Golpo romantic golpo তোমার হাসিতে

তোমার হাসিতে পর্ব ২৪


তোমার_হাসিতে

ফারহানাকবীরমানাল

২৪.
তানহার হাতে ক্যানুলা করা হয়েছে। স্যালাইন চলছে। ব্লাডপ্রেশার লো। বোধহয় ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করে না। শুকনো মুখ, চোখের নিচে কালচে দাগ পড়ে গেছে। কথাবার্তা বলছে না। চোখ বুঁজে শুয়ে আছে। এই মুহূর্তে হাসপাতালে আমরা চারজন। ছোট চাচা, আমি, তিমু আর তানহা। বাদশা চলে গিয়েছে। সে জায়েদার বাবা মায়ের সাথে দেখা করতে যাবে। পুলিশ কী বলেছে না বলছে, তদন্ত কতদূর এগোচ্ছে– এসব জানতে গিয়েছে। জায়েদার জন্য আমার চিন্তা হচ্ছে না এমনটা না, তবে বাদশার চিন্তা একটু বেশিই। যেন জায়েদা তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কেউ একজন। ছোট চাচা হাঁটাহাঁটি করছিল। হঠাৎই আমার পাশে এসে দাঁড়াল। চিন্তিত মুখে বলল, “তানহার বাড়িতে খবর দেওয়া হয়েছে?”

“হ্যাঁ হয়েছে। তিমু কল দিয়েছিল। সবকিছু বলেছে। তানহার মা আর নানি আসছে।”

“ভালো।”

ছোট চাচা চুপ করে গেল। আমি বললাম, “আপনাকে একটা প্রশ্ন করার ছিল। কিছু মনে না করলে জিজ্ঞেস করব।”

“কী প্রশ্ন?”

“তানহার অন্য ছেলের সাথে সম্পর্ক আছে– এ কথা কী আপনি জানতেন?”

“তুই আমাকে এসব জিজ্ঞেস করছিস কেন?”

“কারণ তানহা তার প্রেমিকের খোঁজ খবর নেওয়ার জন্য আমাকে ডেকেছিল। আপনি সবকিছু জেনে-বুঝে এই বিয়েতে রাজি ছিলেন?”

“নিজের সীমার মধ্যে থাক। আমাকে এসব প্রশ্ন করার সাহস হলো কীভাবে?”

“সত্যি কথা জিজ্ঞেস করতে খুব বেশি সাহসের প্রয়োজন পড়ে না। যাইহোক প্রসঙ্গ তোলার কারণ বলি– তানহার সেই প্রেমিক মা’রা গিয়েছে। আমি নিজের চোখে তার লা’শ দেখেছি। এই ব্যাপারে আপনার কিছু বলার আছে?”

“ম’রে’ছে ভালো হয়েছে। কেউই আজীবন বেঁচে থাকে না।”

“সে না হয় থাকে না। কিন্তু এ ব্যাপারে আপনার কিছু বলার নেই?”

“আমার আর কী বলার থাকবে?”

ছোট চাচার মুখ ঘুরিয়ে ফেলল। তারপরই অস্থির ভঙ্গিতে পায়চারি শুরু করল। তার চোখ জ্বলছে। চোখ-মুখে দুশ্চিন্তার ছাপ।

তিমু বলল, “কী হচ্ছে কিছুই বুঝতে পারছি না। সবকিছু মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে।”

“কোন জায়গা থেকে বুঝতে পারছিস না? তানহার ব্যাপারে? বুঝিয়ে বলব?”

“সে কথা না। গোটা ব্যাপারটা বেশ জটিল। আমার মন বলছে আমরা এখনও আসল রহস্য পর্যন্ত পৌঁছাতে পারিনি।”

“সারাদিন গোয়েন্দা গল্প পড়লে মাথার ভেতরে এমন চিন্তা ঘোরা অস্বাভাবিক কিছু না। বই পড়ে পড়ে তুই খুব অদ্ভুত হয়ে গিয়েছিস।”

তিমু হাসল। খুব সুন্দর করে হাসল। পরক্ষণেই ছোট চাচার চোখে চোখ পড়ায় হাসি থামিয়ে মুখ গোমড়া করে ফেলল। তানহার মা এবং নানি এসেছে। দু’জনের তানহার সাথে কথা বলছে। তাদের কণ্ঠস্বর খুবই কর্কশ। কানে লাগে। তানহা অবশ্য তাদের কথার জবাব দিচ্ছে না। ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে।

স্যালাইন শেষ হওয়ার পরপরই ডাক্তার সাহেব এলেন। সহজ গলায় বললেন, “রোগীর শরীর মাত্রাতিরিক্ত দূর্বল। খাওয়া দাওয়ার ব্যাপারে বিশেষ নজর দিতে হবে। ওষুধ লিখে দিচ্ছি। বাড়িতে নিয়ে যান৷”

তানহার মা মাথা দুলিয়ে হ্যাঁ বলল। ডাক্তার সাহেব বললেন, “কোন ধরনের দুশ্চিন্তা করতে দিবেন না। কটুকথা শোনাবেন না। এই বয়সের ছেলেমেয়েরা খুব দ্রুত ভুল সিদ্ধান্ত নেয়।”

“ঠিক আছে। আর কী করতে হবে?”

“খাওয়া-দাওয়ার দিকে নজরদারি বাড়ান। ওষুধ কন্টিনিউ করেন। এরপর ঠিক না হলে আবার একবার দেখিয়ে যাবেন।”

ডাক্তারের সাথে কথাবার্তা এই পর্যন্ত রইল। ফার্মেসী থেকে ওষুধ কেনার পর তানহার মা আমাকে ডাকলো। তীক্ষ্ণ গলায় বলল, “আমার স্বামীকে তো খেয়েছ, মেয়েটাকেও খেতে চাও নাকি?”

“আপনার কথা বুঝতে পারছি না। আপনার স্বামীকে খেয়েছি এ কথার মানে কী?”

“এই ছেলে! আমার সাথে একদম নেকামি করবে না। আমি তোমাকে চিনি না ভেবেছ! তোমার ব্যাপারে সবকিছু জানি।”

“তাহলে নিশ্চয়ই আপনার স্বামীর ব্যাপারেও জানেন। আমার জন্য বা আমার দোষে তিনি শা’স্তি পাচ্ছেন না। নিজের দোষের জে’লে পঁচে ম’র’ছেন।”

“তোমার সে-সব জ্ঞান দিতে হবে না। আমার মেয়েকে এখানে নিয়ে এসেছ কেন? ওর সাথে তোমার কী সম্পর্ক?”

“তানহার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই।”

“সম্পর্ক না থাকলে দেখা করতে গিয়েছিলে কেন? আমাকে কী তোমার বোকা মনে হয়?”

আমি কিছু বলব তার আগে তিমু কথা বলে উঠল। ভীষণ শক্ত গলায় বলল, “ছোট মামার সাথে আপনার মেয়ের বিয়ে ঠিক ছিল– আশা করছি এ কথা আপনি ভুলে যাননি। সেভাবেই তানহার সাথে আমাদের পরিচয় হয়েছে। প্রায় সমবয়সী, তাই আমরা ভালো বন্ধু। এতকিছুর পরে তানহার মনের অবস্থা কেমন, কেমন কী আছে না আছে সে-সব জানতে দেখা করেছি। এখানে দোষের কী আছে? তাছাড়া তানহা অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিল৷ অনেক চেষ্টা করেও জ্ঞান ফেরেনি। আপনাদের ডাকাডাকি করতে গেলে অনেক দেরি হয়ে যেত। সময় নষ্ট না হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। এতকিছুর পরে আমাদের ধন্যবাদ না জানিয়ে উল্টো কথা শোনাচ্ছেন?”

“কথা শোনানোর মতো কাজ করেছ তাই কথা শোনাচ্ছি।”

“আমরা কথা শোনানোর মত কাজ করিনি। সত্যি বলতে অন্যায়কে ন্যায় দেখতে দেখতে আপনার চোখ পাল্টে গেছে। তাই ভালো কাজকে খারাপ মনে হচ্ছে।”

তিমু আরও কিছু বলত। বলার সুযোগ পেলো না। গাড়ি ঠিক হয়ে গেছে। তানহার নানি ডাকাডাকি শুরু করছে। ভদ্রমহিলা আর দাঁড়াল না। গাড়িতে উঠে গেল। তানহাও উঠল। ওঠার সময়ে এক পলক পেছন ঘুরে তাকালো। কেমন ম’রা মানুষের মতো। দেখলে মায়া লাগে।

তিমু বলল, “ছোট মামা কোথায়?”

“এখানেই তো ছিল। গাড়ির খোঁজ করছিল। এখন দেখছি না।”

“মামার জন্য অপেক্ষা করবে?”

“না, সময় নেই। আমরা চল। রিকশা ডাকছি। সে তার মতো চলে আসবে।”

থানার সামনে দু’টো কৃষ্ণচূড়া গাছ আছে। গাছে ফুল আসতে শুরু করেছে। সকালের রোদ ফুলের সৌন্দর্যে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। চমৎকার লাগছে দেখছে। ঘড়িতে দশটা বাজতে তিন মিনিট বাকি। দারোগা সাহেব আমাদের থানায় ডেকেছেন। আমি, তিমু আর বাদশা। আমাদের তিনজনকে। তানহার বাবার ব্যাপারে কথাবার্তা বলবেন। একজন গার্জিয়ান সাথে নিয়ে আসতে বলেছিল। বাড়িতে বলিনি। মা জানলে শুধু শুধু চিন্তা করবে। ফুফু আসতে চেয়েছিল। শেষ মুহূর্তে তার পেট কামড়াতে শুরু করল।

“দশটা বেজে গেছে। আর কতক্ষণ এখানে দাঁড়িয়ে থাকবি?”

বাদশার কথার ওর দিকে তাকালাম। নরম সুরে বললাম, “দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না। ভেতরে চল।”

দারোগা সাহেব চেয়ারে বসে পা দোলাচ্ছেন। আমাদের দেখে ইশারায় বসতে বললেন। বাদশা বলল, “আমাদেরকে ডেকেছেন কেন?”

“কিছু কথা জিজ্ঞেস করার আছে৷ কিছু কথা জানানোর আছে।”

তিমু আমার দিকে তাকাল। যথাসম্ভব স্বাভাবিক গলায় বলল, “কী জানতে চান?”

“তোমাদের আসল উদ্দেশ্য কী ছিল?”

আমি বললাম, “আমাদের আসল উদ্দেশ্য ছিল না। এই খোঁজ খবর নেওয়ার ব্যাপারটা শুরু হয়েছে পারিবারিক বোঝাপড়া থেকে। আমার দাদি ছোট চাচার বিয়ের জন্য মায়ের কাছ থেকে গহনা ফেরত নিয়ে গিয়েছিলেন।”

“যা কিছু হয়েছে সব বলো। খুব গুছিয়ে বলবে। একটা পয়েন্টও মিস করবে না।”

আমি বলতে শুরু করলাম। খুব গুছিয়েই বললাম। রইস উদ্দিনের কথা, পরিত্যক্ত স্কুলের মাটির নিচে বিশাল বড় বাড়ি, মাগুর মাছের পুকুর, তানহার ডাইরি কোনকিছুই বাদ রাখলাম না। দারোগা সাহেব মনোযোগ দিয়ে গোটা ঘটনা শুনলেন। তীক্ষ্ণ গলায় বললেন, “তানহার বাবা কোন স্বীকারোক্তি দিচ্ছে না। সে আমাদের কিছুই বলতে রাজি না। যা কথা বলার উকিলের সাথে বলছে। এই ব্যাপার নিয়ে আমরা একটু দুশ্চিন্তায় আছি। কয়েকটা দিন তোমাদের খুব সাবধানে থাকতে হবে।”

“সাবধানে থাকতে হবে! কিন্তু কেন?”

“তোমরা বিশেষ করে তুমি একজন মানুষের এতদিনের সমস্ত প্লান পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়েছ। সে তোমাকে এত সহজে ছাড়বে এ কথা আশা করা যায় না।”

“আশা করছি না। কিন্তু সে তো এই মুহূর্তে জে’লের ভেতরে। সাবধানেই চলছি। বাকিটা আল্লাহ ভরসা।”

“আমরা যতটা যা ধারনা করেছি তা থেকে বলা যায় তানহার বাবার মনে হয়েছিল– তোমরা তার উপর গোয়েন্দাগিরি শুরু করেছ। হতে পারে পুলিশের চর বা শত্রুপক্ষের লোক ভেবেছে। সেজন্য প্রথমে বাদশাকে কি’ড’ন্যা’প করে, তারপর হিন্টস দিয়ে তোমাকে। কিন্তু এর মধ্যে সে আসল ঘটনা জেনে যায়। তাই তোমার চাচার সাথে তানহার বিয়ে না ভাঙার কথা বলে গোটা ব্যাপারটা এড়িয়ে যায়।”

“হতে পারে।”

“আর কিছু বলতে চাও?”

“হ্যাঁ বলতে চাই। আপনার হয়তো মনে থাকবে বাদশা যখন নিরুদ্দেশ ছিল তখন নদীর পাড়ে একটা ছেলের লা’শ পাওয়া গিয়েছিল। বাদশা হতে পারে ভেবে আমিও আপনাদের সাথে গিয়েছিলাম।”

“মনে আছে। কিন্তু তুমি কী বলতে চাইছ?”

“ওই ছেলে তানহার প্রেমিক। গতকাল তানহা আমাকে ছেলের ছবি দেখিয়ে খোঁজ খবর নিতে বলেছিল। অনেকদিন ধরে ছেলের সাথে কোন যোগাযোগ নেই। তানহাও বাড়ি থেকে বের হতে পারে না।”

“ও মাই গড! ও মাই গড! আমাকে এক্ষুনি বের হতে হবে। অজান্তেই তুমি দারুণ একটা নিউজ দিয়েছ। বহুদিন ধরে এই কে’সটা অমীমাংসিত।”

“তাহলে আমরাও উঠি?”

“হ্যাঁ, এখনকার মতো বিদায়। সময় সুযোগ করে তোমাদের ডাকব। এমন একটা নিউজ দেওয়ার জন্য বিরিয়ানি পাওয়া রইল। আসছি। সাবধানে যাবে।”

দারোগা সাহেব গাড়ি বের করতে বলে বেরিয়ে গেলেন। আমরা বসা থেকে উঠে দাঁড়ালাম। তিমু বলল, “পুলিশের এত ভালো ব্যবহার মেনে নিতে পারলাম না।”

বিরক্ত মুখে বললাম, “সবকিছুতে এত সন্দেহ করতে নেই তিমু।”

তিমু কিছু বলল না। তীক্ষ্ণ চোখে মেঝের দিকে তাকিয়ে রইল।

বাড়ি ফিরতে দেখি বাবা মা দুজনের মুখেই হাসি। বাবা বাজারের থলে হাতে মায়ের কথা শুনছেন। খুব মনোযোগ দিয়ে শুনছেন। মা কী লাগবে সে কথা বলছে। তেল, পেঁয়াজ, রসূন, আদা, কিশমিশ, কাঁচা বাদাম, গরম মশলা, পোলাওয়ের চাল। রাঙা দাদি এসেছেন। সোফায় বসে আছেন। পায়ের উপর পা তুলে পান চিবুচ্ছেন। আমাকে দেখেই ছুটে এলেন। গায়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন, “সেদিনের ছেলে এত কাজের হয়ে গেছিস! আল্লাহ আরও বড় করুক।”

লাজুক ভঙ্গিতে হাসলাম। রাঙা দাদি বললেন, “শুধু মাকে দিলে হবে? আমাকেও একটা দু’টো মিষ্টি পান কিনে খাওয়া।”

“খাওয়াব। আপনার শরীর সুস্থ আছে?”

“শরীর? তা আছে। এই বয়সে যেমন থাকে তেমনই আছে। ওষুধপত্র খেতে হয়। হ্যাঁ রে তিমু, তুই অমন দূরে দাঁড়িয়ে আছিস কেন? এদিকে আয়।”

তিমু রাঙা দাদিকে জড়িয়ে ধরল। আদুরে গলায় বলল, “তোমার চেহারা আগের চেয়ে ভালো হয়ে গেছে।”

“তাই নাকি মেয়ে? তুইও কম সুন্দরী হোসনি।”

“কী যে বলো না তুমি! আমার চেয়ে তোমার রূপ ঢের বেশি।”

কার রূপ বেশি কার রূপ কম এই তর্কবিতর্ক খুব সহজে শেষ হবে না। চলতেই থাকবে৷ আমি আর দাঁড়ালাম না। ঘরে চলে এলাম।

দুপুরে খাওয়ার সময়ে ফুফু আবারও বিয়ের প্রসঙ্গ তুলল। বাবার দিকে তাকিয়ে নরম গলায় বলল, “আমি একটা প্রস্তাব করেছিলাম৷ তোমরা হয়তো ভেবেছ মজা করছি বা এমনি বলেছি৷ কিন্তু না৷ আমি সত্যিই কথাটা বলেছি।”

মা বলল, “সাজ্জাদের বয়স অল্প। এখনই বিয়ে নিয়ে কী ভাববো?”

“ঘটা করে বিয়ের দিতে হবে সে কথা তো বলছি না। আজকালকার যুগ এত ভালো ছেলে পাওয়া যায় না। ঘরের ভেতরে পেয়েছি। হাতছাড়া করতে ইচ্ছে করছে না। আমি ওর বাবার সাথেও কথা বলেছিলাম৷ ওর বাবা শুনে খুব খুশি হয়েছে। ছুটি নিয়ে আসতেও চেয়েছে।”

মা বাবা কিছু বলবে তার আগে ছোট চাচা কথা বলে উঠল। ভীষণ তিরিক্ষি স্বরে বলল, “এসব কী কথা আপা? চাচার আগে ভাইপোর কিসের বিয়ে? তাছাড়া সাজ্জাদের বয়স কত? এইচএসসি পাশ করেনি। এর মধ্যে কিসের বিয়ে? এক সংসারে থেকে ঘোড়া ডিঙিয়ে ঘাস খাওয়া যায় না আপা।”

ফুফুও তেঁ তেঁ উঠল। তীক্ষ্ণ গলায় বলল, “আমরা কী ঢাকঢোল পিটিয়ে বিয়ে দেওয়ার কথা বলেছি? হুজুর ডেকে কাবিন করে রাখব। পরে পড়াশোনা শেষ হলে ধুমধাম করে বিয়ে হবে।”

“এত নাটকের দরকার কী? তোমার মেয়ে তো আর পালিয়ে যাচ্ছে না।”

“ঠিক করে কথা বল।”

“তুমি ঠিক করে কথা বলো আপা। ছোট ভাইয়ের বিয়েতে এসে নিজের মেয়ের বিয়ে দিতে চাইছ? বয়স কত হয়েছে তোমার মেয়ের?”

“আমার মেয়ের বিয়ে দিলে তোর কী সমস্যা? তুই তো নিজের দোষেই বিয়ে করতে পারলি না।”

“নিজের দোষ মানে? এখানে আমার দোষ কোথায়?”

“দোষ কোথায় বুঝতে পারছিস না নাকি?”

ঝগড়া আরও বাড়ত। বাবা থামিয়ে দিলেন। ছোট চাচা প্লেটের ভেতরে হাত ধুয়ে উঠে গেল। ফুফু বলল, “ওর কথা বাদ দাও। তোমরা কী ভাবলে বলো।”

বাবা মা কেউ কোন জবাব দিলো না। ফুফুও চুপ করে গেল।

রাতের ঘুমানোর সময় মা আমার ঘরে এলো। বিছানায় বসতে বসতে বলল, “তোর শরীর কেমন আছে?”

“ভালো আছে। তুমি কেমন আছো?”

“এইতো আছি। পড়াশোনা শেষ করলি?”

“পড়ছি। তবে এখন আর পড়তে ইচ্ছে করছে না। শুয়ে পড়ব।”

“আচ্ছা। পড়া শেষ হলে এদিকে আয়। আমার কাছে এসে বোস।”

বইপত্র গুছিয়ে মায়ের কাছে এসে বসলাম। মা আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল, “একটা কথা জিজ্ঞেস করব? বাবুইকে তোর কেমন লাগে?”

মা আদর করে তিমুর বড় বোনকে বাবুই ডাকে। ছোট থেকেই মায়ের মুখে এই নাম শুনে আসছি। কিন্তু মা হঠাৎ এই প্রশ্ন করছে কেন? ফুফুর প্রস্তাবে রাজি হয়ে গেল নাকি?

জবাব দিচ্ছি না দেখে মা আবারও একই প্রশ্ন করল। আমি কী বলব বুঝে উঠতে পারলাম না৷ ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইলাম। মা আমার দিকে তাকিয়ে আছে। তার দৃষ্টি কোমল এবং গভীর। গলা পরিষ্কার করে বললাম, “হঠাৎ এই প্রশ্ন কেন?”

মা হালকা হাসল। নরম গলায় বলল, “হঠাৎ না। অনেকদিন ধরেই ভাবছি। মেয়েটাকে আমার খুব পছন্দ। ছোট থেকে দেখছি। শান্ত, ভদ্র। তোদের মধ্যে বোঝাপড়াও ভালো। তাই জিজ্ঞেস করলাম। মনে হয় তোর আব্বাও ওকে পছন্দ।”

আমি কিছুক্ষণ চুপ করে রইলাম। মাকে একটা জবাব দেওয়া উচিত। কিন্তু কী? হ্যাঁ বলে দেব?

চলবে

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply