Golpo romantic golpo যেখানে প্রেম নিষিদ্ধ

যেখানে প্রেম নিষিদ্ধ পর্ব ৫০


#যেখানে_প্রেম_নিষিদ্ধ
#পর্ব_৫০
#ইশরাত_জাহান_জেরিন
কলেজের সমস্ত বিড়ম্বনা, শিক্ষকদের আতঙ্কিত দৃষ্টি আর প্রথম বেঞ্চের যন্ত্রণা সহ্য করে যখন সাঁঝ বাড়ি ফিরল, তখন তার মেজাজ একদম তুঙ্গে। কিন্তু সেই মেজাজ ড্রয়িংরুমের চেনা ভিড় আর ঝগড়াঝাঁটি পার হয়ে তিনতলার সিঁড়ির মুখে পৌঁছাতেই হাওয়া হয়ে গেল। গলার চাদরটা ঠিক করতে করতে সে নিজের রুমের দিকে পা বাড়াচ্ছিল, ঠিক তখনই স্টাডি রুমের আধখোলা দরজা দিয়ে এক জোড়া গভীর, শীতল চোখ তার ওপর গিয়ে পড়ল।
“সাঁঝ।”
ভারী, কড়া আর পরিচিত সেই কণ্ঠস্বর শোনামাত্রই সাঁঝের দুই পা যেন মেঝের সাথে জমে বরফ হয়ে গেল! সে আস্তে করে মুখ ফিরিয়ে তাকাল। স্টাডি রুমের বিশাল রিভলভিং চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে আছে আরযান মীর। পরনে ধবধবে সাদা শার্টের হাতা দুটো কনুই পর্যন্ত গোটানো, চশমার কাঁচের ওপাশ দিয়ে তার চোখ দুটো যেন সাঁঝের মনের সব ভীতি মেপে নিচ্ছে। সাঁঝ ঢোক গিলে দরজার পাশে দাঁড়িয়ে একটু তোতলে বলল, “আ-আরযান ভাইয়া… কিছু বলবেন? আমি মাত্র কলেজ থেকে ফিরলাম… খুব ক্লান্ত…”
“ভেতরে আয়। দরজাটা লক করে দে।”
সাঁঝের বুকটা এক লাফ দিয়ে উঠল। দরজা লক করবে? কেন? সে ধীর পায়ে ভেতরে ঢুকে পেছনের কাঠের ভারী দরজাটা নিঃশব্দে আটকে দিল। দরজার দিকে পিঠ ঠেকিয়ে সে অপরাধীর মতো দাঁড়াল। আরযান চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়াল। তার দীর্ঘ, সুগঠিত শরীরটা ধীর পায়ে সাঁঝের দিকে এগিয়ে আসতে লাগল। প্রতিটা পদক্ষেপের সাথে সাথে সাঁঝের হৃদস্পন্দন এক গুণ করে বেড়ে যাচ্ছিল। আরযান সাঁঝের একদম কাছে এসে থামল। দুজনের মাঝে মাত্র কয়েক ইঞ্চির দূরত্ব। আরযানের গায়ের মৃদু দামি পারফিউমের সুবাস সাঁঝের মাথা ঝিমঝিম করিয়ে দিল।
“আজকে বায়োলজি ক্লাসে স্যারের পকেটে আর কোনো ব্যাঙ ছিল না, তাই তো?” আরযান নিচু, গম্ভীর গলায় জিজ্ঞেস করল।
সাঁঝ দ্রুত মাথা নেড়ে বলল, “না! একদম না! আমি আজ পুরো সোজা হয়ে প্রথম বেঞ্চে বসে ছিলাম! ডালিয়াকে জিজ্ঞেস করে দেখো, আমি কোনো দুষ্টুমি করিনি!”
আরযান তার মুখের দিকে অপলক তাকিয়ে রইল। তারপর অতি ধীরে নিজের এক হাত বাড়িয়ে সাঁঝের থুতনিটা হালকা করে উঁচিয়ে ধরল। সাঁঝের চোখের তারায় জমতে থাকা ভয়টা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিল আরযান।
“দুষ্টুমি করিসনি ঠিকই…” আরযান মাথা একটু ঝুঁকিয়ে সাঁঝের কানের কাছে নিয়ে এলো, “কিন্তু ক্লাসে পড়া না পেরে স্যারকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করেছিস নাকি? আর সবচেয়ে বড় কথা আমাকে ‘হিটলার’ বলেছিস ডালিয়ার কাছে।”
সাঁঝের চোখ ছানাবড়া হয়ে গেল! “আপনি কী করে জানলেন?”
“মীর বাড়ির দেয়ালেরও কান থাকে, সাঁঝ,” আরযান তার থুতনি থেকে হাত সরিয়ে নিয়ে টেবিলের দিকে হেঁটে গেল, “গতকাল যে ছাড় পেয়েছিলে, তার বদলে ভেবেছিলাম শুধরে যাবি। কিন্তু তোর অহেতুক ভয় আর পড়াশোনায় ফাঁকি দেওয়ার অভ্যাস কিছুতেই যাচ্ছে না। তাই আজকের শাস্তিটা একটু আলাদা হবে।”
আরযান টেবিলের ওপর থেকে দুটো মোটা বই তুলে নিল একটা অর্গানিক কেমিস্ট্রি আর অন্যটা অ্যাডভান্সড বায়োলজি। সে বই দুটো রিডিং টেবিলের ওপর রেখে নিজের চেয়াটা একটু পেছনে সরাল।
“সোফায় বস,” আরযান নির্দেশ দিল।
সাঁঝ কাঁপা কাঁপা পায়ে গিয়ে সোফায় বসল। “কী… কী করতে হবে?”
আরযান সাঁঝের ঠিক মুখোমুখি এসে দাঁড়াল। সে নিজের চশমাটা খুলে টেবিলের ওপর রাখল। চশমা ছাড়া আরযানের সেই তীক্ষ্ণ, সম্মোহনী চোখ দুটো সাঁঝের ওপর স্থির হলো। “শাস্তি খুব সোজা,” আরযান ঝুঁকিয়ে সোফার দুপাশে হাত রেখে সাঁঝকে নিজের আয়ত্তে নিয়ে এলো। দুজনের মাঝে এখন এত কম দূরত্ব যে আরযানের উষ্ণ শ্বাস সাঁঝের গালে এসে আছড়ে পড়ছে।
সাঁঝের শ্বাস আটকে গেল। সে চোখ বড় বড় করে আরযানের দিকে তাকিয়ে রইল।
“শাস্তি এক” আরযান গম্ভীর গলায় বলতে শুরু করল, “পরবর্তী এক ঘণ্টা তুমি এই অর্গানিক কেমিস্ট্রির তিনটে কঠিন বিক্রিয়া মুখস্থ করবি। কিন্তু তুই কোনো পড়ার টেবিল পাবে না।”
“ম-মানে?” সাঁঝের গলায় আওয়াজ ফুটছিল না।
“মানে হলো, তুই বইটা হাতে নিয়ে এই সোফাতেই বসবে, আর আমি তোর ঠিক পাশে এভাবে দূরত্ব না রেখে বসব। তুই পড়ার সময় কোনোদিকে তাকাবি না, কোনো হাঁসফাঁস করবি না। যদি পড়া মুখস্থ করতে গিয়ে তোর মন আমার দিকে চলে যায় বা তুই এক সেকেন্ডের জন্য পড়া ভুল করিস…”
আরযান থামল। সে সাঁঝের কানের পাশে পড়া কয়েকটা আলগা চুল আলতো করে আঙুল দিয়ে সরিয়ে দিল। তার স্পর্শে সাঁঝের পুরো শরীর শিউরে উঠল।
“তবে?” সাঁঝ ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করল।
“তবে শাস্তি হিসেবে প্রতিটা ভুলের জন্য তোকে আমার একদম কাছে টেনে নেব। আর… ১০ সেকেন্ডের জন্য আমার দিকে অপলক তাকিয়ে থাকতে হবে। কোনো চোখের পাতা ফেলা চলবে না।”
সাঁঝের বুকের ভেতর যেন তোলপাড় শুরু হয়ে গেল! এটা কেমন শাস্তি?! পড়া এমনিতেই কঠিন, তার ওপর আরযান যদি এভাবে একদম ঘেঁষে বসে থাকে, তার গায়ের সুবাস আর মোহিত করা স্পর্শে তো এমনিতেই মাথা কাজ করবে না! তার ওপর পড়া ভুল হলে চোখ মেলাতে হবে?! “এটা অনাচার!” সাঁঝ প্রতিবাদ করার চেষ্টা করল, “আপনি জানেম আপনার দিকে তাকালে আমার… মানে পড়া মনে থাকে না! এটা কোনো পড়া ধরানোর নিয়ম হতে পারে না!”
আরযান ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটাল।
“নিয়ম আমি বানাই, সাঁঝ। আর আমার নিয়মেই তোমাকে চলতে হবে,” আরযান সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বইটা সাঁঝের কোলে দিল। তারপর সে সাঁঝের একদম গা ঘেঁষে সোফায় বসল। এত কাছে যে আরযানের বাহু সাঁঝের কাঁধ স্পর্শ করে আছে।
“সময় শুরু এখন। তিন মিনিট সময় দিচ্ছি প্রথম বিক্রিয়াটা মুখস্থ করার জন্য। শুরু কর।”
সাঁঝের হাত কাঁপছে। সে তড়িঘড়ি করে বইয়ের পাতা খুলল। চোখের সামনে কেমিস্ট্রির কঠিন কঠিন চিহ্ন আর সমীকরণ ভেসে উঠল বেনজিন রিং, অ্যালডিহাইড, কিটোন… কিন্তু তার মস্তিষ্ক যেন কাজই করছে না! তার সমস্ত খেয়াল পাশে বসে থাকা এই মানুষটার দিকে। আরযানের গায়ের উত্তাপ সে স্পষ্ট অনুভব করতে পারছে। আরযান শান্তভাবে সাঁঝের দিকে তাকিয়ে আছে, তার গভীর দৃষ্টি সাঁঝের গালের তিলটার ওপর আটকে আছে।
“এক মিনিট পার হলো,” আরযানের নিচু কণ্ঠ ভেসে এলো।
সাঁঝ মনে মনে চিল্লাতে লাগল, ‘আল্লাহ! আমাকে বাঁচাও! এই হিটলারের পাশে বসে কেমিস্ট্রি পড়ার চেয়ে বিষ খাওয়া সহজ!’
সে চোখ বন্ধ করে বিড়বিড় করে বিক্রিয়াটা মুখস্থ করার চেষ্টা করল, “অ্যালকাইল হ্যালাইড… সোডিয়ামের সাথে… শুষ্ক ইথারে…”
“সময় শেষ। বলো,” আরযান হাত দুটো বুকের ওপর বেঁধে বলল।
সাঁঝ এক ঢোক গিলে পড়া বলতে শুরু করল, “অ্যালকাইল হ্যালাইড… শুষ্ক ইথারের উপস্থিতিতে… সোডিয়ামের সাথে বিক্রিয়া করে… অ্যালকেন তৈরি করে…”
“তারপর? বিক্রিয়ার উপজাত কী?” আরযান প্রশ্ন করল।
সাঁঝ আটকে গেল! সে তো উপজাতের কথা খেয়ালই করেনি! “উপজাত… উপজাত হলো…” সে বিভ্রান্ত হয়ে আরযানের দিকে তাকাল।
“ভুল,” আরযান শান্ত গলায় বলল। পর মুহূর্তেই আরযান সাঁঝের কোমর ধরে এক ঝটকায় তাকে নিজের আরও কাছে টেনে আনল! সাঁঝের বুক গিয়ে লাগল আরযানের চওড়া বুকে!
“আ-আরযান ভাইয়া!” সাঁঝের মুখ দিয়ে প্রায় চিৎকার বের হয়ে যাচ্ছে।
“নিয়ম ভুলে গেলে?” আরযান এক হাতে সাঁঝের কোমর শক্ত করে ধরে রেখে অন্য হাতের আঙুল দিয়ে সাঁঝের থুতনিটা উঁচাল। “১০ সেকেন্ড। আমার চোখের দিকে তাকা। কোনো চোখের পাতা ফেলা যাবে না।”
সাঁঝ বাকরুদ্ধ হয়ে গেল। আরযানের সেই গভীর, কালো চোখের দিকে তাকাতেই তার যেন পুরো পৃথিবী স্তব্ধ হয়ে গেল। এত কাছে থেকে আরযানকে সে কখনো দেখেনি। আরযানের শান্ত অথচ তীব্র আকর্ষণীয় মুখাবয়ব, তার ঠোঁটের ধীর স্পন্দন সবকিছু সাঁঝকে এক অদ্ভুত মায়াজালে জড়িয়ে ফেলল। ১… ২… ৩… ৪… সাঁঝের বুক হাতুড়ির মতো পিটছে। তার চোখ থেকে জল গড়িয়ে পড়ার উপক্রম হলো, কিন্তু সে পাতা ফেলতে পারল না। আরযানের চোখেও কোনো চঞ্চলতা নেই, সে যেন সাঁঝের আত্মার গভীর পর্যন্ত পড়ে ফেলছে। ৮… ৯… ১০!
“সময় শেষ,” আরযান নরম গলায় বলল, কিন্তু সে সাঁঝকে ছাড়ল না। তার হাত এখনো সাঁঝের কোমরেই আটকে রইল। আরযান সাঁঝের মুখের খুব কাছে মুখ এনে নিচু স্বরে বলল, “পরের বিক্রিয়াটা কি সঠিকভাবে বলতে পারবি, নাকি আবার শাস্তি পেতে চাস?”
সাঁঝের শরীর অবশ হয়ে আসছিল। সে কাঁপাকাঁপা গলায় বলল, “প-পারব… ছেড়ে দাড়ান…”
“আগে বল, কাল থেকে কেমিস্ট্রি ক্লাসে মনোযোগ দিবি?” আরযানের কণ্ঠস্বর এখন আর রাগী নয়, তাতে মিশে আছে এক পরম আদর আর তীব্র অধিকারবোধ।
“দেব…” সাঁঝ কোনোমতে বলল।
“আর আমাকে হিটলার বলবি?”
“না… একদম বলব না…” সাঁঝের চোখ দিয়ে এক ফোঁটা জল গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ল ভয়ে নয়, এক অজানা আবেগের দোলায়। আরযান আলতো করে নিজের বুড়ো আঙুল দিয়ে সাঁঝের গালের সেই চোখের জলটুকু মুছে দিল। তার স্পর্শে এত ভালোবাসা লুকিয়ে ছিল যে সাঁঝের সব রাগ আর অভিমান নিমেষে গলে জল হয়ে গেল।
“গুড গার্ল,” আরযান আস্তে করে সাঁঝকে ছেড়ে দিয়ে একটু দূরে সরে বসল। “এখন দ্বিতীয় বিক্রিয়াটা খোলো। আর এবার ভুল হলে শাস্তি কিন্তু দ্বিগুণ হবে।” সাঁঝ বই দিয়ে মুখ ঢেকে ফেলল, যাতে আরযান তার লাল হয়ে যাওয়া গাল আর লজ্জায় ঝুলে পড়া মুখটা দেখতে না পায়। কিন্তু তার বুকের ভেতরে তখন কোনো বড় কেমিস্ট্রির চেয়েও জটিল এক রোমাঞ্চকর ঝড় বয়ে চলেছে!
বাইরে তখন সন্ধ্যা নেমে এসেছে। স্টাডি রুমের আবছা আলোয় সাঁঝ বইয়ের পাতায় চোখ রাখলেও তার সমস্ত মন জুড়ে এখন শুধুই পাশে বসে থাকা সেই কড়া মানুষটা…সেই মীর আরযান শান !
বিকাল তখন প্রায় চারটে। পশ্চিম আকাশে সূর্যটা একটু হেলে পড়েছে, আর তার হালকা সোনালী আলো মীর বাড়ির বিশাল ড্রয়িংরুমে এসে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘরের পরিবেশ তখন বেশ গমগমে। তাজের হাতে কফির কাপ, রাজ আর তেজ সোফায় বসে ল্যাপটপে কিছু একটা দেখছিল, বাড়ির মা-চাচিরা গল্পে ব্যস্ত। ঠিক তখনই সদর দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকল প্রাণ। আর তার ঠিক পেছনে… গলার চাদরটা শক্ত করে টেনে ধরে হাঁড়ি-মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে প্রত্যাশা! কিন্তু সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা ছিল তাদের পেছনে হাতে অর্ধভুক্ত বিরিয়ানির প্যাকেট নিয়ে মুখ মুছতে মুছতে ভেতরে ঢুকলেন প্রত্যাশার মা! সোফায় বসা রাজের হাতের কফির কাপটা শূন্যে আটকে গেল। তেজ চোখ ছোট ছোট করে তাকাল। প্রাণের মা খবরের কাগজটা নামিয়ে অবিশ্বাস্য চোখে চশমার ওপর দিয়ে তাকালেন। “প্রাণ?”
আব্রাজ তখন কেবলই তার সেই বিখ্যাত ‘লুঙ্গি-রাজনীতি’ আর ‘কাকের আইসক্রিম’ কাণ্ড শেষ করে বাড়ি ফিরে এসে ট্রাউজার আর টি-শার্ট পরে সোফায় ঢলে পড়েছিল। দৃশ্যটা দেখে সে ঝটকা দিয়ে সোজা হয়ে বসল। “ঘটনা কী? প্রাণ কি শুটিং করতে গিয়ে নতুন কাউকে কুড়িয়ে পেল নাকি?”
প্রাণ অত্যন্ত রাজকীয় ভঙ্গিতে হাতের ঘড়িটা ঠিক করতে করতে বলল, “না আব্রাজ ভাই। কাউকে কুড়িয়ে পাইনি, তবে শাশুড়িকে উদ্ধার করে আনলাম। আর সেই সাথে আমাদের সাঁঝের নতুন ভাবীকেও চিরতরে ঘরে তুলে নিলাম।”
পুরো ড্রয়িংরুমে যেন একটা ছোটখাটো পারমাণবিক বোমা ফাটল! তাজ কফির কাপটা টেবিলে রেখে চোখ সরু করে বলল, “উদ্ধার? কোথা থেকে?”
প্রত্যাশা রাগে দাঁত কিটমিট করে কিছু বলতে যাবে, তার আগেই মায়ের মুখ থেকে বিরামহীন কথা বের হতে শুরু করল। সুন্দর ভাবে সব বলল সে।
সিয়া একপাশে দাঁড়িয়ে ছিল, সে হালকা হেসে বলল, “আহা আন্টি, আপনারা তো পুরো রোমাঞ্চকর জীবন পার করে এলেন!”
প্রত্যাশা ফোঁস করে উঠে বলল, “রোমাঞ্চ না ছাই! পুরোটাই এই লোকটার চক্রান্ত…”
প্রাণ তার কথা শেষ করতে দিল না। সে সোজাসুজি গিয়ে প্রত্যাশার কাঁধে হাত রেখে মিষ্টি হেসে বলল, “আহা লক্ষ্মী বউ আমার, বিপদের সময় মাথায় একটু বিভ্রান্তি আসতেই পারে। চল, ঘরে চল।”
আব্রাজ তখন তবে মাত্র বাড়িতে এসেছে। এসেই সোফায় শুয়ে পড়ল। সোফায় শুয়ে পড়ে দুই হাত তুলে হাততালি দিয়ে বলে উঠল, “বাহ্! নাটক একদম অস্কার পাওয়ার মতো! শাশুড়ি কিডন্যাপ করে নতুন বউ লাইনে আনা এমন ইউনিক আইডিয়া যদি আমার মাথায় আসত, তবে আজকের জনসভায় আমার এত বড় জাতীয় বিপর্যয় ঘটত না!”
ঠিক তখনই দোতলার সিঁড়ি দিয়ে ধীর পায়ে নেমে এলো আরযান। তার গম্ভীর চোখ জোড়া প্রাণ আর প্রত্যাশার ওপর গিয়ে থমকে দাঁড়াল। “সব ঠিক আছে তো, প্রাণ?” আরযানের ভারী কণ্ঠস্বর।

প্রাণ মৃদু হেসে বলল, “একদম ঠিক ভাইয়া। সব নাটকের শুভ পরিণতি ঘটে গেছে। প্রত্যাশা এখন থেকে স্থায়ীভাবে এই বাড়িরই একজন।”

কারখানা থেকে বের হয়ে প্রাণের গাড়িতে ওঠার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত আর সেটা হলো না। গাড়ির দরজা খুলতে গিয়েই বাদ সাধলেন প্রত্যাশার মা। তিনি বিরিয়ানির খালি প্যাকেটটা একটা প্লাস্টিকের ব্যাগে পুরে, বোরহানির বোতলে শেষ চুমুকটা দিয়ে প্রাণের এক হাত জড়িয়ে ধরলেন। “না না প্রাণ বাবা! এভাবে তোকে ছাড়া যাবে না! যে ছেলে রাতদুপুরে শাশুড়ির জন্য এমন গরম গরম খাসির বিরিয়ানি আর বোরহানির ব্যবস্থা করে, তাকে কি কোনো মা অমনি অমনি ছেড়ে দিতে পারে? আজ তুমি আমাদের বাসায় যাবে, আমার হাতের স্পেশাল রান্না খাবে, তারপর যা করার করবে!”
প্রত্যাশা চোখ বড় বড় করে তাকাল, “মা! তুমি কী বলছ? ও তোমাকে কিডন্যাপ করেছিল! আর তুমি ওকে বাসায় নিয়ে আপ্যায়ন করতে চাইছ?”
মা অমনি মুখ বাঁকিয়ে বললেন, “আরে কই কিডন্যাপ করেছে! জামাই তো আমাকে ঘুরতে নিয়ে গিয়েছিল! আর তাছাড়া তুই ওকে কত কষ্ট দিয়েছিস! আজ আমি জামাইকে ইলিশ মাছের কোপ্তা আর খাসির রেজালা রেঁধে খাওয়াব। চলো প্রাণ বাবা, তুইও গাড়িতে ওঠ!”
প্রাণ বিজয়ের মুচকি হাসি হেসে প্রত্যাশার দিকে তাকাল। সানগ্লাসটা একটু নিচে নামিয়ে বলল, “শাশুড়ি মার আদেশ, অমান্য করি কীভাবে? চল ডিয়ার ওয়াইফ, তোমার বাপের বাড়ি থেকে ঘুরে আসি!”
প্রত্যাশা দাঁতে দাঁত চেপে গাড়ির পেছনের সিটে গিয়ে বসল।

প্রত্যাশাদের ছোট্ট, সুন্দর বাড়িটিতে পৌঁছাতেই মায়ের আপ্যায়নের বহর শুরু হয়ে গেল। ড্রয়িংরুমে প্রাণকে একদম সম্রাটের মতো সোফায় বসিয়ে দেওয়া হলো। মা নিজের হাতে তোয়ালে, শরবত আর একটা বড় হাতপাখা নিয়ে হাজির হলেন। “প্রাণ বাবা, বাতাস করি? আহা, কাল রাতে আমার জন্য কত ধকল গেছে তোমার ওপর দিয়ে!”
প্রাণ ভাব ধরে গম্ভীর মুখে বলল, “একটু ধকল গেছে শাশুড়ি মা… বিশেষ করে ওই থিয়েটার করা গুন্ডা দুটোকে সামলাতে বেশ কষ্ট হয়েছে!”
মা আফসোস করে বললেন, “আহা রে! দাঁড়া, তোমার জন্য পাটিসাপটা পিঠা বানাচ্ছি!”
রান্নাঘর থেকে পিঠার সাথে সাথে একের পর এক খাবার টেবিলে সাজানো হলো। প্রত্যাশা এক কোণায় হাত দুটো বুকের ওপর বেঁধে দাঁড়িয়ে নিজের মায়ের এই অনভিপ্রেত রূপ দেখছিল। সে ভেংচি কেটে ফিসফিস করে বলল, ” জামাই পেয়ে মেয়েকে ভুলেই গেছে! যেন উনি ওর মা, আমার না!”
প্রাণ এক কামড় পাটিসাপটা মুখে দিয়ে চোখ বন্ধ করে বলল, “আহা! শাশুড়ি মা, এই পিঠার যে স্বাদ, এর সামনে আপনার মেয়ের ওই ঝাল চিলির মতো মেজাজ একদম নস্যি!”
মা তা শুনে গলে পানি! “তুমি একদম ঠিক বলেছো বাবা! ও তো একদম কাঁচা মরিচ! তোমাকে পেয়ে আমার পেট জোড়ালো!”
খাওয়াদাওয়ার মাঝেই ঘটল আসল হাসির কাণ্ড। মা প্রাণের পাতে আরও একটা ইলিশ মাছের টুকরো দিতে গেলে প্রাণ দু’হাত তুলে বলল, “না না শাশুড়ি মা, আর না! আমার পেট একদম ফুল!”
মা জোড়াজুড়ি করতে গিয়ে ভুলবশত তেল চিটচিটে হাতাটা সোজা প্রাণের ধবধবে সাদা ব্র্যান্ডের শার্টের ওপর ফেলে দিলেন! শার্টের একদম বুকের মাঝখানে প্রকাণ্ড এক তেল আর হলুদের ছাপ পড়ে গেল!
প্রত্যাশা সোফায় বসে ফিক করে হেসে ফেলল। মা হাতজোড় করে আকুল হয়ে উঠলেন, “ওরে বাবারে! জামাইয়ের এত দামি শার্ট নষ্ট করে ফেললাম! দাঁড়াও দাঁড়াও, সাবান দিয়ে এখনই ধুয়ে দিচ্ছি!”
“না না শাশুড়ি মা, লাগবে না…” প্রাণ না করার আগেই মা বাথরুম থেকে কাপড় কাচা এক টুকরো ভারী নীল সাবান আর বাটি ভর্তি পানি নিয়ে হাজির!
প্রাণ সোফায় বসে কিছু বুঝে ওঠার আগেই মা সোজা গিয়ে প্রাণের শার্টের ওপর সাবান দিয়ে ডলা শুরু করলেন! ফেনার চোটে প্রাণের সুঠাম বুকের ওপর যেন ছোটখাটো এক কেমিক্যালের বন্যা বয়ে গেল!
প্রত্যাশা এবার হাসতে হাসতে সোফা থেকে প্রায় পড়ে যাওয়ার উপক্রম! “হা হা হা! প্রাণ, তোমার ‘রিয়েলিস্টিক নাটকে’র শাশুড়ি-আপ্যায়ন কেমন লাগছে?”
প্রাণ ফেনাভরা শার্ট নিয়ে চোখ ছোট ছোট করে প্রত্যাশার দিকে তাকাল, আর মনে মনে বলল, ‘দাঁড়াও ম্যাডাম, মীর বাড়িতে চল, এই ফেনার হিসাব সুদে-আসলে উসুল করব!’
অবশেষে সমস্ত আপ্যায়ন পর্ব আর ফেনামুক্ত হয়ে নতুন একটা ঢিলেঢালা জামা গায়ে দিয়ে রাত প্রায় আটটার দিকে মীর বাড়িতে ফিরল প্রাণ আর প্রত্যাশা। কিন্তু আজ মীর বাড়ির ড্রয়িংরুমের দৃশ্য সম্পূর্ণ আলাদা! ঘরের আবহাওয়া ভারী ও জমজমাট। সোফায় সারি বেঁধে বসে আছেন পুরো মীর পরিবারের সর্বেসর্বা আর মুরুব্বিরা! একেবারে মাঝখানের কাঠের চেয়ারে বসে আছেন মীর পরিবারের আসল কর্তা, অর্থাৎ সবার দাদা, বুড়ো মীর জহিরুল ইসলাম! বয়সের ভারে চামড়া কুঁচকে গেলেও তার চোখ দুটো এখনো রাজঈগলের মতো তীক্ষ্ণ। তার পাশে বসে আছেন বড় কর্তা আফজাল শাহরিয়ার ও তার বেগম নাজিরা ওয়ালেদ ওরা আরযান ও প্রাণের মা-বাবা একপাশে মেজো কর্তা মীর আয়মান হোসেন ও তার স্ত্রী ইলমা হোসাইন মানে রোদ, রাত ও রাজের মা-বাবা। অন্য পাশে সেজো কর্তা মীর আজিজ হাসান ও হাফসা বেগম বসে আছে ওনারা হলো তাজ ও তেজের মা-বাবা। আর কোণার সোফায় ছোট কর্তা মীর আরসালান হোসেন ও তার স্ত্রী সাইরা শেখ মানে সাঁঝের মা-বাবা।
তাদের ঘিরে গোল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে তাজ, তেজ, রাজ, আব্রাজ আর সাঁঝ। ঘরের ভেতরে ঢুকেই প্রাণ আর প্রত্যাশা থমকে গেল। প্রাণ দ্রুত নিজেকে সামলে নিয়ে প্রত্যাশার হাতটা শক্ত করে ধরে ড্রয়িংরুমে পা রাখল। পুরো ঘরে নিস্তব্ধতা নেমে এলো। মুরুব্বিরা সবাই একসঙ্গে দরজার দিকে তাকালেন। বড় কর্তা আফজাল শাহরিয়ার চশমার ওপর দিয়ে তাকিয়ে গম্ভীর গলায় বললেন, “প্রাণ? এই মেয়েটিকে নিয়ে একসাথে? ঘটনা কী?”
প্রাণ অত্যন্ত সুবোধ বালকের মতো দাঁড়িয়ে বলল, “বড় আব্বু… ইনি আপনাদের বউমণি, অর্থাৎ আমার বিবাহিতা স্ত্রী প্রত্যাশা।”
একসাথে চারজোড়া বাবা-মা সোজা হয়ে বসলেন! মেজো আম্মা ইলমা হোসাইন হাত থেকে কফির কাপ ফেলে দিতে দিতে বাঁচলেন! কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রতিক্রিয়া দেখা গেল বুড়ো দাদা জহিরুল ইসলামের কাছ থেকে। তিনি হাতের লাঠিটা মেঝেকে ঠক ঠক করে তিনবার ঠুকে গর্জে উঠলেন,
“কী বললি?! বিয়ে করে ফেলেছিস? কাউকে না জানিয়ে?!”
আব্রাজ পাশে দাঁড়িয়ে ফিসফিস করে রাজকে বলল, “দাদাজানের এখন ৯৯ নম্বর মেজাজ গরম চলছে! প্রাণের আজ খাসির রেজালা বের হয়ে যাবে!”
প্রাণ মাথা নিচু করে বলল, “পরিস্থিতি এমন হয়েছিল দাদাজান… তবে আমি সব নিয়ম মেনেই করেছি।”
বুড়ো দাদাজান লাঠি উঁচিয়ে প্রাণের দিকে তেড়ে আসার ভঙ্গি করে বললেন, “কিসের নিয়ম রে হতচ্ছাড়া? বড় ভাই আরযান ঘরে বসে বসে এখনো শুকনো কাঠের মতো পড়ে আছে! তার কোনো বিয়ের নামগন্ধ নেই! আর তুই ছোট হয়ে একে একে লাইন টপকে বউ ঘরে তুলে নিয়ে আসছিস?!”
ছোট আম্মা সাইরা শেখ হেসে ফেলে বললেন, “আহা বাবা, শান্ত হন! আজকালকার ছেলেদের কি আর অত তর সয়?”
নাজিরা ওয়ালেদ হাত কপালে দিয়ে বললেন, “আমার এই ছেলেটাকে নিয়ে আমি আর পারি না! এত বড় একটা কাণ্ড ঘটিয়ে এখন চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে!”
ঠিক তখনই দোতলা থেকে ধীর পায়ে নেমে এলো আরযান। তাকে দেখেই বুড়ো দাদাজান আবার লাঠি ঠুকলেন, “ঐ যে! আসল মজনু আসছে! তোকে নিয়ে আমি কী করব রে আরযান? তোর ছোট ভাইরা একে একে বউ নিয়ে ঘরে সংসার পাতছে, আর তুই কোন মঙ্গলে বসে আছিস? তোকে কি এবার খবরের কাগজে বিজ্ঞাপন দিয়ে পাত্রী খুঁজতে হবে?”
পুরো ড্রয়িংরুমে হাসির রোল উঠল। আব্রাজ মুখ চেপে হেসে বলল, “দাদাজান, আরযান ভাইয়ার জন্য ঘটক জসিমকে খবর দেওয়া দরকার!”
আরযান গম্ভীর মুখে এসে দাঁড়াল। সে একবার প্রাণের দিকে, একবার প্রত্যাশার দিকে তাকাল। তারপর বুড়ো দাদাজানের দিকে তাকিয়ে খুব শান্ত গলায় বলল, “দাদাজান, ওদের ব্যাপারটা আমি জানতাম। যা হয়েছে, ঠিকই হয়েছে।”
“তুই তো সবই জানিস!” বুড়ো দাদাজান মুখ বাঁকালেন, “শুধু নিজের বিয়ের বয়স যে পার হয়ে যাচ্ছে, সেটা ছাড়া!”
এমন সময় এক অদ্ভুত শব্দে সবার নজর চলে গেল ড্রয়িংরুমের বারান্দার দিকে। সবাই চেয়ে দেখল, মীর পরিবারের চিরচেনা পোষা পাখি ‘চিকু’ উড়ে আসছে। তবে সে একা নয়! তার ঠিক পেছনে ডানা ঝাপটে উড়ে আসছে ধূসর রঙের একটা প্রকাণ্ড, স্বাস্থ্যবতী মেয়ে শালিক পাখি! চিকু সোজা এসে বুড়ো দাদাজানের লাঠির মাথায় গিয়ে বসল। আর সেই শালিক পাখিটা গিয়ে বসল পাশের ফুলদানির ওপর!
আব্রাজ আর সাঁঝ চোখ ছানাবড়া করে এগিয়ে এলো। সাঁঝ চিৎকার করে উঠল, “ও মা রে! চিকু! এটা কাকে আবার সাথে করে নিয়ে এলি তুই?!”
আব্রাজ পাখিটার দিকে আঙুল উঁচিয়ে বলল, “চিকু, তুই কি এখন থেকে এলাকায় চাঁদাবাজি শুরু করেছিস? এই নির্দোষ শালিক পাখিকে কেন কিডন্যাপ করে আনলি?”
চিকু খাঁচার দিকে না গিয়ে, নিজের ডানা দুটো কায়দা করে ছড়িয়ে বুক ফুলিয়ে চেঁচিয়ে উঠল,
“বউ! বউ! চিকুর বউ ‘চিকা’!”
পুরো ড্রয়িংরুমের মানুষ যেন একসাথে স্তব্ধ হয়ে গেল! আব্রাজ হা হয়ে গেল, “কী বললি? চিকা?!”
চিকু আবার চিল চিৎকার দিল, “চিকুর বউ চিকা! বিয়া করছি! বিয়া করছি!”
সাঁঝ নিজের কপালে হাত দিয়ে সোফায় ঢলে পড়ল, “ওরে আমার আল্লাহরে! এই বাড়িতে বাতাসেই নাকি বিয়ের ভাইরাস ঘুরে বেড়াচ্ছে! মানুষের তো হচ্ছেই, এখন পাখিরও বিয়ে হয়ে যাচ্ছে! শুধু আরযান ভাইয়া আর আমি অবিবাহিত রয়ে গেলাম!”
বুড়ো দাদাজান লাঠি ফেলে দিয়ে দুই হাতে নিজের মুখ ঢাকলেন, “হায়রে আমার মীর পরিবার! পাখিও বউ নিয়ে ঘরে ফিরছে, আর আমার বড় নাতি এখনো স্টাডি রুমে কেমিস্ট্রির রুটিন বানাচ্ছে!”
হাসির তোড়ে পুরো মীর বাড়ির ছাদ যেন খসে পড়ার উপক্রম হলো! বড় আম্মা নাজিরা ওয়ালেদ আর ছোট আম্মা সাইরা শেখ হেসে গড়িয়ে পড়লেন। সাঁঝ শালিক পাখিটার দিকে তাকিয়ে বলল, “চিকা ভাবি! তোমার বর কিন্তু খুব ফাজিল! তোমাকে কিন্তু প্রতিদিন কেমিস্ট্রি পড়াবে!”
চিকু সাথে সাথে চেঁচাল, “না! চিকা ফেল মারবে না! সাঁঝ গাধা!”
সাঁঝ রেগে গিয়ে জুতোর দিকে হাত বাড়াতেই আরযান এক নজরে তাকাতেই সে থমকে গেল। আরযান ধীর পায়ে বুড়ো দাদাজানের কাছে গিয়ে দাঁড়াল। দাদাজান চশমার ওপর দিয়ে বড় নাতির দিকে তাকিয়ে বললেন, “আরে, আরযান! এবার তোকে আমি নিজে পছন্দ করে পাত্রী এনে ঘরে বাঁধব!”
আরযান ঠোঁটের কোণে খুব সূক্ষ্ম এক চিলতে রহস্যময় হাসি ঝুলিয়ে সাঁঝের দিকে এক পলক তাকাল, যা আর কেউ খেয়াল না করলেও সাঁঝের বুকের ভেতর এক অচেনা কম্পন তৈরি করে দিয়ে গেল! আরযান শান্ত গলায় বলল, “চিন্তা করবেন না দাদাজান। এই বাড়ির কোনো কাজই অসমাপ্ত থাকবে না… উপযুক্ত সময়েই সব নাটক পূর্ণতা পাবে।”
চলবে? See less

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply