Golpo romantic golpo দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ

দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৪৬


দ্যাআনপ্রেডিক্টেবললাভ

পর্ব : ৪৬

জাহিরুলইসলামমাহির

🌿
“রাত বারোটা। আদ্রিজার পা জড়িয়ে ধরে বসে আছে জাবির রায়হান চৌধুরী। জাবিরের এমন কান্ড দেখে বেশ বিরক্ত হয় আদ্রিজা।”

—“বেয়াই আপনি কি পা ছাড়বেন?”

–“তুমি যতক্ষণ না বাসর করার জন্য রাজি হবা ততক্ষণ আমি তোমার পা ছাড়বো না।”

–“তাহলে এই জন্মে আর আমার পা ছাড়া লাগবে না আপনার। কারণ আমি কখনোই রাজি হবো না।”

–“এমন করো কেন? একটু বাসর করতে দিলে কি হই?”

–“আপনাকে বাসর করতে দিয়ে নিজের ভার্জিনিটি হারাতে চাই না।”

–“তাহলে বিয়ে করছিলে কেনো?”

–“বৌ সেজে পাশে জামাই নিয়ে ছবি তোলার ইচ্ছে হয়েছিল তাই বিয়ে করছিলাম।”

—“বিয়ে যেহেতু করছো যেহেতু বাসর টাও করতে হবে।”

—“আমার বাসর করবো না।”

—“করতে হবে।”

“আমি বলছি আমি বাসর করবো না। বাই দা ওয়ে বেয়াই আমার পা ছাড়েন আমার অনেক ঘুম পাচ্ছে আমি ঘুমাবো।”

—“আমাকে উত্তেজিত করে দিয়ে তোমার ঘুম পাচ্ছে?”

–“হুম।”

–“হুম বলো আর যায় বলো একবার যেহেতু উত্তেজিত করে দিয়েছ যেহেতু আজকে আমি বাসর করবোই করবো।”

—“আমি রাজি না হলে কীভাবে করবেন?”

“প্রয়োজনে জোর করে করবো, তাঁর পর ও আজকে আমি বাসর করবোই করবো।”

“বাসর বাসর বাসর। আপনার মুখে বাসরের কথা শুনতে শুনতে আমার মাথা ব্যথা উঠে গেছে। আমার জন্য একটা মাথা ব্যাথার ঔষুধ নিয়ে আসেন যান।”

—“মাথা ব্যথার ঔষধ এনে দিয়ে বাসর করতে দিবা তো?”

–“আগে ঔষধ নিয়ে আসেন, ঔষধ খাই তাঁর পর না হয় ভেবে দেখবো।”

“রায়হান বেড থেকে নেমে ঔষধ রাখা একটা ড্রায়ারের দিকে এগিয়ে যায়। ড্রায়ারে থাকা সব ঔষধ চেক করে দেখে মাথা ব্যথার ঔষধ নেই। ড্রায়ার বন্ধ করতে যাবে ঠিক তখনি রায়হানের চোখ পড়ে একটা ঔষধের উপর। ঔষধ টা দেখেই রায়হানের মাথায় একটা শয়তানি বুদ্ধি আসে। একটা শয়তানি হাসি দিয়ে ঔষধের পাতা টা হাতে তুলে নেয়। ঔষধের দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলে”..

–“একবার, শুধু একবার ওই ঔষধ টা যদি তোমাকে খাওয়াতে পারি তাহলে তুমি নিজেই আমার কাছে আসবা বাসর করার জন্য।”

“এই কথা বলে ঔষধের পাতা থেকে একটা ঔষধ খুলে হাতে নেয়। রুমে থাকা জগ থেকে গ্লাসে পানি ঢেলে নিয়ে এগিয়ে যায় বেডের দিকে।”

—“এই নাও মাথা ব্যথার ঔষধ।”

“রায়হানের হাত থেকে ঔষধ আর পানির গ্লাস হাতে নেয় আদ্রিজা। রায়হানের দিকে এক পলক তাকিয়ে ঔষধ টা খেয়ে নেয়। যা দেখে রায়হানের ঠোঁটে বিজয়ের হাঁসি ফুটে ওঠে।

“ইয়েজ ইয়েজ পেরেছি, উত্তেজিত হওয়ার ঔষধ খাইয়ে দিয়েছি। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঔষধ কাজ করা শুরু করবে।”

” রায়হান আদ্রিজার হাত থেকে পানির গ্লাস টা নিয়ে জায়গা মতো রেখে দেয়। মিনিট দশেক পর আদ্রিজা শরীরে একটা অন্য রোকম শিহরণ অনুভব করে। কেমন জানি নেশা নেশা লাগছে তাঁর। রায়হানের দিকে তাকিয়ে দেখে রায়হান আগে থেকেই তাঁর দিকে তাকিয়ে আছে।”

–“এই হ্যান্ডসাম দূরে দাঁড়িয়ে আছো কেনো কাছে আসো।”

“রায়হান আদ্রিজার দিকে এগিয়ে যায়। আদ্রিজার রায়হানের গলা জড়িয়ে ধরে রায়হানের ঠোঁটে নিজের ঠোঁট দুটো ডুবিয়ে দেয়। আদ্রিজার সাথে রায়হান ও রেসপন্স করে। মিনিট পাঁচেক পর ঠোঁট ছেড়ে দিয়ে আদ্রিজা বলে”..

–“হেই হ্যান্ডসাম মেয়েদের মতো টিশার্ট পড়ে আছো কেনো, খুলে ফেলো এইসব টিশার্ট।”

“রায়হান পড়নে থাকা টিশার্ট টা খুলে ফেলে। আদ্রিজার গলা থেকে উড়না টা সরিয়ে আদ্রিজার গলায় মুখ বসিয়ে দেয়। আদ্রিজা কেঁপে উঠে রায়হানের গলা জড়িয়ে ধরে। রায়হান তাঁর নিজের কাজ কনটিনিউ করতে থাকে। মিনিট পাঁচেক পর রায়হান কিছু টা বিরক্ত হলে বলে”…

–“বারবার এইভাবে উপরের দিকে সরে যাচ্ছ কেন?”

–“ব্যাথা লাগছে তাই।”

–“প্রথমবার একটু কষ্ট হয়, সহ্য করে নাও তুমিও সুখ পাবা আর আমিও।”

–“আস্তে করেন প্লীজ।”

“বাকিটুকু ইতিহাস।

🌿
“সকাল আটটা। এইমাত্র আদ্রিয়ানার ঘুম ভেঙ্গেছে। চোখ খুলতেই দেখে আদনান তাঁর পাশে বসে বেডে মাথা রেখে ঘুমিয়ে আছে। আদ্রিয়ানা পুরো রুমে চোখ বুলিয়ে দেখে নেয় জোবাইদা আছে কিনা। জোবাইদা নেই দেখে আদ্রিয়ানা আদনানের কপালে একটা চুমু খেয়ে দুলনার দিকে তাকায়। বেবিরা ও ঘুমাচ্ছে। আদ্রিয়ানা আদনান ফেইসের দিকে তাকায়।”

“ঘুমান্ত অবস্থায় বেডারে কি পরিমান নিষ্পাপ আর বাচ্চা বাচ্চা লাগছে। এই ফেইস দেখে কি কেউ বলবে এই বেডা একটা ডেঞ্জারাস ভিলেন।”

“এই কথা বলে আবার ও আদনানের কপালে চুমু খাই আদ্রিয়ানা।”

–“মিস্টার পান্ডা সাহেব শুনছেন ? বেবির পাপা ? এই যে বেবির পাপা শুনছেন ?

“আদনান বেড থেকে মাথা তুলে আদ্রিয়ানার দিকে তাকায়।”
–“হুম সানফ্লাওয়ার বলো, তোমার কি কিছু লাগবে ?

—“মিস্টার পান্ডা সাহেব ওয়াসরুমে যেতে হবে ইমারজেন্সি।

“আদনান আদ্রিয়ানাকে কোলে তুলে নিয়ে ওয়াস রুমে চলে যায়।”

–“মিস্টার পান্ডা সাহেব আপনি বাহিরে যান।

—“আমি থাকি না।

—“নাহ থাকা লাগবে না আপনি বাহিরে যান।

“আদ্রিয়ানার কথা মতো আদনান ওয়াসরুম থেকে বের হয়ে আসে। মিনিট দুয়েক পর আদ্রিয়ানার ডাক পেয়ে ওয়াসরুমের ভিতরে যায় আদনান।

—“বেবির পাপা দাত ব্রাশ করবো কি দিয়ে ?

–“এক মিনিট ওয়েট করো আমি ব্রাশ আর টুথপেস্ট নিয়ে আসছি।”

“এই কথা বলে আদনান ওয়াসরুম থেকে বের হয়ে যায়। নিজের জন্য আর আদ্রিয়ানার জন্য ব্রাশ টুথপেস্ট নিয়ে ওয়াসরুমে চলে যায়।”

—“বৌ আমি করে দিবো ?

—“আমি পারবো।

“এই কথা বলে আদ্রিয়ানা আদনানের হাত থেকে ব্রাশ আর টুথপেস্ট নিয়ে ব্রাশ করা শুরু করে। মিনিট পাঁচেকের মধ্যে আদনান , আদ্রিয়ানা দুজনের ব্রাশ করা হয়ে যায়। আদনান আদ্রিয়ানা কে কোলে নিয়ে ওয়াসরুম থেকে বের হয়ে আসে। আদ্রিয়ানা কে বেডের সাথে হেলান দিয়ে বসিয়ে দেয় আদনান।”

“জোবাইদা সকাল সকাল একটু হাঁটতে বের হয়েছিলো। এইমাত্র কেবিনে এসেছে। আসার সময় আদ্রিয়ানার পছন্দের ব্রেকফাস্ট কিনে নিয়ে এসেছে। আদ্রিয়ানা ফ্রেশ হয়ে গেছে দেখে জোবাইদা আদ্রিয়ানার দিকে খাবার এগিয়ে দেয়। আদ্রিয়ানা মজা করে খেতে থাকে তাঁর পছন্দের খাবার। খাওয়া দাওয়ার পর্ব শেষ হতেই বেবিরা উঠে যায়। চিৎকার দিয়ে কান্না করে উঠে দুই বেবি। বেবিদের চিৎকার শুনে আদনান আর জোবাইদা দুলনার দিকে এগিয়ে যায়। আদনান মেয়ে বেবি কে কোলে তুলে নেয় আর জোবাইদা ছেলে বেবি কে কোলে তুলে নেয়। আদনানের স্পর্শ পেয়ে মেয়ে বেবি টার কান্না থেমে যায়। আদনান বেবি কে নিয়ে বেডের উপর বসে মেয়ের সাথে কথা বলতে থাকে।”

–“আদনান বেবি কে আদ্রিয়ানার কোলে দিয়ে বাহিরে যা।

“জোবাইদার কথা মতো আদনান বেবি কে আদ্রিয়ানার কোলে দিয়ে বের হয়ে যায়।”

–“আদ্রিয়ানা বেবি কে ফিল্ডিং করিয়ে দে ?

“জোবাইদার কথা মতো আদ্রিয়ানা প্রথমে মেয়ে বেবি কে তাঁর পর ছেলে বেবি কে ফিল্ডিং করিয়ে দেয়। ফিল্ডিং করানো হয়ে গেলে আদনান কে কেভিনের ভিতরে আসতে বলে জোবাইদা। আদনান কেভিনের ভিতরে আসে।”

—“আম্মু আমার মনে হয় তোমার বাসায় চলে যাওয়া দরকার.

—-“কেনো ?

–“এই বয়সে তোমার উপর দিয়ে একটু বেশিই দখল যাচ্ছে মনে হচ্ছে। তাছাড়া আব্বুর শরীর টাও ভালো নেই।”,

—“ঠিক বলেছিস তুই কিন্তু ,,,

“বাকিটুকু উচ্চারণ করতে পারে না জোবাইদা আর আগেই আদনান বলে”..

–“এই দিক নিয়ে তোমার টেনশন করতে হবে না আমি আছি তো।

“আদনানের কথা শেষ হতেই আদ্রিয়ানা বলে”..
“আম্মু উনি ঠিক বলছে আপনি বাসায় যান। এখানে উনি তো আছে, বেশি সমস্যা হলে আমরা বলবো তখন না হয় আদ্রিজা কে পাঠিয়ে দিয়েন।”

“জোবাইদা হ্যাঁ বোধক মাথা নাড়ায়। এবং বোরখা পড়ে রেডি হয়ে নেয়। আদনান বাহাদুর কে গাড়ি নিয়ে আসতে বলে। দশ মিনিটের মধ্যে বাহদুর গাড়ি নিয়ে হাজির হয়। জোবাইদা বাহাদুরের সাথে বের হয়ে যায় বাড়ির উদ্দেশ্যে।”

প্রিয়রা আজ থেকে আগের মতো রেগুলার গল্প দিবো ইনশাল্লাহ। আগে যেমন একদিন পর পর গল্প দিতাম ঠিক তেমনি একদিন পর পর গল্প দিবো। সবাই এখন বেশি বেশি রেসপন্স করো ওকেই।”

চলবে….

( ভুল ক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন ধন্যবাদ )

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply