Golpo romantic golpo তোমার হাসিতে

তোমার হাসিতে পর্ব ২৬


তোমার_হাসিতে

ফারহানাকবীরমানাল

২৬.
“বউ হিসেবে তোমার কেমন মেয়ে পছন্দ? খুব সুন্দরী কেউ? মাথায় লম্বা চুল, হাসলে গালে টোল পড়ে এমন ধরনের?”

আমি কিছু বললাম না৷ তিমুও আর কিছু বলল না। কোন কিছু নিয়ে চাপাচাপি করা তিমুর স্বভাব না। সে পা দোলাচ্ছে। আমি খানিকটা অসহায় বোধ করছি। শরীর ভীষণ রকমের ক্লান্ত, মনের মধ্যে বিরক্তি। হুট করে সবাই আমার বিয়ে নিয়ে পড়ল কেন বুঝতে পারছি না। বয়স কত আমার? এই বয়সে কেউ বিয়ে করে নাকি? তাছাড়া ছোট চাচা আছে– সদ্য তার একটা বিয়ে ভেঙেছে। আমি তার আগে বিয়ে করলে এলাকায় নানান কথা ছড়াবে। ঘরের মধ্যে নতুন অশান্তি। ফুফু মা কেউ কী এই অশান্তির কথা চিন্তা করছে না? নাকি তারা বুঝেও না বোঝার ভান ধরেছে।

“কাকে বিয়ে করবে বুঝতে পারছ না, তাই না?”

“বাজে কথা বলিস না তিমু। বিরক্ত লাগছে।”

“বিরক্তির কিছু নেই। সত্য কথা একটু তেঁতো হয়। তবে তুমি বেশি চাপ নিও না। শান্ত মাথায় চিন্তা ভাবনা করো। বিয়ের প্রস্তাব জোয়ারের পানির মতো। একবার আসতে শুরু করলে আসতেই থাকে। এমনও হতে পারে কাল পরশু মেয়ের বাবারা এসে তোমাদের বাড়িতে ধন্যা দিতে শুরু করল৷ আজও আসতে পারে। কোন কিছুই বলা যায় না।”

“আমার বিয়ের প্রস্তাব আসছে বিধায় হিংসে হচ্ছে নাকি? মেয়ে হিসাবে তোর চেহারা মোটামুটি ধরনের। এই চেহারার মেয়েদের খুব বেশি বিয়ের প্রস্তাব আসে না।”

তিমু তাচ্ছিল্যের ভঙ্গিতে হাসল। সহজ গলায় বলল, “তোমার চোখের সমস্যা বাড়ছে। তড়িঘড়ি করে ডাক্তার দেখাও। মেয়ের বাবারা যদি জানতে পারে ছেলের চোখে সমস্যা তাহলে বিয়ে ভেঙে যাবে।”

“আমার বিয়ে ভাঙলে বুঝি তুই খুব খুশি হবি?”

“অখুশি হওয়ার মতো কিছু দেখি না।”

“বেশ! তাহলে আমার বিয়ে ভাঙার জন্য দোয়া করতে থাক।”

“সবসময়ই।”

“কর ভাই, যত পারিস দোয়া কর। তবে আমার ঘর থেকে বেরিয়ে গিয়ে। ভীষণ ক্লান্ত লাগছে। খানিকক্ষণ শুয়ে গড়িয়ে নেব।”

“একটু আগে ইলেক্ট্রিসিটি চলে গেছে। মেঝেতে শুয়ে পড়ো। ঠান্ডায় ক্লান্তি দূর হবে।”

ভ্রু কুঁচকে তিমুর দিকে তাকালাম। পরক্ষণেই চোখ সরিয়ে একটা ছোট্ট নিঃশ্বাস ফেললাম। সত্যিই ক্লান্ত লাগছে। ঘুমে চোখ জড়িয়ে আসছে। বোধহয় তিমু আমার ক্লান্তি বুঝল। সে আর কিছু না বলে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। যাওয়ার সময় দরজা ভেজিয়ে দিয়ে গেল।

ভেবেছিলাম হাত-মুখ ধুয়ে তারপর শোব। ইচ্ছে করল না। কোন রকমে শার্টের একটা বোতাম খুলে বিছানায় পিঠ এলিয়ে দিলাম।

বিছানায় পিঠ ছোঁয়াতেই ঘুম উবে গেল। কোলবালিশ ঠেলে দূরে সরিয়ে রাখলাম। হঠাৎই অদ্ভুত রকমের খারাপ লাগা শুরু হয়েছে। শুয়ে থাকতে ইচ্ছে করছে না। বিছানা ছেড়ে বেলকনিতে গিয়ে দাঁড়ালাম। তানহার মা, নানি যায়নি। বাড়িতেই আছে। দুপুরে খাওয়া-দাওয়া করে যাবে। দাদি তাদের আচরণে ভীষণ বিরক্ত। তবে মুখে কিছু বলছেন না। ঘরে আসা মেহমান তাড়িয়ে দিলে ঘরের রহমত কমে যায়– দাদি এ কথা বিশ্বাস করেন। তাই তিনি তাদের চলে যেতে বলেননি। মা’কে রান্না চাপাতে বলেছেন। মা আর ফুফু দু’জনে মিলে রান্নার জোগাড় করছে৷

ছোট চাচা বাড়িতে নেই। ফিরে এসব কথা শুনলে কী রিয়াক্ট করবে ঠিক বুঝতে পারছি না। ফুফুর মতো তীক্ষ্ণ গলায় ঝগড়াঝাটি করবে? চিৎকার চেঁচামেচি করবে নিশ্চয়ই। আমাকে ডেকে কীভাবে জন্মেছি সে কথাও জিজ্ঞেস করতে পারে। সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতে বেলকনির টবে লাগানো গাছ থেকে একটা পাতা ছিঁড়লাম। পাতার বাঁশি বানিয়ে ঠোঁটে ছোঁয়াব এমন সময় দাদি আমার নাম ধরে ডাকলেন। পাতার বাঁশি হাতের ভেতর মুট করে ধরে বললাম, “কিছু বলবেন?”

“বলব। তবে এখানে নয়। ছাঁদে এসো।”

দাদি আমাকে তুমি সম্মোধন করেন না। বেশিরভাগ সময়ে তুই করে বলেন। আজ হঠাৎ তার মুখে তুমি শুনতে কেমন একটা অস্বস্তি হলো। তবে সে কথা প্রকাশ করলাম না। দাদির পেছন পেছন হেঁটে ছাঁদে চলে এলাম।

আমাদের এ বাড়ির ছাদটি শুধু যে সুন্দর তাই নয়, অপূর্ব! ছাদের কোথাও বিশেষ কিছু নেই। সামান্য একটা ফুলের টবও না। তবে দেখতে ভীষণ সুন্দর। সাদামাটা ব্যাপারটা ছাঁদকে অসাধারণ করে তুলেছে। দাদি আমায় দু’টো মোড়া আনতে বললেন। চিলেকোঠায় মোড়া রাখা থাকে। দু’জনে মুখোমুখি বসলাম। দাদি বললেন, “তোমাকে খুব সহজ কিছু প্রশ্ন করব। তুমি বুদ্ধিমান মানুষ, আশা করি ঠিক উত্তর দেবে।”

আমি মাথা দোলালাম। দাদি বললেন, “তানহার মা আর তার নানির এখানে আসার ব্যাপারটা বুঝতে পারছ?”

“না, পুরোপুরিভাবে বুঝতে পারছি না।”

“তারা আমাদের সংসারে ভাঙন ধরাতে এসেছে। তুমি কী বুঝতে পারছ? হ্যাঁ এ কথা ঠিক– এই সংসার নিখুঁত কাঁচের মতো মসৃণ নয়। তবুও তুমি কী বুঝতে পারছ?”

“পারছি।”

“আক্ষরিক অর্থে যে ছেলে তার স্বামীকে পুলিশে ধরিয়ে দিলো, তার কাছেই মেয়ে বিয়ে দিতে চাইছে। এটা কী কখনো সম্ভব?”

“না সম্ভব না।”

“তার উপর আবার ছেলেটার আপন চাচার সাথেই এই মেয়ের বিয়ে ঠিক ছিল। বিয়ে হলে তোমাদের সম্পর্ক হতো চাচী-ভাতিজা।”

আমি উসখুস করতে লাগলাম। চট করে উঠে যাওয়া যাচ্ছে না। আবার বসেও থাকা যাচ্ছে না। এসব শুনতে ভালো লাগছে না। তানহাকে বিয়ে করার কোন ইচ্ছে আমার নেই। ওর মা আর নানি ঝামেলা করতে এসেছে এ ব্যাপারেও আমার কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু দাদি ছাঁদে ডেকে এ-সব কেন বলছেন বুঝতে পারছি না। দাদি খানিকক্ষণ চুপ করে রইলেন। কেশে গলা পরিষ্কার করে নিয়ে বললেন, “তোমাকে এতগুলো কথা বলার একটাই কারণ– তামিম ফিরে আসার আগে ওদেরকে বাড়ি থেকে বের করতে হবে। এবং এ কথা নিশ্চিত করতে হবে যে এই ঘটনার বিন্দুমাত্র তামিমের কানে পৌঁছাবে না।”

“ছোট চাচাকে কেউ কেন এসব কথা বলবে?”

“বলবে। বলার কারণ আছে।”

“আমাকে কী করতে হবে?”

“তুমি ওদের গিয়ে জানাও তুমি তানহাকে পছন্দ করো না। বিয়ে করতে চাও না। কখনো করবেও না। বাবুইয়ের সাথে তোমার বিয়ে ঠিক হয়ে আছে।”

দীর্ঘশ্বাস ফেলে উঠে দাঁড়ালাম। দাদি খারাপ কিছু বলেননি।

বিয়ে ঠিক কথাটা তানহার নানির বিশ্বাস হলো না। সে ভীষণ তেঁতো গলায় বলল, “ফাজলামো করো মিয়া? দু’দিন আগে আমার নাতির সাথে দেখা করলে, এর আগে ফোনে কথা বলেছ। আর এখন বলছ বিয়ে ঠিক?”

“ভদ্র ব্যবহার নেওয়ার মতো যোগ্যতা সবার থাকে না। আপনারা কী সেই অযোগ্য লোকদের ভেতরকার?”

“না বাপু! এত যোগ্য অযোগ্য বিচার করার সময় নেই। তুমি তানহাকে বিয়ে করবে এ কথা ফাইনাল।”

“কে তানহাকে বিয়ে করবে?”

তীক্ষ্ণ গলায় প্রশ্ন ছুঁড়ে ছোট চাচা বসার ঘরে ঢুকল। তার চোখ বিস্ফোরিত। তানহার নানি বলল, “তোমার ভাইপো সাজ্জাদের সাথে তানহার বিয়ের কথা চলছে।”

“মানে? বাড়ি বয়ে এসে মশকরা করছেন নাকি?”

“না বাপু। তোমাদের সাথে মশকরা করার ইচ্ছে নেই। মশকরা তো তোমরা আমাদের সাথে করলে।”

“সাজ্জাদ বিয়ে করতে চায় এ কথা নিশ্চিত হলেন কীভাবে?”

“সাজ্জাদই বলেছে। সে নাকি প্রথম দেখায় তানহাকে পছন্দ করে ফেলেছিল। তারপর থেকে নিজেই ওকে বিয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। বিয়ে ভাঙার জন্য উঠে পড়ে লাগে। শেষ মুহূর্তে আমার জামাই তোমার ভাইপোকে এই কারণেই ধরে নিয়ে গেছিল। ওই যে সাথে আর একটা ছেলে আছে না? বাদশা না কী যেন নাম। ওদের দু’জনের পরিকল্পনা। তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হতো না যদি না জামাইয়ের এত শত্রু থাকত। ভালো মানুষের শত্রুর অভাব হয় না।”

ছোট চাচা আমার দিকে তাকালো। আমি কী বলব বুঝে উঠতে পারলাম না। বয়স্ক একজন ভদ্রমহিলা এক নাগাড়ে এগুলো মিথ্যা কথা বলছে। অথচ তার চোখ-মুখে মিথ্যের ছাপটুকু পর্যন্ত নেই। মহিলার উদ্দেশ্য পরিষ্কার। ছোট চাচার মনে আমার নামে বি’ষ ঢুকিয়ে নিজেদের কাজ হাসিল করতে চাইছি। চাচা কোনভাবে তাদের কথা বিশ্বাস করলে কোর্টে তানহার বাবার কে’স একটু হলেও নড়বড়ে হবে।

“কী আমার কথা বিশ্বাস হচ্ছে না তো? বিশ্বাস না হলে রান্নাঘরে গিয়ে দেখো। আমাদের জন্য দুপুরের খাবার আয়োজন চলছে। তোমার বড় ভাবী আর বড় বোন দু’জনে মিলে রান্নাবান্না করছে। এখন তুমিই বলো যে বাড়িতে সম্মন্ধ ভেঙে গেছে সে বাড়িতে কী কেউ এমন যত্ন-আত্তি করে?”

ছোট চাচার রান্নাঘরে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ল না। ভাজা ঘিয়ের গন্ধ আসছে। তবে সে কিছু বলল না। চুপচাপ কথা শুনে ঘরে চলে গেল। চাচা ঘরে ঢোকার পরপরই তানহার মা, নানি বেরিয়ে গেল। দুপুরে খাওয়ার জন্য অপেক্ষা করল না।

ফুফু বলল, “দেখলে মা? এই কালসাপদের কাহিনী দেখলে? ঠিক ছোটর কানে বি’ষ ঢেলে বেরিয়ে গেল। আর তোমাকেও বলি হাঁড়ি! মানুষ একজন বাড়িতে এলেই কী যত্ন-আত্তি করতে হবে? চা মুড়ি খাইয়ে বিদেয় করা যেত না?”

দাদি কথার জবাব দিলেন না। এলোমেলো ভঙ্গিতে সোফায় বসলেন। তাকে খুব চিন্তিত দেখাচ্ছে।

বাড়ির পরিবেশ থমথমে। দুপুরে খাওয়ার সময়ও কেউ কোন কথা বলল না। চুপচাপ নাকে মুখে গুঁজে ঘরে ঢুকতেই বাদশার কল এলো। ঘড়িতে দুপুর দুইটা বেজে আট মিনিট। বাদশা বলল– তানহার বাবার সাথে দেখা করতে হবে। দুপুর তিনটের দিকে সাক্ষাৎ করা যাবে। তার সাথে দেখা করে জায়েদা ব্যাপারে জিজ্ঞেস করতে হবে। সরাসরি উত্তর দেবে না এই নিয়ে সন্দেহ নেই। তবে মুখ ফসকে কিছু বললেও বলতে পারে।

দুপুরের ঝাঁ ঝাঁ রোদে রাস্তায় হাঁটতে খারাপ লাগে না। লোকজন কম থাকে। হেঁটে একটু সামনে যেতেই বাদশার দেখা। বাইক নিয়ে এসেছে। বাদশাকে বাড়ির ঘটনা খুলে বললাম। সব শুনে সে বলল, “আমার মনে হয় এই পরিকল্পনা তানহার বাবার। সে শুধু বাড়ির মহিলাদের ব্যবহার করছে।”

“আমার মাথাতেও এসেছিল। কিন্তু এসব করে কী লাভ?”

“ক্ষতি কোথায়? সেভাবে দেখতে গেলে তোর আমার কারণে তানহাদের সাজানো সংসার নষ্ট হয়েছে। তাদের সংসার নষ্ট করে আমরা সুখে শান্তিতে বাস করব এমনটা কেউ কেন চাইবে?”

“ছোট চাচা মুখে কিছু বলেনি। তবে তাকে দেখে মনে হয়েছে সে ভীষণ বিরক্ত।”

“ক্ষোভ থাকলেও আশ্চর্য হবার কিছু নেই।”

জেল গেটে তানহার নানির সাথে দেখা। সে আমাদের দেখে চোখ-মুখ কুঁচকে তাকাল। বাদশা বলল, “তোদের বাড়ির পরিস্থিতি জানাতে এসেছিল।”

তানহার বাবা আমাদের দেখে হাসল। তাচ্ছিল্যের সুরে বলল, “আমার পরিস্থিতি দেখতে এলে?”

“জায়েদা কোথায়?”

“অদৃশ্য হয়ে গেছে।”

“ঠিক করে বলুন ওকে কোথায় রেখেছেন? পুলিশ পর্যন্ত ওর কোন হদিস পাচ্ছে না।”

“পুলিশ কী তোমাদের হদিস পেয়েছিল?”

তানহার বাবা হো হো করে হাসতে শুরু করল। হাসতে হাসতে বলল, “আর কিছু বলবে?”

“কেমন আছেন?”

“ভালো আছি৷ নতুন এসেছি। নতুন নতুন সব জায়গাই ভালো লাগে। তাছাড়া খুব বেশিদিন এখানে থাকতে হবে না। কয়েকটা দিন মজমাস্তিতে কাটিয়ে দিলে মন্দ হবে না।”

“আপনার মনে হয় আপনি এখান থেকে ছাড়া পাবেন?”

“তোমরা বাচ্চা ছেলে। এসব ব্যাপারে ধারনা রাখবে আশা করিনি।”

“এ কথার মানে কী?”

“কতজন অপরাধীকে জেলখানা ধরে রাখতে পারে বা রাখে?”

বাদশা সত্যিকার অর্থে নিভে গেল। আমি বললাম, “এই জেল আপনাকে ধরে রাখতে পারবে। ধরে রাখার জন্য যা যা করতে হয় সব করব। আপনি এখান থেকে ছাড়া পাবেন না।”

“তাই? কী করবে শুনি?”

“তানহার প্রেমিককে কে খু’ন করেছে? আপনিই তে?”

“কত-শত খু’নি খোলা বাতাসে নিঃশ্বাস নেয় সে ব্যাপারে একটু তদন্ত করো।”

আরও কিছু বলতাম। বলার সুযোগ পেলাম না। কনস্টেবল এসে বের করে দিলো। সময় শেষ। বাদশা বলল, “জায়েদাকে কোথায় রাখতে পারে?”

“এমন কোথাও যেখানে পুলিশ সন্দেহ করবে না।”

“কোথায় হতে পারে?”

“জানি না। খুঁজে বের করতে হবে। জায়েজাদের বাড়িতে চল। ওর বাবা মায়ের সাথে কথা বলতে হবে।

বাদশা বাইক স্টার্ট দিলো। ও খুব জোরে বাইক চালাচ্ছে। রাস্তার ধুলো উড়ে যাচ্ছে।

চলবে

গল্প দিয়েছি এই খুশিতে দু’টো দুটো কমেন্ট করে রিচ আকাশে তুলে দেন। ও হ্যাঁ! আমার লেখা ইবুক পড়ুন ১৫% ডিসকাউন্টে। লিংক কমেন্ট বক্সে।

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply