জেন্টাল_মনস্টার
লামিয়ারহমানমেঘলা
পর্ব_৫০
[ 🚫কপি করা সম্পূর্ণ কঠোর ভাবে নিষেধ ]
মস্কো শহরে ভোর, ধীরে ধীরে জেগে ওঠা এক শান্ত স্বপ্নের মতো।
রাতের নীরবতা তখনো পুরোপুরি ভাঙেনি। আকাশের গাঢ় নীল রং একটু একটু করে হালকা হতে থাকে, যেন কেউ আস্তে আস্তে আলো মিশিয়ে দিচ্ছে। ঠান্ডা বাতাসে একটা শীতল ছোঁয়া থাকে, যা গায়ে লাগলে মনে হয় প্রকৃতি নিজেই আপনাকে জাগিয়ে তুলছে।
দূরের রাস্তা দিয়ে মাঝে মাঝে গাড়ি চলে যায়, কিন্তু তাতে কোনো কোলাহল নেই, সবকিছুই খুব শান্ত, খুব ধীর। গাছের পাতায় জমে থাকা শিশির ভোরের আলোয় চিকচিক করে, যেন ছোট ছোট মুক্তোর মতো ঝলমল করছে।
সূর্যের প্রথম আলো যখন ধীরে ধীরে শহরের পুরোনো দালান আর গির্জার গম্বুজে পড়ে, তখন মস্কো শহরটা এক অন্যরকম রূপ নেয়। মনে হয়, নতুন একটা দিন শুরু হচ্ছে, নতুন আশা, নতুন গল্প নিয়ে।
এই ভোরে মস্কোকে দেখলে মনে হয়, ব্যস্ততার শহরটাও মাঝে মাঝে থেমে গিয়ে নিজের সৌন্দর্যটা নিঃশব্দে প্রকাশ করে।
সকাল সকাল জানালার পর্দা ভেদ করে আলো সরাসরি আদ্রিসের চোখের উপর এসে পড়ে। এক রাস বিরক্তিতে চোখ কুঁচকে নেয় আদ্রিস।
বিরক্ত স্বরে বিরবির করে কিছু একটা বলে। কিন্তু সেটা সামনে থাকা আদ্রিতার কানে যায় না।
আদ্রিতা আজ একটা লাল শাড়ি পরেছে। কাল মিসেস মিহুর কাবার্ড থেকে নিয়ে এসেছিলো। মায়ের শাড়ি পরার বড্ড শখ করেছে তার।
তাই সকাল সকাল গোসল সেরেই আদ্রিতা শাড়ি খানা পরে নিয়েছে।
ভোরের সোনালি রোদে আদ্রিতার উন্মুক্ত কোমড় শহ হাত দুখানা উজ্জ্বল হয়ে উঠছে।
সে সাথে শাড়িতে থাকা জারি সুতার কাজ গুলোও চিকচিক করছে।
এত গুলো আলো চোখের উপর এসে পড়ায় আদ্রিস এবার বিরক্ত হয়ে চোখ খুলে তাকায়।
তবে চোখ খুলে তাকাতেই ভেতর থেকে আত্মাটা যেন বেরিয়ে গেলো তার।
আদ্রিতার লম্বা চুলের নিচ থেকে চুইয়ে চুইয়ে পানি পড়ছে।
আদ্রিতা নিজের চুলটা ঝটকা দিলো। সেই ঝটকায় পানি কনা গিয়ে আদ্রিসের মুখের উপর পড়লো।
আদ্রিস একটা শুঁকনো ঢোক গিলে।
সে ঘাবড়ে গিয়েছে। সেই সাথে ঘামছে।
আদ্রিসের কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম পরিলক্ষিত।
এই প্রথম আদ্রিসের কথাও ভেঙে ভেঙে গেলো,
“আ আদ্রিতা। হ হোয়াট আর ইউ ডোইং?”
আদ্রিতা চোখ তুলে তাকায়। কানের কাছে থাকা ভেজা চুল গুলো কানের পিছে গুঁজে দিয়ে ঠোঁট উল্টে জিজ্ঞেস করে,
“শাড়ি ঠিক আছে? বুঝতেছি না। বলুন না। ঠিক আছে শাড়ি?”
আদ্রিস, তাখনো হা হয়ে তাকিয়ে আছে। আদ্রিতা নিজেও জানেনা সে নিজ অজান্তেই আদ্রিসকে ঠিক কি মুসিবতে ফেলে দিয়েছে।
আদ্রিসকে কোন উত্তর দিতে না দেখে আদ্রিতা, আদ্রিসের দিকে তাকায়।
আদ্রিস তখনো অপলক দৃষ্টিতে আদ্রিতার দিকে তাকিয়ে আছে।
আদ্রিতা এগিয়ে যায়।
“কি হয়েছে?”
আদ্রিতার এই নিষ্পাপ প্রশ্নে আদ্রিসের গলা শুঁকিয়ে আসছে। আদ্রিস হেঁচকা টানে আদ্রিতাকে নিজের কোলে ফেলে।
আদ্রিতা পিটপিট করে তাকায়।
আদ্রিস নিজের নিচের ঠোঁট লিক করে,
“ডার্লিং, তোর মাথায় কি চলছে? “
অদ্ভুত প্রশ্ন শুনে আদ্রিতা ভ্রু কুঁচকে তাকায়,
“কি চলবে?”
“সকাল সকাল শাড়ি পরেছিস কেন?”
“আম্মুর শাড়ি, পছন্দ হয়েছে তাই পরেছি। কেন ভালো লাগছে না?”
আদ্রিস চোখ বন্ধ করে নেয়। সে নিজের ভেতর কঠিন পরিবর্তন লক্ষ করছে।
আদ্রিস নিজের ঠোঁট কামড়ে বলে,
“একটু বেশিই সুন্দর লাগছে এটাইত সমস্যা রে।”
আদ্রিতা ভ্রু কুঁচকে তাকায়।
আদ্রিস, আদ্রিতার গাল দু’টো চেপে ধরে নিজের দিকে ফেরায়। এরপর চুমু খায় শব্দ করে।
কিছুক্ষণ পর আদ্রিস সরে আসে।
আদ্রিতা তখনো চোখ বন্ধ করে রেখেছে।
আদ্রিস আর কিছু বলবে তার আগেই ফোনটা বেজে উঠলো।
আদ্রিস ফোন হাতে নিয়ে রেভেনের নাম্বার দেখে কলটা পিক করে,
“হ্যালো।”
“বস আমি মেনশনের বাইরে।”
“কেন? ভেতরে আয়৷”
“বস আপনি রেডি হয়ে বের হন। আর কিছু সময় বাকি মিটিং এর৷”
“আমি জাস্ট ঘুম থেকে উঠেছি। আমার সময় লাগবে ভেতরে আয়৷”
“ওকে বস৷”
আদ্রিস, কল কেটে আদ্রিতার দিকে তাকায়।
এরপর, আদ্রিতার ঘাড়ে চুমু খায়।
“যা ব্রেকফাস্ট রেডি কর৷”
“ওকে৷”
আদ্রিস কথাটা বলে ওয়াসরুমে চলে যায়।
He needs to fix himself.
প্রিয়া আজ একটু সকাল সকাল রুম থেকে বেরিয়েছে। সকাল সকাল বললে ভুল হবে সে সারাটা রাত দু চোখের পাতা এক করেনি।
বেশ কান্না করেছে। চোখ ফুলেছে তার।
গত পর্শু থেকে রেভেন কল ধরছে না তার।
ভেতরটা ফেটে একখানা চিৎকার করতে পারলে ভালো লাগত প্রিয়ার।
প্রিয়া হেঁটে নিচে আসে। কিচেনে গিয়ে এক কাপ কফি বানাবে।
প্রিয়া নিচে আসে যখন ঠিক তখনি অপর পাশ থেকে সদর দরজা পেরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে রেভেন।
প্রিয়া, রেভেনকে দেখে থমকে দাঁড়ায়।
এক সেকেন্ডের জন্য তার মনে হচ্ছিলো সে স্বপ্ন দেখছে।
তবে রেভনকে হেঁটে আসতে দেখে প্রিয়া বুঝে এটা স্বপ্ন না রেভেন সত্যি আসছে।
ওর পরনে একটা ব্লাক লেদার কোট তার নিচে সাদা গেঞ্জি। আর একটা জিন্স প্যান্ট পরনে।
প্রিয়া আর নিজেকে সামলে রাখতে পারলো না।
সে দৌড়ে গিয়ে রেভনকে জড়িয়ে ধরে।
রেভেন প্রথম প্রিয়াকে খেয়াল করেনি।
তবে হুট করেই প্রিয়া ওর বুকের উপর গিয়ে পড়েছে।
রেভেন সময় থাকতে প্রিয়াকে ধরে ফেলেছে নাহলে মেয়েটা পড়ে যেত।
প্রিয়া শক্ত করে রেভনকে জড়িয়ে ধরে কান্না করে দেয়।
“কোথায় ছিলেন আপনি? কেন ফোন ধরছেন না আমার? কি দোষ করেছি আমি? এভাবে কেউ কাউকে কষ্ট দিতে পারে? খুব পাষাণ আপনি খুব খুউব।”
প্রিয়া অভিযোগ করছে চোখ বন্ধ করে।।
ওদিকে শিড়ি বেয়ে নামছে কেউ। সেই শব্দ পেয়ে রেভেন দ্রুত প্রিয়াকে নিয়ে দেয়ালের আড়ালে লুকায়।
আদ্রিতা চোট পায়ে নিচে নেমে দেখে কেউই নেই।
আসলে সে প্রিয়ার কান্নাট শব্দ শুনেছে। তবে দুরত্ব হওয়ায় ঠিক ভালো করে শুনতে পারেনি পুরোটা।
আদ্রিতা নিচে নেমে কাউকে না দেখে ভাবে তার শোনার ভুল।
তাই সে কিচেনের দিকে চলে যায়।
রেভেন, আদ্রিতা কে কিচেনে যেতে দেখে প্রিয়ার মুখ থেকে হাত সরায়।
প্রিয়া তার দিকেই তাকিয়ে আছে ছলছল দৃষ্টিতে,
“রিলাক্স। কাঁদছো কেন?”
“আপনি ফোন ধরেন না কেন?”
“আই ওয়াজ ডিসটার্ব প্রিয়া।”
প্রিয়া সরে আসে রেভেনের থেকে।
“সরি।”
রেভেন শান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে প্রিয়ার দিকে।
মেয়েটার তার জন্য কতটা কান্না কাটি করেছে রেভেন বেশ ভালোই বুঝতে পারছে।
রেভেনের পুরোটা রাগ পানি হয়ে গেলো এক মিনিটে।
সে প্রিয়াকে জড়িয়ে ধরে প্রিয়ার মাথায় চুমু খায়।
“রিলাক্স প্রিয়া রিলাক্স।”
প্রিয়া কিছুক্ষণ শান্ত হয়ে সেভাবেই পড়ে থাকে রেভেনের বুকে।
কিছুক্ষণ নীরবতা কাটিয়ে প্রিয়া নিজেকে শান্ত করে।
রেভেন, প্রিয়ার চোখ মুছিয়ে দেয়।
“আমি রাগ করে নেই প্রিয়া। আমি জাস্ট নিজেকে প্রসেস করতে সময় দিয়েছি৷”
প্রিয়া মাথা নুইয়ে নেয়। রেভেন প্রিয়ার গাল দু’টো ধরে উচু করে,
“তুমি রাতে কেঁদেছো?”
“ত কি করব?”
রেভেন অবাক হয়। সে নিচু হয়ে প্রিয়ার দু গালে চুমু খায়।
“সরি, আমার জন্য কষ্ট পেয়েছো এত দিন।”
“আই লাভ ইউ।”
“আই লাভ ইউ টু৷”
ব্রেকফাস্ট টেবিলে সবাই বসে।
রেভেন,প্রিয়ার পাশে বসে।
সায়েরকে দেখে বোঝা যাচ্ছে চোখে তার ঘুম তাকে হয়ত জোরপূর্বক উঠিয়ে আনা হয়েছে।
মিসেস মিহু, সায়েরের দিকে তাকিয়ে বলে,
“তোর ঘুম কাটেনি সায়ের?”
“না৷”
“তাহলে চজ অফিস স্কিপ কর৷”
সায়ের নড়েচড়ে বসে,
“বাংলাদেশ যাওয়ার শখ মেটাচ্ছি মম। স্কিপ করতে পারলে আমি এখন ঘুমাতাম৷”
কথাটা বলে সায়ের খাবারে মনোযোগ দেয়।
মিরা তা দেখে মৃদু হাসে।
সায়ের, মিরাকে হাসতে দেখে মিরার উরুতে হাত রাখে।
মিরার চোখ বড় বড় হয়ে যায়।
সে সায়েরের দিকে তাকায়।
সায়ের জুসে চুমুক দিয়ে বলে,
“খাচ্ছো না কেন?”
মিরা নিচের দিকে তাকায়।
সায়ের বাঁকা হেসে মিরার উরুতে হাত ঘোরায়।
মিরার গলায় খাবার আঁটকে যায়।
সায়ের নিজের জুসটা মিরাকে দেয়।
“রিলাক্স মিরা ধিরে সুস্থে খাও। “
আদ্রিস, একবার মাথা তুলেই বুঝে গেলো মিরার কি হয়েছে। সে হেসে আবার খাবারে মনোযোগ দেয়।
চলবে?
[ ছোট ছোট বলে চিল্লাবানা।
তোমাদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে সে কাল সারাটা রাত আমি ভয়ঙ্কর রকমের অসুস্থ ছিলাম]
Share On:
TAGS: জেন্টাল মনস্টার, লামিয়া রহমান মেঘলা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ৫
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ১৪
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ৩
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ৬
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ১৯
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১৮
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ৩
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ৬
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ১৩ [ রহস্য সমাধান -০১]