রাগে অনুরাগে
.#পর্ব_৩১ এর প্রথম অংশ
ফারাজ শ্বশুরের সাথে ড্রয়িংরুমে এসে সবার সাথে নতুন জামাইর মতো কথা বলে এখন সোফায় বসেছেন। ডাইনিং টেবিলে হড়েক রকমের নাস্তা- পানি মিষ্টি, ফলমূল দিয়ে ভরা।
ফরিদা বানু নামজামাইকে বললেন,
“নাতজামাই আইয়ো আমরা একলগে গপ্পো করি।”
ফারাজ মোবাইলের স্ক্রিন থেকে চোখ তুলে পাশ ফিরে তাকালো। বৃদ্ধমহিলাটা তার সাথে গল্পও করবে? যেমন নাতিন তেমন দাদি। সেটা সে বিয়ের দিন থেকেই টের পেয়েছে। কিছু না বললে খারাপ দেখায়। তাই সে সম্মতি জানাতেই ফরিদা বানু আস্তে করে করে বললেন,
“মোর নাতিন কেমন নাতজামাই?”
ফারাজের শৈলপ্রান্ত বেঁকে গেল এমন কথায়। গম্ভীর স্বরে বলল,
“আলহামদুলিল্লাহ আপনার নাতিন লাখে একটা।”
ফরিদা বানু খুশি হলেন। মনে করিয়ে দিয়ে ফের বললেন,
“আগে কইছিলাম না আমার নাতিন লাখে একটা দেইখলা কীভাবে মিল্লা গেল? তোমার দাদাশ্বশুর ও দেইখতে তোমার লাহন ছিলো। মাস্টারি কইরতো।”
তাদের কথার মাঝেই তুষার আসলো তখন। অয়নকে সাথে করে এনেছে। রাতে এখানে থাকবে অয়ন। ফারাজ ভাইকে দেখেই তুষার ও অয়ন দুজনেই সালাম দিলো,
“আসসালামু আলাইকুম! কেমন আছেন ফারাজ ভাই?”
“আলহামদুলিল্লাহ ভালো তুমি কেমন আছো?”
তুষার ভদ্রতায় গম্ভীর সুরে বলল,
” এইতো ভালো!”
অয়ন পাশ ফিসফিস করে বলল,
“আরে শালা এখনো ফারাজ ভাই ভাই করে ডাকছিস? তোর ছোট বোনের জামাই! নাম ধরে ডাক!”
তুষার অয়নকে উত্তরে বললো,
“একটা বললেই তো হয়ছে! ফারাজ ভাই বয়সে আমার বড় হয়, শালা! বয়স বা ছোট বোনের জামাই সেটা মেটার করে না সম্মান সবচেয়ে বেশি মেটার করে। ছোট বড় বলে কথা নেই।
অয়ন তুষারের দিকে তাকিয়ে বলল,
“বুঝলাম।”
তুষার ফারাজ ভাইকে বলল,
“আপনি বসেন ফারাজ ভাই! আমি উপর থেকে চেঞ্জ হয়ে আসি।”
তুষার চলে যেতেই তৌসিফ শেখ মেয়ের জামাইর পাশে বসে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলতে শুর করলেন।
.
.
তিতলি শাড়ি চেঞ্জ করে এমব্রয়ডারি গোল জামা পরে গলায় ওড়না জড়িয়েছে। ওসব শাড়ি পরে থাকা যায় না। সে তো পরতেই পারে না। কেউ পরিয়ে দিলেও একঘন্টা পর কিভাবে যেন সব কুচি খুলে যায়।
রুম থেকে বেরিয়ে ভাইয়ের রুম দিয়ে যেতে দরজা খোলা দেখে ভেতরে উঁকি দিয়ে দেখলো রুমে অয়ন বসে আছে।
অয়ন তিতলিকে লক্ষ্য করে চোখ নামিয়ে নেয়। না দেখার মতো পা দুলাতে থাকে।
তিতলি ভেতরে ঢুকে অয়নকে দ বলল,
“অয়ন ভাইয়া তুমি কখন এসেছো?”
অয়ন আড়চোখে তিতলির দিকে তাকায়।
মুচকি হেসে বলল,
“এখন আসলাম। তো কেমন আছেন ভাবি?”
তিতলি লজ্জায় মুখ লাল করে নিলো ভাকি ডাক শুনে। নিজেকে ফারাজের বউ বউ লাগে। এমনিতে তো বউ। তবে ভাবি ডাক শুনলে কেমন যেন লাগে তার। পরক্ষণেই বলল,
“ভালো আছি ভাইয়া। তুষার ভাইয়া কই?”
“ওয়াশরুমে গোসল করছে। আসার পথে প্রেমিকার সাথে কথা বলতে বলতে ময়লার ডাস্টবিনে পরে গেছে।”
তিতলি অয়নের কথা শুনে চেঁচিয়ে বলল,
“কিহহহ! কার সাথে প্রেম করছে?”
“প্রেম করছে না শুধু! বিয়ে করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে।”
তিতলির জানামতে তার ভাইয়ের কারো সাথে কখনো প্রেমের সম্পর্ক ছিলো না। এখন এসব শুনে অবিশ্বাস নিয়ে বলল,
“সত্যি? কার সাথে একটু বলেন না অয়ন ভাইয়া?”
পেছন থেকে তুষার বেরিয়ে এলো। ওয়াশরুম থেকে প্যান্ট গেঞ্জি পরে বের হয়ছে। দতোয়ালে দিয়ে মাথার ভেজা চুল মুছতে মুছতে পেছন থেকে তিতলির মাথায় টোকা দিয়ে বলল,
“তুই জেনে কি করবি?”
তিতলি পেছনে ফিরে ভাইকে বলল,
“বাহ রে আমার ভাইয়া কার প্রেমে পড়ে ডাস্টবিনে পরেছে সেটা আমি জানতে চাইবো না? দেখি সে মেয়ের বাড়ি চলো দুইটা কথা শুনিয়ে আসি।”
অয়ন চোখ বড় বড় করে ফেলল। তবে তুষারের মুখে বিন্দুমাত্র পরিবর্তন দেখা গেলে না। সে আগের মতোই বলল,
“বেশি বুড়ি হয়ে গেছিস তিতলি।”
তিতলি নাক ফুলিয়ে বলল,
“আমাকে বুড়ি না? তুমি ১০০ বছরের বুড়া ভাইয়া।
আমি এখন নিচে গিয়ে আব্বুকে নালিশ দিবো তুমি প্রেম করো। বলে তিতলি বেরিয়ে এলো।
.
.
এর ভেতরে আরো একদিন কেটে গেছে। তিতলি এখনো বাবার বাড়িতেই। ফারাজ প্রথম রাত থাকতে পারেনি। আফজাল খানের প্রেসার বেড়েছিল সেদিন রাতে। তাকে নিয়ে হাসপাতলে যেতে হয়েছে অনেক রাতে। তাই আসতে পারেনি। কিন্তু আজকে আসার কথা। এখনো আসছে না কেন?
এখন রাত নয়টা। তিতলি লেডিস গেঞ্জি পরে বিছানায় কোলবালিশ জড়িয়ে শুয়ে শুয়ে ফেসবুক স্ক্রল করছে। এটা তার আগের ফোন। বিয়ের পর ফারাজ ফোন একটা কিনে দিলেও সেটায় ফেসবুক একাউন্ট খুলে নি।
ফারাজকে দুবার কল করেছে একবার রিসিভ করেনি। ফোন বিজি দেখাচ্ছে। মেসেজও সিন করে রিপ্লাই করিনি। কেন ফোন রিসিভ করেনি মেসেজ দেয় নি। তাই তার কিশোরী মনে প্রচন্ড অভিমান জমেছে। চোখ ভিজে এসেছে। তখন নিধির কল এলো।
তিতলি ফোন রিসিভ করে কানে ধরলো,
ওপাশ থেকে নিধি বলল,
“কি খবর বেইবি?”
তিতলি: “ভালো নাই।”
নিধি: “দুলাভাই..থু্ক্কু ফারাজ স্যার কোথায়?”
তিতলি: “আমি কি জানি!”
“তুই জানবি না আর কে জানবে? কতটুকু ঘায়েল করতে পেরেছিস? পুরুষ মানুষ কিন্তু চম্বকরের মতো। দুলাভাই যদি তোকে এখনো কিছু না করে তাহলে সিস্টেমে সমস্যা আছে।”
“কল রাখ নিধি! আজকে আমার মন ভালো নেই।”
বলে তিতলি ফোন কেটে দিলো। তিতলি ফেসবুকে আবার ঢুকে ফারাজের আইডিতে ঢুকলো। এক্টিভ দেখাচ্ছে। হোয়াসঅ্যাপ এ তার কল রিসিভ করছে না। তিতলির হঠাৎ মনে পড়ল ফেইক আইডির কথা। কিছু একটা ভেবে ফেইক আইডি লগইন করলো। ভাল্লুককে মেসেজ দিবে। তাকে তো চিনে না? একটু পরিক্ষা করে দেখা যাক। অনেক ভেবেচিন্তে লিখলো,
“শুনলাম আপনি বিয়ে করে ফেলেছেন? হাউ ডেয়ার ইউ? আমার ফিউচার আলু-পটলের বাপ হয়ে অন্য একটা মেয়েকে বিয়ে করলেন? থাক ব্যাপার নাহ! আপনার বিবাহিত জীবন কেমন চলছে শুনি? বউ কি রোজ ঝাড়ি দেয়? মেয়ে আমার মতো কিউট তো?”
পাশে দুইটা দুঃখের ইমোজি দিয়ে সেন্ড করে দিলো।
.
.
ফারাজ খান শ্বশুর বাড়ির গেইটে নিজের বাইক থামিয়ে আফজাল খানের সাথে কি নিয়ে যেন কথা বলে ফোন রাখতেই হঠাৎ নোটিফিকেশনে বেজে উঠছে দেখে ভ্রু কুঁচকে এক নজরে পুরো মেসেজ পড়লো। সহসা যুবক ঠোঁটের কোণ বাঁকিয়ে ক্রুর হাসল। ভেতরে যেতে যেতে ব্যস্ত হাতে টাইপ করে লিখলো,
“আলহামদুলিল্লাহ! বিবাহিত জীবনে আপনার কার্বন কপি একটা বেয়াদব বউ পেয়েছি। এখন তার কাছেই যাচ্ছি দুই গালে দুইটা থাপ্পড় দিতে। পরে কথা হবে অচেনা বউ!”
.
.
তিতলি মোবাইল নিয়েই বসে ছিলো। ভেবেছিলো কোনো মেসেজ আসবে না। কিন্তু এখন টুং করে মেসেজের শব্দ হয়ে সে দেখলো ফারাজের মেসেজ। তিতলি চোখ পিটপিট করল বিস্ময়ে। নাক টানল। কোটর সব ভরে উঠেছে। অভিমান হলো তার। অনুরাগের পাহাড় এত উঁচু হলো যে সব ছেড়ে ছুড়ে বেদুইন হতে মন চাইল। তার কল রিসিভ করে না। মেসেজ সিন করে রিপ্লাই দেই না। এখন ফেইক আইডি থেকে মেসেজ দিতেই সাথেসাথে রিপ্লাই দিলো। না জানি আর কত মেয়ের সাথে কথা বলে। আবার অন্য মেয়ের কাছে বলে সে বেয়াদব। বিছানা থেকে নেমে ড্রয়ার থেকে ইনজেকশন নিয়ে বসে থাকলো। মনে মনেনে বিড়বিড় করে বলল,
“আজকে আসুক! এই ইনজেকশন দিয়ে আমি ছাড়া মনের সিন্দুকে আর কয়টা বেডি আছে সব একটা একটা করে বের করবো।”
#রাগে_অনুরাগে
#পর্ব_৩১(শেষাংশ)
#সুহাসিনি_ফাতেহা
“আজকে আসুক! এই ইনজেকশন দিয়ে আমি ছাড়া মনের সিন্দুকে আর কয়টা বেডি আছে সব একটা একটা করে বের করবো।”
বিড়বিড় করে তিতলি সম্পূর্ণ রুম জুড়ে পায়চারি শুরু করল। বুকের ভেতর দাউদাউ করে জ্বলছে। ফাঁকাফাঁকা লাগছে মস্তিষ্কের মধ্যে। মাথায় অনেক চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে। কিন্তু কিছুই বুঝতে চাইছে না, জানতে চাই না, ভাবতে চাই না। সে শুধু জানে ফারাজ তাকে কেন কল করলো না সারাদিনে। সে দিলেও ধরে নি। আর যখনই ফেইক আইডি থেকে মেসেজ দিলো সাথে সাথে রিপ্লাই? আবার বলে তাকে থাপ্পড় দিতে আসছে এখন? তিতলির হাতজোড়া নিজের নরম দুগালে চলে গেল। সত্যি কি তাকে মারবে? মারলে সেও মারবে। সে ভয় পাবে না একদম! শেষমেষ আবার বিছানায় এসে বসল। কেঁদেকেটে ভাসিয়ে ফেলেছে। একসময় নাকের পানির জ্বালায় উঠে টিস্যু নিয়ে বসলো৷ আমতাআমতা করে বলল,
“কান্না করেও শান্তি নেই৷”
আচমকা দরজায় টোকা দিলো কেউ। তিতলি নিজের দুঃখে বাঁচেনা। এখন সে রুম থেকে বেরোতে পারবে না। বিছানায় বসে থেকেই তিতলি নাক টেনে বলল,
“আমি ঘুমিয়ে গেছি আম্মু! উঠতে পারবো না।”
আবার দরজা ধাক্কালেন কেউ। শোনা গেল ফরিদা বানুর কন্ঠ,
“দেহি দরজা খোল নাতজামাই আইছে। পরে ঘুম যাইতে পাইরবি।”
তিতলি বসা থেকে দাঁড়িয়ে পড়ল দাদুর কথা শুনে। অভিমানে বুক কেঁপে উঠলো সপ্তদশীর। নাতজামাই আসুক, টাতজামাই আসুক, নাহলে নদীতে ভাসুক! সে দরজা খুলবে না। অচেনা বউয়ের কাছে যাক। আমার কি? দরজার কাছে গিয়েও আবার ফিরে এসেছে। গলা ছেড়ে দিয়ে বলল,
“তো আমি কি করবো? গেস্ট রুমে পাঠিয়ে দাও।”
ফরিদা বানু একবার নাতজামাইর দিকে তাকালেন। পাশে দাঁড়িয়ে আছে। নাতিনের কথা শুনে কি ভাবছে কে জানে। নাতিনকে আবার বললেন,
“এগিন কি কস নাতজামাই গেস্টরুমে থাইকতো যাইবো ক্যান?”
তিতলি বিছানায় বসে পা দুলাতে থাকে। আজকে যেভাবেই হোক ইনজেকশনটা বুক বরাবর পুশ করে দিবে। কিভাবে কি করবে সব বুদ্ধি খাটিয়ে ভাবলো। আবারও একই ভাবে উত্তর দিলো,
“মেহমানরা তো গেস্ট রুমে থাকে দাদু!”
ফারাজ খান দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন ফরিদা বানুর সাথে। কাল আসলেও উপরে উঠা হয়নি। তাই তিতলির রুম কোনটা সেটায় অবগত নয়। ফারাজের রাগ হচ্ছে তিতলির কথা শুনে। হাতজোড়া মুষ্টিবদ্ধ হয়েছে তার আনমনে। তাও অনেকটা শান্ত ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে। তার সুদর্শন গম্ভীর মুখখানা আরো গম্ভীর হয়েছে এবার।
ফরিদা বানু নাতজামাই কে বললেন,
“নাতিনের কথায় কিচ্ছু মনে কইরো না নাতজামাই! নাতিন মনে হইতাছে ঘুমের ঘোরে আবলতাবল বকতেছে।”
ফারাজের চিবুক শক্ত! কত যে ঘুম যাচ্ছে সে খুব ভালো করেই সে জানে। ইচ্ছে করে এসব বলছে। শুধু দরজাটা খোলুক তারপর জন্মের ঘুম পাড়াবে সে। দাদি শাশুড়ির কথা শুনে ভদ্রতা দেখিয়ে গম্ভীরস্বরে বলল,
“কিছু মনে করার নেই।”
তিতলি রুমে বসে বসে শুনল সব। মুখ ভেঙিয়ে নিজেও বলল, কিছু মনে করার নেই! কিছু মনে করবে কেন? সে দরজা না খুললে তো ওনি আরো খুশি। চলে যাবেন। তিতলি এবার উঠে এলো দরজার কাছে। হাতের ইনজেকশন টা পেছনে লুকিয়ে রেখেছে। দরজার ছিটকিনি খুলতে গিয়ে হাত কাঁপছে তার। দরজা খুলে দিয়ে আড়ালে দাঁড়িয়ে থাকল।
ফরিদা বানু নাতজামাইকে হাসিমুখে বললেন,
“ঢুইকা পড়ো নাতজামাই! আমি যাই তাইলে।”
ফরিদা বানু চলে গেলেন। ফারাজ রুমের ভেতরে ঢুকে পুরো রুমে একবার নজর বুলালো। বিছানার চাদরের অবস্থা বেগাতিক। কোলবালিশ মেঝেতে পড়ে আছে। মনে হচ্ছে এখনই রুমের ভেতর কোনো ছোটখাটো যুদ্ধ হয়েছে। বেয়াদব বউকে দেখছে না কেন? হঠাৎ দরজার আড়ালে তিতলির ফর্সা পা দুটো দেখল। সহসা ধারালো দাঁতের স্পর্শে নিজ নিম্নাংশের ঠোঁটখানা পিষ্ট করল যুবক। দরজাটা সুশব্দে লাগিয়ে দিয়ে নজর বন্দী করল তিতলির দিকে। কাঁদতে কাঁদতে লাল টুকটুকে ভাব ধরেছে সপ্তদশীর সরু নাকের ডগাটা। ঠোঁট ফুলে কলাগাছ! ফুসছে নাক। যেন কেঁদে উঠবে।
অশ্রুসিক্ত নয়নে মেঝেতে তাকিয়ে আছে তিতলি। ফারাজ খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছে। গায়ে ওড়না নেই। তারউপর একটা গেঞ্জি পরা। মাথার ঘনকালো কেশরাশি গুলো খোঁপা করে বাঁধা। গালের দুপাশে বিক্ষিপ্ত আকারে আছড়ে পড়েছে ছোটবড় কিছু চুল। পুরো পিচ্চি মেয়ে লাগছে তার বউকে। আশ্চর্য! মেয়েটার এহেন রুপ তার বড্ড মনে ধরল। কেমন গভীরদৃষ্টে তাকিয়ে থেকে বিড়বিড় করে আওড়াল,
এই পিচ্চি বউ বড় হবে কবে? ভাবছিলো, রুমে এসে দু গালে দুইটা থাপ্পড় বসিয়ে দিবে। তবে এইমুহূর্তে তার রাগী চেহারায় পরিবর্তন দেখাল। তৎক্ষণাৎ দু কদম এগিয়ে এসে একদম তিতলির সম্মুখে এসে দাঁড়াল। তিতলি কেঁপে উঠল। হাত বাড়িয়ে চোয়ালখানা ধরতে গেলেই তিতলি পেছনে সরে যায়। হাত একটা পেছনে লুকিয়ে রেখেছে। ইনজেকশন দিয়ে সুযোগ বুঝে কাজ করবে। অভিমানে তার কন্ঠে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে,
“কেনো এসেছেন আপনি? আপনাকে কি আমি আসতে বলছি?”
ফারাজের ভ্রুযুগলে সূক্ষ্ম ভাঁজ পড়েছে। তিতলির কথাটা গায়ে না মেখে ফের কাছে যেতে চাইলে তিতলি দরজার দিকে ঘুরে গেল। সরু নাকের পাটাটা সামান্য ফুলিয়ে, মুখ ঝামটি মে’রে বলে বসে,
“খবরদার ছোঁবেন না আমায়!”
অলক্ষ্যে ঠোঁট পিষে হাসল ফারাজ। বউকে জ্বালানোর জন্য তার অশান্ত মনটা খুবই অস্থির হয়ে উঠেছে। এমন সুযোগ হাত ছাড়া করবার মানুষ কি আর সে? তক্ষুনি তিতলির একদম পেছনে এসে দাঁড়লো। ফর্সা তুলতুলে ঘাড় উন্মুক্ত। লম্বা করে নিশ্বাস ফেলল সেখানে। নারীদেহের ঘায়েল করা স্মেল নাকে এসে ঠেকল। তার ইচ্ছে হলো বাড়াবাড়ি করে অনেক কিছু করে ফেলতে। সেদিনের কামড়ের জায়গা টা এখনো লাল দাগ হয়ে আছে। সেখানে নজর রেখেই হিসহিসিয়ে শুধালো,
“তাহলে অন্য কাউকে ছুঁতে হবে মনে হচ্ছে?”
তিতলি ঘুরে তাকাল। তার চোখজোড়া লাল হয়ে গিয়েছে। হিসফিস করছে মুখশ্রী। অন্য মেয়েকে ছুঁতে হবে তো? এখনও তো অচেনা বউকে মেসেজ দিয়ে তার কাছে এসেছে। যদিও মানুষটা সে নিজেই কিন্তু এটা তার কিশোরী মন মানতে নারাজ।
কন্ঠে রাগ তেজ সব মিশিয়ে বলল,
“তো যান! আপনার অচেনা বউকে কোলে নিয়ে বসে থাকুন! আমার কি?”
ফারাজের ভ্রজোড়া কুঁচকে গেলো কৌতুকে। বিদ্বিষ্ট চাউনী গভীরতা পেলো। তিতলিকে ঘুরিয়ে এনে নিজের মুখোমুখি দাঁড় করাল। দরজার সাথে মিশে গেল তিতলি। ফারাজ দরজার দুপাশে বলিষ্ঠ দুহাত রেখে সামান্য ঝুঁকে এসে তিতলির মুখের দিকে তাকালো। কিছুই জানে না এমন ভাব-ভঙ্গিমা ধরে রেখে বলল,
“অচেনা বউটা কে আবার? নাম বলো?”
তিতলি নিশ্চুপ! কিছু বলছে না। মূলত কোনো কথায় খুঁজে পাচ্ছে না এবার। অচেনা বউ তো সে নিজেই। তাহলে কি সত্যিটা বলে দিবে? না কিছুতেই বলবে না সে। আরো পরিক্ষা করবে। এবারও ফারাজের চোখে চোখ রাখল না। নিচের দিকে তাকিয়ে থেকে নাক টেনে বলল,
“আপনার অচেনা বউ কে সেটা আমি কীভাবে জানবো? যার সাথে কথা বলার জন্য আমার ফোন ধরেন নি তার কাছে যান।”
জিভের ডগায় গাল ঠেললো ফারাজ। ঘাড়টা সামান্য কাত করে, দৃষ্টি করল তীক্ষ্ণ। ভ্রু নাচিয়ে শুধাল,
“কার কাছে যাবো হুমম ? আমার বউ কে? ওকে বউ তুমি যেহেতু বলছো যেতে তাহলে যাচ্ছি।”
বলে ফারাজ চলে যাওয়ার অভিনয় করলো। এবার তিতলি রাগে ফেটে পড়ে। হিংস্র বাঘিনীর ন্যায় তক্ষুনি ফারাজের সামনে এসে দাঁড়ালো। পাহাড়সম বলিষ্ঠ পুরুষের সামনে সে বড্ড ছোট। যুবকের প্রশস্ত বুকে মাথা এসে ঠেকেছে তার। নাক মুখ সব ফুলিয়ে ডানহাতে ফারাজের শার্টের কলার টেনে ধরল। কেঁদে দিবে এমন ভাব। এত্ত বড় সাহস তাকে রেখে চলে যাবে? বা হাতে লুকিয়ে রাখা ইনজেকশন টা সোজা ফারাজের বুক বরাবর ধরল।
ওদিকে ফারাজ রেগে গেলো শার্টের কলার ধরায়। যেখানে সবাই তার কথায় উঠে বসে। এই বেয়াদব বউয়ের কত বড় স্পর্ধা তার কলার টেনে ধরে আজকে তো সে ছাড়বে না এই বউকে। কাঁচা চিবিয়ে খেয়ে ফেলবে না? রাগ কন্ট্রোলে আনতে তৎক্ষণাৎ ধারালো নেত্রদ্বয় বন্ধ করে হাতজোড়া মুষ্টিবদ্ধ করে নিলো। ফের খুলতেই তার রাগী চোখদুটো অস্বাভাবিক ভাবে শান্ত হয়ে এলো। তিতলি তার বুকে ইনজেকশন ধরে রেখেছে। হাসবে নাকি রাগবে ঠিক বুঝতে পারছে না সে। তার পাতলা ঠোঁট জোড়া কাঁপছে ধমক দেওয়ার জন্য। গলায় ধমক আটকে রেখে শান্ত ভাবে বলল,
“কলার থেকে হাত নামাও। আমাকে রাগিয়ো না।”
তিতলি কলার আরো জোরে চেপে ধরল এবার। ফুপিয়ে কেঁদে উঠল সে। কান্নার তোড়ে শরীর কাঁপছে। ইনজেকশন মেরে দিবে এমন ভাব নিয়ে বলল,
“কার..কার কাছে যাবেন বলছেন? আবার বলেন?
“কারো কাছে যাচ্ছি না আমি।”
তিতলি সে-কথা শুনেও শুনলো না। ইনজেকশনটা এবার সত্যি সত্যি মেরেই দিবে। না মারলেই যেন নয়। বুক ফুলিয়ে বলল,
“মুখের কথা বিশ্বাস হয় না। আমি ছাড়া আপনার মনের সিন্দুকে আর কয়জন বেডি আছে দেখি তো।”
তিতলি কথা শুনে ফারাজের ভ্রুজোড়া এবার মাত্রাতিরিক্ত কুঁচকে গিয়েছে। এই বউকে কি করতে মন চাই? মনের সিন্দুক? শুনেই তার গম্ভীর মুখে ভীষণ হাসি পেলো। সহসা একঝটকায় তিতলির হাত থেকে ইনজেকশনটা কেড়ে নিলো। তিতলি অন্যমনস্ক ছিলো বিধায় হাত থেকে কেড়ে নিতে ফারাজের কোনো অসুবিধা হয়নি। ইনজেকশনটা আঙুলে ঘুরাতে ঘুরাতে বাঁকা হাসির রেশ ধরে বলল,
“মনের সিন্দুক আবার কি? মনের সিন্দুক কাকে বলে হুমম?”
তিতলিও দমে গেলো না। এবার ফারাজকে বলল,
“মাথাটা একটু নিচে নামান কানে কানে বুঝিয়ে দিচ্ছি। মনের সিন্দুক!”
“মুখে বলো।”
“না মুখে বলা যায় না।”
ফারাজ ভ্রু গুছালো। বউ যেহেতু বলছে দেখি কি বুঝিয়ে দেয়। মনের সিন্দুকে আসলেই কে আছে সেটা সে পরে প্যাক্টিক্যালি বুঝাবে! এখন মাথা নামিয়ে ঝুঁকে এলো তিতলির দিকে। তিতলি পা উঁচু করলো অনেকটা। কানের কাছে মুখ নিয়ে যাবে এমন ভাব-ভঙ্গিমা ধরে রেখেই আচমকা ফারাজের পুরুষালি নাকে কামড় বসিয়ে দিলো। বড্ড জোরে কামড় দিয়েছে সে। নাকের দুপাশে তার ছোট ছোট ইদুরের দাঁতের দাগ বসেছে।
[ কিছু করার নেই, কারেন্ট আসেনি। তাই বাকি অর্ধেক মানে ৩২ পর্ব দিতে পারিনি। এটাই ফেসবুক লাইটে ফ্রিতে নোডফিড থেকে শেয়ার হয়ছে। বৃষ্টি শুরু হয়ছে সাথে কারেন্টও হাওয়া] সবাই রেসপন্স করুন তাহলে ৩২ পর্ব রাতের ভেতরে আরো বড় করে কালকেই পোস্ট করবো ইনশাআল্লাহ।
Share On:
TAGS: রাগে অনুরাগে, সুহাসিনি ফাতেহা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ১৫(প্রথমঅংশ+দ্বিতীয় অংশ)
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ১৩
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ৭
-
রাগে অনুরাগে সূচনা পর্ব
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ৩৪
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ৫
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ১২
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ৮(প্রথম অংশ+দ্বিতীয় অংশ)
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ৩
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ২৩