Golpo romantic golpo বাঁধন রূপের অধিকারী

বাঁধন রূপের অধিকারী পর্ব ১


“কিসের বিয়ে? মানি না আমি এই বিয়ে! আমি আমার মার জায়গায় কাউকে কোনোদিন আসতে দেব না।”

বলেই বাঁধন উন্মত্তের মতো ড্রয়িংরুমে থাকা সব আসবাবপত্র ভাঙচুর করতে থাকল। কাঁচ ভাঙার তীব্র শব্দে চারপাশ প্রকম্পিত হচ্ছে কিন্তু বাঁধনের এই বিধ্বংসী রূপ দেখে আজ তাকে থামানোর সাহস কারো নেই। অদূরেই পাথরের মূর্তির মতো স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন বাঁধনের বাবা আহসান রহমান। তার ঠিক পাশেই বধু বেশে এক নারী নাম তার রজনী। পরনে টকটকে লাল শাড়ি আর সর্বাঙ্গে গয়নার জৌলুস যাকে কিছুক্ষণ আগেই আহসান রহমান বিয়ে করে ঘরে তুলেছেন। রজনীর শাড়ির এক কোনা শক্ত করে মুঠোর ভেতর খামচে ধরে দাঁড়িয়ে আছে চার বছরের এক ছোট্ট মেয়ে নাম তার রূপা। বার্বি ডলের মতো দেখতে সেই ছোট্ট মেয়েটির বাদামি চোখ জোড়া এখন প্রচণ্ড আতঙ্কে সিঁথিয়ে আছে। বাঁধনের দাদা হাজি রহমান এবার কম্পিত কণ্ঠে বাঁধনকে শান্ত করার চেষ্টা করলেন।

“দাদু ভাই শান্ত হ মাথা ঠান্ডা কর। তোর বাবা তোর জন্য নতুন মা আনছে।”

বাঁধন রাগে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে একটা ভারি চেয়ার তুলে মেঝেতে সজোরে আছাড় মারল।

“মানি না আমি ওই মহিলাকে আমার মা হিসেবে। উনি একটা ডাইনি আমার মার পবিত্র জায়গা দখল করে নিয়েছে এই নষ্ট মহিলা।”

কথাগুলো তীরের মতো গিয়ে বিঁধল রজনীর কলিজায়। তার কাজল কালো চোখ থেকে টপটপ করে নোনা জল গড়িয়ে পড়তে লাগল সে লজ্জায় আর অপমানে মাথা নিচু করে নিরবে কাঁদতে লাগল। আহসান রহমান নিজের ছেলের মুখে এমন কুরুচিপূর্ণ কথা শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে গর্জে উঠলেন।

“ছোট মুখে এত বড় কথা বলার সাহস তোর কোত্থেকে আসে? রজনী আমার স্ত্রী অর্থাৎ তোর মা। তাই সবসময় ওকে সম্মান দিয়ে কথা বলবি।”

বাঁধন অশ্রুভেজা রক্তবর্ণ চোখে বাবার চোখের দিকে সরাসরি তাকাল।

“মা? আমি কি কখনো তোমার কাছে মা চেয়েছিলাম? আমি তো শুধু চেয়েছিলাম তুমি আমার জননীর স্মৃতিটুকু আঁকড়ে ধরে বাকি জীবনটা কাটিয়ে দাও। আমার মায়ের আসনটা অন্য কাউকে অন্তত দিও না। কিন্তু তুমি কী নিষ্ঠুর কাজ করলে? মা মারা যাওয়ার দুই মাস পার হতে না হতেই নতুন কাউকে ঘরে নিয়ে আসলে। একবারও কি তোমার নিজের কাছে লজ্জা করল না বাবা?”

আহসান রহমান আর আত্মসংবরণ করতে পারলেন না তিনি প্রচণ্ড আক্রোশে বাঁধনের গালে ঠাস করে এক জোরালো থাপ্পড় বসিয়ে দিলেন।

“বেয়াদবির সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছিস! নিজের বাবার সাথে কীভাবে কথা বলতে হয় সেই আদবটুকুও কি ভুলে গেছিস?”

বাঁধনের জ্বলন্ত গালে হাত চেপে ধরল কিন্তু তার চেয়েও বেশি জ্বলে উঠল তার অভিমানী মন। সে ডুকরে কেঁদে উঠল।

“এখন তো আমি তোমার চোখে সারাজীবনই বেয়াদব আর খারাপ হয়ে থাকব। নতুন মানুষ পেয়ে তো এখন আমায় পর করে দিলে। লোকে ঠিকই বলে সৎ মা ঘরে আসার সাথে সাথেই বাবার চোখে নিজের সন্তান বিষ হয়ে যায়। তার প্রমাণ তো আজ হাতে হাতেই দিলে নতুন বউ আসতে না আসতেই নিজের ছেলের গায়ে হাতও তুল ফেললে।”

হাজি রহমান বাঁধনকে সামলাতে সামলাতে আর্দ্র কণ্ঠে বললেন।

“দাদু ভাই তুই শান্ত হ মাথা ঠান্ডা কর। রজনী খুব ভালো মেয়ে, তোকে ও একদম মায়ের মতো আগলে রাখবে পরম মমতায় তোকে আদর করবে।”

বাঁধনের চাচা আতিক রহমান এবার এগিয়ে এসে বাঁধনের চোখের নোনা জল মুছে দিয়ে শান্ত স্বরে বললেন।

“তোর বাবা যা করেছে তা তোর মঙ্গলের জন্যই করেছে । তোর বয়স তো মাত্র বারো বছর এই বয়সে মায়ের অভাব যে কতটা তা আমরা বুঝি। রজনী মেয়েটা সত্যিই খুব স্বচ্ছ মনের দেখবি ও তোকে নিজের সন্তানের মতো আদর করবে স্নেহে ভরিয়ে রাখবে।”

বাঁধন উন্মাদের মতো আতিক রহমানের হাত ঝটকা দিয়ে সরিয়ে দিল। সে আর্তনাদ করে বলল।

“আমি কোনোদিন এই মহিলাকে আমার মা হিসেবে মানব না। উনি একজন জঘন্য মেয়েমানুষ যে আমার মার পবিত্র সিংহাসন দখল করে নিয়েছে। সারাজীবন উনি আমার চোখে অপরাধী হয়ে থাকবেন আর সেই সাথে ওই বাবা নামক মানুষটাও। ঘৃণা করি আমি আমার বাবাকে। আই হেট ইউ ফাদার।”

বলেই বাঁধন হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে কাঁদতে কাঁদতে সিঁড়ি বেয়ে সোজা ওপরের রুমে চলে গেল। মুহূর্তেই ঠাস করে দরজা বন্ধ করার প্রচণ্ড শব্দে যেন পুরো বাড়ি কেঁপে উঠল। আহসান রহমান বিধ্বস্ত অবস্থায় সোফায় মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লেন। চার বছরের ছোট্ট রূপার মাথায় কিছুই ঢুকছে না সে নির্বাক হয়ে রজনীর দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে বলল।

“মা ওই ছেলেটা এমন করল কেন? আর আঙ্কেলটা মারল কেন ওই ছেলেকে?”

রজনী অঝোরে ঝরতে থাকা চোখের পানি মুছে নিজের কলিজার টুকরো রূপাকে বুকের সাথে মিশিয়ে জাপটে ধরল। হাজি রহমান এবার তার মেজো বউমা শিলা রহমানের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর কণ্ঠে বললেন।

“বড় বউমাকে ভেতরে নিয়ে যাও।”

,,,,

এখন পরিচয় করিয়ে দেই এই গল্পের কুশীলবদের সাথে। এতক্ষণ যে ছেলেটি তীব্র অভিমানে সবকিছু ভাঙচুর করছিল, তার নাম জাওয়াদ অধীর বাঁধন। বয়স তার মাত্র বারো বছর। এই অল্প বয়সেই সে তার প্রাণের চেয়েও প্রিয় মাকে হারিয়েছে। তার বাবা আহসান রহমান আজ নতুন করে ঘর বাঁধতে রজনীকে বিয়ে করে এনেছেন, কিন্তু বাঁধন এই সম্পর্ক কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না। সে তার মাকে এতটাই ভালোবাসে যে সেই পবিত্র স্থানে অন্য কোনো নারীর ছায়া দেখাও তার কাছে অসহনীয়।

অন্যদিকে রজনী এক অতি সাধারণ ও দরিদ্র ঘরের মেয়ে। এটি তার দ্বিতীয় বিয়ে। তার আগের স্বামী ছিল ভীষণ উশৃঙ্খল আর মারাত্মক নেশায় আসক্ত। মেয়ের জীবনের এমন দুরবস্থা দেখে রজনীর বাবা তাকে ফিরিয়ে নিয়ে যান এবং আইনিভাবে বিচ্ছেদ করান। রজনীর কোল আলো করে আছে তার চার বছরের ছোট্ট মেয়ে রূপা।রজনী তার কলিজার টুকরোকে এক মুহূর্তের জন্যও কাছছাড়া করতে চায়নি, তাই নিজের সাথেই তাকে এই নতুন সংসারে নিয়ে এসেছে। এই ছোট্ট মেয়েটিকে ঘিরেই এখন রজনীর সবটুকু পৃথিবী।

বাড়ির বড় কর্তা হলেন হাজি রহমান যিনি বাঁধনের দাদা। পুরো বাড়ির মানুষ তাকে বাঘের মতো ভয় পেলেও বাঁধনের কাছে তিনি একদমই অন্যরকম। বাঁধন তাকে বিন্দুমাত্র ভয় পায় না, বরং হাজি রহমানই বাঁধনের সামনে এলে যেন ভিজে বিড়াল হয়ে যান। সবার কাছে প্রচণ্ড রাগী আর নীতিবান হিসেবে পরিচিত এই মানুষটি বাঁধনের প্রতিটি আবদার আর জেদের কাছে অদ্ভুতভাবে নতি স্বীকার করেন।

বাড়ির অন্য সদস্যদের মধ্যে আছেন বাঁধনের চাচা আতিক রহমান এবং তার স্ত্রী শিলা রহমান। তাদের দুই সন্তানএগারো বছরের ছেলে আকাশ আর ছয় বছরের ছোট্ট মেয়ে শান্তা। একান্নবর্তী এই পরিবারে নতুন করে আসা রজনী আর রূপার স্থান এখন ঠিক কোথায় হবে, আর বাঁধনের এই অগ্নিরূপ কীভাবে প্রশমিত হবে তা সময়ই বলে দেবে।

_____

বিকেলের সোনাঝরা আলোয় রূপা আপন মনে পুরো বাড়ি ঘুরে দেখছে। এত বিশাল অট্টালিকা সে তার এই ছোট্ট জীবনে আগে কখনো দেখেনি। হাতে একটি চকলেট, সেটি খুঁটে খুঁটে খেতে খেতে ছোট্ট ছোট্ট পা ফেলে সে বিস্ময়ে চারপাশ দেখছে। পরনে তার একটি ছোট টপস, যা হাঁটার ছন্দে দুলছে আর তাকে দেখতে ঠিক যেন এক জীবন্ত পুতুলের মতো লাগছে।

বাড়ির বাইরের প্রশস্ত বারান্দার সিঁড়িতে একা বসে আছে বাঁধন। তার দুচোখে এখনো মেঘ জমে আছে। হাতের লাঠিটা দিয়ে সে সজোরে সিঁড়িতে আঘাত করছে, যার ঝপঝপ শব্দ পুরো বারান্দায় প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। তার কিশোর মনে কেবল একটিই জেদ তার মায়ের পবিত্র স্থান সে অন্য কাউকে কোনোদিন দখল করতে দেবে না। তার বাবা এখন থেকে ওই মহিলার সঙ্গে থাকবে, এই চিন্তাটা তাকে বিষের মতো বিঁধছে। মনে মনে সে শপথ নিয়েছে, যেভাবেই হোক ওই মহিলাকে সে এই বাড়ি থেকে তাড়াবেই।

ঠিক সেই সময় বাড়ি দেখতে দেখতে রূপা বারান্দায় চলে এল। সেখানে বাঁধনকে বসে থাকতে দেখে সে থমকে দাঁড়াল। ছোট্ট রূপা গালে হাত দিয়ে গভীর চিন্তায় মগ্ন হলো।

“এইটা তো সেই ছেলেটা যে সকালে সবকিছু ভাঙচুর করল!”

রূপা গুটিগুটি পায়ে বাঁধনের দিকে এগিয়ে গেল। তার বাম হাতে থাকা অন্য একটি চকলেট বাঁধনের চোখের সামনে তুলে ধরল। মায়াবী কণ্ঠে বলল।

“মন খারাপ তোমার? এই নাও চকলেট খাও। আমার মা বলে মন খারাপ থাকলে চকলেট খেলে মন ভালো হয়ে যায়।”

বাঁধন এক পলক রূপার দিকে তাকাল। এই মেয়েটাকেই সে সকালে ওই খারাপ মহিলার শাড়ির আঁচল ধরে অসহায়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছিল। বাঁধন আবার ঘৃণায় মুখ ফিরিয়ে নিল। সে তার হাতের লাঠিটা দিয়ে সিঁড়িতে আঘাত করতে থাকল কিন্তু কোনো কথা বলল না। রূপা হাল ছাড়ল না সে পুনরায় প্রশ্ন করল।

“তুমি কি বোবা? কথা বলতে জানো না? মা তো বলে যারা কথা বলে না তারা বোবা হয়। কিন্তু তুমি তো সকালে অনেক কথা বললে এখন বলছো না কেন?”

বাঁধন এবার মুখ খুলল। রূপার দিকে রক্তচক্ষু নিয়ে তাকিয়ে অত্যন্ত রুক্ষ স্বরে বলল।

“কে তুই? আর ওই খারাপ মহিলাটা কে হয় তোর?”

রূপা বড় বড় চোখ করে অবাক হয়ে বলল।

“খারাপ মহিলা আবার কে? তুমি কার কথা বলছো?”

বাঁধন দাঁতে দাঁত চেপে উত্তর দিল।

“সকালে যার শাড়ির আঁচল ধরে লেপ্টে ছিলি।”

রূপা এবার ছোট্ট ছোট্ট হাতে জেদ দেখিয়ে তেজস্বী কণ্ঠে বলল।

“খবরদার! আমার মাকে একদম খারাপ বলবে না। আমার মা অনেক ভালো বরং তোমার মা পচা।”

মুহূর্তেই বাঁধনের মাথায় যেন আগুন জ্বলে উঠল। তার মানে এই মেয়েটা ওই মহিলার মেয়ে। অর্থাৎ তার সৎ বোন। কিন্তু শেষে রূপা একি ধৃষ্টতা দেখাল? তার মৃত মাকে সে পচা বলল? কত বড় সাহস এই পুঁচকে মেয়ের।মুহূর্তে বাঁধন রাগে রূপাকে সজোরে এক ধাক্কা মারল। রূপা ভারসাম্য হারিয়ে শক্ত মেঝের ওপর আছড়ে পড়ল এবং কপালে প্রচণ্ড চোট পেয়ে যন্ত্রণায় চিৎকার করে উঠল।

“আহহহ!”

ঠিক সেই মুহূর্তে আহসান রহমান ফোনে কথা বলতে বলতে ওদিকেই আসছিলেন। তিনি দূর থেকেই দেখলেন কীভাবে বাঁধন রূপাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিল। মুহূর্তে তিনি দৌঁড়ে এসে রূপাকে দুহাতে আগলে ধরলেন। রূপা এবার ডুকরে কেঁদে দিল। আহসান রূপার কপালে আর মাথায় পরম মমতায় হাত বুলিয়ে ব্যাকুল হয়ে বললেন।

“খুব বেশি লেগেছে মা? কোথায় লেগেছে?”

রূপা ব্যথায় নীল হয়ে শুধু হ্যাঁ-সূচক মাথা নেড়ে কাঁদতে থাকল। আহসান এবার বাঁধনের দিকে তাকিয়ে প্রচণ্ড আক্রোশে আর রাগে গর্জে উঠলেন।

“বাঁধন! এইটা কী রকম জানোয়ারের মতো আচরণ?ওকে ধাক্কা কেন মারলি?।”

বাঁধন অপমানে আর রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে চিৎকার করে বলল।

“এই মেয়ে আমার মাকে কোন সাহসে পচা বলে?।”

রূপা তখনো হেঁচকি তুলতে তুলতে কাঁদতে কাঁদতে অসহায় স্বরে বলল।

“ও আমার মাকে খারাপ মহিলা বলেছে তাই আমিও ওর মাকে পচা মা বলেছি।”

আহসান রহমান বাঁধনের চোখের দিকে তাকিয়ে কঠিন স্বরে বললেন।

“বাঁধন তুই কিন্তু বড্ড বেশি বাড়াবাড়ি করছিস। ও একটা অবুঝ ছোট মানুষ।

না বুঝে একটা কথা বলে ফেলেছে , তাই বলে তুই এইভাবে ওকে ধাক্কা মারবি?”

বাঁধন তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে হাততালি দিয়ে উঠল। তার কণ্ঠে ঝরে পড়ল এক বুক ঘৃণা।

“বাহ বাহ আহসান রহমান! কী চমৎকার রূপ আপনার। সকালে ওই নষ্ট মহিলার জন্য আমার গায়ে হাত তুললেন আর এখন একটা রাস্তার বাইরের মেয়ের জন্য আমাকে বকছেন?”

আহসান রহমান এবার নিজেকে সামলে নিয়ে গম্ভীর কণ্ঠে বললেন।

“বাঁধন মুখ সামলে কথা বল। ও কোনো বাইরের মেয়ে না ও এখন থেকে আমার মেয়ে আর তোর ছোট বোন হয়।”

বাঁধন যেন আকাশ থেকে পড়ল। সে চিৎকার করে বলে উঠল।

“কে বোন? কার বোন? আমার মা আমি ছাড়া আর কাউকে এই পৃথিবীতে জন্ম দেয়নি। তাই আপনি যাকে তাকে আমার সামনে মা বলবেন না আর না কোনো বাইরের মেয়েকে আমার বোন বলে পরিচয় দেবেন না। আমার ভীষণ রাগ লাগে এসব শুনলে।”

বলেই বাঁধন আর এক মুহূর্ত সেখানে দাঁড়াল না। গজ গজ করতে করতে সে বাগানের দিকে চলে গেল। আহসান রহমান এক দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। তিনি বুঝতে পারছেন ছেলেটা তার ওপর ভীষণ অভিমান করে আছে কিন্তু পরিস্থিতির চাপে পড়ে তার যে আর কিছুই করার ছিল না। আহসান রহমান এবার রূপার দিকে ফিরলেন। নিজের রুমাল দিয়ে রূপার চোখের পানি মুছে দিতে দিতে পরম মমতায় বললেন।

“কাঁদে না সোনা! ও তোমার বড় ভাই হয়। ওর একটু রাগ বেশি। রাগের মাথায় ওমন করে ফেলেছে। এখন লক্ষ্মী মেয়ের মতো কান্না থামাও। তুমি যদি এখন কান্না থামাও তবে তোমাকে অনেকগুলো চকলেট এনে দেব।”

চকলেটের কথা শুনেই রূপার কান্নার বেগ মুহূর্তেই কমে এল। সে ছলছল চোখে আহসানের দিকে তাকিয়ে নিষ্পাপ স্বরে প্রশ্ন করল।

“সত্যি বলছেন আঙ্কেল? আমাকে অনেকগুলো চকলেট দিবেন তো?”

আহসান রহমান মৃদু হেসে রূপার নরম গাল দুটো টেনে দিয়ে বললেন।

“হ্যাঁ সোনা দেব। আর শোনো আঙ্কেল নয় আজ থেকে আমি তোমার বাবা। আমাকে তুমি বাবা বলে ডাকবে। মনে থাকবে তো?”

রূপা কিছুক্ষণ গম্ভীর হয়ে ভাবুক গলায় বলল।

“কিন্তু আমার তো বাবা আছে। আর মা শিখিয়েছে বাবার বয়সী যারা লোক আছে তারা সবাই আঙ্কেল হয়। তাহলে আপনিও তো আমার আঙ্কেল।”

আহসান রহমান মৃদু হেসে রূপাকে বুঝিয়ে বললেন।

“তোমার বাবা অন্য কেউ ছিল ঠিকই। কিন্তু আজ থেকে সেই বাবা তোমার আঙ্কেল আর আমি তোমার আসল বাবা।”

রূপা অবাক হয়ে তার ডাগর ডাগর চোখ মেলে শুধাল।

“বাবা কি পাল্টানো যায়?”

আহসান রহমান রূপার মাথায় হাত বুলিয়ে আশ্বস্ত করে বললেন।

“হ্যাঁ মা যায়।”

রূপা এবার একটু ভেবে নিয়ে মাথা নেড়ে সায় দিল।

“আচ্ছা ঠিক আছে। আমার ওই বাবা তো আমায় আদর করে না আর আপনি অনেক আদর করেন। তাই আজ থেকে আপনাকে আমি বাবা বানিয়ে ফেললাম। এখন জলদি আমার গালে একটা চুমু দেন।”

আহসান রহমান রূপার এই নিষ্পাপ আবদারে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন। তিনি মুহূর্তেই রূপার নরম গালে সজোরে একটি চুমু খেয়ে তাকে বুকের সাথে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলেন।

দূর থেকে এই দৃশ্য দেখে বাঁধনের শরীরের রক্ত যেন টগবগ করে ফুটছে। তার হাতের লাঠিটা মুঠোর ভেতর আরও শক্ত হয়ে এল। সে কিছুতেই এসব সহ্য করতে পারছে না। তার জন্মদাত্রী মায়ের জায়গায় অন্য এক মহিলাকে বসিয়ে দিয়েই ক্ষান্ত হননি তার বাবা এখন ওই বাইরের মেয়েটাকেও নিজের মেয়ের মতো আগলে নিয়ে আদর করছেন। অথচ সে যে এত রাগ করে আছে তার বাবা একবারের জন্যও তাকে মানানোর বা তার কাছে আসার চেষ্টা করলেন না। বাঁধনের মনে বিষাক্ত এক সংশয় দানা বাঁধল। তবে কি সত্যিই তার বাবা নতুন মানুষের দেখা পেয়ে নিজের পুরোনো সবটুকু স্মৃতি আর আপন ছেলেকে এক নিমেষে ভুলে গেলেন।

রানিং…!

#বাঁধন_রূপের_অধিকারী

#সূচনা_পর্ব

~~~

এই গল্পটা কিশোরী বয়স থেকে শুরু হলেও, খুব অল্প কয়েকটা পর্ব যেতেই চরিত্রগুলো বড় হয়ে উঠবে, আর তখনই শুরু হবে আসল খেলা। গল্পটা পড়তে পারেন আশা করি ভালো লাগবে। আর বিশ্বাস রাখুন, কয়েকটা পর্ব এগোলেই বুঝতে পারবেন গল্পটা কতটা জমবে আর এখানে নায়ক নায়িকা প্রথম পর্বেই আছে বুদ্ধিমতি থাকলে বুঝে নিতে পারেন, আর গল্পটা লেখার কারন আছে তাই দিলাম, চিন্তার কিছু নাই যেহেতো লেখা শুরু করছি সাপোর্ট হোক বা না হোক কিন্তু আমি এই গল্পের সমাপ্তি পর্যন্ত লিখে যাবো,🙂

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply