Golpo কষ্টের গল্প শেষ পাতায় সূচনা

শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৪১.১


শেষপাতায়সূচনা [৪১.১]

সাদিয়াসুলতানামনি

[গল্পের শেষের কথাগুলো পড়ার জন্য বিনীতভাবে অনুরোধ রইলো।]

টনি টিএসসির দিকে এসেছিল পূর্ণতার দেওয়া একটা কাজের জন্য। মধ্যম গতিতে বাইক চালিয়ে সে যখন ঢাকা ইউনিভার্সিটির সামনে দিয়ে আসছিলো, তখনই তার বাইকের সামনে হুট করে এক মেয়ে এসে পড়ে। টনি থতমত খেয়ে ব্রেক কষার আগেই মেয়েটি তার বাইকের সাথে ধাক্কা খেয়ে নিচে পড়ে যায়। মেয়েটি পড়ে গিয়ে আর্তনাদ করে ওঠে–

—আল্লাহহহ! কোন ঠাডা ফেলাইলা আবার?!

টনি তাড়াতাড়ি করে বাইকের থেকে নেমে মেয়েটির কাছে এগিয়ে যায়। মেয়েটির চুলগুলো সামনে মুখের উপর এসে পড়ায় তার ফেস দেখতে পারছে না টনি। টনি আমতাআমতা করে কিছু বলতে নিবে তখনই ভার্সিটি থেকে একদল ছাত্র-ছাত্রী বেরিয়ে আসে আর তার টি-শার্টের কলার চেপে ধরে। দু’জন মেয়ে গিয়ে আহত মেয়েটির পাশে বসে পড়ে। আর কয়েকটা ছেলে টনিকে ধরে। একজন ছেলে টনির কলার চেপে ধরে রাগান্বিত গলায় বলে–

—ঐ শালা, চোখ কই রেখে বাইক চালাস বে? বউয়ের আঁচলের তলায় রেখে এসেছিস চোখ? মানুষের শরীরের উপর বাইক উঠিয়ে দিস।

ছেলেটা টনির থেকে কয়েক বছরের ছোট হবে, কিন্তু তাও
সে তার কলার ধরে এমন বাজে ব্যবহার করছে। দোষটা যেহেতু টনির তাই সে কড়া গলায় কিছু বলতেও পারছে না। টনি শান্ত সুরে বলে–

—আ’ম এক্সট্রিমলি সরি ফর মাই মিস্টেক। আপনারা উনাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে চলুন, সব খরচাপাতি আমি দিচ্ছি।

পাশ দিয়ে আরেকটা ছেলে টনিকে বলে–

—ঐ শালা টাকার গরম দেখাস কারে? হ্যাঁ, কারে দেখাস? তোর কি মনে হয় আমরা আমাদের ফ্রেন্ডকে তোর টাকার আশায় চিকিৎসা না করিয়ে বসে থাকবো। এক্সিডেন্ট করছিস, আবার টাকার গরম দেখাস। এই সবাই শালারে ধর! আজ এমন টাইট দিমু চোখের নাট বল্টু সব ঠিক করে দিবো।

অন্যান্য ছেলেরাও হইহই করে ওঠেআর টনিকে মা–রতে উদ্যোত হয়। কিন্তু তারা টনিকে আঘা-ত করার আগেই আহত হওয়া মেয়েটি নিচ থেকে উঠে দাঁড়ায়, তারপর চিৎকার দিয়ে বলে–

—উনার গায়ে কেউ হাত দিয়ে দেখ, সবগুলোকে আমি নিজ দায়িত্বে ভাড়া করা গুন্ডা দিয়ে পিটাবো।

মেয়েটির কথা শুনে সবাই পেছনে ফিরে তাকায়। মেয়েটির কণ্ঠস্বর টনির কাছে পরিচিত ঠেকায় সেও তাকায়, আর তাকিয়ে একদম থমকে যায়। কেনো থমকে যায়? কারণ মেয়েটি আর কেউ নয়, সে হলো জিনিয়া।

জিনিয়া একটু খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হেঁটে এসে উপস্থিত হয় টনির সামনে। তারপর ঝাঁঝ দেখিয়ে টনির কলার চেপে ধরে থাকা ছেলেটার হাত ঝাড়ি মেরে সরিয়ে দেয়। বাকিদেরও ধমক দিয়ে বলে–

—হাত সরান উনার কলার থেকে।

জিনিয়ার ধমক খেয়ে ছেলেগুলো টনিকে ছেড়ে দেয়। এবার জিনিয়া টনির দিকে তাকায়। টনিও তার দিকে তাকিয়ে থাকায় তাদের চোখাচোখি হয়ে যায়। জিনিয়া বাকিদের মতো টনিকেও ঝাড়ি দিয়ে বলে–

—দেখতে পারছো না আমার হাত দিয়ে রক্ত পড়ছে, কই নিজের রুমাল বের করে হাতটা পেঁচিয়ে দিবে। তা না করে আহাম্মকের মতো দাঁড়িয়ে আছো। বুঝলাম আমাদের মান-অভিমান চলছে, তাই বলে এমন নিষ্ঠুর আচরণ করবে?

লাস্টের কথাগুলো একটু ইমোশনাল হয়েই বলে জিনিয়া। অন্যদিকে তার এসব কথা টনির মাথার দশ হাত উপর দিয়ে যায়। তাদের ঘিরে থাকা স্টুডেন্ট গুলোও অবাক হয়ে একে অপরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করতে থাকে। কিছুক্ষণ আগে টনির কলার প্রথমে যেই ছেলেটি চেপে ধরেছিল, সেই প্রথমে জিজ্ঞেস করে–

—জিনিয়া কি বলছো এসব? তোমাদের মাঝে মান-অভিমান চলছে মানে? উনি কে হয়?

জিনিয়া হালকা করে নাক টেনে ন্যাকি গলায় বলে–

—সিফাত ভাইয়া, উনি হচ্ছেন আপনাদের ভাইয়া আর আমার “উনি”। কাল রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে গুড নাইট পাপ্পি দেই নি বলে রাগ করে আছে। কিন্তু উনি আবার আমার গলার আওয়াজ না শুনে থাকতে পারে না একদমই। তাই দেখলে না লুকিয়ে চুরিয়ে দেখতে চলে এসেছে আমাকে।

জিনিয়ার কথা শুনে সিফাত সহ সকলে অবাক হয়ে যায়। টনির চোয়াল তো একহাত পরিমাণ ঝুলে যায়। কি বলছে এই তাড়ছিড়া মেয়েটা? সে আবার কখনো ওর উনি টুনি হলো? আর কি বললো? গুড নাইট পাপ্পি? আসতাগফিরুল্লাহ তিনশ তেত্রিশ বার। কথাটা পুনরায় মনে পড়তেই টনির মাথা ঘুরে উঠে আর তার কদম নড়বড়ে হয়ে পড়ে যেতে নেয়। কিন্তু টনি পড়ে যাওয়ার আগেই জিনিয়া খপ করে তার টি-শার্টের একপাশ খামচে ধরে ফেলে।

হা-হুতাশ করতে করতে জিনিয়া বলে–

—অ্যাঁই, কি হলো তোমার? পড়ে যেতে নিচ্ছিলে কেন? দেখো আমার কিছু হয়নি। তুমি এত প্যানিক করো না তো। একটু শান্ত হও। এই তো আমি তোমার কাছে আছি তো।

কথাটা বলতে বলতে জিনিয়া গিয়ে তার বুকের বাম পাশে মাথা রাখে। তারপর সিফাতদের দিকে তাকিয়ে বলে–

—দেখলেন কি পাগল উনি! আমি একটু ব্যথা পেয়েছি বলে নিজেই কেমন অসুস্থ হয়ে পড়েছে। আপনাদের বলেছিলাম না আমার একজন পারসোনাল উনি আছে। এই হচ্ছে আমার সেই উনি।

সিফাত ভাইয়া আপনি তো বিশ্বাস করতেন না, শুধু বলতেন, আপনার সাথে রিলেশনে না যাওয়ার জন্য মিথ্যাে বলছি।আজ দেখেন প্রমাণ দিয়েই দিলাম।

টনি এবার কিছুটা বুঝতে পারে জিনিয়ার এমন অদ্ভুত কথা বলার কারণ সম্পর্কে। সিফাত নামের ছেলেটা হয়ত জিনিয়াকে রিলেশনে যাওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিল, আর জিনিয়া সেই চাপ থেকে বাঁচতে তাকে বলির পাঠা বানালো। বিষয়টা অনুধাবন করতেই টনির মেজাজ চিড়চিড়িয়ে গরম হতে থাকে। সে নিজের বাহু থেকে জিনিয়াকে সরিয়ে দিতে চায়, কিন্তু জিনিয়া তার বুকের থেকে মাথা তুলে চোখ গরম করে মেকি হাসি দিয়ে বলে–

—তুমি লজ্জা পাচ্ছো কেনো জান? ওরা আমার ফ্রেন্ড। ওহ্হ, বুঝতে পারছি তুমি ওদের সামনে আনইজি ফিল করছো। তাহলে চলো চলে যাই, আমার হাতের ড্রেসিংও করাতে হবে।

কথা শেষ করে জিনিয়া নিজেই টনির হাত ধরে টানতে টানতে বাইকের কাছে নিয়ে আসে। তারপর নিজে বাইকের পেছনে বসে টনিকে ধমক দিয়ে বলে–

—উঠছো না কেন তুমি বাইকে? আমার হাতের ব্যথা বাড়ছে তো।

টনি রেগে কিছু বলতে চাইলে জিনিয়া তার ঠোঁটের মাঝে নিজের তর্জনি আঙুল রেখে চুপ করিয়ে দেয়। জিনিয়ার এহেন কাজে টনি আরো একবার থমকে যায়। আজ মেয়েটা এই এইটুকু সময়ে তাকে কতবার চমকালো। জিনিয়া দাঁতে দাঁত চেপে চাপা গলায় বলে–

—আপনার জন্য কিন্তু আমি মারাত্মক ব্যথা পেয়েছি। চুপচাপ বাইকে উঠে বাইক স্টার্ট দেন। নাহলে ভাবীপু বলে আপনার চাকরি খেয়ে দিবো কিন্তু বলে দিলাম।

টনি মোটেও ভয় পায় না জিনিয়ার হুমকিতে, কিন্তু নিজের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত সে। তাই আর কোন দ্বিরুক্তি না করেই বাইকে বসে স্টার্ট দিয়ে চলে যায়। সিফাত ও জিনিয়ার অন্যান্য ফ্রেন্ডরা হা করে তাকিয়ে থেকে তাদের প্রস্থান দেখতে থাকে।

টনির বাইক তাদের দৃষ্টি সীমার বাহিরে চলে যেতেই সিফাত রেগে রাস্তাতেই নিজের পা দ্বারা আঘা-ত করে। রাগে গজরাতে গজরাতে বলে–

—এটা হতে পারে না। আমার মুরগি এত সহজে হাত ছাড়া হয়ে যেতে পারে না।

পাশ দিয়ে পলাশ নামক এক ছেলে বলে ওঠে–

—হাতছাড়া হবে কি অলরেডি হয়ে গিয়েছে। দেখলি না কেমনে চিপকাচিপকি করে চলে গেলো ঐ হ্যান্ডুর সাথে।

নাতাশা নামের আরেক মেয়ে ন্যাকামি করে বলে–

—যাই বলিস না কেন ভাই, ছেলেটার উপর মারাত্মক ক্রাশ খেয়েছি আমি। আমি তো এতদিন ভাবতাম এই পড়ুয়া চাশমিশ মেয়েটাকে কে নিজের গফ বানাবে। কিন্তু আমি আজ সারপ্রাইজড। কি হ্যান্ডসাম রে ছেলেটা!

কথাটা বলতে বলতে আরেক বান্ধবীর গায়ে ঢলে পড়ে নাতাশা। সিফাত ওদের সকলের কথা শুনে আরো রেগে যায়। সে রাগে গজগজ করতে করতে নিজের বাইক নিয়ে চলে যায় বাসায়।


টনি জিনিয়ার হাতের ড্রেসিং করিয়ে তাকে একেবারে পূর্ণতার অফিসেই নিয়ে আসে। পূর্ণতার সাথে দেখা করার আবদারটা অবশ্য জিনিয়ারই ছিলো। পথে ফিরতে ফিরতে টনি জানতে পারে, সিফাত হচ্ছে জিনিয়ার ভার্সিটির সিনিয়র ভাই। সে গত ছয়মাস ধরে জিনিয়াকে রিলেশনে যেতে চাপ দিচ্ছে। জিনিয়া বহুবার বুঝিয়েছে সে এসব পছন্দ করে না, কিন্তু সিফাত এক নাম্বারের ছ্যাচড়া। এরপর ভদ্রভাবে, অভদ্রভাবে সব ভাবেই বুঝিয়েছে, কিন্তু সিফাত বুঝার মতো মানুষ না। এজন্য কিছুদিন আগে সে সিফাতের প্যারা থেকে মুক্তি পেতে মিথ্যাও বলেছে যে, সে অলরেডি রিলেশনে আছে। সিফাত এত সেয়ানা যে, জিনিয়াকে প্রমাণ দিতে বলে তার কথার। আজ যখন এক্সিডেন্টের পর টনিকে দেখতে পেলো জিনিয়া তখন হুট করেই মাথায় এই ভাঁওতাবাজির আইডিয়াটা এসে পড়েছে।

জিনিয়া এমনিতে শান্তশিষ্ট মেয়ে হলেও, টনির সামনেই কেন জানি সে নিজের সব চঞ্চলতা, বাচ্চামি, উগ্রতা মেলে দেয়। এই যেমন এখন, তারা দু’জন হেঁটে অফিসের ভেতরে ঢুকছিল। জিনিয়া আজাইরা কথা বলছে, কি বলছে সে নিজেও বোধহয় জানে না। নিজের খেয়াল মতো কথা বলতে বলতে হাঁটছিল তখনই তার বিপরীত দিক থেকে আসা এক আগন্তুকের সাথে ধাক্কা লেগে তার। আগন্তুকটির এতগুলো ফাইল ছিলো যে, তার মুখটা পর্যন্ত ঢেকে গিয়েছে যার কারণে সে জিনিয়াকে দেখতে পারেনি আর তাদের টক্কর লেগে যায়। টনি তখন ফোনে একটা মেইল চেক করছিলো বলে সেও খেয়াল করেনি।

ধাক্কা খেয়ে জিনিয়া নিচে পড়ে না ঠিকই কিন্তু দেওয়ালের সাথে বারি খায় তার আহত হাত খানা। বাম হাতে একটু বেশিই চোট পেয়েছিল বেচারী, সেই হাতেই আবার ব্যথা পেলো। মূহুর্তেই শুভ্র ব্যান্ডেজে আবৃত হাতটা লাল রঙের হয়ে যায়। জিনিয়া ব্যথায় “আহ্হহ” করে উঠলে টনি ফোন থেকে চোখ উঠিয়ে ঘটনা দেখে হতভম্ব হয়ে যায়। দু’টো মিনিটের জন্য চোখ সরিয়েছিলো সে আর এর মধ্যে এই মেয়েটা আবারও ব্যথা পেয়ে সারলো।

টনি জিনিয়ার কাছে এসে তার ব্যান্ডেজে মোড়া হাত খানা স্পর্শ করে দেখতে থাকে। জিনিয়ার চোখ দিয়ে ইতিমধ্যে অশ্রুরা ঝরতে শুরু করে দিয়েছে। টনি তার হাত ধরে থেকেই জিনিয়াকে উদ্দেশ্য করে বলে–

—ইউ আর জাস্ট আনপ্রেডিক্টেবল। তোমার ভবিষ্যৎ স্বামীর কপালে বহুত খাটুনি আছে।

জিনিয়া জবাবে কিছুই বলে না। ব্যথায় বেচারীর ডুকরে কান্না পাচ্ছে। জিনিয়ার সামনে ধাক্কা লাগা ব্যক্তিটি বারবার সরি চাওয়ায় জিনিয়া তাকে মাফ করে নিজের কাজে চলে যেতে বলে। টনি আরো একবার নিকটস্থ ফার্মেসী থেকে জিনিয়ার হাতটা ড্রেসিং করিয়ে আনে। তারপর ফার্মেসীর দোকান থেকে বের হয়ে পূর্ণতার কেবিন পর্যন্ত পুরোটা সময় নিজেই তার হাতটা ধরে রাখে। এই মেয়ে এক নাম্বারের তুফান তার কাছে। দেখা যাবে একবার নিজে ব্যথায় পেয়েছে, পরবর্তীবারে তাকে ব্যথা দিবে। না বাবা রিস্ক নেওয়ার দরকার নেই।

পূর্ণতার কেবিনের সামনে এসে টনি হাত ছেড়ে দেয়, তারপর তারা আলাদা আলাদা প্রবেশ করে পূর্ণতার কেবিনে। টনি তার কাজের আপডেট দিয়ে নিজের কেবিনে চলে আসে। জিনিয়া পূর্ণতাকে টনির দ্বারা সংঘটিত এক্সিডেন্টের কথা জানায় না। বিকেলের দিকে জিনিয়া ও তাজওয়াদের অনেক পীড়াপীড়িতে পূর্ণতা পার্কে যেতে রাজি হয়। তারা যখন পার্কের জন্য বের হবে অফিস থেকে তখনই সেখানে নওশাদ এসে উপস্থিত হয়। পূর্ণতা জিনিয়ার সাথে নওশাদকে প্রাথমিকভাবে নিজের বেস্টফ্রেন্ড হিসেবেই পরিচয় করিয়ে দেয়।

বেস্টফ্রেন্ড বলার কারণ বিগত পাঁচ বছরে, পূর্ণতা সকল সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, ভালো সময়, খারাপ সময়ের একমাত্র সাথী ছিলো এই ছেলেটি। তাজওয়াদকে জন্ম দিতে গিয়ে পূর্ণতার জীবন নিয়ে যখন টানাটানি লেগে যায়, তখন নওশাদ খুবই দক্ষ হাতে সুন্দর ভাবে পরিস্থিতি সামাল দেয়। তারপর তাজওয়াদের জন্মের পর তো নওশাদ প্রায় অনেকগুলো মাস পূর্ণতার ছায়া সঙ্গী হয়ে ছিলো। নওশাদের বাচ্চা অনেক পছন্দ হওয়ায়, সে পূর্ণতার কাছে রিকুয়েস্ট করে তাজওয়াদকে তাকে ‘বাবাই” ডাকতে শিখিয়েছে।

তারা সকলে পার্কের উদ্দেশ্য রওনা হয়। টনি সবসময়ের মতোই ড্রাইভারের ভূমিকা পালন করে। পূর্ণতা যদিও তাকে বাসায় চলে যেতে বলেছিল, কিন্তু টনি যায়নি। বিকেল টাইম হওয়ায় পার্কে আরো অনেক বাচ্চা ছিলো। তাজওয়াদ প্রথমে তাদের সাথে মিশতে একটু সংকোচ বোধ করছিলো বলে জিনিয়াই তাকে ধরে নিয়ে যায় অন্য বাচ্চাদের সাথে খেলতে। কিছুক্ষণের মাঝেই তাজওয়াদ তাদের সাথে মিশে যায়। জিনিয়াও তাজওয়াদ ও বাচ্চাদের সাথে হৈ-হুল্লোড় করে খেলতে থাকে। টনি গাড়ির কাছেই থাকে আর পূর্ণ ও নওশাদ একপাশে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলতে থাকে।

বিকাল হয়ে যাওয়ার পরও জিনিয়া বাসায় না যাওয়ায় তার বাবা বিষয়টা জাওয়াদকে অবগত করেন। যদিও ভদ্রলোক আগে নিজেই মেয়েকে ফোন দিয়েছিল, কিন্তু জিনিয়া ফোনের কাছে না থাকায় ফোনটা ধরতে পারেনি। জাওয়াদ বিষয়টা জানার পর আন্দাজ করে টনিকে ফোন দেয়। ভাবে হয়ত পূর্ণতার কাছে এসেছে। টনি ফোন রিসিভ করার পর জাওয়াদ জিজ্ঞেস করে–

—জিনিয়া কি পূর্ণর কাছে গিয়েছে টনি?

—হ্যাঁ, স্যার।

—ওহ্হ। কি করছে ওরা? সম্ভব হলে ভিডিও কল দিতে পারবে?

—স্যার আমরা সবাই তাজওয়াদের আবদারে পার্কে এসেছি। তাজওয়াদ আর জিনিয়া খেলছে। ম্যাম আর নওশাদ ভাই একপাশে দাঁড়িয়ে কথা বলছে।

নওশাদকে পূর্ণতার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলতে শুনে জাওয়াদের চান্দি গরম হয়ে যায়। সে রাগে ফোঁস ফোঁস করতে করতে জিজ্ঞেস করে–

—কি বললে? পূর্ণর সাথে আর কে আছে?

—নওশাদ ভাই।

টনি সরল মনেই প্রশ্নের উত্তরটা দেয়। সে তো জানে না তার এই কথা শুনে ফোনের অপর পাশের ব্যক্তিটির মনে কি চলছে। জাওয়াদ টনির কাছ থেকে পার্কের এড্রেস নিয়ে গাড়ি ছুটিয়ে চলে আসে সেখানে। পার্কে এসে দেখে নওশাদ আর পূর্ণতা হাসতে হাসতে কথা বলছে। সবচেয়ে বেশি অবাক তখন হয় জাওয়াদ, যখন দেখতে পায় পূর্ণতা মন খুলে হাসছে। অন্য সময় হলে এমন একটা দৃশ্য দেখে জাওয়াদ চাইতে কেউ বোধহয় বেশি খুশি হতো না। কিন্তু পূর্ণতার এই হাস্যোজ্জ্বল মুখের কারণ অন্য এক পুরুষ বিষয়টা মাথায় আসতেই নিজেকে তার ব্যর্থ মনে হয়। সেই সাথে মাথায় আগুন জ্ব-লে যায়।

হুট করে এক ঝড় বাতাস বয়ে যায় প্রকৃতিতে। তুমুল বাতাসের কারণে পূর্ণতার চোখে বালিকণা ঢোকার কারণে সে অস্বস্তি বোধ করতে থাকে। পূর্ণতাকে হেল্প করার জন্য নওশাদ এগিয়ে এসে তার গাল স্পর্শ করে চোখে ফু দিতে নিবে, তখনই জাওয়াদ লম্বা লম্বা কদম ফেলে পূর্ণতার পেছনে এসে পেছন থেকে হাত বাড়িয়ে তার পেট পেচিয়ে ধরে নিজের বক্ষের সাথে লাগিয়ে নেয়। তারপর নওশাদের দিকে তাকিয়ে ভারিক্কি গলায় হিসহিসিয়ে বলে–

—স্টে আওয়ে ফ্রম মাই লেডি।

জাওয়াদের কথা বলার ভঙ্গিমা ছিলো মারমুখী। নওশাদের অপমানিত বোধ হওয়ার কথা ছিলো, কিন্তু এসবের কিছুই হয় না। উপরন্তু নওশাদ হেঁসে নিজের চশমা ঠিক করতে করতে বলে–

—কেয়ারফুল, ব্রো। শিজ নট আ থিং টু ওন।

জাওয়াদের রাগের পারদ সীমানা ছাড়িয়ে যায়। সে তার অপর হাত দিয়ে রেগে নওশাদের সফেদ রঙের শার্ট খামচে ধরে হুংকার দিয়ে বলে–

—পূর্ণতা অনলি বিলংস টু মি। শি’জ মাই ওয়াইফ, মাই রেসপনসিবিলিটি মাই সোলমেট। ডোন্ট ইউ এভার ক্রস দ্যাট লাইন। ইফ ইউ ডেয়ার টু টাচ হার অর ফ্লার্ট উইথ হার, আই’ল মেক শিউর ইউ রিগ্রেট ইট।

[গল্পটি ভালো লাগলে বেশি বেশি শেয়ার করে আপনার গল্প প্রেমী বন্ধুদের নিকট পৌঁছে দিন। ]

শব্দসংখ্যা~২০০০

চলবে?

[আগেই বলেছি রোজা রমজানের মাসটায় আমাকে একটু ছাড় দিতে হবে। বছরের এগারোটা মাস তো লিখিই আপনাদের জন্য, এই একটা মাস একটু ছাড় পেতেই পারি। তাই নয় কি?

আর যারা গল্প পড়েও রিয়াক্ট অথবা পেইজে ফলো দেন না তাদেরকে আর কি বলবো🙂 অনেক ভ্লা মানুষ আবার গল্প পড়া শেষে আনফলো করে দেন। আপনাদেরকে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন হেদায়েত দান করুন। অন্যের কষ্টের মূল্যায়ন না করতে পারলে বড় বড় কথা বলা সাজে না।😄 কথাগুলো অনেকটা কষ্ট নিয়েই বললাম। কারো খারাপ লাগলে আন্তরিক ভাবে দুঃখীত।

সকলে একটা করে হলেও কমেন্ট করিয়েন। আমি আপনাদের কমেন্ট পড়ার জন্য বসে থাকি।🥹

ভুলক্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। গঠনমূলক মন্তব্য করবেন। হ্যাপি রিডিং মাই লাভিং রিডার্স ]

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply