Golpo কষ্টের গল্প শেষ পাতায় সূচনা

শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৬০.১


শেষপাতায়সূচনা [৬০.১]

সাদিয়াসুলতানামনি

পূর্ণতা থমকে যাওয়া নয়নে কিছু সময় তাকিয়ে থাকে জাওয়াদের দিকে। লোকটার এসব কথা শুনে বুকের ভেতর কেমন সুখ সুখ দোলা দিচ্ছে। তার ছেলে ছাড়াও আরো কেউ চিন্তা করে তাঁকে নিয়ে? হ্যাঁ করেই তো। ভীষণ রকমের চিন্তা করে।
পূর্ণতা একটা তৃপ্তির শ্বাস ফেলে। জাওয়াদের থেকে চোখ সরিয়ে একবার ছেলের দিকে তাকিয়ে দেখে নেয়। না, ছেলেটা বর্তমানে ল্যাপটপে একটা রাইমের ভিডিও দেখছে মনোযোগ দিয়ে। তাই সে সকল সংকোচ দূরে সরিয়ে এগিয়ে আসে জাওয়াদের বেশ খানিকটা নিকটে। এতটাই নিকটে আসে যে, জাওয়াদের উষ্ণ নিঃশ্বাস এসে পড়ছে পূর্ণতার মখমলিয় গালে।
সে আলগোছে নিজের হাতদুটো এনে রাখে জাওয়াদের সুঠাম বক্ষের উপর। শুধু রাখেই না হাতদুটো, জাওয়াদের কাধের কাছের টি-শার্টের কিছু অংশ মুঠ করে নিজেদের নৈকট্য আরো খানিকটা বাড়ায়।
জাওয়াদও বিনা দ্বিধায় পূর্ণতার কোমড়ের একপাশে নিজের হাত দিয়ে চেপে ধরে দু’টো শরীরকে কাছাকাছি যেতে সহায়তা করে। পূর্ণতা ভীষণ মায়াবী গলায় জাওয়াদকে সুধায়–
—”চিন্তা হচ্ছে বুঝি মিস্টারের আমার জন্য?”
—”না হওয়ার কথা বুঝি?”
ভারিক্কি গলায় পাল্টা প্রশ্ন করে জাওয়াদ তাঁকে। পূর্ণতা ঠোঁট এলিয়ে হেঁসে দেয়। পরপরই নিজের মাথা এনে রাখে জাওয়াদের বুকের বাম পাশটায়। চোখ বন্ধ করে কান লাগিয়ে মনোযোগ দিয়ে শুনতে থাকে জাওয়াদের হৃৎস্পন্দনের সুর। একসময় হঠাৎই সে বিরবির করে বলে–
—”আপনার ভালবাসা আমায় যতটা না সুখী অনুভব করায়, তার চেয়ে সহস্র গুণ বেশী আমি সুখী বোধ করি আপনাকে আমার জন্য চিন্তা করতে দেখে জাওয়াদ।
ভাবা যায়, সবসময় আপনজন হারানো পূর্ণতার জন্যও নাকি এত গভীরভাবে চিন্তা করে। ভীষণ সুখ সুখ অনুভব হচ্ছে জাওয়াদ। সেই সাথে ভয়ও হচ্ছে।”
—”ভয়?”
ভ্রু কুঁচকে চেহারায় এক অজানা শঙ্কা নিয়ে প্রশ্ন করে জাওয়াদ। পূর্ণতা জবাবে বলে–
—”সুখ যে আমার জীবনে কখনোই দীর্ঘমেয়াদি হয় না জাওয়াদ। ক্ষণিকের জন্য এসে আমাকে অনন্ত সময়ের জন্য কাঁদিয়ে রেখে যায়।”
পূর্ণতার কথা শুনে জাওয়াদের বুকটা কেমন মোচড় দিয়ে ওঠে। সে শক্ত করে আঁকড়ে ধরে পূর্ণতাকে নিজের সাথে। পারলে সে নিজের ভেতরে ঢুকিয়ে নিত তার পূর্ণকে। মেয়েটা সবসময় এসব কথা বলে তার মনে ভয় লাগিয়ে দেয়। জাওয়াদ লম্বা করে একটা শ্বাস টেনে নেয় নিজের ভেতরে, তারপর সময় নিয়ে সেটা ত্যাগ করে আবেগী গলায় বলে–
—”আমি আল্লাহ পাকের কাছে খুব করে চাই আর সারাজীবন চাইবো তোমার সুখগুলো যেন আর ক্ষণিকের জন্য না দেন তিনি। তোমার সাথে যেন আমি বৃদ্ধ বয়সে উপনিত হতে পারি। জীবনের সকল রঙ, সকল ছন্দপতন, সকল ভালো-মন্দ সময় তোমাকে যেন আমি নিজের পাশে পাই।”
সেদিন সকালের নাস্তাটা জাওয়াদই বানায় সকলের জন্য কাজের খালার সাহায্য নিয়ে। পূর্ণতাকে রান্নাঘরের দরজা সামনেও যেতে দেয়নি জাওয়াদ। তাজওয়াদ তো ভীষণ খুশি আর এক্সাইটেড আজ প্রথমবার সে তাট পাপার হাতে তৈরি ব্রেকফাস্ট করবে বলে।
জাওয়াদ পূর্ণতা চলে যাওয়ার পর আর কখনোই নিজের মায়ের হাতে রান্না করা খাবার খায় নি। তাঁকে শত জোর করে, ধমক দিয়ে, অনুরোধ করেও খাওয়ানো যায় নি মিসেস শেখের হাতের রান্না। সে যদিও রান্নায় এতটা পটু ছিল না। দুয়েকটা আইটেম রাঁধতে পারত জাওয়াদ। কিন্তু মায়ের সাথে অভিমান করে নিজের পেট চালানোর তাগিদে সে টুকটাক রাঁধতে রাঁধতে এখন মোটামুটি ভালোই রান্না পারে।
কাজের খালা সব কেটে-ধুয়ে এগিয়ে দেওয়ায় জাওয়াদের বেশিক্ষণ লাগে না ব্রেকফাস্ট বানাতে। ব্রেকফাস্টে সে আটার রুটি, মিক্সড সবজি, ডিম পোঁচ, সুজি বানায়। আর পূর্ণতা সকালে হেভি খাবার খায় না বলে তার জন্য ব্রাউন ব্রেড বাটার দিয়ে টোস্ট, গ্রিন সালাদ, অরেঞ্জ জুস বানায়।
জাওয়াদ পূর্ণতার জন্য সালাদ বানানোর জন্য শসা, বেবি টমেটো, লেটুস পাতা আর কয়েকটা কাঁচা খাওয়া যায় এমন সবজি কেটে একটা মাঝারি সাইজের বোলের মধ্যে নেয়। তার ভেতর পিঙ্ক সল্ট, ব্ল্যাক পেপার আর ইয়োগার্ট দিয়ে চামচ দিয়ে মিক্সড করতে থাকে সবগুলো একসাথে। সালাদ বানাতে বানাতে সে বিরবির করে বলে–
—”এত শাক-সবজি খায় বলেই পূর্ণকে লাগে সুইট সিক্সটিনের কিশোর। আমার আমি হাভাতের মতো সব খাই বলে ওর পাশে আমাকে লাগে পেট মোটা সুগার ড্যাডি। শেইম অন ইউ জাওয়াদ, শেইম অন ইউ।”
নিজেকে ভর্ৎসনা করে কথাগুলো বলে জাওয়াদ। আসলে হয়েছে কি, গতপরশু জাওয়াদ নিজের অফিসের জন্য রেডি হচ্ছিল। তখন পেটের কাছের শার্টের বোতাম লাগানোর পর জাওয়াদ যখন আয়নায় তাকায়, তখন সে দেখে পেটটা কেমন একটু উঁচু হয়ে আছে যার দরুন শার্টটা আঁটসাঁট হয়ে আছে পেটের কাছে।
আগে জাওয়াদ নিয়মিত জিম করলেও, বেশ কয়েকমাস ধরে জিমের ধারে কাছেও যায় না। উপরন্তু তার সুন্দরী বউ বাঙালি খাবার থেকে শুরু করে চাইনিজ, ইতালিয়ান ও অন্যান্য বিভিন্ন মজার মজার খাবার প্রায়শই বাসায় বানিয়ে তাদের ট্রিট দেয়। পূর্ণতার কথা, আমি রাঁধতে ভালোবাসি আর খাওয়াতেও। তাই আপনার দায়িত্ব হলো লক্ষী জামাইয়ের মতো সব খাওয়া।
জাওয়াদ তো আবার বউয়ের বাধ্যগত ভেড়া থুক্কু জামাই। পূর্ণতা যদি বাগান থেকে একমুঠ দূর্বা ঘাসও এনে দেয় সে ঐটাই চোখ বন্ধ করে খেয়ে নিয়ে। আর সেখানে তো পূর্ণতা তাকে কত মজার মজার খাবার খাওয়ায়। সে মিস দেওয়ার মতো পাবলিক বুঝি?
কথায় আছে না অতিলোভে, তাঁতি নষ্ট। জাওয়াদের হয়েছে সেই দশা। পূর্ণতা দেয়, আর সেও খেয়ে নেয়। আর এর প্রভাব দেখা যায় পেটের দিকে তাকালে।
এসব ভাবতে ভাবতেই জাওয়াদ নিজের জন্যও এক বাটি সালাদা বানিয়ে নেয়। আটটা বাজতেই সবাই ডাইনিংয়ে এসে উপস্থিত হতে শুরু করলে জাওয়াদ হেল্পিং হ্যান্ড খালার হাতে হাতে খাবারগুলো নিয়ে রাখে টেবিলে। নিমিষেই খাবারের সুঘ্রাণে ডাইনিং এরিয়া মো-মো করে ওঠে। পূর্ণতা খাবারের বাটিগুলোর দিকে একবার জহুরি নজরে তাকিয়ে দেখে, খাবারগুলো দেখতে সুস্বাদুই লাগছে।
জাওয়াদই সবাইকে সার্ভ করে দিয়ে নিজেও পূর্ণতার পাশে বসে পড়ে। একে একে সবাই খাবার খেতে শুরু করে আর তার প্রশংসা করতে থাকে। তাজওয়াদ তো খুশিতে গদগদ হয়ে বলে–
—”উমমমমম.. পাপা.. ইটস সো ইয়াম্মি। ইউ আর দ্য বেস্ট শেফ পাপা।”
—”মাই প্লেজার সোনা বাচ্চা।”
ছেলের প্রশংসায় খুশি হয়ে জাওয়াদও নিজের সালাদের বাটি তুলে নিয়ে খাওয়া শুরু করে। এক চামচ মুখে দিয়ে চিবাতেই জাওয়াদের দ্বিতীয় চামচ মুখে দিতে ইচ্ছে করে না। সে অসহায়ের ন্যায় একবার নিজের বাড়ন্ত পেটের দিকে আরেকবার সামনে রাখা সালাদের বাটির দিকে তাকাতে থাকে।
তার এমন কাণ্ড আর কারো নজরে না পড়লেও, পূর্ণতার নজরে ঠিকই পড়ে। সে নিজের মুখের খাবারটুকু শেষ করে কপালে কয়েকটা ভাজ নিয়ে জিজ্ঞেস করে–
—”কি ব্যাপার তাজের পাপা? আপনি সালাদ খাচ্ছেন যে হঠাৎ? ইজ এভ্রিথিং অলরাইট?”
জাওয়াদ গোবেচারার ন্যায় মুখ করে বলে–
—”সবই অলরাইট আবার না।”
—”মানে?”
—”মানে আমার এই বাড়ন্ত পেট। যাকে খাটি বাংলা ভাষায় বলে ভুঁড়ি।”
—”কিহ্হ্হ্হ্হ্হ্হ!!!”
জিনিয়া তখন পানি খাচ্ছিল, জাওয়াদের ভুঁড়ি কথাটা শুনে বেচারি ফিক করে পানি খাওয়া অবস্থাই হেঁসে দেয়। মি.শেখও ছেলের কথা শুনে হাসতে থাকেন স্বল্প আওয়াজে। তাজওয়াদও খাওয়া থামিয়ে দিয়ে শুনতে থাকে তার মাম্মা-পাপার কথা।
—”তুমি আমাকে শুধু মজার মজার খাবার বানিয়ে খাওয়ায় আর আমার শার্ট গুলো সব পেটের দিকে টাইট হচ্ছে দিনকে দিন। পরশু একটা শার্ট পরতে গিয়ে দেখি পেটের কাছের বোতামটা লাগানোর পর পেট যেন ফেটে বের হয়ে আসতে চাইছে।
তাই আমি ঠিক করেছি, এখন থেকে খাবার-দাবারে একটু কন্ট্রোল করব। আর জিমেও জয়েন করব। আ’ম প্রিটি সিউর, আমার ওজন এইটি প্লাস হয়ে গিয়েছে।”
চিন্তিত মুখাবয়ব আর ভীষণ আফসোস নিয়ে বলে কথাটি জাওয়াদ। জিনিয়া তাঁকে পিঞ্চ মারতে বলে–
—”ভাইয়া, এই বয়সে জিমে গিয়ে দেখো আবার কোমড়ে টান খেয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ো না একদিনেই। “
জাওয়াদ রাগত স্বরে বলে–
—”তোর কি আমার বুড়ো মনে হয় যে, কোমড় টান খেয়ে বিছানায় শুয়ে পড়বো?”
—”আপনার বাম কানের উপরের চুলে কাল আমি দুটো সাদা চুল দেখেছি জাওয়াদের পাপা।”
ননদের হয়ে পূর্ণতাই উত্তরটি দিয়ে স্বাভাবিক ভঙ্গিমায় খাবার মুখে দেয়। জিনিয়া কিটকিটিয়ে হেঁসে দেয়। মি. শেখও নিজের বাচ্চাদের খুনসুটি দেখে হাসতে থাকেন। বহুদিন পর ব্রেকফাস্টে বসে এমন খুনসুটি হচ্ছে আবারও। শুধু একজন মানুষের অভাব আজ এই সুন্দর মুহূর্তটায়। প্রিয়তমা স্ত্রীর কথা মনে পড়তেই মি. শেখের বুক চিঁড়ে একটা দীর্ঘশ্বাস বের হয়ে আসে।
অন্যদিকে জাওয়াদের চোয়াল ঝুলে যায়, স্ত্রী – বোনের কথা শুনে। পঁয়ত্রিশ কি ছত্রিশ বছরের একজন সুঠাম যুবককে এই দুই রমণী বুড়ো বানিয়ে দিলো।
জাওয়াদ মুখ ফুলিয়ে তাজওয়াদকে জিজ্ঞেস করে–
—”তাজ, পাপাকে কি তোমার বুড়ো লাগে?”
তাজওয়াদ বুড়ো শব্দের মানে বুঝতে না পেরে বোকা গলায় বলে–
—”বুলো কি পাপা?”
জাওয়াদের এবার কপাল চাপড়ানোর জোগাড়। তার ছেলে যে বাংলা কম ইংরেজি বেশি বুঝে এটা সে প্রায়শই ভুলে যায়। সে মলিন গলায় প্রশ্ন করে–
—”এম আই লুকিং ওল্ড , মাই সান?”
—”নো পাপা। ইউ’র দ্য ড্যাম হ্যান্ডসাম এন্ড গুডলুকিং পাপা ইন দ্য ওয়ার্ল্ড।”
ছেলের থেকে আরো একবার প্রশংসায় পেয়ে জাওয়াদ খুশিতে বাক-বাকুম হয়ে যায়। সে তাজওয়াদকে উদ্দেশ্য করে ফ্লায়িং কিস ছুঁড়ে। তাজওয়াদও প্রতিত্তোর দেয় জাওয়াদেরই পন্থায়।


আজকাল আরিয়ানের দিনটা একটু ভিন্ন ভাবে শুরু হয়েছে। সাতসকালেই বউয়ের মিষ্টি কণ্ঠের ডাক আর মায়াবী-পবিত্র মুখশ্রী দেখে তার সকালটা শুরু হয়। প্রতিদিন আরওয়া একটু সকাল সকাল উঠে শ্বাশুড়ি মায়ের সাথে ব্রেকফাস্ট বানিয়ে তারপর ডাকতে আসে আরিয়ানকে। আজও এর ভিন্নতা হয় না।
আরওয়া গত দশমিনিট ধরে আরিয়ানকে ডেকেই চলেছে, ডেকেই চলেছে কিন্তু জনাবের উঠার নাম-গন্ধও নেই। ধীরে ধীরে আরওয়ার মেজাজ খারাপ হতে থাকলে সে বেডের সামনে দাঁড়িয়ে কিছুটা রাগী গলায় বলে–
—”আরিয়ান উঠবে তুমি? নাকি পানি ঢেলে দিবো আমি তোমার উপর?”
বউয়ের হুমকি শুনে আরিয়ান শোয়া থেকে তড়াক করে বসে যায়। বউদের রাগাতে নেই। রাগালে পরে দেখা যাবে, তার স্থান হবে ঘরের বাহিরে নাহয় তার বউ তাঁকে এতিম ফিল করাতে চলে গিয়েছে মায়ের সাথে ঘুমাতে।
আরওয়া আরিয়ানের অফিসের জামা-কাপড় বের করে ড্রেসিংটেবিলের সামনে রাখে। আরিয়ান হাই তুলতে তুলতে ওয়াশরুমে ঢুকে যায়। আরওয়া সেদিকে একবার তাকিয়ে বিছানা গুছাতে শুরু করে।
দিন যত যাচ্ছে ততই আরওয়া আরিয়ানের বদঅভ্যাসগুলোর সাথে পরিচিত হচ্ছে। ছেলেটা অনেক অগোছালো, সেই সাথে এক নাম্বারের লেট লতিফ। প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর সময় দুনিয়ার সব আজগুবি গল্প নিয়ে বসবে গল্প করতে। তার গল্প শুনতে শুনতে আরওয়া ঘুমিয়ে পড়ে, কিন্তু সেই বান্দা আবার তাকে ডেকে তুলে গল্প শুনাবে। এমন করতে করতে মাঝরাতে গিয়ে লোকটা ঘুমায়। যার প্রভাব পড়ে সকালে।
আরওয়া মনে মনে সংকল্প করে, আজ আরিয়ান রাতে আউল-ফাউল গল্প নিয়ে বসলে তাঁকে আচ্ছা মতো ঝাড়বে। তার ভাবনার মাঝেই আরিয়ানের ডাক শোনা যায় ওয়াশরুম থেকে। টাওয়াল নিয়ে যায় নি। সব এগিয়ে এনে রেখেছে চোখের সামনে তাও নিয়ে যায়নি টাওয়ালটা। মেজাজ কার না গরম হয় এতে?
আরওয়া মনে মনে আরিয়ানকে বকতে বকতে টাওয়াল নিয়ে এগিয়ে যায় ওয়াশরুমের কাছে। ওয়াশরুমের সামনে এসে দরজায় দু’টো টোকা দিয়ে বলে–
—”অ্যাঁই মনভুলো লোক, টাওয়ালটা নিন। চোখের সামনে এগিয়ে এনে দিলাম তাও আপনি নিয়ে যান নি কেনো?”
আরিয়ান দরজাটা অল্প একটু খুলে হাত বাড়াতেই আরওয়া টাওয়ালটা এগিয়ে দেয়। আরিয়ান হঠাৎই টাওয়ালসহ আরওয়ার হাতটা টেনে ভেতরে ঢুকিয়ে শাওয়ারের নিচে দাঁড় করিয়ে দেয়।
—”এই জন্য ডিয়ার ওয়াইফি।”
ঘটনার আকস্মিকতায় আরওয়া কিছু বলতেও ভুলে যায়। তাঁকে আরো চমকে দিয়ে আরিয়ান তার দুই হাত দিয়ে কোমড় চেপে ধরে নিজের মুখ গুঁজে দেয় আরওয়ার গলার ভাঁজে। একে তো উপর থেকে পড়ছে ঠান্ডা পানির ধারা, তার উপর আরিয়ানের এহেন লুচুগিরি। আরওয়ার সারা শরীরে ছেড়ে দিলে আরিয়ান আলগোছে তাঁকে আগলে রাখে নিজের সাথে।
তারা যখন নিজেদের অবাধ্য অনুভূতিগুলোকে নিজেদের ভাসাতে ব্যস্ত, তখনই অজান্তা বেগম আসেন তাদের রুমে। মূলত অনেকক্ষণ হয়ে যাওয়ার পরও আরিয়ান-আরওয়া না আসার কারণে সে তাদের ডাকতে এসেছে। রুমের দরজা খোলা থাকায় অজান্তা বেগম প্রথম কয়েকবার গলা খাকারি দিয়েছিল। কিন্তু রুমে এসে কাউকে দেখতে না পেয়ে তার কপালে ভাজ নিয়ে রুমের ভেতরে ঢুকেছিল।
ওয়াশরুম থেকে পানির শব্দ আসছে শুনে সে গলা উঁচিয়ে জিজ্ঞেস করে–
—আরিয়ান, বউমা কই রে?
আরিয়ান ঘোরের মাঝে ডুবে থেকেই আনমনে বলে বসে–
—আমার সাথে।
আরিয়ানের এহেন কথা শুনে বাহিরে দাঁড়িয়ে থাকা তার মা লজ্জায় পড়ে যায়। সে আর কিছু না বলেই হুড়মুড়িয়ে রুম থেকে বেরিয়ে আসে।
[গল্পটি ভালো লাগলে বেশি বেশি শেয়ার করে আপনার গল্প প্রেমী বন্ধুদের নিকট পৌঁছে দিন। ]

চলবে?

[সবাই একটা হলেও রিয়াক্ট ও কমেন্ট করার চেষ্টা করিয়েন। গল্প ইনশা আল্লাহ এখন থেকে রেগুলার দেওয়ার চেষ্টা করব।
ভুলক্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। গঠনমূলক মন্তব্য করবেন। হ্যাপি রিডিং মাই লাভিং রিডার্স ]

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply