অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা
[পর্ব ৫৯]
#লেখিকা_ফারহানা_নিঝুম
( দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয়।)
(কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)
রিসার্চ সেন্টার হল রুম (০১)
রিসার্চ সেন্টারের অস্বাভাবিক রকম উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
দীর্ঘ নীরবতার পর আজ আবারো এই নিষিদ্ধ স্থানটিতে পদার্পণ করলো এহসান মাফিয়া কিংয়ের ভয়ঙ্কর ছায়া যেন শীতল দেয়ালগুলোতেও ছড়িয়ে পড়লো।
অন্ধকারে মোড়ানো কেবিনে বসে আছে সে। মাথা নত, হাতে চকচকে ঈগলের আংটি , তার প্রতীক, তার শাসনের মুকুট। নিস্তব্ধতার মধ্যে আংটির ঠান্ডা ধাতব এক অদ্ভুত শিহরণ ছড়িয়ে দিলো চারপাশে।
তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে ঈশান, বরাবরের মতো বিশ্বস্ত ,ভীতিকর এক সঙ্গী। দু’হাত পিছমোড়া করে বাঁধা, যেন যুদ্ধের আগমুহূর্তের এক র’ক্তাক্ত প্রতিজ্ঞা। হুডির আবরণে মুখ ঢেকে আছে তাদের, তবে ভেতরের চোখদুটি শীতল আগু’নের মতো জ্বলছে। এ যেন জ্বল’ন্ত আ’গ্নেয়গিরি!
বন্দি সেলের গভীরে তখন মিস্টার আলবার্ট আর মিস্টার কামাল মৃ’ত্যুর অপেক্ষায় অস্থির। যাদের প্রাণ কেড়ে নেওয়া হয়েছে সেই সায়েন্টিস্টদের র’ক্তগন্ধ এখনও কক্ষের দেয়ালে জমাট বেঁধে আছে। প্রতিটি নিঃশ্বাসের সাথে সেই বিদঘুটে গন্ধে পেট গুলিয়ে আসে।
“বস কখনো যদি ইলহাম ম্যাম এই সব কিছু জানে তখন কি করবেন?”
আফরিদ এহসান বড় চিন্তিত আজ। আজ যেন তার অন্তর্গত অস্থিরতা চক্ষুগোচর। তার চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল। তার পরাণ জানকি বাচ্চা নামের সেই দুর্বার মেয়েটা উন্মত্ত হয়ে উঠেছে নিজের পালিত মা বাবার খু’নি কে খুঁজে বের করতে ,উতলা হয়ে উঠেছে আগুন্তকে শনাক্ত করার নে’শা তাকে সম্পূর্ণ রূপে গ্রাস করে নিচ্ছে।
আঙ্গুলের ফাঁকে ধরে রাখা মার্বেল টা এদিক ওদিক ঘুরিয়ে দেখছে আফরিদ। আকস্মিক হিসহিসিয়ে বলে উঠে।
“ও চায় ওর ফ্যামিলির খু’নি কে বের করতে। ওকে ফাইন তাই হবে! আফরিদ এহসান তার খুনি কে তার অপরাধী কে ওর সামনে দাঁড় করিয়ে দেবে।”
ঈমানের কপালে তৎক্ষণাৎ সূক্ষ্ম ভাঁজ পড়লো , সংশয় মিশ্রিত স্বরে শুধোয়,
“কিন্তু বস সেটা কি করে সম্ভব? আপনি কীভাবে…
“উঁহু উঁহু আমি নয়।
আফরিদের ঠোঁটের কোণে ধীরে ধীরে বিকৃত পৈশাচিক এক হাসি প্রস্ফুটিত হয়। আফরিদ কাউকে ইশারা করতেই মুখ কাপড় বাঁধা একটা লোককে নিয়ে আসা হলো কেবিনে। লোকটাকে চিনে ঈশান।
বিস্ময়াভিভূত হয়ে কন্ঠ ফুঁড়ে বেরিয়ে এলো,
“বস এটা তো পৃথ্বী ম্যামের ফ্রেন্ড।”
আফরিদের ঠোঁটের কোণে অন্ধকারাচ্ছন্ন বাঁকা হাসি ফুটে,
“ইয়েস পৃথ্বী।”
মুখ থেকে কাপড় টা টেনে খুলে ফেলা হলো।
নিজের সামনে স্বয়ং আফরিদ এহসান কে দেখে গায়ের লোম খাড়া হয়ে গেল পৃথ্বীর। পিঠের শিরদাঁড়া বেয়ে শীতল স্রোত বয়ে গেল। আতংক গ্রাস করল তাকে।
“প্লিজ আমাকে ছেড়ে দিন দয়া করুন ছেড়ে দিন আমাকে!”
পৃথ্বীর কথা শুনলো আফরিদ , হুইস্কির বোতল টা হাতে নিলো। বোতলের ছিপি খুলতে খুলতে বলল,
“ছেড়ে দিতে পারি তবে একটা শর্তে!”
পৃথ্বীর হৃদয় ভরে ক্রমশ স্ফীত হয়ে উঠছে। কাঁপা কাঁপা স্বরে বলল।
“কি শর্ত?”
আফরিদ হুইস্কির বোতলে চুমুক দিলো। আয়েশিভঙ্গিতে বসে বলে,
“সেদিন আ’গুন লাগানোর সময় তুই কাকে দেখেছিস?”
ছয়মাস আগের সেই বিভীষিকাময় রাত্রি। চারিধারে আ’গুনের লেলিহান শিখা যখন সবকিছুকে গ্রাস করেছিল তখনই আগুন লাগানোর সময় আফরিদ কে দেখেছিল পৃথ্বী, তাই তো তাকে নিয়ে এসেছে আফরিদ এহসান। আজ থেকে প্রায় ছয়মাস হতে চলল বাইরের দুনিয়ার আলো অব্দি দেখেনি সে। তাকে এই নিষ্ঠুর,পিশাচসম লোকটি বন্দী করে রেখেছে।
“আ.. আপনাকে দেখেছিলাম!”
আফরিদ একপেশে হেসে উঠল। আহঃ কি পৈশাচিক আনন্দ তার! চোখে মুখে এক অদ্ভুত উল্লাস প্রকাশ পাচ্ছে। নির্দয় যন্ত্র মানব বলে ওঠে,
“রাইট রাইট। বাট এটা বললে তো চলবে না! তোকে আমি ছেড়ে দেব, তুই অ্যাঞ্জেলিনার কাছে যাবি, গিয়ে আমি যা বলব ঠিক তাই তাই বলতে হবে। গট ইট?”
পৃথ্বী ছেলে হয়েও আজ মেয়েদের মতো কেঁদে ফেলল। প্রাণের ভয় প্রতিটি জীবের রয়েছে। কে চায় স্বেচ্ছায় মরণ গ্রহণ করতে?
চোখ ছাপিয়ে অশ্রু বর্ষন হয় পুরুষটির, নিজের প্রাণের ভিক্ষা চেয়ে আর্তনাদ করে বলল,
“সব করব। দয়া করে শুধু আমাকে ছেড়ে দিন।”
আফরিদ ঘাড় ম্যাসাজ করে ব্যঙ্গাত্মক সুরে হেসে বলল,
“আহারে বাচ্চা ছেলেটা। তুই নাকি আবার আমার অ্যাঞ্জেলিনা কে ভালোবাসতি?”
পৃথ্বী তৎক্ষণাৎ মাথা নাড়িয়ে অস্বীকার করল। আতংকে তার কথা হচ্ছে এলোমেলো। জড়ানো কন্ঠে কাঁপুনি স্পষ্ট।
“না ,না আমি ভালোবাসি না, আমাকে ছেড়ে দিন। আপনি যা বলবেন তাই করব। সত্যি বলছি।”
আফরিদের ঠোঁটের কোণে তৃপ্তির হাসি প্রস্ফুটিত হয়। নির্দয় মানব নির্মমভাবে হ’ত্যা করেছে পুরো একটি পরিবারকে।
“গুড বয়। এই লকেটটা নিয়ে অ্যাঞ্জেলিনার কাছে যাবি, গিয়ে আমি যা যা শিখিয়ে দেব ঠিক তাই তাই বলবি!”
আফরিদের রক্তিম দৃষ্টি অন্তর আ’ত্মা কাঁপিয়ে দেয় পৃথ্বীর। এখানে দ্বিমত পোষণ করার কোনো মানে হয়না! দ্বিমত মানেই ঘোর অপরাধ অতঃপর মৃ’ত্যু নিশ্চিত!
_________________
রাইসা নিজের বাড়িতে রয়েছে , মাথাটা বড্ড ঝিমঝিম করছে তার। দু’দিন ধরে ঠিক মতো ঘুম হয়নি রাইসার।
এই তো সবে খাবার খেয়ে ভাবলো শুবে। কলিং বেল বেজে উঠতেই চক্ষু জোড়া তীক্ষ্ণ হয়ে এলো তার।
“এই সময় আবার কে এলো?”
নিজেকে প্রশ্ন করলো রাইসা। প্রচন্ড বিরক্ত সে , শেষমেষ উঠে গিয়ে দরজাটা খুলে দিলো। দরজাটা খুলে দিতেই দেখতে পেলো ইস্ক্রিয়াস দাঁড়িয়ে আছে।
“ইস্ক্রিয়াস তুমি এখন? কি হয়েছে হঠাৎ না জানি এলে যে?”
ইস্ক্রিয়াস নৈঃশব্দ্যে পা ফেলে ভেতরে ঢুকে এলো। রাইসা দরজাটা বন্ধ করে দিল।
রাইসা ফিরতেই তাকে অত্যাশ্চর্য করে দিয়ে দৃঢ়ভাবে নিজের সাথে আবদ্ধ করল , ইস্ক্রিয়াস।
রুদ্ধ কন্ঠে অনুনয় করে,
“আই নিড ইউ ব্যাডলি কিউটিপাই ,নিড ইউ।”
বক্ষগহ্বরে আকস্মিক এক অদ্ভুত শিহরণ সঞ্চারিত হলো রাইসার। শুষ্ক কণ্ঠনালি ভিজিয়ে কষ্টেসৃষ্টে এক ঢোক গিলে ফেলতেই ইস্ক্রিয়াস তাকে নিজের বাহুবন্ধনে আবদ্ধ করল। অতঃপর ধীরস্থির ভঙ্গিতে তার হাতখানা টেনে সামনে আনল। আলতো স্পর্শে অধর ছুঁইয়ে দিল সেই আঙুলে।
আঙুলজুড়ে শক্ত করে জড়ানো ব্যান্ডেজ। ইস্ক্রিয়াস তীক্ষ্ণ, অনুসন্ধিৎসু দৃষ্টিতে সেটার দিকে তাকিয়ে রইল। মস্তিষ্কের অন্তঃস্থলে তখন প্রবল এক র’ক্তক্ষয়ী স্নায়ুযুদ্ধ চলমান। সন্দেহ, ক্রোধ আর বিশ্বাসভঙ্গের বিষাক্ত অনুভূতিগুলো একে অপরকে ছিন্নভিন্ন করে দিচ্ছে।
তাহলে তার আশঙ্কাই সত্যি? সেই মুখোশাবৃত রহস্যময়ী মেয়েটা তবে রাইসা? এতদিন ধরে নিখুঁত অভিনয়ের আড়ালে তাকে প্রতারিত করেছে সে? দিবাংয়ের ক্ষমতাধর আংটিটা নিজের হাতে রাইসাকে দিয়েছিল ইস্ক্রিয়াস। অথচ দুঃস্বপ্নেও কল্পনা করেনি, সেই বিশ্বাসই একদিন বিশ্বাসঘাতকতার অ’স্ত্রে পরিণত হবে। শেষপর্যন্ত রাইসাই ইদ্রানকে পলায়নে সহায়তা করল!
চিন্তার ঘূর্ণাবর্তে নিমজ্জিত ইস্ক্রিয়াসের নৈঃশব্দ্য ভাঙল রাইসার ক্ষীণ কণ্ঠস্বর।
“কী হয়েছে তোমার, ইস্ক্রিয়াস?”
কোনো উত্তর দিল না সে। নিঃশব্দে ঝুঁকে এসে রাইসার কাঁধে অধর স্পর্শ করল। উষ্ণ সেই স্পর্শে হঠাৎ কেঁপে উঠল রাইসার সমগ্র দেহাবয়ব।
ইস্ক্রিয়াস সামনের দিকে এসে রাইসার মুখটা নিজের আরো কাছে টেনে নিল। ঠোঁট ছুঁই ছুঁই।
ইস্ক্রিয়াসের চোখের উন্মা’দ স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে রাইসা!
কন্ঠস্বর কাঁপছে রমণীর। হৃদয় জুড়ে আঁচড়ে পড়ছে সর্বনাশী ঝড়! কাঁপা স্বরে বলল।
“কি চাও তুমি?”
ইস্ক্রিয়াস গালে গাল ছোঁয়ায় রাইসার। আদুরে স্পর্শে কপোলদ্বয় ছুঁয়ে বলে,
“তোমাকে চাই খুব কাছে, এতটা কাছে যাতে কোনো দূরত্ব না থাকে। যাতে আমাকে অনুভব করতে পারো, আমার অস্তিত্বের মাঝে মিশে যেতে পারে।”
ফাঁকা ঢোক গিলে রাইসা। ইস্ক্রিয়াসের চোখের মুখে ভালোবাসা পাওয়ার লোভ। রাইসা কেঁপে উঠলো।
আকস্মিক লোডশেডিংয়ের হঠাৎ আঁধার যেন তাদের দু’জনকেই অন্য এক জগতে ছুঁড়ে নিল।
চারপাশের সব আলো নিভে গেলেও দু’জনের ভেতরের আলোটা আরও তীব্র হয়ে জ্বলে উঠলো।
ইস্ক্রিয়াসের উষ্ণ নিঃশ্বাস মিশে যাচ্ছে রাইসার দমকরা শ্বাসে। ঠোঁটের ভাঁজে ঠোঁট রেখে যেন দু’জনেই হার মানতে চাইছে না একে অপরের কাছে। মুহূর্তটা হয়ে উঠেছে দাবানলের মতো যতটা নিবারণ করা যায় তারচেয়ে বহুগুণে ছড়িয়ে পড়ছে।
রাইসার আঙুল ছুঁয়ে যাচ্ছে প্রিয় পুরুষের বুকের ওপর, একে একে খুলে যাচ্ছে শার্টের সব বাঁধন। ইস্ক্রিয়াসের হাতে তখন রাইসার দেহের আবরণ খসে পড়ছে এক নিঃশ্বাসে। শরীর আর মন দুটোই যেন উন্মুক্ত হয়ে গেল নিঃশেষে।
একটানে রাইসাকে বুকে জড়িয়ে কোলে তুলে নিল ইস্ক্রিয়াস। নিজের অস্তিত্বের মাঝে ঠায় দিলো তাকে।অন্ধকার ঘরে তাদের নিঃশ্বাসের শব্দই একমাত্র, আর তাতে ডুবে যাচ্ছে দু’জন। রাইসা অস্ফুট গোঙানি ভেঙে দিচ্ছে নীরবতাকে, আর সেই শব্দে ইস্ক্রিয়াস আরও গভীরভাবে তাকে নিজের অস্তিত্বের ভেতর বন্দি করে ফেলছে।
নিঃশ্বাসে নিঃশ্বাস মিলে,দেহ হয় একাকার। এক নিষিদ্ধ প্রণয়ের ক্ষণে কেঁপে কেঁপে উঠে রাইসা।
বাহিরে রাতের নিস্তব্ধতা ক্রমেই গভীর হয়ে উঠছে। চাঁদ মেঘের আড়ালে লুকিয়ে, চারপাশ ঢেকে আছে অদৃশ্য গোপনতার চাদরে। অথচ ভেতরে দু’জন মানুষ ডুবে যাচ্ছে এক নিষিদ্ধ প্রণয়ের ঘূর্ণিতে।
অন্ধকার ঘরে শ্বাসপ্রশ্বাসের উষ্ণতা গলে গলে মিশে যাচ্ছে বাতাসে। ইস্ক্রিয়াসের আঙুলের ছোঁয়ায় রাইসার দেহে দোলা দিচ্ছে কেঁপে ওঠা স্রোত, আর মেয়েটার উষ্ণ ঠোঁটের ছোঁয়ায় ইস্ক্রিয়াস হারিয়ে ফেলছে নিজেকে। এ এক প্রলোভন, যা থামানো যায় না, এ এক তৃষ্ণা যা নিবারণ করলে আরও তীব্র হয়।
বাহিরের নীরবতা আর ভেতরের উত্তাল আবেগ দু’টো বিপরীত স্রোতের মতো মিলেমিশে তৈরি করছে এক গোপন সুর। নিষিদ্ধ হলেও সেই সুর এতটাই মাদকতা ছড়াচ্ছে, যেন পুরো পৃথিবী থমকে গেছে কেবল তাদের দু’জনকে আশ্রয় দিতে।
_______________
বাংলাদেশ….
কোমড়ের অসহনীয় যন্ত্রণা আর সহ্য করতে পারছিলনা ন্যান্সি । শেষপর্যন্ত বাধ্য হয়েই হট প্যাকের আশ্রয় নিতে হয়েছে তাকে। দুষ্টু পুরুষের বেপরোয়া দুষ্টুমির পরিণতিতেই আজ তার এমন শোচনীয় অবস্থা! কাল রাতে আফরিদকে সামলাতে কার্যত নাজেহাল অবস্থা হয়ে পড়েছিল ন্যান্সির। যতবার মানসপটে উন্মোচিত হয়ে ওঠে আফরিদের সেই উষ্ণ, উন্মত্ত অবয়ব তার ভারী, উপচে পড়া নিঃশ্বাসের দহন যেন পুনরায় ছুঁয়ে যায় ন্যান্সিকে। সেই চূড়ান্ত ক্ষণের স্মৃতিটুকু এখনও স্পষ্ট; যখন আফরিদ তার কাঁধে মুখ গুঁজে এক অসহায়, আবেগজড়িত কণ্ঠে ফিসফিসিয়ে বলেছিল, আই লাভ ইউ,বউ।
স্মৃতির আকস্মিক অভিঘাতে শিরায় শিরায় কেঁপে উঠল ন্যান্সির সমগ্র সত্তা। দেহাবয়ব জুড়ে ছড়িয়ে পড়ল অদ্ভুত শিহরণ। লজ্জা আর আবেশের মিশ্র অনুভূতিতে মুহূর্তেই আরক্তিম হয়ে উঠল তার মুখমণ্ডল।
কাইট্যান কে নিয়ে কিচেনে এগিয়ে গেলো ন্যান্সি ,রাত হয়ে এসেছে এক কাপ কফি খাওয়া প্রয়োজন। মাথাটা ব্যথা করছে তার। অবশ্য শুধু মাথাব্যথা বললে ভুল হবে; বরাবরের মতো আজও অবশ ব্যথায় জর্জরিত তার দু’পা। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকাটাও যেন দুঃসহ হয়ে উঠেছে।
“ইলহাম?”
স্মাইলির আকস্মিক উপস্থিতিতে কিঞ্চিৎ চমকে উঠল ন্যান্সি।
আজকে ইদ্রান নেই মঞ্জিলে ,অবশ্য আজকেই তার সাথে কথা বলতো ন্যান্সি। কিন্তু বিধিবাম তা আর হলো কই? ইদ্রান কোথায় গেছে সেটাও বলেনি।
“স্মাইলি তুমি? কফি খাবে?”
স্মাইলি গুটি গুটি পায়ে ভেতরে প্রবেশ করলো। ন্যান্সির কোলে কাইট্যান কে দেখে নিজের রোজির কথা মনে পড়ে গেল। আসার সময় তো রোজিকে নিয়ে আসতেও ভুলে গেছে!
“এটা কার বিড়াল ইলহাম?”
ন্যান্সি মৃদু হেসে বলল।
“এটা মাফিয়া কিংয়ের ছেলে বাচ্চা।”
স্মাইলি বিস্ময়াবিষ্ট দৃষ্টিতে তাকালো ,আফরিদ এহসান বিড়াল পোষে? আশ্চর্য!
সন্দিহান কন্ঠে শুধোয়,
“এই ইলহাম সত্যি সত্যি কি আফরিদ ভাইয়া বিড়াল পোষে?”
ন্যান্সি নিম্ন স্বরে মৃদু হেসে বলল।
“নাম মাত্র পোষে,এটা আমার জন্য এনেছে।”
স্মাইলি একনজরে কাইট্যান কে দেখে বলল। অতঃপর বিস্ময়ভরা কন্ঠে বলে,
“ওর চোখ গুলো একদম আফরিদ ভাইয়ার মতো!”
ন্যান্সি ফিক করে হেসে ফেলল।
“তাই তো বললাম এটা আফরিদ এহসানের বাচ্চা।”
হঠাৎই কর্কশ,রুক্ষ পুরুষালি কন্ঠস্বর ভেসে এলো,
“এই বেয়াদব, কতবার বলছি ওকে আমার বাচ্চা বলবি না! আমি ওর বাপ নই!”
ন্যান্সি আর স্মাইলি দুজনেই শব্দের উৎসে দরজার দিকে তাকালো। আফরিদ দাঁড়িয়ে আছে সেখানে। কপালের রগগুলো স্ফীত হয়ে উঠেছে। ক্রোধে তার চোখের কার্নিশ রক্তিম। অথচ সেই দৃষ্টিতেও অদ্ভুত এক দাপুটে কর্তৃত্বের ভাব! কাইট্যান পিটপিট করে তাকাচ্ছে আফরিদের দিকে। ম্যাও ম্যাও করে বুঝালো। খচ্চ’র বাপ চলে এসেছে।
ধুমধাম পা ফেলে এগিয়ে এসেই গলা টিপে ধরে কাইট্যানের।
“বেয়াদব বিলাইয়ের বাচ্চা , বলছিলাম না আমার বউয়ের কোলে উঠবি না!”
স্মাইলি ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে আফরিদের দিকে , ন্যান্সি কাইট্যানকে নিজের কাছে নিয়ে নিলো। অতঃপর ক্ষুব্ধ হয়ে বলল,
“একদম ধরবেন না নষ্ট পুরুষ একটা!”
মুহূর্তেই ন্যান্সির কব্জি শক্ত করে টেনে ধরল আফরিদ।
“চল, আমার সঙ্গে।”
স্মাইলি ইতস্তত কণ্ঠে শুধাল,
“কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন ইলহামকে?”
আফরিদ তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তার দিকে তাকাল। তারপর ঠোঁটে মেকি হাসি টেনে বলল,
“জিলাপি খাওয়াতে নিয়ে যাচ্ছি। তুমি খাবে? আসো।”
আবারও চোখ রাঙিয়ে তাকাল ন্যান্সি। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, স্মাইলির সামনে আফরিদের মুখ খারাপ করাটা মোটেও পছন্দ নয় তার। আফরিদ মোটেও ওই চোখ রাঙানো আমলে নিল না, উপরন্তু মিথ্যে হামি তুলল।
স্মাইলি বিভ্রান্ত কণ্ঠে বলল,
“জিলাপি মানে কী, ভাইয়া?”
আফরিদ নাটকীয় দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
“আহারে ইংরেজের বাচ্চা, জিলাপিই চেনে না! শোনো মামুনি, আমাকে ভাইয়া ডেকো না। ভাইয়া থেকে ছাইয়া বানানোর চিন্তা থাকলে আগে নিজের কাফনের কাপড় কিনে রেখো।”
কথাটা শুনে রীতিমতো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠল ন্যান্সি। রুষ্ট কন্ঠে শুধোয়,
“তাহলে কী ডাকবে?”
আফরিদ একগাল বেপরোয়া হাসি ছড়িয়ে উত্তর দিল,
“অনলি ভাই। আর তুমি ডাকবে শুধু জামাই।”
বিস্ময়ভরা নয়নে চেয়ে আছে স্মাইলি। তার চক্ষু সম্মুখ হতে ন্যান্সিকে নিয়ে চলে গেল সুদর্শন সুপুরুষ। কে বলবে এই পুরুষ দু’দিন আগেও গু’লি খেয়েছিল তারই স্ত্রীর হাত থেকে?
বক্ষ চিরে দীর্ঘ এক নিঃশ্বাস বেরিয়ে এলো স্মাইলির।
“আফরিদ এহসান, সত্যি আপনি সুদর্শন। আপনাকে ভাইয়া বা ভাই কোনোটাই ডাকার মতো নয়!”
স্মাইলি মেঝের দিকে তাকিয়ে অদ্ভুত রহস্যময় হাস্যরেখা প্রস্ফুটিত হয় অধরপ্রান্তে।
চলবে………।
( আচ্ছা পাঠকদের কাছে আমার প্রশ্ন, আপনাদের কি গল্পটা আর ভালো লাগছে না? আসলে রেসপন্স এত কমিয়ে দিয়েছেন আমার মনে হচ্ছে আপনাদের ভালো লাগছে না। ভালো না লাগছে কমেন্ট করে জানান, আমি গল্পটা একদম শর্টকাটে শেষ করে দেব।)
Share On:
TAGS: অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা, ফারহানা নিঝুম
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৪৮ {প্রথম অর্ধেক}
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১২
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৫৫ (প্রথম অর্ধেক)
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১৩
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৫৬ প্রথম অর্ধেক
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১৪
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ২৯(প্রথমাংশ+শেষাংশ)
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩১
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ২
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ২৫