Golpo romantic golpo নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা

নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ৩৫


নীভৃতেপ্রেমআমার_নীলাঞ্জনা

নাজনীননেছানাবিলা

পর্ব_৩৫

অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষেধ ❌❌❌❌
আজকের পর্ব এবং বোনাস পর্ব একসাথে দিয়েছি।

ওই ইঁদুরের সত্য জানো তুমি?
নীলা এতক্ষন কোনো এক ঘোরে থাকলেও এখন যেন বাস্তবে ফিরে এলো মিহালের কথায়।নীলা মিহালের দিকে প্রশ্নাত্মক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল।

মিহাল জানে তার বলা কথা নীলার বোধগম্য হলো না।সে গাছে গা এলিয়ে দিয়ে বসল।হাতে নড়াতে পারছে না এমন অবস্থা তার।গাছে মাথা ঠেকিয়ে কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে রাখল।নীলাও মিহাল কে সময় দিল। কিন্তু সে আন্দাজ করতে পেরেছে মিহাল ইরফানের কথা বলছে। তবুও সে সব সত্য জানতে চায়।তাও মিহালের মুখ থেকে।

মিহাল চোখে মুখে বিরক্তিকর ভঙ্গিমা করে বলল_
তোমার স্বামীর কথা বলছি যে ইঁদুরের মত দেখতে।

নীলার কাশি উঠে পরলো মিহালের কথ শুনে‌। ইরফান কে একদম ইঁদুর বানিয়ে দিল।বেশ হাসি পেল তার কিন্তু এখন হাসা যাবে না তাই নিজেকে সামলিয়ে নিল।

মিহাল আবার বলতে শুরু করল__
আমি জানি আমার কথা তোমার ভালো লাগছে না‌‌। তোমার আদরের ইরফান কে আমি অপমান করছি হয়তো তোমার সহ্য হচ্ছে না। কিন্তু বিশ্বাস করো নীলাঞ্জনা ওই ইঁদুর কে পেলে আমি জ্যান্ত কবর দিয়ে দিতাম। তুমি জানো না ও কতটা নিচু মস্তিষ্কের।

নীলার ঠোঁটেও তাচ্ছিল্যের হাসি ফুটে উঠল।তার থেকে ভালো আর কেই বা জানে যে ইরফান কতটা নিচু মস্তিষ্কের অধিকারী।সে স্ট্রং বলে সেই ট্রমা থেকে বের হয়ে আসতে পেরেছে আজ মাসখানেক হয়ে গেল। কিন্তু বাস্তবিক জীবনে সবাই এতটা স্ট্রং থাকতে পারে না। দিন শেষে নারীদেরকে দোষারোপ করা হয়।আর নারীদের কে এইসব মুখ বুজে সহ্য করে সমাজে থাকতে হয়। কয়জন পারে স্ট্রং থাকতে?নীলা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল।নিজের উপর গর্ববোধ না করে পারে না সে। কত সুন্দর হবে এই বিষয়টি সে হ্যান্ডেল করেছিল। কিন্তু সে আর দ্বিতীয়বার চায় ইরফান বা তার বিষয়ে কিছু সামনে আসুক। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস বার তার সামনে তার ভয়ঙ্কর অতীত নিয়ে আসছে।

মিহাল নীলার দিকে তাকালো। দেখলে মেয়েটা একদম নিশ্চুপ হয়ে বসে আছে।মিহালের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফুটে উঠল। কারণ তার জানা মতে মেয়েটির এতক্ষণে তেতে উঠে কথা। অথচ কিছু না বলে চুপ করে আছে‌।তার মানে কি ইরফান তার সাথেও কিছু করেছে? করতেই পারে ইরফান প্যারিসে থাকা কালীনও কত মেয়ের সাথে সম্পর্কে ছিল। এগুলো নীলা জানতে পারলে তো কষ্ট পাবে। কিন্তু মিহাল চায় না নীলা মিথ্যা জেনে জীবন কাটাক। আজকে তাকে যে করেই হোক নীলা কে সব সত্য বলতে হবে‌। নীলা কষ্ট পেলেও আজ সে সত্যি লুকানোর চেষ্টা করবে না। খানিকের কষ্টের কথা ভেবে সে নীলার গোটা জীবন নষ্ট করতে পারবে না।

মিহাল এবার সোজা হয়ে বসল।নীলার দিকে তাকিয়ে বলতে শুরু করল __
আমি এখন যা বলব হয়তো তোমার কাছে অবিশ্বাস্য লাগবে, অথবা বিশ্বাস করলে তোমার খারাপ লাগবে কিন্তু কিছু করার নেই। আমি তোমাকে অন্ধকারের মাঝে রেখে দিতে চাইনা। তাই তোমাকে আমি যে কথাগুলো বলব সেগুলো ধৈর্য সহকারে শুনতে হবে। নীলাঞ্জনা আমার দিকে তাকাও।

নীলাঞ্জনা ডাক শুনতে নীলার ভেতরটা কেঁপে উঠলো।সে এইবার মিহালের দিকে তাকালো। নিজেকে প্রস্তুত করে নিল সত্যি শোনার জন্য।মিহাল শীতল কন্ঠে বলল_
বিশ্বাস করো আমায়?আমি যা বলতে চলেছি বিশ্বাস করবে?

নীলার মিহালের চোখের দিকে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ, তারপর মাথা উপর নিচু করে সায় দিল।মিহালের ঠোঁট বিশ্ব জয়ের হাসি ফুটে এটা জেনে তার নীলাঞ্জনা তাকে বিশ্বাস করে। এতে করে তার সত্য বলতে সুবিধা হবে।

ঘনঘন শ্বাস নিয়ে বলতে শুরু করল __
কয়েক বছর আগের কথা।আমি এয়ারপোর্টে গিয়েছিলাম আমাদের ইউনিভার্সিটির এক প্রফেসর ছিল যে ট্রান্সফার হয়েছে অন্য জায়গায়, তাকে এয়ারপোর্টে পৌঁছে দেওয়ার জন্য। তখনই এয়ার পোর্ট থেকে একজন যুবক বের হয়ে আসছিল।আমি ফোনে মুনভির সাথে কথা বলতে ব্যস্ত ছিলাম। হঠাৎ এয়ারপোর্ট থেকে লাগেজ সাথে নিয়ে বের হয়ে আসা যুবকটির সাথে থাকা লাগে আমার এবং আমার ফোন মাটিতে পড়ে যায়। মেজাজ গরম হয়ে যায় অনেক। পেছনে তাকাতেই যুবকটির চেহারা দেখতে পেলাম। খুব পরিচিত লাগলো। মস্তিষ্ক সজাগ হতেই মনে হলো আমার বড় মামার চেহারার সাথে হুবহু মিলে যায়।অবাক না হয়ে পারলাম না।

কৌতুহল দমিয়ে রাখতে না পেরে জিজ্ঞেস করে ফেললাম
আপনি কি বাংলাদেশ থেকে এসেছেন?

যুবকটি হয়তো এমন প্রশ্নের জন্য প্রস্তুত ছিল না। তবুও নিজেকে স্বাভাবিক করে আমার প্রশ্নের জবাব করল_
হ্যাঁ আমি ইরফান মির্জা। আই এম ফ্রম বাংলাদেশ

আমার ঠোঁট হাসি ফুটে উঠেছিল তখন। আমি কনফার্ম হয়ে গেলাম যে সে আমার মামাতো ভাই। বিশ্বাস কর খুব আনন্দ লেগেছিল নিজের কোন কাজিন ব্রাদার কে দেখতে পেয়ে। প্যারিসে থাকার কারণে কখনোই কোন কাজিনদের সাথে আমার ভালো বন্ডিং থাকে নি শুধুমাত্র অনলাইনে যা একটু যোগাযোগ হতো। তার ওপর যখন এক কাজিন ভাই কে পেলাম তখন খুশি হয়ে গেলাম কারণ অন্তত কারো সাথে আড্ডা দিতে পারব। এবং বিশেষ করে মার সাথে মামাদের মিলন করিয়ে দিতে পারবো। যতই গম্ভীর ভাব নিয়ে চলাফেরা করি না কেন আমারও ইচ্ছে করে অন্যদের মতো কাজিনদের সাথে একটু হলেও আড্ডা দেই। এই কারণেই ইরফান কে দেখে ভীষণ খুশি হয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু বুঝতে পারছিলাম না তাকে সত্য বললে সে বিশ্বাস করবে কিনা। অথবা তার যে একজন ফুফু আছে এই সম্পর্কে কোন ধারণা আছে কিনা।

তবুও মুখে হাসি নিয়ে নিজের হাত বাড়িয়ে দিলাম এবং বললাম__
আই এম মিহাল খান।নাইস টু মিট ইউ ইরফান।

আমার কথা শোনা মাত্রই ইরফান চোখে থেকে চশমা ছড়িয়ে ফেলল এবং আমার হাতে হাত মিলালো। আমার দিকে কেমন জানি অদ্ভুত ভাবে তাকিয়ে ছিল সে জিনিসটা আমার তখন আমার বোধগম্য হয়নি।

ইরফান আমার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল__
বাই ইনি চান্স আপনার মায়ের নাম কি ইসরাতুল মিনা মির্জা?

কথাটি বলেই ফোন বের করে আমাকে আমার মায়ের ছবি দেখাতে লাগলো। আমি অভাগের চরম পর্যায়ে চলে গেলাম। কারণ মায়ের কথা অনুযায়ী তার ব্যাপারে সেই পরিবারের কোনো ছোট সদস্য জানতো না। এসব ব্যাপারে একমাত্র কাজিনদের মধ্যে আমি জানতাম। তাই ইরফান বিষয়টা জানে দেখিয়ে অবাক না হয়ে পারলাম না। কিন্তু যতটা অবাক হয়েছিলাম তার থেকে বেশি খুশি হয়েছিলাম যে আমার মামাতো ভাই আমাকে চিনতে পেরেছে। তাই বেশি দেরি না করে ইরফানকে জড়িয়ে ধরেছিলাম।
এবং অনেকক্ষণ শক্ত করে জড়িয়ে ধরে থেকে খুশি হয়ে বলেছিলাম_
হ্যাঁ ভাই তুই আমার মামাতো ভাই। অবশেষে কোন এক কাজিন পেলাম আমি। বয়সে কিন্তু তুই আমার থেকে ছোট তাই তুই করেই বললাম রাগ করবি না। আর মির্জা বাড়ির সবাই কেমন আছে? আর তুই এ বিষয়ে জানলে কি করে ছোটরা তো কেউ জানতো না এই বিষয়ে? আর তুই এখানে কি করে?

ইরফান কিছুক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে থেকে তারপর বলল__
আমি এখানে এসেছি স্কলারশিপ নিয়ে। আর হ্যাঁ বাড়ির সবাই ভালো আছে এবং আমি সত্যটা জানতে পেরেছি বাবার ডায়েরি পড়ে নয়তো কেউই এই রহস্য বলতো না আমাদেরকে। যখন সত্য জানতে পারলাম তখনই প্যারিসে চলে আসা সিদ্ধান্ত নিলাম। কিন্তু প্রথমে অনেক চিন্তায় ছিলাম এত বড় দেশে কি করে ফুফুদের খুঁজবো কিন্তু দেখো ভাগ্যক্রমে তোমার সাথে দেখা হয়ে গেল। আসার সময় বাবার ডায়েরি থেকে ফুফুর ছবির একটি ছবি তুলে নিয়ে এসেছিলাম ভাবলাম হয়তো এখানে এসে কাজে লাগবে। অথচ দেখো কত সহজেই তোমাকে খুঁজে পেলাম।

ইরফানের কথা শুনে আমি খুব খুশি হয়েছিলাম। ভেবেছিলাম হয়তো আমার মামাতো ভাই ও চায় তার বাবা এবং ফুফুদের এক করে দিতে। আমি তাকে বললাম_
আমাদের বয়সের পার্থক্য তেমন বেশি না হয়তো দুই তিন বছরের তাই আমাকে তুই করেই ডাক। দিন শেষে তো আমরা মামাতো, ফুফাতো ভাই তাই না? আর ভালো করেছিস এখানে এসে। আমি আছি তোর কোন সমস্যা হলেই আমাকে কল করবে। আর থাকছিস কোথায়? যদি কোন এপার্টমেন্ট নিয়ে থাকিস অথবা হোস্টেল নিয়ে থাকিস তাহলে সেগুলো ক্যানসেল করে আমাদের সাথে আমার বাড়িতেই থাক।

ইরফান সঙ্গে সঙ্গে মাথা নেড়ে উঠে এবং বলেছিল_
না না আমি এখনো ফুফুর সাথে দেখাও করার জন্য প্রস্তুত নই। আমি চাই ফুফু এবং বাবা চাচা দের মাঝে সবকিছু ঠিক হয়ে যাক। তাই কিছুদিন এখানে থেকে বাবা চাচাদের সাথে কথা বলে তাদের মত ভাব বুঝবো। কারণ এখন ফুফুর সাথে দেখা করলে আমি দুর্বল হয়ে যাব ফুফু অনেকটা দুর্বল হয়ে যাবে। তাই সময় মত সবকিছু করব শুধু তুই পাশে থাকিস?

আমি খুশি হয়ে বলেছিলাম__
আমি অবশ্যই তোর পাশে থাকব কারণ আমি নিজেও চাই দুই পরিবারের মাঝে আবার মিলন ঘটুক।আর ভালা হয়েছে তোর সাথে প্রথম দিনে দেখা হয়েছে। এখন বল কোথায় যাবি আমি তোকে পৌঁছে দিচ্ছি।

ইরফান এক হাসি দিয়ে আমাকে তার ঠিকানা বলল আমি মাটি থেকে নিজের ফোন উঠিয়ে তাকে নিজের গাড়িতে করে তার অ্যাপার্টমেন্টে পৌঁছে দিলাম। এবং নিজ খরচে সেখানে যা যা প্রয়োজন সবকিছু ঠিক করে এসেছিলাম যাতে তার কোন অসুবিধা না হয়। বিশ্বাস করো সেদিন আমি খুব খুশি হয়েছিলাম অবশেষে নিজের এক কাজিন পেয়েছি।

ইরফানকে পৌঁছে দিয়ে বাড়ি আসার সময় মুনভির সাথে সমস্ত কথা শেয়ার করি। সে নিজেও অনেক খুশি হয়েছিল‌‌। কিন্তু আমরা দুজন তখনই ভাবতে পারিনি এই খুশি আমাদের জন্য ক্ষণিকের ছিল।

ইরফানকে নিয়ে পুরো প্যারিস শহর ঘুরতে লাগলাম আমি এবং মুনভি। তাকে একটুও বোরিং ফিল করাতাম না। ইউনিভার্সিটি সকল দায়িত্ব আমি নিজে নিয়েছিলাম যাতে তারা ইউনিভার্সিটিতে কোন সমস্যা না হয়। এমনকি তাকে বলেছিলাম পার্ট টাইম জব না করতে যা টাকা লাগে আমি দিব। ভাইয়ের জন্য তো এতোটুকু করাই যায়। এভাবেই ধীরে ধীরে আমাদের বন্ধুত্ব ঘনিষ্ট হয়। আমাদের দুজনের নয় বরং আমাদের তিনজনের বন্ধুত্ব ঘনিষ্ঠ হয়েছিল। আমার কাছে আমার ছোটবেলার বন্ধু মুনভির যতটা প্রাধান্য ছিল ঠিক ইরফান ও ততটাই প্রাধান্য ময় হয়ে গিয়েছিল। আমি ভেবেছিলাম তিনজন মিলে এখন দুই পরিবারকে মিলিয়ে দিব।

কিন্তু যখনই তাকে বলতাম আয় মায়ের সাথে দেখা করিয়ে দেই সে সবসময় এড়িয়ে যেত এবং বলতো সে এখনো মেন্টালি প্রিপায়ার না। আমিও ভাবতাম হয়তো এত বছর যেই ফুফুর অস্তিত্ব সম্পর্কে অজানা ছিল সেই ফুপুর সাথে দেখা করতে সময় লাগবে তাই আমি নিজেও তাকে সময় দিলাম। এভাবেই সময় দিতে লাগলো। দিনের পর দিন মাস এরপর মাস বছরের পর বছর। তাকে যখনই বলতাম সে বলত মির্জা পরিবারের সবাই এখনো ক্ষেপে আছে সে ধীরে ধীরে একজন করে কনভাইন্স করবে। আমি এবং মুনভি ভেবেছিলাম হয়তো এত বছরের মান অভিমান কাটাতে সময় লাগবে তাই আমরাও তাকে সময় দেই এবং বলি ক্যারিয়ার ভালো করে করতে। মুনভি নিজের মতো ডাক্তারি কাজে ব্যস্ত থাকে এবং আমি আমার প্রফেসরের কাজে ব্যস্ত থাকতাম।

কিন্তু কয়েক বছর যেতেই সে নিজের আসল রূপ দেখাতে শুরু করে। অবশ্য তখন তার আসল রূপ আমি দেখতে পারেনি এবং তাকে বুঝতে পারিনি। একদিন শেষে আমাকে বলল_
মুনভির বাবার কারনে নাকি আমার মার তার পরিবারের কাছ থেকে দূরে থেকেছে। মূলত মুনভির বাবা নাকি একদিক দিয়ে আমার বাবাকে ভুল বুঝিয়ে ছিল এবং আরেক দিক দিয়ে আমার মায়ের ভাইদেরকে ভুল বুঝিয়ে ছিল যাতে কারো সাথে কারোর বিয়ে না হয়। এবং যখন আবার বাবা মাকে নিয়ে পালিয়ে আসবে তখন দুই পরিবারের মাঝে ঝামেলা হবে। এই কারণে নাকি উনি এসব কাজ করিয়েছিলেন।

আমি যখন বিশ্বাস করতে রাজি ছিলাম না তখন আমাকে অনেকগুলো মিথ্যে প্রমান দেখায়। যখন সে প্রমাণ গুলো দেখিয়েছিল তখন আমার মনে হয়েছিল এগুলো সত্য কিন্তু পরে যাচাই করে জানতে পারলাম সবকিছু মিথ্যে ছিল। এবং সে এটাও বলে মুনভি নাকি চায়না আমার মা তার ভাইদের সাথে আবার এক হয়ে যাক। সে চাইনা আমি আমার আরেক পরিবার ফিরে পাই।সে নাকি ইরফানকে ট্রেড দেয়। ইরফান মুনভির একটি ভয়েস রেকর্ড আমাকে শোনায়। মুনভির ভয়েস আমি খুব ভালো করেই চিনি তাই সে ভয়েস রেকর্ড শুনে আমি অনেক আঘাত পেয়েছিলাম। বেস্ট ফ্রেন্ড এর কাছ থেকে এমন আঘাত আমি আশা করিনি। সঙ্গে সঙ্গে ইরফানকে নিয়ে মুনভির কাছে গিয়েছিলাম এবং কিছু না বলেই মুনভিকে থাপ্পড় দিয়েছিলাম তাও তার হসপিটালে। এবং এতোটুকুতেই থামেনি আরো অনেক কথা বলে অপমান করেছিলাম।

সেই দিন সে চুপ ছিল এবং বলেছিল একদিন আমি আমার নিজের ভুল বুঝতে পারবো। তার সাথে আর ঝামেলা না করে আমি বাড়ি ফিরে এসেছিলাম। অনেক আঘাত পেয়েছিলাম সেদিন। না পেরে মায়ের কোলে মাথা রেখে অনেকক্ষণ কান্না করেছিলাম। ঠিক কত বছর পর কান্না করি আমার নিজেরও মন নেই। মুনভিকে মেরে সে যতটুকু কষ্ট এবং ব্যথা পেয়েছিল তার থেকে তীব্র ব্যথা এবং কষ্ট আমি পাচ্ছিলাম ভেতরে ভেতরে ।মানতে পারছিলাম না প্রাণপ্রিয় বন্ধু আমাকে ধোঁকা দিচ্ছে। কেন জানিনা বিশ্বাস করতে চাইলো না মন। রাগের মাথায় তাকে অবিশ্বাস করে অপমান করলেও পরবর্তীতে যখন মাথা ঠান্ডা হয়ে এলো তখন নিজের উপর রাগ উঠতে লাগলো। তখন মনে হল একবার বিষয়টি যাচাই করে তারপর কিছু করার উচিত ছিল। কারণ মুনভির চোখ আমি খুব ভাল করেই চিনি এই চোখে কখনোই আমি মিথ্যা দেখিনি। কিন্তু ইরফান কখনোই আমার সাথে কথা বলার সময় চোখে চোখ রেখে কথা বলতো না। সবসময় এদিক সেদিক তাকিয়ে কথা বলতো।

তাই বুদ্ধি করে লোক লাগালাম ইরফানের পেছনে। এবং বাংলাদেশেও লোক লাগালাম। তারপর সেই এলাকা থেকে জানতে পারলাম এখানে মুনভির বাবার কোন দোষই ছিল না। এবং মুনভির যে ভয়েস রেকর্ড ছিল সেটি মূলত ইরফান কে সে অন্য একটি কথা বলেছে বলেছিল। কিন্তু এআই এর মাধ্যমে ইরফান ভয়েস চেঞ্জ করে দিয়েছিল। কিন্তু কাজগুলো আমি আড়ালে করতে পারিনি ফলস্বরূপ ইরফান সবকিছু জানতে পেরে যায় আমি তাকে সন্দেহ করছি এবং তার পিছনে লোক লাগিয়েছে। এবং তার এদিককার পড়াশোনাও অল মোস্ট শেষ হওয়ার পথে তাই সে এই সুযোগ বুঝে বাংলাদেশে চলে আসে। তার ফ্লাইট যখন ল্যান্ড করে তার ঘন্টাখানেক পর আমি জানতে প্যারিস ছেড়ে চলে গিয়েছে। তখনই আমি কনফার্ম হয়ে যাই যে এইসব ইরফানের চাল ছিল।

তখন ইচ্ছে করে ছিল সবকিছু ভাঙচুর করে ফেলতে। পাঞ্চিং ব্যাগের সেদিন ইচ্ছা মত ঘুশি দিয়েছিলাম। ইচ্ছে করছিল হাত কেটে ফেলে দেই যেই হাত দিয়ে আমি মুনভি কে মেরেছিলাম। এরপর থেকেই আমার আর মুনভির বন্ধুত্ব এরকম দেওয়াল তৈরি হয়েছে। কিন্তু দেয়ালের এক পাশে ঠিক সে যে রকম আমাকে এখনো বন্ধু মনে করে আমিও ঠিক দেওয়ালের বিপরীত পাশে দাঁড়িয়ে তাকে নিজের বন্ধু মনে করি। এবং আমার বিশ্বাস মুনভি পারলে আমার জন্য জীবন দিয়ে দিবে যেমনটা আমিও তার জন্য দিতে পারব। এবং আমাদের এই গভীর বন্ধুত্ব কখনো ভাঙতে পারবেনা। কিন্তু আমি একটা জিনিসই জানিনা ইরফান কেন এ কাজগুলো করল এতে তার কি লাভ? এই প্রশ্নের উত্তর জানার জন্যই আমি তাকে খোঁজার জন্য উঠেপরে লাগি।
। চাইইলে বাংলাদেশে গিয়ে তাকে তুলে আনতে পারি কিন্তু এতে করে মার সাথে তার ভাইরা অভিমান করবে এবং আরো পারিবারিক সমস্যা দেখা যাবে। আমি চাইতাম না আমার প্রতিশোধের কারণে আমার মা কষ্ট পাক। এমনিতেই নিজের পরিবারের কাছ থেকে দূরে থেকে উনি অনেক কষ্ট পেয়ে এসেছে এতগুলো বছর। তাই আমাকে যা করার তা খুব ঠান্ডা মাথায় করতে হতো।

হঠাৎ মনে পরল ইরফান সবসময় তার এক চাচাতো বোনের কথা আমার সামনে খুব বলতো যার সাথে থাকি তার বিয়ে ঠিক হয়েছে। আমি যত বারই তার কাছ থেকে তার চাচাতো বোনের নাম জিজ্ঞেস করতাম সে সবসময় বলতো বিয়ের পর নাকি আমাকে বলবে। এমন ভাব করত সে তার চাচাতো বোন নিয়ে অনেক পজেসিভ। অথবা তার চাচাতো বোনের সম্পর্কে আমি কিছু জানলে তার অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। তাই সব সময় সে এই বিষয় এড়িয়ে চলেছে। এবং আমাকে সব সময় শুনিয়ে শুনিয়ে বলতো তার চাচাতো বোন নাকি তাকে অনেক ভালোবাসে, তার জন্য নাকি জীবন দিয়ে দিবে। আমি কখনোই বুঝতে পারেনি সে সব সময় নিজের চাচাকে বোনের প্রশংসা আমার সামনে কেন করতো। কিন্তু তবু সবসময় তার কথা শুনতাম। যখন সে এখান থেকে চলে গিয়েছিল আমাকে ধোঁকা দেবার পর তখন আমি মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম তার প্রাণপ্রিয় চাচাতো বোনের মাধ্যমে প্রতিশোধ নিবো। তারপর তোমার ব্যাপারে খোঁজ লাগাতে শুরু করি। সে আমাকে বলেছিল সে দেশে গেলেই বিয়ে করে ফেলবে। তাই লোক লাগিয়ে জানতে পারি তোমাদের বাড়িতে নাকি বিয়ে হচ্ছে তখন বুঝতে অসুবিধা হয়নি যে তোমার আর ইরফানের বিয়ে ঠিক হয়েছে। আমিও বিয়ে শেষ হবার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। কখনোই তোমার নাম জানতে চাইনি কারণ ইন্টারেস্ট ছিলনা আমার। আমি ভেবেছিলাম যে করেই হোক তোমাকে প্যারিসে আনিয়ে ছাড়বো। প্রয়োজন পড়লে দুজনকে ফ্রি ভিকেশনের টিকেট পাঠাতাম। অথবা দরকার হলে তোমাকে কিডন্যাপ করে এখানে নিয়ে আসতাম তবু ও সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম তোমার মাধ্যমে প্রতিশোধ নিবো।

তারপর জানতে পারলাম তুমি স্কলারশিপে এখানে আসছো। এবং এটাও জানতে পারলাম ইরফান তোমাকে এখানে আসতে দেবে না সে কিছু লোকদের সাথে কন্টাক করেছে যাতে তার এক্সিডেন্ট হয় এবং তুমি এখানে না আসো। হয়তো সে চায় না তুমি এখানে এসে তারপরে যাওয়া কীর্তিকলাপের কথা জেনে যাও তার জন্য এমনটা করেছিল সে। কিন্তু আমি অনেক অবাক হয়েছিলাম তার অ্যাক্সিডেন্ট হবার পরেও তুমি কি করে এখানে চলে এলে। এবং এখানে আসার পর তো তোমার প্রেমে হাবুডুবু খেতেই ব্যস্ত তাই আর কোন প্রতিশোধ নিতে পারলাম না।

শেষের কথাটা আমি হাল একটু দুঃখিত কি ভাব নিয়ে বলল। এবং সমস্ত ঘটনা খুলে বলার পর এক বড় শ্বাস ছাড়লো।

নীলার কোন পরিবর্তন দেখা গেল না। সে আগের ন্যায় মিহালের দিকে তাকিয়ে আছে। মনে হচ্ছে সে কোন কল্পনার দেশে আছে। সব কথা একবারে হজম হতে তার বেশ সময় লাগছে। ইরফান এতটা নিচে নামবে এটা সে কখনো ভাবতে পারেনি। তার সাথে ধোঁকা দিয়েছে বিষয়টা সে মেনে নিতে পারলেও নিজের সাথে এবং ফুফুর সাথেও ধোঁকা দিয়েছে এই বিষয়টি নীলার সহ্য হচ্ছে না। মিহালের ইরফান কে কি করতে ইচ্ছা করছে তা নীলা জানে না।কিন্তু তার নিজের এখন ইরফানকে খুন করতে ইচ্ছে করছে। রাগে দুঃখে কান্না চলে আসছে তার। পুরনো ক্ষত জাগ্রত হয়ে উঠছে তার মনে হচ্ছে ইরফানের নাম শুনে।

সে নিজেকে সময় দিল স্বাভাবিক হওয়ার জন্য। মিহাল বুঝতে পারলাম নীলার অবস্থা তাই সেও নীলাকে কোন চাপ প্রয়োগ করল না। বরং সময় দিল সামলে নেওয়ার জন্য নিজেকে।

নীলা নিজেকে স্বাভাবিক করার পর বিহালে উদ্দেশ্যে বলল__
ইরফানের কি আরো কোন সত্যি আছে যেগুলো আমি জানিনা?

মিহাল হতাশার নিঃশ্বাস ছেড়ে বলল__
আরেকটি জিনিস আসছে যেটা জানলে হয়তো তুমি কষ্ট পাবে।

নীলা ভাবলেশহীন ভঙ্গিতে বলল__
আমার কষ্টের কথা না ভেবে আমাকে সত্যি কথা বলুন আমি সব সত্য শুনতে প্রস্তুত আছি আজকে।

মিহাল নীলার দিকে তাকালো। নীলা চোখে না আছে কোন ভয়, আর না আছে কোন দুঃখ। কিন্তু মিহাল স্পষ্ট দেখতে পেলো নীলার চোখে জ্বলছে আগুন। হয়তো ইরফানের পরিবারের সাথে করা ছলচাতুরি তার পছন্দ হলো না। তাই হয়তো চোখে আগুন জ্বলছে। মিহখল বুঝে গেল এই মেয়েটা ঠিক কতটা স্ট্রং। আজকে যে কোন সত্যি এই মেয়ের শুনতে রাজি। তাই সে ও আর ভনিতা না করে বলতে লাগল _
ইরফানকে প্রায় একটি মেয়ের সাথে দেখতে পেতাম। ইরফান কে যখন জিজ্ঞেস করতাম সে তখন বলতো ফ্রেন্ড কিন্তু আমার সন্দেহ হয় তাই খোঁজ নিয়ে দেখি সে শুধু একটি মেয়ে না কয়েকটি মেয়ের সাথে ঘনিষ্ঠ হয়েছিল কয়েকবার।

কথাটি বলেই মিহাল নীলার দিকে তাকালো। কিন্তু নীলার মুখশ্রীতে কোন পরিবর্তন দেখা গেল না। সে কিছুটা অবাক হলো তবুও আবার বলতে শুরু করল_
বিশেষ করে ইরফান কে আরশি নামক একটি মেয়ের সাথে দেখতে পেতাম।তারা সবসময় একসাথে থাকতো বলতে গেলে এক এপার্টমেন্টেই থাকতো। প্রথম ১,২ মাস সেই মেয়েটিকে আমি দেখিনি ইরফানের আশেপাশে কিন্তু ইরফান এখানে আসার দুই তিন মাস পর প্রায়ই ইরফানকে দেখতাম সেই মেয়েটির সাথে ঘুরাঘুরি করতে। এভাবেই এক সময় দেখলাম তারা একই অ্যাপার্টমেন্টে থাকে। আমি এই বিষয়ে প্রথমে কখনোই মাথা ঘামাইনি। ভাবতাম যার যার লাইফ যার যার চয়েস। কিন্তু বছরখানেক যাওয়ার পর সে সবসময় আমাকে বলল তার চাচাতো বোনের সাথে তার বিয়ে ঠিক হয়েছে। তখন তার সাথে আমার একটুও ঝামেলা হয়েছিল এবং আমি তাকে বলেছিলাম কেন সে তার চাচাতো বোনকে ধোঁকা দিচ্ছে। তখন সে আমার সামনে ভালো সাজার নাটক করে বলেছিল এগুলো সে ভুল করে করে ফেলেছে কিন্তু সে নাকি তার চাচাতো বোনকে ভালোবাসে তাই সে দেশে গিয়ে তার চাচাতো বোনকে বিয়ে করবে। আর তারপরের কাহিনী তো তুমি জানোই সে আমাকে ধোঁকা দিয়ে দেশে চলে এলো।
বলেই থামল মিহাল।

নীলা এতক্ষন নিশ্চুপ এবং শক্ত থাকলেও এখন তার চোখের কোনে পানি জমেছে। ইরফানের অন্য মেয়েদের সাথে ঘনিষ্ঠ হওয়া বিষয়টি জানার পর যতটা না কষ্ট লেগেছে তার থেকে বেশি কষ্ট লেগেছে নিজের বেস্ট ফ্রেন্ডের কথা শুনে। পুরনো কথা আবার মনে পড়ে গিয়েছে। প্রথমে চোখে সামনে ভেসে উঠলো নিজের বিয়ের পোশাকে পরা লুক। তারপর ভেসে উঠল ইরফান এবং আরশির চেহারা একসাথে তাও বিয়ের পোশাকে। নীলার দম নিতে কষ্ট হলো। সেই দিন সে একটুও কাঁদেনি। বারবার নিজেকে বোঝিয়েছে সে প্রতারকদের জন্য চোখের পানি ফেলবে না। কিন্তু আজ সে নিজে চোখের পানি দিয়ে বোঝানোর সময় পর্যন্ত পাইনি। তাই হয়তো চোখ দিয়ে না চাইতো তার জল গড়িয়ে পড়ছে।

মিহাল নীলাকে কাঁদতে দেখে ব্যস্ত হয়ে পরলো। এই মেয়েটি চোখের পানি সে সহ্য করতে পারে না। এই মেয়েটি চোখের পানি দেখলে তার মনে হয় কেউ তার বুকে ছুরি চালাচ্ছে। নিজের হাতের ব্যথা ভুলে গিয়ে নীলার মাথায় হাত রেখে ব্যস্ত কন্ঠে বলল__
নীলাঞ্জনা তুমি প্লিজ কেঁদো না। ওই জানোয়ার তোমার চোখের পানি ডিজার্ভ করে না। প্লিজ তার জন্য নিজের চোখের পানি বিসর্জন দিও না।

নীলা থামলো না বরং ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো। মনে হচ্ছে সে খুব কাছের মানুষ পেয়েছে যার সামনে এসে কাঁদলে তাকে দুর্বল থাকবে না। বরং তাকে শক্ত হতে আরও সাহায্য করবে। তাইতো সবার সামনে সব সময় শক্ত থাকলেও মিহাল তার সামনে আসলেই সে নরম হয়ে যায়।

মিহাল বুঝতে পারছেয়না সে কি করে নীলাকে থামাবে। তার ইচ্ছে করছে নীলাকে বুকে জড়িয়ে কাঁদতে দিতে কিন্তু তাদের মধ্যে এরকম কোন হালাল সম্পর্ক নেই। তাই সে চাইলেও নীলাকে ছুঁতে পারবে না। সে চায় না তার স্পর্শ দিয়ে নীলাকে অপবিত্র করতে।

নীলা কিছুক্ষণ কান্না করে নিজেকে থামালো। তারপর মিহালের দিকে তাকিয়ে অসহায় কন্ঠে বলল__
সে শুধু আপনাকে ঠকাইনি সে আমাকেও ঠকিয়েছে। যেদিন আমাদের বিয়ে হবার কথা ছিল সেইদিন সে আরশি কে বিয়ে করে বাসায় প্রবেশ করেছিল। আরশি ছিল আমার ছোটবেলার বেস্ট ফ্রেন্ড। দুজন মিলে আমাকে ধোঁকা দিয়েছে। তাও আমার নিজের বিয়ের দিন। যাকে ছোটবেলা থেকে ভালবাসতাম এবং যাকে ছোটবেলা থেকে নিজের বেস্ট ফ্রেন্ড মনে করে এসেছিলাম তারা দুজন মিলে একসাথে আমাকে ধোঁকা দিয়েছিল। তাই তো আমি এখানে চলে এসেছি।

বলেই নীলা কাঁদতে লাগলো। মিহাল নীলার কথা শুনে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে আছে। কি বলতে হবে অথবা কি প্রতিক্রিয়া করা উচিত তা ঠিক বোধগম্য হচ্ছে না। মনে হচ্ছে যা শুনলো সবকিছু মিথ্যা ছিল অথবা তার স্বপ্ন ছিল।

নীলা আবার কাঁদতে কাঁদতে বলল __
আমার বিয়ের দিন যখন আমি ধোঁকা পেয়েছিলাম তখন আমি বিন্দুমাত্র কাঁদিনি। সেই দিনের পর থেকে প্যারিসে আসার আগ পর্যন্ত আমি এক ফোঁটাও চোখের পানি বিসর্জন দেইনি। কিন্তু জানিনা কেন আপনি সামনে আসলেই আমি নরম হয়ে যাই। আমি তো এমনটা হতে চাই না। আমি তো শক্ত থাকতে চাই। ভুলে যেতে চাই আমি মানুষ। নিজেকে পাথর কিংবা রোবট বানাতে চাই। কিন্তু দিন শেষে তো আমিও মানুষ। আমারও তো কষ্ট হয়। আপনার সামনে কাঁদলে মনে হয় আপনি কখনোই আমাকে দুর্বল ভাববেন না তাই না চাইতেও আপনার সামনে কেঁদে উঠি। কিন্তু আমি কাঁদতে চাই না। এই নিলা মির্জা কাঁদতে চায় না।

বলেই নাক টেনে চোখ মুছে নিল।মিহালের খুশি হবার কথা এইটা জেনে যে তার ভালোবাসার মানুষ বিবাহিত না। কিন্তু খুশি হবার বদলে সে দুঃখী কারণ তার নীলাঞ্জনা অনেক কষ্ট পেয়েছে। এখন তার ইরফানের উপর রাগ আরও বেশি উঠছে। তাই নীলার দিকে তাকিয়ে বলল__
নীলা মির্জা কাঁদার জন্য নয় বরং কাঁদানোর জন্য জন্ম নিয়েছে।

নীলা মিহালের দিকে তাকালো।তার কান্নার পানিতে ভেজা ঠোঁটে হাসি ফুটে উঠল।মিহাল নীলার চোখে চোখ রেখে নীলা কে অবাক করে দিয়ে বলল _
আমরা আজকেই বিয়ে করব। এটা আমার সর্বশেষ কথা। এবং আমি তোমার আর কোন কথা শুনতে পাচ্ছি না।

চলবে?? মোটামুটি বড় পর্ব লেখেছি ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমা করবেন

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply