Golpo romantic golpo মূল্য

মূল্য পর্ব ৭


#মূল্য |০৭|
#সাদিয়া_সুলতানা_মনি
—”শুনো বউমা, তোমাকে আজ আমি সাফসাফ একটা কথা বলে দিচ্ছি। হয়তো তুমি আগের মতো শুধু সংসারটাই করবে। তোমার সকল ধ্যান-জ্ঞান থাকবে আমার ছেলে আর এই সংসারকে ঘিরে। নাহয় তোমার ওই ব্যবসা। এখন সিদ্ধান্ত তোমার। তুমি কোনটা বেছে নেবে? স্বামী-সংসার নাকি ব্যবসা?”
কথাগুলো শুনে নীলার বুকের ভেতরটা হঠাৎ করেই কেমন মোচড় দিয়ে উঠল।
অদ্ভুত ব্যাপার, এতদিন ধরে যে প্রশ্নটার উত্তর সে নিজেই খুঁজছিল, আজ সেই প্রশ্নটাই অন্য একজন তার সামনে ছুড়ে দিল। স্বামী নাকি নিজের স্বপ্ন? সংসার নাকি নিজের অস্তিত্ব?
এক মুহূর্তের জন্য নীলার মনে হলো, সে যেন আবার সেই পুরোনো জায়গাটায় দাঁড়িয়ে আছে। সেই একই চার দেয়াল, মুখে বলা ভালোবাসার আড়ালে অবহেলা করা একই মানুষগুলো, আর একাকী নীলা। হ্যাঁ, নীলারা ভীষণ একা হয়।
মনে পড়ে গেল তার সেই একাকী রাতগুলোর কথা। অরিত্র বিছানায় তার পায়ে থেকেও কত রাত ছিলো না তার মনের কাছাকাছি। স্বামী ছিল, সংসার ছিল, অথচ ভালোবাসার জন্য হাত বাড়ালে মুঠোভর্তি শূন্যতা ছাড়া কিছুই পায়নি।
কতবার সে নিজেকে বুঝিয়েছে— ‘অরিত্র ব্যস্ত। পুরুষ মানুষ, সংসারের দায়িত্ব তার ঘাড়ে। সবসময় তো আর আমাকে সময় দেওয়া সম্ভব নয়।’
কতবার নিজের কষ্টটাকে নিজেই গিলে ফেলেছে। কতবার নিজের অভিমানী ভাবনাগুলোকে অহেতুক বাড়াবাড়ি ভেবে উড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু এত কিছুর পরও বিনিময়ে কী পেয়েছে?
না ভালোবাসা, না অগ্রাধিকার। বরং ধীরে ধীরে সে হয়ে উঠেছে এমন একজন মানুষ, যার উপস্থিতিটাই যেন সংসারের কাছে স্বাভাবিক—অথচ অনুপস্থিতিটা কেউ অনুভব করে না।
নীলার বুকের ভেতরটা আবার কেঁপে উঠল। সে আর সেই জীবনে ফিরতে চায় না। সে চায় না অরিত্রের জীবনে শুধু একজন দায়িত্ব হয়ে থাকতে। চায় না ‘স্ত্রী’ নামের সম্পর্কটা কেবল খাবার-দাবার, কাপড়চোপড়, সংসারের হিসাব আর কর্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে যাক।
সে ভালোবাসা হতে চায়। কারও ব্যস্ত জীবনের অবশিষ্ট সময়টুকু নয়, বরং কারও জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে চায়। সে চায় অরিত্র কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় একবার অন্তত তার কথাও ভাবুক।
সে চায়, তার অসুস্থতায়ও কেউ রাত জেগে পাশে বসে থাকুক। সে চায়, তার মন খারাপের কারণ জানতে কেউ ব্যস্ত হয়ে উঠুক। সে চায়, সে একজন স্ত্রী হিসেবে নয়, একজন মানুষ হিসেবেও মূল্য পাক।
এই চাওয়াগুলো কি এত বেশি? নিজের কাছেই প্রশ্নটা করে নীলা। তার মন তৎক্ষনাৎ জবাব দেয়, না। এগুলো কোনো বিলাসিতা নয়। এগুলো ভালোবাসার ন্যূনতম প্রাপ্য।
অনেক আগে থেকেই নীলা এমন একটা দিনের কথা কল্পনা করে রেখেছিল। যে দিন হয়তো তাকে বলা হবে—স্বামী-সংসার অথবা তার নিজের শখ, দুটির মধ্যে একটাকে বেছে নিতে হবে। সে জানত, এমন দিন আসতে পারে। আর হলোও তাই।
কিন্তু তখনও সে ভাবেনি, প্রশ্নটা শুনলে তার ভেতরে এতটা শূন্যতা তৈরি হবে। কারণ আজ সে বুঝতে পারছে, তাকে আসলে ব্যবসা ছাড়তে বলা হচ্ছে না। তাকে আবারও নিজের একটা অংশ মেরে ফেলতে বলা হচ্ছে।
কিন্তু কেন ছাড়বে সে তার ব্যবসাকে? কেন সংসার টিকিয়ে রাখার দায়িত্বটা সবসময় নারীর আত্মত্যাগের ওপরেই দাঁড়িয়ে থাকবে?
একজন নারী সংসার করবে এটা স্বাভাবিক। কিন্তু সংসার করার অর্থ কি নিজের স্বপ্নগুলোকে কবর দেওয়া? নিজের ইচ্ছেগুলোকে ধীরে ধীরে মেরে ফেলা? নিজের সামর্থ্যকে অস্বীকার করা?
নীলা তো সংসার থেকে পালিয়ে যাচ্ছে না। সে ঘর ছেড়ে কোথাও চলে যাচ্ছে না। সে কেবল ঘরের পাশাপাশি নিজের জন্যও একটা পৃথিবী বানাতে চাইছে।
তার দুই ননদ কাজ করছে। তার ছোট জা কাকলীও অনলাইনে কাজ করছে। তাদের ক্ষেত্রে সংসার আর তাদের স্বপ্ন পাশাপাশি চলতে পারলে, নীলার ক্ষেত্রেই কেন দুটোর মধ্যে একটাকে বেছে নিতে হবে? কেন প্রতিবার নীলাকেই প্রমাণ করতে হবে যে সে ভালো বউ? কেন তাকে নিজের ইচ্ছা বিসর্জন দিয়েই নিজের ভালোবাসার যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে?
হঠাৎ করেই নীলার মনে হলো, এতদিন সে আসলে ভালো বউ হওয়ার প্রতিযোগিতায় নিজেকেই হারিয়ে ফেলেছে। সবাইকে খুশি করতে গিয়ে একসময় সে ভুলেই গিয়েছিল, নিজেকেও খুশি রাখার একটা দায়িত্ব তার নিজের আছে।
চোখের কোণে জমে থাকা পানিটুকু নীলা শক্ত হাতে মুছে ফেলল। বহু কেঁদেছে সে। এতটাই কেঁদেছে যে, কান্নার শব্দও একসময় তার নিজের কাছে বিরক্তিকর, অর্থহীন হয়ে গিয়েছিল। নিঃশব্দে, গুমরে গুমরে কাঁদতে কাঁদতে একটা মানুষ কীভাবে ভেতর থেকে ধ্বংস হয়ে যায়—নীলা সেটা জানে।
কিন্তু আজ তার চোখে পানি থাকলেও, সেই পানির ভেতরে আগের মতো অসহায়ত্ব নেই। আছে ক্লান্তি। আছে ক্ষত। আর সেই ক্ষতের গভীর থেকে জন্ম নেওয়া একরাশ আত্মসম্মান।
নীলা ধীরে ধীরে মাথা তুলল। শীড়ঁদাড়া সোজা করে শাশুড়ির চোখে চোখ রেখে বলল—
—”আপনার দুই মেয়ে, আমার ছোট জায়ের বেলায় তো কখনো এমন কথা উঠেনি। তাহলে আমার বেলাতেই বা উঠছে কেন মা?
যাই হোক, তারা যদি নিজেদের চাকরি ছেড়ে ঘর-সংসার করে, তাহলে আমিও ছেড়ে দেব। অন্যথায় ছাড়ব না।”
কথাটা বলার পর নীলা নিজেই নিজের কণ্ঠস্বর শুনে খানিকটা থমকে গেল। এটা কি সত্যিই সে বলল? যে নীলা এত বছর ধরে কারও মুখের ওপর ‘না’ বলতে পারেনি, আজ সেই নীলাই এতটা স্পষ্টভাবে নিজের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিল?
অন্যদিকে কেবিনে উপস্থিত সবাই যেন একই সঙ্গে নিঃশ্বাস আটকে ফেলল নীলার স্পষ্ট জবাব শুনে। কেউ বিশ্বাস করতে পারল না এই নীলাকে। কারণ নীলা বরাবরই কোমল, মিষ্টিভাষী, নাজুক স্বভাবের।
বিয়ের পর থেকে আজ অবধি শ্বশুরবাড়ির কারও কথা অমান্য করেনি সে। নিজের পছন্দ-অপছন্দের চেয়েও অন্যের স্বস্তিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। আর তারা অদ্ভুত স্বভাবের মানুষ।
যে মানুষটি প্রতিনিয়ত নিজের ইচ্ছা গিলে তাদের স্বস্তি দিয়েছে, তাকে তারা ভেবেছে সে এমনই। যে মানুষটি প্রতিবাদ করেনি, তাকে তারা ধরে নিয়েছে, তার প্রতিবাদ করার ক্ষমতা নেই। যে মানুষটি নীরব থেকেছে, তাকে তারা ভেবে নিয়েছে—সে বুঝি কিছু বোঝে না।
অথচ নরম মানুষ অবুঝ বা বোকা হয় না। অনেক সময় তারা শুধু সম্পর্কটাকে বাঁচানোর জন্য নিজের সঙ্গে যুদ্ধ করে। আর সেই যুদ্ধটা যতদিন বাইরে দেখা যায় না, ততদিন সবাই ধরে নেয়—মানুষটা দুর্বল, অজ্ঞ।
আসলে নীলার নীরবতা কখনোই অজ্ঞতা ছিল না। ছিল ভালোবাসা মোড়ানো। ছিল সম্পর্ক হারানোর ভয়। ছিল ‘সংসারটা যেন না ভাঙে’—এই একতরফা দায়বোধ।
কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে যখন একজন মানুষ নিজের অনুভূতিকে উপেক্ষা করতে করতে ক্লান্ত হয়ে যায়, তখন একসময় তার ভেতরেও একটা সীমারেখা তৈরি হয়।
সেই সীমারেখা পার হওয়ার পর আর কান্না আসে না। আসে সিদ্ধান্ত। নীলার ক্ষেত্রেও ঠিক সেটাই হয়েছে।এতদিন সে তাদের ভালোবেসেছে। তাদের কথা মেনেছে।তাদের আবদার রেখেছে। নিজের অসুবিধাকে তুচ্ছ করে সংসারের সুবিধাকে বড় করেছে।
আর তার বিনিময়ে তারা তাকে কী দিয়েছে? একটা ‘ভালো বউ’ হওয়ার সার্টিফিকেট। কিন্তু নীলা আজ বুঝতে পারছে—শুধু ভালো বউ হয়ে বেঁচে থাকলে হয় না।
একজন নারীকে আগে একজন মানুষ হিসেবেও বাঁচতে হয়। নিজের পায়ের নিচে নিজের মাটি থাকা দরকার।কারণ যার নিজের কোনো আশ্রয় নেই, সে যতই ভালোবাসা পাক, সেই ভালোবাসার ভেতরেও নিরাপত্তাহীনতা থেকে যায়।
আর অরিত্রের পরিবার হয়তো ঠিক সেটাই ভয় পাচ্ছে। নীলা যদি নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে যায়? নীলা যদি নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিতে শেখে? নীলা যদি বুঝে যায় যে, ভালোবাসার জন্য তাকে প্রতিবার নিজের অস্তিত্ব বিসর্জন দিতে হবে না? তাহলে এতদিনের সেই অদৃশ্য কর্তৃত্বটা কোথায় থাকবে? এই ভয়টাই হয়তো তাদের অস্বস্তির আসল কারণ।
নীলার জবাবে অরিত্রের মা খেঁকিয়ে উঠলেন—
—”কি বললে বউমা! তুমি নিজেকে এখন আমার মেয়েদের সঙ্গে তুলনা করছো?”
নীলা এবারও গলা উঁচু করল না। বরং অদ্ভুত শান্ত একটা কণ্ঠে বলল—
—”তুলনার কী পেলেন, আম্মা? যা সত্য, তাই বলছি। ওদের কথা নাহয় বাদই দিলাম। কিন্তু আপনার আরেক ছেলের বউও তো অনলাইনে কাজ করে। ওর বেলায় যেটা সঠিক, আমার বেলায় কেন সেটা ভুল? আমিও তো ঘরে বসেই কাজ করছি।”
কাকলীর প্রসঙ্গ আসতেই অরিত্রের মা খানিকটা থেমে গেলেন।
কাকলী এমন একজন মানুষ, যে নিজের জন্য একটা পথ তৈরি করার পাশাপাশি অন্য নারীদেরও সেই পথে হাঁটতে উৎসাহ দেয়। নীলা যখন অনলাইনে ব্যবসা শুরু করেছিল, তখন সবার আগে কাকলীই তাকে উৎসাহ দিয়েছিল।
কারণ সে বিশ্বাস করে, প্রতি নারীরই উচিত নিজের জন্য নূন্যতম কিছু করার। তাই সে নিজের আশেপাশের সকল নারীদের অনুপ্রাণিত করে নিজের জন্য কাজ করার।
অরিত্রের মা কিছু বলতে যাবেন, তার আগেই নীলা এবার একটু ধীরে বলল—
—”আচ্ছা মা, একটা সংসারের সব দায়-দায়িত্ব কি শুধু নারীদেরই?”
কথাটা বলে সে একটু থামে। ঘরটা তখনও নিস্তব্ধতায় ছেয়ে রয়েছে। নীলা একবার চারপাশে তাকাল।
আজ তার ভয় করছে না। বরং এতদিন ধরে নিজের ভেতরে জমিয়ে রাখা প্রশ্নগুলো উচ্চারণ করতে পারার মধ্যে এক ধরনের অদ্ভুত মুক্তি অনুভব করছে।
—”পুরুষের দায়িত্ব কি শুধু সংসারের খরচ দেওয়া পর্যন্তই? এর বাইরে তার সংসার আর স্ত্রীর প্রতি কোনো দায়িত্ব নেই?”
সে অরিত্রের দিকে এক পলক দেখে নিয়ে বলে–
—”গত বছর আমার নিউমোনিয়া হয়েছিল। কতটা ভুগতে হয়েছিল আশা করি আপনারা সবাই জানেন। বিশ দিন হাসপাতালে ছিলাম। কই, তখন তো আপনার ছেলে একটা দিনের জন্যও অফিস থেকে ছুটি নিয়ে আমার পাশে বসে থাকেনি। রাত জেগে আমার দেখাশোনাও করেনি। তখন আমার বৃদ্ধ মা-ই আমার পাশে ছিল। কই, তখন তো কেউ বলেনি—‘অরিত্র, হয় স্ত্রীকে বেছে নাও, নয়তো চাকরিকে।’”
কথাগুলো বলতে বলতে নীলার চোখের সামনে ভেসে উঠল হাসপাতালের সেই সাদা দেয়াল। অক্সিজেনের গন্ধ।
রাতের নিস্তব্ধতা। শরীরের অসহ্য দুর্বলতা। আর পাশে বসে থাকা বৃদ্ধ মায়ের কাঁপা হাতের যত্ন।
সেই সময় অরিত্রকে খুব মনে পড়েছিল তার। ভীষণ। কিন্তু ফোনের ওপাশে ব্যস্ত একটা কণ্ঠ ছাড়া সে আর কিছু পায়নি। অরিত্র প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় তার সাথে দেখা করতে আসলেও, একদিনও তার সাথে থাকেনি হসপিটালে। তখন তার অফিসে জরুরি কাজ ছিল নাকি।
তখন সে অরিত্রের কাজের প্রয়োজনীয়তাকে বুঝেছিল।
তাহলে আজ অরিত্রের পরিবার কেন তার কাজের প্রয়োজনীয়তাকে বুঝতে পারছে না?
—”বিয়ের পর আমার সব দায়-দায়িত্ব আপনার ছেলের। তাহলে সে কেন তখন আমার দায়িত্বটুকু আমার মায়ের কাঁধে গছিয়ে দিয়েছিল?”
নীলার কণ্ঠে অভিযোগ ছিল না। ছিল এক ধরনের নির্মোহ প্রশ্ন। যে প্রশ্নের উত্তর হয়তো উপস্থিত কেউই দিতে পারবে না।
সে আবার বলল—
—”আচ্ছা, সেসবও বাদ দিলাম। আপনাকে একজন বিবেকবান মানুষ ভেবে একটা প্রশ্ন করি—বিয়ের পর মেয়েরাই কেন নিজেদের শখ-আহ্লাদ বিসর্জন দেবে সংসারের জন্য? শখ ছাড়া মানুষ বাঁচে?”
একটু থেমে খুব ধীরে বলল—
—”আপনি হয়তো বলবেন, বাঁচে। কিন্তু আমি বলব, সেটা বেঁচে থাকা নয়। সেটা শুধু দিন পার করা। যেমনটা আমি এতদিন বেঁচে এসেছিল। “
তার চোখে এবার পানি এসে জমল। কিন্তু সে পানি মুছে ফেলল না। আজকের এই কান্না আগের কান্নার মতো নয়।
এই কান্নায় অসহায়ত্ব নেই। আছে নিজের সত্যটাকে মেনে নেওয়ার সাহস।
—”আমি সংসার করতে চাই, মা। অরিত্রকে ভালোবাসি বলেই এই সংসারটাকে এত বছর ধরে আঁকড়ে রেখেছি। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, সংসার বাঁচাতে গিয়ে আমাকে প্রতিদিন নিজের একটা অংশ মেরে ফেলতে হবে। আমার শখ, আমার ব্যবসা আমার জীবনের একটি অংশ।”
নীলা একটু থামল। তারপর খুব দৃঢ় স্বরে বলল—
—”আমি কাউকে ছেড়ে নিজের ব্যবসা করতে চাই না। আমি শুধু চাই, আমার সংসারের ভেতরে আমার নিজের জন্যও একটু জায়গা থাকুক। আমার চাওয়ার মূল্য দেওয়া হোক। শুধু বিয়ের করা বউ না একজন মানুষ হিসেবেও আমাকে মূল্যায়ন করা হোক।”
নিজের হয়ে যতটুকু বলা উচিত বলে নীলা মনে করেছে, ততটুকু বলা শেষে সে এবার চুপ হয়ে যায়। তার কথার দৃঢ়তাই বলে দিচ্ছে, সে কতটা পরিবর্তন হয়েছে ভেতরে ভেতরে।
অরিত্রের মা চোখ মুখ অস্বাভাবিক গম্ভীর করে নীলাকে প্রশ্ন করে –
—”তার মানে তুমি তোমার ব্যবসা ছাড়বে না?”
নীলা তৎক্ষনাৎ তার কথার উত্তর দেয় না, বরং একটু সময় নিয়ে রয়েসয়ে বলতে চায় কিছু। কিন্তু তার আগেই একটি পুরুষালি গম্ভীর গলা থেকে শোনা যায় বয়োবৃদ্ধের প্রশ্নের উত্তরটি।
—”না, নীলা ছাড়বে না তার ব্যবসা…..”
[গল্পটি ভালো লাগলে বেশি বেশি শেয়ার করে আপনার গল্প প্রেমী বন্ধুদের নিকট পৌঁছে দিন। ]
শব্দসংখ্যা~১৬৬০
#চলবে?
[শেষোক্ত কথাটি কে বলেছে বকে আপনাদের মনে হয়?
গঠনমূলক মন্তব্য আশা করছি। ছোট বলে অভিযোগ করলে কষ্ট পাবো। আজ যথেষ্ট বড় করে করে দিয়েছি।
ভুলক্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। হ্যাপি রিডিং মাই লাভিং রিডার্স। ]

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply