Golpo কষ্টের গল্প রোদ্দুরের ছেঁড়া মানচিত্র

রোদ্দুরের ছেঁড়া মানচিত্র পর্ব ৬২ ( বর্ধিতাংশ)


#রোদ্দুরের_ছেঁড়া_মানচিত্র

#পর্ব_৬২ ( বর্ধিতাংশ)

#নিলুফা_নাজমিন_নীলা

★★★

নৌশি ড্রেসিংটেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে মন দিয়ে চুল আঁচড়াচ্ছিল। আয়নায় নিজের প্রতিচ্ছবি দেখছে আর শাড়ির কুঁচিগুলো ঠিক করে নিচ্ছে। ঠিক সেই মুহূর্তে ভার্সিটি থেকে ফিরে রুমে ঢুকল আদনান। নৌশিকে এভাবে সেজেগুজে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আদনানের ক্লান্তি যেন নিমেষেই উধাও হয়ে গেল। সে ব্যাগটা একপাশে রেখে দুষ্টুমি করে জিজ্ঞেস করল, ​“কী করিস আমার নাদান বউ?”

“কী করছি তা তো দেখতেই পাচ্ছিস!”

আদনান কৃত্রিম গাম্ভীর্য নিয়ে ভ্রু কুঁচকালো। শার্টের হাতা গুটিয়ে বলল, “স্বামী বাইরে থেকে ফিরেছে, তোর কি কর্তব্য নয় যে স্বামীকে এক গ্লাস পানি এগিয়ে দিয়ে বলা, ওগো, একটু জল নাও!”

নৌশি বিরক্তির ভান করে মুখ ভেঁচকালো ঠিকই, তবে চিরুনিটা রেখে দ্রুত এক গ্লাস পানি নিয়ে এসে আদনানের সামনে ধরল। আদনান ততক্ষণে গায়ের শার্টটা খুলে আলমারিতে রাখছে। নৌশি আদনানের সুর নকল করেই বলল, “ওগো স্বামী, আপনার পানিটা নিন।”

​আদনান হো হো করে হেসে উঠল। পানিটা এক চুমুকে পান করে বলল, “এই তো, এখন তোকে একদম লক্ষ্মী বউ বউ লাগছে।”

​নৌশি গ্লাসটা হাত থেকে নিতে নিতে বাঁকা চোখে তাকিয়ে বলল, “কিন্তু তোকে তো এক বিন্দুও স্বামী স্বামী লাগছে না!”

“কেন? আমি আবার কী করলাম?”

“কেন মানে? এতক্ষণ ধরে তোর সামনে সেজেগুজে দাঁড়িয়ে আছি আর তুই… থাক, তোকে আর বলতে হবে না!”

​হঠাৎ করেই আদনানের চোখ দুটো চকচক করে উঠল। শাড়ির ওপর নৌশির চিকন ফর্সা শরীর আর লাল শাড়িটার পাড় যেন আগুনের মতো সৌন্দর্য ছড়িয়ে রেখেছে ঘরের ভেতর। আদনান নিজের ওপর নিজেই অবাক হলো এতক্ষণ এই অপরূপ রূপটা তার চোখেই পড়ল না? সে কি সত্যিই এতটা চন্নছাড়া হয়ে গেছে?

​আদনান এবার এক ধ্যানে নৌশির দিকে তাকালো। লাল শাড়িটায় ওকে যেন কোনো এক রাজকন্যার মতো লাগছে। নৌশি অভিমান করে মুখ ফিরিয়ে নিতেই আদনান ওর সামনে এসে দাঁড়াল। আলতো করে ওর চিবুকটা ধরে মুখটা ওপরে তুলল। গভীর অনুরাগে নৌশির চোখের দিকে তাকিয়ে বলল,

“মাশাআল্লাহ! কারো নজর না লাগুক আমার এই নাদান বউটার ওপর। আজ তোকে সত্যিই অসাধারণ লাগছে নৌশি।”

বলেই আদনান পরম আবেশে নৌশির কপালে একটা দীর্ঘ চুমু খেল। নৌশি যদিও মনে মনে বেশ খুশি হলো, তবে মুখে তখনো কৃত্রিম রাগ। সে আদনানকে আলতো করে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিল।

​“থাক থাক, আর পটাতে হবে না। এতক্ষণ খেয়াল করিসনি আর এখন এসে খুব ভাব দেখাচ্ছিস? সর তো এখান থেকে!”

নৌশি মুখ ফুলিয়ে বিছানায় গিয়ে বসল। আদনানও দমে যাওয়ার পাত্র নয়; সেও পা তুলে নৌশির একদম মুখোমুখি হয়ে বসল। তারপর দুই হাতে নৌশির গাল দুটো আলতো করে টিপে ধরে আদুরে গলায় বলতে শুরু করল:

“ও আমার সোনা, ময়না, টিয়া, কাক, শাপলা, বেলি, চামচিকে, ডায়মন্ড, হীরা, পাখি বউটা… প্লিজ এভাবে রাগ করে না। আমার দশটা না, বিশটা না, একটা মাত্র বউ! বউ তো আর বাজার থেকে কিনে আনা কোনো জিনিস নয় যে ভালো না লাগলে এক কোণে ফেলে রাখব। তাই বউ এভাবে রাগ করে থাকলে এই অভাগা স্বামীর একদম ভালো লাগে না।”

আদনানের ওই উদ্ভট সব উপমার বহর শুনে হাসবে না কাঁদবে বুঝতে পারল না।নৌশি বলল,

“তুই আসলে আমাকে একটুও ভালোবাসিস না, সবটাই তোর নাটক!”

​আদনান এবার নৌশির গাল দুটো একটু জোরে টেনে দিয়ে বলল, “কে বলল বাসি না? অনেক বাসি, এই যে গাল টেনে দিচ্ছি এটাই তার প্রমাণ!”

আদনান একটু বেশি জোরে টেনে দেওয়ায় নৌশি হালকা ব্যথা পেল। সেও দমবার পাত্রী নয়। আদনানের গালে আদুরে ভঙ্গিতে হাত দিলেও সুযোগ বুঝে চিমটি কেটে বেশ কায়দা করে ব্যথা ফিরিয়ে দিল। এভাবে কিছুক্ষণ আদর আর ব্যথার খেলা চলতে চলতে হুট করেই মোড় ঘুরে গেল। নৌশি এবার খপ করে আদনানের চুল মুঠি করে ধরল। প্রতিউত্তরে আদনানও নৌশির চুলের মুঠি আলতো করে চেপে ধরল। আদনান রাগে দাঁত কিড়মিড় করে বলল,

“একবার মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়ে নামাজ না পড়ে জিলাপি নিয়ে চলে আসছিলাম। মনে হয় সেই পাপের শাস্তি হিসেবেই খোদা আমার কপালে তোর মতো নাদান বউ লিখে রাখছে!”

​নৌশি-ও দাঁতে দাঁত চেপে পালটা জবাব দিল,

“তুই তো তাও তোর পাপটা অন্তত ধরতে পেরেছিস! আমি তো এটাই ভেবে পাই না জীবনে এমন কী মহাপাপ করেছিলাম যার প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে তোর মতো এক আদুর বাচ্চা আমার স্বামী হয়েছে।”

আদনান গর্জে উঠে বলল, “একদম চুপ থাক তুই!”

এবার দুজনেই চুলের মুঠি ছেড়ে দিয়ে একে অপরকে লক্ষ্য করে বালিশ ছুড়তে শুরু করল। পুরো বিছানায় যেন যুদ্ধক্ষেত্র তৈরি হয়ে গেল। কিন্তু এই বালিশ যুদ্ধের মাঝেই হঠাৎ অঘটনটা ঘটল। নৌশির শাড়ির আঁচল বিছানার কোণে কোথাও আটকে যাওয়ায় ভারসাম্য হারিয়ে সে উপুড় হয়ে বিছানায় পড়ে গেল। আর ঠিক তার পরক্ষণেই আদনানও নিয়ন্ত্রণ সামলাতে না পেরে সরাসরি নৌশির ওপর এসে পড়ল। ​মুহূর্তেই সব শব্দ থেমে গেল। ঘরের বাতাসের গতি যেন স্থির হয়ে এল। দুজনের চোখ একে অপরের ওপর নিবদ্ধ। এতক্ষণ যে চোখে ঝগড়ার আগুন জ্বলছিল, সেখানে এখন অন্য এক অনুভূতির আভা। আদনান খুব ধীর আর কোমল হাতে নৌশির কপালে লেপ্টে থাকা অবাধ্য চুলগুলো সরিয়ে কানের পিছে গুঁজে দিল। ​আদনান হঠাৎ খুব গাঢ় আর ভারী গলায় বলে উঠল,

“বউ, অনেক তো হলো ঝগড়াঝাঁটি! চল না আজ অন্য কিছু করি?”

​নৌশির বুকের ভেতরটা তখন তীব্র বেগে কাঁপছে। সে আদনানকে সরানোর জন্য হালকা ধাক্কা দিয়ে কাঁপা গলায় বলল, “সর তো আদনান! উল্টাপাল্টা কিছু করলে কিন্তু একদম ভালো হবে না বলছি।”

​আদনান সরল না, বরং আরও একটু ঝুঁকে এসে ফিসফিস করে বলল,

“আমিও চাই আজ উল্টাপাল্টা কিছু হোক।”

নৌশি প্রতিবাদ করতে যাবে, ঠিক তখনই আদনান নিজের তর্জনী নৌশির ঠোঁটে আলতো করে চেপে ধরল। গভীর মায়ায় বলল, “উহুঁ, একদম চুপ।”

​নৌশি নিস্তব্ধ হয়ে গেল। তাকিয়ে রইল আদনানের গভীর দুটি চোখের দিকে।

★★★

ধরনীতে তখনও সূর্যোদয় হয়নি। চারদিকে ভোরের অস্ফুট অন্ধকার আর এক মায়াবী নিস্তব্ধতা। তৃণার সারারাত ঘুম হয়নি, মনের ভেতর এক অদ্ভুত অস্থিরতা তাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছিল। তবে সে আরিয়ানকে বুঝতে দেয়নি; কারণ সে জানে, আরিয়ান একবার বুঝতে পারলে নিজের ঘুম বিসর্জন দিয়ে পাশে বসে থাকবে। এমনিতেও অফিস থেকে ফেরার পর থেকেই আরিয়ান মাথাব্যথাটা ভোগাচ্ছিল। ​তৃণা খুব সাবধানে বিছানা থেকে নেমে বেলকনিতে গিয়ে দাঁড়াল। ফজরের নামাজ শেষ করার পর ঠান্ডা বাতাস যখন তার গা ছুঁয়ে গেল, তখন বুকটা এক অনাবিল শান্তিতে ভরে উঠল। পূর্ব আকাশে হালকা লাল আভা ফুটে উঠছে ভীষণ স্নিগ্ধ সেই দৃশ্য। আজকের সূর্যোদয়টা যেন অন্য যেকোনো দিনের চেয়েও বেশি সুন্দর লাগছে তৃণার কাছে।

তৃণা মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে, ঠিক সেই মুহূর্তে কাঁধে কারো উষ্ণ স্পর্শ পেয়ে সে চমকে উঠল। পেছনে তাকিয়ে দেখল আরিয়ান দাঁড়িয়ে আছে। তৃণা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, “আপনি এত সকালে উঠলেন যে? মাথাব্যথাটা কি এখনো আছে?”

​আরিয়ান তৃণার চোখে চোখ রেখে বলল, “ঘুম ভেঙে গেল। বিছানায় তোমাকে না পেয়ে আর শুয়ে থাকতে পারলাম না।”

তৃণার দৃষ্টি অনুসরণ করে আরিয়ানও সেই রক্তিম সূর্যোদয়ের দিকে তাকাল। কিছুক্ষণ নীরব থেকে সে তৃণার দিকে ফিরে বলল, “বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকো না শ্যামলিনী, শরীর খারাপ করবে। বসে পড়ো।”

তৃণা দোলনায় গিয়ে বসল। আরিয়ান তৃণার পাশে না বসে বরং তার সামনে হাঁটু গেড়ে নিচে বসল। তারপর খুব আলতো করে তৃণার পেটের ওপর নিজের হাত রাখল। এখনো পেটের আকার খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। আরিয়ান কিছুটা চিন্তিত মুখে ভ্রু কুঁচকে বলল,

“এই তো দেখলে! তুমি ঠিকমতো খাবার খাচ্ছ না। তাই আমাদের রাজকন্যা এখনো বড় হচ্ছে না।”

তৃণা আরিয়ানের কাণ্ড দেখে হেসে ফেলল। বলল, “এখন মাত্র তিন মাস চলছে আরিয়ান। এখনই কি পেট বড় হয়ে যায়? আর আপনি রাজকন্যা কোথায় পেলেন? এটা রাজপুত্রও তো হতে পারে!”

আরিয়ান জেদ ধরে বলল, “জি না, আমি জানি আমার মেয়েই হবে। এই যে দেখো, ও আমাকে লাথি দিল!”

​তৃণা এবার আরও অবাক হলো। ভ্রু কুঁচকে বলল, “মিথ্যা বলার জায়গা পান না? তিন মাসে কি বাচ্চা লাথি দেয়? আর এত শিউর হয়ে মেয়ে বলছেন কেন?”

​“কারণ আমি জানি,” আরিয়ান আত্মবিশ্বাসের সাথে বলল। তৃণা আর তর্কে গেল না। আরিয়ান তৃণার পেটে কান পেতে মাথা রাখল এবং চোখ বন্ধ করে নিল। ভোরের ওই শান্ত মুহূর্তে সে যেন ভেতরে থাকা সেই অস্তিত্বের স্পন্দন অনুভব করার চেষ্টা করছে।

আরিয়ান নিচু স্বরে বলল,

“আজ তোমাকে ছেড়ে অফিস যেতে একদম ইচ্ছে করছে না শ্যামলিনী। খুব ইচ্ছে করছে সারাটা দিন এভাবেই তোমার কাছে কাটিয়ে দিই।”

তৃণা আদুরে গলায় বলল, “অফিসে তো যেতেই হবে। অনেক কাজ জমা হয়ে আছে আপনার।”

​“হুম জানি,” আরিয়ান দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল। “আচ্ছা শোনো, আজ অফিস থেকে তাড়াতাড়ি ফিরে আসব। তারপর আমরা কোথাও ঘুরতে যাব, ঠিক আছে?”

​তৃণা হাসল। আরিয়ানের চুলে বিলি কেটে দিয়ে নরম গলায় বলল,

“আচ্ছা, তাই হবে।”

আরিয়ান আবারও বলল,

“যদি এভাবেই একজীবন মাথা রেখে কাটিয়ে দিতে পারতাম। সারাক্ষণ যদি এভাবেই বসে থাকতে পারতাম আমার শ্যামলিনীর পাশে। তবে কেমন হতো?”

“আপনি দিন দিন পাগল হয়ে যাচ্ছেন। বাচ্চাদের মতো কথা বলছেন।”

“মানুষ তো ভালোবেসেই পাগল হয়। আমিও না হয় পাগল হবো৷ তাতে কি!”

তৃণা কিছু বলল না। আরিয়ানের কালো চুলগুলোতে হাত বুলিয়ে দিতে লাগল।

​★★★

হাইওয়ের পিচঢালা রাস্তা চিরে নির্জনের বাইকটা হেলেদুলে চলছে। তার এই ধীরগতির বাইক চালানো দেখে মনে হচ্ছে গন্তব্যের চেয়ে রাস্তার ধারের ঘাস গোনাতেই তার বেশি আগ্রহ। একের পর এক বাইক আর গাড়ি তিরের বেগে তাদের পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছে। পেছনে বসা নুসরাত অস্থির হয়ে উঠল। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে সে বিরক্ত গলায় বলল, ​“কী সমস্যা তোমার? এত ধীরগতিতে কেন?”

​নির্জন হেলমেটের ভেতর থেকে একটা দুষ্টুমিভরা হাসি দিয়ে গানের সুরে জবাব দিল, “এই পথ যদি শেষ না হয়, তবে কেমন হবে তুমি বলো তো?”

​নুসরাত কপাল কুঁচকে কাঠখোট্টা গলায় বলল,

“ভীষণ খারাপ হবে! আমার প্রথম পিরিয়ডের ক্লাসটাই আজ মিস হয়ে যাবে।”

নির্জন একটু বাঁকা চোখে তাকিয়ে বলল,

“ওগো চশমওয়ালি ম্যাডাম, আপনার কাছে স্বামীর চেয়ে বুঝি ওই ক্লাসটাই বড় হয়ে গেল?”

“তুমি ইদানীং বড্ড বেশি ফালতু কথা বলছো। তোমার তো হাসপাতালে পৌঁছানো আরও আগে প্রয়োজন, একজন ডাক্তারের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন হলে চলে?”

নুসরাতের ঝাড়ি শেষ হতে না হতেই নির্জনের বাইকটা অদ্ভুত এক শব্দ করে হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেল। নুসরাত রাগে বলল,

“এখন কি ইচ্ছে করে বাইকটা বন্ধ করে দিলে? নাটকের আর জায়গা পাও না?”

​নির্জন কয়েকবার স্টার্ট দেওয়ার বৃথা চেষ্টা করে অপরাধীর মতো মুখ করে বলল, “ বাইকের তেল শেষ!”

নুসরাত যেন আকাশ থেকে পড়ল। সে হাপিত্যেশ করতে করতে বলল, “বাসা থেকে বের হওয়ার সময় কি চেক করে আসতে পারো না? ধুর! তোমার সাথে আসাই আমার ভুল হয়েছে।”

নুসরাত আর এক মুহূর্ত না দাঁড়িয়ে রাগী মুখে সামনের দিকে হাঁটা শুরু করল। নির্জন তাড়াহুড়ো করে বাইক থেকে নামল। তারপর বাইকটা অনেকটা সাইকেলের মতো হাত দিয়ে ঠেলতে ঠেলতে নুসরাতের পিছু পিছু গিয়ে বলল,

“ও চশমওয়ালি ম্যাডাম, এভাবে স্বামীকে ফেলে রাগ করে হাঁটতে হয় না। শুনুন না! এই বাদামওয়ালা আজকাল তার চশমওয়ালি ম্যাডামকে ছাড়া চোখে দেখে না।”

​নির্জন বাইক ঠেলতে ঠেলতে নুসরাতের পাশাপাশি এসে দাঁড়াল। মিনতি করে বলল,

“এভাবে রোদে হেঁটো না, বাইকে উঠে বসো।”

নুসরাত গোঁ ধরে বলল,

“উঠব না। এমনিতেই দেরি হয়েছে, তার ওপর তুমি এখন আমাকে বাইকে বসিয়ে ঠেলবে? দরকার নেই।”

নির্জন নাছোড়বান্দা। সে হেসে বলল,

“আরে উঠে বসো তো! আমি হাত দিয়ে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছি, তোমার কোনো কষ্ট হবে না। একটু সামনেই পেট্রোল পাম্প আছে।”

নুসরাত আর না পেরে অবশেষে বাইকের পেছনের সিটে উঠে বসল। নির্জন ঘামতে ঘামতে বাইক ঠেলছে আর আপন মনে কল্পনা করতে শুরু করল। হঠাৎ সে ফিসফিস করে বলল, “আচ্ছা ভাবো তো নুসরাত, কোনো একদিন সামনে আমাদের ছোট্ট একটা সন্তান বসে আছে আর পেছনে তুমি দৃশ্যটা কেমন হবে?”

নুসরাত একটু ম্লান হাসল, তবে গাম্ভীর্য ধরে রেখে বলল, “খুব ভালো হবে। তবে এখন আদিখ্যেতা কমিয়ে একটু জলদি চলো, সত্যি দেরি হয়ে যাচ্ছে।”

নির্জন বাইক ঠেলতে ঠেলতেই আবার গলা ছেড়ে গাইতে শুরু করল

“এই পথ যদি শেষ না হয়,

তবে কেমন হবে তুমি বলো তো…”

#চলবে…

(আগামীপর্বের জন্য সবাই প্রস্তুত থাকবেন। বড়সড় ধাক্কা খেতে পারেন🙂

সবাই রেসপন্স করবেন। যদি দেখি আগামীকালই তিনহাজার রিয়েক্ট হয়ে গেছে তাহলে আগামীকালই পরবর্তী পর্ব পেয়ে যাবেন।)

Share On:

TAGS:



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply