Golpo romantic golpo প্রণয়ে গুনগুন

প্রণয়ে গুনগুন পর্ব ৩৬


প্রণয়ে_গুনগুন

পর্ব_৩৬

মুন্নিআক্তারপ্রিয়া


প্লেনের জানালার পাশে বসে গুনগুন চুপচাপ বাইরে তাকিয়ে ছিল। নিচে ধীরে ধীরে ভেসে উঠছিল আলোয় মোড়া এক শহর। অসংখ্য বিল্ডিং, সরু সরু রাস্তা, আর সবকিছু যেন নিখুঁতভাবে সাজানো। একরাশ শূন্যতা ও এক বুক হাহাকার নিয়ে সে পাড়ি জমিয়েছে জাপানে।

প্লেনটি মাটি ছোঁয়ার সাথে সাথে তার বুকের ভেতর হালকা কেঁপে উঠল। সবকিছু এত দ্রুত বদলে গেল যে মনে হচ্ছে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সে হাজার মাইল দূরে, নিজের মানুষদের ছেড়ে, প্রণয়কে ছেড়ে। বুকের চিনচিনে ব্যথাটা ধীরে ধীরে বাড়ছে।

এয়ারপোর্টের ভেতরটা ঝকঝকে পরিষ্কার। সবকিছু নিয়মমাফিক ও নির্ভুল করে সাজানো, পরিপাটি। লোকজন কম কথা বলে। যে যার মতো করে ব্যস্ত। গুনগুন ধীর পায়ে হাঁটতে হাঁটতে, চারপাশটা দেখছিল। নতুন জায়গা, নতুন মানুষজন, সবকিছুই অচেনা। তবুও মুগ্ধ করার মতো কিছু একটা যেন আছে এখানে।

লাগেজ নিয়ে গেইটের বাইরে বের হয়ে সে আশেপাশে চোখ বুলাল একবার। ঠিক তখনই বামপাশ থেকে একটা পরিচিত কণ্ঠস্বর ভেসে এলো,

“গুনগুন?”

গুনগুন ডাক লক্ষ্য করে তাকিয়ে দেখল তার মামা দাঁড়িয়ে আছে। মুখে অমায়িক হাসি, চোখে চশমা। পরনে একটা সাদা শার্ট। আজ কতগুলো বছর পর গুনগুন মামাকে সামনে থেকে দেখছে ঠিক মনে নেই। শুধু এটুকু মনে হচ্ছে যে, মামার বয়সটা মনে হচ্ছে এখনো কমেনি। আগের জায়গাতেই আটকে আছে। সে বোকার মতো তাকিয়ে আছে। মামাকে দেখা মাত্রই ছোটোবেলার কতশত স্মৃতি যে চোখের সামনে ভেসে উঠছে!

এত দূরের দেশে এইটুকু পরিচিত মুখ দেখেই গুনগুনের বুকটা হালকা হয়ে গেল। মামা রিয়াজ রেহমান দ্রুত পায়ে কাছে এগিয়ে এলেন। গুনগুন অস্ফুট কণ্ঠে ডাকল,

“মামা!”

রিয়াজ রেহমান কাছে এসে গুনগুনের মাথায় হাত রাখলেন। মায়া জড়ানো কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলেন,

“কেমন আছিস, মা? আসতে কোনো কষ্ট হয়নি তো?”

গুনগুন হালকা হেসে দুদিকে মাথা নাড়িয়ে বলল,

“না। আমি ঠিক আছি।”

“কিন্তু মুখ দেখে তো তা মনে হচ্ছে না।”

“মুখ দেখে কী মনে হচ্ছে?”

“মনে হচ্ছে খুব কেঁদেছিস সারা পথ ধরে।”

গুনগুন প্রসঙ্গ বদলিয়ে বলল,

“তুমি এত বছর পরও আমায় চিনলে কীভাবে? মুখ মনে ছিল? নাকি ভিডিয়োকলে দেখেছিলে বলে?”

“মুখ মনে ছিল। তুই এখনো আমার কাছে সেই ছোট্ট গুনগুনই আছিস। এখন আগে বাসায় চল। তোর মামি আর সিয়া অপেক্ষা করছে।”

মামা গুনগুনের লাগেজটা নিয়ে হাঁটা শুরু করলেন। গুনগুন জিজ্ঞেস করল,

“হাসিব ভাইয়া কোথায়?”

“বাসাতেই। ঘুমাচ্ছে।”

এয়ারপোর্ট থেকে বের হতেই ঠান্ডা হাওয়া মুখে লাগল গুনগুনের। চারপাশে উঁচু উঁচু বিল্ডিং, নিঃশব্দে ক্লান্তহীন ছুটে চলা গাড়ি। ওসাকা যেন কখনো থামে না কোথাও।

গাড়িতে বসে গুনগুন জানালার বাইরে তাকিয়ে রইল। রাস্তার পাশে সারি সারি দোকান। ছোটো ছোটো রেস্টুরেন্ট, কোথাও ঝুলছে জাপানি লণ্ঠন, কোথাও আবার উজ্জ্বল সাইনবোর্ডে লেখা নাম। এখানকার সবকিছুই যেন আলাদা ও নতুন। এত নতুনত্বের মাঝেও গুনগুনের মনটা যেন পড়ে আছে বাংলাদেশের পুরান একটা শহরে, বউপাগল একটা ছেলের কাছে। চোখদুটো আবার ঝাপসা হয়ে আসছে গুনগুনের।

“বুঝলি গুনগুন, ওসাকা শহরটা খুব লাইভলি। এখানে মানুষ কাজ করে, হাসে, খায়। সবাই খুব এনার্জেটিক। দেখবি সবকিছুতেই একটা আলাদা এনার্জি আছে।” বললেন রিয়াজ রেহমান।

গুনগুন কিছু বলল না। শুনে শুধু মৃদু হাসল।
ওর ভেতরে তখনও একটা নিরব শূন্যতা কাজ করছে।

অনেকটা পথ পেরিয়ে গাড়িটা একটা শান্ত আবাসিক এলাকায় ঢুকল। এখানে শহরের কোলাহল নেই একদম। ছোটো ছোটো বাড়ি, সামনে গাছপালা, আর একটা মন মাতানো নিস্তব্ধতা।

মামা গাড়ি থেকে নেমে বললেন,

“এটাই আমাদের বাসা।”

গুনগুন ধীরে ধীরে নেমে এল। বাসাটা খুব বড়ো না। কিন্তু ভীষণ গোছানো আর উষ্ণ লাগছিল বাইরে থেকে। ভেতরে ঢুকে বুঝতে পারল তার ধারণা মোটেও ভুল নয়। পুরো বাড়িটা ছিমছাম হলেও খুব সুন্দর করে সাজানো-গোছানো। মামার ডাক শুনে মামি রুম থেকে বেরিয়ে এলেন। সাথে সিয়াও বেরিয়ে এসেছে। সিয়া হাসিব ভাইয়ার বউ। জাপানে আসার আগে বেশ কয়েকবার ভিডিয়ো কলে কথা হয়েছিল। খুব মিষ্টি আর আন্তরিক একটা মেয়ে। ওদের একটা তিন বছরের মেয়ে বাবুও আছে। নাম হানি। এত মিষ্টি দেখতে, এত ফরসা একদম যেন আস্ত একটা পুতুল।

মামি এসেই আগে গুনগুনকে বুকে জড়িয়ে নিলেন। তার নিজের কোনো মেয়ে নেই বলে মেয়েদের প্রতি তার আলাদা একটা টান কাজ করে। যেমন সিয়াকেও তিনি নিজের মেয়ের মতোই আদর করেন, ভালোবাসেন। মামির হঠাৎ এমন আলিঙ্গনে গুনগুন গলে গেল। মামিকে জড়িয়ে ধরে রাখল অনেকক্ষণ। মা, মা একটা গন্ধ নেওয়ার চেষ্টা করল সে। আবেগপ্রবণ হতে গিয়েও নিজেকে সামলে নিয়ে বলল,

“কেমন আছেন মামি মা?”

“ভালো আছি মা, আল্লাহ্ অনেক ভালো রেখেছে। তোমার আসতে কোনো অসুবিধা হয়নি তো?”

“না।”

একটু থেমে গুনগুন সিয়াকে জিজ্ঞেস করল,

“ভালো আছেন, ভাবি?”

“হ্যাঁ, গো। এখন তো তোমায় পেয়ে আরো ভালো লাগছে।”

গুনগুন মৃদু হাসল। জিজ্ঞেস করল,

“হাসিব ভাইয়া আর হানি কোথায়?”

“দুজনই ঘুমাচ্ছে। মেয়েটা একদম তোমার ভাইয়ার কার্বনকপি হয়েছে।”

গুনগুন এবারও মৃদু হাসল। মামা তখন সিয়াকে বললেন,

“মা, আগে ওর রুমটা দেখিয়ে দাও। ফ্রেশ হয়ে আসুক। তারপর খেতে খেতে বাকি গল্প কোরো।”

সিয়া মাথা নাড়িয়ে বলল,

“আচ্ছা।”

গুনগুনকে নিয়ে একটা মাঝারি সাইজের রুমের সামনে এলো সিয়া। দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে লাইট জ্বালিয়ে দিল। জানালাটা খুলে দিয়ে বলল,

“আমি আর মা মিলে রুমটা তোমার জন্য সাজিয়েছি। তোমার যদি আরো কিছু লাগে তাহলে আমাদের যে কাউকে বললেই হবে।”

একটা সেমি ডাবল খাট, ড্রেসিংটেবিল, একটা আলমারি আর একটা পড়ার টেবিল ও সুন্দর কিছু আর্টিফিশিয়াল ফুল দিয়ে রুমটা সাজানো। বাড়তি কিছু নেই বলেই সাধারণভাবে রুমটাকে ভালো লাগছে দেখতে।ফুলগুলো দেখেই প্রণয়ের কথা আরো বেশি করে মনে পড়তে লাগল। হাসিটা মিলিয়ে গেল মুহূর্তেই।

সিয়া তখন বলল,

“তুমি ফ্রেশ হয়ে বাইরে এসো।”

গুনগুন মাথা নাড়াল। সিয়া চলে যাওয়ার মুহূর্তে গুনগুন পিছু ডেকে বলল,

“ভাবি, আমার একটা সীম লাগবে। দেশে কল করব।”

“ওহ হ্যাঁ! আব্বু তোমার জন্য সীম কিনে রেখেছে। তুমি আসো বাহিরে ফ্রেশ হয়ে। আমি নিয়ে রাখছি।”

“ঠিক আছে।”

কাচের জানালা দিয়ে গুনগুন বাইরে তাকিয়ে দেখল, ছোট্ট একটা বাগান আছে ঐপাশে। আর দূরে কয়েকটা গাছ। ব্যাগটা রেখে নিঃশব্দে বিছানার ওপর বসে পড়ল সে।
হঠাৎ করেই তার মনে হচ্ছে, এই নিখুঁত শহরের মাঝেও যেন কিছু একটা নেই। খুব চেনা কিছু। আর সেই চেনা কিছু কিংবা চেনা কেউ যে প্রণয় ছাড়া ব্যতিক্রম কেউ নয় তাও গুনগুন খুব ভালো করেই জানে।

সে আবারও জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়াল। কেমন যেন দম বন্ধ হয়ে আসছে। অস্বস্তি লাগছে। এমন কেন অনুভূতি হচ্ছে? প্রণয় সাথে নেই বলে? বুকের গহীন থেকে একটা ভারী দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো গুনগুনের। জানালার বাইরে দূরে ওসাকার আলো ঝলমল করছে। তার চোখে আবার জল জমে উঠল। আকাশপানে তাকিয়ে অস্ফুট কণ্ঠে ফিসফিস করে বলল,

“আমি চলে এসেছি, আপনার থেকে অনেক দূরে!”

কিন্তু মনে মনে সে জানে তার একটা অংশ এখনো রয়ে গেছে অনেক দূরে। প্রণয়ের কাছে। ওসাকার ব্যস্ত শহরে গুনগুনের এক নতুন জীবন শুরু হলো। কিন্তু তার ভগ্ন হৃদয়টা এখনো প্রণয় নামক সেই পুরোনো গল্পেই আটকে আছে; যেই গল্পে সারাজীবন গুনগুন স্বেচ্ছায় আবদ্ধ থাকতে চায়।


গুনগুন চলে যাওয়ার পর প্রণয় সোজা এয়ারপোর্ট থেকে নিজেদের ফ্ল্যাটে চলে এসেছিল। সাথে মাসুদ আসতে চাইলে বলেছিল, সে একটু একা থাকতে চায়। কুলসুম তাই চোখের ইশারায় মাসুদকে জোর-জবরদস্তি করতে নিষেধ করেছিল।

দরজাটা খুলে প্রণয় যখন ঘরে ঢুকেছিল, প্রথমেই তখন প্রণয়ের মনে হয়েছিল, ঘরটা আজ অদ্ভুতভাবে ফাঁকা। অথচ সবকিছুই আগের মতো আছে। সোফা, টেবিল, জানালার পর্দা, কিছুই বদলায়নি। তবুও যেন কোথাও একটা বড়ো শূন্যতা। গুনগুনের শূন্যতা।

তখন থেকে প্রণয় বাড়িতেই। নিজেদের রুমে একা একা শুয়ে, বসে আছে। সময় কাটছে না। প্রতিটা সেকেন্ড যেন এক যুগের সমান। মনটা অস্থির হয়ে আছে। গুনগুনকে দেখা না পর্যন্ত এই ব্যাকুলতা কমবে না। নীরবতার ঘোরও কাটবে না গুনগুনকে ছাড়া।

হঠাৎ তার চোখ পড়ল টেবিলের ওপর রাখা একটা কাপের দিকে। গুনগুন প্রায়ই এই কাপটা ব্যবহার করত। চা খেতে খেতে গল্প করত, হাসত। সেই হাসির শব্দ যেন এখনো দেয়ালের মাঝে আটকে আছে। প্রণয় স্পষ্ট সেই মুখরিত হাসির শব্দ শুনতে পাচ্ছে। সে উঠে গিয়ে ধীরে ধীরে কাপটা হাতে তুলে নিল।
কাপে আঙুল দিয়ে ছুঁয়ে দেখল, যেন সে গুনগুনের স্পর্শটা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। তার বুকটা হঠাৎ ভার হয়ে আসছে।
সে কাপটা আবার নামিয়ে রাখল। তারপর জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়াল। বাতাসেও যেন বারুদের গন্ধ, প্রণয়কে কষ্ট দেওয়ার মোক্ষম সুযোগ।

“গুনগুন!”

খুব আস্তে করে ডাকল প্রণয়। তার দৃষ্টি আকাশের দিকে। গুনগুন তার থেকে বহুদূরে, ধরা-ছোঁয়ার বাইরেও। তবুও বুকের ভেতর এক অদ্ভুত প্রশান্তি যে, সে আর তার গুনগুন অন্তত একই আকাশের নিচে আছে। সে আবারও ব্যাকুল হয়ে ডাকল,

“গুনগুন? বউ? শুনতে পাচ্ছ?”

কোনো উত্তর নেই। থাকার কথাও না।
নিজের পাগলামিতে প্রণয় মৃদু হাসল। হাসিটা মধুর নয়; ভাঙা ও নিরাশ হাসি। দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বিছানার দিকে এগিয়ে গিয়ে বসে পড়ল সে। বালিশটা হাতে তুলে নিল। এই বালিশে গুনগুন একদিন মাথা রেখে গল্প শুনছিল। এরপর যখন থেকে ওদের সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছিল, তখন থেকে গুনগুন সবসময় প্রণয়ের বুকেই ঘুমাত। হঠাৎ সেই মুহূর্তগুলো একের পর এক ভেসে উঠছে প্রণয়ের চোখের দৃশ্যপটে। তার চোখে পানি জমে উঠেছে।
এখন আর কান্না আটকানোর চেষ্টাও করল না। ধীরে ধীরে সেই পানি গড়িয়ে পড়ল গালে।

ঘরের প্রতিটা কোণায় গুনগুনের স্মৃতি। এই দেয়াল, এই জানালা, এই ছোটো ছোটো জিনিস! সবকিছু যেন গুনগুনের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। প্রণয় আবার উঠে দাঁড়াল। হঠাৎ যেন কিছু খুঁজতে লাগল। ড্রয়ার খুলছে, আবার বন্ধ করছে। কিন্তু সে নিজেও জানে না কী খুঁজছে কিংবা কী করছে। কিছু করেই স্বস্তি পাচ্ছে না। কোনো কাজেই মন বসছে না। মন যেন কটাক্ষ করে বলছে,

“তুই একটা বোকা প্রেমিক, একটা বোকা স্বামী। বুঝতে পারছিস না আমি কেন স্বস্তি পাচ্ছি না? কী খুঁজছি আমি জানিস না? তোর গুনগুনকে খুঁজছি। বুঝেছিস বোকা?”

মনের প্রবোধ শুনে শেষে ক্লান্ত হয়ে মেঝেতে বসে পড়ল সে। মাথা দু’হাতের মাঝে চেপে ধরে রাখল। আর ধরে রাখতে পারছে না নিজেকে। প্রথমে নিঃশব্দে কান্নায় ভেঙে পড়ল। এরপর শব্দ ও চিৎকার করে কান্না করতে লাগল। আজ প্রণয়ের হাহাকার করা কান্না কেউ দেখছে না, কেউ শুনছে না। তাই সে নিজেকে আর থামাল না। তার কান্নার শব্দ ঘরের ভেতরেই আটকে রইল।

প্রণয়ের ভেতরটা অন্ধকার হতে শুরু করেছে, যার শেষ কোথায় সে নিজেও জানে না। সে চিৎকার করে কেঁদে কেঁদে বলতে লাগল,

“তুমি তো নতুন জায়গায়, নতুন পরিবেশে চলে গেলে গুনগুন, যেখানে আমি নেই, আমার কোনো স্মৃতি নেই। কিন্তু এখানে তুমি না থেকেও যেন আছো, আমার স্মৃতিতে আছো, মস্তিষ্কে আছো, হৃদয়ে আছো। স্মৃতির দাবদাহ অনলে ভেতরটা পু’ড়ে ছাড়খাড় হয়ে যাচ্ছে। আমি সইতে পারছি না!”

তীব্র রোদে প্রাণ যখন প্রায় ওষ্ঠাগত, ঠিক তখনই শীতল হাওয়া হয়ে প্রণয়ের ফোনে জাপান থেকে ভিডিয়ো কল এলো। শীতল হাওয়াটুকু হৃদয় শীতল করা তুমুল বৃষ্টিতে পরিণত হলো, যখন কল রিসিভ করার পর স্ক্রিনে গুনগুনের মুখটা ভেসে উঠেছে। প্রণয়কে দেখে মনে হচ্ছে, সে পথ হারানো এক পথিক। পানির তৃষ্ণায় খরখরে মরুভূমিতে ছটফট করছিল। ঠিক সেই মুহূর্তেই গুনগুন যেন সামনে এলো এক পশলা বৃষ্টি হয়ে।

চলবে…

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply