দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ১০+ বর্তীতাংশ
দেওয়ানা(আমার ভালোবাসা)সিজন_২
লেখিকাঃ_রিক্তা ইসলাম মায়া
১০_প্রথমাংশ
থামে সোহাগ। অসম্ভব লাল এক জোড়া চোখকে নিজের উপর তাক করতে দেখে আবারও থেমে যায় সে। ভয়ে শুকনো ঢুক গিলে। রিদ সম্পর্কে অবগত। কিন্তু হুট করে মায়াকে এতটা আঘাত করার কথাটা বুঝতে পারছে না সোহাগ। সবিই ঠিকঠাক ছিল। সেতো মায়ার সাথে কথা জাস্ট মজা করতে এসছিল। তার মধ্যে দিয়েই রিদের অপ্রত্যাশিত আচরণের বহিঃপ্রকাশ ঘটে মায়ার উপর। কিন্তু কেন? এতটা অধিকার বোধ কিসের? আর কিসের বা ডির্বোস দুজনের মধ্যে? তাহলে কি মায়া রিদ ভাইয়ের বউ? নিজের বউকে সামান্য ছুঁয়াই এতটা ডেস্পারেট? সামান্য জন্য? নাকি আরও কিছু আছে রিদ ভাইয়ার মনে মায়াকে নিয়ে?
–” আই ওয়ান্ট টু ডিভোর্স হার।
রিদের বলা এক বাক্যে কথায় মূহুর্তে উত্তেজনা পরিবেশটা নিমিষেই স্তব্ধ নিবাক হয়ে যায়। মায়াকে নিয়ে টানপোরা উত্তেজনা এবার চমকে উঠে রিদের
বিষাক্ত বলিতে। প্রত্যেকে থমকে যাওয়া দৃষ্টি ভর করে রিদের উপর। নির্বাক, নিশ্চল হয়ে তাকিয়ে থাকে রিদের মুখশ্রীতে। বুক কাঁপে হৃৎযন্ত্র হয়ে। হেনা মায়াকে আরও শক্ত করে চেপে ধরে নিজের সাথে। চোখ মুখে ভয় ভাবটা স্পষ্ট জানান দিচ্ছে তিনি এই মূহুর্তে কতটা আতংকিত রিদ কথায়। অশ্রু ভিজা ভয়াৎ টলমলে চোখে রিদের দিকে তাকায়। রিদ আগের থেকেই জানতো মায়া রিদের বউ? কবে থেকে জানতো এই সত্যিটা? সবটা জেনেই কি রিদ মায়াকে আঘাত করেছে প্রতিশোধে নেশায়? কি চলছে রিদের মাথায়? ভয়ানক কিছু করবে নাতো মায়ার সাথে? রিদের সত্যিটা জানায় বাঁচাতে পারবে তোহ রিদ থেকে মায়াকে? নাকি কোনো অঘটন…? তিনি থমকায়। পিছন থেকে আরাফ খান ভারি গম্ভীর কণ্ঠে রিদকে উদ্দেশ্য করে বললো….
–” তুই কি সবটা জেনেই মায়াকে আঘাত করেছিস রিদ?
স্বামী কথা আবারও চমকায় হেনা খান। হতভম্ব হয়ে বললো….
–” মানে! তুই জানতি রিদ মায়া তোর বউ সেটা? কিন্তু কবে থেকে?
আরাফ খান ও হেনা খানের পরপর কথায় মূহুর্তে কপাল কুঁচকে আসে সোহাগের। সে প্রথম থেকে রিদের কথায় আশ্চর্য। নতুন করে নিজের নানা-নানুর কথায় এবার গাঢ় সন্দেহ পূর্ণতা সৃষ্টি হয় নিজের মাঝে। তাই সেই সন্দেহ পূর্ণতা নিয়েই বলে উঠলো…
–” সামহাউ দ্যা আর হাজবেন্ড ওয়াইফ নানুমা? তাহলে কি সত্যিই রিদ ভাইয়ার বউ মায়া?
থমথমে পরিবেশে সোহাগে প্রশ্নটি অতি নিচ্ছক মনে হয় শাহেবার। পরিস্থিতি উত্তেজনা বুঝে পিছ থেকে শক্ত গালয় ধমক স্বরে বললো…
–” সোহাগ কিপ কোয়াইট। পরিস্থিতি বুঝতে শেখো আগে। বড়রা আছে কথা বলার জন্য। তুমি যাও এখান থেকে। দ্রুত মেয়েটা জন্য ডক্টরের ব্যবস্হা করো আগে।
বাক কয়েক মায়ার মুখে দিকে নিরব দৃষ্টি ফেলে বাধ্য ছেলে মতো উঠে চলে যায় সোহাগ। পরিস্থিতি এখানো টানপোড়া কমেনি। সবকিছু এখনো ধোঁয়াসা। রিদ কারও কথা উত্তর দিচ্ছে না। চোখ মুখ শক্ত করে রাগে আগে ন্যায় টায় দাঁড়িয়ে আছে জায়গায়। ভাব মূর্তির পরিবর্তন ঘটলো না। আর না বলির পরিবর্তন ঘটেছে। কয়েক জোড়া দৃষ্টিতে আবদ্ধ সে। প্রত্যেকের দৃষ্টিতে একরাশ কাতর ভাব। প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার উচ্ছ্বক। আরাফ খান রিদের পরিবর্তন না দেখে আবারও গম্ভীর মুখে বললো….
–” আমরা কিছু প্রশ্ন করেছি রিদ? আশা করি উত্তরটাও ঠিকঠাক পাবো আমরা।
আরাফ খানের কথায় ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায় সেদিকে। রিদের রাগে জ্বলসা চোখ দুটোতে আবদ্ধ হয় আরাফ খান। সে কারও কোনো কথা উত্তর না দিয়ে নিজ বাক্য বললো…
–” প্রশ্নের প্রতিউত্তুরে প্রশ্ন করাটা অক্ষতদের কাজ। তুমি অক্ষত নয়। তাই বিচক্ষণতা কাজে লাগাও দাদাভাই। এখানে ফ্যাক্ট না আমি কিভাবে মেয়েটার সম্পর্কে জানি? কবে থেকে জানি? কতটা জানি? ফ্যাক্ট হচ্ছে মেয়েটা এখনো বেঁচে আছে? আমার সত্যিটা জানার পরও। কেন বেঁচে আছে? আর কতদিন বেঁচে থাকবে? সেই কারণটা গুলো আপাতত বলতে বাঁধ্য নয়। আমার ডির্ভোস চাই। তাও আজকে মধ্যে।
রিদের কথায় হেনা খান কাতর কন্ঠে বললো…
–” তুই এতটা হার্টলেস কিভাবে হতে পারিস রিদ? সামান্য দয়া -মায়া লাগে না মেয়েটার প্রতি তোর।
তিরতির মেজাজে বললো…
–” নাহ! লাগে না।
আরাফ খান পরিষ্কার গলায় বললো…
–” তাহলে কি চাইছিস তুই??
রিদের বিরক্তি বাড়ে। রাগে রি রি করা শরীরটা যেন এবার আকাশ চুম্বক হয় রাগে। সহজ ভাষা গুলো সহজেই বুঝতে না পারায় তিরতির করে উঠে গা রাগে। বিরক্তিতে কপাল কুঁচকে তাকায় আরাফ খানের দিকে। কিছু একটা ভাবতেই বাঁকা হেঁসে সহজ বংগিতে দাঁড়ায় আরাফ খানের সামনে। নিজের পকেটে দুহাত গজিয়ে বেপরোয়া আচরণে শান্ত গলায় বললো…
–” তেমন কিছুই নাহ। আপাতত এক কন্টিন এসিডের সাথে তোমার সোনামার সহযাত্রা করাতে চাইছি। সুন্দর ভাষায় বলতে গেলে তোমার সোনামাকে এসিড ছিটিয়ে আগুন ধরাতে চাই। কি করতে দিবে?
রিদের বুক কাঁপানো, গা হিম ধরা কথায় গায়ে কাটা দিয়ে উঠে সবার। হেনা ভয়ে আতংকে উঠে চিৎকার করে বললো…
–” রিদ?
রিদ চোখ ঘুরিয়ে তাকায় হেনা খানের দিকে। কপাল কুঁচকে সেদিকে এক পলক তাকিয়ে থেকে আবারও তাকায় আরাফ খানের চোখ বরাবর। ভ্রঁ নাচিয়ে বললো…
–” কি করতে দিবে দাদাভাই? বললে নাতো?
শক্ত গলায় বলে উঠলো আরাফ খান….
–” রিদ! বেশি বেশি করছিস তুই এবার।
আগের ন্যায় ভ্রুঁ কুচকে বললো…
–” কোনটা বেশি বেশি হচ্ছে শুনি। আমাকে না জানিয়ে আমার মতের বিরুদ্ধে এই মেয়েকে আমার সামনে হাজির করেছো তোমার? অথচ আমাকে বলছো আমি বেশি বেশি করছি? আর এখন আমার থেকে আশা করছো আমি এই মেয়েকে নিয়ে সুস্থ স্বাভাবিক ভাবে ধৈ ধৈ করে সংসার করতে। ইন্টারেস্টিং পার্টতো! আচ্ছা? তোমাদের কি অজানা ছিল কিছু? যে এই মেয়েটা আমার বউ আর এই সত্যিটা জানার পর আমি তাঁকে মেরে ফেলবো না এমন কিছু? বরং আমি তো তোমাদের স্পষ্ট ভাষায় বলেছিলাম এই মেয়েটাকে জীবনের কখনো আমার সামনে দ্বিতীয়বার হাজির না করতে। তারপরও করেছ। কথা শুননি আমার। এখন আমার রিয়েক্ট করাটা তোমাদের আপত্তি। কিন্তু কেন? যা করার সবটা জেনে বুঝেই তো করেছো তোমরা। তাহলে এখন এতটা হাইপার হচ্ছো কেন? হুমম?
বিচলিত বংগিতে আরাফ খান বলে উঠলো…
–” রিদ অতীতে যেটা হয়েছে সেটার জন্য এক তরফা মায়াকে দ্বায়ী করাটা দোষী নয় পাপ হবে আমাদের। জেনে-বুঝে সেই পাপটা করি কিভাবে বল? তাছাড়া আমাদের স্বাথরের জন্য আমরা মায়াকে আমাদের কাছে রেখেছি। এখানে মায়ার দোষটা কোথায়? ওহ তোহ ঠিকঠাক মনেই নেই ওর কখনো বিয়ে হয়েছে কিনা সেটা নিয়ে?
–” টু গুড? দোষটা আপাতত খন্ডাচ্ছিনা আর পাপটা দেখতে চাচ্ছি না। এই মেয়েকে তোমাদের স্বাথের জন্য একদিন রাখবে নাকি সারাজীবন রাখবে তোমাদের কাছে সেটা তোমাদের ব্যক্তিগত ইস্যু। আমাদের দেখার প্রয়োজন নেই। যেটা আমার প্রয়োজন সেটা হলো ডির্ভোসটা।
শান্ত বংগিতে রিদকে বুঝার চেষ্টা করে কোমল স্বরে বললো….
–” রিদ প্লিজ! তাড়াহুড়ো কিছু করা ঠিক হবে না। আগে মায়া সুস্থ হোক। তারপর নাহয়…? তাছাড়া মায়া এখনো ছোট। ওর প্রাপ্ত বয়স্ক না হওয়া অবধি তোদের ডির্ভোস গ্র্যান্ডেড হবে না। ওর আঠারো হোক তারপর নাহয়…?
হালকা বিরক্তি ঝেড়ে। কপাল কুঁচকে বললো রিদ…
–” লেইম এক্সকিউজ! ডির্ভোস এর দরকার পড়বে না দাদাভাই। আমাদের দুজনের বিয়েটা অযাচিত চাইল্ড ম্যারেজ হয়েছিল। সেহেতু সেটা কোর্টে নোটিশ দিলে, পেপার বানিয়ে আমাদের বিয়েটা বাতিল ঘোষণা করা হবে। দুই পক্ষের দুটো সিগনেচার মাত্র ব্যাস। কোর্ট থেকে আমার বিয়েটা ডাইরেক্ট বাতিল হয়ে যাবে। সেখানে ডির্ভোস এর প্রয়োজন পড়বে না কখনোই।
রিদের পরপর বেপরোয়া কথায় আহত হচ্ছে উপস্থিত সবাই। হেনা খান কখনোই চান না মায়ার সাথে রিদের বিয়েটা বাতিল হয়ে যাক। অনেক কাটখোর পুড়িয়ে এই অবধি এনেছেন তিনি। আজ হঠাৎ করে সবকিছু নিঃস্ব হয়ে যাবে কথাটা ভাবতেই বুক ফাটা আতৎনাত বের হচ্ছে উনার। সবকিছু এভাবে শেষ করতে চান না তিনি। রিদকে থামাতে চান। কিন্তু কিভাবে থামাবে সেটা বোধগম্য নয়। তিনি অসহায় চোখ দুটো বিচরণ করার স্বামী আরাফ খানের মুখদ্বয়ে। স্ত্রী চোখে মনোভাব বুঝতে পেরে মূহুর্তে চাপা দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে নিরবে। কারণ আরাফ খানের এই মূহুর্তে ঠিক কিছুই করার নেই। রিদ যাহ বলবে তাই করবে। সে যখন বলেছে বিয়েটা বাতিল করে যাবে তারমানে করেই যাবে। রিদকে বুঝানো দ্বায়। নয়তো হিতের বিপরীতে কিছু ঘটবে। দেখা যাবে রিদ রাগে বশে মায়াকে একের পর এক আঘাত করে বসলো। তখন মায়াকে রিদ থেকে বাচানো মুসকিল হয়ে যাবে। তাই সময়ে বর্তিতা বুঝে চুপ থাকাটায় শ্রেয় মনে হলো আরাফ খানের কাছে।
–
রিদ নিজ বাক্য শেষ করে। আবারও একবার নীরব চোখ আওড়ায় হেনা খানের কোলে মাথা রাখা মায়ার মুখদ্বয়ে। মায়া অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে আছে সেখানটায়। এক পলক সেদিকে তাকিয়ে থেকে উল্টো ঘুরে নিজের রুমের দিকে যেতে যেতে কাটকাট গলায় জানায়, আজ রিদ চলে যাবে। যাওয়ার আগে সকল কাগজ পত্র দিয়ে যাবে বিয়ে বাতিল করার নোটিশ। এবং বাংলাদেশ আপাতত সে আর আসবে না। তাঁর কোনো কাজ নেই এখানে। যথা সম্ভব আজ রাতেই পাড়ি জমাবে নিজ গন্তব্যে জন্য।
চলিত…..
দেওয়ানা_২
দেওয়ানা(আমার ভালোবাসা)_২
লেখিকাঃ_রিক্তা ইসলাম মায়া
১০_ বর্তীতাংশ
বিষন্নতায় নির্মুল চিন্তাগ্রহ হয়ে উঠেছে খান বাড়ির প্রতিটি গুঞ্জে গুঞ্জে। সবকিছু ঠিকঠাক থেকেও যেন কিছুই ঠিক নেই খান বাড়ির মধ্যে। নিয়ম, রুটিন মাফিক সবকিছুই চলছে নিত্য দিনকালের মতোই,
তবেও যেন হাহাকার চিৎকারের গুঞ্জন শুনা যাচ্ছে খান বাড়ির সদস্যের ভিতরকার থেকে। কান্না বিভোর, চিন্তামগ্ন হয়ে সিঁটিয়ে আছে হেনা খান মায়াকে বুকের জড়িয়ে। থেকে থেকে কেঁদে কেঁদে উঠছে সবকিছু মনে করে। নিজের সর্বত্র চেষ্টা, আশা ভাষণা, সবকিছুই আজ শেষ হয়েছে গেছে রিদের জন্য। রিদ নিজের হাতে সবটা ইতি ঘটিয়ে গেছে। রিদ মায়ার বিয়েটা আজ আনুষ্ঠানিক ভাবে কোর্ট থেকে বাতিল ঘোষণা করার হয়েছে। অক্ষত অবুঝ মায়া ছোট হলেও আজ এতটা বুঝতে পেরেছে, যে সে আজ থেকে রিদের বউ নয়। সে মুক্ত নারী। তাঁর সাথে রিদ ভাইয়ার হওয়া বিয়েটা আজ বাতিল হয়ে গেছে। এখন সে কারও বউ টউ নয় আর। রিদ ভাইয়ার তো মোটেও নয়। দাবিত আরাফ খান নিজে সবটা খুলে বলেছে মায়াকে। নিজের পাশের বসিয়ে সবকিছু ধীরে সুস্থে বুঝিয়ে মায়াকে। মাথায় বেন্ডেজ নিয়েই মায়া চুপচাপ আরাফ খানের কথা গুলো শুনেছিল। রিদের প্রতি মায়ার মনে আলাদা যাহ টান ছিল সেটা রিদের আঘাত করার সাথে সাথে উগ্রে গেছে মায়ার ছোট মন থেকে৷ রিদের চাপ যাহ মায়ার মনে রয়ে গেছে সেটা হলো ভয়, জড়তা, আতংক। রিদ মানেই মায়ার জন্য ভিষণ ভিষণ খারাপ লোক, পঁচা লোক, মিস্টার ভিলেন। অত্যাচারী, স্বৈরাচারী পুরুষ তার রিদ ভাইয়া। যার সবকিছুই জঘন্যতম থেকে জঘন্য। মায়া প্রতিবাদ করেনি রিদের চলে যাওয়াকে ঘিরে। বরং স্বস্তির পেয়েছিল, র্নিভয় হয়েছিল, আর রিদের সামনে পড়তে হবে বলে। রিদ চলে গেছে আজ দুইদিনের কৌটায় পার হয়েছে। রিদের সাদা মায়ার চাইল্ড ম্যারেজ হওয়ায় কোনো রকম ম্যারেজ রেজিস্ট্রি পেপার ছিল না তাদের। দুজনের অপ্রাপ্ত বয়স হওয়ায় শুধু ধর্মীয় মোতাবেক কাজী দিয়ে কবুল পড়ানো হয়েছিল। যেটা আজ বাতিল হয়ে গেছে কোনো রকম ঝামেলা ছাড়ায়। এতে অবুঝ মায়ার মনে কোনো রুপ বিষন্নতা না থাকলেও হেনা খান ও আরাফ খানের মনের মধ্যে ঝড়ঝাপটা বয়ে যাচ্ছিল পরিস্থিতি উপলব্ধি করে।
লাগামহীন বেলেল্লাপনা রিদকে নিজেদের মাঝে আটকানো শেষ সুযোগটা ছিল মায়া। মায়ার সাথে রিদের বিয়েটা ঘিরে ছিল তাদের শেষ আশা ভরশা। মায়া বড় হওয়ার পর যদি রিদকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে নিজেদের মাঝে আটকানো যায় এই বলে যে, রিদের মা-বাবার পছন্দ ছিল মায়া। বউ হিসাবে তাঁরা রিদের জন্য মায়াকে পছন্দ করে গেছে। রিদ নিজের মা-বাবাকে ভালোবাসার বদলে যদি মায়াকে মেনে নিয়ে সংসার শুরু করে এই আশায় দিন পার করেছে এতটা বছর তাঁরা। অবশেষে মায়াকেও নিজেদের কাছে এনেছে রিদের জন্য। এই আশায় যদি মায়া খান বাড়িতে থাকে , রিদের আশেপাশে তাহলে রিদের পাথর মনে যদি একটু হলেও মায়াকে দেখে নরম হয়। বা মায়াকে আগবাগে চিনে রাখে। যখন তারা মায়াকে রিদের বউ বলে দাবি করবে, তখন রিদ যেন চিনা পরিচয় নেই, এমনটা বলে নাহুচ করতে না পারে মায়াকে, সেটা ভেবেই এতকিছু করা। কিন্তু নিয়তি লিখন ছিল বুঝি ঠিক তাঁর উল্টো কিছু। যাহ এক মূহুর্তে লন্ডবন্ড এলোমেলো করে দিয়ে গেছে সবার জীবনটা। সবটা এক মূহুর্তেই শেষ করে দিয়ে গেছে রিদ। এত বছরের সাধনা, আশা সবকিছু নষ্ট করে দিলো সে। মায়াকে অস্বীকার করে বিয়েটা বাতিল করে দিল। এখন মায়াকে নিজের বাবা-মা কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে এমনটা ভাবতেই যেন হেনা হাহাকার কান্নায় ভেঙে পড়ছে বারবার। রিদকে কাছে না পেলেও তাদের মায়াকে ঘিরে ভালোই দিনকাল পাড় হচ্ছিল। আনন্দিত, মুখরিত সুখে দিন গুনছিল তাঁরা মায়াকে নিয়ে। ছেলে, ছেলের বউ, নাতি সবাইকে হারিয়ে মায়াকে আঁকড়ে ধরে পার করতে চেয়েছিল জীবনের বাকি সময় গুলো। কিন্তু এখন কি করবে তাঁরা? কিভাবে ধরে রাখবে মায়াকে নিজেদের কাছে এখন? মায়ার বাবা-মা সত্যিটা জানলে জোর করে নিয়ে যাবে মায়াকে হেনা খানের বুক থেকে। কখনোই থাকতে দিবে না মায়াকে খান বাড়িতে। মায়ার বাবা শফিকুল ইসলাম খান বাড়ির সাথে সম্পর্কের ইতি টানতে আগের থেকেই চেয়েছিলেন, শুধু আরাফ খান ও হেনা খানের জন্য পারেনি সেটা করতে এতদিন। তাঁরা শফিকুল ইসলামের মৃত বাবাকে দেওয়া ওয়দার কথা মনে করিয়ে এক প্রকার বাধ্য করে টেনে এতটা পথ এসেছে। মায়াকেও নিজেদের কাছে নিয়ে এসেছেন। সবটাই ঠিকঠাক চলছিল। কিন্তু আবারও সবটা হঠাৎ করেই থেমে গেছে রিদের জন্য। হেনা খান মায়াকে জড়িয়ে দিশেহারা হয়ে উঠেছে। কিভাবে মায়াকে নিজেদের কাছে রেখে দেওয়া যায় সেটা ভেবে। এখনো মায়ার পরিবারের কেউ কিছু জানে না। মায়ার সাথে রিদের বিয়ে বাতিল হওয়াটা নিয়ে। হেনা খান মনে মনে কঠোর সিদ্ধান্ত নেন, তিনি জানাবে না কোনো কিছু মায়ার পরিবারকে এই বিষয়ে। আর না কাউকে জানাতে দিবে। হবেন তিনি স্বাথরপর। খুব স্বাথরপর। শেষ বয়সে বেঁচে থাকার জন্য যদি তাঁকে স্বাথরপর হতে হয়, তাহলে হবেন তিনি দুনিয়ায় মহাস্বাথপর মানুষ। তবুও মায়াকে কিছুতেই ছাড়বেন না তিনি। দূরে যেতে দিবে না মায়াকে নিজের থেকে। দরকার হলে তিনি মায়াকে নিয়ে দূরে কোথাও চলে যাবে। এই দেশ ছেড়ে চলে যাবে মায়াকে নিয়ে তবুও কাউকে দিবে না মায়ার ভাগ। দিবে না মায়াকে নিজের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিতে।
অন্ধকার ঘরময় রুমটিতে মায়াকে বুকে চাপিয়ে খাটের সাথে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে নিগড়ে চোখে পানি ফেলছে হেনা খান। মায়ার গভীর উষ্ণ নিশ্বাসে শব্দে বুঝা যাচ্ছে সে এই মূহুর্তে কতটা গভীর ঘুমে মগ্ন। হেনা খান থেকে থেকে কেঁপে কেঁপে উঠছে কান্নায়। হুট করেই নিজের রুমের দরজা টেলে হাতে ফোন নিয়ে প্রবেশ করে আরাফ খান। অন্ধকার রুমটি চোখ আওড়িয়ে কপাল কুঁচকে আসে তাঁর। মূহুর্তেই কিছু একটা ভেবে চট করে আলো জ্বালায় অন্ধকার রুমটিতে। আলোকিত হয় ঘরময়। চোখে পড়ে কান্না নেতিয়ে পরা প্রিয়তমা মুখ। আরাফ খান সেদিকে তাকিয়ে দীর্ঘ নিশ্বাস ফেললেন সর্পণে। বুঝতে পারছে প্রিয়তমার মনে অবস্থা। তাঁরও ঠিক একিই অবস্থা মনের। কিন্তু তিনি তাহ প্রকাশ করতে পারছে না। ছেলে মানুষের কান্না করা মানাই না। ছেলেরা কান্না করতে জানে না। তাই তিনিও কান্না করবে না। একদমই না। বরং প্রিয়তমা ও মায়াকে সবকিছুর থেকে আঁকড়ে রাখবে। নিজের বক্ষপিঞ্জরের। ফোনের গুটি শব্দের ধ্যান ভাঙ্গে আরাফ খানের। আহত দৃষ্টিতে তাকায় ভিডিও কলে থাকা ছোট কন্যার দিকে। ফোন স্কিনে ঝলমল করে উঠা সুন্দরী মধ্যে বয়স্ক মেয়েটি আবারও শীতল কন্ঠে আরাফ খানকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলো…
–” বাবা! মাকে ফোনটা দাও। বলো আমি কথা বলতে চাইছি। আর তুমিও এতটা ভেঙ্গে পড়ো না। যাহ হবার তাহ হয়েছে গেছে। সেটা নিয়ে ভাবলে টেনশনে ছাড়া, কিছুই ফিরে আসবে না আমাদের জীবনে। বি স্টং বাবা! আমি নেই মাকেও তোমার সামলাতে হবে। মাকে ফোনটা দাও। বলো! আমি কথা বললো এখন।
মেয়ের কথায় আবারও হতাশ জনক দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলেন আরাফ খান। গত দুইদিন ধরে লাগাতার ফোনে ছিল তার ছোট কন্যা মেহেরবান। খান বাড়ির সকল পরিস্থিতি সম্পর্কেই অবগত মেহেরবান। রিদ ও মায়ার সম্পর্কে ঘটিত সকল জটিলতা জানা তাঁর। বাবা-মার সাথে মেহেরবান ও চেয়েছিল মায়াকে খান বাড়িতে রাখতে রিদের বউ করে। মায়াকে মেহেরবানেরও ভিষণ পছন্দ রিদের বউ হিসাবে। রিদের বাবা-মার পছন্দ মায়া ছিল বলেই মেহেরবানের আগ্রহটা মায়ার প্রতি একটু বেশিই ছিল। ভাই -ভাবির রেখে যাওয়া শেষ স্মৃতি ও পছন্দ ছিল মায়া রিদের জন্য। কিন্তু রিদের খাপছাড়া বেপরোয়া আচরণের জন্য ভাই ভারি শেষ ইচ্ছাটাও ধরে রাখতে পারেনি তাঁরা কেউ। কথা গুলো ভেবেই বাবা আরাফ খানের অগোচরে খুবই সপর্ণে একটা তপ্ত শ্বাস ফেলেন মেহেরবান। তিনি বুঝতে পারছে নিজের বাবা-মার মনে অবস্থা। তাই ঘন্টা ঘন্টা ফোন দিয়ে বাবা মাকে শান্তনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি। স্বামী, ছেলে-মেয়ে দুটোকে নিয়ে চার সদস্যের পরিবার, বতমানে লন্ডনে অবস্থান করছেন তিনি। এই মূহুর্তে মা-বাবার পাশে থাকতে পারছে না বিদায় বারবার ফোন করা উনার। আরাফ খানের শীতল হাত হেনা খানের গাল ছুঁয়ে দিতেই পিটপিট করে চোখ চোখে তিনি। অশ্রু ভিজা লাল লাল চোখ জোড়া আরাফ খানের দৃষ্টিতে স্থির হতে বুক কেঁপে উঠে আরাফ খানের। হেনা খানের এমন অবস্থাটা মেনে নিতে পারছে না তিনি। কিন্তু তিনিও নিরুপায়। কিছুই করতে পারবে না প্রিয়তমার সুখের জন্য। হাত বাড়িয়ে হেনা খানের দিকে ফোন এগিয়ে দিতে দিতে স্নেহ ভিজা গলায় বললো…
–” নাও! মেহেরবান কথা বলতে চাই তোমার সাথে। কথা বলো তোমরা। মায়াকে আমার কাছে দাও। আমি ওকে শুইয়ে দেয়। ঘুমিয়ে পড়েছে ওহ।
মায়াকে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্বাভাবিক ভাবে মেনে নিতে পারেনি হেনা খান। মায়াকে দুহাতে আরও শক্ত করে বুকে আঁকড়ে ধরে ক্ষেপ্ত গলায় আরাফ খানকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলো…
–” নাহ দিব না আমার সোনামাকে। ওহ আমার কাছেই থাকবে সবসময়। আমি ওকে এই ভাবেই নিয়েই কথা বলবো নয়তো না। রেখে দাও ফোন। বললো না কথা আমি কারও সাথে। যাও তুমি এখান থেকে।
স্ত্রী মনের বেগতিক ভ্যাপসা তিক্ত আচরণটা বুঝতে পেরে চুপ করে যান আরাফ খান। হেনা খানের মনে মায়াকে হারানোর যে ভয়টা কাজ করছে সেটা অস্বাভাবিক কিছু না। বরং স্বাভাবিক। মায়ার পরিবারেকে আজ নয়তো কাল মায়া ও রিদের বিয়ে বাতিল হওয়ার বিষয়টি জানাতে হবে। সবকিছু জানার পর নিশ্চয় মায়ার বাবা মায়াকে খান বাড়িতে রাখতে চাইবে না। মায়াকে নিয়ে যাবে চিরতরে জন্য। সেই সাথে সকল সম্পর্ক ও ছিন্ন করে যাবে খান বাড়ির সাথে মায়ার। তিনি আগবাড়িয়ে কিছু বলে না প্রিয়তমাকে। চুপচাপ চোখ আওড়ায় হেনা খানের ক্ষেপ্ত দৃষ্টিতে। তখনই হাতে চেপে ধরা ফোন থেকে আবারও কানে আসে মেহেরবানের শান্ত কন্ঠ আরাফ খানের।
–” বাবা মাকে ফোনটা দাও। মার উঠার দরকার নেই। থাকুক মায়া মা সাথেই। আমার সমস্যা নেই এই ভাবে কথা বলতে। দাও তুমি ফোনটা মাকে।
আরাফ খান হাত বাড়িয়ে ফোনটা হেনা খানের দিকে এগিয়ে দিতে অতি সপর্ণে ফোনটা হাতে তুলে নেয় হেনা খান। ফোনে স্কিনে ঝলমল করে উঠে মেহেরবানের মুখাপেক্ষী হতেই তীক্ষ্ণ কন্ঠে বলে উঠলো মেহেরবান…
–” মা বোকামি করছো কেন তুমি? তোমার কি বোকামী করার বয়স এখন আর আছে? যাহ হবার তাহ হয়ে গেছে। এখন জেদ ধরে পাগলমো করলে কি সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে আবার? রিদ কি নিজের ডিসিশন চেঞ্জ করে ফেলবে? উল্টো দেখা যাবে যে তোমার পাগলামিতে রিদ একেবারই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে বসবে সবার সাথে। তখন ঠিক লাগবে ব্যাপারটা? আমরা সবাই জানি রিদ কেমন! তারপরও আর কিসের আশা তোমার রিদের উপর? সবকিছুর জেদ এবার ছাড়ো মা! শান্ত হও তুমি। পাগলামো না করে ঠান্ডা মাথায় সমাধান খুঁজো। কি করতে হবে পরে?
মেয়ের কথায় আবারও টলমল করে উঠে অশ্রু ভেজা চোখ দুটো হেনা খানের। মূহুর্তে গাল গড়িয়ে পড়লো নোনাজল। একহাতের ভাঁজে মায়াকে বুকে রেখে, অন্যহাতে ভাঁজে ফোনটি চেপে ধরা অবস্থায় আবারও ফুপিয়ে উঠে কান্নায়। মায়ার মাথায় হেনা খান নিজের গাল ঠেকিয়ে কান্নায় ফুপাতেই, বুক ফুলিয়ে শব্দ করে শ্বাস ফেললো মেহেরবান। মায়ে মনে অবস্থা বুঝে অতি সপর্ণে আবারও শীতল গলায় বলে উঠলো…
–” মা!’যেটা যেভাবে চলছে আপাতত সেটা সেই ভাবেই চলতে দাও। পাগলমো না করে সময় নিয়ে ভাবো নেক্সট আমাদের কি করতে হবে? আর আপাতত রিদকে মায়ার সম্পর্কে কোনো কিছু বলার দরকার নেই। রিদ থাকুক ওর মতো করে। ভবিষ্যতে দেখা যাবে কি করা যায় রিদকে নিয়ে। মায়া নয়তো অন্য কোথাও রিদকে বিয়ে করানোর চেষ্টা করা যাবে তখন। এখন এসব বিষয় নিয়ে ভাবার দরকার নেই। এখন যেটা ভাবার দরকার সেটা হলো মায়ার পরিবারকে আমাদের সত্যিটা জানাতে হবে। রিদ আর মায়ার বিয়ে বাতিলের বিষয়টা উনাদের জানানো উচিত। উনারা মায়ার বাবা-মা হিসাবে আমাদের প্রথম দ্বায়িত্ব ছিল উনাদেরকে আরও আগে এই বিষয়টি জানানো। তারপর উনাদেরকে নিয়েই আমাদের বিষয়টি আগানোর উচিত ছিল। বাবা-মা হিসাবে মায়ার জন্য উনারা যাহ ডিসিশন নিতো সেটাতে আমাদের সহমত পোষণ করা দরকার ছিল। কিন্তু আমাদের ভুল! আমরা আরও আগে জানায়নি এই বিষয়টি উনাদের। এখন তারা কি রিয়েক্ট করবে সেটাই….
কথা গুলো বলতে বলতে থেমে যায় মেহেরবান। মায়ের বদলিত চেহারায় খানিকটা থমথমে খেয়ে যায় মেহেরবান। মায়ের রাগী দৃষ্টিতে চুপ করে যায়। হেনা খান রাগে চোখ শক্ত করে তাকিয়ে আছে মেহেরবানের দিকে। মেহেরবান থামতেই রাগে কটমট করে জ্বলে উঠে হেনা খান। তিরতির মেজাজে বলে উঠলো সাথে সাথে হেনা খান।
–” খবরদার! যদি কেউ মায়ার পরিবারকে এসব বিষয়ে কিছু জানায় তোহ আমার চেয়ে খারাপ কেউ হবে না বলে দিলাম। যদি কেউ আমার কথা বিরুদ্ধে গিয়ে মায়ার পরিবারকে কিছু জানায়। বাহ জানাতে চাই। তাহলে আমি এই বাড়ি ঘর ছেড়ে ছুঁড়ে মায়াকে নিয়ে দূরের কোথাও চলে যাবো জীবনের মতো। আর কখনোই ফিরে আসবো না এই অসভ্য বাড়িতে। তোদের এই বেহায়াপনা মধ্যে। তখন থাকিস তোরা তোদের মন মতো করে। আমি নাক গলাতে আসবো না তোদের পারিবারিক বিষয়ে। কিন্তু আমার সোনামার বিষয়ে আমি তোদের কারও কাছ থেকে কোনো পর্রামশ বা ডিসিশন চাচ্ছি না। আমি আমার ডিসিশন জানাচ্ছি তোদেকে। মায়া আমার নাতিন। আমার সোনামা। ওহ আমার সাথেই থাকবে বাকিটা জীবন। এই বাড়িতে। যদি আমার সোনামার জায়গায় এই বাড়িতে না হয়! তাহলে আমারও এই বাড়িঘর, সংসারদী, কিছুই চাই না। আমি শেষ বয়সে এসে তোদের সংসার ত্যাগ করবো। তোদেকে ত্যাগ করবো। সবকিছু ত্যাগ করবো। আমি আমার সুখ চাই। আর আমার সুখই এখন আমার সোনামাকে ঘিরে। আমি তিক্ততায় বিষিয়ে উঠেছি তোদের সাথে যোদ্ধা করতে করতে। আমাকে এখন একাকীত্ব ঘিরে ধরেছে। বিষাক্ত লাগছে এখন তোদের বিরুপ আচরণ গুলো। তোরা কেউ আমার কথা চিন্তা করিস না। তোরা তোদের সংসার, তোদের ছেলে মেয়ের, তোদের সবকিছু নিয়ে ব্যস্ত। তোরা তোদের সুখটা খুঁজে বেড়াস। আর আমি তোদের সুখে রাখার চেষ্টা করতে করতে আজ ক্লান্ত। এখন আমার সুখ চাই। মানসিক শান্তি চাই। আমি আর একাকীত্ব জীবন পার করতে চাই না। আমি হাঁপিয়ে উঠেছি আপনজনদের সাথে লড়াই করতে করতে। রিদকে বছরের পর বছরও কাছে পাওয়া যায় না। দুই মেয়ে তাদের স্বামী সন্তানদের নিয়ে দূর দেশে থাকে সংসার নিয়ে। মা-বাবার সানিধ্য তাদের পছন্দ না। আর আমার স্বামী সারাদিন রাত অফিস আর কাজ কাজ করে বেড়ায়। একা আমি আছি নাকি মনে গেছি কাও কোনো খবর থাকে না। আমার টাকা আছে কিন্তু সুখটা আমার দূর দূরান্তে নেই। তাই এখন আমার টাকা নয় সুখ লাগবে। আমার এখন কাউকে চাই না। স্বামী, সন্তান, নাতিন কাউকেই চাই না। আমার শুধু আমার সোনামাকে চাই। আমার একাকীত্ব দূর করার মাধ্যম চাই। আমি সুখ আমার সোনামা। আমার সোনামার জীবনও কোনো রিদের দরকার নেই। আমিই যথেষ্ট আছি আমার সোনামার জন্য। আমি নিজের ওর জন্য ছেলে খুঁজবো। বিয়ে দিব। তারপর ওর স্বামীকেসহ আমি এই খান বাড়িতে রেখে দিব আমার কাছে। তারপরও আমার সোনামাকে কোথাও যেতে দিব না, আমার থেকে।
হেনা খানের পরপর কথায় আহত হচ্ছিল উপস্থিত বাবা-মেয়ে দুজনই। ছলছল চোখে তাকাই হেনা খানের দিকে দু’জনই। বাবা মেয়ে দুজনেই হেনা খানের বিষাক্ত একাকীত্বের ধার্চ আর্চ করতে পারছে। সময়ে সাথে সাথে হেনা খানের দীর্ঘ দিনে তিক্ততা আজ বহির্ভূত ঘটেছে। বিষন্নতায় ঘিরা হেনা খান আজ ক্লান্ত! বড্ড ক্লান্ত পরিবার পরিজনের সকলের ব্যস্তার পাল্লা মাপতে গিয়ে। দিন শেষ নিজেকে একা পেয়ে অনেক মানসিক রোগী হয়ে উঠেছে। তাই আজ সঙ্গী খোঁজছে শেষ বয়সে নতুন করে বাঁচার তাগিদে। সেই সঙ্গী হিসাবে আজ মায়াকে পাশে চাই হেনা খান। সত্যিই চাই। নয়তো মানসিক চাপে চাপে পাগল হয়ে উঠতে বেশি দিন নয়। বাবা মেয়ে দু’জনই বেশ বুঝতে পারছে হেনা খান এই মূহুর্তে মানসিক ভাবে ডিস্টার্ব হওয়াতে, মানসিক রোগী হয়ে যাচ্ছে দিন বা দিন। এই মূহুর্তে মায়াকে হেনা খানের থেকে আলাদা করলে হিতের বিপরীতে কিছু ঘটবে নিশ্চিত। মায়াকে এই মূহুর্তে হারিয়ে ফেললে হেনা খান আরও বেশি মানসিক চাপে পড়ে যাবে। তাই আপাতত মায়াকে হেনা খানের থেকে দূর করা যাবে না। কিছুতেই না। সিদ্ধান্ত বদলান আরাফ খান। যতদিন না তাঁর স্ত্রী স্বয়ং সম্পন্ন ঠিকঠাক হচ্ছে ততদিন নাহয় জানাবে না, মায়ার পরিবারকে বিয়ে বাতিলের বিষয়টি। স্ত্রী সুস্থ হোক তারপর সবকিছু নিয়ে ভাবা যাবে। আরাফ খানের মুখ খোলার আগেই বেগতি আবারও মেহেরবান ত্বরান্বিত হয়ে বলে উঠলো…
–” কিন্তু মা তো….
মেয়ে বাক্য শুরু করার আগেই ক্ষেপে যান হেনা খান। ধমক স্বরে বলে উঠে…
–” বললাম না নাক গলাবি না আমার সোনামার বিষয়ে। যাহ তোরা। একা থাকতে দে আমাদের। কেন ফোন করছিস বারবার এখানে? কি চাই তোদের এখানে হ্যাঁ?
মায়ের পাগলামোতে আবারও দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে মেহেরবান। আপাতত হেনা খানকে কিছু বলে লাভ হবে না সেটা ঠিক বুঝতে পারছে মেহেরবান। আগে মায়ের একাকীত্ব দূর করতে হবে। নিজের মাকে সুস্থ করতে হবে তারপর যাহ করার করতে হবে। মায়ের মুখের দিকে হতাশ বংগিতে তাকায়। মুখ খোলার আগে আরাফ খান নিজের স্ত্রীকে শান্ত করার চেষ্টা করে দ্রুত বলে উঠলো…
–” ঠিক আছে! তোমার কথায় হবে এবার থেকে। কেউ কিছু জানাবে না মায়ার পরিবারকে। তোমার মতের বিরুদ্ধে যাবো না আমরা কেউ। তুমি শান্ত হও হেনা। তোমার কাছ থেকে কেউ মায়াকে কেঁড়ে নিবে না। তোমার সাথেই থাকবে মায়া আমি ওয়াদা করছি তোমাকে এই নিয়ে। তারপরও শান্ত হও তুমি আগে। তাকাও আমার দিকে। দেখ আমাকে তুমি!
স্বামী কথায় রাগটা খানিকটা কমলেও। পুরোপুরি নরম হয়ে আসতে পারেনি হেনা খানের মন। শক্ত দৃষ্টিতে তাকায় আরাফ খানের দিকে। মায়ে বেগিতক আচারণ বুঝতে পেরে ফোনের ওপাশ থেকে ঠান্ডা কন্ঠে বলে উঠলো মেহেরবান…
–” মা! আমি কয়েকদিনের মধ্যে বাংলাদেশে আসছি ফিহাকে নিয়ে। একেবারে চলে আসবো দেশে। এবার থেকে বাংলাদেশেই থাকবো তোমার পাশেপাশে।
মেয়ের করাই মূহুর্তেই গলে মোম হয়ে যায় হেনা খান। মেহেরবান বাংলাদেশে চলে আসবে বিষয়টি শুনতেই চট করে আবেগী হয়ে বলে উঠলো…
–” সত্যিই! সত্যি চলে আসবি তোরা সবাই?
–” হুমমম চলে আসবো মা। পরের দেশে নিজের আপনজনদের টান আর আসছে না মা। তাই চলে আসবো মায়ের কোলে। আপনজনদের কাছে। কিন্তু বাকি দু’জন বাবা-ছেলে এখন কেউ আসবে না মা। শুধু আমি আর ফিহা আসবো এখন। শামীম নিজের বিজনেস গুছিয়ে শিফট করবে বাংলাদেশে। তারজন কয়েকমাস লাগবে। একেবারে চলে আসবে বাংলাদেশে আমাদের কাছে। ফিহাকে কলেজে ভর্তি করাবো ঢাকায়। বাকি পড়া সব বাংলাদেশ থেকেই করবে। আর আয়নের ডাক্তারী ইন্টার্নশিপ চলছে। এই বছর শেষ হবে। লন্ডনে হসপিটালের জয়েন করবে বলেছে। সবমিলিয়ে একবছর সময় লাগবে ওর। তারপর বাংলাদেশে আসবে। এখন আসতে চাইছে না। বছর খানিকটা নাকি লাগবে ওর বাংলাদেশে আসতে। তবে একেবারে আসতে চাইছে না বাংলাদেশে। এখানেই থাকতে চাইছে। বাংলাদেশে নাকি প্রতিবছর যাতায়াত রাখবে আমাদের সাথে। তুমি কথা বলে দেখিও ওহ কি বলে মা। আমি বলেছি তোমাকে কল দিতে। বললো তোমাকে নাকি রাতে কল করবে ফ্রি হয়ে। আমি সবটা বলেছিলাম রিদের বিষয়ে। সবটা জেনেই তোমার সাথে কথা বলতে চাই। যদি পারো বলিও আমাদের সাথে যেন বাংলাদেশে আসে ওহ। তোমার আর বাবা সাথে দেখা করে যায়।
মেয়ের কথায় শান্ত হন হেনা খান। খানিকটা আশ্বস্ত হলেও একেবারে চিন্তা মুক্ত হতে পারেনি তিনি। মেয়ে সাথে ঠান্ডা মাথায় আরও কিছুক্ষণ টুকটাক কথা বলে ফোন রেখে দেন তিনি। মায়াকে জড়িয়ে ধরা অবস্থায় আবারও খার্টের সাথে হেলান দিয়ে শুইয়ে পড়েন। মায়া বিগোর ঘুম হেনা খানের বুকে মধ্যে। আরাফ খান স্ত্রীর দিকে শান্ত চোখে তাকিয়ে থেকে উঠে খার্টের অন্য পাশে গিয়ে হেলান দিয়ে শুইয়ে পড়ে চিন্তায় চিন্তায়। হুট করে যেন আরাফ খান বড্ড অসহায় হয়ে পড়েছেন স্ত্রী, নাতি, ও মায়াকে নিয়ে। রিদের জেদ, হেনা খানের মানসিক অসুস্থতা, মায়াকে সামলানো। সবকিছুই যেন একা কাঁধে পড়ে গেছেন আরাফ খানের। রুমের লাইট নিভিয়ে দুজনই দুপাশে চিন্তা সহিত চোখ বন্ধ করে নেয়। মুহূর্তেই বিষাক্ত নির্রবতা ছেয়ে যায় সম্পূর্ণ রুমটি জুড়ে। কতটা সময় একে অপরের চিন্তা মগ্ন বিভোর ছিল জানা নেই। তবে হুট করেই আবারও ফোনের তীক্ষ্ণ শব্দ ধ্যান ভাঙ্গে দু’জনেই। হেনা খানের জাগ্রত অবস্থায় থাকলেও নড়চড় নেই বিন্দুর। আরাফ খান চোখ তুলে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে ফোনের দিকে তাকাতেই ফোনের স্কিনে ঝলমলে কটে উঠে “আয়ন ” নামক শব্দটি। রুমের লাইট জ্বালিয়ে দেয়াল ঘুড়িয়ে দিকে তাকাতেই চোখে পড়লো রাত ১২ঃ৪৬ মিনিট। তিনি দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে ভিডিও কলটি রিসিভ করে আয়নের। সাথে সাথে স্কিনে ফেসে উঠে উজ্জ্বল শ্যামবর্ণের একজন তরুণে হাস্যজ্জল চেহারাটি। গায়ের সাথে এপ্রোন জড়িয়ে মেডিকেলের করিডোর ধরে বের হচ্ছে পার্কিং এরিয়াতে। আরাফ খান ফোনের স্কিনে ফেসে উঠতেই ক্লান্ত মাখা ফেঁসে দারুণ হেঁসে বলে উঠলো…
–” আসসালামু আলাইকুম ইয়াং ম্যান। কি অবস্থা আপনার হুমম? সব ঠিকঠাক তোহ?
কথা গুলো বলতে বলতেই কারের দরজা খোলে গাড়ি উঠে বসলো আয়ন। আরাফ খান আয়নের কথায় এক গাল কৃত্রিম হাসলো। হেনা খানকে এক পলক দেখে নিয়ে বললো…
–” ওয়ালাইকুম সালাম ইয়াং ম্যাম। অবস্থাটা আমার আপাতত বেগতিক চলছে। সেথায় সব ঠিকঠাক বলতে পারছি না। বুঝে নিতে হবে অবস্থাটা আপাতত কোথায় আছে আমার?
আরাফ খানের কথায় আবারও ক্লান্তিতে দারুণ হাসলো আয়ন। ড্রাইবিং সিটি বসে নিজের ফোনটি সামনে স্টিক হ্যাংগারে রেখে গায়ে জড়ানো এপ্রোনটি টেনে খুলতে খুলতে বললো…
–” তোমার বেগতিক অবস্থার গতি ধরাতে হবে নানাভাই। তোমার অবস্থানের রোগ নিরাময় করতে হবে। তাই আগে বলো রোগী কে? তুমি নাকি তোমার বউ? রোগীকে চিহ্নিত না করে তোহ, তাঁর রোগ নিরাময় করতে পারছি না আমি। আগে রোগী সাথে পরিচয় করাও ফটাফট। আমিও ডাক্তার হয়ে ঝটপট ছোটহাট্ট প্রেশক্রিপশন দিয়ে দিব। কি বলো?
আয়নের কথায় এবার মন খোলে হাসলো আরাফ খান। আয়ন প্রাণবন্তর, হাস্যজ্জল মানুষ। সব পরিস্থিতিতে মানুষকে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে। পাশে থাকে। মানুষ বুঝানোর ক্ষমতা বেশি। আয়ন আর রিদ দু’জনই দুই রকম ধার্চে। রিদ উগ্র রুডচর্টা, একগোঁয়া, অ্যাটিটিউড সম্পূর্ণ, গম্ভীর মানুষ তো অন্যদিকে আয়ন প্রাণবন্তর, হাস্যজ্জল, বিচক্ষণতার দারুণ পুরুষ। আরাফ হেসে বলে উঠলো….
–” একদম! স্বামী ঠিক আছে। ঝটপট বউয়ের চিকিৎসাটা করে ফেলুন তো ডাক্তার সাহেব। রোগ রোগ গন্ধটা আর ভাল লাগছে না। এবার আমার বউটাকে ঠিক করে তুলুন ডাক্তার সাহেব। ভিজিট নিয়ে চিন্তা করবে না। টাকাটা একটু পুষিয়ে দিব আপনাকে সমস্যা নেয়।
আরাফ খানের কথায় আবারও হাসলো আয়ন। বলিষ্ঠ সুঠাম দেহের জড়ানো ধূসর রঙ্গে শার্টের হাতা গুলো গুটাতে গুটাতে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালো ফোনের স্কিনে। নিজের ভ্রুঁ নাচিয়ে বললো…
–” দামী বউয়ের জন্য সল্প মূলের ভিজিট? বিষয়টা কি খান বাড়ির বউয়ের জন্য অপমান জনক হয়ে গেলো না?
কথা বলতে বলতে এসে বসলো হেনা খানের সামনে আরাফ খান। হেনা বিস্মিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল স্বামী মুখের দিকে। আয়নের প্রতিটা কথায় হেনা খানের কান অবধি গেছে। আয়ন যে নিজের নানাভাই মন ভালো করার চেষ্টা করছে সেটা বেশ বুঝতে পারছে হেনা খান। আরাফ খান এক পলক হেনা খান দেখে নিয়ে দুষ্টুমি কন্ঠে বললো…
–” সমস্যা নেই ডক্টর। খান বাড়ির বউয়ের অপমান না হয় সেই প্রেক্ষিতেই পুষিয়ে দিব আপনাকে। তবুও বউ ভালো হওয়া চাই আমার। বউ ভালো করে দিন আমার তাহলেই হবে। নিন বউয়ের সাথে কথা বলুন…
কথা গুলো বলতে বলতেই ফোন বাড়িয়ে দেয় হেনা খানের দিকে আরাফ খান। ফোনটি হাতের মোটই নিতেই মুখোমুখি হয় দু’জনই। আয়ন হেনা খানকে দেখেই সালাম দিয়ে বললো…
–” আসসালামু আলাইকুম নানুমা। কেমন আছো তুমি?
আয়নের কথায় মলিন হাসলো হেনা খান। আস্ত করে বললো…
–” এইতো ভাই! ভালোই আছি। তোরা যেমন রেখেছিস তেমনই ভালো আছি।
হেনা খানের কথা মানে বুঝতে পারে আয়ন। মুখে টান টান হাসি রেখে বলে উঠে….
–” আহ! তাহলে তোহ তুমি কোনো রোগী টুগী নয়। সুস্থ তুমি। আমরা তোহ তোমাকে ভালোই রেখেছিলাম। এখন বলো যদি তোমার স্বামী তোমাকে এদিক সেদিক কষ্ট দিয়ে, রোগী টুগী বানিয়ে ফেলে তাহলে তোমার কথায় যুক্তি থাকবে। আমরা নয়! দোষী তোমার স্বামী হবে তখন। স্বামী সংসার ভালো না লাগলে, আমার সংসারে চলে আসো তুমি। আমি এখনো সিঙ্গেল আছি কিন্তু।
আয়ন কথা গুলো বলেই বেখেয়ালি ভাবে চোখ পড়ে হেনা খানের বুকের ঘুমন্ত মায়ার দিকে। দৃষ্টি সরিয়ে নিতে গিয়ে চমকে উঠে আবারও সেদিকে তাকাই খানিকটা কপাল কুঁচকে। ঘুমন্ত মায়া হেনা খানের বুকের পাশে চেপে থাকার কারণে চেহারাটা স্পষ্ট বুঝা না গেলেও। মুখের একপাশ ঠিকই দেখা যাচ্ছে। কপালে সাদা বেন্ডেজ করা। চুল গুলো খানিকটা এলোমেলো ভাবে আছড়ে পড়ে আছে মুখে। আয়ন মেয়েটিকে চিনতে পারলো না। কৌতূহল বশত নিজের নানুমাকে
কপাল কুঁচকে প্রশ্ন করলো সাথে সাথে….
–” মেয়েটি কে নানুমা?
একটা চাপা দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে হেনা খান বলে উঠলো…
–” মায়া। আমার সোনামা।
চলিত…
Share On:
TAGS: দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ২, রিক্তা ইসলাম মায়া
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৫৫
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৯
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ১৬
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা) সিজন ২ পর্ব ৪৬
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ২০
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ২০
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ৬
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৮৫
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৬
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ১৮