Golpo romantic golpo সীমান্তরেখা

সীমান্তরেখা পর্ব ৩৬


#সীমান্তরেখা

লেখনীতে— #ঝিলিক_মল্লিক

#পর্ব_৩৬

[কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।]

মেজবাহ’র চট্টগ্রামে চলে যাওয়ার আজ তেরো দিন হতে চললো।

দিনগুলো দিব্যি কেটে যাচ্ছে। মেজবাহ কাজ নিয়ে ব্যস্ত। জুনিয়র অফিসারদের ট্রেইন করা, কনফারেন্সে জয়েন হওয়া, ফাইল সাইন, অপারেশন প্ল্যানিং— এসব নিয়েই ভীষণ ব্যস্ততার মধ্যে দিন কেটে যাচ্ছে ওর৷

আকসাও ভার্সিটি লাইফ নিয়ে ব্যস্ত। সামনে মিড টার্ম পরীক্ষা ওর। সেটার-ই জোরদার প্রস্তুতি চলছে। এরমধ্যে অবশ্য কিছু পরিবর্তন ঘটেছে ওর জীবনে। ঘটেছে বললেও ভুল হবে। বরং ও নিজে ঘটিয়েছে। এখন প্রায় দিন জোরপূর্বক শাশুড়ির শত বকাঝকা সত্ত্বেও রান্নাঘরে প্রবেশ করে। টুকটাক রান্নাবান্না নিজ হাতে করে। হাঁসের মাংস আর বিফ বিরিয়ানি রান্নাটা বেশ ভালোই রপ্ত করেছে ও।

আজ আকসার একটা ইনকোর্স পরীক্ষা ছিল৷ তবে ও সেটা দিতে যেতে পারেনি। এর কারণটা অবশ্য একটু জটিল৷

গতকাল এবং আজ মিলিয়ে পরপর চার বার বমি হয়েছে আকসার। এতবার বমি হওয়ার কারণে শরীর বড্ড ক্লান্ত ওর। একেবারে নেতিয়ে পরেছে৷ তেমন জোর পায় না৷ হাঁটতে-চলতেও কষ্ট হচ্ছে। ক্লান্ত শরীরে ইশা বেগমের কাছে গিয়েছিল। গত পরশু দাওয়াত হতে আসার পর থেকেই এমন হচ্ছে। ইশা বেগম আন্দাজ করেছেন, ফুড পয়জনিং হতে পারে। বিকাল নাগাদ আকসাকে নিয়ে হসপিটালে যাবেন তিনি৷ ওকে তৈরি হয়ে থাকতে বলেছেন। আকসা রুমে এসে তৈরি হচ্ছিল৷ সালোয়ার-কামিজ পরে চুল বেণী করছিল একপাশ কোরে। তখনই মেজবাহ’র কল। লোকটা হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও কল দিয়েছে৷ আকসা কল রিসিভ করে ড্রেসিং টেবিলের সামনে ফোন স্ট্যান্ডের ওপরে রাখলো। মেজবাহ’র সামনে চুল বেণী করতে ব্যস্ত ও। মেজবাহ’র পরনে ইউনিফর্ম। ফোন সামনে ধরে সামনের চুল পেছনে ঠেলে ঠিক করতে ব্যস্ত। আকসা বেণী করতে করতেই জিজ্ঞাসা করলো, “কোথায় আছেন?”

“কনফারেন্স রুমে। ব্রিফিং শেষ হলো মাত্র। দুপুরে খেয়েছো?”

“হ্যাঁ৷ অনেকক্ষণ আগেই। আপনি তো মনে হয় কিছু খাননি। মুখ শুকনো যে!”

মেজবাহ কপালে আঙুল ঠেকিয়ে মৃদু হাসে৷ এই মেয়ের দারুণ একটা গুণ আছে। মেজবাহ’র মুখ দেখলেই বোঝা যায়, ও খেয়েছে নাকি খায়নি। মেজবাহ ওর প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে জবাব দেয়, “দু’টো শষা খেয়েছিল ব্রেকফাস্টে। আর এখানে যা খাবার অফিসারদের দেওয়া হচ্ছে, সব আনহাইজেনিক। ব্যাড ফর হেলথ।”

আকসা একটু মুখ বাঁকালো৷ বোধহয় মেজবাহ’র কথাকে উপহাস্য-ই করলো যে, একটু খেলে কি-ই বা এমন হবে! মেজবাহ হঠাৎ ফোন ক্যামেরাটা কাছে এগিয়ে নেয়। ওর স্বাভাবিক মুখের প্রতিক্রিয়া বদলায়। কপালে এক সুক্ষ্ম ভাঁজ পরেছে৷ ওপরের ঠোঁট দ্বারা নিচের ঠোঁট চেপে ধরে বলছে, “ফেইসের গ্লো বেড়েছে হঠাৎ। কারণ কী? আমার যাওয়ার উপলক্ষ্য?”

আকসা একটু নড়েচড়ে বসে। চেহারার উজ্জ্বলতা বাড়ার কারণ ও নিজেও জানে না৷ তবে কিছুটা শঙ্কা হচ্ছে। এই শঙ্কার কথা মেজবাহ’র সামনে জাহির করা যাবে না৷ আপাতত উহ্য থাকুক। মিথ্যেও হতে পারে৷ এত নিশ্চয়তার কিছু নেই৷ আকসা “জানি না” বলে ওড়না ঠিক করতে ব্যস্ত হলো। মেজবাহ ওর ওড়না পরা তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে দেখতে দেখতে আচনক বললো, “ওড়না সামনে-পেছনে ভালোভাবে জড়িয়ে নাও। পিঠের দেড় হাত নিচে একটা তিল আছে৷ আর বুকের মাঝে একটা৷ ড্রেসের গলা দু’দিকে যথেষ্ট খোলামেলা। একটু নিচু হলেই তিলটা দেখা যাবে। আর পেছনে ওড়না না দিলে অবশ্যই যেকেউ দেখতে পাবে। চাই না, ওগুলো আমি ছাড়া আর কেউ দেখুক। এরপর থেকে গলা-পিঠ ঢাকা ড্রেস পরবে, ওকে?”

আকসা ঠোঁট কামড়ে হেঁসে বলে, “হুহ! পজেসিভ মেজবাহ ইফতেখার?!”

মেজবাহ কিছু বলার আগেই ক্যামেরার বাইরে সামনের দিকে তাকিয়ে কারো কথা শুনতেই বলে, “রাতে নক দিও। এখন একটু বিজি আছে। নিজের খেয়াল রেখো।”

“মেজবাহ আমার হসপিটালে যেতে…”

মেজবাহ’র বোধহয় আবার কোনো কাজ পরে গেছে। এজন্য কথা শোনারও সময় পেল না৷ তার আগেই কল কেটে দিলো৷ এমনই হয় প্রতিদিন। আকসা এসবের সাথে অভ্যস্ত। মেজবাহ সারাদিন ভীষণ ব্যস্ত থাকে। দিনের বেলায় ওর সাথে সব মিলিয়ে ১০-১৫ মিনিটও কথা বলার সময় হয় না মেজবাহ’র। আর রাতের বেলা কথা হলেও লোকটা ফোন কানে রেখেই ঘুমিয়ে পরে।৷ সারাদিনের কাজের প্রেশার, পরিশ্রম, ট্রেনিং — সবকিছু মিলিয়ে ক্লান্ত থাকে খুব। প্রতিদিন রাতে মেজবাহ যখন সম্পূর্ণ ঘুমের ঘোরে চলে যায়, আকসা তখন ফোনটা কান থেকে নামায়৷ এভাবে কতগুলো রাত যে পার করেছে!

মেজবাহ কল কাটার পরে আকসা মেজবাহ’র কথা মোতাবেক সামনে-পেছনে ভালোভাবে ওড়না জড়িয়ে রুম থেকে বের হলো৷ ড্রয়িংরুমে যেয়ে দেখলো, ওর শাশুড়ি আর চাচি-শাশুড়ি তৈরি হয়ে বোরকা পরে বসে আছেন। তারা দু’জনে নিয়ে যাবেন আকসাকে। ইশা বেগম রিমুকে বলছেন, বাসা-বাড়ি দেখেশুনে রাখতে, যেহেতু তারা বাসায় থাকছে না৷ আর তার বাপ-চাচারাও জমিজমার কাজে গ্রামে গিয়েছেন। রিমু, তাহসিনকে সবকিছু বলেকয়ে আকসাকে নিয়ে বেরিয়ে পরলেন তারা।

.

.

রাজশাহী এভারকেয়ার হসপিটাল। রাজশাহীর সবচেয়ে স্বনামধন্য এবং বড় প্রাইভেট হসপিটাল।

আকসাকে ফাতেমা খাতুনের পাশে বসিয়ে ইশা বেগম রিসিপশনে গিয়ে মেডিসিন বিভাগের টিকেট কেটে এসেছেন। ডাক্তার অন্য রোগী দেখছে বিধেয় তারা ওয়েটিংরুমে বসে আছেন।

দীর্ঘ আধঘন্টা খানেক পরে আকসার সিরিয়াল আসলো৷ ইশা বেগম আর ফাতিমা খাতুন ওকে নিয়ে ভেতরে গেলেন।

একজন পুরুষ ডাক্তার। চশমা পরিহিত, চেয়ারে বসে গম্ভীর মুখে ফাইল ঘাঁটছেন। সবাই গিয়ে চেয়ারে বসলো। ডাক্তার অনির্বাণ পাল মুখ তুলে জিজ্ঞাসা করলেন, “রোগী কে?”

“এইযে, আকসা খন্দকার।”

আকসার শাশুড়ি ওকে দেখিয়ে দিলো৷

ডাক্তার জিজ্ঞাসা করলেন, “কী সমস্যা?”

“দু’দিন আগে দাওয়াত খেয়ে আসার পর থেকে বারবার শুধু বমি হচ্ছে, শরীর ক্লান্ত অনেক। গায়ে বল পায় না। খাওয়া-দাওয়া ও করতে পারছে না।”

ডাক্তার চশমার ওপর থেকে চোখ তুলে আকসাকে পর্যবেক্ষণ করলেন। এরপর জিজ্ঞাসা করলেন ওকে, “তোমার পিরিয়ড হয়েছে এই মাসে?”

প্রশ্নটা শুনে আকসা একটু থমকালো৷ শাশুড়ি, চাচি-শাশুড়ির দিকে তাকাতেই দেখলো, তারাও ওর দিকে তাকিয়ে আছেন কৌতূহল নিয়ে। আকসা আমতাআমতা করে বললো, “এই মাসে পিরিয়ড তো হয়নি এখনো।”

“তোমার পিরিয়ডের ডেইট কবে?”

“এই একুশ-বাইশ তারিখ হবে।”

“আর আজ একত্রিশ তারিখ। মাসের শেষ দিন৷ এখনো পিরিয়ড হয়নি। তুমি এটা কাউকে জানিয়েছো?”

“না। তেমন গুরুত্ব সহকারে নিইনি৷ ভেবেছিলাম, দু-একদিনের মধ্যে হয়ে যাবে। এজন্য কাউকে জানাইনি৷”

“তুমি কি বিবাহিত?”

“জি।”

আকসা একটু ভড়কালো। ডাক্তার এবার ওর দিক থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নিয়ে ইশা বেগমের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করলেন, “রোগী আপনাদের কী হয়?”

“বৌমা। ছেলেবউ।”

“আপনারা আমার কাছে এসেছেন কেন? আপনারা তো যাবেন গাইনি বিভাগে। ফুড পয়জনিং-টয়জনিং কিছু না। ঘটনা অন্য। গাইনি বিভাগের ভিজিট নেন।”

আকসার গা কাঁপছে। ইশা বেগম আর ফাতিমা খাতুন একে-অপরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করার পর আর সময় নষ্ট না করে আকসাকে নিয়ে গাইনি বিভাগের টিকেট কাটলেন।

সেখানে বেশি সময় অপেক্ষা করতে হলো না৷ মিনিট দশেকের মধ্যেই সিরিয়াল চলে আসলো৷ যথারীতি ওনা ভেতরে ঢুকতেই মহিলা ডাক্তার আজিজা খাতুন বসতে বলে জিজ্ঞাসা করলেন, “কী সমস্যা?”

ইশা বেগম জবাব দিলেন, “আমাদের বৌমা। ওর বমি হচ্ছে দুই-তিন দিন ধরে। মাসিক বাদ গেছে।”

ডাক্তার আজিজা খাতুন কোনো কথা না বলে সরাসরি আকসাকে ব্লাড আর ইউরিন টেস্ট করতে বললেন। ওরা টেস্ট স্লিপ নিয়ে ল্যাব রুমে গেল। সেখানে আকসাকে টেস্টের জন্য পাঠানো হলো৷

.

.

টেস্ট করার পর আকসাদেরকে সর্বোচ্চ আধঘন্টার জন্য বসতে বলা হয়েছে। ওরা বাইরে ওয়েটিংরুমে বসে আছে। ঘড়ির কাঁটা যখন রাত সাড়র নয়টা প্রায়, তখন একজন এসে ওদের ডেকে নিয়ে গেল। রিপোর্ট ডেলিভারি কাউন্টার থেকে ইশা বেগম রিপোর্টটা নিলেন। প্যাকেটের ভেতরে ছিল৷ এক কোণে দাঁড়িয়ে রিপোর্ট খুলে চোখের সামনে ধরতেই খুশিতে হাউমাউ করে কেঁদে ফেললেন তিনি। ফাতিমা খাতুন পাশে যেয়ে দাঁড়িয়ে রিপোর্ট দেখতেই তাকে জড়িয়ে ধরে বললেন, “ও ফাতিমা, আমার নাতিন আসছে রে! আমি দাদি হবো। আমার অট্টুক ছেলেটাও বাপ হবে এবার!”

ফাতিমা খাতুন খুশিতে বড় জা’কে জড়িয়ে ধরলেন। আকসা তখন একপাশে হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মিথ্যে আশংকা যে সত্যিতে পরিণত হবে, তা কে জানতো?!

দাঁড়িয়ে থেকেও কাঁপছে ও। আপাতত কোনোকিছুই অনুভব করতে পারছে না। ইশা বেগম এসে জড়িয়ে ধরলেন আকসাকে। বললেন, “দোয়া করি, চিরসুখী হও মা। আমাদেরকে এতবড় একটা খুশির খবর শোনানোর জন্য তোমাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। আল্লাহর লাখো কোটি শুকরিয়া।”

তারা আর দেরি করলেন না। আকসাকে নিয়ে রওয়ানা হলেন। পথিমধ্যে আত্মীয়-স্বজন মোটামুটি সবাইকে ফোন করে সুখবরটা জানালেন। গ্রামে থাকা আকসার শ্বশুর-চাচা শ্বশুরকেও৷ তারা তো মহাখুশি। আগামীকাল সকালেই গ্রাম থেকে রওয়ানা দেবেন তারা।

বাসায় ফিরে সবাইকে জানানো হলো৷ এরপর কল দেওয়া হলো মেজবাহকে। মেজবাহ অনেক বেশি ব্যস্ত। চার-পাঁচ বার টানা কল দিয়েও কলে পাওয়া গেল না ওকে। আবারও মিনিট বিশেক পরে কল দিলেন ইশা বেগম। এবার কল রিসিভ হলো।

ড্রয়িংরুমে সবাই বসে আছে। আকসা তার শাশুড়ির পাশে। ইশা বেগম কানে ফোন ধরতেই ওপাশ থেকে শোনা গেল— “মামনি এখন কল দিও না প্লিজ। একটা কাজের মধ্যে আছি। ডিস্টার্ব হচ্ছে।”

“একটা কথা ছিল আব্বা।”

“দ্রুত বলো, কি কথা?”

“আকসা প্রেগন্যান্ট। তুমি আব্বা হবা।”

ফোন লাউড স্পিকারে ছিল৷ ফোনের ওপাশে মেজবাহ বোধহয় খুব বাজেভাবে বিষম খেল। ও তড়িঘড়ি করে বললো, “মামনি, মিটিংয়ে আছি ইউনিট কমান্ডারের সাথে। বাসায় ফিরে রাতে এ-বিষয়ে কথা বলছি।”

কল কেটে গেল ওপাশ থেকে। তবে এদিকে আকসার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের আনন্দ বাড়লো বৈ কমলো না৷ তারা রীতিমতো উৎসব-আয়োজন শুরু করে দিলেন।

.

.

রাত তখন একটা কি দেড়টা হবে। আজ সেই বিকালের পর থেকে মেজবাহকে আর অনলাইনে অ্যাক্টিভ পাওয়া যায়নি৷ আকসা আর এই ভেবে কল দেয়নি যে, আজ কাজের প্রেশার বেশি, হয়তো ব্যস্ত আছে লোকটা।

একটার দিকে হোয়াটসঅ্যাপে ঢুকে যখন মেজবাহ’র আইডি অ্যাক্টিভ দেখা গেল, তখন আকসা দ্রুত টাইপিং করে লিখলো— “মেজবাহ?”

“হু।”

“কল?”

“দাও।”

আকসা ভিডিওকল দিলো। ওর রুমে তখন ড্রিমলাইটের আলো। মেজবাহ’র রুমেও একই। দু’জনে ক্যামেরার সামনে চুপচাপ বসে রইলো এক মিনিট। এরপর আকসা ধৈর্য আর ধরে রাখতে না পেরে মুখ খুললো, “তখন ঠিকমতো মামনির কথাটা শুনেছিলেন তো?”

“হু।”

সংক্ষিপ্ত জবাব। আকসা আবারও জিজ্ঞাসা করলো, “কী শুনেছিলেন বলুন তো!”

“তুমি প্রেগন্যান্ট। এই আরকি!”

“অথচ আপনার কোনো রিয়্যাকশন নেই মেজবাহ! মানুষ এমনও হয়? এদিকে আমি কতক্ষণ পরপর ভয়ে-আতঙ্কে মাথা ঘুরে পরব যাচ্ছি!”

“কী রিয়্যাকশন দেখাবো ভাই? প্রেগন্যান্ট তুমি। আমি তো না। বমি করবো নাকি এখন?”

আকসার মেজাজ প্রচন্ড খারাপ হলো মেজবাহ’র এহেন লাগামছাড়া এবং গা-ছাড়া কথা শুনে৷

“এদিকে আমার যে ভয় হচ্ছে, সেটার কী হবে?”

“ভয়ের কী আছে? আমি প্রেগন্যান্ট করেছি। তুমি প্রেগন্যান্ট হয়েছো, ব্যস, শেষ! এতে তো ভয় পাওয়ার মতো কিছু দেখছি না৷”

“আপনি বোধহয় ভুলে গিয়েছেন মেজবাহ, আমরা নিজেদেরকে বোঝার জন্য একবছর সময় নিয়েছিলাম। অথচ একে-অপরকে বোঝার আগেই বাচ্চা এসে গেল! এখন কাকে বুঝবো? আপনাকে নাকি আপনার বাচ্চাকে?”

“ও হ্যালো! বাচ্চা আমার একার নয় বুঝেছো? তোমারও। আল্লাহ একটাকে সামলাতে পারি না, আরেকটা চলে আসলো!”

আকসা মেজাজ সংবরণ করলো। দাঁতে দাঁত পিষে বললো, “সব আপনার জন্য হয়েছে! আপনি যদি সেদিন কাছে না আসতেন, তাহলে এই দিন দেখতে হতো না।

“ভাই জাস্ট কাছেই তো গিয়েছিলাম। বুঝতে পারিনি, এমন বড়সড় কাহিনী ঘটে যাবে! তুমি রাতে নতুন শাড়ি পরে আমাকে দেখাচ্ছিলে, তখনই..”

“আমি তো ভালো, সরল এবং নিষ্পাপ মনে শুধু শাড়ি পরে কেমন লাগছে, সেটা আপনাকে দেখাতে গিয়েছিলাম। আর আপনি আমার সাথে যা করলেন! সোজা পেটে বাচ্চা-ই ধরিয়ে দিলেন!”

“ভাই, তোমাকে অমন অবস্থায় দেখে মাথা ঠিক ছিল না। এজন্য জাস্ট চেপে ধরে একটা চুমু খেয়েছিলাম। আর তুমি? তুমিও বা কম কীসে? কেমন মেয়েমানুষ তুমি? আমি কোমর চেপে ধরে দু’টো চুমু দিতেই তুমিও গলা জড়িয়ে ধরে পাল্টা দু’টো চুমু দেবে? এই হচ্ছে মেয়েমানুষের সংজ্ঞা?”

“ছি! আপনি একটা খারাপ লোক। মুখে একটুও বাঁধে না তাইনা?”

“বাঁধবে কেন? তুমি যা করেছো, তা বলবো না?”

“আমি তো সামান্য দু’টো চুমু খেয়েছি। আর আপনি যে তার থেকেও জঘন্য কাজটা আমার সাথে করলেন!”

“তুমিও করেছো, ওকে? আমি জাস্ট এগিয়েছি আর তুমি সায় দিয়েছো। সায় না দিলে তো এতোকিছু হতো না। আমি থেমেই যেতাম।”

আকসার কান্না পেল৷ ও কান্নারত স্বরে বিরবির করলো, “এখন আমি কী করবো?”

“কী আর করবে? সুখবর যখন দিয়েই দিয়েছো, তাহলে মিষ্টিও পাঠানোর ব্যবস্থা করো। অবশ্যই সুগার ফ্রি কিন্তু!”

“মজা করেন? ভাই বুঝতে পারছেন আপনি? আমি প্রেগন্যান্ট। আমার পেটে বাচ্চা। আর সেই বাচ্চার বাপ আপনি। সব আপনার কর্মের ফল। আমি তো জাস্ট নতুন শাড়ি দেখাতে গিয়েছিলাম। আর আপনি! আপনি আমার পেটে বাচ্চা ধরিয়ে দিলেন!”

#চলবে

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply