#আলতোছোঁয়ায়_সমুদ্রকথন_(১৪.১)
#নুসরাত_সুলতানা_সেঁজুতি
ইকবাল অতীষ্ঠ!
এই মাঝদুপুরে, গরমে তেতেপুড়ে অনেকক্ষণ ধরে বসে আছে, কিন্তু পুষ্পর কোনো দেখা নেই। হাতঘড়িটায় কয়েকবার চাইল ও। এই পার্কে এত লোকজন! একা একা এভাবে বসে থাকা যায়! পার্কে কত মেয়ে… এদিক থেকে ওদিকে হাঁটছে। কেউ যদি ওকে অপহরণ করে নিয়ে যায়? তারপর ইকবাল দীর্ঘশ্বাস ফেলল। পার্টি অফিসে আজ কত কাজ ছিল ওর! তাও ও সব ফেলে এসেছে,কেবল ঐ একজনকে দেখতে। যাকে ছাড়া ইকবালের আজকাল সব পানসে লাগে। মনে হয় পুরো পৃথিবীই তেতো!
সেসময় একজন ভিখারি এসে দাঁড়ালেন। জরাজীর্ণ নারী! হাত পাতলেন টাকা নিতে। ইকবাল বিনাবাক্যে পাঞ্জাবির পকেট থেকে দশ টাকার একটা নোট বের করে দিলো। কিছুক্ষণ পর আরেকজন এলেন। তাকেও দিলেন কিছু। সিরিয়ালে যখন একের পর এক আসতে শুরু করল,ইকবালের বেজায় মেজাজ চটে গেল। কী ধান্দারে এসব?
পরেরজনকে বিরক্ত চোখমুখে বলল,
“ অন্যদিকে যান।”
মহিলা গাঁট হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন। দেন না, দেন না করে ঘ্যানঘ্যান শুনে ইকবাল ওনাকেও দিলেন কিছু। চোখেমুখে তখন বেজায় বিরক্তি। এর ক সেকেন্ডের মাথায় পেছন থেকে ইকবালের কাঁধে হাত রাখল কেউ একজন। ও ভাবল আবার ভিখারি। চ সূচক শব্দ করে বলল,
“ আহা খালা, অন্যদিকে যান তো। খুচরো নেই।”
“ খালা!”
রিনরিনে কণ্ঠটা শুনে চকিতে পিছু ফিরল ইকবাল। পুষ্প অবাক হয়ে চেয়ে। ওকে দেখেই জিভ কাটল ছেলেটা।
হুড়মুড়িয়ে দাঁড়িয়ে বলল,
“ সরি সরি মাই লাভ,আমি সরি। আমি ভাবলাম অন্য কেউ!”
পুষ্পর হাতটা ধরে ঘুরিয়ে এনে বেঞ্চে বসাল সে। ও বলল,
“ অন্য কেউ? আমি ছাড়া কে আসবে তোমার কাছে?”
ইকবাল দুষ্টুমি করে বলল,
“ কতজন আছে!”
“ তাই নাকি? কটা প্রেম করেছ?”
ইকবাল হেসে বলল,
“ এক নারীর প্রেমে বারবার পড়াকে কতবার প্রেমে পড়া বলবে?”
পুষ্প হেসে ফেলল এবার। ওর মাথায় অরগ্যাঞ্জার ওরনা দিয়ে ঘোমটা টানা ছিল। মুখের ওয়ান টাইম মাস্কটা টেনে সরাতে নিলো ইকবাল। পুষ্প আঁতকে বলল,
“ খুলছো কেন? কেউ দেখে ফেলবে তো!”
“ এখানে কে দেখবে?”
“ আব্বুর কত চেনাজানা লোক আছে! তারপর এখন তো ভাইয়াও দেশে। কোত্থেকে কে দেখে কী বলে দেবে!”
“তা ঠিক। তোমার হিটলার বাপের ভরসা নেই। তবে ধূসর দেখবে না মাই লাভ! ও ঘুমোচ্ছে।”
পুষ্প অবাক হয়ে বলল,
“ ঘুমোচ্ছে! পার্টি অফিস যায়নি?”
“ না,সকালে ফোন করলাম। ধরেনি। টেক্সট দিলো, ওর মাথাব্যথা। পরে আসবে।”
পুষ্প বলল,
“ তাহলে ভালোই হয়েছে। ভয় নেই।”
ইকবাল আবার ওর মাস্ক খুলে ফেলল। পুষ্প অসহায় মুখে বলল,
“ ইকবাল !”
“ তোমাকে সম্পূর্ন দেখতে না পারলে শান্তি হচ্ছে না মাই লাভ!”
“ পরে ধরা পড়লেই মজা টের পাবে।”
ইকবাল বুক চিতিয়ে বলল,
“ কী আর হবে? সোজা বউ করে ফেলব।”
“ তাই নাকি! ধূসর ভাইকে গিয়ে বলতে পারবে এটা?”
ইকবাল গুটিয়ে গেল অমনি। মিনসে মুখে বলল,
“ যখনই সিনা চওড়া করতে যাই, ওর নাম নাও কেন মাই লাভ?”
পুষ্প হাসল,মাথা নাড়ল দুপাশে।
“ আচ্ছা ওসব বাদ। আজ কোথায় যাবে বলো? বোটানি যাবে? ওখানটা নিরিবিলি, শুধু তুমি আর আমি!”
“ এমা না, অনেক দূর! পিউকে বলেছি সেজো মাকে যেন বলে আমি নোটস আনতে গিয়েছি। পরে দেরি দেখে যদি সন্দেহ করে? তখন!”
ইকবাল দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
“ তাহলে লাঞ্চটা অন্তত আমার সাথে করো,মাই লাভ!”
পুষ্প রাজি হতেও পারল না,এর মধ্যেই ক্রিং ক্রিং করে মুঠোফোন বাজল। হঠাৎ শব্দে আতঙ্কে একশেষ হলো পুষ্প। অস্থির বনে ব্যাগ হাতাতে হাতাতে বলল,
“ মনে হয়,সেজো মা বুঝে গেছে।”
“ আমার ফোন বাজছে মাই লাভ। রিল্যাক্স!”
“ ওহ,তোমার!”
ইকবাল নিশ্চিন্ত মনে নিজের ফোন বের করল। দেখল ধূসরের নম্বর! স্ক্রিনে সেভ করা hotocchara। অমনি ওর চেহারার রং বদলে যায়। আশেপাশে তাকায় ভয়ে ভয়ে। পুষ্প শুধাল,
“ কী হয়েছে?”
“ ধূসর কল দিচ্ছে!”,
“ আচ্ছা,এখন আপনি ভয় পাচ্ছেন কেন? রিল্যাক্স করবেন না?”
ইকবাল মেয়েদের মতো ঠোঁট উলটে ফোন রিসিভ করল। ধূসর সাথে সাথেই বলল,
“ কোথায় তুই?”
ইকবালের হন্যে চোখ তখনো আশেপাশে। ধূসর কোথাও লুকিয়ে থেকে জাসুসি করছে না তো! ধূসর তক্ষুনি ধমকানোর মতো শুধাল,
“ কোথায় আছিস?”
ও হড়বড় করে উঠল,
“ আব আব,আব ওই আবাবাবামায়ায়ায়া..”
“ ম্যা ম্যা করছিস কেন?
কোথায় আছিস সেটা বল।”
“ আমি, আমি এইত কাছেই। ক-কেন বন্ধু?”
“ দেখা কর,এক্ষুনি!”
“ এক্ষুনি! কিন্তু তুই যে বললি আসবি না?”
“ আমি আসছি,পাঁচ মিনিট লাগবে।”
ইকবাল তড়াক করে উঠে দাঁড়াল। হূলস্থূল করতে দেখে পুষ্প বলল,
“ কী হলো? কী বলল ভাইয়া?”
“তোমাকে সি এনজি ডেকে দিই সোনাপখি এসো। ধূসর আমাকে ডাকছে।”
পুষ্প মিটিমিটি হেসে বলল,
“ ও আচ্ছা, কিন্তু আমার সাথে কে যেন লাঞ্চ করবে বলল!”
ইকবাল এক হাতে ওর মেদুর গাল ছুঁয়ে বলল,
“ কাল পাক্কা, কেমন? লক্ষ্মী মেয়ে! এত জরুরি ভাবে ডাকছে,না গেলে কষ্ট পাবে না?”
পুষ্প ওই হাতটা নিজের গাল থেকে এনে মুঠোয় ধরে বলল,
“ ইকবাল, তোমাদের দুজনের বন্ধুত্ব দেখে আমার খুব হিংসে হয় জানো! আমার যদি এমন একটা বেস্টফ্রেন্ড থাকতো!”
ইকবাল হাতের বাঁধন শক্ত করে বলে,
“ আমি আছি তো,মাই লাভ৷ শুধু প্রেমিক কেন? আমি তোমার সব হব। এখন যাই হ্যাঁ,ও অপেক্ষা করছে। মনে হলো কিছু নিয়ে অস্থির!”
পুষ্প কপালে ভাঁজ ফেলল এই কথায়। ভাইয়া অস্থির কেন? পিউ কি আবার কিছু করেছে? ভাবতেই মেয়েটার চেহারা টানটান হলো। ধূসর ভাইয়ের পাশে পিউয়ের নামটাই মাথায় এলো কেন ওর?
ইকবাল খুব তাড়াহুড়ো করে গাড়ি থেকে নামল। ধূসর বসেছিল পার্টি অফিসের চত্বরে থাকা সেই দোকানের বেঞ্চে। ও এসেই পিঠে একটা চাপড় কেটে পাশে বসে বলল,
“ কী রে,মাথাব্যথা শেষ?”
ইকবাল ওপরে স্বাভাবিক রইলেও,ভেতর বেজায় ভয়। পাছে ধূসর বলে বসে,কাছাকাছি ছিলি তাহলে আসতে এতক্ষণ লাগল কেন? কিন্তু খেয়াল করল ধূসর নিচের ঠোঁটটা দাঁত দিয়ে কামড়াচ্ছে। চুপচাপও। গায়ে কালো শার্ট,ট্রাউজার। মুখখানা অগোছালো! ইকবাল বলল,
“ ব্যথা কি কমেনি? এই ধূসর?”
গা ধরে ঝাঁকাতেই উত্তর এলো,
“ কমেছে।”
“ কিছু হয়েছে তোর?”
“ না!”
“ চুলের এই অবস্থা কেন?”
বন্ধুর কপালে পড়ে থাকা এলোমেলো চুল ইকবাল নিজেই হাত দিয়ে আচড়ে দিলো।
ধূসর বলল,
“ ছোটো চাচ্চুর বিয়ে ফাইনাল হয়েছে। এই মাসের ২৩ তারিখে।”
“ আরেব্বাস,তাই নাকি? এ তো খুব ভালো খবর। চল দুজন সেম সেম পাজামা পাঞ্জাবি নেবো। ওহ তুইত ওসব পরিস না। আচ্ছা চল,তাহলে সেম কালার দেখে নেব। কিন্তু আমাকে দাওয়াত দিবি তো?”
ধূসর হেসে ফেলল। পেছনের ভবনে চেয়ে বলল,
“ রওনক আসেনি আজ?”
ইকবালের মুখভঙ্গি বদলে গেল অমনি।
“ ওকে লাগবে কেন? আমি আছি হচ্ছে না?”
“ তুই মেয়েদের মতো হিংসুটে ইকবাল!”
“ হ্যাঁ, আমি যাদের ভালোবাসি তাদের পাশে কাউকে নিতে পারি না। তুই বুঝবি কীভাবে, তুই তো আর ভালোবাসিস না আমাকে।”
ধুসর শ্বাস ফেলতে ফেলতে নিঃশব্দে ঠোঁট টেনে হাসল। ইকবালের কাঁধে হাত রেখে বলল,
“ আচ্ছা।”
হতাশ হলো ছেলেটা। ও জানে ধূসর এরকমই। মুখে কিচ্ছু স্বীকার করবে না। বলল,
“ তুই কি এটা বলার জন্যে এত জরুরি ভাবে ডাকলি?”
ধূসরের শ্যামলা চেহারায় ফের বদল দেখা গেল। কী যেন ভাবল আবার। দুই পল চুপ থেকে বলল,
“ হ্যাঁ!”
ইকবাল নাক কুঁচকাতে গিয়েও চোখমুখ সচেতন করে চেয়ে রয়।
কেন যেন মনে হয়,এর ভেতরে কিছু আছে। কোনো জটিল এক রহস্য!
মাসের ২৩ তারিখ ধেয়ে আসার পথে। বিয়ের কেনাকাটা শুরু হয়নি এখনো। দু সপ্তাহের মাথায় আনিস রাতের মধ্য ভাগে এসে বড়ো ভাইয়ের দরজায় টোকা দিলেন।
“ আসব ভাইজান?”
“ আনিস? এসো এসো।”
মিনা সুতির শাড়ির আঁচলটা পিঠ প্যাঁচিয়ে কাঁধে তুললেন। আমজাদের চোখে চশমা। সামনে কাগজপত্র দেখে আনিস বললেন,
“ ঘুমাননি এখনো?”
“ না, ওই মেন্যুটা সাদিফ মাত্রই রেখে গেল তো। চোখ বুলিয়ে নিচ্ছিলাম। আর তো বেশি দেরি নেই। তুমি কিছু বলবে?”
মিনা বললেন,
“ বসো ভাই,দাঁড়িয়ে আছো কেন?”
আনিস বসলেন। দুহাত কচলে কচলে বললেন,
“ ভাইজান, ভাবি, একটা কথা বলব?”
আমজাদ সাগ্রহে চাইলেন এবার। ভাইয়ের চোখমুখে ইতস্ততা দেখে বললেন,
“ বলো? কোনো সমস্যা?”
আনিস জিভে ঠোঁট ভিজিয়ে বলেন,
“ আসলে, আমি একটা কথা ভেবেছি। বুঝতে পারছি না কীভাবে বলব!
ইয়ে আসলে সুমনাদের অবস্থা সম্পর্কে আপনারা সবই তো জানেন ভাইজান। বাবার রোজগার ওই ভিটে দিয়ে। ভাই-ই সংসার টানে। আমাদের এত আত্মীয়-স্বজন নিয়ে যদি বরযাত্রী হতে যাই,ওরা মনে হয় না কূলোতে পারবে।”
“ না না খরচ কীসের?
আমি তো ভাবলাম বিয়েতে তেমন অনুষ্ঠান করব না। বাদ জুম্মা নামাজ পড়ে শুধু ৭/৮ জন একটা গাড়িতে গিয়ে মেয়ে নিয়ে আসব। অনুষ্ঠান যা হওয়ার সে তো তোমাদের রিসেপশনে হবে। ব্যাপারটা আমি কালই বলতাম তোমায়।”
আনিস আশ্চর্য হয়ে বললেন,
“ ভাইজান সত্যি?”
“ হ্যাঁ, এইত তোমার ভাবির সাথেও আলোচনা করছিলাম।”
মিনা বললেন,
“ হ্যাঁ ভাই। শুধু শুধু ওনাদের এত ঝক্কি দিয়ে লাভ কী? তাই অল্প কজনের একটা আয়োজন করলেই চলবে। তুমি সুমনাকে বলে দিও চিন্তা না করতে। ওসব আমরা ঠিক সামলে নেব!”
“ ভাবি, সুমনা কিন্তু আমাকে কিছু বলেনি৷ আমি নিজেই…”
আমজাদ হেসে বললেন,
“ আনিস,বড়ো ভাইয়ের ওপর আস্থা রেখে এতটা বয়স এসেছ। আরেকটু রাখো না-হয়!”
আনিস হেসে ফেলতে ফেলতেই চোখে জল ছুটে এলো। হঠাৎ করেই আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়লেন৷ হুড়মুড় করে উঠে এসে ভাইয়ের পায়ের কাছে বসে হাঁটুতে নুইয়ে দিলেন মাথাটা।
কিছু বললেন না, তাও যেন সব বুঝলেন আমজাদ। মৃদূ হেসে ভাইয়ের পিঠে হাত বোলাতে বোলাতে মিনাকে বললেন,
“ দেখতে দেখতে কত বড়ো হয়ে গেল তাই না!”
মিনা হেসে মাথা নাড়লেন। তাদের বিয়ের সময় আনিস রাদিফের মতো ছিল। আজ নাকি তারও বিয়ে হাঁ?
**
২৩ জুলাই জুম্মাবার আনিস সুমনার বিয়ে সম্পন্ন হলো খুব সাদামাটা করে। মসজিদে নামাজ আদায় করে,গাড়ি নিয়ে ছুটলেন তারা। কেবল বেছে বেছে দশজন পুরুষ মানুষের জায়গা হলো সেখানে।
মিনার দুই ভাই,রুবার বাবা,জবার ভাই, শিকদার বাড়ি থেকে আমজাদ,আনিস, ধূসর সাদিফ, আজমল, আফতাব তালিকা এই অবধি ছিল। তবে গুলশানের ২নং রোড ক্রসের পরপরই ড্রাইভারকে থামতে বলল ধূসর। আমজাদ জিজ্ঞেস করতেই যাচ্ছিলেন, কেন থামাল? দরজা টানতেই দেখা গেল ইকবালকে। সফেদ পাজামা-পাঞ্জাবি পরে আসছে। আমজাদ বিস্ফোরিত চোখে ধূসরের পানে চাইলেন। বলেই ফেললেন – এই লাফাঙ্গা ছেলেকে কে ডেকেছে?”
আফতাব, ভাইয়ের উরুতে হাত রেখে শান্ত হতে বোঝালেন। ইকবাল ঢুকল ভেতরে। আমজাদের রুক্ষমূর্তি দেখেই ঘাবড়ে গেল একটু। খুব টেনেটুনে হেসে বলল,
“ আ-আসসালামু আলাইকুম, ভালো আছেন আঙ্কেল?”
আমজাদের কর্কশ জবাব,
“ ছিলাম,এখন না জানলেও চলবে।”
ইকবাল মন মরা হয়ে ধূসরের দিকে চাইল। ও চোখ নেড়ে বোঝাল, এসব না ধরতে। ছেলেটা ফোস করে দম ফেলল। যার মেয়েকে ধরে বসে আছে,তার কথা ধরবে না? এ কী সম্ভব!
সাদা মাইক্রো শিকদার বাড়ি ফিরতে ফিরতে রাত গড়াল। রাদিফ ঘুমিয়ে গেল অপেক্ষার তোড়ে। পিউও হাই তুলছে বারবার। সেজেগুজে বসে ছিল,কিন্তু গরমে আর কূলোয়নি শরীরে। একটা খয়েরি টপ, জিন্স পরে দাঁড়িয়ে আছে এখন৷ রাত এগারোটা বাজল ওনাদের আসতে। সুমনাকে নিয়ে গৃহীনিরা ভেতরে চললেন। ওনার সাথে রিনি নামের একটা মেয়ে এসেছে। দেখতে টিনেজার। চশমা পরে মেয়েটা। পুষ্প ওকে বলল,
“ এসো,তোমাকে ওয়াশরুমে নিয়ে যাই। ফ্রেশ হবে তো!”
মেয়েটার যাওয়ার দিকে পিউ মুখ ভার করে চেয়ে থেকে,হঠাৎ ছুটে এলো বসবার ঘরে। ক্লান্তি ঝারতে বাবা-চাচারা বসেছেন এখানে। মাথার পাগড়ি টেবিলে খুলে রেখে চাচ্চুও আছেন। কিন্তু ধূসর ভাই? পিউ ব্যগ্র হয়ে খুঁজল। নেই কোথাও। পরপর কানে এলো আফতাব,আর আমজাদের কথাবার্তা। তাতে যা বুঝল,
মানুষটা ফেরার মাঝপথে ইকবালের সাথে নেমে গেছে। আজ রাতে আর আসবে না। আমজাদ সাহেবের এ নিয়েই মেজাজ গরম খুব!
কিন্তু পিউ ভারি চিন্তায় পড়ল। রিনি যে একই গাড়িতে এসেছে,ধূসর ভাই কি ওর দিকে চেয়েছে একবারও? মেয়েটাকে আবার ওনার ভালো লেগে যায়নি তো!
এই এক ভাবনায় নতুন মা আসার খুশিটা পিউকে আর ছুঁতে পারল না। খুব উদাস মুখে নিজের ঘরের পথ ধরল।
সুমনা আজ পুষ্পর সাথে ঘুমাবে। আগামীকাল রিসেপশনের পর স্বামীর ঘরে দেয়া হবে ওনাকে। পিউয়ের কত উচ্ছ্বাস ছিল সে নিয়ে,সব মাটি এখন- ধুর!
**
ইকবালদের বাড়ি থেকে ধূসর সকাল সকাল ফিরেছে। আনিস ফোন করেছেন কয়েকবার। এসেই নাস্তার টেবিলে বসল ও। আমজাদ কিছু বলতে চাইলে আজমল হাতের ওপর হাত রেখে চোখ দিয়ে অনুনয় করলেন, নতুন বউয়ের সামনে এসব ঝামেলা না করতে! ছোটো ভাইয়ের কথার সম্মানে ভদ্রলোক আর তুললেন না ওসব।
ধূসর চুপ করে নাস্তা খেলো। পিউ সন্দেহী চোখে বারবার দেখছিল ওকে। ধূসর কি খাওয়ার মাঝে রিনি মেয়েটাকে দেখে?
যখন বুঝল,না সামনে হুরপরী বসে থাকলেও মানুষটা একইরকম নিষ্পৃহ? এক্সষোড়শীর চেহারায় আলো ফিরল অমনি।
চায়ের আসরে রুবায়দা দুটো শার্ট রাখলেন। একটা গ্রে, আরেকটা চেরি রেড।
বললেন,
“ সবার জন্যে কেনাকাটা করেছি। সাদিফ বলছিল,তুই আগে নেয়ার পর ও ওরটা নেবে। দ্যাখ কোনটা ভালো লাগে। অনুষ্ঠানে পরবি তো!”
পিউ মনে মনে বলল,
“ লালটা,প্লিজ! ওটা পরলে আপনাকে পুরো টসটসে টমেটো লাগবে ধূসর ভাই।”
কিন্তু ধূসর লাল রঙের শার্টটা সাদিফকে দিয়ে বলল,
“ তুই এটা রাখ।”
রুবায়দা বললেন,
“ সব সময় তো এসব সাদাকালোই পরিস। আজ একটু…”
ও মাঝপথেই জানাল,
“ আমি রংচঙে কাপড় পরি না।” এ
সাদিফ কাঁধ উঁচাল
“ আমার একটা পেলেই হলো। এনি ওয়ে,থ্যাংকিউ মেজো মা।”
পিউয়ের উত্তেজনা ফুস করে উবে গেল সহসা। শরীরটা ছেড়ে এলো ফাটা বেলুনের মতো। দুজনের পছন্দ এত দুই মেরুর, মন দুটো এক হবে কবে?
আজ বৌভাত!
শিকদার বাড়ির সব পুরুষরাই স্যুটেড-বুটেড হয়ে তৈরি হলেন। একইরকম কালো কোর্ট-প্যান্ট শুধু ভেতরের শার্টগুলো ভিন্ন। দুপুর নাগাদ পার্লার থেকে লোক এসে সুমনাকে সাজিয়ে দিয়ে গেল। শিকদার বাড়ির বিশাল চত্বরে প্যান্ডেল টাঙিয়ে শুরু হলো আয়োজন। স্টেজ থেকে অতিথিদের ওঠাবসার জায়গা সব কিছু আরামসে এঁটে গেল সেখানে।
শিকদার পরিবারের আত্মীয়-স্বজন বহু! আমজাদদের ব্যবসার লোক,আনিসের কলিগ থেকে ধূসরের পার্টি অফিসের কয়েকজন,সাদিফের বন্ধুরা সবাই এসেছে। আসতে পারেনি রওনক,আর তানহা। তানহা রাজশাহী ওর নানুবাড়ি গিয়েছে। রওনককে কল দেয়া হয়েছে কয়েকবার, ধরেনি।
ইকবাল কালো পাঞ্জাবি,আর সাদা পাজামা পরেছে আজ। হবু শ্বশুর বাড়ির অনুষ্ঠান,সেলুনে গিয়ে একদম গ্রুমিং করেছে নিজেকে। ক্লিন শেভ গালে হাত বোলাতে বোলাতে ওর চোখ বার কয়েক এদিক-ওদিক ঘুরল। আজ এখানে ছেলেপেলের অভাব নেই।
মাই লাভ এর মধ্যে কী সেজে আসে কে জানে! কোনো ছেলে ওর মাই লাভের দিকে তাকালে ইকবাল কী করবে? মেরে একদম থেতলে ফেলবে না! তাহলেই আবার হিটলার ব্যাটা খারাপ বলবে ওকে। হুহ…
পরপর ইকবাল ধূসরকে খুঁজল। হতচ্ছাড়াটা এখনো নিচে আসেনি? কী করছে,মেক আপ?
ধূসর গায়ে পারফিউম ছড়িয়ে ঘর থেকে বের হলো, অমনি মুখোমুখি বিঁধল পিউ। সিঁড়ি দিয়ে নামতেই যাচ্ছিল মেয়েটা,ফিরেছে ওর পায়ের শব্দে। সহসা দাঁড়িয়ে পড়ল সেখানে। স্যুট-প্যান্ট পরা ধূসরকে দেখে মাথা ঘুরে গেল ওর। চুলটা দুইপাশ থেকে এসে কী চমৎকার ভাবে দুই চোখের ওপর লেপ্টে আছে। হাতে সোনালী চেইনের ঘড়ি। স্যুটের সব বোতাম খোলা। নাহ,গ্রে রঙের শার্টটাও মানিয়েছে বেশ।
পিউ যতক্ষণ বসে ওর আপাদমস্তক দেখল,ততক্ষণে কেবল এক বার চাইল ধূসর। স্বাভাবিক চোখে। পিউয়ের পরনে অ্যান্টিক গোল্ডেন রঙের লেহেঙ্গা। পাতলা ওরনা এক কাঁধে রেখে পিঠ থেকে ঘুরিয়ে এনে, অন্য হাতে নেয়া। লম্বা চুল হাফ আপ,হাপ ডাউন করে বাঁধা। কানে দুটো বড়ো বড়ো সোনালী ঝুমকোর টানা পেছনে চুলের সাথে গাঁথা।
গলা খালি। ঠোঁটে লিপস্টিক, হাত ভরা গোল্ডেন চুড়ি দিয়ে। পিউয়ের মুগ্ধ চোখদুটো নিজের ওপর একমনে দেখে ধূসর গলা ঝারল আরেক দিকে চেয়ে। অমনি নড়ে উঠল মেয়েটা। এক পাশে সরে অতিভক্তি দেখিয়ে বলল,
“ যান, আপনি আগে যান।”
বলতে বলতে চুল পেছন থেকে এনে রাখল বুকের সাথে। চাইল,ওর যে লম্বা চুল তা যেন খেয়াল করে ধূসর। কিন্তু মানুষটা তরতর করে নিচে নেমে গেল। পিউয়ের আজ মন খারাপ হলো না। উলটে ভালোবাসায়-বিহ্বলতায়,হার্ট মিস হলো ফের। বুকে হাত দিয়ে বলল,
“ হায় রে,মরে গেলাম! অ্যাটম বোমটা সোজা বুকে এসে পড়ল। একটা মানুষ এত হ্যান্ডসাম কেন হবে রে পিউ!”
ধূসর সোজা নেমে গিয়ে মেহমানদের ভিড়ে দাঁড়াল। সুমনার ভাই,বাবা-চাচা,মা সহ এক ঝাঁক আত্মীয়-স্বজন এসেছেন। কথা বলছিল তাদের সঙ্গে। হঠাৎ খেয়াল করল পাশে দাঁড়িয়ে থাকা রিনি আস্তে আস্তে ওর বাহুর সাথে ঘেষছে। অমনি চোখমুখ গুছিয়ে ফেলল ধূসর। এই মেয়েকে বিয়ের দিন থেকেই সুবিধের লাগছে না। বরযাত্রীর যত্ন করার নামে সারাক্ষণ ওর পেছনে ঘুরঘুর করেছে। ধূসর শক্ত মুখে মেয়েটার দিকে পাশ ফিরে চাইল। চশমা পরা রিনির চিবুক তখন গলার খাঁজে। লাজুক চেহারা। ধূসর বিরক্ত হয়ে সরে এলো সেখান হতে। তক্ষুনি পিঠে এসে চাপড় কাটল ইকবাল। সুরে সুরে ডাকল,
“ বন্ধুউউউউ!
বন্ধুরে তোর ব্যবহারটা আজও ভুলিনি,
জানতাম না তোর মনের মাঝে এত শয়তানি!”
ধূসর নাক কুঁচকে চাইল।
“ কী করেছি তোর সাথে?”
“ আমার সাথে করবি কেন? করবি তো নিজের বউয়ের সাথে…”
ধূসর দাঁত খিচে ডার্বি শু পরা পা-টা তুলেই ইকবালের পায়ের ওপর দ্রিম করে মারল একটা। ব্যথায় ভাঁজ হয়ে গেল ও।
পা-টা ওপরে তুলে হাতে চেপে ঘুরে গেল এক চোট৷ ছটফটিয়ে বলল,
“ ব্যথা ব্যথা! হতচ্ছাড়া ব্যথা পেয়েছি আমি।”
ধূসর বলল,
“ ওভারএক্টিং কম কর,এত জোরেও দিইনি।”
ইকবাল কাঁদোকাঁদো গলায় বলল,
“ তুই কি বুঝবি, তোর দৈত্যের মত শরীর দিয়ে টোকা মারলেও কত ব্যথা লাগে। আমি তো ভাবছি পিউয়ের কথা। ও…”
মাঝপথেই ধূসর হুঙ্কার দিলো,
“ ইকবাআয়ায়াল!”
ইকবাল থামল সেখানেই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে দঁাত মেলে বলল,
“ মেজাজ এত হট কেন বন্ধু? এসির মধ্যে ঘামছিসও দেখছি। আমাকে দ্যাখ, কী কুল আমি! বরফ বরফ…”বলতে বলতে ইকবাল সামনে ফিরল। মন-চোখ মিশিয়ে হোচট খেলো অমনি। ওর দেয়া সেই কালো শাড়ি পরে আসছে পুষ্প। সেই চুল খোলা,হাতে চুড়ি আর কপালে টিপ পরা মেয়েটা কি অপ্সরার থেকে কম? না,বরং ইকবালের তনুমনে আগুন জ্বালানোর মতো। ঢোক গিলল ইকবাল। কেমন আনচান করে শ্বাস নিলো ক বার। আজ এত মানুষের ভিড়েই কেন তুমি এত সাজতে গেলে মাই লাভ? কত জন তোমায় দেখবে!
পুষ্প চোরা চোখে তাকাল। কানের পিঠে চুল গুজতে গুজতে লাজুক চেহারায় দেখতে চাইল ইকবালকে। কিন্তু নজর পড়ল ধূসরের দিকে। ইকবালের পাশে বড়ো ভাইকে পর্বতের মতো দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেই,মেরুদণ্ড সোজা করে সুরুৎ করে অন্যদিকে হেঁটে গেল মেয়েটা। ভান করল, ইকবালকে ও চেনেই না।
ইকবাল মরিয়া হয়ে সেদিকে চেয়েছিল। মাই লাভ ওদিকে কেন যাচ্ছে? ওখানে তো সাদিফের বন্ধুরা বসেছে! পরপর মাথায় এলো ধূসরের কথা। চট করে নিজেকে সামলে পাশ ফিরতেই দেখল,সে নেই। বুকে হাত দিয়ে শ্বাস ফেলল ইকবাল। তারপর হনহন করে পুষ্পর পিছু নিতে ছুটল।
সাদিফের ইউনিভার্সিটিতে ওর একটা সার্কেল আছে। প্রায় ৬-৭ জন বন্ধু। সবার মধ্যে গো-বেচারা,শান্ত,নিরীহই ও। আর সব থেকে দুরন্ত ছেলেটা হলো বাঁধন। খুব বড়ো পরিবার ওদের। ধনী বাবার এক মাত্র ছেলে। দেখতে-শুনতে ফার্স্টক্লাস। পার্টিতে ওরা আজ সবাই এসেছিল। কিন্তু আসার পর এত এত মানুষের ভিড়ে বাঁধনের এক লেহেঙ্গা পরা মেয়ের দিকে চোখ পড়ে গেছে। কায়দা করে জেনে নিলো,মেয়েটা সাদিফের কাজিন। এবার কলেজে উঠবে!
এত চঞ্চল,কোথাও স্থির যেন থাকে না। যতবার ছোটাছুটি করে পেছনের লম্বা চুল দোলে ওর সাথে। বাঁধন যখন বন্ধুদের আসরে বসে মেয়েটাকে চোখে-চোখে রাখছিল,হঠাৎ খেয়াল করল জুসবারের পাশে ভিড়েছে পিউ। উদগ্রীব চোখে এদিক-ওদিক দেখছে মেয়েটা। যেন খুঁজছে কাউকে। বাঁধন উঠে এলো অমনি। আলগোছে দাঁড়াল ওর পাশে। পিউ খুঁজতে ব্যর্থ হয়ে চ সূচক শব্দ করে পাশের ট্রে থেকে জুস তুলতে গেল,একইসময় ট্রে-তে হাত রাখল বাঁধন। হাতে-হাত লাগতেই চোখ দুটো তুলে চাইল পিউ। এত টানা টানা চোখের চাউনিতে বাঁধন গুলিয়ে গেল খুব। হেসে বলল,
“ কোন স্কুলে পড়ো তুমি?”
পিউ হাতটা সরিয়ে নিলো ঝট করে। সৌজন্যতায়ও উত্তর দিলো না। লেহেঙ্গার দুই মাথা একটু উঁচুতে তুলে চপল পায়ে চলে গেল কোথাও। চোখেমুখে বিরক্তি ভীষণ! বাঁধন ঠোঁট বেঁকিয়ে হাসল। বিড়বিড় করে বলল
“ এতটুকু মেয়ের এত এটিটিউড,ওয়াহ!”
পিউয়ের কপালে ভাঁজ। চেহারায় অনীহা। এদিক-ওদিক দেখতে দেখতে বেখেয়ালে হাঁটছিল। চকচকে টাইলসের ফাঁকে হিলের সরু অংশটা বিঁধে গেল হঠাৎ। আর হুমড়ি খেয়ে মেঝের ওপর পড়তে নিলো পিউ। ঠিক তক্ষুনি বিদ্যুতের গতিতে কেউ সামনে এসে থামে। পিউয়ের গলার নিচে নিজের বলিষ্ঠ এক হাত প্যাঁচিয়ে ওর বাম বাহু চেপে ধরল। মেয়েটার পুরো শরীর ঝুঁকে রইল সেই হাতে। তারপর এক ঝটকায় ওকে সোজা করে দাঁড় করল সে মানুষ। পিউ হকচকিয়ে চাইল তার পানে। ধূসরকে দেখেই এতক্ষণের বিরক্তি উবে লিপস্টিকে রাঙা ঠোঁট সরে গেল দুপাশে। উত্তেজনায় বলেই ফেলল,
“ আপনি কোথায় ছিলেন? কতক্ষণ ধরে খুঁজছিলাম।”
পরপর লজ্জায় আড়ষ্ট হলো মেয়েটা। চেয়ে দেখল ধূসরের শ্যামলা হাত কোথায় পড়ে আছে। ধূসর মূহুর্তে হাত ছাড়িয়ে নিলো। সোজাসুজি চাইল জুসবারের দিকে। বাঁধন সেখানে নেই। ফের সাদিফদের কাছে গিয়ে ভিড়েছে। ও বলল,
“ ছেলেটা তোকে কী বলছিল?”
“ কোন ছেলে?”
“ সাদিফের বন্ধু!”
পিউ নিষ্পাপ মুখে জানাল,
“ ভালো করে শুনিনি আমি।”
“ কেন?”
“ শুনে কী করব?”
ধূসর আশ্চর্য হয় কিছু। সরু নেত্রে পিউয়ের গোল মুখপানে চেয়ে থাকে । বাঁধন তো দেখতে খারাপ নয়! ব্রাইট ফিউচার,ভালো ইউনিভার্সিটি থেকে পাশ করেছে। পিউ ওকে খেয়াল করল না? অদূরে দাঁড়িয়ে ধূসর স্পষ্ট দেখেছে,ওই সময় পিউয়ের চোখমুখে কত বিরক্তি ছিল। তারপর ওকে দেখে সেই বিরক্তি উবে যে চাঁদ বসেছে, তাও খেয়াল করেছে ও। দুটো অভিব্যক্তিতে যেন আকাশ-পাতাল তফাত।
কিন্তু টু শব্দ না করে কিছু না বলেই পিউকে পেছনে ফেলে তড়বড়িয়ে চলে গেল কোথাও। মেয়েটা ঠোঁট উলটে ফেলল। মন খারাপ হলো একটু! পরপর একা একা বলল,
“ কোন ছেলে আমাকে কী বলেছে ধূসর ভাই খেয়াল করেছেন?
এর মানে ধূসর ভাই আমাকে দেখে? জেলাস উনি! এর মানে আবারো সামথিং সামথিং,পিউ সামথিং সামথিং!”
এর কিছু সময় পর….
আজমল আফতাবের কানে কানে বললেন,
“ ভাইজান,পার্টি তো নাচ-গান ছাড়া ভালো লাগছে না। কী করা যায়?”
“ নাচো তুমি।”
“ আমি একা নাচব? না না,আপনাকে ছাড়া আমি নাচব না।”
আফতাব হাসল,
“ আমাকেও ফাঁসাচ্ছো আজমল? এক কাজ করি চলো, গিয়ে ভাইজানকে দুজন মিলে বলি। বলব,আনিস বউ নিয়ে নাচতে চাইছে।”
“ আনিস তো কিছু জানেই না।”
“ আরে সেজন্যেইতো ওর ঘাড়ে দেব। নতুন বর,ভাইজান কিছু বলবে না। এসো।”
আফতাব ভাইয়ের গলা ধরে আমজাদের দিকে এগোলেন। আমজাদ আজ একটুও ফুরসত পাচ্ছেন না। গেস্ট এটেন্ড করা,কথা বলা সব তদারকিই তো তার। এর মধ্যে আফতাব পেছনে এসে মিনমিনিয়ে ডাকলেন,
“ ভাইজান!”
আমজাদ ঘুরেই বললেন
“ আফতাব,এই তো তুমি। কী ব্যাপার,পার্টি এত ঠান্ডা কেন? একটু গান-টান বাজাবে তো। সব কী বলে দিতে হয়?”
আফতাব,আজমল মূহুর্তে আলোর মতো হাসলেন। মাথা নেড়ে স্ফূর্ত গতিতে চললেন সেপথে।
একটু পরেই পার্টির চকচকে আলোটা বন্ধ হলো। সবুজাভ আলো ভরল সেথায়। সবার মাঝে কৌতূহল ভিড়ল৷ একটু নীরব হলো পরিবেশ। সেসময় ধূসর টের পেলো পকেটে ওর ফোনটা টুং করে বাজছে। বের করল ও। ম্যাসেজ এসেছে অচেনা নম্বর থেকে।
লেখা,
“ Why you are so hot,
I forgot my thought,
And everytime the heart says – oh my god!”
ধূসর শক্ত চেহারা টানটান করে ফেলল। ও জানে এটা কার ম্যাসেজ। ওই কাঠবিড়ালীর! নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে ফোন আবার পকেটে ভরতে গেল,আবার টুং করে উঠল সেটা। ভাবছিল দেখবে না। যা ইচ্ছে পাঠাক। কিন্তু কী যেন ভেবে আবার স্ক্রিন মেলল ধূসর। এবার লেখা,
“ Hey Dairy Milk Silk,
I wanna be your chocomilk
”
ধূসরের মেজাজ চটে গেল এবার। এক আঙুল মেয়ে! ডার্ক ম্যাসেজ দিচ্ছে? তুরন্ত ক্ষিপ্ত চোখে আশেপাশে চাইল সে। পিউকে খুঁজল। হাতে পাক একবার, আজ খবর করে ছাড়বে!”
( ফোন নষ্ট হয়ে গেছিল। তাই দেরি হলো গল্প দিতে।)
চলবে… See less
Share On:
TAGS: আলতো ছোঁয়ায় সমুদ্রকথন, নুসরাত সুলতানা সেঁজুতি
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
আলতো ছোঁয়ায় সমুদ্রকথন পর্ব ১৪.২
-
কাছে আসার মৌসুম পর্ব ৮৪
-
কাছে আসার মৌসুম পর্ব ১৪ ক
-
কাছে আসার মৌসুম পর্ব ৫০(প্রথমাংশ+ শেষাংশ)
-
কাছে আসার মৌসুম পর্ব ৪৫(প্রথমাংশ + শেষাংশ)
-
কাছে আসার মৌসুম পর্ব ২২
-
কাছে আসার মৌসুম পর্ব ৫৯(প্রথমাংশ+শেষাংশ)
-
কাছে আসার মৌসুম পর্ব ৫৬
-
আলতো ছোঁয়ায় সমুদ্রকথন পর্ব (০১+০২)
-
সমুদ্রকথন পর্ব ১