Golpo romantic golpo জল তরঙ্গের প্রেম

জল তরঙ্গের প্রেম পর্ব ৩৮


#জল_তরঙ্গের_প্রেম

পর্ব সংখ্যা;৩৮

#লেখনীতে_নবনীতা_চৌধুরি

দুপুরের সূর্য মাথার উপর। সূর্য তেমন তাপ না ছড়ালে ও ঘেমে নেয়ে একাকার তরঙ্গ।

পরণের আকাশী রঙের র্টি শার্ট টা পুরোটাই ভিজে উঠেছে। নিত্যদিনের ব্যবহৃত স্লিপার পায়ে সারা শহর ঘুরে বেড়াচ্ছে সে। কেবল একটা দুই রুমের বাসা খোঁজবার নিমিত্তে। ছেলেটার কপালের পাশ ধরে ঘামের সরু রেখা চিকচিক করছে। মাথার চুল গুলো সব ঘামে ভিজে উষ্কখুষ্ক হয়ে কপালের উপর এসে পড়েছে।

তবুও ধমে যায়নি সে। সেই সকাল সাড়ে আটটায় হোটেল থেকে বেরিয়ে ছিলো সকালের নাশতা করে। এখন দুপুর আড়াই টা বাজে। এখনো অব্দি পানি ছাড়া আর কিছুই পেটে পড়েনি তরঙ্গের। সারা দিনে প্রচুর বৃসা দেখেছে সে। যেগুলো পছন্দ হয়েছে, সেগুলোর ভাড়া বেশি। আর যেগুলো অপছন্দ হয়েছে; সেগুলোর ভাড়া সাধ্যের মধ্যে। বর্তমানে একটা আধ করা বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছে তরঙ্গ। চার তলার ছাদ দেওয়া বাড়িটার তিনতলা কমপ্লিট। বাইরে সিমেন্টের প্লাস্টার করা। মনে মনে, দুরুদ শরীফ পাঠ করে গেটে দাঁড়ানো দারোয়ানের কাছে এগিয়ে এলো তরঙ্গ। সারাদিনের ক্লান্তির চাপ লুকিয়ে; মুখের হাসির রেখা টানলো। গলা খেকাড়ি দিয়ে যতুটুকু সম্ভব নরম করার চেষ্টা করলো গলার স্বর।

–” আসসালামু অলাইকুম চাচা।”

হঠাৎ, অপরিচিত যুবকের কণ্ঠে সালাম শুনে থতমত খেলো বৃদ্ধ দারোয়ান। নিজের থতমত খাওয়া চোয়াল নিয়েই গেট থেকে বেরিয়ে এসে বাড়ির সামনে দাঁড়ালেন তিনি।

–” ওয়ালাইকুম সালাম। কে আপনি?”

–” আমি তরঙ্গ, আপনাদের বিল্ডিং এ কি বাসা খালি আছে চাচা?”

বাসার কথা জিজ্ঞেস করতেই তরঙ্গের পা থেকে মাথা অব্দি অভিজ্ঞ চোখে পরোখ করলেন তিনি। পর পর বিরক্তি কণ্ঠে জবাব দিলেন।

–” আছে, তবে ব্যাচেলর পোলাপাইন ভাড়া দেওয়া হয় না। মালিক পক্ষের নিষেধ আছে।”

বাসা খালি আছে শুনতেই থড়ে প্রাণ ফিরলো তরঙ্গের। যেমন ই হোক এই বাসা। এইবার নিয়েই নিবে সে। আর সম্ভব না বাসা খোঁজা। পরের টা পরেই দেখা যাবে। আগে মাথা গোঁজার ঠাঁই পেলেই উপরওয়ালার দরবারে লাখো কোটি শুকরিয়া। মনের ভাবনা মনে রেখে বাস্তবে ফিরলো তরঙ্গ। আগের মতোই মুখে হাসি টেনে বললো সে।

–” আমি ব্যাচেলর না চাচা।”

–” তো, কে কে থাকবে?”

–” আমার ওয়াইফ আর আমি থাকবো।”

–” ওহ, চলো বাসা দেখবে।

–” কত তলায়?”

–” তিন তলায় খালি আছে। একটাই ফ্ল্যাট।”

কথার জবাব দিয়ে তরঙ্গ কে নিয়ে গেটের ভেতরে প্রবেশ করলেন বৃদ্ধ লোকটা। সিঁড়ির দিকে পা বাড়িয়ে তরঙ্গ বুঝলো; সিঁড়ি গুলো সাধারণের তুলনায় চিপা। একজন একজন করে উপরে উঠা লাগছে। দু’জন একসাথে হাঁটতে গেলে রেলিং বিহীন সিঁড়ি থেকে একেবারে নিচতলায় পড়ে যাবে।

–” কয় রুমের?”

–” দুই বেড রুম। এক ড্রয়িং, দুই বাথরুম, আর কিচেন।”

–” ব্যালকনি নেই?”

–” আছে।”

কথা বলতে বলতে তিন তলায় উঠে এলো দারোয়ান আর তরঙ্গ। ফ্ল্যাটের তালা খুলে ভেতরে ঢুকে ফের অবাক হলো সে। নিজের বিরক্তি ভাব চেপে একে একে পুরো ফ্ল্যাট ঘুরে দেখলো। একই সাথে তরঙ্গ এটা ও বুঝলো। যে ভাগ্য ভালো, তার সামনে বাড়িওয়ালা দাঁড়িয়ে নেই। না হলে এতো ছোটো কিচেন আর ওয়াশরুম বানানোর অপরাধে সে বাড়িওয়ালার মাথা পাটিয়ে দিতো। এই ঢাকা শহরের বাড়িওয়ালা গুলো কি মানুষ কে চড়ুই পাখি ভাবে? যে তাদের ব্যান্টিলেটরের ফাঁকের মতো ছোটো ছোটো কিচেন, ওয়াশরুমে এডজাস্ট করে নিবে।

কি অদ্ভুত, এই কিচেনে তরী রান্না করতে গেলে তো সে মেয়েটাকে জড়িয়ে ও ধরতে পারবে না। দেখা গেলো দুজনে একসাথে দেয়ালের সাথে আটকে গেছে। তখন আবার আরেক বিপদ।

–” বাসা পছন্দ হইছে??”

মনে মনে বাড়ির মালিকের পিন্ডি চটকে দারোয়ানের দিকে ঘুরে দাঁড়ালো তরঙ্গ। দাঁত কটমট করে তাকিয়ে জবাব দিলো।

–” হ্যাঁ, ভাড়া কতো?”

–” দশ হাজার।”

–” একটু কম রাখা যায় না চাচা? আমরা তো মাত্র দু’জন।”

তরঙ্গের শান্ত কণ্ঠের আবদারে কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন লোকটা। অতঃপর, সুধালেন তিনি।

–” তোমরা যেহেতু দুই জন থাকবা। তাই সাত হাজার দিও। আর এডভান্স আট হাজার দিতে হইবো।”

গাজীপুর শহরের বুকে, সাত হাজার টাকায় বাসা পাওয়া; বাসা না পাওয়ার থেকে হাজার গুণ ভালো। কথা না বাড়িয়ে; পকেট থেকে এক হাজার টাকার দুটো নোট দারোয়ানের হাতে গুঁজে দিলো।

–” আপাতত এডভান্স দুই হাজার টাকা রাখুন চাচা। বাকি টাকা বাসায় উঠে দিচ্ছি।”

–” আচ্ছা, তাইলে বাসায় উঠবা কবে?”

–” আজকের মধ্যেই!”

বাকি কথা শেষ করে বাসার চাবি নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলো তরঙ্গ। তপ্ত দুপুরের খা খা করা আকাশের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো সে। আজ থেকে নতুন আরেক যুদ্ধ শুরু হলো। সংসার জীবনের যুদ্ধ। তরীর সাথে কাটানোর প্রতিটা মূহুর্ত সে এনজয় করতে চায়। তা সুখের হোক কিংবা দুঃখের। সব একসাথে সামলে নিবে দু’জনে। ভালোবাসাময় একটা ছোট্ট পৃথিবী গড়বে।

*******

গোধূলির রঙিন আলো, আঁধারিতে হোটেলের ব্যালকনিতে বসে; রাস্তার দিকে অধীর চোখে তাকিয়ে তরঙ্গের ফেরার অপেক্ষা করছে তরী।

ছেলেটা বেরিয়েছে সেই সকালে। এরপর থেকে আর যোগাযোগ হয়নি তার সাথে। দুপুরে খায় ও নি তরী। এখানে কিছুই চিনে না সে। তাই, রুম থেকে বেরোবার সাহস ও করেনি। পাছে যদি রুম হারিয়ে ফেলে। অনেক বড় এরিয়া নিয়ে ভিলা গুলো। ওদের রুমটা দোতলায়। তরীর অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে তরঙ্গ ফিরলো। হাতে কাগজের প্যাকেট। চোখের মানসপটে তরঙ্গের চেহারা ভেসে উঠতেই খুশির ঝটা বয়ে গেলো তার চক্ষু পটে। তরীকে দেখতে পেয়ে হাত নাড়ালো তরঙ্গ। পর পর, উড়ন্ত চুমু ছুঁড়ে দিলো তার তরী জানের পানে।

আনন্দে অষ্টাদশী বালিকার ন্যায় ছুট্টে এসে দরজার কাছে দাঁড়ালো তরী। কাঁধে ঝোলানো ওড়নাটা মাথায় টেনে দরজা খুলে দাঁড়ালো সে। ধীর পায়ে তরঙ্গ এগিয়ে এলো। রুমে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে ওখানে দাঁড়িয়েই পূর্ণ দৃষ্টিতে তরীর দিকে তাকালো সে। নিমিষেই কপালের সমস্ত ভাঁজ মিলিয়ে গিয়ে একরাশ মুগ্ধতারা ভর করলো তার মুখশ্রীতে। তরঙ্গের উজ্জ্বল মুখশ্রী আরো উজ্জ্বল হয়ে উঠলো। তার ওমন নিগূঢ় দৃষ্টিতে দৃষ্টি মেলাতে পারলো না তরী। লাজুক হেসে মাথা নুইয়ে নিলো সে। দু’হাতে ওড়নার কোণা ধরে আঙুলে পেঁচানোতে ব্যস্ত হয়ে পড়লো তরী। তবুও লজ্জারা ছাড়লো না তাকে। আর না পারতে ধীর গতিতে মুখ খুললো সে।

–” এভাবে তাকিয়ে আছেন কেন?”

তরঙ্গ হাসলো। দু’পা এগিয়ে এসে হাতের প্যাকেট টা সেন্টর টেবিলের উপর রেখে তরীর ওড়না টেনে মুখের ঘামটুকু মুছে সামনে এসে দাঁড়ালো। তরীর কোমর পেঁচিয়ে গালের একপাশে হাত রাখলো।

–” কেন? আমার বউ, আমি তাকাবো। তোমার কি?”

লজ্জায় আরেক ধাপ গুটিয়ে গেলো তরী। চিবুক ঠেকালো গলায়। তির তির করে কাঁপতে থাকা ওষ্ঠ জোড়া ভেজালো জিভ দিয়ে। তরঙ্গ তরীর চিবুকে আঙুল ঠেকিয়ে মুখ তুললো। আলতো চুমু খেলো থুতনিতে।

–” আমাকে ভালবাসিস?”

তরঙ্গের প্রশ্নে মুখ তুললো তরী। এক ঝলক দৃষ্টি নিবেশ করে। পুনরায় মেঝেতে তাকালো।

–” জানি না।”

–” জানিস কি তবে?

–” সারাদিন কোথায় ছিলেন? কিছু খেয়েছেন?”

তরীর প্রশ্নের বিনিময়ে তাকে নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো তরঙ্গ। মাথায় অগণিত চুমু এঁকে দিতে দিতে কোমল কণ্ঠে বললো।

–” আগে মিষ্টি মুখ কর!”

–” কেন?”

–” তোমার নতুন সংসারের জন্য।”

তরী আমতা আমতা করে উঠলো। তরঙ্গের পিঠ আঁকড়ে ধরে, তার বুকে মুখ লুকালো। মূহুর্তেই তরঙ্গের শার্টে লেপ্টে থাকা অবশিষ্ট পারফিউমের সুভাষ ঠেকলো তরীর নাসারন্ধে। চোখ বুঁজে গভীর শ্বাস টানলো তরী। আহ,, তরঙ্গ তরঙ্গ সুভাষ।

–” শব্দটা আমাদের হবে তরঙ্গ।”

#চলবে

( প্রিয় পাঠক মহল,

এবার থেকে ছোটো ছোটো করে হলে ও ইনশাল্লাহ জলদি গল্প দেওয়ার চেষ্টা করবো। আপনারা একটু প্রার্থনায় রাখবেন আমাকে। যাতে সমস্যায় আর না পড়ি। কেমন হয়েছে জানাবেন কিন্তু! রিচেক দেইনি। ভুল ক্রটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আর বলবেন ও!)

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply