Golpo romantic golpo কী ভয়ংকর মায়া তোর

কী ভয়ংকর মায়া তোর পার্ব ৩৫


কী ভয়ংকর মায়া তোর পার্ব ৩৫

লেখিতেআরিফাতাসনিম_তামু

কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ🚫❌_

বিকেল চার বাজে আদ্র রেডি হয়ে বাইরে গাড়ির সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।বার বার হাত ঘড়িতে সময় দেখছে।কিছুক্ষণ পর আহিকে দেখা গেলো বাড়ি থেকে বের হয়ে আসতে।আকাশি রঙ্গের গাউন সাথে মেসিং হিজাব করা।আদ্র এক দৃষ্টিতে তাকিয়েই রইল।মেয়েটার সৌন্দর্য দিন দিন বাড়ছে নাকি তার চোখেই এমন সুন্দর লাগছে? আদ্র বুঝতে পারল না।এরি মধ্যে আহি এসে হাজির হল আদ্রের সামনে।

—সরি একটু লেট হয়ে গেলো।

—একটু নয় ম্যাডাম! আপনি পাক্কা ১৫ মিনিট লেট করে তার পর এসেছেন।

—তো কী হয়েছে বউয়ের জন্য একটু অপেক্ষা করতে না পারলে কেমন জামাই আপনি?কেমন ধৈর্য্য আপনার?

আহির কথায় আদ্র দুষ্ট হেঁসে। আহির কোমড়ে হাত পেরিয়ে হালকা উঁচু করে একদম চোখের সামনে এনে বলে।

—আমার ধৈর্য নিয়ে কথা বলবেন না ম্যাডাম!আমি আদ্রের ধৈর্য যদি না থাকতো তাহলে আপনি এখনো অক্ষত আর সুস্থ ভাবে চলাফেরা করতে পারতেন না।আর যদি বলেন অপেক্ষার কথা তাহলে ১৫ বছর কী আপনার কাছে কম মনে হয় মিসেস আদ্র.?

আহির উওর দিতে পারে না তার গাল লাল আভা ছড়ায়। আদ্রর এত কাছে আসায় নিঃশ্বাস আটকে আসছে তার। চোখ নামিয়ে ফিসফিস করে বলে,

—ছাড়ুন, কেউ দেখে ফেলবে। রাস্তার মাঝে এভাবে…”*

আদ্রর ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি। আহিকে আরও একটু কাছে টেনে আনে।

—দেখলে দেখুক তাতে আমার কী? আমার বউকে আমি ধরেছি, কার বাপের কী?

আহি লজ্জায় নইয়ে যায়। ছাড়া পাওয়ার জন্য আরো বেশি ছটপট করে।

—অসভ্য লোক! ছাড়ুন বলছি।

—অসভ্যতামি না করতেই অসভ্য হয়ে গেলাম বাহ্। আচ্চা যদি না ছাড়ি?

আহি এবার অসহায় চোখে তাকায় আদ্রের দিকে।আদ্র আর মেয়েটাকে জ্বালাল না ছেড়ে দিল।

— বোরকা কই তোমার?

—বোরকা তো আমি পড়ি না। আর বোরকা নেই ও আমার।

আদ্র আর কিছু বলে না গাড়ির দরজাটা খুলে দেয়।আহিকে ইশারা করে বসতে।আহি বসে।আদ্র দরজা লাগিয়ে নিজেও গিয়ে বসে।তার পর গাড়ি স্টাট দেয়।


সকালে রোদ থাকলেও দুপুর হতে না হতেই নামল ঝুম বৃষ্টি। সেই সাথে প্রচন্ড বাতাস।রাস্তায় একটা কাকপক্ষীও নেই।ইয়ানা দাঁড়িয়ে একটা দোকানের চাউনির নিছে।ওর ফ্রেন্ডরা আজকে আসেনি।একা তাই প্রাইভেটে যায়নি।বাড়ি যাবে ভেবে ভার্সিটি থেকে বের হল।মাঝ রাস্তায় এমন ঝুম বৃষ্টি ধরল। তার উপর বৃষ্টির মধ্যে ভিজে জুবুথুবু হয়ে শরীরের সাথে সাদা ড্রেসটা লেগে আছে।ইয়ানা আশেপাশে গাড়ি খুঁজে কিন্তু পায় না।ফোনটাও বন্ধ হয়ে গেছে।না হলে ভাই বা বাবা যেকোনো একজনকে বললে এসে নিয়ে যেতো।ফোনটা বের করে খোলার চেষ্টা করে। কিন্তু খুলে না।ইয়ানা পাশ ফিরে তাকাতেই চমকে যায়।চার পাঁচ জন ছেলে এগুলা তাদের ভার্সিটির আশেপাশেই থাকে। বখাটে সবগুলা নেশা করে আর মেয়েদের বিরক্ত করে।ছেলেগুলা কেমন করে তাকিয়ে ইয়ানার পা থেকে মাথা পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করছে।ইয়ানা ভীতু হয় আকাশের অবস্থা খারাপ আশেপাশে কেউ নেই।ইয়ানা জামা কাপড় টেনে ঠিক করতে চায়।ছেলে গুলা একটু একটু করে আরো কাছে এগিয়ে আসছে আর ইয়ানা পিছিয়ে যাচ্ছে। পিছাতে পিছাতে সে চাউনির নিচ থেকে বের হয়ে যায়।

—কী ডার্লিং কোথায় যাচ্ছো এই দিকে এসো আর ভিজতে হবে না এমনিতেই তোমাকে হট লাগছে।আমার মাথা নষ্ট হয়ে গেছে।

এই বলেই বিছরি ভাবে হাসে সাথে তাল মিলায় বাকিরাও।বিপদে পড়লে চালাক মানুষও বোকা হয়ে যায়।কী করবে না কী করবে বুঝে পায় না।ইয়ানার ক্ষেত্রেও তাই হলো ভয়ে তার সব সাহস পালিয়ে গেলো।পা টা যেন কেউ শক্ত করে ধরে আছে।ইয়ানা নিজের সাহস জোগায়। দৌড় দিতে নিলে। ছেলে গুলা চারদিকে থেকে ঘিরে ধরে।

—কী হলো আপনারা আমার পথ আটকে আছেন কেন?আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে আমাকে যেতে দিন।

কাঁপা কাঁপা গলায় ইয়ানা বলে।ওর কথায় যেন ছেলে গুলো মজা ফেলো।হো হো করে হেঁসে উঠে বলে।

—এত তাড়া কিশের?আগে আমাদের ঠান্ডা করে যাও।এই দেখো কি সুন্দর ওয়েদার খেলা জমবে কিন্তু। তোমার মত এমন একটা মা** এই ওয়েদারে খুব প্রয়োজন।

—ছি আপনাদের ঘরে কী মা বোন নেই?

—মা বোন আছে তবে বিচানা গ*ম করার মতো কেউ নেই।

ঘৃণায় ইয়ানার চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ে।তবে সেটা বৃষ্টির পানির সাথে মিলিয়ে যায়।নিজের ব্যাগ টা বুকের সাথে চেপে ধরে।মনে মনে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাচ্ছে।হঠাৎ দু’হাতে টান পড়ায় চমকে উঠে।দেখে ছেলে গুলা তাকে টেনে একটা গাড়ির দিকে নিচ্ছে।ইয়ানা জোরে জোরে চিৎকার করে কিন্তু কোনো লাভ হয় না ঝড়ের সাথে তা মিলিয়ে যায়।ছেলেগুলা ইয়ানাকে টেনে হিজড়ে নিয়ে যাচ্ছে। ইয়ানার বার বার ভাইয়ের কথা আর বাবার কথা মনে পড়ছে।মনে মনে বলছে তার ভাই আসুক।হঠাৎ করে রৌদ্রের কথা মনে পড়ে গেলো।লোকটার সাথে যেখানে সেখানে হুটহাট দেখা হয়ে যায়।তবে আজ কেন হলো না?আজ ইয়ানার তাকে খুব করে দরকার এজন্য আসে নি?ইয়ানার রৌদ্রকে সহ্য না হলেও তবে আজকে খুব করে চাচ্ছে রৌদ্র আসুক তাকে বাঁচিয়ে নিক এই নোংরা লোকেদের থেকে।


অফিসের কাজে একটা জায়গায় এসে আটকে পড়েছে রৌদ্র। এখানে মোবাইল নেটওয়ার্ক ও পাচ্ছে না।বার বার ঘুরে ঘুরে নেটওয়ার্ক খুঁজছে সে। নাহ নেটওয়ার্ক ন ও নেই।রাগে মোবাইল দিল এক আছাড়।তার হঠাৎ করে কেমন অস্থির লাগছে।বুকটা কেমন জ্বালা করছে। কেন এমন হচ্ছে ?তার বোন ঠিক আছে তো?বা বাকিরা সবাই?কাউকে সে কল করতে পারছে না। হঠাৎ ইয়ানার কথা মনে পড়ল।আচ্ছা বেয়াদব মেয়েটা ঠিক আছে তো?সকালে দেখল বমি করতে করতে অবস্থা খারাপ। শরীর দূর্ভল হয়ে গেছে।
এখন মেয়েটা কেমন আছে?কী করছে?এখনো কী বমি করছে?

নিজের ভাবনায় রৌদ্র নিজেই অবাক হয়।সে ওই বেয়াদব মেয়েটার কথা ভাবছে?কেন কেন?ওই মেয়ে তো আস্ত এক বেয়াদব কীভাবে ওইদিন তাকে তেঁতো কপি খাওয়াল।বেয়াদবটা এখন তার ভাবনায়ও ডুকে পারছে? না এটা অসম্ভব।


বিকেল ৪টা ফেরিয়ে ঘড়ির কাটা ৫ টার ঘরে যেতে আতিয়া নেওয়াজ চিন্তিত হলেন।মেয়েটা এখনো আসছে কেন মোবাইলটাও বন্ধ বলছে।প্রতিদিন তো ৪ টা বাজেই বাড়ি ফিরে আসে তাহলে আজকে এখনো কেন আসছে না?তার উপর বার-বার কল দিয়েও মোবাইল বন্ধ পাচ্ছে। তিনি গেটের কাছেও কয়েকবার হেঁটে আসলেন।মায়ের মন তো তাই বার বার কু ডাকছে।তিনি নিজেকে শান্ত রাখতে পারছে না।অস্থির হয়ে বার বার দরজার দিকে চাচ্ছে। দুপুরে বৃষ্টি হলেও তার পর থেমে গেছে।কিন্তু আকাশ শান্ত হয়নি আবার কালো মেঘ করে আকাশ ডাকছে।

জা কে এমন অস্থির হয়ে বারবার দরজার দিকে চেয়ে থাকতে দেখে পারুল নেওয়াজ এগিয়ে এসে বলে।

—কী হয়েছে ভাবি আপনাকে এমন দেখাচ্ছে কেন?

—আর বলিছ না ছোটো মেয়েটা যে এখনো বাড়ি ফিরল না।প্রতিদিন তো ৪টায় চলে আসে।আজকে ৫ টা বেজে গেছে এখনো এলো না।মোবাইলটাও বন্ধ আকাশ ডাকছে ঝড় আসতে পারে আবার।

অস্থির কন্ঠে বলেন তিনি।পারুল নেওয়াজ ও চিন্তিত হলো।

—আচ্ছা আপনি শান্ত হন।এসে পড়বে হয়তো মোবইলে চার্জ নেই।না হলে ইয়ানার ফ্রেন্ডেদের বা টিচার কে ফোন করে জিজ্ঞেস করলেই তো হয়।

—ঠিক বলেছিস চিন্তায় আমি তো এটা ভুলেই গেছি।দাড়া আগে ওর টিচারকে কল করি।

ইয়ানার প্রাইভেট টিচারকে ফোন করলে তিনি জানান।আজকে ইয়ানা সহ ওর ফ্রেন্ডরা আসেনি।এবার তিনি ইয়ানার এক বান্ধবীকে কল দেন সে জানায় সে আজকে যায়নি।একে একে সবগুলা ফ্রেন্ডকে কল করলে তারা জানায়।আজকে তারা যায়নি।এবার আতিয়া নেওয়াজ এর মনে ভয় ডুকে গেলো।

বাড়িতে পুরুষেরা কেউ নেই।আদ্র আহি গিয়েছে আদ্রের শেষ বার চেকাপ করাতে।ফাইজ বাড়িতে নেই কোথাও গিয়েছে।আর বাকিরা তো অফিসে হসপিটালে। আতিয়া নেওয়াজ দ্রুত স্বামী কে কল করে জানায়।কেঁদে কেটে তিনি অস্থির পারুল নেওয়াজ শান্ত করতে পারছে না।আজিজ নেওয়াজ জানায় তিনি আসছেন।পারুল নেওয়াজ ফাইজ কে কল দিয়ে জানায় একে একে সবাই কে জানায় তারা বলল তাড়াতাড়ি আসছে।


মাএই ডাক্তারের চেম্বার থেকে বের হল আদ্র আহি।মায়ের কল আর কান্না কাটি শুনে যত দ্রুত সম্ভব গাড়ি চালাচ্ছে। আহি তো তার ইনা আপুই কে পাওয়া যাচ্ছে না এটা শুনার পর থেকেই কান্না করে যাচ্ছে।

আদ্র রৌদ্রের নাম্বারের কল দিল মোবাইল বন্ধ বলছে।রৌদ্রের সাথে আছে কিনা বা দেখেছে কিনা জিজ্ঞেস করতে কিন্তু ফোন বন্ধ বলছে বার বার।না পারতে রৌদ্রের অফিসে কল দেয়।তারা জানায় তাদের স্যার কাজে এক জায়গায় গিয়েছে।এবার আদ্র চিন্তা হচ্ছে আদরের একটা মাএ বোন তার।


রাত ৮ বাজে খুঁজে খুঁজে সবাই হয়রান।পুলিশ কে জানানো হয়ে। তবে কোনো খোঁজ পাওয়া যায় নি। ইয়ানা নিখোঁজ শুনে ওর ছেলে ফ্রেন্ডরা বের হয়ে সমান তালে হন্ন হয়ে খুঁজছে। আদ্র ভার্সিটি রাস্তা ধরে এমন কোনো জায়গা বাদ রাখছে না ফাইজ নিজের বন্ধু দের ও লাগিয়ে দিয়েছে।বাড়ির সব পুরুষরা খুঁজছে।

আর এই দিকে বাড়িতে আতিয়া নেওয়াজ কেঁদে চলছে আবার বার বার জ্ঞান হারাচ্ছেন।আহি তো রাইসা বেগম আর সাইফা করে ধরে সে কি কান্না।খবর পেয়ে খান বাড়ি থেকে সবাই এসেছে।সায়ান খান নিজের ছেলেকে ফোন করছে।বন্ধ বলছে।সে দিকেও চিন্তা হচ্ছে আবার হচ্ছে না। কারণ রৌদ্র কাজে যাওয়ার সময় বলেছিলো। সেখানে নেটওয়ার্ক নাও পেতে পারে আর ফিরতে সকাল হতে পারে।

রাত ১ টা ক্লান্ত আর শূন্য হাতে সবাই খালি হাতে ফিরে এসেছে।বাইরে ঝড় হচ্ছে। কেউ রুমে যায় নি সবাই সোফারয় মাথা নিচু করে বসে আছে।আতিয়া নেওয়াজকে ঘুমের ঔষধ খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে।আদ্র মাথা নিচু করে বসে ছিল।নুপুরের আওয়াজে মাথা তুলে দেখল।আহি আতিয়া নেওয়াজের ঘর থেকে বের হয়ে আসছে চোখ মুখ দেখে বুঝা যাচ্ছে অনেক কেঁদেছে।আদ্র আবার মাথা নিচু করে নেয়।

আজ আর কারো পেটে এক পোঁটা পানিও পড়ে নি।নেওয়াজ বাড়িটা আর নিরব নিস্তব্ধ হয়ে আছে।

চলবে,,,,,,

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply