#রাগে_অনুরাগে
#পর্ব_৪১(প্রথম_অংশ)
#সুহাসিনি_ফাতেহা
“তোর বউ নাদান শিশু হতে পারে কিন্তু খুব চালাক। তাইনা ভাবি ঠিক বলছি না?”
তিতলি প্রত্যুত্তরে আলভীকে কিছু বলার জন্য মুখ খুলবে খুলবে ভাব তক্ষুনি ফারাজের চোখ রাঙানো দেখে নিজের মুখ দুহাত দিয়ে চেপে ধরে মনে মনে বলে, “চুপ, চুপ তিতলি কথা বলা যাবে না সামনে ভাল্লুক তোকে চোখ রাঙাচ্ছে।”
ফারাজ গাড়ির ভেতরে হাত ঢুকিয়ে মাথাটা ঝুঁকিয়ে এনে তিতলির সিটবেল্ট লাগিয়ে দিচ্ছে। তিতলি লজ্জায় জড়সড় হয়ে ব্যাকসিটের সাথে মিশে গেলো। গাড়ির ভেতরে সবকটা মুচকি মুচকি হাসা শুরু করেছে। ফারাজ শুধু তাতেই থামল না। প্যান্টের পকেট থেকে রুমাল বের করে তিতলির চোখের নিচে এলোমেলো হয়ে লেপ্টে যাওয়া কাজল টুকু মুছে দিতে নিলো তিতলি নড়চড় করে আমতাআমতা করল,
“সবাই দেখছে!”
ফারাজের মুখের অভিব্যক্তি একটুও বদলালো না। ভাবখানা এমন যেন এখানে শুধু সে আর তিতলি। রক্ষণশীল গলায় আওড়ালো,
“আই ডোন্ট কেয়ার! নড়চড় করলে গাড়ি থেকে বের করে আনবো।”
আলভী হঠাৎ সুর তুলে নিজে একটা বানিয়ে বানিয়ে এবটা গান গেয়ে উঠল,
“ওওও…এই ভালোবাসা চলবে… যৌবন যতদিন থাকবে… নতুন নতুন বিয়ের পর প্রথমত এমনি তো হয় এমনিতো হয়।”
আলভীর গান শুনে সবাই হেসে উঠল। এমনকি তিতলিও। ফারাজ মেজাজ দেখিয়ে বলল,
“ভালো থাকতে চাইলে চুপচাপ থাক তুই। নয়তো তোদের সবকয়টাকে গাড়ি থেকে নামানোর ব্যবস্থা করব।”
আফজাল খান গাড়িতে উঠবেন এখন। ছেলেকে এখানো দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে কথা বলতে আসলেন। ভদ্রলোক শ্বশুর বাড়ি যাচ্ছেন অনেক দামি পোশাক-আশাক পরেছেন। তাছাড়া ওনি অনেক স্মাট ও বটে। সাথে একটু রসিকতাও আছে ওনার মাঝে। হাতের মোবাইল পকেটে রাখতে রাখতে ছেলেকে বললেন,
“তুই ঘর থেকে বের হয়েছিস কেন? যাবি না যখন তাহলে রুমে গিয়ে বসে থাক। আলভী গাড়ি স্টার্ট দে তো।”
আলভী চাচার কথা শুনে দাঁত কেলিয়ে হেসে উঠল। সে এক্ষুনি বলতে যাচ্ছিলো কথাটা তার আগে চাচা বলে দিলো। সাব্বাস চাচা। চাচার সাথে একটু কোলাকোলি করতে ইচ্ছে করছে।
তবে মুখে বলল,
“জ্বি চাচা এক্ষুনি গাড়ি স্টার্ট দিচ্ছি।”
পাশ থেকে ফরহাদ মোবাইলের স্ক্রিন থেকে চোখ তুলে বলল,
“কখন থেকে বলছিস গাড়ি স্টার্ট দিচ্ছিস। তুই তো ঠিকমতে গাড়িও চালাতে পারিস না। সর আমি ডাইভিং করি।”
আলভী ফরহাদকে ব্যঙ্গাত্মক কন্ঠে বলল,
“আমি যে পজিশনে গাড়ি চালায় সেটা তোর চৌদ্দগুষ্টিও জানেনা ফরহা কোথাকার।”
ফরহাদের খোঁচা মেরে বলতে ইচ্ছে হলো, “আর কোন কোন পজিশনে অন্য কাজ গুলো করিস যদি একটু বলতি।” তবে ভাবি, আর মেয়ে কাজিন থাকায় বলল না কথাটা। মুখে বলল,
“আমার চৌদ্দগুষ্টি গুলো কারা একটু মনে করে দেখ তুই নিজেও আছিস আলভু কোথাকার! “
আরো কিছু বলার জন্য আলভীর মুখটা নিসপিস করছে। কিন্তু কোনো কথা খুঁজে না পাওয়ায় চুপ হয়ে গেলো। ফরহাদ ডেবিল হাসি দিয়ে আবার ফোনের স্ক্রিনে নজর দিলো।
আফজাল খান ছেলের সাথে আরো টুকটাক কথা বললেন। তারপর নিজেদের গাড়ির দিকে চলে গেলেন। তিতলি ফারাজকে আর দেখছে না। গাড়ি স্টার্ট দিবে সেটা বুঝতেই কাঁচের জানালা দিয়ে মাথা বের করে দিয়েছে। ফারাজ তার সাইড দিয়ে গাড়ির পেছনে দাঁড়ানো। সে এদিকেই তাকানো ছিলো। তিতলি তাকাতেই দুজনের চেোখাচোখি হলো। ফারাজ হাত দিয়ে ওটাএটা ইশারা করতে করতে এক পা দু পা এগিয়ে এসে হুকুমের স্বরে বলল,
“গাড়ি চলন্ত অবস্থায় জানালা দিয়ে মাথা বের করবে না, ওকে।”
“বুঝেছি একদম মাথা বের করব না এইতো ঢুকিয়ে নিয়েছি মাথা।”
সামনের সিট থেকে অয়ন সেটা দেখে মনেমনে বলে
“ফারাজ ভাই তিতলিকে কতভাবে সাবধান করে দিচ্ছে।”
তিতলি মুখ ফুলিয়ে মাথাটা সম্পূর্ন ঢুকিয়ে নিতেই ফারাজকে আবার তিতলির পাশে জানালার কাছে আসতে দেখা গেলো। লোকিং মিররে সেটা দেখে আলভী বাঁকা হাসে। মনে মনে বলে,
“এত যেহেতু বউকে দেখার ইচ্ছে তাহলে বউয়ের সাথে যাচ্ছিস না কেন?”
মনেমনে কথাটা বলে স্টিয়ারিং হাত ঘুরাতে ঘুরাতে তক্ষুনি গাড়ি স্টার্ট দিলো আলভী।
ফারাজ হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে যায়। ঘাড়ের রগগুলো টানটান হয়ে আসে রাগে। দাঁত কটমট করে হাতদুটো মুষ্টিবদ্ধ করে নেয়। আলভীকে হাতের কাছে পেলে ছাড়বে না। তিতলি আর ফারাজকে দেখলো না। মাথা বের করে যে দেখবে সে সুযোগ ও নেয়। তাও শুধু ঘুরেঘুরে দেখতে চাই কিন্তু আর দেখেনা। ঘুরানো পেঁচানো রাস্তা হওয়ার তারা মেইন রোডে চলে এসেছে। ফারাজ যতক্ষণ গাড়ি দেখা যাচ্ছিলো ততক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলো।
মোট চারটে গাড়ি একসাথে রওনা হয়েছে টাঙ্গাইলের উদ্দেশ্য। ঢাকা থেকে টাঙ্গাইলে যেতে প্রায় আড়াই ঘন্টার বেশি সময় লাগে। আর যদি জ্যাম রাস্তাঘাট মেরামত এসব সমস্যা থাকে তাহলে পাঁচ থেকে ছয়, সাত ঘন্টার বেশি সময়ও লেগে যায়।
——-
রাত সাতটার মধ্যে টাঙ্গাইলে পৌছানোর কথা। সেখানে তাদের গাড়ি এখনো টাঙ্গাইলের কাছাকাছি ও যেতে পারেনি। জ্যাম দিয়ে ভর্তি ছিলো ঢাকার রাস্তাঘাট। তার উপর মধ্য- রাস্তায় ধর্মঘট পড়েছে৷ সম্পুর্ন রাস্তা পরিবর্তন করতে হয়েছে৷ এখন সন্ধ্যা নেমেছে! আঁধার হয়েছে পৃথিবী৷ আলভীদের গাড়ি নিরবচ্ছিন্ন রাস্তা ধরেছে। রাস্তার দু’পাশে ফেলে যাচ্ছে সারি সারি গাছ, দালানকোঠা! তাদের গাড়ির পেছনে তিনটা গাড়ি সোজাসাপটা সারি করে আসছে৷ একটি গাড়িও আগপাছ হচ্ছে না। আলভীদের গাড়িতে কিছুক্ষণ পরপর গান বেজে উঠছে। এবার একটা গান বেজে উঠল,
“আমার বন্ধু মহা জাদু জানে ওওও আমার বন্ধু মহা জাদু জানে….”
গানের লাইনটা বেজে উঠতে না উঠতেই আয়েশা বিরক্ত হয়ে বলল,
“এবার এটা কি গান চালিয়েছো আলভী ভাইয়া?”
“তোরা বুঝবি না এই গানের মানে।”
অয়ন বলল,
“গান বন্ধ কর!”
আলভীর মনেযোগ গাড়ি চালানো তে থাকলেও সে অয়নকে বলল,
“চুপ কর পাপীর দলেরা। কোথায় গান টাকে একটু ইনজয় করবি তানা বন্ধ কর বন্ধ কর। কানে শিমুল তুলা দিয়ে বসে থাক।”
তিতলি এই প্রথম টাঙ্গাইলে যাচ্ছে তাই একটু অন্যরকম অনুভূতি কাজ করছে। তবে কিছুক্ষণ পরপর ফারাজের কথা মনে করে আবার মন খারাপ করে নিচ্ছে বেচারি। কয়দিন থেকে তো চলে আসবে ওনি থাকতে পারলে সেও থাকবে সে একটু টাঙ্গাইলে গিয়ে সুন্দর সুন্দর জায়গায় ঘুরতে চায়। ঘুরাঘুরি তার পছন্দের তালিকায় পরে। তিতলি অনেক চিন্তায় আছে। অয়নকে বলল,
“অয়ন ভাইয়া আমরা টাঙ্গাইলে গেলে অনেক জায়গায় ঘুরব তাইনা? আমাকে একটু ঘুরাতে নিয়ে যাবে তোমাদের সাথে?”
অয়ন চমকে উঠে কান ধরে হাত পায়ে মাফ চাওয়ার মতো করে বলল,
“বাবা আমি পারবো না। যার বউ সে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিলে তবেই নিয়ে যাবো।”
তিতলি মন খারাপ করে বসে থাকে পুরো রাস্তায়। ওই ভাল্লুক কি তাকে ঘুরতে যাওয়ার অনুমতি দিবে? অয়ন তিতলির মন খারাপ করেছে দেখেও কিছু বলেনা ফারাজ ভাইয়ের ভয়ে।
★
রাত সাড়ে আটটায় অবশেষে টাঙ্গাইলে গিয়ে পৌঁছিয়েছে সবাই। ত্রিশ মিনিটের লম্বা রাস্তা অতিক্রম করেই পেয়েছে বিশাল জমিন নিয়ে তৈরি হুশিয়ার সাহেবের নতুন বাড়ি। বাড়ির কোণায় কোণায় রাতের লাইট জ্বলছে। সাদা কালো রঙে রঙানো বাড়ি থেকে সদর দরজা অবধি। বড়বড় দেওয়াল দিয়ে ঘিরে কারুকার্য করা বাড়ির চারপাশের দেওয়াল।
উপরে বড়বড় কাঁটার রড ব্যাবহার করা হয়েছে। কারণ, চোর, ডাকাত, মলমপাটি, অজ্ঞানপাটিদের হামলা হতেই পারে। বাড়ির চারপাশে আকাশ সমান বড়বড় কড়ি গাছ, মেহগনি গাছ, বড়ই গাছ, আম গাছ, ফলমূল গাছগাছালি। রাতের বেলায় একটা ভূতরে বাড়িও বলা যেতে পারে কিন্তু এতে বাড়ির সৌন্দর্য একটুখানি ঘাটতি পরবেনা।
সদর দরজার সামনে হুশিয়ার সাহেব সহ ছকিনা খাতুন দাঁড়িয়ে আছেন। সেই মাগরিবের আযানের পর থেকে শুধু ঘুরঘুর করছেন। আর স্বামী স্ত্রী সুখে দুঃখের কথা বলছিলেন বুড়ো হয়ে গেছেন আর বাঁচবোও কদিন। ছকিনা খাতুন পান চিবুতে চিবুতে বলছিলেন,
“আমি আমনেরে ছাড়া অন্ধবার কবরে থাইকতে পারমু না হাশেমের বাপ।”
উত্তরে হুশিয়ার সাহেব হাসতে হাসতে স্ত্রীকে বলছিলেন,
“মরন কইয়া কইয়া আইয়ে না ছকিনা….”
গাড়ির ইঞ্জিন থামার আওয়াজ পেয়ে হুশিয়ার সাহেবের কথা অর্ধেকে থেমে গেলো। ছকিনা খাতুন আগেআগে বেরিয়ে এলেন। হুশিয়ার সাহেব ভেতর থেকে ছেলেদের ডাক দিলেন,
“ওই হাশেম, কাশেম, হারুন, শের আলী, সবুর আলী, তোরা কই বাইরে আয় তাড়াতাড়ি তোর বোইন ভাগিনারা আইয়া পড়ছে।”
বাবার ডাক পেয়ে ড্রয়িংরুম থেকে পাঁচ ভাই বের হয়ে এলেন। পাঁচ ছেলে দু মেয়ে হুশিয়ার সাহেবের। সবকয়টার বয়স পঞ্চাশের কাছাকাছি বা আরেকটু কমবেশি। বুড়ো বাবাকে বাঘের মতো ভয় পায় সব ছেলে। ডাকার সাথেসাথে সদর দরজায় হাজির হয়ে বলল,
“আব্বা আইসি।”
শের আলী, আর সবুর আলী লুঙ্গি পরতে পরতে বেরিয়ে এসেছেন। কিছুক্ষণ আগে বাজার থেকে এসেছেন। মেজবান উপলক্ষে বাড়িতে তোড়জোড় চলছে। কত বাজার সাজার করার আছে হিসেব নেই। যদিও মেজবান পরশু। প্রত্যেক বছরে হুশিয়ার সাহেব তার মা বাবার নামে গ্রামবাসীদের সহ অবাবী মিসকিনদের সহ বিশাল করে মেজবানের দাওয়াতের আয়োজন করেন।
আফজাল খানেরা সবাই একেএকে আসছেন। হুশিয়ার সাহেব হেঁটে সামনে এগিয়ে গেলেন। আফজাল খান শ্বশুরের সাথে কোলাকোলি করে বললেন,
“ভালো আছেন আব্বাজান? শরীর ভালো আছে তো?”
হুশিয়ার সাহেব জামাইয়ের পিঠে হাত বুলাতে বুলাতে বললেন,
“আলহামদুলিল্লাহ্ বাপজান। ভালাই আছি ।”
হুশিয়ার সাহেব আমরুল খানের সাথেও কোলাকোলি করলেন। ফরহাদকে বুকে জড়িয়ে নিলেন।
ছকিনা খাতুন গিয়ে মেয়ের সাথে মেয়ের, জা সবার সাথে কথা বলে নাতবউকে জড়িয়ে ধরে বললেন,
“নাতবউ গো তুমি আইছো দেইখা মনডা ভালা হইয়া গেলো।”
তিতলি আর কিবা বলবে। নানি শাশুড়ির কথা শুনে বলল,
“আমার মনটাও ভালে হয়ে গেছে নানু।”
ছকিনা খাতুন আবার পেছনে এদিক ওদিক তাকিয়ে বললেন,
“কিন্তু আমার নাতি ফারাজ কই এই ফারিন ফারাজ কই?”
আফজাল খান আগেআগে বললেন,
“ফারাজ তো আসে নাই আম্মা। কলেজে নাকি পরিক্ষা দায় দায়িত্ব আছে এখন আসা সম্ভব নয়।”
কথাটা বলে আফজাল খান বউয়ের ভাইদের সাথে কৌশল বিনিময় করতে ব্যস্ত হয়ে গেলেন।
হুশিয়ার সাহেব বললেন,
“কি? ফারাজ আইয়ো না মানে কি?
ধরিবান্দি আইনতে পারিস নি? নাতবউ আমার নাতিডারে ওড়নার লগে বাইন্দা নিয়ে আইতে পারো নাই?”
রেসপন্স করো।
#রাগে_অনুরাগে
#পর্ব_৪১_৪২
#সুহাসিনি_ফাতেহা
ঘন্টার পর ঘন্টার সফর শেষে সকলেই বেশ ক্লান্ত। সেদিনের মতো আলাপ-আলোচনা বা গল্পগুজব করা হয়ে উঠেনি। মুক্ত করে রাখা কক্ষ গুলোতে যে যার মতো ঘুমিয়ে পড়েছে। তিতলি ঝিলিক আর আয়েশার সাথে একরুমে ঘুমিয়েছিল। বেশ ভোর করেই ঘুম ভেঙে যায় তার। বলতে গেলে ঘড়িতে সকাল সাড়ে ছয়টা এখন। বিছানা ছেড়ে এসে জানালার পর্দা সরিয়ে দেয়। হুড়মুড়িয়ে একরাশ বাতাস ছুঁয়ে গেল সর্বাঙ্গ জুড়ে। আবেশে চোখবুঁজে রইলো। সে-কি অমায়িক দৃশ্য। তাকিয়েই থাকতে ইচ্ছে করলো। দু’হাতে চুল খোঁপা করতে নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে পড়লো। ফ্রেশ হয়ে, কাপড়চোপড় পরিবর্তন করে একটু সাজুগোজু করে নিলো।একবার বিছানায় তাকিয়ে দেখল ঝিলিক আর আয়েশা এখনো বেঘোরে ঘুমাচ্ছে।
রাতে ইচ্ছে করেই ফারাজের কল রিসিভ না করে মেসেজ সিন করে মোবাইল অফ করে রেখেছিল।
ফারাজের নানু ছকিনা খাতুন রাতে তিতলিকে বলেছেন, “যেহেতু আসেনি ফোন কল এক্কেরে রিসিভ কইরো না নাতবউ। আমিও দেখমু কেমনে নো আইয়া থাকে।”
তিতলিও ছকিনা খাতুনের কথাটা মাথায় গেঁথে নিয়েছে। সেও একটু পরিক্ষা করে দেখবে কথাটা কতটুকু সত্যি হয়। ফারাজের মেসেজের রিপ্লাই করল না। উল্টো কলও দিলোনা। কিন্তু মন যেন মানছেই না।
বিছানার সামনে গিয়ে ঝিলিককে ডেকে ওঠাল। ঝিলিক নড়েচড়ে উঠে বসে আবারো হেলেদুলে বালিশে পড়ে গেল। তিতলি আবার ঝিলিকের পিঠ ঠেলেঠেলে পুনরায় ডাকে,
“ঝিলিক আপু উঠছো না কেন? অনেক সকাল হয়ে গিয়েছে।”
ঝিলিক হামি দিতে দিতে দেওয়াল ঘড়িতে তাকিয়ে দেখে এখনো সকাল ছয়টা পঞ্চশ। এটাকে কিছুতেই অনেক সকাল বলা যায়না। তাও উঠে দুলতে দুলতে বাতরুমে চলে গেল। এই ফাঁকে তিতলি দরজা খুলে রুমের বাইরে উঁকি দিল। কেউ নেই! সম্পুর্ন নিস্তব্ধতা বিরাজমান চারপাশে। মনে হচ্ছে বাড়ির কেউ এখনো উঠেনি। ভালোই হয়েছে। এই সুযোগে সে আর ঝিলিক বিনা দ্বিধায় বাইরে চলে যেতে পারবে। কিন্তু তাকে অবাক করে দিয়ে ঝিলিক বাতরুম থেকে এসে পুনরায় বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়লো। তাকে আবারো ঠেলতে লাগলো তিতলি। ঝিলিক অস্পষ্ট ঘুমন্ত স্বরে বলল,
“আল্লাহর ওয়াস্তে একটু ঘুমাতে দাও তিতলি। সারারাত ঘুমাতে পারিনি তোমার ভাইয়ের..”
ঝিলিক অর্ধেক কথা বলতে গিয়ে থেমে গেল। তিতলি ঝিলিকের কথাটা তেমন একটা গুরুত্ব না দিয়ে বলল,
“বাইরে যাবে না? আমি অনেক এক্সটাইড সবকিছু ঘুরে দেখার জন্য।”
“এখনো অনেক সকাল। কেউ উঠেনি। হুশিয়ার নানা লাঠি দিয়ে ঘরে ঢুকাবে এখন বের হলে।”
বলতে না বলতেই ঝিলিকের মোবাইলে শব্দ করে বসলো। ঘুমুঘুমু চোখে স্ক্রিনে তাকাল। তুষারের মেসেজ।
“গুড মর্নিং আমার ঝিলমিল।”
ঝিলিক না দেখার ভান করে মরার মতো ঘুমিয়ে পড়লো। তিতলি অশান্ত মনে বিছানায় বসল। কই ভাবলো একটু বাড়ির আশেপাশে ঘুরবে হলো না। ১০০, ১০ ডিগ্রি দুঃখ নিয়ে আবার বিছানায় শুয়ে পড়ল। কিন্তু ঘুমালো না। চোখ খুলে দুনিয়ার সব ভাবনা বাদ দিয়ে ফারাজকে নিয়ে ভাবতে বসলো।
★
ঘড়িতে সকাল সাড়ে নয়টা। ফারিন বেগম ছেলে যাবেন না শুনেই ঝটপট করে কয়দিনের জন্য বেশ কিছু নাস্তা ও রান্না-বান্না করে ফ্রিজে করে রেখে এসেছেন বাড়িতে। ফারাজ বাইরের খাবার তেমন খেতে পারেনা তাই। ফারাজ সেগুলো গ্যাসে একটু গরম করে সকালের নাস্তা খেয়ে নিয়েছে। কলেজে যাওয়ার জন্য রেডি হতে রুমে আসলো।
শার্ট প্যান্ট পরে রেডি হয়ে আয়নায় দাঁড়িয়ে মাথার চুল ঠিক করছে। রাতে তিতলি তার কল, মেসেজ ইগনোর করেছে দেখে রেগে আছে ভীষণ। দুহাতে মাথার চুল পেছনে ঠেলতে ঠেলতে হঠাৎ আশ্চর্যজনক ভাবে তিতলির প্রতিবিম্ব আয়নায় দেখল। তিতলির কম্পিত অধরযুগল, মায়াবী চোখদুটো, পেলব মুখখানা, বলতে গেলে গোটা তিতলির সবকিছু যেন তার চোখের সামনে দেখছে সে। ঝটকা খেয়ে চোখদুটো খানিকটা ক্ষীণ করতেই আবার তা উধাও হয়ে গেলো। বিরক্ত হয়ে দাঁত ছোঁয়াল ঠোঁটের কোণে। মোবাইল নিয়ে তিতলিকে ভিডিও কল দিলো। কিন্তু ওপাশ থেকে কেটে গেলো। মোবাইল হাতে নিয়েই বসে আছে অথচ তার কল কেটে দিচ্ছে। ফারাজ দাঁতে দাঁত চেপে মেসেজ দিলো,
“ভিডিও কল ধরো।”
“কেন ধরবো আমি?”
“আমি বলছি তাই!”
“পারব না।”
“কেন’
“আপনি যেহেতু আমাদের সাথে আসেন নি সেহেতু আমিও আর আপনার কোনো কল ধরব না।”
“সিওর?”
“জ্বি সিওর!”
“লাস্ট বারের মতো বলছি কল রিসিভ করা হোক!”
“না বলেছি।”
“একটু দূরে আছি বলে খুব সাহস বেড়ে গিয়েছে না?”
তিতলি মেসেজ সিন করে রেখে দাঁত দিয়ে নখ কাটতে কাটতে ভাবুক হয়ে রইল। কল কি রিসিভ করবে নাকি করবেনা সেটা ভাবছে। কিছুক্ষণ পর আবার টুং করে শব্দ করে উঠল। এবার লিখেছে,
“ইগনোর করা আমার পছন্দ নয়। নেক্সট টাইম থেকে আমাকে ইগনোর কিংবা রিজেক্ট করার দুঃসাহস দেখাবে না আর। কখনোই না।”
পরপর পাঁচটা রাগের ইমোজি।
তিতলিও তালেতালে মেসেজ দিলো,
“আপনি কলেজে যান। যে পুরুষ নিজের বউকে ছাড়া রাত কাটাতে পারে সে পুরুষের সাথে আমি কথা বলব না।”
“কেমন রাত কাটাবো সেটা তোমাকে কাছে পেলেই বুঝাবো স্টুপিড। দুদিন না হয় চারদিন তার পর তো সে-ই ঘুরেফিরে আমার খাঁচাতেই তোমাকে ফিরতে হবে , তখন সবকিছুর সুদ প্যাকটিক্যালি ভাবে নেবো। মাইন্ড ইট!”
বিড়বিড় করে কথাটা বলে তিতলির লাস্ট মেসেজ সিন করে ফারাজ অফলাইনে চলে গেলো।আকাশসম রাগ নিয়ে মোবাইলটা বিছানার একদিকে ছুঁড়ে মারবে মারবে ভাব। এই বউকে হাতের কাছে পেলে একদম ছাড়বে না সে। কাজেকর্মে বুঝিয়ে দেবে না তাকে ইগনোর করার ফল।
হঠাৎ ফোন বেজে উঠল। ফারাজ রিসিভ করছে কি করেনি তার আগেই ওপাশ থেকে আলভী বলে উঠে,
“হ্যালো তোর বউ সকাল থেকে তিনবার বমি করছে নাস্তা খেতে বসে, মনে হয় এবার সুখবর শুনবো।”
ফারাজ হতভম্ব হয়ে যায় আলভীর কথা শুনে। এখনই তো মেসেজ করল। তার মুখের অভিব্যক্তি বদলালো না। একটু গভীরভাবে ধরল না, লাগালো না, ছুঁয়ালো না তার আগেই প্রেগন্যান্ট বাহ!
আলভীরা সবাই হুশিয়ার সাহেবের বাড়ির পেছনে পুকুর ঘাটে বসে আছে। মূলত মিথ্যা কথা বানিয়ে ছুড়িয়ে ফারাজকে এখানে আনার ফন্দি আটতেছে তারা। সবাই মোবাইলের সাথে কানখাড়া করে রেখেছে ফারাজ কি বলে সেটা শোনার জন্য। কিন্তু তাদের অবাক করে দিয়ে ফারাজ বিষয়টা মাথায়ও নিচ্ছেনা এমন ভঙ্গিতে বলল,
“এসব বলতে কল করেছিস?”
ফারাজের কথা শুনে সকালের মুখ বোতা হয়ে যায়। কিন্তু আলভী মাথা চুলকে বলে,
“শেষমেশ নাদান শিশুটার সাথে ইয়ে করে ফেলেছিস? মিষ্টি নিয়ে আয় ডাক্তার চেকআপ করাতে আসছে এখন।”
টু টু করে কল কেটে গেলো। ফরহাদ পাশ থেকে বলল,
“ভাবছি চাচ্চু হবো কিন্তু ভাইয়া হতে দিবে না।”
“তুই তোর বউকে নিয়ে আয় তারপর আগেভাগে বংশের প্রদীপ জ্বালিয়ে দেখিয়ে দে যে তোর মেশিন সবচেয়ে ফাস্ট আর ফারাজেরটা থার্ড!”
কথাটা বলতে না বলতেই হঠাৎ আলভী শব্দ করে একসাথে পরপর তিনটা বায়ু দূষণ করে বসল।
সবকটা হো হো কর হেসে নাক ঢাকতে ঢাকতে বলল,
“বাতরুম চাপলে তাড়াতাড়ি যা পেরত। ছিঃ ছিঃ কি গন্ধ!”
আলভী মোবাইল ফরহাদের কোলে ফেলে দৌড় দিলো। সত্যি তার আর্জেন্ট দুই চেপেছে। দৌড় দিয়েই যেতে হবে নাহলে মনে হয় পথেই ছেড়ে দিবে। হুশিয়ার সাহেবের বাড়ির ভালো ভালো রান্না খেয়ে পেট খারাপ হয়ে গিয়েছে।
★
তিতলি, ঝিলিক দুজনে সকালের নাস্তা খেয়েদেয়ে পুরো বাড়ি ঘুরতে আরম্ভ শুরু করলো। উনিশটা কক্ষ নিয়ে সাহেব বাড়ি। একেকটি কক্ষের বিশালতা প্রখর। সবাই ড্রয়িংরুমে গোল হয়ে উপস্থিত এখন। দেখতে লাগছে একটা জনসভা। বাড়ি ভর্তি মানুষ বলা যায়। ফারাজের মামাতো ভাই, বোনেরা মামিরা, খালারা, কমজোর ৪০-৫০ জন মানুষ আছে। কালকে মেজবান। হুশিয়ার সাহেবের ছেলেরা সহ আফজাল খানও আমরুল খান হাটে গিয়ে ছয়টা বড়বড় গরু কিনে এনেছে। আজকে নাছিমা বেগমের ছেলে রোহানও এসেছে। এসেই যেন তিতলিকে চোখ দিয়ে গিলে খাচ্ছে। এখনও তিতলির দিকে তাকিয়ে আছে। চোখ বড়বড় করে মনেমনে বলে,
“বাহ একদম ঝাঁঝালো কচি মা*ল। এজন্যই তাহলে ফারাজ এই মেয়েকে খালামনির এককথায় বিয়ে করে নিয়েছে।”
লোভ জন্ম নিয়েছে হঠাৎ রোহানের মনে। তবে সেটা চোখমুখ কিছুতেই ধরা দিলো না। হেঁটে গিয়ে ভদ্র পুরুষের মতো তিতলির সাথে কথা বলতে এগিয়ে গিয়ে হ্যান্ডশাক করার জন্য হাত এগিয়ে দিয়ে বলল,
“হাই ভাবি? আমি ফারাজের কাজিন। মাই নেম ইজ রোহান।”
তিতলি ফারাজের মামাতো বোন হাশেম আলীর মেয়ে ময়না ও ঝিলিকের সাথে দাঁড়িয়ে। পরনে একটা হালকা রঙা গোল ফ্রক। গায়ে ওড়না ভালো করে জড়িয়ে নিয়েছে। চুলে বেনি করেছে। মুখে কোনোরকম কৃত্তিম সাজ নেই। শুধু একটু ক্রিম লাগিয়েছে। কিন্তু ঝিলিকদের দেখাদেখি ঠোঁটে একটু লিপিস্টিক দিয়েছে। খুব ভালো লাগছে ওকে এটুকুতেই। এখন পাশ ফিরে তাকায় রোহানের কথাটা শুনে।
সে আড়চোখে ঝিলিকের দিকে তাকায়। ছেলেটা নাকি নাছিমা বেগমের ছেলে তিতলি শুনেছে ঝিলিকের কাছে। নাছিমা বেগমের ছেলে মেয়ে সবাইকে তিতলি ঘৃণা করে। তাই ছোট করে উত্তর দিলো,
“ও।”
রোহান হাত মুষ্টিবদ্ধ করে নিয়ে বাঁকা কন্ঠে বলল,
“কিছু বলবেন না? বিয়ের সময় যেতে পারিনি কাজ ছিলো বলে। একটু পরিচিত হয়ে নিই!”
তিতলি মনেমনে বলল,
“ভালোই করেছেন বিয়েতে না এসে।”
সরল মনে বলল,
“পরে পরিচিত হওয়া যাবে।”
রোহান ক্রুর দৃষ্টি নিক্ষেপ করে অন্যদিকে চলে গেলো। মনেমনে একটা সুযোগ খুঁজছে। এতটুকু একটা মেয়ে তাকে পাত্তা দিচ্ছে না কতবড় সাহস মেয়েটার। এমনিতে মায়ের কথা শুনে এই মেয়ের উপর প্রচন্ড ক্ষোভ জমে আছে।
ঝিলিক পাশ থেকে রোহানের যাওয়া দেখে তিতলিকে বলল,
“ফারাজ ভাইয়ার কাজিন এটা ভালো না তিতলি। তুমি ওর সাথে কথা বলিয়ো না।”
“ঠিকাছে ঝিলিক আপু।”
৪২ পর্ব
সবাই ভেবেছে এখন একটু ঘুরতে বের হবে। বাড়ির আশেপাশে যেসব জায়গা গুলো আছে সেগুলোতে। পরে ধীরেধীরে দূরের গুলোতে যাবে। তিতলি,ঝিলিক,অয়ন আলভী, ফরহাদ সাথে রোহান, ও ফারাজের মামাতো ভাই শিমুল, অভি, মামাতো বোন ময়না, পলি, সবাই একঝোট হয়েছে। আয়েশা প্রেগন্যান্ট হওয়ায় বিকেল টাইমে কোথায়ও বের হচ্ছে না। একজায়গা থেকে একজায়গায় এসেছে এত ঘুরাঘুরি রিস্ক ও হতে পারে। ফারিন বেগম ছেলের বউকে চিন্তিত স্বরে বললেন,
“তোমার কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন নেই মা। আমাদের সাথে ঘরে থাকো। ফারাজ জানতে পারলে রেগে যাবে।”
তিতলি শাশুড়ির কথা শুনে মুখশ্রী অন্ধকার করে নেয়। ঝিলিক বলল,
“আমি আছি ফুপি। চিন্তা করোনা। তাছাড়া ফরহাদ ভাইয়েরা তো আছেই।”
“তাও ফারাজ তিতলিকে আসতে দিবেনা বলছে আমি জোর করে নিয়ে এসেছি। এখন ঘুরাঘুরির কথা জানলে…”
রোহান ধোয়াতুলসী পাতা হয়ে বলল,
“ফারাজ ভাই কি করে জানবে ভাবি আমাদের সাথে ঘুরতে গেছে।”
ফারিন বেগম রোহানের কথা শুনে কিছু বললেন না। তিনি কারো আশ্বাসে তিতলিকে যেতে দিতে চাচ্ছেন না। মোটকথা তিতলিকে নিয়ে কোনো রিস্ক নিতে চাচ্ছেন না।
সবার জোড়াজোড়িতে তিতলি সহ সবাই ঘুরতে যাবে বলে ঠিক হয়েছে। হুশিয়ার সাহেব তিতলির মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন। সবার সাথে বাইরে অর্ধেক আসতে আসতে সবার উদ্দেশ্য বললেন,
“সাবধানে যাইবা সক্কলে। মাগরিবের আযান দিবের আগেই যেন আইয়া পড়ো। রাতের বেলা বাইরে থাকনের দরকার নাই।”
ফরহাদ নানাকে বলল,
“ঠিকাছে নানাভাই।”
সবাই মেইন গেইটে পেরিয়ে রাস্তায় চলে এলো। তিতলি মনে মনে ভাবছে যদি ফারাজ থাকতো তাহলে আরো বেশি ভালো হতো। সে অনেক ছবি তুলতো ফারাজের সাথে। আশেপাশে কত সুন্দর সুন্দর সবুজ জমিন। এগুলো ঢাকা শহরে তেমন একটা দেখা যায়না। ঝিলিক তিতলিকে বলল,
“তুমি কখনো টাঙ্গাইলে এসেছ তিতলি?”
“না প্রথম এসেছি, কিন্তু সিলেট,সন্দ্বীপ অনেকবার গিয়েছি।”
হুশিয়ার সাহেবদের বাড়ি টাঙ্গাইলের একটু গ্রাম সাইডে। তবে বেশ পরিপাটি গ্রাম। মোটামোটি শহরের মতোই সবকিছু।
ঘুরতে ঘুরতে আলভী তিতলির পাশে দাঁড়িয়ে বলল,
“একটু এদিকে তাকান তো ভাবি একটা পিক তুলি।”
“জ্বি ভাইয়া অবশ্যই।”
তিতলি কোনোকিছু না ভেবেই আলভীর পাশে দাঁড়িয়ে মুচকি হাসি দিয়ে একটা পিক তুলল।
আলভী বাঁকা হেসে একটা পিক ফারাজের হোয়াটসঅ্যাপ এ সেন্ড করে দিয়ে বলল,
“দেখ তোর বউকে নিয়ে ঘুরতে এসেছি। আসার পথে তোর বউ পড়ে গিয়ে কোমরে ব্যাথা পেয়েছে তাই অর্ধেক কোলে করেই নিয়ে এসেছি।”
মেসেজ টা দিয়ে মোবাইল পকেটে রেখে দিলো।
তিতলিরা তেমন একটা দূরে যেতে পারেনি। বাড়ি থেকে পাশের একটা বিভিন্ন রকমের ফুল গাছ দিয়ে ভরা একটা বাগানে গিয়ে আড্ডা দিয়ে এসেছে।
★
হুশিয়ার সাহেব বললেও প্রায় মাগরিবের আযানের পরপর ওরা ঘুরাঘুরি শেষ করে এসেছে। বাড়িতে এসে তিতলি গোসল করেছে আবার। একটা সাদা রঙা ছোট ছোট ঝর্ঝেটের কারুকাজ করা গোল ফ্রক পরেছে। জামাগুলো ফারাজই এনেছে তার জন্য। সে বলছিলো,
“আমার কিছু জামাকাপড় প্রয়োজন।”
ফারাজ উত্তরে কিছু না বললেও সেই রাতেই এগুলো নিয়ে এসেছে। দেখতেই বুঝা যায় অনেক দামি।
পেছনের গলাটা বেশ বড়। কি মনে করে এতবড় গলার জামা নিয়ে এসেছে কে জানে। তিতলি আজ প্রথম পরেছে। তাই ওড়না দিয়ে পিঠ ঢেকে নিয়েছে। ড্রয়িংরুমে গিয়ে দ্বিতীয় বারের মতো আড্ডা দিয়ে আবার রুমে এসেছে।
★
কালকে যেহেতু মেজবান তাই আজকে রাত থেকেই সব আয়োজন শুরু হয়েছে। অনেক আত্মীয়-স্বজনেরা চলে এসেছেন প্রায়। উঠানে পর্দা টাঙিয়ে বড় করে গেইটের মতো সাজানো হয়েছে। ডেকারেশনরা চলে এসেছেন তাদের বড়বড় হাড়ি পাতিল গুলো নিয়ে।
★
ফারিন বেগম তাদের বাড়ির বাজার-সাজার করা মুখলেস মিয়ার সাথে কথা বলে স্বামীর কাছে এসেছেন। কল কেটে দিয়ে স্বামীকে বললেন,
“শুনছেন একটা কথা?”
আফাজল খান ও আমরুল খান দু ভাই বসে কি নিয়ে যেন কথা বলছেন। এতক্ষণ ফারাজের মামারাও ছিলো এখানে। এখন অন্যদিকে চলে গেছেন। স্ত্রীর কথা শুনে বললেন,
“তুমি নিজেই তো বলতে এসেছো বলো কি কথা?”
“ফারাজ নাকি আসছে। মুখলেস মিয়া বলল, ফারাজ নাকি সকালে কলেজে যাওয়ার আগে মুখলেস মিয়াকে টাঙ্গাইলে যাবে বলছে। বাসার চাবি মুখলেস মিয়ার কাছে দিয়ে এসেছে।”
আফজাল খান কিছুক্ষণ চুপ থেকে সন্দেহের গলায় বললেন,
“কলেজে পরিক্ষার দায় দায়িত্ব শেষ নাকি?”
ছকিনা খাতুন এগিয়ে এলেন লাঠিতে ভর দিয়ে। আজকাল লাঠিতে ভর না দিলে হাঁটতে একটু অসুবিধা হয়। পান চিবুতে চিবুতে বললেন,
“কিয়ের কথা কইতাছো বাপজান। আমার নাতির কথা কইতাছো মনে হইতাছে?”
“হ্যাঁ আম্মা। আন্নের নাতি নাকি টাঙ্গাইলে আসবে।”
“আলহামদুলিল্লাহ্ হুইনা মনডা খুশিতে ভালা হয় গেলো বাপজান।”
*********************************************
তিতলি রুমে বসে আছে অনেকক্ষণ ধরে। মোবাইল হাতে নিয়ে শুধু দেখে কখন ফারাজ কল করবে। কিন্তু দেখে নিধি কল দিয়েছে তিতলি ফোন রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে নিধি টানটান গলায় বলে,
“কি খবর বেইবি শুনেছি টাঙ্গাইলে গিয়েছিস?”
তিতলি অবাক হয়ে বলল,
“আমি তোকে জানানোর সময় পায়নি। কিন্তু তুই কার থেকে শুনেছিস?”
নিধি:- “দুলাভাই বলেছে।”
তিতলি: – ‘ কিহহ! তুই কি জিজ্ঞেস করেছিস ওনাকে?’
নিধি:- ‘এমনি তোর কথা জিজ্ঞেস করায় বলছে টাঙ্গাইলে গেছে। একটা সারপ্রাইজ আছে শুনবি?”
তিতলি:- ‘কি সারপ্রাইজ বল?’
নিধি ওপাশ থেকে উত্তেজিত গলায় বলল,
“আমিও কিন্তু টাঙ্গাইলে যাচ্ছি কালকে। ফুপুর বাসায়। দেখা হবে বেইবি।”
তিতলি অনেক খুশি হয়ে যায় নিধি আসবে শুনে।
“তাহলে তো খুব মজা হবে।”
তিতলি নিধির সাথে আরও কয়েকটা কথা বলে মোবাইল টেবিলে রেখে আবার রুম বের হবে হবে ভাব। দরজার কাছাকাছি যেতেই সহসা কারো শক্তপোক্ত বুকের সাথে ধাক্কা লেগে মেঝেতে পড়ে গেলো বেচারি। উপরে না তাকিয়ে নিজের তুলতুলে নরম পৃষ্টদেশের স্পর্শকতার অঙ্গ দুটো হাত দিয়ে ডলছে। এত ব্যথা পেয়েছে। সাথে কোমড়ও ভেঙে গিয়েছে মনে হয়। আর্তনাদ করে বলে ওঠে,
–আহ…আমার কোমড়….” অর্ধেক বলে বিড়বিড় করে আওড়ালো,
“রুমের মাঝখানে আবার এই লোহার রডের পিলার কোথায় থেকে আসলো। একদম ভাল্লুকের মতো শক্ত ….”
তিতলির কথা পথিমধ্যেই থেমে গেলো। সামনে দাঁড়ানো ব্যক্তিকে দেখে হকচকিয়ে উঠল। বড়বড় চোখে তাকিয়ে রইলো। বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছে সে। অগন্তুকের গোলান্দায মুখশ্রী লাল বর্ণ ধারণ করেছে। সাথে চোখজোড়া ও। চোখের কোণা লালচে দেখাচ্ছে সামান্য। ভ্রু দু’য়ের মাঝখানে সূক্ষ্ম ভাজ পড়েছে। চুলগুলো সামান্য এলোমেলো হয়ে কপালে ঝু লে আছে। কলেজের পোশাকে ফারাজ দাঁড়িয়ে। মনে হয় আজকে কলেজ থেকে সোজা টাঙ্গাইলে এসেছে। কিন্তু এটা তিতলির বিশ্বাস হচ্ছে না। ভয়ে তটস্থ বোকা মানবী তক্ষুনি গগন কাঁপিয়ে চিৎকার করে উঠে,
“ভূ….ভূততত, ভূততত!”
সহসা ধারালো দাঁতের স্পর্শে নিজ নিম্নাংশেরর ঠোঁটখানা পিষ্ট করল যুবক। একহাতে তিতলির মুখ চেপে ধরল। অন্যহাতে তিতলিকে টানতে থাকলো। তিতলি ভয়ে মুখ চেপে ধরে রাখা হাতে শরীরের সবটুকু শক্তি প্রয়োগ করে কামড় বসিয়ে দেয়। পাঁচ থেকে ছয় মিনিটের বেশি এভাবে ধরে রাখলো এতটাই জোড়ে ছিলো যে সে নিজেই নিজের দাঁতে ব্যথা পায় কিন্তু সামনের যুবকের মধ্যে কোনোরকম ভাবান্তর দেখা গেলো না। ফারাজের হাতের তালু রক্তবর্ণ ধারণ করেছে। যেন রক্ত বের হবে। তিতলি এবার সত্যি ভয় পেয়ে যায়। মানুষ হলে এতক্ষণে তার কামড়ে চিৎকার দেওয়ার কথা। নিশ্চিত ফারাজের রুপ ধরে কোনো ভূতপ্রেত বা এলিয়েন টাইপ কিছু তার সামনে এসেছে। সবার আগে আয়ুতুল কুরসী পড়া শরু করেছে। তার দাদুর কাছে শুনেছে আয়ুতুল কুরসী পড়লে ভূতপ্রেত চলে যায়।অস্পষ্ট গলায় শুরু করেছে,
“আউজুবিল্লাহিমার সয়তানির রাজিম
বিসমিল্লাহির রাহমানির রহিম!”
“আ..আয়ুতুল কুরসী!”
“আল্লাহু লা ই…ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়ুল কাইয়ুম..”
ফারাজ তিতলির মুখ চেপে ধরে। তিতলি ভূত ভেবে আবার চিৎকার করতে গেলে ফারাজ সবটুকু তেজ কন্ঠে ঢেলে বলল,
“চুপ একদম চুপ!”
তিতলি এবার কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। তাও পুরোপুরি না। যেন স্বপ্ন দেখছে সে। জোরজবরদস্তি তে ওড়না খুলে মেঝেতে পড়ে গড়াগড়ি খাচ্ছে। ভেজা চুল এলোমেলো হয়ে গিয়েছে। তিতলি দৌড়ে দরজার খুলে বেরিয়ে যেতে চাইলো ফারাজকে দেখে এখনো দুচোখকে বিশ্বাস করতে পারছে না সে হয়তো ভাবছে এটা সত্যি ফারাজ কিনা। দরজার দিকে কয়েক কদম পা বাড়ালো সপ্তদশী, তক্ষুনি হাতের তুলতুলে নরম কব্জি টেনে ধরে ফারাজ। ফারাজের পেশিবহুল হাতের একটানে অপ্রস্তুত তিতলি থুবড়ে পড়েছে ফারাজের বুকে। চিরচেনা সেই সুগন্ধি ঘ্রাণ ভেসে এসেছে নাকে। ফারাজের স্বাস্থ্যসম্মত শরীর গরম। উষ্ণ অনুভব করছে। সেই উষ্ণ অনুভবের নে শা য় স্বেচ্ছায় পড়ে রইলো ফারাজের বাহুতে। উদ্বিগ্নতার সহিত মিশে গেল পুরোপুরি। ঘনিষ্ঠ হয়ে নিজেই দুরু কেঁপে উঠলো। শিহরণ বয়ে গেল সম্পুর্ন শরীর জুড়ে। উপলব্ধি করতে পেল ফারাজের উঠানামা করা বুকের গতি। ধকধকানো শব্দ ও যেন শুনতে পারছে ভেতর হতে। ফারাজ শক্ত গলায় বলল,
“পালাচ্ছো কেন এখন? কার উস্কানি পেয়ে এত সাহস বেড়েছে ? মোবাইল কই?”
ফারাজ তিতলিকে বুকে রাখল না তিতলির তুলোর সাদৃশ দেহটা ছুড়ে বিছানায় ফেলে দিয়ে পেছনে ঘুরে কিছু একটা খুঁজলো দেখল টেবিলে মোবাইল। ফারাজকে মোবাইলের দিকে এগিয়ে যেতে দেখে তিতলির তো জান যায় যায় অবস্থা। মনে পড়ে গেল সে আসার পর থেকে ফারাজের একটা কল রিসিভ করেনি মেসেজও সিন করে রিপ্লাই করেনি। আল্লাহ এখন কি করবে সে? উঠে বাধা দেওয়ার আগেই ফারাজ রাগে হিতাহিত দিশেহারা হয়ে মোবাইল ঘাটাঘাটি করে মেঝেতে আছাড় দিয়ে ফেলে দিয়েছে। তিতলির কান্না আর কে দেখে। তার শখের আইফোন। চোখের কোণ বেয়ে পানি পড়া শুরু করেছে। কিছুদিন আগে ফারাজ কিনে দিয়েছে আইফোনটা। সে দৌড়ে আইফোনটা হাতে নিলো। উপরের কাঁচ ভেঙে গুরোগুরো হয়ে গিয়েছে। এবার আর অবিশ্বাস করার কারণ নেই। তার মোবাইল ভেঙে দেওয়ার সাহস শুধু ফারাজের আছে।,
“এটা কি করলেন আপনি? আপনার মাথা ঠিক নেই?”
ফারাজ তিতলির কথার উত্তর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা না দেখিয়ে উল্টো তিতলিকে আবার বিছানায় ফেলে দিয়ে ঈশুর তুলতুলে নরম হাতদুটোকে নিজের বলিষ্ঠ হাতে মুঠোবন্দি করে বিছানার সাথে চেপে ধরে আচানক চেপে ধরে ওর লতানো শীর্ণকায় শরীরটাকে। মায়াজালের ন্যায় বিস্তৃত দম আটকে আসা চোখ দুটোতে দৃষ্টি ফেলে তীক্ষ্ণ চোয়ালের পেশি গুলো আরও খানিকটা শক্ত করে গমগমে আওয়াজে ফারাজ বলে,
“মাথা ঠিক নেই সত্যি মাথা ঠিক নেই। দ্বিতীয়বার প্রশ্ন করতে আসলে জান বের করে ফেলব।”
“আমি..আমি কি করেছি?”
ফারাজ হাত তুলে তিতলির শরীরের উপর নিজের বলিষ্ঠ রানের ভার ছেড়ে ওর বাম গালে হাত এগিয়ে নিতে গিয়ে পাশের কাঁচের জানালায় ঠাস করে বারি দিলো। তিতলি ভয়ে কেঁপে উঠে শুকনো ঢোক গিলল। জিভ ঠেলে অধর ভিজালো ফারাজ। কপালটা মাত্রাতিরিক্ত কুঁচকে রেখে শক্ত গলায় বলল,
“কিছু করো নি তুমি? ভেবে দেখো কি করেছ তুমি? সেকেন্ড টাইম….”
আরো কিছু বলতে গিয়ে তিতলিকে শূন্য তুলে বিছানায় উপুড় হয়ে শুইয়ে দেয়। তিতলির উন্মুক্ত ফর্সা মসৃণ পিঠে পরপর তিনটা থাপ্পড় দেয়। সামন্য হলেও তিতলি ব্যথা পেয়ে কুকড়ে উঠতেই ফারাজ তিতলির শরীরটায় কঠিন ঝাঁকুনি দিয়ে রেগে বলে উঠলো,
“আমার উনুপুস্থিতিতে এই জামা পরার সাহস কই পেলে? কার কার সামনে গেছো এটা পরে? আন্সার মি?’
তিতলির তো ভয়ে জান যায় যায় অবস্থা। এখন আবার জামা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। জামাগুলো তো ওনি নিজেই কিনে এনেছেন। ফারাজ পেছন থেকে তিতলির জামার ফিতে খুলে দিচ্ছে দেখে তিতলি তখন কান্নামিশ্রিত গলায় বলল,
“শুধু ড্রয়িংরুমে গেছি বিশ্বাস করুন।”
“এক্ষুনি খুলো এটা।”
খুলবো মানে….”
বাক্যটুকু সিক্ত জিভ খসে বেরুনোর ফুরসত অব্দি পেলো না বোধহয়, তার পূর্বেই তিতলির কর্ণকুহরে পৌঁছাল ফারাজের নির্লিপ্ত কণ্ঠ!
“এখন খোলার প্রয়োজন নেই। রুম থেক বেরোবের আগে আমি নিজের হাতে খুলে দেবো।”
“আপনি তো নিজেই সেদিন জামা গুলো কিনে এনেছেন তাহলে আবার পেছনের গলা এত বড় নিয়ে কথা তুলছেন কেন?”
“আমি এনেছি আমার সামনে পরার জন্য। তোমাকে এখানে এসে এই জামা পরার অধিকার আমি দিইনি।”
“মো-মোবাইল ভেঙে দিয়েছেন কেন?”
বলেই তিতলি ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কেঁদে দিলো। সামান্য মোবাইলের জন্য কেঁদে কেঁটে একাকার অবস্থা। কই তার জন্য তো একবারও কাঁদতে দেখল না? উল্টো তার কোনো কল রিসিভ করেনি। মেসেজ সিন করে রিপ্লাই করেনি তখন ফারাজ হাতের জোড় বাড়াল আরো। চিড়বিড়িয়ে আওড়ালো,
“তুমি বলো তোমার মোবাইল কেন ভেঙেছি আমি? কোনো দোষ করো নি তুমি?”
“না!”
“কালকে থেকে আমার কল রিসিভ করেনি কে? ফোন অফ করে রেখেছে কে? জানে ভয় নেই? একবারও মনে হয় নি? এর ফল কি হতে পারে?”
তিতলি এবার বুঝল কল মেসেজ সবকিছুর সুদ নিতে তাকে এখন শায়েস্তা করবে। সে ভেজা চোখে ঘাড় তুলে পিটপিট করে তাকাল। বুঝল কিছু না বললে সবকিছু হজম করতে হবে। কিন্তু কাজের সামিলে পরার চেয়ে মুখ দিয়ে সত্যি কথা বলে দেওয়া দরকার। তাই আর কিছু না ভেবে মিনমিনিয়ে বলল,
“আমি কি করবো বলুন কল রিসিভ করলে তো আপনি আসতেন না? তাই একটু ড্রামা করে নিয়ে এসেছি।”
সহসা নিজ নিম্নাংশের অধর কামড়ে ধরল ফারাজ। সাথে চোখের দৃষ্টি তীক্ষ্ণ হলো। ঘাড়টা সামান্য কাত করে এদিক ওদিক তাকায়। তখন তিতলি ভয়ডর ভুলে গিয়ে বলল,
“আপনি আমার জন্য এসেছেন তাইনা?”
তিতলির প্রশ্নে ফারাজের মধ্যে কোনো পরিবর্তন দেখা গেলো না। প্রশ্নের জবাব দিবে তো দূরের বিষয়! কয়েক মিনিটেও ফারাজের থেকে কোনো উত্তর এলো না।
তিতলি পুনরায় বলল,
‘বলেন না!’
“ককখন এসেছেন আপনি?”
ফারাজ বিছানা থেকে নেমে একহাতে পরনের শার্টটা খুলে মেঝেতে ছুড়ে ফেলে দিলো। তিতলি ফারাজকে শার্ট খুলে ফেলতে দেখে আবার উঠে দরজার দিকে দৌড় দিতে গেলো। ভাল্লুক হেব্বি রেগে গিয়েছে। তিতলিকে আবার অন্যহাতে টেনেহিঁচরে নিজের সামনে একটা বেতের চেয়ারে এনে বসিয়ে সেও তিতলির মুখোমুখি একটা সোফায় আরাম করে দুদিকে দুপা ছড়িয়ে দিয়ে বসল। তিতলির উপর গভীর দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বিরক্তির রেশ ধরে বলল,
“সেটা তোমার জানার প্রয়োজন নেই। চুপচাপ আমার দুচোখের সামনে বসে থাকো! আর একবার উঠার চেষ্টা করলে হাতপা দুটোই চেয়ারের সাথে বেঁধে দেবো। এখনো কিছু করিনি তোমায়, আজকে কি করবো তোমার দেখে যাও শুধু।”
তিতলি উপরে উপরে অভিনয় করলেও মনেমনে ফারাজ এসেছে দেখে চোখদুটো উজ্জল হয়ে গিয়েছে। কিন্তু সে উজ্জলতা বেশিক্ষণ টিকলো না। ফারাজ তিতলির মুখের বড্ড কাছে নিজের মুখটা ঝুঁকিয়ে এনে বড্ড বড়করে গাল দিয়ে নিশ্বাস ছাড়লো। তিতলি কেশে উঠে নাকমুখ কুঁচকে নিলো। গোল মুখশ্রীতে হতবিহ্বল, বিস্মিত ভাব ধরেছে রমণীর। এ অবধি সে কখনো ফারাজের থেকে সিগারেটের গন্ধ পায়নি। ফারাজ আবার একই কাজ করতেই তক্ষুনি তিতলি পুনরায় কেশে উঠে বলল,
“আপনার থেকে সিগারেটের গন্ধ আসছে নাকে, আপনি..আপনি সিগারেট খেয়েছেন?”
তিললির কথা শেষ হয়েছে কি হয়নি, সাথেসাথেই ফারাজ তিতলির কথা ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে উত্তর দিলো একেবারে নিজের ঢঙে,
“ও তাই? গন্ধ টা শুধু নাকেই সীমাবদ্ধ থাকুক সেটা তুমি চাওনা তাইতো? ওকে ফাইন,আজকে একটু সিগারেটের গন্ধ সহ্য করে নিতে পারবে।”
[লাস্ট কথা ৫ হাজার রিয়েক্ট না হলে গল্প আর লিখব না। এতবড় পর্ব দিয়েছি ৪১ পর্বের শেষাংশ সহ ৪২ পর্ব একসাথে। একটু রিয়েক্ট, বড়বড় কমেন্ট তো করে যাবে কেমন। ৫ হাজার রিয়েক্ট হলেই নেক্সট পর্ব আসবে।
[হাত পায়ের ব্যাথা নিয়ে শুয়ে শুয়ে গল্প লিখেছি তার ফলটা যেন পায়। সবাই একটু দোয়া করো আমার জন্য পাখিরা]
Share On:
TAGS: রাগে অনুরাগে, সুহাসিনি ফাতেহা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ৪৩
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ৩
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ৫৯
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ৬
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ৩৮
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ৫৫
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ৩১ (প্রথম অংশ+শেষাংশ)
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ২৫
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ৮(প্রথম অংশ+দ্বিতীয় অংশ)
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ৩৩