Golpo romantic golpo প্রেমবসন্ত প্রেমবসন্ত সিজন ২

প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৪৯


প্রেমবসন্ত_২ ।৪৯।

হামিদাআক্তারইভা_Hayat

ঝড়-বৃষ্টির দিনে চারপাশটা একটু ঠান্ডা ঠান্ডা থাকে। তীব্র বাতাসের ফলে কায়নাতের মনে হলো তার শরীরটা জমে যাচ্ছে বরফে। সে দাঁড়িয়ে আছে একটা বড় বিল্ডিং-এর সামনে। খানিকক্ষণ আগে এই বিল্ডিং-এর সামনেই অর্ণর গাড়ি থেমেছিল। রীতিমত হাপাচ্ছে মেয়েটা। কাক-ভেজা হয়ে অবস্থা একাকার। সে পলক ঝাঁপটে আশেপাশে তাকাল। এই ভেজা শরীর নিয়ে ভেতরে যাওয়া কী ঠিক হবে? খানিকক্ষণ ভেবে সিদ্ধান্ত নিল এভাবেই ভেতরে প্রবেশ করবে সে। যেই ভাবা সেই কাজ। কায়নাত ভীতু মন নিয়ে গুটি গুটি পায়ে সামনে পা বাড়াল। সাত তলা বিল্ডিংটা কায়নাতের কাছে আকাশ সমান মনে হলো। তিন নাম্বার ফ্লোরে বার। অন্যদিকে কায়নাত সেই ফ্লোরে এসেই অর্ণকে খুঁজতে শুরু করেছে। মুখের মাস্ক এখন আর মুখে নেই। সেটা খুলে ফেলেছে সে। ভেজা মুখটায় জ্বলজ্বল করছিল হারানোর ব্যথা। বারবার মনে হচ্ছিল, অর্ণ বোধহয় তার থেকে কিছু একটা লুকোচ্ছে। কায়নাত ঠোঁট কামড়ে বারের সামনে দাঁড়িয়ে ভেতরে উকি মেরে দেখার চেষ্টা করল। কত শর্ট ড্রেস পরে মেয়েরা ছেলেদের শরীরের উপর উঠে আসছে। গা গুলিয়ে এলো ওর। অর্ণকে না পেয়ে পিছু ঘুরতে নিলেই তার হাতটা কারোর হাতের মুঠোয় আঁটকা পড়ল। কেঁপে উঠল মেয়েটা। এই স্পর্শ তার অচেনা। কায়নাত আতঙ্কিত হয়ে পিছু ফিরে তাকাতেই দেখতে পেল একটা ছেলে তার হাত টেনে ধরে দাঁড়িয়ে আছে। কায়নাত ছেলেটার নেশা ধরা চোখ খানা দেখে তৎক্ষণাৎ কিছু বলতে পারল না। শরীর জমে আসছে ভয়ে। লোকটা ঠোঁট টেনে হেসে নেশা ধরা গলায় বলল,

“কে তুমি ডার্লিং? পালাচ্ছ কোথায়?”

কায়নাত নিজের হাত মুচড়ে ডুকরে উঠল। দাঁত চেপে বলল,
“হাত ছাড়ুন আমার।”

কায়ানাত নিজের সর্বশক্তি দিয়ে হাতটা ছাড়ানোর চেষ্টা করল, কিন্তু লোকটার শক্ত মুঠো যেন লোহার শিকলের মতো চেপে বসেছে। নেশার ঘোরে থাকা লোকটা কায়ানাতের ভেজা শরীরের উপর দিয়ে এক জোড়া লোলুপ দৃষ্টি বুলিয়ে নিল। ওর গায়ের কাপড়টা ভিজে শরীরের সাথে লেপটে থাকায় সে যেন আরও বেশি অসহায় বোধ করতে লাগল।
লোকটা এক অদ্ভুত কাণ্ড করে বসল। অসহায় মেয়েটার বহু টেনে ধরল। কায়ানাত ছিটকে গিয়ে লোকটার শক্ত বুকের উপর পড়ল। উৎকট মদের গন্ধে ওর দম বন্ধ হয়ে আসছিল। লোকটা ওর কানের কাছে মুখ নামিয়ে ফিসফিস করে বলল,
“এত সুন্দর একটা পাখি এই বৃষ্টির রাতে একা কেন? চলো না, ভেতরটা অনেক গরম। তোমাকে একটু ওম দিই!”

কায়ানাতের দুচোখ বেয়ে নোনা জল গড়িয়ে পড়ল। সে আর্তনাদ করে বলতে চাইল, “ছাড়ুন আমাকে!” কিন্তু গলা দিয়ে কোনো স্বর বের হলো না। ঠিক তখনই পেছন থেকে একটা পরিচিত গম্ভীর কণ্ঠস্বর ভেসে এলো,
“হাতটা এখনই ছাড়লে তোর জন্য মঙ্গল হবে।”

কায়নাত পেছনে তাকানোর সময় পেল না। তার আগেই অর্ণ এসে লোকটার নাক বরাবর ঘুষি মারতেই লোকটা কায়নাতকে ছেড়ে দিল। কায়নাত তাল সামলাতে না পেরে লোকটার সঙ্গে ফ্লোরে পড়ে গেল। মাথা গিয়ে ঠেকল কাঁচের দরজায়। তৎক্ষণাৎ কপাল ফেটে গাল বেয়ে নামল লাল রঙা রক্ত। অর্ণ ঝুঁকে এসে লোকটার শার্টের কলার চেপে লাগাতার আঘাত করল। মুখ দিয়ে ছুঁড়লো কিছু গালি।
“তোকে জানে মেরে ফেলব কুত্তার বাচ্চা। তোর সাহস কত বড়,তুই আমার কলিজায় হাত দিস।”

মানুষ জড়ো হলো সেখানে। কায়নাত অর্ণর হিংস্র রূপ দেখে নিজেকে গুটিয়ে নিল এক কোণায়। ক্লাবের ভেতর থেকে দুটো ছেলে এসে অর্ণকে জোর করে ছাড়িয়ে পেছনে নিয়ে এলো। ফ্লোরে রক্তাক্ত দেহে পড়ে থাকা ছেলেটার সামনে হাঁটু গেড়ে বসল একটা মেয়ে। গালে হাত চাপড়ে বলল,

“আলভি, ঠিক আছিস তুই?”

আলভি নিজের ঠোঁটের কোণার রক্ত হাত দিয়ে মুছে অর্ণর দিকে তাকাল। অর্ণ তখন কায়নাতকে পাঁজাকোলে তুলে নিয়েছে। শেষবার ছেলেটার দিকে তাকিয়ে দাঁত পিষে বলল,
“তোর জান ছিঁড়ে খাব আমি। You’ll pay for this later. “

অর্ণ হনহন করে বেরিয়ে গেল সেখান থেকে। আলভির নেশা ততক্ষণে মাথায় চড়ে বসেছে। ওর বন্ধুরা ওকে সামলাতে গেলে সে ভাংচুর শুরু করল।
অন্যদিকে অর্ণ কায়নাতকে নিয়ে একদম নীচের ফ্লোরে এসে পার্কিং এরিয়ায় নিজের গাড়ির সামনে এসে ওকে গাড়ির উপরে বসাল। কায়নাত ভীতু চোখে অর্ণর মুখপানে তাকিয়ে শুকনো ঢোক গিলল। কান্নার ফলে পুরো মুখটা লাল বর্ণ ধারণ করেছে। অর্ণ হঠাৎ কায়নাতের শরীর পর্যবেক্ষণ করে ওর মুখ চেপে ধরল। ব্যথায় কুকড়ে উঠল মেয়েটা। ঝরঝর করে গড়িয়ে পড়ল চোখের জল। অর্ণ দাঁত পিষে বলল,

“তোকে আমি পড়াশোনা করাচ্ছি কেন? তুই পড়াশোনা না করে এত টোইটোই করিস কেন? এই কথা বল? তোকে আমি কী বলেছিলাম? মনে নেই? মরার ভয় নেই তোর?”

কায়নাত ভয়ে জড়িয়ে ধরতে চাইল অর্ণকে। অর্ণ ধমকে উঠল। এত জোরে ধমক দিয়েছে যে কায়নাত চমকে উঠে প্রায় পিছিয়ে গেল। অর্ণ কায়নাতের হাত সামনে তুলে বলল,
“তোকে এখানে ছুঁয়েছে না ওই ছেলে? তোর শরীর জড়িয়েছে না ওর শরীরে? আমার তো সহ্য হচ্ছে না এটা। তোকে মেরে মাটিতে পুঁতে রাখতে ইচ্ছে করছে।”

গেটের বাইরে থেকে তখন স্বার্থ আর শেহের দৌঁড়ে আসছে এদিকে। সবাই অফিসের পোশাক পরে এসেছিল। ওদের ঠিক পেছনে ঈশা তার এসিসটেন্টকে নিয়ে কপাল কুঁচকে এগিয়ে আসছে।
স্বার্থ এসে অর্ণকে টেনে ধরে বলল,
“পাগল হয়ে গেছিস? কী হয়েছে তোর? ওর সাথে এমন করছিস কেন?”

শেহের কায়নাতকে ধরে নিচে নামাল। বলল,
“তুমি ঠিক আছো?”

কায়নাত উত্তর দিতে পারল না অর্ণর হিংস্র দৃষ্টি উপেক্ষা করে। ভয়ে শেহেরের পেছনে গিয়ে লুকোলো। অর্ণ পা দিয়ে দুবার গাড়ির চাকায় লাথ্যি মারল। কায়নাতের দিকে তেরে এসে বলল,
“ওকে নিয়ে আমি করবটা কী বল আমাকে? এই বেয়াদব মেয়ে কেন আমার কথা শোনে না? আমি কী ওর খারাপ চাই?”

স্বার্থ ওকে আঁটকে নরম গলায় বলে,
“এখন কী ওকে মারতে চাইছিস?”

কায়নাত শেহেরের শার্ট খিঁচে ধরে হেঁচকি তুলে তুলে মিনমিন করে শেহেরকে বলল,
“আমি উনার সাথে থাকব না ভাইয়া। আমাকে বাড়ি দিয়ে আসুন।”

অর্ণ বোধহয় শুনল বাক্য টুকু। চোখ গরম করে তাকাল ওর দিকে। মেয়েটা বিড়ালের ন্যায় গুটিয়েছে নিজেকে।
কায়নাত চোখ ঘুরিয়ে ঈশার দিকে তাকাল। ভীষণ সুন্দর মেয়েটা। গায়ে ফর্মাল পোশাক পরা। খোলা চুল গুলো প্রায় পিঠ সমান। অর্ণ তো এই মেয়ের সাথেই এসেছিল। এই মেয়ের রূপে পাগল হয়েছে ওই লোক? কায়নাতের অভিমানী মুখ একটু হয়ে এলো। শব্দ করে কেঁদে উঠল এবার। শেহেরের শার্ট ঝাঁকিয়ে বলল,
“আমি বাড়ি যাব। আমি এখানে থাকব না।”

শেহেরের অসহায় দৃষ্টি মিলিত হলো স্বার্থর সাথে। অর্ণ নিজেকে শান্ত করে কায়নাতের নিকট এগিয়ে এলে কায়নাত শেহেরকে বলল,
“আমি বাড়ি যাব ভাইয়া। আমাকে আপনি দিয়ে আসুন।”

অর্ণ গম্ভীর গলায় বলল,
“বেয়াদবি না করে গাড়িতে উঠে বসো।”

কায়নাত অর্ণর কথা শুনল না। শেহের পড়ল মহাবিপদে। সে বুঝিয়ে শুনিয়ে কায়নাতকে অর্ণর গাড়িতে বসাল। ঈশা নীরব হয়ে সব পর্যবেক্ষণ করল। ওরা এসেছিল ডিল নিয়ে কথা বলতে। আজ সেখানে উপস্থিত ছিলেন মাশফিক চৌধুরী নিজেও। কিন্তু তিনি ইতোমধ্যে প্রস্থান করেছেন। স্বার্থ আর শেহের ঈশাকে নিয়ে গেল। কায়নাত রইল অর্ণর সাথে। একা,একান্তে।

স্বার্থ গাড়ি স্টার্ট দিয়ে মেইন রোডে নামতেই ঈশা পেছন থেকে মুখ গম্ভীর করে বলল,
“মেয়েটা কে ছিল?”

শেহের বলল,
“মিসেস অর্ণ।”

“মেয়েটার বয়স খুবই কম মনে হলো। বিয়ে হয়েছে কবে?”

শেহের ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসল বোধহয়। বলল,
“৭ বছরের বেশিই হয়েছে।”

ঈশা চমকে উঠল। খানিক কেঁপেও উঠল এই কথা শুনে। কণ্ঠস্বর জড়িয়ে এলো তার।
“হোয়াট? বউকে কোলে করে বিয়ে করেছে নাকি? এখনই তো এই মেয়ে বাচ্চা।”

স্বার্থ বলল,
“যা সত্য তাই বলেছে। ওদের বিয়ে হয়েছে অনেক বছর আগেই।”

ঈশার মনোভাব বোঝা গেল না। মুখ ঘুরিয়ে শান্ত দৃষ্টি রাখল গাড়ির বাইরে। কী ভাবছে সে?

•••

গাড়িতে বসে কায়নাত একটা কথাও বলেনি অর্ণর সাথে। অর্ণও আগ বাড়িয়ে কথা বলতে যায়নি আর। আজ তার মেজাজ খারাপ হয়ে আছে বড্ড। চৌধুরী বাড়ির সামনে গাড়ি এসে থামতেই কায়নাত অর্ণর আগে গাড়ি থেকে বেরিয়ে দৌঁড়ে গেল ভেতরে। কায়নাত আর অর্ণর মুখোমুখী হলো না। নিশার ঘরে গিয়ে চেঞ্জ করে সেখানেই ঘাপটি মেরে রইল। ঘণ্টা খানিক বাদে ঘরে এলো আদি। হাতে জ্বরের ঔষুধ। সে গুটি গুটি পায়ে বিছানায় কায়নাতের কাছে এসে বলল,
“মামু তোমাকে ঔষুধ খেতে বলেছে ভাত খেয়ে।”

কায়নাত বলল,
“এটা তোমার মামুকেই গিয়ে দিয়ে এসো। আমি খাব না।”

আদি মাথা নাড়িয়ে বেরিয়ে গেল আবার। পাশ থেকে নিধি বলল,
“ভাইয়ার সাথে ঝগড়া করেছিস?”

কায়নাত বলল,
“না।”

“তাহলে ওভাবে বাইরে থেকেই বা কেন এলি আর এখন এই ঘরেই বা কেন শুয়ে আছিস?”

“আমি এই ঘরে আছি বলে তোমার সমস্যা হচ্ছে আপু?”

“সে কথা কখন বললাম? আমি বলতে চাইছি ঝগড়া না করে সব মিটিয়ে নিলেই হলো।”

কায়নাত পাতলা চাদর বুকে জড়িয়ে ধরে বারান্দার দিকে তাকিয়ে রইল। তখন ঘরে হুরমুড়িয়ে প্রবেশ করল নিশা। হাতে ইয়া বড় একটা বক্স। সে বক্স এনে বিছানার উপর রাখতেই নিধি জিজ্ঞাসা করল,
“এটা কী?”

নিধি লম্বা দম ফেলে কোমরে হাত রেখে বলল,
“আপুর জন্য এনেছি।”

“কেন? রাগ ভাঙাতে?”

“হ্যা।”

নিশা নুসরাতের জন্য কয়েকটা শাড়ির সাথে যা যা প্রয়োজন সব কিছু এনে কয়েকটা চিঠি লিখেছে। ভেবেছে আজ বোনের সাথে মান অভিমান সব মিটিয়েই ছাড়বে। স্বার্থর পাল্লায় পড়ে একটা ভুল সে করে ফেলেছে, তাই বলে বোন এভাবে রেগে বসে থাকলে কী আর ভালো লাগে?

তৎক্ষণাৎ দরজায় টোকা পড়ল। দরজার সামনে টাওজারের পকেটে হাত গুঁজে দাঁড়িয়ে আছে অর্ণ। কায়নাত চোখ তুলে একবার তাকিয়ে চাদর দিয়ে মুখ ঢাকল। যাতে বোঝাতে পারে সে ঘুমিয়ে গেছে। নিশা বলল,
“ঘরে আসো ভাইয়া।”

অর্ণ ঘরে ঢুকে বিছানার ওপাশে কায়নাতের পাশে গিয়ে দাঁড়াল। গমগমে গলায় ঘোষণা দিল,
“এক মিনিটের মধ্যে এই ঘর না ছাড়লে তোমার খবর আছে।”

কায়নাত চোখ মুখ খিঁচে রেখেছে। সে কিছুতেই যাবে না এখান থেকে। ঘরে নিয়ে যদি মারে? তখনকার মতো যদি ওর শরীর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিতে চায়? তখন কায়নাত কী করবে?
নিশা আর নিধি নিজেদের মুখ দেখাদেখি করল। অর্ণ কায়নাতের উত্তর না পেয়ে সময় ব্যয় না করে চাদর সহ কায়নাতকে প্যাঁচিয়ে কোলে তুলে হাঁটা ধরল ঘরের বাইরে। কায়নাত চিৎকার শুরু করল ভয়ে। আহাজারি করে বলল,

“আম্মু,আব্বু আপনারা কোথায়? দেখুন আপনাদের ছেলে আমাকে মেরে ফেলবে।”

অর্ণ ধমক দিয়ে বলল,
“আর একবার চিৎকার করলে সত্যিই মেরে ফেলব।”

কায়নাত ভয়ে চুপ রইল। অর্ণ সিঁড়ি বেয়ে নেমে কায়নাতকে নিয়ে ডাইনিং টেবিলে এসে বসাল। কায়নাতের ভীতু মুখের উপর থেকে চাদর সরিয়ে শরীরে মুড়িয়ে দিয়ে দাঁত চেপে বলল,
“এক পা মাটিতে পড়লে তোমার দাঁত একটাও আস্ত থাকবে না।”

অর্ণ কায়নাতের জন্য খাবার নিয়ে এলো প্লেটে করে। কায়নাতের চোখের পাতা ভার। ভয়ে মেয়েটার শরীরে জ্বর চলে এসেছে আজ। কাঁপছে শরীর খানা।

অর্ণ ভাতের লোকমাটা কায়নাতের ঠোঁটের কাছে ধরল। কায়নাত অপলক চোখে চেয়ে আছে। ওর সারা শরীর ঠকঠক করে কাঁপছে। চোখের কোণে জমে থাকা জলটুকু টুপ করে প্লেটের উপর পড়ল। অর্ণর পাথরের মতো শক্ত চোয়ালটা একবার কেঁপে উঠল, কিন্তু গলার স্বর আগের মতোই কঠোর শোনাল।
“মুখ খোলো।”

কায়নাত অস্ফুট স্বরে গোঙিয়ে উঠল,
“আমি খাব না। প্লিজ, আমাকে যেতে দিন।”

অর্ণর ধৈর্য যেন শেষ পর্যায়ে।
“তোর শরীর জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে, আর তুমি এখনো আমার সাথে জেদ করছ? যদি ভালোয় ভালোয় না খাও, তবে কীভাবে খাওয়াতে হয় সেটা আমার ভালোই জানা আছে। আর তখন কিন্তু এই ডাইনিং টেবিলটা তোমার জন্য রণক্ষেত্র হয়ে যাবে।”

কায়নাত ভয়ে কুঁকড়ে গেল। সে জানে অর্ণ যা বলে তা করতে দ্বিধা করে না। কাঁপা কাঁপা ঠোঁট জোড়া একটু ফাঁক করতেই অর্ণ প্রথম লোকমাটা মুখে তুলে দিল। কায়নাত গিলতে পারছে না, গলা দিয়ে খাবার নামছে না কষ্টে। নিশা আর নিধি সিঁড়ির গোড়ায় দাঁড়িয়ে লুকিয়ে দৃশ্যটা দেখছে। নিশা বিড়বিড় করে বলল,
“হলো কী এদের?”

খাওয়া শেষ হতেই অর্ণ কায়নাতকে আবার পাঁজাকোলা করে তুলে নিল। কায়নাত এবার আর চিৎকার করার সাহস পেল না, শুধু অর্ণর শার্টের কলারটা শক্ত করে শক্ত করে ধরল। সিঁড়ি দিয়ে উপরে ওঠার সময় অর্ণর বুকের ধকধক শব্দটা কায়নাত পরিষ্কার শুনতে পাচ্ছিল।

(আজকে চাঁদ রাত,হাতে মেহেদী দেয়া বাকি আমার। সারাদিন এত কাজ করেছি। সবাই হাতের পিক দিয়ো। অগ্রিম ঈদের শুভেচ্ছা পাখিরা।🤍)

চলবে..?

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply