Golpo কষ্টের গল্প তালাক নামা

তালাক নামা পর্ব ২


তালাক_নামা

সাদিয়া_খান(সুবাসিনী)

পর্ব-২

বেলা দশটার দিকেই মামারা এলেন।বনেদি বাড়ির মেয়ে আমার মা। ভাইয়েরা তাকে বেশ আদর করে৷ আব্বার বিয়ের খবর ততক্ষণে চারিদিকে ছড়িয়ে গেছে। কেউ কেউ মুখ টিপে হাসতেছে। আর মা?সে চুপচাপ বসে আছে ঘরের দরজার সামনে।রোদের আলোয় তার হাতের বালা জোড়া চকচক করছে। মামারা সবাই আসতে পারেনি।চার জন এসেছে। চারজনেই আমার মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে আছে।
“তুমি কি ভয় পাচ্ছো আপা?”
“কীসের ভয়? আমি আর কিছু নিয়েই ভয় পাই না।”
মামারা নানান কথা বলে মাকে বুঝ দেওয়ার চেষ্টা করছে।না সংসার করার বুঝ নয়, তারা চাইছিল সেই মুহুর্তেই মা যেন এই ভয়াবহ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসে। সালিস শুরু হওয়ার পর দাদী বলতে শুরু করলেন আগের জন কেন চলে গেছে,মা সারাদিন কান্নাকাটি করতো, তাই ওই বউ রইলো না।এই বউ বাচ্চা হবে সাত মাসের পোয়াতি মেয়েরে দুইটা ডিম সেদ্ধ করে দিতে বলায় এতোগুলো ডিম ভেঙ্গে ফেলে দিয়েছে।এই বউ রাখলে সংসারে অশান্তি ছাড়া আর কিছুই হবে না। মুরুব্বিরা যখন মাকে জিজ্ঞেস করলো মা জবাব দিলো,
“আমার বাপ ভাইয়েদের টাকায় কেনা হাঁস। সেই হাঁসের ডিম আমি কেন দিব? যার ছেলের বউকে খাওয়াতে ইচ্ছে সে কিনে আনলেই পারে।”
“দেখছেন আপনেরা, দেখছেন?এইগুলো না কি ওর বাপের বাড়ির।আমার খায় আমার পরে আমাকেই অত্যাচার করে।”
“এই বাড়িতে যতগুলো হাঁস মুরগী আছে সব আমার বাপ আমার বিয়ের সময় দিয়েছিল।গোয়ালের প্রতিটা গরু আমার।এই খান থেকে যতদূর দেখা যায় সব সম্পত্তি আমার।”

দাদী হচকচিয়ে গেছে। কিছু চিন্তা করে বলল,
“বারো বছর আগের হাঁস মুরগী থাকে?”
“না থাকে না।কিন্তু সেই হাঁস মুরগী থেকেই আজ এই অবধি আমি এনেছি।প্রতিবার ডিম বসিয়েছি।আমার প্রতিটা গাভী সুস্থ সবল বাছুর দিয়েছে।ভুলে গেছেন?”
“তাতে কি? আজ তালাক হইলে তোরে এইগুলা নিতে দিমু?এইগুলা আমার বাড়ির। আমারই থাকবো।”
“এই বাড়িটাও আমার।”

ভরা মজলিশে কানাকানি শুরু হয়ে গেল।যারা মাতাব্বর ছিলেন তারা কেবল শুনলেন।একজন বয়স্ক লোক হেসে বললেন,
“বুঝছো সোহেলের মা, রাবেয়া আমাদের দশ গ্রামের মধ্যে সবচেয়ে ধনী পরিবারের কইন্যা।এই রাবেয়ার বাপের কাছে তোমার সোহেলের আব্বা অনেক টাকা দেনা করে। সেই টাকা দিতে গেলে তোমার পরিবার ভেসে যায়।তখন আমরা উপায় না পেয়ে সোহেলের সাথে রাবেয়ার বিয়ের প্রস্তাব দেই।সোহেল শহরের পোলা, দেখতে সুন্দর। আর যা থাকবো তা তো রাবেয়ার থাকবো বলে ওর দাদা আর দ্বিমত না করে এই আকাশের চাঁদ তোমার ঘরে দিলো। কিন্তু শর্ত একটাই ছিল, বাড়ি সমেত সব জমি যার কাগজ পত্র রেখে তোমরা লাখ লাখ টাকা ধার আনছিলা সেসব রাবেয়ার নামে চলে যাবে। সেইটা হওয়ার পরেই তো বিয়েটা হইলো।তো পারতপক্ষে তোমার বাড়িতে রাবেয়া না রাবেয়ার বাড়িতে ও থাকে।আর এই যে সব দেখতেছো?এই সব ওর বাপ দাদা ওরে নিজ হাতে দিয়ে গেছে। এবার বলো ও কি ভুল বলছে?”

দাদী একবার দাদার দিকে তাকালো।দাদা তাকে বার বার থামানোর চেষ্টা করতো কিন্তু আজ সে আর কিছুই বলছে না।এমন না দাদী এসব জানতো না কিন্তু ভুলে বসেছিল।আমার মা যে ননীর মতো নরম স্বভাবের। এবার এলো সিদ্ধান্তের পালা।মামারা ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছে মায়ের পাশে। আব্বা বসে আছে তার নতুন বউয়ের হাত ধরে। সেই মুহুর্তে একজন বলল,
“কাজী সাহেব এসে পড়েছে।”

চলবে ( আবার সন্ধ্যে সাতটায় আসবেন।কেমন?)

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply