নীভৃতেপ্রেমআমার_নীলাঞ্জনা
নাজনীননেছানাবিলা
পর্ব_৩৭
বিয়েস্পেশালপর্ব
অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষেধ ❌❌❌❌
বোনাস পর্ব দেওয়ার বদলে বড় পর্ব দিলাম তার জন্য দেরি হয়েছে।
মিহালের কথা শুনে তার মা, বাবা চমকে গেল। এমনিতেই ইসরাতুল মিনা মির্জা এক বড় চমক পেয়েছেন। নিজের ভাতিজিকে ফিরে পেয়েছেন যাকে ছোটবেলায় একবার দেখেছিলেন। উনার মাথায় কিছুই ঢুকছে না। মনে হচ্ছে এখনই মাথা ঘুরে পড়ে যাবেন।
নীলা এখনো নিজের ফুফুর বুকে মাথা রেখে শুয়ে আছে। আশেপাশে কে কি বলছে তার কানে যাচ্ছে না সেই শুধু তার ফুপুকে জড়িয়ে ধরে রেখেছে। তারও একটু শান্তি চাই। দিনশেষে সেও মানুষ। এই ঝামেলা ,সেই ঝামেলা সে আর এসব নিতে পারছে না। মাথা ভীষণ ব্যথা করছে।সেই সকালে হালকা খাবার খেয়ে ইউনিভার্সিটিতে এসেছিল তারপর একটানে ক্লাস করল। লাঞ্চ টাইমে কেবল কোল্ড কফি খেয়েছিল,তারপর তো আর কিছুই পেটে পড়েনি।আবার দৌড়াদৌড়ি করতে হয়েছে। এখন তার দেহ যেন আর চলছেই না। ঘুমাতে পারলে সে শান্তি পেত।
মিহালের প্রচুর ক্লান্তি লাগছে। হাত ব্যথার কারণে পাথরের মতন শক্ত হয়ে আছে যেন সে নড়াতে পারছে না। তার ওপর ঠোঁট কাটা এবং দৌড়ানোর কারণে পায়েও ব্যথা করছে। কিন্তু সে তার নীলাঞ্জনা কে নিয়ে আর কোন রিক্স নিতে চায় না। এবং সে তার সিদ্ধান্তে অটল। তাই আজকে ঝড় এসে পড়লেও সে তার নীলাঞ্জনা কে বিয়ে করেই ছাড়বে।
মা বাবার কাছে গিয়ে তাদের উদ্দেশ্যে বলল_
তোমরা যদি তোমাদের ছেলেকে বিশ্বাস করো এবং ভালোবাসো তাহলে আজকে আমার এবং নীলার বিয়েতে বাঁধা দিও না। হতে পারে আমার এবং নীলার বিয়ের মধ্যে দিয়ে দুই পরিবারের মিলন ফুটতে পারে।
মিহালের কথা শুনে তার মা এবং বাবা চিন্তিত হয়ে পড়লেন। প্রত্যেক মা-বাবারই নিজেদের সন্তানদের বিয়ে নিয়ে স্বপ্ন থাকে। সন্তান কিভাবে বিয়ে দিবেন,সেভাবে বিয়ে দিবেন, বিশেষ করে যাদের আর্থিক অবস্থা ভালো থাকে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় তারা ধুমধাম করে সন্তানের বিয়ের কথা চিন্তা ভাবনা করেন। তার উপর এখন পরিস্থিতিটা একদম ভিন্ন।তাও আবার একমাত্র ছেলে এমন একজন বিয়ে করতে চাচ্ছে যার সাথে তাদের যুগযুগান্তর কোনো রকমের সম্পর্ক নেই। এখন যদি হিতে বিপরীত ঘটে?
মিনা মির্জা নীলার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে নিজের ছেলের উদ্দেশ্যে বললেন__
যদি বিয়ে হয় শুধুমাত্র নীলার সম্মতিতে হবে। আমি চাইনা নীলা দুই পরিবারকে করতে গিয়ে নিজের অনিচ্ছায় বিয়ে করুক।
মিহালের ঠোঁট হাসি ফুটে উঠল। কারণ সে জানে নীলা আর যাই হোক না করবে না।
মিনা মির্জা নিজের বুক থেকে নীলার মাথা উঠিয়ে নীলার গালে আলতো করে হাত রেখে জিজ্ঞেস করলেন _
তোর কি মতামত মা?
নীলা দেরি না করে চটপট জবাব দিয়ে দিল_
আমার কোন অসুবিধা নেই কিন্তু আমি আমার পরিবারকে ছাড়া বিয়ে করব না।
সবাই নীলার দিকটা বুঝলো কিন্তু মিহালের ঠোঁটর হাসি আরো প্রসারিত হলো।সে ইকারর কাছে গিয়ে বলল_
নীলার ফোন তোমার কাছে তাই না?
ইকরা মাথা নেড়ে সায় জানাতেই মিহাল বলল __.
নীলার ফোন দিয়ে তার বাবাকে ভিডিও কল করে আমার কাছে দাও।
ইকরা বিন বাক্যে মিহালের কথা মতন কাজ করলো এবং নীলার ফোন দিয়ে নীলার বাবাকে ভিডিও কল দিয়ে মিহালের হাতে ধরিয়ে দিল।
সকালের নাস্তা খেয়ে সবেমাত্র ড্রয়িং রুমে বসেছেন নিলয় মির্জা, ইমরান মির্জা এবং আকাশ মির্জা। আজ শুক্রবার তাই অফিসে যেতে হবে না। ইরফান,আবির এবং ইবাদ তারাও ড্রয়িং রুমে বসে আছে। আরশি কাজের বুয়া দিয়ে মাথায় তেল মালিশ করাচ্ছে। আর বাড়ির গৃহিণীরা সবার জন্য চা বানাতে ব্যস্ত রান্না ঘরে।
হঠাৎ নিলয় মির্জার ফোনে কল আসার সাথে তিনি ভাইদের সাথে কথা বলা বন্ধ দিয়ে আগে ফোন বের করলেন পকেট থেকে। এবং যখন দেখলেন উনার মেয়ে কল দিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে মুখে হাসি ফুটে উঠলো উনার। সবার উদ্দেশ্যে বললেন_
এই নীলা কল করেছে সবাই চুপ করো।
সবাইর দৃষ্টি এখন নিলয় মির্জা দিকে। ইরফান নিজের জায়গা থেকে উঠে এসে চাচার পাশে বসলো শুধুমাত্র নীলাকে দেখার জন্য। এতক্ষণে বাড়ির গিন্নিরাও সবার জন্য চা নিয়ে এসে পড়েছেন। বলতে গেলে সবাই এখন ড্রয়িং রুমে একসাথে উপস্থিত।
নিলয় মির্জা কল ধরতেই নিজের মেয়ের জায়গায় একজন সুদর্শন যুবককে দেখলেন। ইরফান ফোনের স্ক্রিনে থাকা লোকটিকে দেখে থমকে গেল। মনে হচ্ছে তার সব প্ল্যান নষ্ট হয়ে গিয়েছে, এক অজানা ভয় এসে তাকে ঘিরে ধরেছে।
মিহাল নিলয় মির্জা কে দেখে সালাম দিয়ে বলল _
শশুর মশাই নিজের বোনের সাথে কথা বলুন।
বলেই ব্যাক ক্যামেরা করে নীলা এবং নিজের মাকে দেখাতে লাগল। নিলয় মির্জা এত বছর পর নিজের বোনকে দেখে থমকে গেলেন। হাত কাঁপতে লাগলো, এবং ফলস্বরূপ হাত থেকে ফোন নিচে পড়ে গেল ,চোখ দিয়ে অঝোরে পানি গড়িয়ে পরতে লাগলো।
সবাই ব্যস্ত হয়ে নিলয় মির্জার কাছে এলেন।ইমরান মির্জা নিলর মির্জার কাছে এসে জিজ্ঞেস করলেন _
ভাই কি হয়েছে তোর? কাঁদছিস কেন?
নিলয় মির্জা কান্না করতে করতে বললেন_
ফোনে ফোন মিনু।
সবার জন্য মনে হল তারা ভুল শুনছে। আর ইরফানের তো জান যায় যায় অবস্থা।আরিশ কিছুই বুঝতে না পেরে জায়গা থেকে উঠে এলো এবং এদিকে সবার মাঝখানে এসে দাঁড়ালো।
মিহাল চুপচাপ নিজের মায়ের কাছে গিয়ে মায়ের হাতে ফোন ধরিয়ে দিল। মিনা মির্জা কেবল একটি দেয়াল দেখতে পারছেন কিন্তু বাড়ির দেওয়ালটি খুব চিরো পরিচিত। আসলে ফোন মাটিতে পড়ে যাওয়ার কারণে ক্যামেরা উপরে উঠে আছে এবং শুধু মির্জা বাড়ির দেওয়াল দেখা যাচ্ছে। মিনা মির্জার এই দেওয়াল চিনতে অসুবিধা হলো না। ওনার চোখে পানি চলে এলো। কিন্তু এই পানি হলো সুখের চোখের পানি। কতগুলো বছর অপেক্ষা করেছিলেন নিজের পরিবারের সাথে কথা বলার জন্য, পরিবারের মুখ দেখার জন্য কত রাত জেগে কান্না করেছেন। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে আজ উনার ছেলে এবং ভাতিজির জন্য উনার সবচেয়ে বড় ইচ্ছে পূরণ হবে।
ইমরান মির্জা মাটিতে পড়ে থাকা ফোন তুললেন এবং ফোনের স্ক্রিনে যাকে দেখতে পেলেন তাকে দেখার জন্য তিনি প্রস্তুত ছিলেন না। দাঁড়ানো থেকে সোফায় বসে পড়লেন। উনি খুবই শক্ত মানুষ কিন্তু উনার চোখ থেকে পানি পড়তে লাগলো। আজ ২২, ২৩ বছর পর উনি নিজের বোনকে দেখছেন যাকে সবথেকে বেশি ভালবাসতেন। এবং উনার বোনের বুকে শুয়ে আছে ওনার সব থেকে ভালোবাসার, আদরের ভাতিজি।
ইমরান মির্জা নিজের ভাইদের সাথে মিলে কিছুদিন আগেই নিজের বোনের সাথে সম্পর্ক ঠিক করার সিদ্ধান্ত নিয়ে কথা বার্তা বলছিলেন। এবং তিন ভাইয়ের মতামত একই ছিল যে তারা তাদের বোনের সাথে সম্পর্ক ঠিক করবে। তিন ভাই মিলে প্ল্যান করেছিলেন যেহেতু নীলা প্যারিসে আছে তাই একদিন নীলাকে সারপ্রাইজ দিতে যাবেন প্যারিসে এবং সেখানে গিয়ে নিজের বোনকে খুঁজবেন। অথচ তাদের ভাতিজি আজকে তাদেরকে জীবনের অমূল্য সম্পদ ফিরিয়ে দিল।
আকাশ মির্জা ফোনে উঁকি দিতেই নিজের বোনকে দেখতে পেলেন এবং উনিও কেঁদে উঠলেন। বাড়ির গৃহিণীরা নিজেদের স্বামীদেরকে কান্না ভেঙে পড়তে দেখে ব্যস্ত হয়ে ফোন হাতে নিয়ে দেখলেন। এবং মিনুকে দেখতে পেয়ে তাদের চোখেও খুশির জল গড়িয়ে পরল। তারাও মেনু কে অনেক ভালোবাসতেন। কিন্তু পরিস্থিতির চাপে আজ সব নষ্ট হয়ে গেছে।
বাড়ির ছোট সদস্য রা কেউই কিছু বুঝতে পারছে না শুধুমাত্র ইরফান এবং আরশি বাদে। ইরফানের হাত পা ঠান্ডা হয়ে গিয়েছে। যদি তার ক্ষমতা থাকতো তাহলে সবকিছু ছেড়ে কোন এক জায়গায় লুকিয়ে থাকতো কিন্তু এটা সম্ভব না। আসলেই পাপ বাপকেও ছাড়ে। কে কখনোই চাইনি নীলা এবং মিহাল একজন আরেকজনের সাথে পরিচিত হোক। আজকে তার সবচেয়ে প্রিয় জিনিস বাস্তবে পরিণত হলো। কপাল গড়িয়ে ঘাম পড়তে লাগলো। মনে হচ্ছে এক্ষুনি মাথা ঘুরিয়ে পড়ে যাবে। আরশিরও ভয় করছে।
নিলয় মির্জা নিজেকে সামলিয়ে নিজের স্ত্রীর হাত থেকে ফোন নিলেন এবং বোনের দিকে তাকিয়ে কম্পিত কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলেন_
বোন তোর বড় ভাইকে কি ক্ষমা করতে পারবি?
মিনা মির্জা নিজের ভাইয়ের কথা শুনে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগলেন। উপস্থিত সবার চোখেই পানি। ইকরা নিজেও এই সব দেখে ইমোশনাল হয়ে পড়ল। মুনভি পকেট থেকে রুমাল বের করে ইকরা কে দিল।ইকার নিঃশব্দে মুনভির দেওয়া রুমাল নিয়ে নিল এবং চোখের জল মুছতে লাগল।
নীলা নিজের ফুফুকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য নিজের নরম তুলতুলে হাত দিয়ে ফুপুর চোখের পানি মুছিয়ে দিতে লাগলো। নিলয় মির্জা কেঁদে উঠলেন। অবশ্য মির্জা বাড়ির সবাই কাঁদছে। সবার মনে অনেক প্রশ্ন কিন্তু এখন প্রশ্ন থেকে বেশি প্রয়োজন বাড়ির মেয়ের সাথে সম্পর্ক ঠিক করা।
মিহাল বুঝলো এভাবে নিজের মা অথবা হবু বউয়ের হাতে মোবাইল রেখে দিলে এই জীবনে তার বিয়ে হবে না। কারণ ইমোশনাল সিন হয়তো কয়েক বছর চলবে। আপাতত সে তার নিলাঞ্জনা কে বিয়ে করে বউয়ের সেবা পেতে চায়। এমনিতেই বেচার অসুস্থ। তাই মায়ের হাত থেকে ফোন নিয়ে নিলয় মির্জার উদ্দেশ্যে ভদ্র সুরে বলতে লাগলো_
কেমন আছেন মেজ মামা।
নিলয় মির্জা চোখের পানি মুছে মুখে হাসি ফুটিয়ে তুলে বলতে লাগলেন_
বাবা তুমি তো দেখছি অনেক বড় হয়ে গিয়েছো। যখন নীলা হয়েছিল তখন হয়তো তোমার বয়স ১০ কি ১২ ছিল আর এখন। আর তোমার নাম মিহাল তাই না?
নিলয় মির্জা আর কিছু বলতে যাবেন তার আগেই মিহাল বলে উঠলো_
আমি মিহাল খান আপনার ভাতিজা এবং আপনার মেয়ের হবু জামাই। আশা করি এতোটুকু যথেষ্ট আমার পরিচয়ের জন্য।আর এখন আপনার মেয়েকে বিয়ে করার মত যথেষ্ট বয়স হয়ে গিয়েছি।
মিহালের কথা শুনে যেমন মির্জা পরিবারের চক্ষু চড়কগাছ তেমনি মিহালের মা-বাবা,নীলা,মুনভি,ইকরার তাদের চোখ বের হয়ে আসার উপক্রম। মেয়ের বাবাকে কেউ কখনো বিয়ের এমন প্রস্তাব দেয় এটা সবাই প্রথমবারে দেখলো।
ইমরান মির্জা যথেষ্ট বুদ্ধিমান ব্যক্তি। উনি নিজের ভাইয়ের হাত থেকে ফোন নিয়ে মিহালের উদ্দেশ্যে বলতে লাগলেন__
নীলা নিজেকে যতই পাথর হিসেবে সকলকে দেখাক না কেন ভিতরে ভিতরে সে খুবই নরম, তাকে ভালো রাখতে পারবে? নীলাকে বিয়ে করার জন্য যথেষ্ট বয়স হওয়া ম্যাটার না আসল ম্যাটার হল নীলাকে খুশি রাখার দায়িত্ব নেওয়া।
মিহাল বাঁকা হেসে বলল _
বড় মামা আর যাই হোক আপনার ছেলের মতোন কখনো নীলাকে ধোঁকা দেওয়ার চিন্তাভাবনা করব না। আমার শরীরে আমার বাবার রক্ত বইছে। এবং আমার বাবা কে আমার থেকে ভাল আপনারা চিনেন। কিভাবে নিজের ভালোবাসাকে রক্ষা করতে হয় উনি ভালো করে জানেন। এবং আমিও ওনার ছেলে আর নীলা হলো আমার ভালোবাসা।তাই নীলার কষ্ট মানে আমার কষ্ট, নীলার দুঃখ মানে আমার দুঃখ, সব সময় নীলার পাশে থাকবো। চাইলেই এখানে লুকিয়ে বিয়ের সম্পন্ন করতে পারতাম কিন্তু আপনাদের বাড়ির মেয়ে আপনাদের সম্মতিতে বিয়ে করতে চাই। এবং আমি আশা করছি কেউই দ্বিমত পোষাণ করবেন না।
ফোনের অপরপ্রান্ত থেকে কেউ কিছু বলবে তার আগেই ইরফান চিৎকার করে বলে উঠলো__
আমার দ্বিমত আছে।আমি চাইনা এই বিয়ে হোক।
মিহাল ফোনের স্ক্রিন থেকে চোখ সরিয়ে নিল কারণ সে ইরফানের মত ধোঁকাবাজকে দেখতে চায় না। এবং অন্যপাশে মুখ ফিরিয়ে বলতে লাগলো_
তুই সাইডে চাপ সাইড ক্যারেক্টার।
মিহালের কথা শুনে নীলা ফিক করে হেসে দিল। ইমরান মির্জা ছেলের দিকে অগ্নিদৃষ্টি নিক্ষেপ করে বললেন _. তোর কোন অধিকার নেই আমার ভাতিজির ব্যক্তিগত বিষয়ে নাক গলানোর। এবং হ্যাঁ নিলয় আর আকাশ আমি চাই নীলা আর মিহালের বিয়ে হোক। আশা করি তোরা দ্বিমত পোষণ করবি না।
ইরফান মনে মনে দোয়া করছিল যাতে তার চাচা না করে দেয়। কিন্তু তবু তার মনে ভয় ছিল। কারণ আগেও সে তার বাবা এবং চাচাদের কথা বলতে শুনেছে যে যদি তারা কখনো তার ফুফুর পরিবারের সাথে এক হতে পারে তাহলে নীলার সাথে নীলার ফুফাতো ভাইয়ের বিয়ে দিবে। এই কারণে ইরফানের মনে বেশি ভয়। এবং এখন তার ভয় শক্তি হয়ে গেল।
নিলয় মির্জা এবং আকাশ মির্জা বলে উঠলেন_
আমাদের কোন আপত্তি নেই যদি নীলা রাজি থাকে। নীলা ইচ্ছাই সব।
উনাদের স্ত্রীরাও একমত পোষণ করলেন। ইবাদ এবং আবির শুধু তাকিয়ে তাকিয়ে সবটা দেখে যাচ্ছে। সবকিছু তাদের মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আপাতত কোন প্রশ্ন করার সাহস পেল না কারণ জানি এটা সঠিক পরিস্থিতি না। তাই এখন নিশ্চুপ থেকে সবকিছু দেখাই শ্রেয় মনে করল।
এবার ইরফান মনে মনে দোয়া করতে লাগলো যেন নীলা রাজি না হয়। যদি একবার নীলা রাজি না হয় তাহলে সে নীলার কাছে চলে যাবে প্রয়োজনে নীলার পা ধরে থাকবে। তবুও সে চায়না নীলা এই বিয়েতে রাজি হোক। কিন্তু এবারেও তাকে ভুল প্রমাণিত করে নীলা মিহালের হাত থেকে ফোন নিয়ে বলল_
আমি এই বিয়েতে রাজি বাবা। আমি শুধু চাই বিয়ের সময় তোমরা আমার সামনে থাকো,আমাকে দেখো এবং আমাকে দোয়া দাও।
মির্জা পরিবারের সবাইকে খুশির পানি চলে এলো। কখনোই ভাবতে পারেননি মির্জা পরিবারের একমাত্র মেয়ের বিয়ে এইভাবে হবে। তাও আবার যেদিন নীলার বিয়ে হবে সেদিন নিজেদের বোনকে ফেরত পাবে। এটা যেন সবার কাছে স্বপ্নের মতন।
ইমরান মির্জা মিহালের উদ্দেশ্যে বললেন__
তোর বাপ কে বলল এখন কিপটামি করছে করুক। কিন্তু খুব শীঘ্রই যেন বিয়ের বড়সড় অনুষ্ঠান করে।
মিহাল শব্দ করে হেসে উঠলো এবং নিজের মামার উদ্দেশ্যে বলল_
আপনার বন্ধুকে আপনি বলেন। উনি আপনার সাথে বেঈমানি করেছেন জানার পর থেকে আমি আবার উনার সাথে কথা বলি না।
ইমরান মির্জা এবং তার ভাইয়েরা না চাইতেও হেসেও উঠলেন মিহালের কথা শুনে।মিহাল হাসতে হাসতে নিজের বাবার কাছে ফোন নিয়ে গেল এবং বাবার দিকে ফোনে এগিয়ে দিল।
মামুন খান একবার ছেলে দিকে তাকাচ্ছেন তো আরেকবার নিজের স্ত্রীর দিকে তাকাচ্ছেন। উনার যেন বিশ্বাস হচ্ছে না আজ কত বছর পর নিজের বেস্ট ফ্রেন্ডের সাথে কথা বলতে পারবেন। মিহাল ইশারায় বাবাকে আশ্বাস দিয়ে ফোনে কথা বলতে বলল। মামুন খান কম্পিত তো হাতে ফোন নিলেন এবং ফোনের স্ক্রিনে নিজের বেস্ট ফ্রেন্ড কে দেখতে পেলেন। উনার চোখেও পানি চলে এলো।
মিনা মির্জা নীলার উদ্দেশ্যে বলল_
বিয়ে জীবন একবারই হয়। এই পোশাক পড়ে কি বিয়ে করবি? চল আমি তোকে আমার পছন্দের কিছু পরিয়ে দিচ্ছি।
নীলা শুধু মাথা নাড়ালো। মিনা মির্জা ইকারর উদ্দেশ্য বললেন _
মা তুমি আসো।
ইকরা এবং মুনভির দিকে তাকালো।
মুনভি পলক ফেলে ইশারা দিতেই সে নীলার কাছে চলে গেল এবং নীলাকে ধরে নীলার ফুপুর পেছনে পেছন যেতে লাগলো।
মিহাল এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে নীলার যাওয়ার দিকে। আর কিছু কোন পর তার নীলাঞ্জনা তার একান্ত হয়ে যাবে, পবিত্র ভাবে তার হয়ে যাবে। তারা দুজন আবদ্ধ হবে বিবাহিতবন্ধনে।
মিহাল বাম হাত চেপে ধরে সোফায় বসলো। চোখ বন্ধ করে মাথা হেলান দিয়ে রাখল।মুনভি দাঁড়িয়ে না থেকে মিহালের রুমে চলে গেল এবং সেখান থেকে ফাস্টেড বক্স নিয়ে আবার নিচে চলে এলো তারপর মিহালের কাছে এসে মিহালের হাত ধরতেই মিহাল চোখ খুলে ফেলল। এবং মুনভির হাতে ফাস্টটেড বক্স দেখে কিছু বলতে যাবে তার আগেই মুনভি বলে ফেলল_
এখন যদি প্রাথমিক চিকিৎসা করানো হয় তাহলে পরবর্তীতে ইনফেকশন হয়ে যেতে পারে। এবং বিয়ের পরপরই হসপিটালে ভর্তি হয়ে থাকতে হবে। তুই কি চাস বাড়িতে না থেকে হসপিটালে ভর্তি হতে? অবশ্যই চাস না তার জন্যই আমাকে ব্যান্ডেজ করতে দে।
মিহাল আর কিছু বলল না বরং শার্ট খুলল। এবং মনে হলো তারও আবার চেঞ্জ করতে হবে। কাপড়ে অনেক নোংরা লেগে আছে।
ইমরান মির্জা এবং মামুন মির্জা ফোনে কথা বলছেন। একজন আরেকজন কে দোষারোপ করছেন তো আরেকবার ইমোশনাল হয়ে পড়ছেন। আবারো পুরনো দিনের কথা মনে করছেন।
মিহাল বাবার সাথে তার বেস্ট ফ্রেন্ডের বন্ধুত্ব ঠিক হয়ে যেতে দেখে মুনভির দিকে তাকালো। তাদের বন্ধুত্বও কি কখনো ঠিক হবে নাকি তাদের মাঝে এরকম ফাটল ধরেই থাকবে।
মুনভি মিহালের দিকে না তাকিয়ে বলে উঠলো _
তোর দেওয়া থাপ্পড় তোকে ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত কখনোই কোনো কিছু ঠিক হবে না।
মিহাল ঠোঁট কামড়ে হাসলো।
নীল শার্ট, তারপর নীল কোর্ট পরলো মিহাল। সোফায় বসে আছে।ইকরা গোলাপি শাড়ি পরে এলো।ইকরা কে দেখে মুনভি দাঁড়িয়ে পরল।আর মুনভি কে দাঁড়াতে দেখে মিহাল একবার মুনভির দিকে তাকাচ্ছে তো আরেকবার ইকরার দিকে। তার আর বুঝতে বাকি রইল না তার বন্ধুও প্রেমে পড়ে গিয়েছে। সে ঠোঁট কামড়ে হাসলো। তার ইচ্ছে করছে এখন নাচতেই কিন্তু হাতে ব্যথার কারণে সে নাচতে পারবে না।
মিনা মির্জা নীলাকে নিয়ে আসছে, তার পরনে নীল রঙের একটা লেহেঙ্গা মাথায় লিলেন কাপড়ের ডিজাইনিং ঘোমটা যেটির কালার নীল। একদম গাঢ় নীল।মিহাল নীলাকে দেখে হা হয়ে গেল। সে বেশিরভাগ নীলাকে মাস্ক পরা অবস্থায় দেখে। শুধু আজকে মাস্ক ছাড়া অনেকক্ষণ দেখতে পেরেছিল। কিন্তু তখন পরিস্থিতি তেমন ছিল না যে সে তার নীলাঞ্জনা কে মন ভরে দেখবে। কিন্তু এখন তার নীলাঞ্জনাকে সব সময়ের থেকে একদম ভিন্ন লাগছে। মুখে হালকা মেকআপ, চোখে কাজল, ঠোঁটে হালকা লিপগ্লস। এতেই যেন অপূর্ব লাগছে।
নীলাকে মিহালের পাশে বসানো হলো। কিন্তু মিহাল এখনো ঘাড় ঘুরিয়ে তার নীলাঞ্জনা কে দেখে যাচ্ছে। নীলা লজ্জায় মরে যাবে এমন অবস্থা। সামনের টেবিলে ফোন রাখা আছে যেখানে তার পরিবারের সবাই আছে ভিডিও কলে। তার উপর এখানে তার ফুফা,ফুফু আছে।মিহাল তাকে এমন ভাবে দেখবে সে এটা সহ্য করতে পারছে না।
ইমাম বিয়ে পড়ানো শুরু করল।নীলার পাশে তার ফুফু বসেছে এবং মিহালের পাশে তার বাবা।নীলাকে কবুল বলতে বলা হলে সে তার ফুফির হাত চেপে ধরলো। ধীরে ধীরে ফোনে থাকা নিজের পরিবারে দিকে তাকালো। সবাই তাকে উৎসাহ দিচ্ছে এবং সাহস দিচ্ছে। কেবল ইরফান না করছে। কিন্তু সে কিছু বলতে নিলেই তার বাবা তার পিঠে চর বসাচ্ছে।
নীলা কম্পিত কন্ঠে কবুল বলল।
মিহাল কে প্রথমবার কবুল বলতে বলা হলে সে একবারেই তিনবার কবুল বলে ফেলল। সবাই হেসে উঠল। তারপর সবাই মিলে দোয়া করলো। অবশেষে তারা দুজন পবিত্র বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে পড়ল। তাদের মাঝে গড়ে উঠলো এক হালাল সম্পর্ক।
মিহাল ধীরে ধীরে নীলার হাতের উপর নিজের হাত রাখল। নীলা চোখ বন্ধ করে ফেলল। তার মোটেও অস্বস্তি লাগছে না এই স্পর্শে। হয়তো এইটায় পবিত্রতা আছে তাই।
মুনভি ফোনে তার মা-বাবাকে ভিডিও কলে মিহালের বিয়ে দেখাচ্ছিল। আসলে তার মা-বাবা দেশের বাইরে গিয়েছেন তার জন্যই তারা আসতে পারেনি এবং তারাও ভিডিও কলে বিয়েতে জয়েন হলো।
হঠাৎ ইমরান মির্জা ফোনের অপর পাশ থেকে বলে উঠলেন_
বিয়ে বাড়ি এত মরা মরা লাগছে কেন? একটু গান বাজনা না হলে জমে?
উনার এই কথা বলার পিছনে অবশ্য কারণ আছে। আসলে নীলার বিয়ে দেখে মির্জা পরিবারের সব মহিলারা কান্না করছেন। নিলয় মির্জা নিজেও কান্না করছেন। আবার এই দিকে মিনা মির্জা এবং নীলা কান্না করছে তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য উনি এই কথাটি বললেন।
মামুন খান মুনভির দিকে তাকিয়ে বলল তোমার বেস্ট ফ্রেন্ড এর বিয়ে তুমি গান গাইবে। মিহালও সায় দিল।
মুনভি কিছুক্ষণ নিরব থেকে ইকরা দিকে তাকালো। ইকরাও তার দিকেই তাকিয়ে আছে।
মুনভি নিঃশ্বাস ছেড়ে গাইতে লাগলো__
ও বন্ধু লাল গুলাপী
ও বন্ধু লাল গুলাপী, কই রইলা রে
এসো এসো বুকে রাখবো তোরে
এসো এসো বুকে রাখবো তোরে
তুমি বন্ধু হইলে আমার
নাইতো কিছু বাকি পাওয়ার
তুমি-আমি দু’জন মিলে সাজাইবো সুখের সংসার
তুমি বন্ধু হইলে আমার
নাইতো কিছু বাকি পাওয়ার
তুমি-আমি দু’জন মিলে সাজাইবো সুখের সংসার
সাজাইবো সুখের সংসার
তুমাকে পাইলে সুখী…
তুমাকে পাইলে সুখী হইবো রে
এসো এসো বুকে রাখবো তোরে
এসো এসো বুকে রাখবো তোরে
গানের লাইনগুলো গিয়ে থামলো সে। সবাই তার দিকে তাকিয়ে আছে। এমনকি মির্জা পরিবারের সবাইও স্তব্ধ হয়ে আছে। কিছুক্ষণ নীরবতা বজায় থেকে সবাই অট্টহাসিতে ফেটে উঠলো। কিছুক্ষণ আগেও যারা চোখের জলে গঙ্গা ভাসিয়ে দিচ্ছিল তারাও এখন হাসতে হাসতে চোখ থেকে অশ্রু বিসর্জন দিচ্ছে। নীলা তো হাসতে হাসতে মিহালের হাতের নিজের শরীরের ভার ছেড়ে দিয়েছে। কিন্তু তার খেয়ালই নেই নিহালের এই হাতে ব্যথা।
অথচ মিহাল ব্যথা পাবার পরেও একটু শব্দ করছে না বরং নিজের নীলাঞ্জনার মুখ ভরা হাসি মুগ্ধ নয়নে দেখছে।
ফোনের অপর পাশ থেকে ইমরান মির্জা এবং নিলয় মির্জা এই দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হলো এবং বুঝতে পারল মিহাল আসলেই নীলার জন্য পারফেক্ট।
ইকরার তো লজ্জায় লাল নীল বেগুনি হয়ে যাচ্ছে, একেই সে গোলাপি রং এর কাপড় পড়েছে। তার উপরে মুনভির এমন গান গাওয়া। তার যেমন হাসি পাচ্ছে তেমনি লজ্জা পাচ্ছে।
বাসর ঘরে মাথায় এক হাত সমান ঘোমটা টেনে বসে আছে নীলা। তার কেমন ভয় লাগছে, আবার এক অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছে। সবাই মিলে তাকে মিহালের রুমের ভেতর ঢুকিয়ে দিল। আর মুনভি এবং মিহালের এক বন্ধু মিলে এই রুমটি একদম সাজিয়ে দিল ফুল দিয়ে।
মিহাল দরজা খুলে ভেতরে এলো রাত এগারোটায়। নীলা দরজা খোলার আওয়াজ শুনে বিছানার চাদর খামচে ধরল। এত তাড়াতাড়ি এমন পরিস্থিতিতে পড়বে সে কখনোই ভাবতে পারেনি। এমনকি এখনো তার বিশ্বাস হচ্ছে না। কিন্তু তার ফুফুর বলা কথা যে এখন তার শাশুড়ি মা সে তাকে বলে গিয়েছিল যখন মিহাল আসে তখন যেন সেই মিহালকে দুধ দেয়। দুধের গ্লাসটি খাটের পাশে থাকা ছোট্ট টিটেবিলের উপর রাখা।
মিহাল ধীরে ধীরে বিছানার দিকে এগিয়ে আসতে লাগলো। নীলা অনেক সাহস যুগিয়ে ধীরে ধীরে বিছানা থেকে নামতে লাগলো এবং এক হাত দিয়ে ট্রি টেবিলের উপর থেকে দুধের গ্লাসটি নিল। যেই না দুধের গ্লাসটি মিহালকে দেবার জন্য দাঁড়াবে ওমনি লেহেঙ্গার পা বেজে সে কিছুটা নড়ে উঠলো আর পরে যেতে নিল। ফলস্বরূপ যে হাতে দুধের গ্লাস ছিল সেই হাত সামনের দিকে চলে এলো এবং হাতে থাকা দুধের গ্লাস থেকে দুধ ছিটকে গিয়ে পরলো তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মিহালের প্যান্টে। একদম দুই পায়ের মাঝখানটা দুধ পড়ার কারণে ভিজে গিয়েছে।
মিহাল তো স্তব হয়ে গেল। কিভাবে কি হয়ে গেল মিহাল এবং নীলা কেউই বুঝতে পারল না। মিহাল কেবল নিজের দুই পায়ের মাঝখানের অংশটুকু ভেজা অনুভব করছে। আর নীলা কিছুক্ষণ মিহালের দিকে তাকিয়ে তারপর শব্দ করে হেসে দিল। ছোট বাচ্চারা প্রস্রাব করে দিলে যেমন লাগে মিহালকে এখন ঠিক তেমন লাগছে। নীলা চাইতেও নিজের হাসি থামাতে পারল না।
মিহাল নীলাকে হাসতে দেখে মেজাজ গরম হয়ে গেল। এই মেয়েটি কথায় কথায় তার প্যান্ট ভিজিয়ে দেয়। ছোটবেলায় প্রস্রাব করে দিয়ে, তারপর বড় হয়ে প্রথম দেখাতেই কফি ফালিয়ে দিল আবার এখন বাসর ঘরে দুধ ফেলিয়ে দিল। আর এই মেয়েটা ভেজানোর জন্য আর কোন জায়গা পায়না ঘুরে ফিরে তার প্যান্ট ভিজিয়ে দেয়। আর কিছুদিন পর দেখা যাবে ভয়ে তার প্যান্ট ভিজিয়ে দিবে। মিহালের মনে হলো তাকে অ্যাওয়ার্ড দেওয়া উচিত কারণ তার বউ বাসর ঘরে তার প্যান্টের উপর দুধ ফালিয়ে দিয়ে তার প্যান্ট ভিজিয়ে দিয়েছে।
দুঃখিত দেরি করে যাওয়ার জন্য। যেমন দেরি করে দিয়েছি তেমনি বড় পর্ব দিয়েছি। ভুলত্রুটি হলে ক্ষমা করবেন।
Share On:
TAGS: নাজনীন নেছা নাবিলা, নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ১৯
-
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা বোনাস পর্ব
-
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ১৪
-
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ২৭
-
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ১০
-
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা বোনাস পর্ব ২
-
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা সারপ্রাইজ পর্ব
-
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ৩১
-
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ২২
-
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ১৮