Golpo romantic golpo রাগে অনুরাগে

রাগে অনুরাগে পর্ব ৮(প্রথম অংশ+দ্বিতীয় অংশ)


#রাগে_অনুরাগে

#পর্ব_৮ [প্রথম_অংশ]

#সুহাসিনি_ফাতেহা

“একি আপু তোমাকে এত লম্বা চওড়া লাগছে কেন? তোমার মুখ এমন খোঁচা খোঁচা লাগছে কেন? তোমার দাড়ি গোঁফ গজাইছে?”

তিতলি তখনও যেন বুঝতে পারছে না। সপ্তাদশী ঝিলিক ভেবে আরও জোরে এক ঝাঁকি দিলো। কিন্তু তাতে সামনে থাকা বলিষ্ঠবান দেহের যুবকের একটুখানি নড়বড় ও হলো না বরং যেন আরো পাথর হলেন। তিতলি অবুঝের মতো মুখ কোরে বলল,

”তুমি এত শক্ত কেন ঝিলিক আপু ?”

—– বলতে বলতে চোখ বাঁধা অবস্থায় হাতের বিচারণ পুরুষালী জিন্স প্যান্ট আন্দাজ করতেই ভয়ে চেঁচিয়ে উঠলো তিতলি। মুহূর্তে দূরে সরে নিজের চোখ থেকে কাপড় সরালো।

সপ্তাদশী চমকালো থমকালো ভরকালো।

অবাক হতবিহ্বল,বাকরুদ্ধ,স্তব্ধ সব যেন ওকে রীতিমত গ্রাস করেছে। মুখায়বে অবিশ্বাস নিয়ে মেয়েটা হাঁ করে রইল। মাথাটা ঠান্ডা হতেই তিতলির মস্তিষ্ক জ্বলে উঠলো। দুঃখে কষ্টে তিতলির রীতিমত হাউমাউ করে কাঁদতে ইচ্ছে করছে। লজ্জায় যেন ছাঁদ ফাঁক হয়ে যায়। মস্তিষ্কের কানায় কানায় প্রশ্ন,

ভাল্লুক ফারাজ খানকে সে এতক্ষণ ধরে রেখেছিলো? ছিঃ তিতলি ছিঃ একি করছিলি তুই! কেউ কি তার স্যার কে জড়িয়ে ধরে? ভালো ভদ্র হলেও মানা যেতো এমন গুরুগম্ভীর, বদমেজাজি আর নাকউঁচু লোককে কিনা তুই এতক্ষণ যাবত জড়িয়ে ধরে ছিলি? তিতলি আর ভাবতে পারছে না। এখন যেন এখান থেকে পালাতে পারলেই বাঁচে। তার সাথে তো ঝিলিক আপু রুপসা আপু ছিলো। এখন কই? এই ভাল্লুক স্যার এখানে কেন? যতই সাহস নিয়ে হাটুক বড় বড় কথা বলুক! সাহসী তিতলিকে এখন কে বাঁচাবে?

ঝিলিক, রুপসা, মিলি, ওরা অসহায় চোখে তাকিয়ে আছে। তিতলির জন্য এই মুহূর্তে কিছুই করতে পারছে না। দুইটা টু শব্দ করতে গেলেই যেন ঘোর বিপদ। তিতলির সাথে যে তাদেরও ছাড়বে না সেটা বলা যায়। ঝিলিক ফিসফিস করে বলল,

”রুপ আমাদের মনে হয় ফারাজ ভাইয়া কে থামানো উচিত! না হলে যদি তিতলি কে রাগের মাথায় থাপ্পড় দেয় তখন কি হবে? ”

”আমি যেতে পারবো না! তোরা যা বোন!”

”কি বলছিস ভাইয়া কি রেগে গেছেন দেখতে পাচ্ছিস? ”

”যদি আমাদেরও শাস্তি দেই তখন কি করবি? ”

ওরা আল্লাহ আল্লাহ করছে তিতলিকে যেন ছেড়ে দেয়।

.

.

ফারাজের রাগ তখন সীমা ছুঁয়ে গেছে। মেজাজ তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে। শরীরের প্রত্যেকটি শিরা–উপশিরা দপদপ করছে রীতিমত! পারছে না থাপড়ে বেয়াদব মেয়েটার সব দাঁত ফেলে দিতে। কান থেকে ফোন নামিয়ে নিলেন মুহূর্তেই! এক মিনিটের জন্য দু চোখ বন্ধ করে ক্ষিপ্ত মেজাজ শান্ত করার বৃথা চেষ্টা চালাচ্ছেন।

তিতলি ভয়ে ভয়ে ভীষন সাহস যুগিয়ে একটানা বলল,

”শুনুন!”” আপনাকে আমি ইচ্ছে করে ধরিনি! আমরা কানামাছি খেলছিলাম! আপনি হঠাৎ কোথায় থেকে উড়ে এসেছেন ? আমার কোনো দোষ নেই! ” ——

যুবক দাঁতে দাঁত চাপল পরক্ষণে। এক আকাশসম রাগ নিয়ে পরক্ষনেই শক্ত মেজাজে বললেন,

”একটা মেয়ে হয়ে পরপুরুষ কে জড়িয়ে ধরে তার ইজ্জত নিয়ে কানামাছি খেলছেন, আবার বলছেন আপনার কোনো দোষ নেই! বারবার ছাড় দিয়েছি বলে আপনি উড়েছেন! এবার আপনি দেখবেন কিভাবে….. আপনার ডানা ভেঙে যাই !” বলে এদিক ওদিক তাকালেন তিনি।

তর্জনে গর্জনে সপ্তাদশীর কিচ্ছু যায় এলো না। বরং মেয়েটা ত্যাড়া কণ্ঠে বলল,

”আমি কি দেখেছি আপনি এসেছেন! আপনার ইজ্জতে কি আমি লঙ্কা মরিচ লাগিয়ে দিয়েছি? আমার বয়েই গেছে আপনার মতো ভাল্লুক স্যারকে জড়িয়ে ধরার। ”

তিতলির কথায় ফারাজের বাড়ন্ত রাগে যেন ঘিঁ পড়লো। মুহূর্তেই এদিক ওদিক তাকিয়ে ডাকলো,

”ঝিলিক এক্ষুনি এদিকে আয় তো?”

ঝিলিক তো ভয়ে শেষ। মনের ভেতরে কু ডাকছে এই ভেবে যে তাকেও কি তাহলে তিতলির সাথে কোনো শাস্তি দিবে? ঝিলিক ভয়ার্ত গলায় শুধালো,

”জ্বি…ভা–ভাইয়া…”

ফারাজ কিছুক্ষণ ভেবে চিন্তে ঠোঁঠের কোণে বাঁকা হাসির রেখা টানলো অতঃপর বললেন,

”নিচে গিয়ে বড় দেখে একটা কুমড়া নিয়ে আয় তো? ”

”ক—কেন ভাইয়া কুমড়া দিয়ে কি করবেন?”

”ফারাজ চোখ গরম করে ঝিলিকের দিকে তাকাতেই…..’

ঝিলিক ভয়ে ভয়ে বলল,

”ভাইয়া তিতলির কোনো দোষ নেই! আমরাই ওকে কানামাছি খেলার কথা বলেছি। ” ওকে ছেড়ে দেন।”

”তোকে আমি অন্য কারো গান গাইতে বলিনি। আর একটা কথা না বলে যেটা বলছি সেটা নিয়ে আয়। ”

ঝিলিক অসহায় চোখে একবার তিতলির দিকে তাকালো। মেয়েটাকে তারা যুদ্ধের ময়দানে ফেলে দিয়েছে? বড্ড অপরাধবোধ কাজ করছে মেয়েটার মনে। ভালোই বুঝতে পেরেছে আজ রফাদফা কিছু হয়ে যাবে। ঝিলিকের সাথে সাথে রুপসা মিলি,ওরাও নিচে চলে গেলো।

এর মাঝেই তিতলি ভেঙ্গিয়ে বলে উঠল…..

”আপনি ঝিলিক আপুকে কুমড়া আনতে বলেছেন কেন? আপনি কি কুমড়া খেয়ে নিজের রাগ কমান? খেতেও খুব পছন্দ করেন বুঝি? ”

”ফারাজ বিরক্ত চোখে তাকালো বেয়াদব মেয়েটার মুখপানে! কুমড়াটা আনুক শুধু তারপর বুঝাবে পছন্দ করে কিনা! ”

তিতলি আবারও দুঃখ করতে করতে বলল,

”আমার হাত চুলকাচ্ছে ছিঃ আমি এ কাকে জড়িয়ে ধরেছিলাম! কলেজের সুন্দর সুন্দর সিনিয়র ভাইয়েরা হলেও নিজের মনকে বুঝাতে পারতাম! আমার হাত ধুতে হবে আমি তাহলে যায় হ্যাঁ—–আপনি বরং কুমড়া খান শরীরের জন্য পুষ্টিকর!”—

বলেই যে তিতলি চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়াবে —- অমনি শক্তপোক্ত হাত সবেগে কনুই চেপে ধরল ওর। —— যুবকটা রুঢ় গলায় বললেন,

”আর এক পা সামনে এগানোর চেষ্টা করবেন! আই সয়ার,, আপনাকে ছাঁদ থেকে নিচে ফেলে দিবো।”

তিতলি একবার নিজের হাতের দিকে তাকালো! অতঃপর স্রেফ বললো,

”আমাকে ফেলে দিলে তো আমার জামাই তার কিউট সুন্দরী বউটাকে বিয়ে করার আগেই বিধবা হয়ে যাবে। আমাদের এখনো সংসার করা বাকি হানিমুনে যাওয়া বাকি…..”

ফারাজ শীতল রাগ নিয়ে কিছুটা ঝুঁকে একদম তিতলির চোখে নজর রাখল। কন্ঠে শীতল রাগ ঢেলে ভ্রু নাচিয়ে বলল,

”বয়স তো এখনো ১৮ হয় নি সংসার হানিমুন করার কি বুঝেন হ্যাঁ?”

তিতলির সহজ সরল স্বীকারোক্তি,

”হানিমুন মানে ঘুরে বেড়ানো আর ছবি তুলে আপলোড দেওয়া। আর সংসার করা মানে বাচ্চা কাচ্চা সামলানো……’

ফারাজ ভ্রু কুঁচকালো মুহূর্তেই। ধমকের সুরে চেঁচিয়ে বললেন,

”চুপ বেয়াদব মেয়ে! এক থাপ্পড় দিবো না। একমাস কাউকে মুখ দেখাতে পারবেন না।”

”দূরে সরুন! ভাল্লুক স্যার কোথাকার…… ”

আপনার মতো বেয়াদব মেয়ের উপর ফারাজ খানের কোনো ইন্টারেস্ট নেই মিস তিতলি ! আই রিপিট আপনাকে শাস্তি দিবো! আই ডোন্ট নিড অল দিস!

সহসা দরজার কাছ থেকে ভয়ার্ত গলায় ভেসে এলো,

”ভা….ভাইয়া কুমড়া নিয়ে এসেছি!”

#চলবে

#রাগে_অনুরাগে

#পর্ব_৮ [দ্বিতীয় _অংশ]

#সুহাসিনি_ফাতেহা

”নিয়ে আয়!”

কি শানিত কণ্ঠ! সপ্তাদশীর বুক ছ্যাৎ করে উঠল। আঁচ পেলো মানুষটার ক্ষুব্ধ মেজাজের। কালো শার্ট, প্যান্ট পরা যুবকটার দিকে হা করে চেয়ে রইলো। এতক্ষন ভালো করে না তাকালেও তাকাতেই যেন এই লোকের উপর নতুন করে ক্রাশ নামক বাঁশ খেলো মেয়েটা। যখন ফারাজ খান কলেজে নতুন জয়েন হয়েছিল তখন তিতলি লোকটার দিকে তাকিয়ে থাকতো মনে হতো এভাবে যদি সারাজীবণ তাকিয়ে থাকতে পারতাম। কিন্তু একদিন তিতলি ক্লাসে গালে হাত রেখে ফারাজের দিকে চেয়ে ছিলো বলে — অপমান করে ক্লাস থেকে বের করে দেয় তিতলিকে! তখন থেকেই সপ্তাদশী ভেবে নিলো জীবণে আর কখনো এই নাকউঁচু লোকের দিকে ফিরেও চাইবে না। একদম চাইবে না। শুধু ঝগরা করবে! সপ্তাদশীর অভিমানে সেদিন রাত টা একদম ভালো কাটেনি। কিন্তু অবাধ্য মন কি আর মানে? আড়ালে আবড়ালে মেসেজ দিয়ে বিরক্ত করা সব যেন আর বেড়েছিল। কিন্তু এতকিছু করেও কোনো লাভ হলো না। তিতলির এই নিয়ে দুঃখে রীতিমত মাঝে মাঝে কাঁদতে কাঁদতে বালিশ ভিজিয়ে ফেলে। নিজের প্রতি হতাশায় দ্বিখণ্ডিত বুক! কি পাষান লোক একটু মায়াও নেই মনে।

” মাথায় কুমড়া টা তুলে দে!”

তিতলি যখন হা করে ফারাজের দিকে তাকিয়ে ভাবনায় বিভোর ছিলো,

আদেশ টা ধেয়ে এলো তখনি!

নড়েচড়ে তাকালো তিতলি! প্রশ্নটা কি তাকেই করেছে?

সে বেশ দ্বিধাহীনতায় মিনমিন করে বলল,

”আমাকে বলছেন? আমি আপনার মাথায় তুলে দিবো! ঝিলিক আপু কুমড়া টা দাও তো আমি তুলে দিচ্ছি!”

”আপনাকে তুলে দিতে বলি নি। আপনার মাথায় তুলে দিতে বলেছি!”—— ফারাজ ফের ঝিলিকের উদ্দেশ্য হুকুম ছাড়লেন,

”কি বলছি শুনতে পাস নি?”

”কি-কি বলছো ভাইয়া এত বড় কুমড়া ওর মাথায় তুলে দিবো!”

”তুকে দিতে বলছি দে?”

”ভাইয়া দোষ তো আমাদেরও ছিলো তুমি কেন একা তিতলিকে শাস্তি দিচ্ছো?”

”আমি কৈফিয়ত দিই না সেটা নিশ্চয় তোরা জানিস!”

ভাইয়ের সাথে এক কথায় উপর দুই কথা বলতে না পারা ঝিলিক আজ ভয় পেলো না। সে কিছুতেই চাই না তিতলির মতো মিষ্টি মেয়েটার সাথে এমন কাজ করতে। নিজেকে শক্ত করে ফের উত্তর দিলো,

”ভাইয়া তুমি জানো না ও বাড়ির মেহমান! তুমি তো কখনো বাড়ির মেহমানদের সাথে এমন করো না।”

”আচ্ছা তাহলে তোর সাথে করি! নে কুমড়া টা মাথায় তুলে পুরো ছাঁদে হাঁটা শুরু কর! তোর যেহেতু এত দরদ উপছে পড়ছে তাহলে শাস্তি টা তোরই দি!”

ভয়ে ঝিলিকের রুহুআত্মা কেঁপে উঠলো। চার-পাঁচ কেজির বড় একটা কুমড়া! এটা মাথায় নিয়ে হাঁটলে নিশ্চিত মাথা আর মাথার জায়গায় থাকবে না।

”ঝিলিক আপু তুমি আমার মাথায় কুমড়া টা তুলে দিতে পারো। আমি কিন্তু মাইন্ড করবো না।”

”সুন্দর সাবলীল ভাষায় বলে আঁড়চোখে ফারাজের মুখের দিক তাকাল মেয়েটা ৷ ব্যাটার চোখমুখের কোনো পরিবর্তন নেই৷ আরে কানাটা কী দেখছে না তিতলির এই সুন্দর পরিবর্তন! সে নিজ থেকে বলছে এটা কম কিসের! আসলে,লোকটা একটা কানা! ”

ঝিলিক অসহায় চোখে কাঁপাকাঁপা হাতে তিতলির মাথায় কুমড়া টা তুলে দিলো।

তিতলির মাথায় কুমড়া টা তুলে দিতে দেরি ওর হাটতে দেরি হয় নাই। বিধিবাম কয়েক পা এগোতেই আচমকা তাল হারিয়ে ফেলল মেয়েটা। হোচট খেয়ে পড়লো কারো গায়ের উপর। সে লোকটাও আকস্মিক তাল হারিয়ে নিচে পড়ে গেলো তখনি। তবে নিজেকে যথেষ্ট সামলিয়ে!

তৎক্ষণাৎ ফারাজ তীক্ষ্ণ কণ্ঠে শুধালো,

”জানতাম আপনি এমন কিছু করবেন। বেয়াদব মেয়ে! ওঠো বলছি!”

তিতলি কিছু বলল না। সে হাঁ করে চেয়ে আছে। ফারাজের চওড়া বুকে পড়ে আছে বুঝতেই জগত পাল্টে গেছে বিমোহে। শরীরে বিদ্যুৎ প্রবেশ করেছে যেন। থরথর করে কাঁপতে চাইছে শরীর। লোকটার শরীর থেকে কি সুন্দর একটা ঘ্রাণ আসছে! সে ঘ্রাণে তিতলি হারিয়ে গেছে যেমন।

ফারাজ ভ্রু কুঁচকালো। খসখসে কণ্ঠে বলল,

”উঠবেন নাকি তুলে আছাড় দিবো!”

সপ্তাদশী নিজের মধ্যে নেই। খেই হারিয়েছে অনুভূতিতে। তৎক্ষণাৎ জ্বিভ ফস্কে বেরিয়ে এলো,

”না উঠলে হয় না… ”

”ঝিলিক গাছ থেকে একটা ঢাল ভেঙে আনতো….”

ঝিলিক মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে আছে ওদের দিকে। কি মানাচ্ছে দুজনকে। তার ভাইতো কখনো কোনো মেয়ের দিকে তাকায় না। ঝিলিকের ভাবনার মাঝেই তিতলি হুশ ফিরে এলো। নিজের অবস্থান বুঝতে পেরে মেয়েটা তখনি উঠে দাড়ালো। নিজের কাজে লজ্জায় মেয়েটা আর সেখানে দাড়াতে পারলো না। দৌড়ে চলে গেলো ছাঁদ থেকে।

.

.

সেদিন রাতে একটু ঘুম চোখে ধরা দিলো না সপ্তাদশীর। চোখ বন্ধ করলেই শুধু ভেসে উঠেছে ছাঁদের সেই দৃশ্যটা। সে ওই গম্ভীর লোকের উপর পড়ে ছিলো ভাবতেই মেয়েটার মুখখানা লজ্জায় লাল নীল হয়ে যায়।

সকাল ছয়টা ত্রিশ মিনিটে উঠে গেলো তিতলি। চলে যাবে বাড়ি! এই বাড়ি আর একমুহূর্ত ওনা। ওয়াশরুমে গিয়ে ফ্রেশ হতেই চোখ পড়লো তার পায়ে নুপুর একটা নেই। সপ্তাদশীর মুখটা অন্ধকারে ঢেকে গেলো। তার পছন্দের নুপুর হঠাৎ পা থেকে উধাও হয়ে গেলো। তিতলি ভাবলো হয়তো ছাঁদে পড়ে গেছে। তাই আর একমুহূর্ত না দাড়িয়ে চলে গেলো ছাঁদের উদ্দেশ্য।

কিন্তু ছাঁদে গিয়ে দেখলো দরজায় তালা দেওয়া।

”ভোরে ভোরে উঠে চুরি করে পালাতে চাচ্ছেন নাকি?”

সহসা পেছন থেকে পুরুষালী গম্ভীর কণ্ঠ শুনে ঘাঁড় ঘুরিয়ে পেছনে ফিরলো তিতলি। দেখলো স্বয়ং ফারাজ খান দাড়িয়ে আছেন। পরনে ছাই রঙা স্যান্ডো গেঞ্জির সাথে কালো ট্রাউজার। দেখতে মনে হবে এক্সারসাইজ করবেন।

তিতলির লজ্জা এখন কই গেলো। রাতে সে কি লজ্জা মেয়েটার ঘুমাতে পারছিলো না। আর এখন? এখন কই এত লজ্জা?

সে ও পাল্টা জবাব দিতে শুরু করলো,

”চুরি করতে আসিনি! আমার নুপুর চুরি হয়ে গেছে কে জানি আমার শখের নুপুর গুলো চুরি করেছে।”

”ওহ—— ”

শব্দ কম কণ্ঠ নিরেট।

তিতলি থামলো না। মুখখানায় দুষ্ট হাসি ফুঁটিয়ে ফের বললো,

”রাতে আমি সত্যি হোচট খায় নি! আমি ইচ্ছে করেই আপনাকে ফেলে দিয়েছি কেমন লেগেছে? একদম ঠিক করেছি না? আপনি শাস্তি দিতে চেয়েছেন? আমি আপনাকে ফিরিয়ে দিয়েছি! আগে শাবানা ছিলাম! কিন্তু সঙ্গ দোষে লোহা ভাসে তাই এখন আমি রিনা খান!””

#চলবে

[কেমন হয়ছে ভালোবেসে জানাও]

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply