Golpo romantic golpo প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা

প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ৩৪


প্রণয়ের_মায়াতৃষ্ণা ||৩৪||

ফারজানারহমানসেতু

রোজা সকালে ওষুধ খেয়ে ঘুমিয়েছে। এখন দুপুর থেকে বিকেল হতে চলল। তূর্জানও রোজা ঘুমানোর পরে বাড়ি থেকে বেরিয়েছে এখনো ফেরেনি। তুবা গিয়ে রোজাকে ডাকল, তবে সাড়া না পেয়ে কাঁথা টেনে কপালে হাত ছোয়াতেই চমকে উঠল। যে মেয়ে সকালে ও ভালো ছিল হঠাৎ তার জ্বর এলো কি করে। তুবা রোজাকে ডেকে সাড়া না পেয়ে তূর্জানকে কল করল। তবে তূর্জানের কল রিসিভ হলো না ।

পুনরায় আবার কল করতেই তূর্জান বলল,“কি সমস্যা বনু , আমি তো বলে এসেছি বাবার মিটিং আজকে আমি এটেন্ড করছি। তাও বারবার ফোন দেওয়ার মানে কি? আমি একটা জরুরী একটা মিটিংয়ে আছি।”

“ভাইয়া রোজার জ্বর এসেছে। “

কথাটা কর্ণকূহরে পৌছাতেই তূর্জান চিন্তিত কণ্ঠ প্রশ্ন করল,”কখন? “

“জানিনা, তুমিই তো ডাকতে নিষেধ করে গেলে। তবে এখন ডাকতে গিয়ে দেখি জ্বর এসেছে।”

ওপাশ থেকে ফোন কেটে গেল।তূর্জান মিটিংয়ে বসেছে মাত্র। লম্বা আকৃতির টেবিলে তূর্জানসহ সব ওয়ারকাররা বসে আছে। মিটিং শুরু হবে সেই প্রতিক্ষায় । তবে হঠাৎ তূর্জানকে উঠতে দেখে একজন বলল,

“ স্যার এনিথিং ইজ রং? “

তূর্জান কোনো কথা বলল না। উঠে চলে যেতে নিলে একজন বলল,

“স্যার কিছুক্ষনের মধ্যেই মি.চার্লস চলে আসবে।আপনার বাবার স্বপ্নের ডিল এটা,
আর সময়মতো মিটিং না হলে আপনার বাবার এতোদিনের ইচ্ছা, স্বপ্ন দুটোই নষ্ট হয়ে যাবে। হঠাৎ কোথায় যাচ্ছেন স্যার ? “

কোনো কথা না বলে কটাক্ষ শুরে বলল,“আই ডোন্ট কেয়ার,মিটিং ক্যানসেল করো।”

“ স্যার আপনার বাবার অনেক টাকার প্রজেক্ট লস হয়ে যাবে। “

“ তোমাকে চিন্তা করতে হবে না। ক্ষতি পূরণ আমি দিয়ে দিব। “

বলেই দৌড়ে অফিস থেকে বেরিয়ে গেল। হঠাৎ এমন রাগী,বদমেজাজি, মানুষটা কার খবর পেয়ে ছুটে গেল তা নিয়ে কেউই অবগত নয়। তবে এটুকু বুঝল, আপন কেউ, নয়তো এই অল্প কয়দিনে তূর্জান নেওয়াজ সম্পর্কে সবাই যা শুনেছে আর যা দেখেছে, তাতে এমন বিহেভ করা লোক তূর্জান নেওয়াজ না।

—-

তুবা রোজাকে বেডে হেলান দিয়ে বসাল। তবে রোজা এখনো চোখ বন্ধ করে আছে। জ্বরের প্রকোপ এতটাই বেশি যে তাকাতে পারছে না। তুবা রোজাকে খাবার খাওয়াতে গেলে রোজা বলল,

“খাবোনা। “

“একটু খেয়ে মেডিসিন খেয়ে নে, ভালো লাগবে।”

“উহু, খাবো না। বাবারা কখন আসবে?”

“ বলেছে চলে আসবে। রাত হতে পারে। চিন্তা করবে তাই তোর জ্বরের কথা বলিনি। কাকুমনি শুনলে তো একেবারে হুল্লোড় বাধিয়ে দিবে। “

“ ভালো করেছিস, জানাসনি। এখন আমার কিচ্ছু ভালো লাগছে না। বিরক্ত লাগছে সব।“

বলতেই রুমে ঢুকলো তূর্জান। তূর্জানকে দেখে রোজা কাঁথা টেনে মুখ ঢেকে নিল। কিছুতেই সে কথা বলবে না। কি দরকার ছিলো ওতো সকালে গোসল করানোর। তাও একঘন্টার মতো সময় ধরে। এখন জ্বর এসেছে তো। খুশি নিশ্চয় খুব। নয়তো সকালের পর থেকে একবারও দেখতে এলো না রোজা কেন উঠছে না। কিছুতেই কথা বলবে না। তুবা খাবার প্লেট রেখে তূর্জানকে বলল,“ভাইয়া ওকে খাবার খাইয়ে দিও। ও এখনো দুপুরের খাবার খায়নি। আর তাই হয়তো জ্বরের ঘোরে আবল তাবল বকছে।”

বলেই রুম থেকে বেরিয়ে গেল। রোজা ছোট থেকেই এমন, জ্বর এলেই কি বলে না বলে ঠিক নেই। কখনো বলে, আকাশ থেকে পানির ফোটা পাথর হয়ে তার গায়ে পরছে, তো কখনো বলে, একটা ছোট জিনিস চোখের সামনে এতোবড়ো হয়ে যাচ্ছে। আবার কখনো ছোট জিনিস গায়ে পরলেও অনেক ভারি লাগে। “ ( এগুলো সত্যিই হয়, শরীর দুর্বল হলে। আবার কেউ পাগল বলো না )

তূর্জান রোজাকে মুখ থেকে কাঁথা সরাতে বলল। রোজা আরো মুখ ঢেকে নিল। তূর্জান এবার কাঁথা টেনে নিচে ফেলে দিল। রোজা জ্বরের প্রকোপে শীতে কাপছে। তবে কাঁথা টান দিতেই রোজার ফর্সা উ’দ’র ভাসমান। টপস কিছুটা উপরে উঠে গেছে। রোজা তড়িৎ গতিতে অন্য পাশ ফিরল। তূর্জান রোজার পাশে বসল। রোজা শীতে এখনো কাপছে দেখে তূর্জান কাঁথা রোজার গায়ে দিয়ে রোজাকে নিজের উরুতে বসাল। রোজার কপাল ঠেকল তূর্জানের বুকে। তূর্জানের শরীর ঝাকুনি দিয়ে উঠল। শার্টের উপর থেকেই রোজার জ্বর অনুভব করল। গা জ্বরের প্রকোপে পুরে যাচ্ছে। তূর্জানের শরীর থেকে আবার সেই Roja Perfums Haute Luxe পারফিউমের গন্ধ রোজার নাক ছেদ করল। তবে উষ্ণতা অনুভব করে তূর্জানের বুকে মাথা ঠেকিয়ে বসে রইলো।

রোজা এখনো চুপ আছে। জ্বরের ঘোরে এখনো জেদ কমেনি। সে কিছুতেই কথা বলবে না। তূর্জান ড্রয়ার থেকে থার্মোমিটার বের করে রোজাকে হা করতে বলল। রোজা মুখ না খুলে চুপ করে বুকে মাথা গুজে বসে রইলো। তূর্জান রাগী স্বরে বলল,“হা কর, স্টুপিড।”

“(…)”

“কি হলো, হা কর জ্বর চেক করব।”

“(…)”

“স্টুপিড, হা কর! নয়তো এক আছাড় মারব।”

তূর্জানের বুকে লেপ্টে থেকেই রোজা ফুফিয়ে কেদে উঠল। তূর্জান রোজার মুখ দুহাতের আঁজলায় নিয়ে নরম সুরে সুধাল,“কি হলো কাদছিস কেন?”

রোজা কেদে ফর্সা মুখ লালচে হয়ে গেছে। নাক টানতে টানতে বলল,“আপনি শুধু আমাকে বকেন। কই আর কাউকে তো বকেন না। আমি কি খুব খারাপ? “

বলেই তূর্জানের বুকে মাথা ঠেকিয়ে দুহাত দিয়ে তূর্জানের পিঠ জরিয়ে ধরল। তূর্জান বেশ বুঝতে পারল জ্বরের ঘোরে এসব বলছে। তূর্জান রোজাকে সোজা করতে গেলে আরও তূর্জানকে দুহাত দিয়ে শক্ত করে ধরল।মিনমিনিয়ে বলল,
“একটু থাকি না প্লিজ,খুব শীত করছে। নয়তো শীতে মরে যাবো। তখন বকবেন কাকে? মরা মানুষকে কি বকা যায়? আমি তো..“

থেমে গেল রোজা। তূর্জানের বুকের ভিতরে উত্তাল নৌকায় থাকা একা এক অসহায় মানুষের মতো শুন্যতা অনুভব করলো। জ্বরের ঘোরেও এই মেয়ে তূর্জানের বুকে তীর ছুড়ল। সে কি জানে, তাকে ঘিরেই তূর্জন নেওয়াজ বেচে থাকে। একটুখানি আশায় কবে তার মতো রোজাও অনুভব করবে তূর্জানকে, তূর্জানের ভালোবাসাকে।

তূর্জান আলতো হাতে ওভাবেই রোজার মুখে থার্মোমিটার দিল। কিছুক্ষন বাদে বের করে দেখল জ্বর ১০৪°সেলসিয়াস। থার্মোমিটার রেখে রোজাকে ডাকল। তবে রোজা এখন একদম তূর্জানের শরীরের সাথে মিশে রয়েছে। রোজা গুনগুন করে কি যেন বলছে। তা দেখে তূর্জান রোজার ঠোঁটের কাছে নিজের কর্ণ দিতেই শুনতে পেল। রোজা বলছে, “আপনি শুধু আমায় বকেন, আর কাউকে বকেন না। সবাইকে ভালোবাসেন, আমাকে একটুও ভালোবাসেন না, একটু না। আমি কিছুতেই আপনার সাথে কথা বলব না।”

তূর্জান কথাটা শুনে মুচকি হাসল। তবে এ হাসিতে মনে হলো বহু পুরোনো আঘাত ভুলার হাসি। তবে তা তার প্রিয়তার অগোচরে রয়ে গেল। তূর্জানও রোজার মুখপানে চেয়ে বলল,

“সবাই তো আর আমার বুকের বামপাঁজর নয়, যে সবাইকে বকবো, রাগ দেখাবো। তবে তুই আমার বুকের বামপাঁজর।তাহলে কেন অন্যের ছোঁয়া তোর শরীরে আমি সহ্য করবো? জানিস ভীষণ কষ্ট হচ্ছিলো, যখন ডেলিভারি বয়ের ছোঁয়া তোর হাতে লেগেছিলো, কেন এমন তীব্র হিংসা হচ্ছিলো আমি জানিনা! “

একটু থেমে আবার বলল, “ভালোবাসা বুঝি এতোই সহজ, আমি তো তোর স্বপ্ন পূরনেই তোর থেকে দূরে পারি জমিয়েছিলাম। তবে তুই কেন সেই পোড়া ক্ষতকে আবার আঘাত করলি। কেন আমার স্মৃতি তোর মস্তিষ্কে নেই রোজা? আমি কি খুব বড় ভুল করেছিলাম সেদিন। তবে সেদিন ভুল করলেও তোকে বলে আমি যেতে পারতাম না। তুইই বল, হৃদপিন্ড রেখে যেতে যেখানে কষ্ট হচ্ছিলো, সেখানে হৃদপিন্ডের চোখে ঝরা পানি কিভাবে দেখে চলে যেতাম। আমি তোর কারণে যতটা দহন হয়েছি, হচ্ছি , বিশ্বাস কর তুই ও ঠিক তার থেকে বেশি দহনে পুড়বি। আমার ভালোবাসার দহনে আমি তোকে পুড়াবো। ভীষণ করে পুড়াবো। ভালোবাসা এত সহজ না। তবে আমার বামপাঁজরকে আমি ভীষণ ভালোবাসি, তার সবটুকু কে আমি ভালোবাসি, তার পাগলামো, কান্না, হাসি, রাগ, অভিমান, অনুরাগ, সবকিছুকে ভালোবাসি। আর যে কারোর এইসবকে ভালোবাসে সেই রাগ দেখানোর অধিকার রাখে।”

বলতেই তুবা ডক্টর নিয়ে রুমে প্রবেশ করল। এই মহিলায় এতদিন যাবৎ রোজার চিকিৎসা করছেন। ততক্ষনে তূর্জান ঠিক হয়ে বসেছে। তবে রোজা এখনো তূর্জানের বাহুডোরে আবদ্ধ । ডক্টর এসে বলল,“ওকে বেডে শুইয়ে দিন।”

তূর্জান রোজাকে শোয়াতে গেলে রোজা আর ও শক্ত করে তূর্জানকে জড়িয়ে বুকে মাথা রাখল, মানে সে বেডে শুতে চায়ছে না । তা দেখে ডক্টর বললেন, “আপনি ওনাকে ধরে রাখুন আমি এভাবেই চেকাপ করছি। কিন্তু হঠাৎ এমন জ্বর, ওর তো ঠিক নয়বছর আগেই এমন জ্বর হয়েছিলো।”

ডক্টর এসে রোজাকে চেকাপ করে বলল,“রোজার কান্ডিশন ভালো লাগছে না। হঠাৎ জ্বর, বাড়িতে আর কেউ নেই, থাকলে মাথায় জলপট্টি দিতে বলুন। আস্তে আস্তে কমে যাবে।”

বলেই ডক্টর বেরিয়ে গেলেন। প্রেসক্রিপশন নিয়ে তূর্জান বেরতে গেলে তুবা বলল, “ভাইয়া আমাকে দাও, আমি নিয়ে আসছি।”

“কিন্তু এখন বাইরের অবস্থা ভালো না।”

“সমস্যা নেই, তাছাড়া ফার্মেসী ও বেশি দূরে নয়। তুমি বরং রোজাকে দেখে রেখো। আমি এক্ষুনি নিয়ে আসছি।”

“ সাবধানে, তুবা। “

“হুমম “ বলেই তুবা ওষুধ আনতে চলে গেল। তুবার আজ ভীষণ খুশি লাগছে। কতদিন পর ভাইয়া তাকে নাম ধরে ডেকেছে। সেই ছোটবেলা, দশবছর আগে হয়তো তূর্জানের মুখে নিজের নাম শুনেছিলো। ভাবনার মাঝেই হাতে টান অনুভব করল। একটা ছেলে তাকে টেনে ধরেছে বুঝতেই কষে থাপ্পড় দিতে গেল।

তবে ভাবনার ছেদ ঘটল, ঘটনা বুঝতে পেরে। ভাইয়ার বলা কথা ভেবে সে আবেগে আপ্লুৎপাত হয়ে এখনি গাড়ির নিচে চাপা পড়তো। ভাগ্যিস লোকটা তাকে বাচিয়ে নিল। কিন্তু এ এমন মাস্ক পড়ে আছে কেন তাই বুঝল না। নিশ্চয় হাপানির রোগি, ধুলোতে শ্বাসকষ্ট হয় তাই রাস্তায় মাস্ক পরে আছে। “ এইযে মিস, দেখে চলতে পারেন না। একটু হলেই তো…”

“ সরি, আসলে…থেমে বলল, “ এই আপনার তো হাত ছিলে গেছে। “

এতক্ষনে ছেলেটি খেয়াল করলো, আসলেই তার হাত কিছুটা ছিলে গেছে। হয়তো তুবার হাত ধরে টান দিতে গিয়ে হাত গাড়িতে একটুখানি লেগেছিলো। চলন্ত গাড়িতে হাত লাগায় এমনটা হয়েছে। তুবা নিজের পার্স থেকে একটা মেয়েলী রুমাল বের করে লোকটার হাতে পেচিয়ে দিল। সাথে কিছু টাকা দিয়ে বলল, “ সরি, আমার জন্য আপনার হাত কেটে গেছে। এই টাকা টা রাখুন ডাক্তার দেখিয়ে নিবেন। “

কি মনে করে লোকটা টাকা নিয়ে তার ওয়ালেটে রেখে দিল। যদিও তুবা অবাক হয়নি। তার জন্য কেটেছে এটার একটুখানি শোধ তো হলো। কেউ কাউকে হেল্প করলে তা শোধ করা সম্ভব না। তুবা বলল, “ আসলে আমি…

“ হুমম, আসলে আপনি কিছু একটা ভাবছিলেন তাইতো, জানি। আসলে এক্সিডেন্ট করার সময় সবাই বলে সে কিছু একটা ভাবছিলো। “

তুবা অবাক এই লোক নাহয় তার জীবন বাচালো, ঠিক আছে। তাই বলে মাথা কিনে নিয়েছে না কি? একটা মেয়েকে রাস্তায় পেয়ে যা নাই তাই বলছে। তুবা বলল, “ আপনার মাথায় সমস্যা। ডাক্তার দেখিয়ে নিবেন। আর হ্যাঁ ,থ্যাংকস, জীবন বাচানোর… “

কথা শেষ হওয়ার আগেই ছেলেটি বলল, “আচ্ছা, ডাক্তার দেখিয়ে নিবো। ভাবছি আজ আর যাবো না। সাতদিন মতো পরে যাই ডাক্তারের কাছে? “

“ অদ্ভুত লোক তো আপনি। আপনি কবে ডাক্তার দেখাবেন তা আমাকে বলছেন কেন? নাকি রাস্তাঘাটে সবাইকেই বলেন?“

ছেলেটি ভাবনার অভিনয় করে বলল, “ না সবাইকে তো বলি না। আসলেই তো আপনাকে বলছি কেন? ভুল হয়ে গেছে! তবে আসি বায়। নিজের খেয়াল রাখবেন, আমার মতো সবাই উদার মনের না যে আপনাকে বাচানোর জন্য নিজের জীবন দিতে যাবে।”


রোজা এখনো বিরবির করছে, তবে এবার জোর করেই রোজাকে বেডে শুইয়ে দিয়ে মাথায় জলপট্টি দিতে থাকল তূর্জান । তুবাও নিচে থেকে ওষুধ নিয়ে এলো। তূর্জান রোজাকে জোর করে কয়েক লোকমা ভাত খাইয়ে দিল। তারপর মেডিসিন খাইয়ে দিল। রোজা জ্বরের ঘোরেই খাবার খেয়ে মেডিসিন খেলো, তবে তূর্জানের একহাত এখনো ধরে রেখেছে।

তূর্জান রোজাকে শুইয়ে কাঁথা গায়ে দিয়ে তূর্জান নিজের রুমের উদ্দেশ্য পা বাড়াতেই রোজা শক্ত করে তূর্জানের হাত ধরে বলল, “থেকে যান এখানে, আমার ভীষণ ভয় করছে। মরে যাবো আমি ।”

বলতেই তূর্জান ফিরে তাকাল। রোজা এখনো শীতে কাপছে। তূর্জান পুনরায় এসে রোজার পাশে বসল। রোজা কাছে উষ্ণতা পেতেই তূর্জানের উরুতে মাথা উঠিয়ে দিল। তূর্জান চুপ করে তার বোকাপাখির কান্ড দেখছে। যে মেয়ে জেগে থাকলে নিজ ইচ্ছায় তূর্জানের কাছে ঘেষে না সে জ্বরের ঘোরে কেমন তূর্জানের কাছে উষ্ণতা খুজছে।এমনটা যদি সারাজীবনের জন্য হয়ে যেত। হবে সেটা তূর্জানও জানে, তবে আর কত অপেক্ষা করবে।

অপেক্ষার প্রহররা যে ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছে। ঘুমন্ত রোজার দিকে তাকিয়ে বিরবিরালো তূর্জান, “ একটা ভুলের জন্য এতটা সাফার করতে হবে জানলে, সেদিন নিজের কষ্টের কথা ভাবতাম না। তখনকার বুকের ক্ষতের চেয়ে এখনকার ক্ষতই বেশি কষ্ট দিচ্ছে। তখন দূরে থেকে পুড়েছি, এখন কাছে থেকে পুড়ছি। তখন ভেবেছি দেশে ফিরে সব অভিমান ভেঙে দিবো। এখন ফিরে এসে অভিমানই পেলাম না। তোকে নিজের একান্ত কেউ ভেবে ধরতেও পারছি, না ছুঁতেও পারছি। এতটাও যন্ত্রনা না দিলে পারতি বউ! “

ইনশাআল্লাহ চলমান…

আচ্ছা রোমান্টিক হয়েছে না ইমোশনাল বুঝতে পারছি না। 🤭 একসঙ্গে দুটোর মিক্সড। হঠাৎ তূর্জানকে শেষ করতে মন চাচ্ছে না। মনে হচ্ছে শ খানিক পর্ব লিখি
তূর্জান কে নিয়ে 😁।

📌 বিদ্র: এই পর্বে দুই ঘন্টার মধ্যে ৫০০+ রিয়েক্ট আর ২০০+ কমেন্ট হলে রাত ১১ টার আগে আরেকটা পর্ব দিবো গ্ৰুপে। হি হি জানি হবে না। তাই বললাম। যদি হয় সত্যি দিবো। তাড়াতাড়ি গ্ৰুপে জয়েন হও।

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply