#সীমান্তরেখা
লেখনীতে— #ঝিলিক_মল্লিক
#পর্ব_৩৮
[কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।]
নানিবু’কে দেখে হতচকিত হলো আকসা। নানিবু ওকে চুমু খেতে দেখেছে ভেবেই চরম অস্বস্তিতে পরলো। মিনমিন করে বললো, “ওই ফোন স্ক্রিনে ময়লা পরেছিল নানিবু। সেটাই পরিষ্কার করছিলাম আরকি।”
“মুখ দিয়া?”
নানিবু প্রশ্নটা করেই হাসতে শুরু করেন। হাসতে হাসতে বিছানা থেকে গড়িয়ে পরেন পারলে। কতক্ষণ পর হাসি থামিয়ে ধীরেসুস্থে বললেন, “বুঝি গো নাতিবৌ, সব বুঝি। তোমাগো বয়স পার কইরা আইছি কবেই। আমগেও এমনে স্বামীর সাথে আদর-সোহাগ করান লাগতো। নইলে কপালে বিছা আছিল। অবিশ্যি এমনেই স্বামীর কাছে যাইতাম। স্বামীর লগে আদর-ভালবাসা কইরতে আবার কীয়ের শরম? লও, কথা কও তোমার স্বামীর লগে। আমি একটু ঘুমাই লই। ভোরে উঠতে হইবো আবার।”
নানিবু বালিশে মাথা পাতলেন। আবারও মিনিট পাঁচেকের মধ্যে ঘুমের দেশে তলিয়ে গেলেন তিনি। সেটা বোঝা গেল, হালকা নাক ডাকার শব্দে। মেজবাহ এতক্ষণ কলেই ছিল। মেজবাহ ফোন ড্রয়ারের ওপরে রেখে হেয়ার ড্রয়ার দিয়ে চুল ড্রাই করে নিচ্ছিল৷ স্পিকার লাউডে ছিল। ওপাশ থেকে চাপা স্বরে নারী কন্ঠে “মেজবাহ” ডাকটা শোনামাত্র হেয়ার ড্রয়ারের ফ্লাগ খুলে সেটা রেখে ফোন নিয়ে বিছানায় এসে বসলো ও। জবাব দিলো, “হুহ।”
ওপাশে নিরবতা। আকসা চুপচাপ শুয়ে আছে৷ ফোনটাকে বালিশের সাথে মিশিয়ে কানের কাছে চেপে ধরে রেখেছে। আকসাকে চুপ থাকতে দেখে মেজবাহ ফিচেল হেঁসে বললো, “মাঝে মাঝে মুরগি এভাবেও ধরা খায়!”
“আপনি আমাকে মুরগি বললেন?”
প্রশ্নটা করে আকসা চুপ হয়ে গেল। হ্যাঁ, ও তো মুরগি-ই বটে। নিজেকে ও মুরগি মনে করে। আর মেজবাহকে শেয়াল। সেদিন রাতে নিজেই স্বীকার করেছে। তারপরও এমন অহেতুক প্রশ্ন করার মানে হয় না। মেজবাহ’র দুর্লভ হাসির শব্দ শোনা গেল অপর প্রান্ত থেকে। আকসা বুঝলো, লোকটা আকসার এভাবে নানিবু’র কাছে ধরা খাওয়ার কান্ডে ভীষণ মজা পেয়েছে৷ হাসি থামছেই না। কিছু সময় পরে থেমে মেজবাহ গলার স্বর বদলালো। সবসময়কার মতো বিদ্রুপাত্মক, চতুরতা মিশ্রিত স্বরে বললো, “নানিবু’র কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছো?”
“কীহ?”
“স্বেচ্ছায় স্বামীর কাছে যেতে হয়। তাহলে স্বামী আরো বেশি বেশি ভালোবাসে।”
ওপাশ থেকে চাপা আওয়াজে মেজবাহ’র নেশা ধরানো কন্ঠে কথাটা শুনতেই কুঁকড়ে যায় আকসা। বিছানার চাদর খামচে ধরে এক হাতে। কাথাটা আরেকটুখানি ভালোভাবে টেনে নিয়ে গুটিসুটি মেরে শুলো। মেজবাহ বললো, “বিছানার চাদর খামচে ধরে রেখো না। নির্জীব বস্তু। ওটার ওপরে খামোখা অত্যাচার কোরো না।”
আকসা হতবুদ্ধ হলো৷ মেজবাহ কীভাবে বুঝলো যে ও বিছানার চাদর খামচে ধরে রেখেছে! লজ্জায় মুখের দুই পাশ গরম হয়ে গেল ওর। চাদরটা আরো জোরসে খামচে ধরে নিলো। আপাতত শুধু ওর নিশ্বাসের শব্দ শুনতে পাচ্ছে মেজবাহ।
“কী লজ্জা পেলে? স্বামীর কাছে আবার কীসের লজ্জা? লজ্জা-শরম তো সব সেই রাতেই…”
বাকিটুকু আর শেষ করতে দিলো না আকসা। তড়িৎ মুখ চালিয়ে অস্থির কন্ঠে বললো, “চুপ! প্লিজ চুপ করুন মেজবাহ! এসব বাজে কথা বলবেন না। এত আজেবাজে কথা বলেন কীভাবে আপনি?”
“বাজে কথা তো তোমাকেই শুনাই সুইটহার্ট। আজ অবধি অন্য কোনো মেয়েকে শোনাইনি। তুমি চাইলে তোমাকে আরো শোনাতে পারি। আর ইউ ইন্টারেস্টেড?”
“না, নাহ! আমি ইন্টারেস্টেড না। শুনবো না কিছু!”
মেজবাহ’র ফিচেল হাসি শোনা গেল ওপাশ থেকে। ফোনটা বোধহয় মুখের কাছে আরো খানিকটা এগিয়ে নিলো। চাপা স্বরে বললো, “এখন ঘুমাও। রাত হয়েছে অনেক। লেইট নাইটে ঘুমালে সেটা তোমার শরীরের জন্য ক্ষতিকর। আর আমার কানে যেন শারীরিক অসুস্থতার কোনো খবর না আসে। মাইন্ড ইট!”
সারারাত এত আদর আদর কথা বলার পরে শেষ বেলায় এসে এমন গাম্ভীর্য-মিশ্রিত, হুমকিমূলক কথা শুনে আকসার মন খারাপ হলো। ও আস্তে করে শুধু ‘আচ্ছা’ বলে সায় দিলো। মেজবাহ আর এক সেকেন্ডও অতিবাহিত না করে কল কেটে দিলো। ও কল কাটার পর আকসা ফোনটা বালিশের পাশে রাখতেই যাচ্ছিল; তখনই ফোনে মেসেজ আসার টিউন শব্দ হলো। ফোনটা হাতে নিয়ে দেখলো, মেজবাহ হোয়াটসঅ্যাপে টেক্সট দিয়েছে— “পাঁচ মিনিটের মধ্যে ঘুমাবে। অনলাইনে যেন না দেখি। দেখলে খবর আছে।”
আকসার একটা বাজে অভ্যাস আছে। ও রাত বারোটায় বিছানায় ঘুমানোর উদ্দেশ্যে যায় ঠিকই, তবে ঘুমায় দু’টো-তিনটে নাগাদ। ঘুম না আসলে কতক্ষণ পরপর ফোন নিয়ে ঘাটাঘাটি করে। আজও সম্ভবত তাই-ই করতো। তবে মেজবাহ’র তরফ থেকে কড়া হুমকি পেয়ে আজ আর একবারও ফোন ধরলো না৷ ঘুমানোর জন্য ফোকাস করতেই মিনিট পনেরোর মধ্যে ওর চোখে ঘুম নেমে আসলো৷
.
.
আজ ঘোর বর্ষার দিন। রান্নাঘরে আজ পিঠা বানানোর উৎসব লেগেছে। অবশ্য এই উৎসব-আয়োজন সবকিছু আকসা এবং তার অনাগত সন্তানের জন্যই। ও রান্নাঘরে বসে ছিল এতক্ষণ। সবাই রান্নায় ব্যস্ত। আকসা টুলে বসে গল্প করছিল। নানিবু ওর চুল বেণী করে দিয়েছেন তখন। শরীর চিটচিটে বোধ হওয়ায় কিছুক্ষণ হলো রুমে এসে হাত-মুখ ধুয়ে ব্যালকনিতে বসেছে আকসা। বাইরে ঝড়ো হাওয়া বইছে। আষাঢ় মাস চলছে এখন। আকাশ হুটহাট নিকষ আঁধারে ছেয়ে যায়। দিনের বেলায়ও রাত্রি নামে ধরণীতে। আজও তেমনটাই হয়েছে। এখন সবে বিকাল মাত্র। সন্ধ্যা নামতে বহু দেরি। তার আগেই মনে হচ্ছে, রাত নেমে গেছে। চারিপাশের পরিবেশ অন্ধকারে ডুবে গেছে। দিনের আলো আর নেই এখন। যেকোনো সময় বর্ষণ নামবে। দমকা হাওয়ায় ব্যালকনির টবে ঝোলানো পোর্টুলকা গাছের পাতাগুলো দুলছে৷ ছোট ছোট ফুলগুলো দেখতে দারুণ লাগছে। আকসা চেয়ারে বসে সেগুলো দেখছে মনোমুগ্ধ দৃষ্টিতে। ঝড়ো বাতাসে কোত্থেকে জানি আম গাছের পাতা এসে উড়ে পরছে ব্যালকনিতে। এমন দৃশ্য উপভোগ না করে থাকা যায়? কেউ থাকতে পারে আদৌও? ধীরেসুস্থে মিনিট দুই-তিনেকের মধ্যে বৃষ্টি নামলো ভূমিতে। আকাশ ফেটে বর্ষণের ধারা বইতে লাগলো। আকসা চেয়ারটা আরেকটু সামনে টেনে রেলিঙের ধারে গিয়ে বসলো। হাত বাড়িয়ে ওপর থেকে নেমে আসা বর্ষণ উপভোগ করতে ব্যস্ত হলো।
চারিদিক আঁধারে ছাওয়া। দূরে কোথাও হতে কুহকের ডাক ভেসে আসো। বর্ষণের এই দিনে মাটির সোঁদা গন্ধ নাকে ভেসে আসে। মরমরে ফুল-পাতার সুবাস। পরিবেশটাই অন্যরকম করে তোলে। আকসা বৃষ্টিতে হাত ভেজাতে ব্যস্ত ছিল, তখনই মেজবাহ’র কল। এই অসময়ে লোকটা খুব একটা কল দেয় না। আজ দিয়েছে, তারমানে কোয়ার্টারে আছে, অফিসে যায়নি। আকসার আন্দাজ সঠিক হলো। কল রিসিভ করতেই ভিডিওকলে দেখলো, মেজবাহ বাসায়। নিজ বেডরুমে বিছানায় শুয়ে আছে। মাথার নিচে তার সবসময়কার ঘুমানোর সঙ্গী বালিশটি। আকসা সালাম দিয়ে জিজ্ঞাসা করলো, “আজ অফিসে যাননি?”
“উহুঁ।”
মেজবাহ জবাবটা দিয়ে ভিডিওকলে আকসার দিকে ভালোভাবে তাকাতেই ভ্রু কুঁচকে ফেলে। গম্ভীর গলায় প্রশ্নে করে, “তুমি এখন কোথায়?”
“এইতো ব্যালকনিতে।”
“কী করছো?”
“বৃষ্টি দেখছি।”
“আর?”
“হাত ভেজাচ্ছি বৃষ্টির পানিতে। আপনাদের ওখানে বৃষ্টি হচ্ছে না?”
মেজবাহ’র ওখানেও বৃষ্টি হচ্ছে। ফোনকলের মধ্য হতেই বৃষ্টির রিনিঝিনি শব্দ আর মেঘের গর্জন কানে আসছে আকসার। তবু ও প্রশ্নটা করেছে। তবে মেজবাহ ওর এ-প্রশ্নের কোনো প্রতিত্তোর করলো না৷ কন্ঠস্বরে দ্বিগুণ গাম্ভীর্যতা আর রাগ টেনে বললো, “বৃষ্টির পানি গায়ে লাগাচ্ছো কেন? হু?”
“ভালো লাগছে তাই। বৃষ্টি উপভোগ করতে দারুণ লাগে। আপনার ওখানেও তো বৃষ্টি হচ্ছে। অথচ আপনি সেটার ফিল নিচ্ছেন না। মানুষ এমন তেঁতো স্বভাবের কীভাবে হয়? দেখুন, আমি ভিজছি!”
আকসা ওর হাতটা আরেকটুখানি বাইরে বাড়িয়ে দিলো। মেজবাহকে ভিডিওকলে দেখাতেই ও চেঁচিয়ে উঠলো।
“আকসা! হাত সরাতে বলেছি। বৃষ্টির পানি লাগাবে না তুমি। মুভ অ্যাওয়ে ফ্রম দেয়ার!”
চেঁচামেচি আর ধমকেও আকসা সরলো না সেখান থেকে। বরং আরো উচ্ছৃঙ্খল হলো৷ জেদ চাপলো মনে৷ হঠাৎ চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো ও৷ ব্যালকনি, এরপর ঘর, তারপর সবার থেকে লুকিয়ে সদর দরজা পেরিয়ে সোজা ছাঁদে চলে গেল৷ ছাঁদের দরজার সিটকানি টানা ছিল। বৃষ্টির ছেঁচ যাতে সিঁড়িতে আসতো না পারে, এজন্য। আকসা অত্যন্ত সন্তর্পণে দরজা খুললো। বৃষ্টির তোড় আর মেঘের গর্জনের কারণে সিটকানিতে টান দেওয়ার শব্দ নিচতলায় আর গেল না। দরজা খুলতে সামনে সুবিশাল ছাঁদ উদীয়মান হলো। আঁধার আসমানের নিচে চুন-সিমেন্টের লেপ দেওয়া ছাঁদের সাদা মেঝেতেে বৃষ্টির বড় বড় ফোঁটা আছড়ে পরছে। এই আছড়ে পরা বৃষ্টিগুলো ছন্দের তাল সৃষ্টি করছে। অদ্ভুত এক সুর। আকসা মোহন্বিত হলো। মেজবাহকে এতক্ষণ কলে মিউট করে রেখেছিল ও। এবার ফোনটা ছাঁদে উঠতেই সিঁড়ির কাছে যেই ছাউনি, সেখানে নিচে সোজা করে রাখলো। যাতে বৃষ্টির পানি ফোনের ওপরে না পরে। এরপর ভিডিওকল আনমিউট করলো। মেজবাহকে তৎক্ষনাৎ ফোনস্ক্রিনে দেখা গেল। একইরকম ভাবে বালিশে মাথা রেখে শুয়ে ছিল ও। ব্যালকনির পরিবর্তে আকসাকে ছাঁদে দেখে তড়িৎ শোয়া থেকে উঠে বসলো ও। আকসা যে কি করতে চলেছে— সেটা মিনিট খানেকের মধ্যেই বোঝা গেল, যখন আকসা ফোন থেকে দূরে ধীরে ধীরে ছাউনির বাইরে বেরিয়ে ছাঁদের মাঝখানে গিয়ে দাঁড়ালো। বৃষ্টির দৈত্যকার ফোঁটা ওর গায়ে এই, দুই, তিন করে অসংখ্য পরা শুরু করতেই চেঁচিয়ে উঠলো মেজবাহ।
“আকসা! কী করছো কী?! সরে আসো ওখান থেকে। বৃষ্টিতে ভিজো না। অসুখ করবে তোমার। আকসা!”
এতোবার ডাকা সত্ত্বেও আকসার কোনো হেলদোল হলো না। বরং ও প্রচন্ড উচ্ছ্বসিত। ভিজতে ভিজতে ফোনের কাছে এগিয়ে এসে বললো, “আষাঢ়ের দারুণ বৃষ্টি দেখুন! আপনিও ভিজুন না। একবার জাস্ট বৃষ্টিটা ফিল করুন। দুনিয়ার সব কাজকর্ম ভুলে যাবেন!”
“প্রয়োজন নেই। আর্মড অফিসারদের কিছু রুলস এন্ড রেগুলেশন আছে। তারা সময়ে-অসময়ে বৃষ্টিতে ভেজে না। নিজেদের হেলথের প্রতি অলওয়েজ কনসার্ন থাকতে হয় তাদের। তোমাকে সরতে বলেছি ওখান থেকে।”
চরম গম্ভীর স্বরে বলা কথাটা আকসার গায়েও লাগলো না৷ ও তো বৃষ্টি গায়ে মাখতে ব্যস্ত। মেজবাহ আধশোয়া হয়ে পেছনে বালিশ ঠেকিয়ে গম্ভীর মুখে ঠোঁটে আঙুল চেপে দেখছে আকসার কর্মকাণ্ড। বৃষ্টির পানিতে সাদা ফ্রক পিঠ-পেট, বুকের সাথে লেপ্টে রয়েছে। ভেতরের পোশাক স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। ওড়না ভিজে চুপসে গলার সাথে লেগে আছে। চুলগুলো কপালে, গলায় লেপ্টে আছে। অতিরিক্ত আবেদনময়ী দেখাচ্ছে। সহ্য হচ্ছে না মেজবাহ’র। এই মেয়ে নাকি অসুস্থ! দেখে মনে হয়? হঠাৎ আকসাকে ছাড়িয়ে স্ক্রিনের পেছন দিকে চোখ পরতেই মেজবাহ চেঁচিয়ে ডাকলো ওকে।
“আকসা!”
মেঘের গর্জনের চাইতেও ভয়াবহ চিৎকারটা শুনে আকসা দ্রুত দৌড়ে এগিয়ে আসলো ফোনের কাছে। নিচু হয়ে জিজ্ঞাসা করলো, “কী হয়েছে? ডাকছেন কেন?”
“ভেতরে যাও।”
বৃষ্টি আর মেঘের গর্জনের শব্দে কথাটা ঠিকমতো শুনতে পায়নি আকসা। এজন্য কান এগিয়ে আবারও প্রশ্নে করে, “কী বলছেন? শুনতে পাচ্ছি না। জোরে বলুন।”
“ভেতরে যেতে বলেছি তোমাকে৷ বিপরীত পাশের ছাঁদে দু’টো ছেলে। চোখ দিয়ে দেখেছো? নাকি চোখ খুলে পরে গেছে তোমার বোধবুদ্ধির সাথে সাথে?!”
মেজবাহ দাঁতে দাঁত পিষে কথাটা বলতেই আকসা চমকে পেছনে তাকায়। দেখে, ওদের প্রতিবেশী ছাঁদে ওই বাড়ির দু’জন ছেলে বসে বৃষ্টিতে ভিজছে আর গল্প করছে। উল্টোদিকে ফিরে ওরা৷ এদিকে ওদের কোনো মনোযোগ নেই। তবু আকসা চটজলদি ফোনটা হাতে নিয়ে দ্রুত ছাঁদ থেকে নেমে সিঁড়ির এককোণ গিয়ে দাঁড়িয়ে জোরে জোরে শ্বাস টানতে লাগলো। মেজবাহ তখনও কলে৷ ফোনটা আকসার মুখের সামনেই ধরা। ও ভয়ে ভয়ে স্ক্রিনে তাকালো৷ তাকাতেই বুক ধ্বক করে উঠলো। মেজবাহ’র মুখের চোয়াল শক্ত, কপালের রগ ফুলে আছে৷ দাঁত কামড়ে আকসাকেই দেখছে। আকসা অসহায় মুখ কোরে বললো, “স্যরি! বুঝতে পারিনি আসলে।”
“বুঝতে পারোনি? বুঝাবো তোমাকে৷ আসতে দাও শুধু একবার।”
আকসা কান্নারত দৃষ্টি ফেলে। মেজবাহ’র মন গলে ও। ওর চোখ যায় আকসার বুক আর গলার মাঝ বরাবর। দাঁতে দাঁত পিষে চাপা স্বরে বলে, “বলেছি না, তিলটা অলওয়েজ ঢেকে রাখতে? কথা শুনেছো আমার? ওকে!”
ওকে বলেই কল কেটে দিলো মেজবাহ৷ আকসা আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত সিঁড়ি পেরিয়ে নিচে নামলো৷ ড্রয়িংরুম হতে দৌড়ে সোজা নিজ ঘরে৷ এরপর জামাকাপড় নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে ভালোভাবে গোসল সেরে পোশাক পাল্টে নিলো৷ এক কাপ চায়ের জন্য রুম থেকে বের হয়ে ড্রয়িংরুমে এসে দাঁড়াতেই দেখলো, ওর শাশুড়ি, নানিশাশুড়ি আর চাচি-শাশুড়ি বসে চা খাচ্ছেন। হাসি হাসি মুখ। কোনো একটা বিষয় নিয়ে কথা বলছেন। যার জন্য এত খুশি। কাছে এগিয়ে যেতেই আকসা শুনতে পেল, “আমার আব্বার জন্য কী রান্না করা যায় ফাতিমা? বাজার-সদাই আরো করতে হবে। কাল বাদে পরশু-ই তো চলে আসবে ছেলেটা। এসে আবার হাঁটে যাবে। প্রতিবার কুরবানিতে দুই বাপ-বেটা মিলে হাঁটে যেয়ে গোরু কেনে। আমার মেজবাহ আবার গোরু কেনার বিষয়ে ভালো অভিজ্ঞ।”
মেজবাহ! মানে মেজবাহ বাসায় আসছে! এই ইদে! ইদ তো আর ছয়দিন পরে। লোকটার আসার কথা ছিল না তো৷ তাহলে আসছে যে! আকসা বড়সড় একটা ধাক্কা খেল।
Share On:
TAGS: ঝিলিক মল্লিক, সীমান্তরেখা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
সীমান্তরেখা পর্ব ১৩
-
সীমান্তরেখা পর্ব ৩৭
-
সীমান্তরেখা পর্ব ১২
-
উড়াল মেঘের ভেলায় পর্ব ৮
-
উড়াল মেঘের ভেলায় পর্ব ১৭
-
সীমান্তরেখা পর্ব ৪
-
উড়াল মেঘের ভেলায় পর্ব ১
-
উড়াল মেঘের ভেলায় পর্ব ১৯
-
উড়াল মেঘের ভেলায় পর্ব ১৩
-
উড়াল মেঘের ভেলায় পর্ব ৬