাচ্ছিল্যের হাসি ফুটিয়ে পা নাড়াতে লাগলো রাহা। কারণ রাহা খুব ভালো করেই জানে,গ্যাংস্টার বসের বক্ষঃস্থলের মধ্যে ভেতরের আগুনটা কোথায় জ্বলছে। রোজকে যে ইউভান ডেনমার্কে নিয়ে গিয়েছে মূলতঃ সেই ক্ষোভেই আদ্রিয়ানের কলিজা যে পুড়ে খাক হয়ে যাচ্ছে, তা রাহার গ্রে আইসে আড়াল হয়নি।রাহা পাঁ নাড়ানো থামিয়ে অত্যন্ত ধারালো ও তাচ্ছিল্যভরা কণ্ঠে বলে উঠলো।
—হাহ্! প্রেমিকার জন্য বুক পুড়ে? সো স্যাড! থার্টি ওয়ান প্লাস এইজে এসে একটা ম্যারিড মেয়ের জন্য নিজের জীবনটা এভাবে তেনা তেনা করে দিচ্ছে আদ্রিয়ান শাহ ভলকভ?আগে ম্যানার’স শিখুন!
কথাটা শোনামাত্রই যেনো সর্বাঙ্গের তাপমাত্রা মাইনাসে নেমে গেলো গ্যাংস্টার বসের। আদ্রিয়ান নিজের শক্ত হয়ে যাওয়া চোয়াল নিয়ে এক তীরের মতো তীক্ষ্ণ ও তির্যক দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো রাহার দিকে। সেই চাউনিতে এতটাই পৈ*শাচিক হিং*স্রতা ছিল যে যেকোনো সাধারণ মানুষ ভয়ে কুঁকড়ে যেতো। কিন্তু রাহা তো অন্য ধাতুতে গড়া!সোজা আদ্রিয়ানকে উপর থেকে নিচ পর্যন্ত খুঁটিয়ে দৃশ্যমান বক্ষঃস্থলে মধ্যেস্থে অবস্থানরত কালো তিলটায় নজর বুলিয়ে ঠোঁট উল্টিয়ে বললো।
—আহ!ন’ট ব্যাড! কিন্তু রাহা কাউকে ভয় পায় না। চোখ নামান!
আদ্রিয়ান বাঘের মতো নিঃশব্দ হিং-স্র পদক্ষেপে এগিয়ে এসে একদম রাহার মুখোমুখি দাঁড়ালো।লাল লাল অক্ষীদ্বয়ে অত্যন্ত ধীর বজ্রকঠিন কণ্ঠে প্রশ্ন করলো।
—এই দুর্গম পাহাড়ে, এখানে কীভাবে এলে তুমি?ইউভান জানে তো?? এসেছো ভালো কথা, কিন্তু আমার বেডরুমে ঢোকার স্পর্ধা কীভাবে হলো? গার্ডস’রা’ কোথায়?
ধারযুক্ত, গম্ভীর পুরুষালী কণ্ঠস্বর কর্ণকুহরে প্রবেশ করতেই রাহা ভেতরে ভেতরে খানিকটা নড়েচড়ে উঠলো। মূলত তাদের ফার্মহাউস থেকেই রাহা আদ্রিয়ানের গ্লাস পেন্টহাউসের লোকেশন জানতে পেরেছে। যদিও রমণী খুব ভালো করেই জানে, ইউভান যদি কোনোভাবে জানতে পারে যে রাহা এখানে এসেছে, তবে রাহার ওপর চরম ক্ষুব্ধ হবে তা তো নিশ্চিত।
—আপনার গার্ডরা আটকাবে আমায়? ওহ শিট, ফা*ক! আমাকে আটকানোর ক্ষমতা তো স্বয়ং আপনারও নেই।
বলেই বিছানা থেকে এক ঝটকায় উঠে দাঁড়াল রাহা।রাহা মূলত আদ্রিয়ানের ভেতরের জ্বলতে থাকা ক্ষোভ আর ক্ষ*তটাতে নুনের ছিটে দিতেই বেসুরা কন্ঠে বলে উঠলো।
”বান্ধবী যখন জামাই লইয়া
আমার চোখের সামনে দিয়া
রঙ্গ কইরা হাইট্টা যায়!
ফাইট্টা যায়! বুকটা ফাইট্টা যায়!
—আমাকে কি ইউভান পেয়েছো? এইসব সস্তা গান শুনে রেগে যাবো! আদ্রিয়ান শাহের রাগের পেছনেও দশটা কারণ থাকে। নিজের রাগ অপচয় করার আগেও দশবার ভাবি আমি!
নাক কুঁচকে উঠলো রাহার। আদ্রিয়ান হাত উঁচিয়ে অত্যন্ত রুক্ষ ভঙ্গিতে রুমের দরজার দিকে ইশারা করল তলোয়ারের ধারালো ফলার মতো বললো।
—যেভাবে এসেছো, সেভাবেই চলে যাও রাহা! নাহলে পাহাড়ের খাড়াই থেকে নিচে আছড়ে পড়বে, আর তখন তোমার ভাইও তোমাকে বাঁচাতে পারবে না!
রাহা নিজের চেরি রেড ব্যাগটা একটু ঝাঁকিয়ে বাঁকা হাসলো।রাহাকে অন্যরকম লাগছে আজ!রাহাকে যতটুকু চিনে আদ্রিয়ান এই মেয়ে মুটেও তো এমন ছিলো না!
—ওহ কাম অন! আমি আপনাকে তেল মারতে আসিনি চলুন!সিরিয়াস কথার আগে এক সাথে ডিনার করা যাক!অ্যাম হাঙ্গরী!
আদ্রিয়ানের ধৈর্যের বাঁধ ছিঁড়ে উঠলো। দাপুটে ভঙ্গিতে দু’কদম এগিয়ে রাহা সন্নিকটে আসতেই তার ভেজা চুলের ডগা থেকে কয়েক ফোঁটা হিমশীতল পানি টপটপ করে ছিটকে পড়লো রাহার উরুর ওপর। প্যান্ট পরা রাহার উরুর অংশের কাপড়টুকু ভিজতেই আঁতকে উঠলো রমণী। অতর্কিতস্পর্শে তড়িৎগতিতে বিছানা ছেড়ে সরে যাওয়ার চেষ্টা করলো।কিন্তু আদ্রিয়ান সেই সুযোগ প্রদান করলো না। ক্ষিপ্র চিতার মতো হাত বাড়িয়ে মচকে ধরলো রমণীর নরম হাতখানা। কোনো রকম দয়ামায়া ছাড়া, রাহার হাতটা পিঠের পেছনে নিয়ে হাড় মটকে দেওয়ার মতো এক নি*র্মম মোচড় দিলো!গ্যাংস্টারের এহন আসুরিক শক্তিতে ব্যথায় কুঁকড়ে উঠলো রাহার প্রতিটা শিরা-উপশিরা।অত্যাধিক ফর্সা মুখাবয়ব ব্যথায় নীলচে হয়ে সিক্ত হয়ে উঠলো। আদ্রিয়ান রাহার পেছনে দাঁড়িয়ে কর্ণকুহরের সন্নিকটে মুখ নিয়ে মাত্রাতিরিক্ত ক্ষোভ উগরে দিয়ে হাস্কি টোনে বলল।
—তোমার ভাইকে মারার হলে অনেক আগেই মারতে পারতাম, রাহা!হঠাৎ কি এমন প্রয়োজন পড়লো যে ইউভানের ঘাড় ত্যাড়া বেয়াদব সিস্টার আমার গ্লাস হাউসের লোকেশন নিয়ে আমার কাছে এসেছে?? আমি মানুষটা কিন্তুু একজন ব্যতীত পৃথিবীর কারোর কাছে তেমন সুবিধার না!
—আমি রিক আলবার্টের সিস্টার হিসেবে আসিনি।আমি এসেছি আর সি.গ্রুপের সি ইউ হিসেবে।মিউজিক ব্যন্ড লিডার রাহা আলবার্ট হিসেবে।
রাহার কথায় আদ্রিয়ান এক ঝটকায় রাহাকে বিছানার ওপর ছুঁড়ে ফেলে দিলো। রাহা বিছানায় আছড়ে পড়তেই আদ্রিয়ান আর এক মুহূর্তও সেখানে দাঁড়ালো না। হনহনিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে সোজা ডাইনিং টেবিলের দিকে এগিয়ে গেলো।বিছানা থেকে উঠে রাহা রাগে দিশাহীন হয়েও অত্যন্ত চতুরতার সাথে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করলো। ডাইনিং হলের দিকে এগিয়ে গিয়ে আদ্রিয়ানের সামনে এসে হাত গুটিয়ে দাঁড়ালো। ক্ষোভের বশে ডাইনিং টেবিলের ওপর সজোরে এক হাত বাড়ি মেরে তীক্ষ্ণ গলায় বললো।
—আপনি যা চান তা পেতে হলে আমার সাহায্য আপনাকে নিতেই হবে, আদ্রিয়ান!
বলেই রাহা সেই বিশাল আকৃতির ডাইনিং টেবিলের অপর প্রান্তে গিয়ে বসলো। এত বড় লম্বা টেবিল, যার এক প্রান্তে আদ্রিয়ান আর অন্য প্রান্তে রাহা। মাঝখানে এক বিস্তর দূরত্ব।আদ্রিয়ান অত্যন্ত নির্বিকার। সে প্লেট থেকে মাংসের টুকরো কাঁটাচামচে গেঁথে মুখে পুরে চিবোতে চিবোতে শীতল গলায় বললো।
—আমার কারও সাহায্যের প্রয়োজন পড়ে না। ডিনার করে নাও! তারপর তোমার জন্য ডেনমার্কের ফ্লাইট বুক করে দিবো।
—আপনাকে আমার সাহায্যই নিতে হবে!
আদ্রিয়ান যা-ই করে, অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় ভেবেচিন্তে করে। হঠকারিতার কোনো স্থান নেই তার ডিকশনারিতে। আর এই মুহূর্তে তার সত্যিই কারও সাহায্যের প্রয়োজন নেই। আদ্রিয়ানকে এভাবে স্তব্ধ দেখে রাহা এবার এক পৈশাচিক তৃপ্তির হাসি হাসলো। টেবিলের ওপর শরীরটা খানিকটা ঝুঁকিয়ে দিলো।
—-যদি বলি, আমি আপনার ব্যাপারে একটা বড়সড় সিক্রেট জানি?
আদ্রিয়ান এবার হাত থামালো। এক বিরক্তিসুখ চাউনি নিয়ে তাকাল রাহার দিকে। এই মেয়েটাকে সে যতটুকু চেনে, কোনোদিন এতটা সিরিয়াস হতে দেখেনি। রাহার চোখেমুখের এই আকস্মিক পরিবর্তন আদ্রিয়ানের তীক্ষ্ণ নজর এড়াল না। সে গভীর চোখে তাকিয়ে শুধালো
—কী জেনেছ?
রাহা তার ব্যাগটা টেবিলে রেখে দুই হাত গালে দিয়ে বাচ্চার মতো মাথা নাড়লো।
—নো নো, বলবো না!
আদ্রিয়ানের ওষ্ঠাধরে এক চিলতে তাচ্ছিল্য ফুটে উঠলো।গ্যাংস্টার বস আবারও নিরাসক্ত ভঙ্গিতে প্রশ্ন করলো।
—আমি যা চাই তা পাইয়ে দিয়ে তোমার কী লাভ, বলো?
রাহা সোজা হয়ে বসলো।কাঁধ নাচিয়ে অত্যন্ত সাবলীল গলায় উত্তর দিলো।
—নাথিং! যাস্ট মজা লাগে!Me just watching! i know the whole story!but but but entertainment is entertainment! Tea is tea!
আপনার আর আমার দশা খানিক এক হয়েও এক নয়।
রাহার কথার দিকে আদ্রিয়ানের ভ্রুক্ষেপও হলো না।টেবিলের উপর রাখা ফোনটার ওয়ালপেপারে রোজের নীল শাড়ী পড়া ছবিটার দিকে এক একদৃষ্টিতে, তীব্র এক সম্মোহনে অবশ হয়ে তাকিয়ে রইলো। সর্ষে-দানা রঙা চক্ষুদ্বয় ক্রমান্বয়ে রক্তিম বর্ণ ধারণ করছে। যেন এক প্রলয়ংকারী ঝড় তার পুরো দেহান্তর জুড়ে তাণ্ডব চালাচ্ছে। তীব্র আকুলতায় আচ্ছন্ন পুরুষালী কণ্ঠস্বর রোজের সেই নিস্পৃহ ছবিটাকে উদ্দেশ্য করে বিড়বিড় করে উঠলো।
”তুমি! আমার মরুভূমির বুকে একমাত্র ফোটা রেড রোজ তুমি!”
তুমিই তো সোহান আলীর—‘তুমি অন্য গ্রহের চাঁদ’!
ব্লু টাচের—‘মায়াবী’!
তাহসানের—‘কেউ না জানুক’!
আর্টসেলের—‘দুঃখবিলাস’!
আইয়ুব বাচ্চুর—‘সেই তুমি’!
তাসনিফ জামানের—‘উৎসর্গ’!
অতঃপর…
মিনারের—‘দেয়াল’!”
আদ্রিয়ানের উন্মা*দনা ভালোবাসার চরম বহিঃপ্রকাশ দেখে রাহার ওষ্ঠাধরে এক বিদ্রূপাত্মক, তাচ্ছিল্যের হাসি ফুটে উঠলো। সে নিজের নিচের ঠোঁটটা দাঁত দিয়ে চেপে ধরে মাথাটা হালকা ঝাঁকালো। তার সেই অবিন্যস্ত চুলগুলো অবহেলায় দুলে উঠলো কাঁধের ওপর। চরম তাচ্ছিল্য আর তাচ্ছিল্যের স্বরে বিষাক্ততা উগরে দিয়ে বললো।
—ফা*কিং লাভ! মজার ব্যাপার হলো, এই পৃথিবীর মানুষ যাদেরকে নিজের কলিজা সঁপে দিয়ে ভালোবাসে, তাদের কাছ থেকে কখনোই এক ফোঁটা ভালোবাসা ফেরত পায় না। যত্তসব ডিজগাস্টিং থিং অফ দিস ওয়ার্ল্ড!
—তুমি কি চাইছো রাহা??
—আমি কিছুই চাইছি না!আমি নিজের জীবনগতি সম্পর্কেই অবগত নই।তবে আপনারা অনেক কিছু লুকোনোর চেষ্টা করছেন।একটা কথা মাথায় রাখবেন সত্য বেশিদিন লুকায়িত থাকে না!
—কোনো সত্য নেই।যা দেখছো যা হচ্ছে তা-ই সত্যি। বেশি ঘাটতে যেও না।দুঃখ পাবে।নারীদের মন নরম হয়।সেখানে পাথর চাপা দিলে শুধুই যন্ত্রণাই হবে।তাছাড়া আর কিছু না!
—মিথ্যা সুখ থেকে যন্ত্রণাময় সত্য মেনে নেয়া অতিউত্তম।
*
*
ডেনমার্কের আরহুসের জনমানবহীন মহাসড়কের ফুল স্পিডে, সমস্ত নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে বেদিশাহীন গতিতে ছুটে চলেছে দুটো হাই-পারফরম্যান্স স্পোর্টস বাইক।বাইক দুটোর ব্যাক-মিররে তাকালে দেখা যাবে, মাইলখানিক দূরত্ব বজায় রেখে ধেয়ে আসছে ১০-১২টা কালো মার্সিডিজ জি-ওয়াগন (G-Wagon)।
সামনের বাইক দুটোর একটিতে ইমারত-সদৃশ চওড়া পিঠ নিয়ে কালো স্লিভলেস মাসল টি পড়ে বসে আছে ইউভান।বাইসেপ, টাইসেপ দুটোই দৃশ্যমান হয়ে ঘামে ভিজে চুপ চুপ করছে।আর অন্যটিতে সাদা আন্ডারশার্টের উপর স্কাই ব্লু শার্টে দামিয়ান।
হাইওয়ে উপকন্ঠে আদিম ব*র্বর*তার চরম উৎসব জি-ওয়াগনের কালো গ্লাস নামিয়ে, কোনো রকম দয়ামায়া ছাড়া একদল স*শস্ত্র হায়না রাস্তার ধার থেকে মেয়েগুলোকে জোরপূর্বক টেনে-হিঁচড়ে গাড়ির ভেতর তুলছে।ইউভান পৈশাচিক উৎফুল্লতা মিশ্রিত জিভ দিয়ে ঠোঁট চেটে হাসলো। একহাতে চলন্ত বাইকের হ্যান্ডেল ধরে, অন্যহাতে কোমর থেকে বের করে আনলো সাইলেন্সার লাগানো রিভলবার। বাইকের গতি একচুলও না কমিয়ে, অত্যন্ত নিখুঁত নিশানা একের পর এক বুলেট ছুঁড়তে লাগলো। তার প্রতিটি শট একেকটি চাকার টায়ার কিংবা উইন্ডশিল্ড চুরমার করে দিচ্ছিল, যার ফলে রাস্তা জুড়েই তৈরি হচ্ছিল এক রক্তক্ষয়ী কোলাহল। চরম বি*শৃঙ্খ*লা আর ব*র্ব*রতার মাঝেই কানে গোঁজা এয়ারপডে অন্য প্রান্তের আন্তর্জাতিক ডিলারের উদ্দেশ্যে অত্যন্ত সাবলীল ও ক্রূর ভঙ্গিতে বলে উঠলো।
—“মেক অ্যারেঞ্জমেন্টস টু সেন্ড দোজ উইমেন্স অল টু ইতালি”
কথাটা বলেই বাতাসে একদলা থুতু ছুঁড়লো। বাইকের গতি তখনও ঘণ্টায় দুইশত কিলোমিটার ছুঁইছুঁই। একহাতে বাইকের থ্রটল চেপে ধরে, অন্যহাতে পকেট থেকে গোল্ডেন আইফোনটা বের করলো।চক্ষুদ্বয় পলকে আঙুল চালিয়ে মার্বেলকে উদ্দেশ্য করে টেক্সট মেসেজ টাইপ করে সেন্ড করে দিলো।
—কুত্তার মতো পেছনে ঘেউ ঘেউ না করে মেয়েগুলোকে নিয়েই সন্তুষ্ট থাক! আই অ্যাম ফা*কিং বিজি ফর মাই ওয়েডিং! আমার পা*ছায় আগুন ধরাতে এলে তোরটায় পারমানবিক বোম ফাটিয়ে দেবো শা*লা ফা*কিং
অ্যাস’হোল!
মেসেজটা স্ক্রিনে ভেসে উঠতেই ইউভান ফোনটা পকেটে পুরে বাইকের স্পিড আরও বাড়িয়ে দিলো। ঠিক তার পাশ ঘেঁষেই দামিয়ানও নিজের বাইকের গতি বাড়াল। এক হাতে হ্যান্ডেল ধরে অন্য হাতে একটা ওয়াইনের ক্যান খুলে ছুঁড়ে মারল ইউভানের দিকে। ক্যানের মুখ থেকে ছিটকে আসা তরল শুভ্র জলকণাগুলো নিমিষেই ভিজিয়ে দিল ইউভানের চওড়া, পুরুষালী বুক।
দামিয়ান চোখের কালো সানগ্লাসটা ঝটকায় মাথার ওপর তুলে নিল। অধরে এক চিলতে বাঁকা হাসি ফুটিয়ে, এক হাত বাতাসে মেলে দিয়ে উচ্চস্বরে গেয়ে উঠলো।
Assmale!
Aza tu saamne,
Dil paarda fassh hein,
Neeyat Aiyassh Hahein!
Na ban sareef tu,
Babli Badmash hein!(4x)
Babli badmash hein!
Na ban sareef tu,
Babli badmash hein!(2x)
উন্মাতাল গানের সুর বাতাসে মিলিয়ে যাওয়ার আগেই চাররাস্তার মোড়ে এসে পৌঁছালো ওরা। মুহূর্তের মধ্যে বাকি গাড়িগুলো অন্যদিকের রাস্তায় ছুটে গেলো। ইউভান একটা তীক্ষ্ণ ও নিখুঁত টার্নিং নিয়ে বাইকটাকে বামদিকের রাস্তায় ঘুরিয়ে নিলো।এদিকে পুরো আকাশ ঘন কালো মেঘে ছেয়ে গিয়েছে।প্রকৃতির এই রুদ্ররূপ জানান দিচ্ছে যেনো এখুনি শুরু হবে ভারী বর্ষণ।
বিশ্বখ্যাত হার্ট সার্জন ডক্টর ওয়ার্লসের ল্যাবরেটরিতে এসপছে ওরা। ডক্টর ওয়ার্লস ইউভানের বিশ্বস্ত একমাত্র ডক্টর এবং দীর্ঘদিনের পরিচিত।ভেতরে ঢুকেই কোনো ভূমিকা ছাড়া ইউভান ল্যাবের মাঝখানে থাকা ধবধবে সাদা বেডটার ওপর উপুড় হয়ে শুয়ে পড়লো।
ওদের দেখে ডক্টর ওয়ার্লস চক্ষুশের চশমাটা ঠিক করতে করতে খানিকটা বিস্মিত হয়ে এগিয়ে এলেন।
—হে মি.ড্রেক! কবে এলেন আপনারা?
—-রিককে টেনে নিয়ে এসেছি আপনার কাছে! ভেতরের অবাধ্য যন্ত্রটার কী হাল হয়েছে একটু চেক্ আপ করে দেখুন তো ডা. ওয়ার্লস!
ডক্টর অত্যাধুনিক কার্ডিয়াক মনিটর আর ইসিজি লিড ইউভানের শরীরে যুক্ত করতে গিয়ে ইউভানের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে প্রশ্ন করলেন।
— ড্রাগ নেওয়া কমিয়েছেন মি.আলবার্ট??
ইউভান বিরক্তি নিয়ে বললো।
—আহ ডক্টর! গোয়েন্দাগিরি না করে কী করবেন, তাড়াতাড়ি করুন!
—হার্ট রেট কমে এসেছিলো??
—হুম!—দামিয়ান এগিয়ে এসে বললো।
ইউভান উঠে বসে নিজের বাম বুকের ওপর শক্ত করে হাতটা রাখলো।যেনো বক্ষঃস্থলে কোনো তীব্র ক্ষ*তকে চেপে ধরার আপ্রাণ চেষ্টা। শূন্য চাউনিতে ডক্টরের দিকে তাকালো।
—আগের চেনা হার্ট পেইন আর এই ব্যথার মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাৎ, ডক্টর। ইদানীং এইখানটায় এক অন্যরকম যন্ত্রণা হয়… তীব্র, দমবন্ধ করা এক অনুভূতি। একটা সিক্রেট বলি??কোনো কিছু হারিয়ে ফেলার ভয় হয় এখন! লাইক দ্যাট ফা*কিং ইমোশন!
—-সার্জারী টা করে নাও ফর লাস্ট টাইম!
—ফা*ক অফ! আপনার চেক-আপ করা শেষ? ওকে, দ্যান বাঈ! দামিয়ানের জন্য একজন ভালো সাইক্রিয়াটিস্ট খুঁজুন… ডিহে’ড টার মাথায় সমস্যা হয়েছে!”
বাক্যেউক্তি শেষ করতেই ডক্টর ওয়ার্লসের নজর আটকে গেলো ইউভানের ডান হাতের আঙুলগুলোর ওপর। ইউভানের ফর্সা চামড়ার ওপর, চারটে আঙুলের গিঁটে চারটে আলদা ব্ল্যাক কালারের অক্ষরে নিখুঁত একটা ট্যাটু করা। যা ডক্টর আগে কখনো ওর শরীরে দেখেননি।
অক্ষরগুলো পরপর সাজালে একটা নাম তৈরি হয়
—R O S E।
ইউভান ঠোঁটের কোণে এক চিলতে তাচ্ছিল্যের হাসি ফুটিয়ে নিজের ট্যাটু করা হাতটা ডক্টরের অক্ষীপলের সামনে মেলে ধরলো।
—ইয়াহ্! ইনিই হলেন আমার সেই ফা*কিং ইমোশন ডক্টর! আর ওনার কারণেই ইদানীং আমার হার্টের পেইনটা একদম হাই লেভেলে পৌঁছে গিয়েছে।
—ফে’ল ইন লাভ?
ইউভান আর এক মুহূর্তও সেখানে দাঁড়ালো না। দরজার দিকে পা বাড়াতে গিয়ে বিড়বিড় করে উঠলো
—“আই থিংক ইয়েস!আই ডোন্ট বিলিভ ইন লাভ বাট লাভ মিন’স অনলি রোজ ইজ্ ফর মি!
———————~°^——————*★——————
বহিঃরাগত প্রকৃতির অবস্থা ততোটা ভালো না।যেকোনো সময় ভারী বর্ষণ শুরু হতে পারে।ঠান্ডা ঝড়ো বাতাস বইছে বাহিরে। এ অবেলা সময়ে গোসল নিলে সর্দি লেগে যেতে পারে তাও আলবার্ট ম্যানশনের নিচতলার সেই নিভৃত বাথরুমে শাওয়ারের ঝর্ণা ছেড়ে বিগত এক ঘণ্টা যাবৎ পাথরের মূর্তির মতো বসে আছে রোজ।ক্রমাগত ঝরে পড়া হিমশীতল ঝর্ণার পানির তীব্র আঘাতে রমণীর সর্বাঙ্গ বরফখণ্ডের ন্যায় জমে সাদাটে রূপ ধারণ করেছে। উষ্ণ রক্তকণিকাগুলো কালচে হয়ে গিয়েছে চামড়ার নিচে। নিথর হয়ে বসে থাকা অষ্টাদশীর মুখাবয়বের পরিণতি দেখলে যে কেউ শিউরে উঠবে এতটা সময় ধরে অবিরাম অশ্রুপাতের ফলে সজল চোখমুখ ফুলে লালচে হয়ে উঠেছে।
সেই কখন থেকে দুই হাঁটুতে মুখ গুঁজে, নিজের অবিন্যস্ত বাদামী চুলগুলো মুঠো করে টেনে ধরে এক তীব্র অবর্ণনীয় যন্ত্রণায় ডুবে আছে মেয়েটা।চোখের কোটর দুটো তীব্র যন্ত্রণায় মণিহীন পাথরের মতো টনটন করছে। ন*গ্ন সর্বাঙ্গে একটা সাদা টাওয়াল জড়িয়ে জড়োসড়ো পায়ে বাথরুমের দরজা ঠেলে বেরিয়ে এলো রমণী।রুমে পা রাখতেই তার ঝাপসা দৃষ্টি স্থির হলো লিসার ওপর। মেয়েটা আগের মতোই একরাশ উদ্বেগে তাকিয়ে আছে তার দিকে। রোজকে সুস্থ শরীরে ফিরতে দেখে লিসার চোখেমুখে ক্ষণিকের জন্য হলেও এক চিলতে স্বস্তি ও খুশির আভাস ফুটে উঠেছিলো। লিসা আলতো পায়ে এগিয়ে এসে একটা ওভারসাইজড সালোয়ার কামিজ রোজের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে আপাততের জন্য সেটি পরে নেওয়ার অনুরোধ করলো। হায়া পাঠিয়েছেন রোজের জন্য।
রোজের বিধ্বস্ত অবয়ব আর দুশ্চিন্তাগ্রস্ত মুখচ্ছবি দেখে লিসার বক্ষঃস্থল কেঁপে উঠলো।ড্যানিশ কন্যা অত্যন্ত ফিনফিনে, মৃদু আওয়াজে বললো,
—তোমাকে ভীষণ অদ্ভুত লাগছে রোজ! এক কাপ গরম কফি করে দেবো? দেখবে খেলে মনটা একটু শান্ত হবে।
রোজের ওষ্ঠাধর থেকে কেবল একটা নিরাসক্ত শব্দই খসে পড়লো।
— না!
লিসার দেওয়া সালোয়ার কামিজ গায়ে জড়িয়ে রোজ ধীরপায়ে আয়নার সামনে এসে দাঁড়ালো, লিসা একটা হেয়ার ড্রায়ার অন করে রোজের সিক্ত, বাদামী কেশরাশি শুকিয়ে দিতে লাগলো ।ভিজে থাকলে সর্দি চলে আসবে যে। অতঃপর লিসা নিচু স্বরে বলল।
—তোমাকে হায়া ম্যাম ওপরে যেতে বলেছেন। উনি গেস্ট রুমে আছেন। আর শোনো, আমি রাতের ডিনারটা তোমাদের রুমেই পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করছি, কেমন?
রোজের লিসার কথায় পূর্ণ মনোযোগ না দিয়ে আঁড়চোখে খানিকটা রুমের বাইরে উঁকি মারলো। অলিন্দের শূন্যতা দেখে রমণীর বক্ষঃস্পন্দনের ভেতরের ধুকপুকানিটা আরও বেড়ে গেলো। পুনরায় লিসার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে অত্যন্ত ধীর কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলো,
—উনি কোথায়?
ইউভান কি সত্যিই চলে গেলো নাকি?অসম্ভব ব্যপার।বুঝতে পারলো না রোজ। লিসা তার অক্ষীদ্বয়ের ভাষা পড়তে পেরে মাথা এপাশ ওপাশ নাড়লো। জানালো, সে তেমন কিছু জানে না, তবে ইউভানরা এই মুহূর্তে আলবার্ট ম্যানশনে উপস্থিত নেই। ইউভান এখানে নেই।আর রাহা তো ডেনমার্কে আসেই নি।ইউনিভার্সিটির কথা বলে ক্যালিফোর্ণিয়া গিয়েছে।ইউভান সত্যিই ম্যানশনে নেই??ইউভান কি তার কথায় আসে নি নাকি কোথাও গিয়েছে??ভেবেই খপ করে লিসার দুটো হাত নিজের মুঠোয় পুরে নিলো রোজ।
রোজের এমন আকস্মিক ও উন্মত্ত কাণ্ডে লিসা চমকে উঠে বললো।
—কী হয়েছে রোজ?
রোজ লিসার ভয়ার্ত মনটাকে শান্ত করার ছলে নিজের কণ্ঠস্বরকে যতটা সম্ভব কোমল ও অনায়াস করে বললো।
—আমাকে একটা হেল্প করবে লিসা?
রোজের মুখে এমন আচানক আর্জি শুনে লিসার বক্ষঃস্থলের ভেতরটা ধড়ফড়িয়ে উঠলো। অজানা আশঙ্কায় শুকনো ঢোক গিলে নিজের হাত দুটো রোজের শক্ত বাঁধন থেকে সরিয়ে নিলো। মেয়েটার চোখের মণি জোড়া কি তবে আবারও পলায়নের ছক আঁকছে? লিসার নেত্রপল্লবের অবিশ্বাসী চাউনি দেখে রোজের ষষ্ঠেন্দ্রিয় মুহূর্তেই লিসার মনের ভয়টা টের পেয়ে গেলো। তড়িঘড়ি করে লিসাকে আশ্বস্ত করে বললো।লিসা যা ভাবছে সে তেমন কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না। শুধু সামান্য একটু সাহায্য প্রয়োজন তার। যেহেতু লিসা এই আলবার্ট ম্যানশনের দীর্ঘ বহু বছর ধরে আছে।এই প্রাসাদে মতো বিশাল প্রাচীন ম্যানশন তার আনাগোনা। অলিগলি নিশ্চয়ই লিসার নখদর্পণে?
রোজ আরও কিছুটা ক্ষীণ স্বরে প্রশ্ন করলো।
—আচ্ছা লিসা! তুমি তো জানোই আমি এ বাড়িতে ছিলাম কিছুদিন।উপরেও যাওয়া হয় নি।তেমন কিছু চিনি না।এতো বড় বিশাল প্রাসাদে এমন কোনো গোপন রুম বা স্টোর রুম নিশ্চয়ই আছে!আই মিন।এমন কোনো রুম যেখানে আলবার্ট বংশ তাদের পরিবারের পুরনো দিনের জিনিসপত্র রাখা হয়েছে! তুমি তেমন কোনো জায়গা চেনো?
লিসার সমস্ত সর্বাঙ্গ তীব্র আতঙ্কে শিউরে উঠলো। যেনো জীবন্ত যমদূতের নাম শুনেছে এমন এক ভয়ার্ত দৃষ্টি নিক্ষেপ করল রোজের দিকে লিসা। কাঁপাকাঁপা শুকনো ঢুক গিলে বললো।
— হায়! ঈশ্বরের দোহাই রোজ। এরকমটা কোরো না! রিক স্যার আমাকে জ্যান্ত মেরে ফেলবেন! উনি যদি কোনোভাবে জানতে পারেন যে আমি তোমাকে ওনার পারমিশন ব্যতিত কোনো কিছুর হদিস দিয়েছি, তবে কী ভয়ানক পরিণতি হবে ভেবে দেখেছো?এতো বড় স্পর্ধা দেখিও না রোজ!
লিসার অন্তরে আকাশপ্রমাণ ভীতি দেখে রোজ অত্যন্ত ধীরস্থির কণ্ঠে বললো।
—লোকটা তো এখন এখানে নেই! তাই তো বলছি। আর আমি তো আছি, নাকি? আমি থাকতে তুমি এত ভয় পাচ্ছ কেনো?কথা দিচ্ছি, আমি বেঁচে থাকতে তোমার কোনো ক্ষতি হবে না!আচ্ছা সমস্যা নেই পুরো ম্যানশন ঘুরে ঘুরে দেখে নিলে তো পাওয়ার কথাই!
লিসার বরাবংবর একটা সফটকর্ণার ছিলো রোজের জন্যে।সেই মায়ার টানেই বোধহয় হাজারো আশঙ্কার মাঝেও না চাইতেও মেয়েটা রোজকে সরাসরি নিষেধ করতে পারছে না।রমণীর মনের প্রবল জানার আকাঙ্ক্ষাটা যে সমুদ্রের জোয়ারের ন্যায় প্রতি মুহূর্তে বেড়েই চলেছে।তবে লিসা না বললেও রোজ খুঁজে বের করার চেষ্টা অবশ্যই করতো।রমণীর জানার প্রবল আকাঙ্ক্ষা যে বেরেই চলেছে।সে কি ক্ষতি করেছিলো যে এ্যাশ আলবার্টও তাকে মারতে চেয়েছিলেন। ইউভান নিজেই তার দাদীর মৃত্যুর কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে।আর এতো বড় ম্যানশনে নিশ্চয়ই এক সময় অনেক মানুষ থাকতো??কি এমন হলো আলবার্ট বংশে বর্তমানে ইনায়া, ইউভান ব্যতীত আর কেউ নেই।আর কোনো বংশধর আছে কিনা তাও জানা নেই।যারা বলে আলবার্ট বংশ পুরো ধ্বংস হয়ে গিয়েছে তারা কেনো বলে এমন কথা তার তো জানা উচিৎ। তুরস্কে অবস্থানরত থাকতেও রোজ গুগল করে কোনো তথ্য অব্দি পায়নি।কোনো কিছুর জানার তাড়না যেনো সাপের ন্যায় সর্বদা বিষিয়ে ধরে রোজকে ছোটবেলা থেকেই।রোজ নিশ্চিত যে ইউভান বেশিদিন ডেনমার্কে থাকবে না কিংবা রোজকে রাখবে না।নিয়ে চলে যাবে। তবে রোজ আপাততঃ কোথাও যাবে না ম্যানশন ছেড়ে। যতক্ষণ না নিজের মনের খচখচানিটা বন্ধ করতে পারছে।
*
রোজ হঠাৎ কি মনে করে যেনো লিসার থেকে একটা টর্চ নিলো।প্রথমবারের মতো দুতলায় পাঁ বাড়ালো রোজ।তবে লিসা রোজের সঙ্গে আর যেতে রাজি হলো না।করিডরের উত্তরের সর্বশেষ বেডরুমটাই ইউভানে। সেদিকে রোজ গেলো না। পাঁ বাড়ালো আরও সামনে।এদিকে চুলগুলোও একবারে শুকোতে পারে নি রমণী।তাই লম্বা চুলগুলো থেকে পানি চুইয়ে পড়ছে মেঝেতে।বাহিরের ঝড়ো বাতাসের বেগ এই প্রাচীন দেওয়াল ভেদ করে ভেতরে আসতে পারছে না ঠিকই, কিন্তু জানালার কাঁচের ওপাশে বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দ কর্ণকুহরে প্রবেশ করছে রমণীর।যতদূর যাচ্ছে, কেবল ভারী ভিক্টোরিয়ান আমলের আসবাবপত্র চোখে পড়ছে।অথচ অপরদিকে সব আধুনিকতার ছোঁয়া থাকলেও এই অংশটা সব পুরনো জিনিসে ভরপুর।মৃদু শাঁ শাঁ শব্দগুলো রোজের বক্ষঃস্পন্দনকে বাড়িয়ে দিচ্ছে বহুগুণ। প্রতিটা মোড় পার হওয়ার সময় মনে হচ্ছে, এই বুঝি অন্ধকারের ওপাশ থেকে ইউভান তার চওড়া কাঁধ নিয়ে অবয়বের মতো এসে দাঁড়াবে তার সামনে।লোকটা কি ডেনমার্কে আছে নাকি সত্যিই ক্যলিফোর্ণিয়া চলে গিয়েছে কে জানে!চলে গেলে আরও ভালো রোজ স্বস্তিতে অতীত রহস্য টেনে বের করতে পারবে।
একটা তালাবদ্ধ রুম এর সামনে গেলো রোজ।চাবি ছাড়া খোলাও অসম্ভব। তালায় হাত রাখার মুহূর্তে যেই ভাবনা সেই কাজ।হঠাৎ হাড় কাঁপুনি দিয়ে উঠলো রমণীর সর্বাঙ্গ।পিছন থেকে একজোড়া হাত কামিজের ভিতর দিয়ে উ’দর পেঁচিয়ে ধরলো।নিঃস্বাস বন্ধ হয়ে এলো রমণীর।পুরুষালীর গরম নিঃশ্বাস গলায় লাগছে।কানের কাছে পরিচিত হাস্কি কন্ঠস্বর-
—What are you doing here sweetheart??your courage are very impressive! Tell me why you come here without my permission??
সর্বাঙ্গ রি রি করে উঠলো রোজের। অনুভূতির বিস্ফোরণ ঘটলো।পিছনে ফিরে ইউভানের রুদ্রমূর্তি দেখা প্রস্তুতি গ্রহন করে ইউভানের হাতের উপর হাত রাখলো।তৎক্ষনাৎ আরোও উগ্রতা মিশিয়ে আঁকড়ে ধরলো ইউভান রোজের কোমড়।গলার সংস্পর্শে আসা রুক্ষ চোয়ালে নিজের গাল স্পর্শ করলো রোজ।হিমশীতল উত্তাপে দীর্ঘশ্বাস ফেললো রোজ।
—আপনার ওয়াইফ আমি!এইটুকুর জন্যে পারমিশনের কি দরকার??
—“না দরকার নেই।তুমি আমার রাণী আমার মনের রাণী।সাম্রাজ্যে তোমার বরং পুরো আমিটাই তোমার। আমি চাই না তুমি ভীত হও। কারোর সামনে নত হও।তবে তোমার মনের কোটরে তুমি আমার নাম লিখিয়ে নাও সারাজীবন এর জন্যে।তোমার নিশ্বাসের ভাগটাও শুধু আমার।রাজ্যে বিহীন যেমন রাজা হয় না।রাজা বিহীন তেমন রাণী হয় না।রাণী হতে চাইলে আমাকে নিজের রাজা হিসেবে মেনে নাও।
—আমি ভীত নই! আমি প্রতিশোধে বিশ্বাসী নই।যদি কখনো প্রতিশোধের কথা উঠে তাহলে একটাবার ভেবে দেখেছেন?? আমার হিসাবের খাতায় সর্বপ্রথম আপনার নামটাই উঠে আসবে??আমাকে ক্ষমতা দেয়া তো আপনার জন্যে ক্ষতিকর মি.আলবার্ট!
—এই বান্দী তোর আঘাতও আমি রিক বুক পেতে গ্রহণ করি তাহলে কিসের ভয় দেখাচ্ছিস তুই??আমার দূর্বলতায় আঘাত করবি??তুই ছাড়া এই দুনিয়ায় আমার আর কোনো দূর্বলতা নেই।সো হুয়াই ইউ টেল দ্যাট টাইপ শীট??
—যদি নিজের ক্ষতি করি??
—এমনটা তুমি করবে না!তোমার কি চাই বলো?যা চাই আমি এনে দিবো।যা হুকুম করবে তা তোমার পায়ের নিচে হাজির করবো!
ইউভান রোজের নরম তুলতুলে অধরে তর্জুনি ছোঁয়ালো।ফুলে আছে সেই গোলাপি ঠোঁট। একেবারে নেশা ধরানোর মতো মারাত্মক। পরক্ষণেই ইউভান নিঃসঙ্গ হাসলো।
—কি নেই আমার বলো??Am i not husband material?? Ohoo come on!
I am a handsome men!
Hot
Tall
Billionaire
Over possessive
Loyal
Romantic
Rider
Desperate for his wife
A Mafia
Businessmen
I also know cooking
Fictional coded!
If you want i prove that your husband is dangerous for whole world but soft for you!
ইউভান আচানক প্রকম্পের ন্যায় দেয়াল ঘেষে ঘুরিয়ে নিজের মুখোমুখি করে ধরলো রোজকে।ডান হাতে কোমড় আঁকড়ে ধরে বাঁহাতের আঙুলগুলো ঢুকিয়ে দিলো রোজের ডানহাতের আঙুলের ভাঁজে। বহিঃরাগত চাঁদের আলো জানালা ভেদ করে ইউভানের মুখাবয়বে পড়তেই চুলগুলো চিকচিক করে উঠলো।মাসল টি টা ঘামে ভিজে সর্বাঙ্গে লেপ্টে আছে।পুরুষালী ঘর্মাক্ত ঘ্রাণ ভেসে আসছে রমণীর রন্দ্রে।রোজ মাথা না উঁচালে লম্বা দেহের বক্ষঃস্থল বাদে মুখাবয়ব দেখতে পায় না।রোজ ঘাড় উঁচাতেই নিচু হলো ইউভান।বক্ষঃস্থল মোহভুক্ত হতেই শুষ্ক ঢুক গিলে সিরিয়াস ভঙ্গিমায় রোজ মুখ ফিরিয়ে দাঁতে দাঁত পিষে বললো।
—গুন্ডা লোক!ভেবেছিলাম আমার হাসবেন্ড হবে,
Doctor!engineer! Army!Professor! এরকম!
পেয়েছি কি??
একটা গুন্ডা!
রোজের কথায় ভরকে উঠলো ইউভান।শক্ত হয়ে এলো চোয়াল।বুনো ষাঁড়ের ন্যায় খানিক ফুঁসে দম ছাড়লো।ভারিক্কী স্বরে বলল।
—এই বান্দী এই আমি গুন্ডা?? গুন্ডা আর মাফিয়ার মধ্যে পার্থক্য বুঝিস??আবার স্কুলে ভর্তি করানো লাগবে নাকি??
—তো….
ইউভান আঙুল চেপে হুঁশ করে দিলো রোজকে।হতবিহ্বল হয়ে রোজ তাকালো ইউভানের ধূসর মণিজোড়ায়।অক্ষীদ্বয়ে ভর করেছে শুধুই নেশা,কামণা নিয়ন্ত্রণ বিহীন ইউভানকে দেখে অবাক হলো রোজ।হৃদস্পন্দন তিব্র বেগে উঠানামা করতেই রোজ চোখবুঁজে নিলো।সাইকোলজি বলে দু’জন মানুষ যখন একে অপরের দিকে তিন মিনিটের বেশি সময় তাকিয়ে থাকে তাদের হৃদস্পন্দন একত্রে স্পন্দিত হয়।ইউভান এতো সন্নিকটে থাকায় রোজ ইউভানের হার্টবিট এর শব্দ শুনতে পাচ্ছে।পুরুষটার নেত্রপল্লবে এই মুহূর্তে তাকানোর সাহস হলো না রোজের কেমন যেনো নেশাতুর উন্মাদনায় আগুন জ্বালছে।রোজ কূলকিনারা না পেয়ে ইউভানকে সরিয়ে নিতে গেলে ইউভান রোজের গলার ওড়না খুলে নিজের গলায় ঝুলিয়ে নিলো।এমন অস্বাভাবিকতায় শিউরে উঠলো রোজ।
অন্তর্বাসহীন হওয়ার রোজের সর্বাঙ্গ যেনো চুম্বকের ন্যায় টেনে ধরছে ইউভানকে।নেশা ধরে গিয়েছে পুরো।রোজের দিকে তৃষ্ণার্ত দৃষ্টি নিয়েই বক্ষঃস্থলে মুখ গুঁজে ঘ্রাণ টেনে নিলো।গন্ডস্থল পানির তাড়নায় কাঠ হতেই রোজ ইউভান থেকে দূরে সরতে নিলে ইউভান শক্ত থাবায় কোলে তোলে নিলো তার প্রাণেশ্বরীকে।অশান্ততা ভর করে ব্যকুল হয়ে উঠলো রমণী।তবে তার দৃষ্টি তখনও তালাবদ্ধ রুমের দিকে।
বাহুবন্ধনে আবদ্ধ রোজকে কোলে তুলে হাঁটা দিলো ইউভান।এমত অবস্থায় মাফিয়া মনস্টার প্রগাঢ় চুমু বসিয়ে আঁকড়ে ধরলো রমণীর ওষ্ঠাধর।পুরো করিডোর চুম্বন প্রয়োগ করতে করতে গেলো।ইউভানের সাথে পেরে না উঠে অবশ হয়ে এলো রমণীর পুরো সর্বাঙ্গ।শুধু আঁকড়ে ধরে রাখলো ইউভানের সৌষ্ঠব মোলায়েম ঘাড়। ইউভানের বক্ষঃস্থলের ঘাম লেগে গিয়েছে রোজের গালে।
ইউভান রোজকে নিয়ে নিজের বেডরুমে গেলো।ইউভানে রুমের ড্রিম লাইট অন করে দিলো।ছুঁড়ে ফেললো বিছানার উপর।ইউভান থেকে আলগা হতেই রোজ ক্ষিপ্রতায় বেড থেকে উঠে দাঁড়িয়ে পড়লো।
—কিসের অধিকার খাটাচ্ছেন আপনি??
—আই অ্যাম ইউর হ্যান্ডসাম হাসবেন্ড সুইটহার্ট।
বেসামাল টানাপোড়নে হাঁপিয়ে উঠছে ইউভান।রোজকে দেখলেই এখন তার চোখ জুড়িয়ে যায়।ভালোলাগা জেগে উঠে।যদি এর নাম ভয়ংকর কোনো আসক্তি হয় তাহলে তাই।ইউভান টেনে আনলো নিজের বাহুবন্ধনে রোজকে।থরথরিয়ে প্রকম্পিত হয়ে উঠলো রমণীর শীর্ণকায় সর্বাঙ্গ।
—হাসবেন্ডের সাথে এতো অবাধ্য হতে নেই জানো না??
ইউভানের ক্ষুদ্ধতায় খানিক চুপ করে রইলো রোজ।মুহূর্তেই মনে পড়লো তার শরীরের ওড়না নেই।লজ্জায় খানিক আড়ষ্ট হয়ে ইউভানের গলা থেকে ওড়না নেয়ার প্রয়াস ঘটালে।তৎক্ষনাৎ হাতের বাঁধন আরও শক্ত করলো ইউভান।সাগরের ঢেউ এর ন্যায় বেসামাল অন্তরটা জোয়ার সামলানো বড় দ্বায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।রোজের থুতনি চেপে নিজের দিকে ফেরালো ইউভান।তাতেও রোজ মুখ ফিরিয়ে নিলে।রমণীর মোয়ালেম মসৃণ ঘাড়ের পিছনে হাত দিয়ে চুল টেনে ধরলো।ব্যথাসিক্ত হয়ে তাকালো রোজ।অতঃপর ঘাড়ে চুমু খেলো।
—কি চাই??
ইউভান বেসামাল ভঙ্গিতে হাতের বাঁধন কঠোরতার থেকে আরও কঠোর করলো।তীব্র বেগে ফুঁসিয়ে নিদারুণ স্বরে বলল।
—তোকে!
রোজ ইউভানের বক্ষঃস্থলে এক আঙুল ছুঁয়ে পিছনে ঠেলে দিলো।হাসলো।
—আপনার তো আমার চাওয়া না চাওয়ায় কিছু যায় আসে না।আপনি জোর খাটানোতে এক্সপার্ট!
ইউভান হেঁচকা টানে রোজকে টেনে রমণীর পীঠ স্পর্শ করালো নিজের বক্ষস্থলে।চোয়াল ধরে গালে উপর গভীর শ্বাস টানলো।মাফিয়া বসের ভেতরের প্রলয়ঙ্কারী ঝড়গুলো কি বুঝতে পারে না রোজ??মেয়েটা কি অবুঝ নাকি বুঝতে চায় না??নাকি বুঝেও না বুঝার ভান ধরে।পুরুষালী স্পর্শে আবেশে আছন্ন হওয়া রোজ মৃদুস্বরে গোঙালো।
—আমার জীবনে আপনি স্রেফ
তানভীর ইভানের—‘যন্ত্রণা’!
ইউভান রোজের ঘাড়ে ঠোঁট চেপে ধরে অগ্নি ধূসর অক্ষীদ্বয় বুজে রাখলো কিয়ৎকাল সময়ের জন্যে। শক্ত চোয়ালখানা শীতিল করে মাসেল টি গেঞ্জি টা খোলে ছুঁড়ে ফেললো মেঝেতে।আসক্ত স্বরের তিব্রতা প্রগাড় করে আড়ষ্টকন্ঠে ইউভান বললো।
—-হ্যাঁ আমি যন্ত্রণা দিয়েছি তোকে।হ্যাঁ আমি একটা হৃদয়হীন, অনুভূতিহীন, পাথরের ন্যায় নির্মম এক মানব। বিশ্বাসশক্তি ক্ষীণ আমার। বদমেজাজী, অসভ্য, অভদ্র। নিজেকে মানুষের সম্মুখে নির্দোষ প্রমাণ করার কোনো প্রয়োজন আমি অনুভব করি না।আমি যা আমি তা বহিঃপ্রকাশ ঘটাই।অভিনয়শিল্পে অদক্ষ আমি।বিশ্বাস কর আমি কখনো প্রতাড়না করবো না তোর সাথে। মুখোশের আড়ালে সৌন্দর্য বিক্রির প্রবণতা আমার স্বভাবে নেই।
জানিস, অন্তরের অবিরাম ঝড় আমাকে ক্রমাগত কঠোর, নিঃসঙ্গ এবং ভীষণ বিষণ্ণ এক সত্তায় রূপান্তরিত করেছে।তবে আমি দূর্বল হয়ে পরেছি তোর উপর।আমি কোনো ছলনা করি না।এসব পারি না আমি।তুই কখনো ছলনা করিস না আমার সাথে রোজ।নারীদের ছলনা ভয়ঙ্কর। শাস্তিদাতা তুই হলে আমি সমস্ত শাস্তি মাথা পেতে নিবো।
ইউভান মুখ ঘসলো রোজের ঘাড়ে।রোজের চোখ বেয়ে দুফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়লো। ইউভানের মাথার উপর গাল কাত করে স্পর্শ করলো রোজ।ইউভান গোসল করার উদ্দেশ্য পাঁ বাড়ানোর আগে রোজকে শেষোক্তি দিয়ে প্রকম্পিত করে গেলো।
“তুই সর্বনাশী রোজ।সর্বনাশীতেই না-হয় সর্বনাশ ঘটুক আমার”
—কি সর্বনাশ করেছি আমি আপনার??
বাথরুমে পাঁ বাড়াতেই গিয়েও পাঁ থামিয়ে দিলো ইউভান। পিছনে ফিরেই মুখাবয়বে পরিবর্তন এনে নির্লজ্জতা মিশিয়ে ঠোঁট কামড়ে হাসলো।ওড়বাটা ছুঁড়ে মারলো রোজের উপর।ঠোঁট ফাঁক হয়ে হতবিহ্বল হলো রোজ।ইউভানের ইশারা ইঙ্গিত বুঝতে পেরে নাক ছিটকালো রোজ।ইশশ্ যত্তসব অসভ্যতামী।ইউভান ওয়াশরুমে ঢুকতেই রোজ নাকে আঙুল ঘষে ওয়াশরুমের লাইট অফ করে দিলো।আবার অন করলো।পুনঃরায় অফ করলো।চোখ সরু করে উচ্চশব্দে বলে উঠলো।
“you!Jitna kamina tu, mein utni sayaani!”
ঘুমের ঘোরে কি লিখেছি জানি না বাকিটুকু লিখা সম্ভব হয়ে উঠেনি।রিচেক দিতে পারি নি।রেসপন্স করিও কেমন প্রিয়রা!
Share On:
TAGS: Love or hate, ইভেলিনা তূর্জ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
Love or hate পর্ব ১৬
-
Love or Hate পর্ব ৪৭
-
Love or hate পর্ব ২০
-
Love or hate পর্ব ৬
-
Love or hate পর্ব ৩
-
love or hate পর্ব ১
-
Love or Hate পর্ব ৪৩
-
Love or hate পর্ব ২৪
-
Love or hate পর্ব ২১
-
Love or Hate পর্ব ২৮