#আসবো_ফিরে_আবারো
#পর্ব_৩৪ [ প্রথমাংশ ]
#সুরভী_আক্তার
রৌদ্র ভাবুক হয় । আকস্মিক মেঘার এহেন জোরালো তোরজোর বুঝলো না । আবার কিছুটা বুঝলোও হয়তো । শুধালো….
” হোয়াট আর ইউ সেয়িং ? আমার জন্য তোর পরীক্ষা খারাপ হবে কেনো ?
মেঘার থেকে উত্তর আসার আগেই হঠাৎ মনে ভাসলো একবিংশীর বলা শেষের লাইনটা । ওর মাথায় গেঁড়ে বসেছে মানে ? রৌদ্র গেঁড়ে বসেছে মেঘার মাথায় ?
মেঘা তাহলে ভাবছে ওর কথা ? মস্তিষ্ক জুড়ে রৌদ্রের বিচরন চলছে তবে ? মাথা দোলায় রৌদ্র । সে এখন এগোরো তলা ভবনের আট তলার একটা কেবিনে সটান দাঁড়িয়ে । পিকচার উইন্ডোর কাঁচ ভেদে তাকিয়ে ছিলো জুরিখ শহরের বিশাল বিশাল প্যাস্টেল শেডের অন্যান্য বিল্ডিং গুলোর দিকে । আকাশে মেঘের ভেলা ভাসছে । বিকেলের মধ্যভাগ সেখানে ।
রৌদ্র চোখ মেঝেতে নামালো । চকচকে স্বচ্ছ মার্বেলের মেঝেতে তার প্রতিকৃতি দৃশ্যমান । পড়নে শুটবুট টানটান । গলায় টাই বাঁধা । এটা তার ভিন্ন রুপ । বাড়ির যে কেউ ওকে এভাবে দেখলে হয়তো চিনবে না । টাস্কি খাবে সেখানেই । তাদের বেপরোয়া ছেলে এতোটা গোছালো , পরিপাটি, অভিজাত পোশাক পড়েছে নাকি কখনো ? তার তো পোশাকের ভিন্ন রুচি । এভাবে তাকে দেখা কোনো দুঃস্বপ্নের থেকে কম নয় । বাড়ির কেউ কল্পনাও করতে পারবে না কখনো ।
মেঘার কথার অর্থ খুঁজতে গিয়ে বিচলিত হয়ে পড়লো তার বেপরোয়া হৃদয় । পকেট থেকে হাত বের করে দু কদম পাশে সরে দাঁড়ালো । ছটফট করে বললো….
” হেয়য়য় সানি ,,, মাথায় গেড়ে বসে আছি মানে ? আমার কথা ভাবছিলি তুই ? বল একবার ? ভাবছিলি আমার কথা ? মিস করছিস আমায় ?
মেঘার ঘোর কাটে । সম্বিত ফিরে পায় রমনী । রাগ,জেদ, ছটফটানি , সব কিছুই একাধারে তড়পাচ্ছিলো তাকে । কোন ঘোরের বশে ফোন দিয়ে এতো গুলো কথা বললো , ভেবে পায় না মেঘা ।
রৌদ্রের উদ্বেগাকুল আগ্রহী কন্ঠে নড়েচড়ে ওঠে । কান থেকে নামায় ফোন । চোখ বুজে নেয় । শ্বাস টেনে নেয় বুক ভরে । সে কি সত্যিই মিস করছে ঐ বেপরোয়া লোকটাকে ? উত্তর করে দেয় জেদি মন , মোটেও না ! ও কেনো মিস করবে ? অনুভব মানুষ তাকেই করে , যে অনুভবে , অনুভুতিতে বিরাজ করে । রৌদ্রের ঠাঁই কেবলই মেঘার ঘৃণায় । অন্যথায় নয় ।
গলা টাটায় মেঘা….
” মিস করবো ? আপনাকে ? কে আপনি , যে আমি আপনাকে মিস করবো ? সকাল থেকে মাথা গরম করে রেখেছেন আমার । নির্লজ্জ বেহায়া লোক , বাড়ির সবার সামনে অপ্রস্তুত অবস্থায় ফেলেছেন আমায় । কারোর সামনে দাঁড়ানোর মুখ রাখেন নি । সকালে কি সব বলেছেন খেয়াল আছে ? লজ্জা নেই ?
আর আমি আপনাকে মিস করবো ? কাভি নেহি ! আই জাস্ট হেইট ইউ, রাইনো মুখো । এসব করে কেবলই আপনার প্রতি ঘৃণার মাত্রা বাড়িয়ে তুলছেন আপনি !
রৌদ্র হাসে । হাসি চেপে শুধায় গাঢ় দীর্ঘ শ্বাসে….
” ঘৃণা করিস আমায় ? কতটুকু করিস ? যতটুকু ঘৃণা করিস , তার চেয়েও বেশি ভালোবাসবি আমায় ! বাসিস কি না জানি না । বাট আই স্যয়ার সুইটহার্ট , ভালোবাসবিই তুই আমায় । আমি বাসাবো ভালো । শেখাবো ভালোবাসা ! ভালোবাসার ক্লাস নেবো তোর । যে ক্লাসে প্রফেসর আমি নিজেই । আর আমার একমাত্র স্টুডেন্ট হবি তুই । হটি নটি সুইটহার্ট ,, ভালোবাসবি তুই আমায় ?
মেঘা ক্ষুব্ধ হলো । কথা কোথা থেকে কোথায় গড়িয়ে নিয়ে গেলো এই লোক । রাগ দেখালো সে….
” ইউ রাইনো ,, বাজে কথা বলবেন না ।
” বাজে কথা শোনার জন্য ফোন দিয়েছিস কেনো ইডিয়ট ?
” দেবো না আপনাকে আর ফোন ! আপনার মতো নির্লজ্জের সাথে কথা বলার বিন্দুমাত্র ইন্টারেস্ট নেই আমার । ফোন রাখুন ।
” বাট তোর মতো ইডিয়টের সাথে কথা বলার এক বুক ইচ্ছে আমার । ফোন করবো বারবার , কলটা যেন রিসিভ হয় ।
মেঘা শুনেই কটমট করে ফোন কেটে দিয়েছে ।
এপাশে হাত মুঠো করে নরম চোয়াল শক্ত করে বিড়বিড় করলো রমনী…
” রাইনো মুখো ।
অন্যপাশে কান হতে ফোন নামায় রৌদ্র । বুক ফুলিয়ে শ্বাস টানে । মৃদু হাসে গাল ভরে । ফোনের স্ক্রিনের দিকে শান্ত চোখে তাকায় । হুট করে ঠোঁট ছোঁয়ায় ওয়াল পেপারে । অতঃপর বৃদ্ধা আঙ্গুলে স্ক্রিনে আলগোছে স্লাইড করে বলে….
” ইডিয়ট , আর কতো তড়পাবি আমায় ? আর কত বাঁচবো এভাবে ! পাঁচ বছর কি কম ছিলো না এভাবে বাঁচা ? তোকে ছাড়া , তোখে হীনা , আর কতো ?
বুক চিরে শ্বাস পড়ে । আকস্মিক বিষন্নতায় বুজে আসে চোখ । পেছন থেকে একখানা ঠান্ডা পুরুষালি কন্ঠে নীরবতা ভাঙে পুরো নিস্তব্ধ কেবিনের ।
দরজা ঠেলে কেউ অনুমতি চায় বিনয়ের সুরে…..
” স্যার , মে আই কাম ইন ?
রৌদ্র কপাল গুটিয়ে কিছুটা বিরক্তি নিয়ে সহসা তাকালো । শুটবুট পড়নে তড়তাজা এক যুবক । চেহারায় বেশ বিদেশি আভিজাত্য । দেশি ছেলে । গত পনেরো বছর ধরে এই বিদেশের মাটিতে পড়ে আছে । ফুল ফ্যামিলি এখানেই ।চেহারাতেও রপ্ত হয়েছে বিদেশি ভাবটা ।
রৌদ্রের পার্সোনাল এসিস্ট্যান্ট । নাম #মাহির_রাইয়ান । বেশ সুন্দর একটা ছেলে । বয়সে রোদ্রের ছোটই হবে । সেই পাঁচ বছর ধরে রৌদ্রের সাথে ছায়ার মতো মিশে আছে সে ।
ওকে দেখে রৌদ্র ঘুরে এসে সটান ভঙ্গিতে নিজের চেয়ারে বসতে বসতে বলল…
” পারমিশন নিচ্ছো কেনো ?
মাহির ভেতরে আসে দরজা ঠেলে । রৌদ্রের পাশে দাঁড়িয়ে একটা ফাইল এগিয়ে দেয় ।
” ফোনে কথা বলছিলেন তো , তাই ভাবলাম ডিস্টার্ব না করাই ভালো ।
” কথা শেষ !
ফাইল টা খুলে চোখ বোলায় রৌদ্র । মনযোগ বসলো না । বন্ধ করে ইজি চেয়ারে মাথা এলিয়ে দিলো ।
ছেলেটা কিছুটা ইতস্তত । জড়তা কাটিয়ে ডাকলো কিয়ৎ কাল বাদ….
” স্যার ?
রৌদ্র হাত উচায় । কপালের পাশে আঙ্গুল ঠেকিয়ে ধীরুজ উত্তর করে….
” হুঁ !
” ফোনের ওপাশে ম্যাম ছিলেন ?
আকস্মিক প্রশ্ন । তৎক্ষণাৎ রৌদ্রের প্রতিক্রিয়া দেখা গেলো না । মুচকি হাসি চোখে পড়লো এক মুহুর্ত পর । একই ভঙ্গিমায় এক ফালি হেসে একটু খানি উত্তর করে রৌদ্র….
” হুঁ !
মাহির যেন ছটফট করে উঠলো । প্রকাশ পেলো চেহারায় । আগ্রহ দমিয়ে রাখতে না পেরে ফটাফট পরবর্তী প্রশ্ন করলো…..
” দীর্ঘ পাঁচ বছর পর তাকে দেখে অনুভুতি কেমন ছিলো আপনার ? জানতে বড্ড আগ্রহী আমার মন ? দেশে ফিরলেন , দেখলেন তাকে , কেমন লাগলো ?
রৌদ্র সোজা হয়ে বসে । অনুভুতি ? কেমন ছিলো তার বেপরোয়া হৃদয়ের অবাধ্য অনুভুতি ? এই ছেলে তো জানতে চাইছে । রৌদ্র বর্ননা করবে কি করে ? অঢেল অনুভূতি কি একটা,দুটো শব্দ – বাক্য দিয়ে বর্ননা করা যায় নাকি ? কিছুক্ষণ চুপ থেকে অনুভুতি গুলো মেপে নিলো সে ।
মাহির বড্ড উৎকন্ঠিত । তড় সইছে না উত্তর না পাওয়া অবধি । রৌদ্র কেবলই দীর্ঘ হাঁফ ছাড়ে ।
” তাকে দেখার অনুভুতি ? আই ডোন্ট নো , কেমন ছিলো সেই অনুভূতি !
একটু থামলো । পিছিয়ে বসে বেখেয়ালে বলতে আড়ম্ভ করলো….
” তবুও যদি বলি , তাহলে বলতে হয় হৃদয় থমকে যাওয়ার মতো অনুভুতি । আমার সমস্ত অবাধ্যতা গুলো দ্বিতীয় বার কাঁচের ন্যায় টুকরো টুকরো করে গুঁড়িয়ে ভেঙ্গে দেওয়ার মতো অনুভুতি । আমার এই বেপরোয়া সত্ত্বার খেই হারানোর মতো অনুভুতি । উত্তপ্ত অনলে ধিক্ ধিক্ করে পুড়ে ছাই হওয়ার মতো অনুভুতি । আমার ষোড়শী কন্যার একবিংশী রুপ দেখে অমৃত সুধা হাতে পাওয়ার মতো অনুভুতি । আই এম আনাবেল টু এক্সপ্লেইন দিস ফিলিং , মাহিরর….
বলতে গিয়ে রৌদ্রের গলা কাঁপে । কেমন ব্যাকুল দেখায় তাকে । ছেলেটা প্রশান্ত হাসলো বুক ফুলিয়ে । তৃপ্ত হয়ে বললো….
” তাহলে সব ঠিকঠাক ?
” উঁহু , সব উল্টো ।
” কেনো ? আর আপনি একা ফিরলেন যে ? ম্যাম কে নিয়ে আসার কথা ছিলো তো ।
” পাঁচ বছর আগে ওকে ফেলে আসা উচিত হয়নি আমার । আমি ভুল করেছি মাহির ! দীর্ঘ পাঁচটা বছর সুখ বিসর্জন দিয়েছি । অবাধ্যতা ভুলতে এসে ওর সামনে আরো বেশি অবাধ্য হিসেবে পরিচিত হয়েছি । ইভারা নামক এক অমৃত সুখ থেকে দূরে রেখেছি নিজেকে । সময় দিতে গিয়ে অসময় ডেকে এনেছি । এতোটা লেইট করা উচিত হয় নি আমার ।
” তা ঠিক , আমি বলেছিলাম আপনাকে ! এবার বলুন , আপনি সামনে যাওয়ার পর ম্যামের অনুভুতি কি বুঝলেন ?
” সে বড্ড জেদি ! অনুভূতি প্রকাশ করে না , ইডিয়ট ।
” মেয়েরা অনুভুতি প্রকাশ করতে বরাবর নাজুক । তাদের অনুভুতি গুলো বুঝে নিতে হয় স্যার ।
রৌদ্র হাসে । পূর্ণ চোখে তাকায় ছেলেটার দিকে ।
” তুমিও বেশ ভালোই বোঝো দেখছি !
বাই দ্যা ওয়ে , যেটার জন্য হঠাৎ এখানে আসা ! কিকঅফ মিটিং ডেকে অ্যানাউন্স করে দাও , প্রজেক্টের কনফারেন্স কাল হবে । কর্পোরেট ডিলের ডেট এগিয়ে এসেছে । কালকেই ফাইনাল । যে করেই হোক এই প্রজেক্ট আমাদের হাতে আসা চাই ।
” কিন্তু স্যার , কনফারেন্স তো আরো তিনদিন পর হওয়ার কথা ছিলো !
” আমি তিন দিন আগে এসেছি , সেক্ষেত্রে কনফারেন্স ও তিন দিন আগে এগিয়ে এসেছে । আমার হাতে সময় নেই মাহির । ফিরতে হবে আমায় । রিসেন্টলি , আই কান্ট স্টে উইদাউট হার ! ইট ফিলস লাইক আই কান্ট ব্রিদ !
মাহির মুচকি হাসে । এই বেপরোয়া লোকটাকে গত পাঁচ বছর ধরে দেখছে সে । প্রথম দু বছর দেখেছিলো ছন্নছাড়া হিসেবে । লাস্ট তিন বছরে লোকটা নিজেকে এতোটা গুছিয়ে ফেলেছে , দেখলে অবাক হয় সে । নিজেকে গোছানোর সাথে সাথে গুছিয়ে নিয়েছে পুরো #লোমাত_ইন্ডাস্ট্রি কে । জুরিখ শহরের অন্যতম নামকরা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির মধ্যে অন্যতম এটা । গত সাত বছরের ব্যাবধানে বেশ বড়ই জায়গা করে নিয়েছে ভিন্ন দেশি শহরের বুকে । যার প্রধান শাখা দেশের বরিশালে । প্রতিষ্ঠাতা আমজাদ তালুকদার । ট্রান্সন্যাশনালের প্রতিষ্ঠাতা তার একমাত্র ছেলে #আরাফ_তালুকদার ।
সেই লোমাত ইন্ডাস্ট্রির সব ক্ষমতা এখন রুডভিক কাবির রৌদ্র নামক এই বেপরোয়া ছেলের হাতে । যে ক্ষমতা হাতে পেয়ে পরোয়া শিখেছে সেই ছেলে । বুঝেছে কিছুটা কদর । গত পাঁচ বছরে খুব যত্ন করে গড়ে তুলেছে এই গোটা লোমাত ইন্ডাস্ট্রি । সামলেছে নিজ হাতে ।
পূর্ণ ক্ষমতা তার হাতেই । সেই তাগিদে একটা বড় প্রজেক্টের কাজে হুট করেই রৌদ্র কে চলে আসতে হয়েছে এখানে । বেশ বড় এ্যামাউন্টের ডিল হাতে আসতে চলেছে । যদিও বা রৌদ্র কেবলই এ কারনে আসে নি । তার আসার কারন আছে আরো একটা । মেঘার উদ্বিগ্নতা দেখতে চায় সে । পোড়াতে চায় ঐ ইডিয়ট কেও ।
মাহির কিছুক্ষণ চুপ থাকলো । রৌদ্র যেহেতু বলেছে , সেহেতু কালকেই সব হবে । দ্বিরুক্তি করলো না সে । বললো….
” ডিল সাইনিং করেই চলে যাবেন ? ইনসেপশনে থাকবেন না ? প্রয়োজন হবে আপনাকে এখানে ! আফটার অল , সব আপনার হাতে ।
” কিছুদিন থাকবো ! বাকিটা তোমাকে সামলাতে হবে ।
রৌদ্রের কথা শেষ হলো । তাৎক্ষণিক একখানা ছোট্ট চিকন বাচ্চা কন্ঠ ভেসে আসলো দরজার দিক থেকে । উদ্বেগ নিয়ে ডাকলো কোনো বাচ্চা….
” পাপা ?
” ইয়াহহহহ মাম্মা !
রৌদ্রের ভড়কানো পুরু উত্তর ডাকের বিপরীতে সহসা ।
চকিতে দরজার দিকে ছলকে তাকালো সে । সাথে সাথে মাহির ও । হাসি ফুটলো বেপরোয়া ছেলের ওষ্ঠপূটে । বেখেয়ালে তার হাসি প্রগাঢ় থেকে তৃপ্ত হয় । ভরা চোখে প্রশান্তির রেখা দেখা দেয় আপনা আপনি । দাঁড়িয়ে যায় সে ।
কাঁচের দরজা ঠেলে ছোট ছোট দুপায়ে পিটপিট করে ভেতরে ঢুকলো ছোট্ট একটা বাচ্চা । রৌদ্র কে দেখে ফিক করে হাসলো মুখে দুহাত রেখে । এক ঝটকায় ছুট লাগালো অতঃপর । ছুটে এসে দাঁড়ালো রৌদ্রের সামনে । উচ্চতায় রৌদ্রের হাঁটু ছাড়িয়েছে একটু আধটু ।
রৌদ্র চোখ সরু করে ভ্রু নাচায় । হাঁটু মুড়ে বসতেই বাচ্চাটা ছোট ছোট দুহাতে আকড়ে নিলো ওকে । বললো ঠোঁট নাড়িয়ে….
” লাভ ইউ পাপা !
চলবে…………
#আসবো_ফিরে_আবারো
#পর্ব_৩৪ [ শেষাংশ ]
#সুরভী_আক্তার
মৃদু হাসে রৌদ্র । ছোট্ট ছানা টাকে নিজের প্রশস্ত বুকে আগলে নেয় । ঠান্ডা স্বরে প্রত্যুত্তর করে…
” লাভ ইউ ঠু মাম্মা । বাট , হোয়াই হ্যাভ ইউ কাম হেয়ার ?
বাচ্চাটা তোতলানো স্বরে মুখ খোলে…
” মিত করতিলাম তোমায় ।
” আচ্ছা ? আমার মাম্মা মিস করছিলো আমায় ?
রৌদ্র কে ছেড়ে পিটপিট করে চোখ তুলে মাথা দোলায় বাচ্চাটা । রৌদ্র ফিক করে হাসে,, বলে তার মাথায় হাত বুলিয়ে….
” কার সাথে এসেছো ?
” মাম্মা !
” মাম্মা কোথায় ?
পেছনে তাকালো পিচ্চি টা । সাথ সাথ রৌদ্র নিজেও । কেবিনের দরজা ঠেলে সদ্য প্রবেশ করেছে শুচি শুভ্র ছিপছিপে এক রমনী ।
রৌদ্র ওকে দেখা মাত্রই কিছুটা ধমকানোর সুরে বলল….
” ওকে একা ছেড়েছো কেনো ?
রমনী চোখ গোল করে তাকায় । ধাপ বাড়িয়ে বলে দ্বিরুক্তি করে…..
” ওকে আমি একা ছেড়েছি ? জিজ্ঞেস করে দেখো তো… খুব দুষ্টু হয়েছে তোমার আদরের মেয়ে । লিফট থেকে হুড়মুড়িয়ে বেরিয়েই ছুটে এসেছে তোমার কেবিনে । আটকাতে পারলে তবেই না সামলাবো !
কথা শেষ করে দুহাত বুকে আড়াআড়ি ভাঁজ রেখে চোখ পাকিয়ে তাকায় বাচ্চাটার দিকে । মায়ের এমন সূচালো দৃষ্টি দেখে কোমল হাসে বাচ্চা টা । রমনী কন্ঠ ভার করে মুখ খোলে পূণরায়….
” #মিনি আমার কাছে এসো । পানিশমেন্ট পাওয়া বাকি আছে তোমার । বলেছি না ছোটাছুটি করবে না । লিফট থেকে বেরিয়েই ছুটে এসেছো তুমি । পড়ে গেলে কি হতো ?
” নো মাম্মা ! পলে যাই নি আমি ।
” পড়ে যাও নি , যদি পড়ে যেতে ?
রৌদ্র উঠে দাঁড়ালো । মিনি কে কোলে নিলো আদর করে ।
” #রিসা , বকবে না আমার মাম্মা কে । আমার মাম্মা মিস করছিলো আমায় তাই চলে এসেছে । তাই না মাম্মা ?
” ইয়াহহহ পাপা ।
মিনি কে সোফায় দাঁড় করাতেই রিসা মুখ খুললো এগোতে এগোতে…..
” আর আশকারা দিও না ওকে । বাসায় মাথা খাচ্ছিলো পুরো । সে তার পাপার কাছে আসবে । অনেক দিন দূরে ছিলে তো , তাই বারবার কাছে আসতে চাইছে । এ কদিনে ভীষণ মিস করেছে তোমায় !
” ইটস্ ওকে । বসো , কফি নেবে ?
মাহির ,, কফি নিয়ে আসতে বলো তিনটে । আর আমার মাম্মার জন্য তার ফেভারিট আইসক্রিম ।
মিনি উজ্জ্বল হেসে হাত বাড়িয়ে দিলো….
” ফোন দাও তোমাল । আমি গেমত খেলবো !
রৌদ্র হেসে পকেটে হাত ঢোকালো । মিনির স্বভাব রৌদ্রের ফোনে গেমস খেলা । রিসা ওকে ফোন থেকে যথাসম্ভব দূরে রাখে । কেবলমাত্র রৌদ্রের কাছে আসলেই বায়না জুড়ে বসে মেয়ে । আদুরে আদুরে আহ্লাদ আবদার করে । সেই ছোট থেকেই । সাড়ে চার বছর পেরোলো ।
মিনির বয়স এখন সাড়ে চার । কথা বলতে গিয়ে বেগ পায় এখনো । রৌদ্রের জীবনের অন্যতম সফট কর্নার সে । দ্বিতীয় তম বলা চলে । রৌদ্রকে পাপা ডাকা প্রথম কেউ । রৌদ্রের কোলে ওঠা প্রথম কোনো ছোট্ট শিশু ।
রৌদ্রের সমস্ত রাগ গলে জল হয় তার সামনে । কি মিষ্টি একটা মেয়ে । খুব আদুরে । রৌদ্র ওর জন্মের পর যখন ওকে কোলে নিলো, তখন পুরো দুনিয়া থমকে গেছিলো ওর সামনে । স্তব্ধ হয়ে গেছিলো সে । সেই থেকেই আজ অবধি স্তব্ধ সে এই অবুঝ নিষ্পাপ শিশুটার সামনে ।
সবকিছু হার মেনে যায় ।
মিনির নিষ্পাপ আদুরে মুখশ্রী হতে চোখ সরিয়ে ফোনের দিকে তাকালো রৌদ্র । লক খুলে এগিয়ে দেওয়ার আগেই থামলো । ফের ফিরিয়ে নিলো ফোনটা । বুকের সাথে চেপে ধরে আড়চোখে পাশে রিসার দিকে তাকালো ।
” মাম্মা, আমার ফোনে কিছু ইম্পর্ট্যান্ট ডকুমেন্ট আছে । তুমি মাহির আঙ্কেলের ফোনে গেমস খেলো, ওকে ??
মাহির , তোমার ফোন দিয়ে যাও আমার মাম্মা কে ।
মাহির আদেশ তামিল করলো ।
রিসা এতক্ষণে পূর্ণ দৃষ্টিতে তাকালো রৌদ্রের দিকে । মিনির ধ্যান এদিক থেকে সরতেই নিচু স্বরে বলল….
” রৌদ্র , তোমার সাথে কথা আছে আমার !
” বলো !
” শুনলাম প্রজেক্ট কনফারেন্স এগিয়ে এনেছো !
” হু , কাল !
” ফিরবে আবার ?
” দেরি আছে !
” দেরি কেনো ? আমি তো বলি , এতো তাড়াতাড়ি তোমার আসাই উচিত হয় নি ।
রৌদ্র হাসলো ।
” তাড়াতাড়ি ফেরাটাও উচিত হবে না । কেউ একজন মনে করুক আমায় , ডাকুক নিজে থেকে , তারপর ফিরবো ?
” তাহলে কনফারেন্স এগোলে কেনো ?
” এগোনোর ক্ষমতা আছে তাই । ক্ষমতা খাটাতে ইচ্ছে হয় মাঝে মাঝে ।
রিসা মুচকি হাসে ।
★
শহরের বুকে নতুন সকালের আবির্ভাব । ব্যালকনির পর্দা ভেদে আসা এক ফালি রোদের সোনালী আলো মুখে পড়া মাত্রই ঘুম ছুটে যায় একবিংশীর । মাঝে কয়েকটা দিন কেটেছে । ফাইভ কোর্সের এক্সাম চলছে টানা । চারটে শেষ । আর একটা । এ একটাই যেনো গলায় বিঁধে আছে মেঘার । সময় কাটছে না । কাটতে চাইছে না । যেনো থমকে আছে এক জায়গায় । কি আশ্চর্য , আকাঙ্ক্ষিত সময় গুলো কেটে যায় কত তাড়াতাড়ি , চোখের নিমেষেই । অথচ অনাকাঙ্ক্ষিত সময় গুলো যেনো কাটতেই চায় না । এই যে রৌদ্র দেশে ফিরলো । ফিরে প্রায় মাস দুয়েক ছিলো দেশে । চোখের পলকেই যেনো সেসময় গুলো পেরিয়ে গেছে । অথচ ও চলে গেছে আজ প্রায় সপ্তাহ দুয়েক । এই কয়েকটা দিন যেন কয়েক বছরের সমান লাগছে । সময়ের পতন হয় না কিছুতেই । মেলে না তৃপ্ত ফুরসৎ । লোকটাও আর ফিরে আসে না ।
কথাও বলে না কারোর সাথে ।
সেদিন লাস্ট কথা হয়েছিলো মেঘার সাথে । ঐ যে বললো , কল করবে মেঘাকে ! কিন্তু কই ? আর তো কল করলো না । খোঁজ নিলো না । এই কটা দিন নিখোঁজ রইলো ।
মেঘা কে তার ? কেনোই বা খোঁজ নেবে ?
ঘুম ভেঙ্গে আলগা হতে না হতেই এসব আজগুবি চিন্তা মাথাটাকে কুড়ে খেলো মেঘার । চোখ না মেলেই নিস্তেজ হয়ে পড়ে রইলো বিছানায় । চিন্তা পরিবর্তন করার চেষ্টা করলো । কাল লাস্ট এক্সাম । তার পর শেষ । মুক্তি মিলবে কিছুটা চাপ হতে ।
কে খোঁজ নিলো না নিলো , তাতে কিছুই এসে যায় না রমনীর । পাঁচটা বছর নিখোঁজ হয়ে থেকেছে । এখন কেনো খোঁজ প্রয়োজন ? কিসের তাগিদে ?
মেঘার মন ভার । ঘড়ির কাঁটায় সময় গড়িয়ে যাচ্ছে ।
নয়টা বাজতে চললো । ছুটির দিন গুলোতে আলসেমি করে একসাথে ব্রেকফাস্ট করা হয় না । শাফাহ্ ও ঘুমিয়ে এখনো । দরজায় খট করে শব্দ হতেই হুড়মুড়িয়ে উঠে বসলো মেঘা । একটু খানি ভড়কেছে ।
রুবিনা কাবির এসেছেন । মেঘা অবাক হলো । অপ্রস্তুত কিছুটা । ঘুম ঘুম চোখ ডলে পরিস্কার করলো । পরিপাটি হয়ে বসলো অতঃপর । রুবিনা কাবির ভেতরে ঢুকে নিজে থেকেই বললেন ….
” সকাল হয়ে গেছে , উঠবি না ?
” হ…. হ্যাঁ মামনি । এইতো উঠছিলাম কেবল ।
” ঘুম হয় নি । আরো ঘুমাবি ?
” না , হয়েছে ঘুম । তুমি এখানে , আমাদের রুমে ?
মেঘা ইতস্তত । কথা বলতে গিয়ে কথার ভার মেপে নেয় প্রথমে । কখন হুট করে চড়ে যান রুবিনা কাবির , বলা যায় না । ভদ্র মহিলা সরু চোখে মেঘা কে পরখ করলেন ।
এগিয়ে বললেন সোজাসুজি…..
” রৌদ্রের সাথে কথা বলেছিস ?
মেঘা অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে দ্বিগুণ । চোখ নামিয়ে সত্য উত্তর করে…
” না ।
” ফোন কর । কথা বলবো আমি ।
” আমিই ?
” হু , তোর ফোন থেকে !
একবিংশী তব্দা মেরে বসে রইলো । আবার এক আদেশ করলেন রুবিনা কাবির । এই কদিন চুপ ছিলেন তিনি । ছেলের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন নি । আজ এই একটু আগে ফোন করেছিলেন বেশ কয়েকবার । ছেলে ফোন ধরে নি । তাই সোজাসুজি এখানে এসেছেন ।
তার তপ্ত কন্ঠে কাঁপা হাতে ফোন তুলে নেয় মেঘা । জেদ ভেঙে রৌদ্রের নাম্বারে ডায়াল করে । সে তো নিজে ফোন করছে না , রুবিনা কাবির করতে বলেছেন তাই করছে ।
ফোন রিসিভ হওয়ার আগে মেঘা ভদ্র মহিলার দিকে বাড়িয়ে দেয় ফোন । এতে ভিমড়ি খান তিনি । সেদিনের ইতস্ততা ধরে রেখে ঠোঁট ভিজিয়ে বলেন….
” তুই আগে কথা বল । পরে আমি বলছি ।
এবারো সেদিনের ন্যায় প্রথম বারেই ফোন রিসিভ হলো । সেখানে ভোর চারটে । রৌদ্র ঘুমে টাল । আধো আধো স্বরে মুখ খোলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলো সবে , তার আগেই ধড়ফড় করে জবান উঁচালো একবিংশী……
” মামনি আপনার সাথে কথা বলবে । কথা বলুন…..
বাক্য খানা শেষ করেই রুবিনা কাবিরের হাতে ফোন ধরিয়ে দিলো সে । ঝটপট করে নেমে দ্রুত কদমে ওয়াশ রুমে ঢুকে পড়লো ফ্রেশ হওয়ার জন্য । ফোন কানে ঠেকালেন রুবিনা কাবির । দৃঢ় কন্ঠে বললেন সব দূর্বলতা ঠেলে…
” কেমন আছিস ?
” ভালো….
তার ছেলের এক শব্দের উত্তর । পাল্টা কিছুই শুধালো না । মেঘার উপর বিরক্ত হয়েছে সে । এই কদিন নিজে থেকে যোগাযোগ করে নি । আজ এই মেয়ে ফোন করলো , তাও আবার নিজে কথা বলার জন্য নয় ।
” আমাকে জিজ্ঞেস করবি না , আমি কেমন আছি ?
” কেমন আছো মম ?
” হু, ভালো । ফোন দিচ্ছিলাম এতক্ষণ । ধরছিলি না কেনো ?
” ঘুমোচ্ছিলাম ।
” চার মিনিট আগে ফোন দিয়েছি আমার ফোন থেকে , তখন ধরিস নি । এখন এই চার মিনিট পর ঘুম ভেঙ্গে গেলো ? মেঘা ফোন করেছে বলে ঘুম ছুটিয়ে এক বারেই রিসিভ করলি ফোন । অথচ আমি তোর মা , আমার ফোন ধরার প্রয়োজন বোধ করিস না ?
” প্রয়োজন যেখানে, সেখানেই তো প্রয়োজন বোধ করবো । ওর জন্য ঘুম হারাম করলেও আরাম আসে । তুমি বুঝবে না । মুখ খুলতে বাধ্য করো না । কি বলবে বলো ….
রুবিনা কাবির চুপ হয়ে যান ।
মেঘা ওয়াশ রুম থেকে বেরোনো মাত্রই তিনি ফোনটা ওর হাতে ধরিয়ে দিয়ে চুপচুপ বেরিয়ে আসেন ঘর থেকে ।
ফোনের স্ক্রিনে তাকানো মাত্রই মেঘা বুঝলো , ফোন কাটা হয় নি এখনো ।
ওপাশ নীরব । মুখের উপর কল কাটতে গিয়ে থমকে গেলো রমনী । না চাইতেও কেঁপে কেঁপে কানে ঠেকালো ফোনটা । যদি লোকটার স্বর শোনা যায় একবার , এতেই তৃপ্তি । কিছুক্ষণ দুপাশে পিনপতন নীরবতা । কেউ আর আগ বাড়িয়ে কথা বললো না । ফোনের এপাশে এখন একবিংশী রয়েছে । তা বেপরোয়া যুবকের বোঝা হয়ে গেছে । মন বলেছে তার কথা । ইচ্ছে করেই চুপ রইলো কিয়ৎ কাল ।
অতঃপর ফিসফিস শব্দে ডাকলো….
” ইভারা ?
রমনীর সর্বাঙ্গ কম্পিত হয় হীম ডাকে । আঁখি দ্বয়ের দীঘল পাপড়ি নিভিয়ে আসে । হাতের টাওয়েল টা চেপে ধরে সে । মুখ এখনো ভেজা । মোছা হয় নি । চিবুকের মধ্যমায় বিন্দু কয়েক পানি গড়িয়ে নামার উপক্রম ।
মেঘা ঢোক গিললো । উত্তর বেরিয়ে আসলো কন্ঠ চিরে…
” হুঁ !
” কি হয়েছে ?
” কি হবে ?
” ফোন দিস নি কেনো আর ?
” আমার দেওয়ার কথা ছিলো নাকি ?
এক দন্ড বিরতি নিয়ে আবার বললো..
” কোথায় আপনি ?
” রুমে !
মেঘে শুনে কিছু একটা ভাবে । কন্ঠের রোধ বিসর্জন দিয়ে বলে কম্পিত স্বরে…..
” ভি…ভিডিও কল দিন । আমি দেখবো….
রৌদ্র এক ঝটকায় উঠে বসে । সন্দিহান হয় কিছুটা । শুধোয়…..
” আমায় ?
” আপনার রুম ! কি কি আছে , আর কে কে আছে তাই দেখবো আমি ।
” আমায় দেখতে ইচ্ছে করে না ?
মেঘা এবার উত্তর করলো না দোটানায় । ওকে নিশ্চুপ দেখে রৌদ্র আবার বলে….
” এ্যাপার্টমেন্টে একলা থাকি , কেউ নেই এখানে !
” তবুও দেখবো আমি ।
একবিংশীর জেদি স্বরে বিছানা ছাড়ে রৌদ্র । কল কেটে হোয়াটসঅ্যাপ এ কল লাগায় । মেঘা ফোন রিসিভ করে । নিজের দিকটা ব্লার রেখে ক্যামেরা অফ করে দেয় । ওপাশে রৌদ্র কে দেখা যাচ্ছে । লোকটার চোখ মুখ ফোলা ফোলা । সদ্য ঘুম ভাঙ্গার রেশ স্পষ্ট ।
চুল গুলো ভীষণ এলোমেলো । মেঘা যেনো মূর্ত বনলো এক মুহুর্ত । লোকটাকে ঠিক মতো দেখার আগেই ব্যাক ক্যামেরায় পুরো অ্যাপার্টমেন্ট ঘুরিয়ে দেখাতে লাগলো লোকটা । বিলাসবহুল একটা ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাট । রৌদ্রের রুমটা দোতলায় । রুম ছাড়িয়ে নিচতলা অবধি পুরোটাই ঘুরিয়ে দেখালো রৌদ্র । মেঘা কেবলই থম মেরে কিংকর্তব্য বিমূঢ় রইলো । মুখ দিয়ে আওয়াজ বেরোলো না আর । পুরো বাড়িতে রৌদ্র একলা । তবুও গোছানো পুরো ফ্লাট । চকচকে সব আসবাব ঠিক ঠিক জায়গায় গোছানো । যেন খুব যত্ন নিয়ে সাজানো হয়েছে । এলোমেলো নেই কোনো খানে । একলা থাকে সে , এসব গোছায় কে ?
রৌদ্র এসব করবে ? নিশ্চয়ই নয় ! এতো দামি দামি চকচকে জিনিস দিয়ে সাজানো পুরো বাড়ি । কে সাজিয়েছে ?
মেঘা নাক ফুলিয়ে প্রশ্ন করে….
” আপনি একা থাকেন ওখানে ?
” হুঁ ! তুই আসলেই দুজন হয়ে যাবো !
” ফ্ল্যাট এতো সাজানো গোছানো কেনো ?
” তোর জন্য ! তুই এসে সংসার করবি , তাই সব সাজিয়ে রেখেছি ! নিজের সংসার দেখতে চেয়েছিস ? আফটার অল,এখানে এসেই থাকতে হবে তোকে । দেখে নে , গুছিয়ে রেখেছি তোর জন্য সবটা । কাউকে ভাগ দেই নি তোর সংসারের । আমি তোর হকের সংসার গুছিয়ে রেখেছি , এবার তুই আমার হক গুছিয়ে বুঝিয়ে দিবি আমায় । আর কোনো টালবাহানা শুনবো না সুইটহার্ট । আ’ম কামিং সুন…..
চলবে……..
Share On:
TAGS: আসবো ফিরে আবারো, মম সাহা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৪৭(প্রথমাংশ+শেষাংশ)
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ১৩
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ২৫(প্রথমাংশ+শেষাংশ)
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৪
-
ভালোবাসি সুচরিতা পর্ব ৬
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৩
-
ভালোবাসি সুচরিতা পর্ব ১৩
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ২৭
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ১০( প্রথমাংশ+শেষাংশ)
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ১