প্রিয়তার_পূর্ণতার
Nadia_Afrin
১৩
মনের শঙ্কা নিয়ে পাইচারি করছি আমি ঘরজুড়ে।প্রলয় অবাক চোখে চেয়ে।বারবার জিজ্ঞেস করছে কী হয়েছে।
আমি বলছিনা।মানে কীভাবে বলবো বুঝতে পারছিনা।আমার মনের শঙ্কা তো ভুলও হতে পারে।কোনো ছেলের কাছে তার মায়ের সম্পর্কে এতো বড়ো কথা বললে মানবে কী?
যদি আমার দোষ হয়।
আবার আমার বোকামির জন্য যদি প্রলয়ের কোনো ক্ষতি হয়।
না না!
মানতে পারছিনা আমি।
প্রলয়কে বললাম,”আপনি একটু বসুন।আমি ঘরে যাবো।একটা প্রয়োজনীয় জিনিস আনতে হবে।
রিপাকে কল করছি আমি।”
ঘরের দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে কল দিলাম রিপাকে।দুবারেও রিসিভ করলোনা।
এরপর দিলাম সুমা আপুকে।সে রিসিভ না করে দরজা খুলে রাগান্বিত স্বরে বলল,”সমস্যা কী তোমার প্রিয়তা?
একটা রাত তোমাদের ঘরে থাকছি তো সহ্য হচ্ছেনা?আমরা শখ করে থাকছি?এই তোমার মন?
নেহাৎ বাধ্য হয়েছি থাকতে।নাহলে এ ঘরে থুতু ফেলতেও আসতাম না।সবে মা ঘুমিয়েছে।ফোনের পর ফোন দিয়ে যাচ্ছো।মায়ের শরীর আরো খারাপ করছে।শান্তিতে ঘুমানোর জন্যই তো এসেছিল নাকি!
যত্তসব!”
আপু আমাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই চরম খারাপ ব্যবহার করে দরজা দিল মুখের ওপর।
আমি আবারো নত মুখে ঘরে ফিরে এলাম।প্রলয় ওয়াশরুম থেকে বেড়িয়ে বলল,”কী হলো?যেটা আনতে গিয়েছিলেন এনেছেন?”
আমি চুপ রইলাম।বিছানায় বসলাম।সুমা আপুর ছেলেকে পাশে থাকা আরেকটি ছোট বেডে শোয়ানো হয়েছে।এঘরে আসার সময় ওকেও নিয়ে এসেছে প্রলয়।বাচ্চাটা বেশ মিষ্টি।
শুধুমাত্র এই ছেলেটার জন্য প্রলয় একটু হলেও মায়া করে সুমা আপুকে।নাহলে এতোদিনে নাকি বের করে দিত।জানিনা ওরা কী এমন করেছে যে প্রলয়ের এতো রাগ ওদের প্রতি।
প্রলয় আমার পাশে বসে বলল,”বিয়ের পর আপনাকে কখনো নাইটড্রেস পড়ে ঘুমোতে দেখিনি।তো আজ এনেছেন যে ঘর থেকে!”
আমি একটু লজ্জা পেলাম।
মাথা নুয়ে বললাম,” ঐ আর কী এমনিই এনেছিলাম।যদি লাগে তাই।”
প্রলয় আর কিছু বলেনা।
আমি শুয়ে পড়লাম।কিন্তু ঘুম আসেনা তবুও।
ফজরের আজান হওয়া মাত্র লাফিয়ে উঠি।
বাথরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে ঘর ছেড়ে বের হই।
ঝাড়-পোছ করে রান্না বসাই।ফাঁকে ফাঁকে উকি দিয়ে যাই ঘরের দিকে।ওরা উঠলো কিনা দেখতে।
বেলা সাতটা বেজে যায়।ওদের ওঠার নাম নেই।হেল্পিং হ্যান্ড দুজন এসে আমার কাজে সাহায্য করছে।বাসন পত্র ধুচ্ছে।
প্রলয় ও উঠে ফ্রেশ হয়ে নেয়।ওকে ব্রেকফাস্ট দিতে গেলে জিজ্ঞেস করে মা-আপুরা উঠেছে কিনা!
‘না’ বললে কিছুটা রেগে গিয়ে প্রলয় বলে,”এদের হুশ আছে নাকি!আমার অফিসের সময় হয়ে যাচ্ছে।অফিস শেষে আজকে আবার ক্লাইন্ট মিটিং আছে আমার।মাল ডেলিভারি যাবে।
লেট হয়ে যাচ্ছে আমার।ড্রেস চেঞ্জ করবো।
ওদেরকে গিয়ে ডাকুন। তাড়াতাড়ি ঘর ছাড়তে বলুন।নাহলে আমি ঝামেলা বাধাঁবো বলে দিলাম।”
প্রলয়ের কথা শুনে দ্রুতই ঘরের সামনে গেলাম।নক করার আগেই দরজা খুলে দিল রিপা।খুশি মন নিয়ে হাই তুলতে তুলতে বলল,”গুড মর্নিং ভাবি।ঘুমটা বেশ ভালো হয়েছে।”
ঘর ছেড়ে বের হলো ও।
আমি ভেতরে ঢুকতেই দেখলাম সুমা আপু বিছানা ছাড়ছেন।মা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চিরুনি করছেন।প্রত্যেকের চোখ-মুখ ফুলো,উজ্জল।ভালো ঘুমের লক্ষণ।
ওরা দু-বোনে নাকি সারা রাত জেগে মাকে সেবা করবে।অথচ তিনজনাই ঘুমে কুমির।
যাকগে!তাতে আমার কী?
এবার তো আর বলতে পারবেনা থাকতে দাও।
থাকতে না দিলে বলে বেড়াতো বউ থাকতে দিল না অসুস্থ শাশুড়িকে।নিজে এসির নিচে থেকে অসুস্থ শাশুড়িকে গরমে রেখেছে।
এবার সারারাত এসি ঘরে থেকে সুস্থ হয়েছে নিশ্চয়।এটাই তো বলেছিল ওরা।
একা একাই ঘর থেকে গেল মা।হাসছে কথা বলছে।আমার ভালোই লাগলো।বাড়ির একজন অসুস্থ থাকলে প্রত্যেকের মন খারাপ হয়।
বিছানার দিকে তাকালাম আমি।যা-তা অবস্থা।সুমা আপুর ওরনা একপাশে রাখা।রিপার জামা-পাজামা রাখা।নাইটি পড়ে শুয়েছিল সে।
বিছানার এক কোণে ক্লিপ,হেয়ার ব্যান্ড।কী বলি লজ্জার কথা,আন্ডারগার্মেন্টস পযর্ন্ত বালিশের তলায়।
বিছানা না গোছাক,এগুলো তো নিয়ে যাবে!এখনি ঘরে ঢুকবে ওর ভাই।সামান্য কমনসেন্সও কী নেই ওতো বড়ো মেয়ের?
কিছু বললেই আবার বলবে ভাইয়ের বউ খারাপ।কথা শোনায়।
শোনাই কী আর সাধে?
আনমনে এসব ভাবতে ভাবতে ওগুলো গুছিয়ে একটা পোটলা মতো করলাম।ওদের দিয়ে আসতে নিলে প্রলয় ঘরে ঢুললো।বলল,”কী এগুলো?”
“ওদের কাপড়-চোপড়।”
প্রলয় বিরবির করে বলল,”কোনো কমনসেন্স নেই বেয়াদব গুলোর।একজনের ঘরে থাকলে যে সকালে ঘর গুছিয়ে যেতে হয় এটাও জানেনা।”
“আহ থামুন না!আমি গুছিয়ে নেব।মা অসুস্থ ছিল এজন্য হয়তবা গোছাতে পারেনা?”
“মা এখনো অসুস্থ আছে?দিব্যি তো নিচে গিয়ে খেতে বসে গেছে।আর অসুস্থ হলেও মা হয়েছে।ওরা দুজন কী করছিল?ওরা কেন করলোনা?”
“হয়তবা,,,,”
“প্লিজ স্টপ।আপনাকে আগেও বলেছি,এখনো বলছি।আমার পরিবারের ওয়ে ওকালতি করবেন না।স্যরি ওকালতি নয়,চামচামি।আমার খেয়ে,আমার পড়ে অন্যের চামচামি বন্ধ করুন।”
কথাটা ভীষণ আত্মসম্মানে লাগে আমার।চোখে পানি চলে আসে।বললাম,”চুপ থাকি বলে ভাববেন না সব মেনে নেব।
আপনি আমার সঙ্গে এমন আচরণ করতে পারেননা।
আপনি আমায় খাওয়ার খোঁটা দিচ্ছেন?খাওয়াতেই যখন পারবেন না তো বিয়ে করেছিলেন কেন?
ভাববেন না আমি একেবারে অসহায়।আমার মতো দশটা মেয়ে পালার ক্ষমতা সৃষ্টিকর্তা আমার বাবাকে দিয়েছেন।
ধৈর্য্য ধরুন আর দুটো বছর।পড়াশোনাটা শেষ হলেই আমি জবের চেষ্টা করবো।এখন করলে আমার পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটবে।
একবার আমি নিজের পায়ে দাঁড়ালে আপনার আর কোনো সহযোগিতার প্রয়োজন আমার পড়বেনা।
আর এখন আমি যা খাচ্ছি,পড়ছি আপনার টাকায়,সব হিসেব করে রাখুন।একদিন সব শোধ করে দেব আমি।
অন্যথায় আমায় আমার বাবার কাছে দিয়ে আসতে পারেন।”
কথাগুলো বলে রাগে হিসহিস করতে করতে চলে গেলাম আমি।
প্রলয় হাসলো।ধীর স্বরে বলল,”বিশ্বাস করুন আমি এটাই চাই।আপনি নিজের পায়ে দাঁড়ান।নিজের যোগ্যতা হোক আপনার।অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকার মতো মেরুদণ্ডহীন কাজটা আপনি না করুন।স্বামী-শশুর বাড়ির লোক যেন আপনায় পিষতে না পারে।আপনার এই জেদ,রাগ আপনায় সফলতার দিকে পৌঁছে দেবে।হই না আমি একটু বাজে,তবুও আপনার ভবিষ্যৎ তো সুরক্ষিত হোক।
আপনার এই তেজ দেখার অপেক্ষাতেই ছিলাম আমি।
এই তেজটা আপনাকে ধরে রাখতে হবে।
এটা অন্যায় নিধনের একমাত্র মাধ্যম হবে।আপনার তেজের আগুনে যেন ঝলসে যায় সকল পাপিরা।সকল পাপির নিধন করতে হবে আপনায়।
জানি এটা খুব সহজ নয় আপনার জন্য।আমি আপনায় প্রস্তুত করবো।কখনো ভালোবেসে,কখনো কষ্ট দিয়ে।
তবে মনের যে প্রকৃত অনুভূতি গুলো আছে,তার খোঁজ পাবেন না আপনি কখনোই।পেলে আপনি দূর্বল হয়ে পড়বেন।আপনি বরং আমায় ঘৃণা করুন।
আমি নিরবে নিভৃতে ভালোবেসে যাই।
নিচে সকলে টেবিলে বসে খাবার খাচ্ছে।
আমি খাচ্ছিনা।দাঁড়িয়ে আছি চুপচাপ।প্রলয় রেডি হয়ে নিচে এলো।আমায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে শুধালো কারণ।
মা উপহাস করে বললেন,”তোর বউয়ের কোমর ব্যাথা।বসলে কোমর ভেঙে যাবে।”
এই বলে সবাই হো হো করে হাসতে লাগলেন।
অথচ এই মানুষটি নাকি কাল গুরুতর অসুস্থ ছিল!
প্রলয়ও জবাব দিল,”আমার বউয়ের যেহেতু কোমর ব্যাথা,তো আজকের খাওয়ার পর টেবিল গোছানো তুমি আর তোমার বড়ো মেয়ে করবে।
আর রিপা তুই ভাবির হাত-পা মালিশ করবি।”
রিপা ছ্যাৎ করে উঠে বলল,”হোয়াট?আর ইউ ম্যাড ভাইয়া?
আমি তোমার বউয়ের পা মালিশ করবো?
আমি?
রিপা সরকার?”
“হ্যা তুই।ওকে নিয়ে দাঁত কেলিয়ে হাসতে পারছিস আর পা মালিশ করতে পারবিনা?”
মা উঠে দাঁড়িয়ে বললেন,”মুখ সামলিয়ে কথা বল প্রলয়।
নিজের বয়স্ক মাকে কাজ করতে বলিস কোন সাহসে?”
“যেই সাহসে আমার বয়স্ক মা আমার অল্প বয়সী বউকে নিয়ে মজা-ঠাট্টা করে সেই সাহসে।”
এবার সবার মুখ বন্ধ।
প্রলয় আমার হাত ধরে টেনে নিয়ে টেবিলে বসিয়ে দিল।
সঙ্গে কাজের আন্টিদের বলল,”কাল থেকে আমার বউকে সবার সঙ্গে টেবিলে বসানোর দায়িত্ব আপনাদের।আমার বাড়ির লোক যখন খেতে বসবে তখন আমার বউকেও বসিয়ে দেবেন।তাতে যে যা ই বলুক না কেন।
যদি এই কাজ আপনারা সঠিকভাবে করতে পারেন,বেতনের সঙ্গে দুহাজার টাকা করে বকশিস।
আর শুনুন,এখন থেকে আপনারা শুধু আমার বউয়ের কথা শুনবেন।আর কারো কথা নয়।”
প্রলয়ের কথা শুনে মা হুংকার দিয়ে বললেন,”কেন তোর বউ কী পটের বিবি যে দাস দাসী লাগবে?”
“একদমই নেই।সে তার থেকেও বেশি কিছু।”
মা আর জবাব দিলেন না।প্রলয় চলে যেতে নিলে পেছন থেকে বিরবিরিয়ে রিপা বলে ওঠে,”এই হয়েছে বউয়ের পোষা কুকুর।”
প্রলয় থমকে দাঁড়ালো।চোয়াল শক্ত করলো।আমি ওর মুখের দিকে তাকিয়ে।প্রলয় ছুট্টে এসে রিপার গালে স্বজড়ে একটা থাপ্পড় বসিয়ে দিল।
রাগান্বিত স্বরে বলল,”পরের বার থেকে বড়ো ভাই সম্পর্কে কোনো কথা বলার আগে বুঝে শুনে বলবি।”
রিপা গালে হাত দিয়ে অশ্রুসিক্ত চোখে তাকিয়ে রইলো।সুমা আপু কিছু বলতে চাইলো।মা তার হাত চেপে ধরলেন।প্রলয় কিছু না বলে চলে গেল।
ও যাওয়া মাত্র শুরু হলো মা-মেয়ের বিলাপ।প্রলয় কম আমায় নিয়ে বলছে বেশি।আমিই নাকি প্রলয়কে মারধর করার ট্রেইনিং দিয়েছি।প্রলয় আগে ভালো ছিল।বিয়ের পর খারাপ হয়েছে।বউ মাথা খেয়েছে।বিয়ের পর শাশুড়িদের কমন ডায়লোগ এটা।
আমি কোনো জবাব দেইনি।এমনিতেই প্রলয় গায়ে হাত তুলেছে।ওরা দুটো বললেও শুনে নিচ্ছি।আমার হয়ে প্রতিবাদ আমার স্বামী করছেনই।
খেয়ে নিয়ে কিচেনে গেলাম বাসন পরিষ্কার করতে।হেল্পিং হ্যান্ড আন্টি দুজন আমার পিছু পিছু এলেন।
বললেন,”এগুলো আপনি কেন করছেন মা?আমরা আছিনা?
রাখুন এগুলো।”
সামান্য হেসে বললাম,”সমস্যা নেই।আমিই করছি।আপনারা বরং চুলাটা পরিষ্কার আর ফ্রিজটা পরিষ্কার করুন।”
পুরো গল্পটি নাদিয়া আফরিন পেজে দেওয়া আছে।ফলো দিয়ে পড়েনিন।
নাহলে হারিয়ে ফেলতে পারেন।
ওরা ওদের কাজে মন দিল।কাজ করতে করতে বলল,”আপনি কতো ভালো।কখনো জুলুম করেননা আমাদের সঙ্গে।বরং অর্ধেক কাজ নিজেই করে রাখেন।”
“ব্যাপার না।মিলেমিশে করলে চাপ কম হয়।আপনারা হেল্পিং হ্যান্ড বলে কী মানুষ না?আপনাদের ওপর খুব বেশি চাপ দেওয়া ঠিক নয়।এছাড়াও আমি আপনাদের থেকে শিখছি একপ্রকার।নতুন সংসারে আমি শিখছি সব।”
উনি একটু হেসে বলে,”জানেন মা এ বাড়িতে এসে কতো কিছু দেখলাম নিজ চোখে।কতো জুলুমেরই না সাক্ষী হয়েছি।প্রলয় বাবা প্রথমে আমায় রেখেছিলেন শুধু দু-বেলার রান্নার জন্য।তার মায়ের নাকি আগুনের সামনে যেতে কষ্ট হয়।
আমায় রান্নার জন্য আনলেও সে বাড়ির নানান কাজ আমায় দিয়ে করাতেন।ঘর পরিষ্কার থেকে শুরু করে তার সেবা,সবই করাতেন।
অর্থ সংকটে থাকায় সবই করেছি মুখ বুজে।উনারা আমায় প্রলয় বাবার কাছে নালিশ করতে দিতনা কখনো।
তবে আমার অবস্থা বুঝতে পেরে প্রলয় বাবা আমার বেতন বাড়িয়ে দেন।এতেও তার মায়ের রাগ।বেতন কেন বাড়াবে?আগেরটাই নাকি আমার প্রাপ্য।অথচ আমার কাজ অনুসারে আমি পাই তার চেয়েও বেশি।প্রলয় বাবা তখন প্রতিবাদ করে।এ নিয়ে তাদের মা-ছেলের মন কষাকষি।
এরপর শুরু হলো আমার প্রতি আরো জুলুম।এক ঘর দু-তিনবার করে মোছানো।নিত্য নতুন রান্না।তিন মা-মেয়ের কাপড় ধোঁয়া থেকে শুরু করে পা টিপে দেওয়া,সবই করিয়েছে।প্রচুর জুলুম করেছে আমার ওপর।
শেষে প্রলয় বাবা আরো একজনকে রাখে।তার প্রতিও বেশ জুলুম করেছে।মোছা ঘরে ধুলা ফেলে আবার মুছিয়েছে।দুজনই ছিলাম অসহায়।অসুস্থ মানুষ ছিল বাড়িতে।কাজ ছাড়া চলবেনা।
প্রলয় বাবা আমাদের বহু সাহায্য করেছে।একমাত্র তার সৌজন্যতায় আজও এ বাড়িতে পড়ে আছি।”
আমি চুপচাপ শুনলাম।মাথায় একটা কথা ঘুরপাক খায় আমার।ফট করে প্রশ্ন করলাম,”আপনি এ বাড়িতে বহু বছর কাজ করেন তাই না?”
“হ্যা।”
“তাহলে আপনিতো অদিতি মানে প্রলয়ের প্রথম বউয়ের বিষয়ে জানবেন।”
এবার দেখলাম আন্টির মুখটা চুপসে গেল।
আমার দিকে কয়েকপল ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থেকে ‘কাজ আছে’ বলে চলে গেল।
একপ্রকার পাত্তা না দিয়ে চলে গেল।
কী এমন ভুল বললাম আমি?
অদিতির নাম বলতেই এ বাড়ির মানুষেরা এমন করে কেন?কী রহস্য লুকিয়ে আছে এর পেছনে?
আমার ভাবনার মাঝখানেই ফোনটা বেজে উঠলো।প্রলয় কল দিয়েছে।বলল,”খেয়েছেন তো?”
“হুম।”
“আচ্ছা শুনুন একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা।মাছ-মাংস ভালো কিছু রান্না করুন প্লিজ আন্টিদের সঙ্গে নিয়ে।
আসলে সুমার স্বামী কবির ভাই আজ বিদেশ থেকে আসছে।যদিও ওর বাড়িই যেতে পারে।কিন্তু যদি আমাদের বাড়িতেই ওঠে ওর ছেলেকে দেখতে।
আর আমার বোন নিশ্চিত ছলেবলে কৌশলে কবিরভাইকে আমাদের বাড়িতেই আনবে।বিদেশ থেকে ফিরছে কিনা।যদিও সুমা এটা জানেনা।
তবে জেনে যাবে।
তোহ প্লিজ আপনি একটু ম্যানেজ করে নিন প্লিজ।”
বললাম,”ঠিক আছে।কিন্তু সুমা আপুর হাজবেন্ড আসবে এটা আপু কেন জানেনা?”
“ও জানলে আসতে দিতনা।বেচারা আসতে চায় ছমাস আগে থেকেই।সুমা শুধু আটকে দেয়।ওর হলো টাকার নেশা।স্বামী বিদেশ থেকে ডলার পাঠাচ্ছে,আর ও এ্যাকাউন্টে রাখছে।এজন্য স্বামীকে আসতে দিতে চায়না।
এজন্য কবির ভাই এবার ওকে না জানিয়েই ফ্লাইটে উঠেছে।শুধু আমায় জানিয়েছে।
আচ্ছা আমি রাখছি।কাজ আছে।”
প্রলয় রেখে দিতেই আমি দীর্ঘশ্বাস নিলাম।
বুয়া আন্টিদের বললাম,”মাছ,মাংস,ডিম বের করুন।বাড়িতে আজ ভারী রান্না হবে।
সব গুছিয়ে তাড়াতাড়ি কিচেনে চলে আসুন।”
সুমা আপু কফির মগ নিয়ে কিচেনে এলেন।চারপাশ উকি দিয়ে বললেন,”বাহ প্রিয়তা!আজ দেখছি রান্নায় এলাহি আয়োজন করছো।কেউ আসবে নাকি?আগেই বলে দিচ্ছি তোমার বাড়ি থেকে কারো আসার কথা থাকলে না করে দাও।রোজ রোজ মেয়ের শশুর বাড়ি লোক পাঠানো ভালো জিনিস নয়।এতে মেয়ের সংসারে মন বসেনা।”
“আমার বাবার বাড়িতে খাবারের অভাব পড়েনি আপু যে এ বাড়িতে খেতে আসতে হবে।আর সংসারে মন বসাতেই হবে আমার।সংসারটাই যে আমার।”
সম্পূর্ণ গল্পটি আমার পেইজে দেওয়া আছে।নাদিয়া আফরিন ইংরেজিতে লিখে সার্চ দিলেই পেয়ে যাবেন আমার পেইজ।
ফলো দিয়ে সম্পূর্ণ গল্পটি পড়ুন।
ফলো না করলে হারিয়ে ফেলতে পারেন।
আমার কড়া জবাবে আপুর মুখটা দেখার মতো হলো।
আমি নিজের কাজে মনোনিবেশ করলাম।
সুমা আপু চলে গেল।
একটু পর এলো মা আর তিনি।
মা কড়া গলায় বললেন,”রান্না করতে এসেছো কার অনুমতিতে?
নিজেই দেখছি গিন্নি সাজছো।নিজেই মেনু ঠিক করে নিচ্ছো।আমায় জিজ্ঞেস করার প্রয়োজন মনে করছোনা।নতুন এসেই তো দেখছি সব ক্বজা করার ধান্ধা তোমার।”
বললাম,”সেটাই তো ভালো মা।আমি গিন্নি হলে আপনার একটু বিশ্রাম হবে।
আমি নিজে নিজেই সব শিখে যাচ্ছি।আপনার আর কষ্ট করে আমায় কিছু শেখাতে হচ্ছেনা।
যাকগে সেসব কথা।আজ বাড়িতে অথিতি আসতে পারে।শুনে খুশি হবেন আপনার একমাত্র জামাই আসছে বাড়িতে।”
মা ভ্রু কুচকে বললেন,”জামাই মানে?কোন জামাই?”
“মানে আবার কী? মেয়ে জামাই।
আপনার কটা মেয়ে?”
“দুটো?”
“বিয়ে হয়েছে কার?”
“বড়োজনার।”
“তাহলে জামাই আসবে কার?”
“বড়োজনার।”
কথাটি বলেই মা দাঁতে জিভ কাঁটলেন।
বললাম,”সুমা আপুর স্বামী আজকে দেশে আসছেন।প্রলয় কল দিয়ে জানালো আমায়।
এজন্যই রান্নাবান্না করছিলাম।”
সুমা আপু এগিয়ে এসে বলল,”কবির দেশে আসছে?
মানে বলছো কী এসব?আমি কিচ্ছু বুঝতে পারছিনা।দাঁড়াও আগে প্রলয়ের সঙ্গে কথা বলে নেই।”
সে প্রলয়কে কল দিল।প্রলয় খবরটা দিতেই সুমা আপু হাই-হুতাশ শুরু করলো।স্বামী আসাতে তার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ছে।
প্রলয় কল কেঁটে দিল।সুমা আপু ঘরের এদিক-ওদিক পাইচারি করছে আর তার স্বামীকে কল করছে বারবার।
মা মেঝেতে বসে পড়ে মাথায় হাত দিয়ে বলছে,”এ কী হলো গো।এতো টাকা খরচ করে জামাইকে বিদেশ পাঠালাম,কবছর না থাকতেই চলে আসছে।মেয়েকে জানানোর প্রয়োজন করছেনা।
এ কেমন জামাই গো?অসভ্য, বেয়াদব ছেলে।কোন জানো*য়ারের পেট থেকে এই ছেলের জন্ম হয়েছে?”
উনি একজন মা হয়ে কীভাবে অন্য একজন মাকে এভাবে বলতে পারে?
বিষয়টি আমার ভালো লাগলোনা।প্রতিবারের স্বরে বললাম,”এসব কেমন কথা মা?ছিহ!
কোনো মায়ের গর্ভ নিয়ে আপনি এমন কথা বলতে পারেননা।
আপনার মেয়ে জামাই এতো বছর পর দেশে আসছে,কোথায় আপনি খুশি হবেন তা না করে এমন নিচু কথা বলছেন?”
“তোহ তোমার এতো ফোসকা পড়ছে কেন?
পর পুরুষের কথা তোমার কেন এতো গায়ে লাগছে?
আমার মেয়ে জামাইকে আমি যা পারি বলবো।তাতে তোমার কী?সব বিষয়ে নাক কেন গলাও তুমি?”
কিছু বললাম না।
সুমা আপুর সামনে তার স্বামীকে এতো বাজে কথা বলছে,সে কিছুই বলছেনা।সে নিজেই তার স্বামীর সম্মান রাখছেনা।এখানে আমার প্রতিবাদ করে লাভ নেই।শুধু শুধু অপমানিত হবো আমি।
এরচেয়ে বরং চুপ থাকি।
সুমা আপু ঘেমে গেছে দেখলাম।কপালের ঘাম মুছে বলল,”মা কবির অনলাইন নেই।প্রলয় মেইবি সত্য কথাই বলেছে।কিছু করার নেই আর।
এরচেয়ে বরং চলো ছেলেকে নিয়ে এয়ারপোর্ট যাই।নাহলে ও সব মালামাল নিয়ে ওর বাড়ি উঠে পড়বে।আর ওর মা-বোন সব নিয়ে নেবে।”
মা মাথা ঝাঁকালেন।ঘরের দিকে ছুটলেন রেডি হতে।কী লোভ এদের ভাবা যায়?যাকে ভাষা খারাপ করছে,আবার তার জিনিস নিতেই ছুটছে।
সুমা আপু তৈরি হয়ে ঘুমের ছেলেটাকে টানতে টানতে নিয়ে এলো।
ছেলেটা তখনও ঢুলছে।ধমক দিয়ে দাঁড় করিয়ে বলল,”শোন বাবাকে দেখা মাত্র ছুট্টে গিয়ে জড়িয়ে ধরবি।বলবি তোমাকে খুব মিস করছিলাম।আমার সঙ্গে চলো।
যদি বাবা আসতে না চায় তো বলবি আমি খাইনি সকাল থেকে।তোমার হাতে ছাড়া খাবোনা।”
ছেলেটা ওর মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল,”কিন্তু আমিতো সকালে খেয়েছি আম্মু।মিথ্যা কথা বলবো?”
“হ্যা বলবি।একটু মিথ্যা বললে কিছু হয়না।”
মায়ের কী শিক্ষা ভাবুন একবার।হাতে ধরে ছেলেকে মিথ্যা শেখাচ্ছে।একটু একটু মিথ্যা থেকেই তৈরি হয় মিথ্যাচার, মিথ্যাবাদি।
ওরা চলে গেল।
না জানি কী আছে লোকটার কপালে?
সুমা আপুর স্বামীও কী এদের নির্যাতনের স্বীকার হবে?নাকি সে হবে উপযুক্ত কেউ এদের জন্য?
কেমন হবে এই কবির ভাই?
সন্তান হিসেবে শুন্য তুমি,স্বামী হিসেবে কলঙ্ক,মানুষ হিসেবে অভিশাপ তুমি,এবার পিতা হয়ে কুৎসিত হইয়ো না।
তাহলে বিলীন হয়ে যাবে তুমি।
Share On:
TAGS: নাদিয়া আফরিন, প্রিয়তার পূর্ণতা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রিয়তার পূর্ণতা পর্ব ১৪
-
প্রিয়তার পূর্ণতা পর্ব ১১
-
প্রিয়তার পূর্ণতা পর্ব ৪
-
প্রিয়তার পূর্ণতা পর্ব ৬
-
প্রিয়তার পূর্ণতা পর্ব ৭
-
প্রিয়তার পূর্ণতা পর্ব ১২
-
প্রিয়তার পূর্ণতা পর্ব ৫
-
প্রিয়তার পূর্ণতা গল্পের লিংক
-
প্রিয়তার পূর্ণতা পর্ব ১০
-
প্রিয়তার পূর্ণতা পর্ব ১০