#তোমাতেই_আসক্ত
#পর্ব:৫৪
#তানিশা সুলতানা
টনির একটা বাজে স্বভাব হচ্ছে। সে ওয়াশরুমে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকবে। তার অবশ্য কারণ রয়েছে। টনির বউ ইয়ালি ভীষণ ধড়িবাজ মহিলা। তিনি সর্বক্ষণ হাজব্যান্ডকে নজরে নজরে রাখে। কারণ ওনার সন্দেহ হয়।
বউয়ের যন্ত্রণায় দুই দন্ড শান্তি পায় না।
সেই জন্যই ওয়াশরুমকেই সঙ্গী বানিয়েছে।
টনির আবার একটা গার্লফ্রেন্ড আছে। মহিলাটি সুইজারল্যান্ড এর বাসিন্দা তবে বাঙালি। আর সিয়াম তাকে চেনে।
নিত্য দিনের মতো আজকেই সরল টনি ওয়াশরুমে ঢুকে কল করে তার গার্লফ্রেন্ডকে। কমোডে ঢাকনা দিয়ে তার ওপর বসে ভিডিও কল দেয়।।
মহিলাটি কল রিসিভ করতেই টনি বলে ওঠে
“বেবি জামাটা খুলে ফেলো না প্লিজজ।
কতোদিন তোমায় দেখি না।।
মহিলাটি কি করছে না করছে সেসব দেখা গেলো না। তবে তার কন্ঠস্বর শোনা যাচ্ছে।
সে টনিকেও শার্ট প্যান্ট খুলতে বলতেছে।
আমান আহাদ ইভান এবং সিয়াম মনোযোগ দিয়ে দেখছে। আবরার নিজের ফোন ঘাটছে। এদিকে তার খেয়াল নেই।
সিয়াম শুকনো ঢোক গিলে বলে
” ভাই ওরা খোলাখুলি করছে কেনো?
দেখাদেখি করে কি হবে?
ইভান জবাব দেয়
“আরেহহ বেডা টনিকে তো হিজরাদের মতো দেখায়। আবার দুইডা বাচ্চা আছে। তাই আর কনফিউজড হয়ে গিয়েছে। কনফিউশান দূর করতেই খুলতে বলতেছে।
সেই মুহূর্তেই ইশারা কেবিনে ঢোকে। মূলত সে এই হাসপাতালের নার্স।
ইভানের কথা পুরোটাই সে শুনতে পায় নি তবে লাস্টের কথাটা শুনেছে।
” কি খোলাখুলি হচ্ছে?
ইশারার কন্ঠস্বরে চমকালো ৪ জন। পেছন ফিরে তাকায়। তখনই ল্যাপটপ থেকে অশ্লীল আওয়াজ ভেসে আসে। পেট মোটা টনি শব্দ করছে আর বলছে
“জান কবে তোমায় কাছে পাবো?
আমি আর অপেক্ষা করতে পারছি না।
ইশারার কান গরম হয়ে উঠলো। সে শুকনো ঢোক গিলে সবার দিকে এক পলক তাকালো।
সিয়াম ততক্ষণে ল্যাপটপের সাটার বন্ধ করে ফেলেছে।
আমান হে হে করে হেসে বলে
” বুঝলে ইশারা
ওই আর কি
সিয়াম কবিতার সুরে বোঝা তো।
সিয়াম শুকনো কাশি দিয়ে গলা পরিষ্কার করলো তারপর বলে
“বুইড়া বেডার পাখি ছোট
তবুও রশ কমে না
নারি দেখলেই ছুকছুকানি ওঠে
দম যে নাই তা মানে না।।
ইশারা কিছুই বুঝলো না। তবুও সেখানে আর এক মুহূর্তও দাঁড়ালো না।।
” আপনার ঔষধ খাওয়ার টাইম হয়ে গিয়েছে। খেয়ে নিয়েন
বলেই দৌড়ে চলে গেলো।
ইভান বলে
“ভাই তোরা এই মেয়েটাকে বার বার সরম দিস কেনো?
আমান বলে
” সরম তো পাবে সেইদিন যেদিন দেখবে সিয়ামের মেশিন নাই।
সিয়ামের ইচ্ছে করলো কঠিন কিছু কথা শোনাতে। তবে তা করলো না। কারণ সে দেখতে চায় টনি এখন কি পজিশনে আছে। হালার বয়স পোঁচচল্লিশ ছাড়াই গেলো অথচ যৌবনে ভাটা পড়লো না।
যৌবন কালে প্রেম আসলে কি হইতো?
টনির কথা চিন্তা করেই বোধহয় বাংলাদেশে লিপি সরকার গান গেয়েছিলো
“যৌবন থাকিতে বন্ধু আসলে না”
সিয়াম নিচু স্বরে গানটার কয়েক লাইন গাইতে গাইতে ল্যাপটপ অপেন করে। এবং দেখতে পায় টনি এখন ভয়ংকর পজিশনে আছে।
আমান আসতাগফিরুল্লাহ
নাউজুবিল্লাহ বলতে বলতে ৪ হাত দূরে যায়। সিয়াম ফোন বের করে কয়েকটা ফটো তুলে তখনই পাঠিয়ে দেয় টনির হোয়াটসঅ্যাপ এ।
তারপর কাচুমাচু হয়ে বসে থাকে।
ইভান বলে
“প্রেম করলে এমনে খোলাখুলি করতে হয়?
আবরার আব্বা তুই করে
বাকিটা শেষ করার আগেই একটা আপেল ইভানের দিকে ছুঁড়ে মারে আবরার। সোজা গিয়ে লাগে কপালে। ঠাসস করে পড়ে যায় ইভান।
আহাদ বলে
” ছিহহহ
আম্মো আব্বোর পার্সোনাল বিষয় নিয়ে কথা বলতে হয় না। জানিস না?
তা আব্বো তুই শুধু এইটুকু বল
ভার্জিন আছিস এখনো?
আবরার দুই ভ্রু আড়াআড়ি ভাবে কুঁচকে তাকালো আহাদের মুখ পানে।
ব্যাস তখনই সিয়ামের ফোন খানা বেজে ওঠে।
টনি কল করেছে।
সিয়াম রিসিভ করেই বলে
“জান প্লিজজ জামাডা খোলো। কিন্তু প্যান্ট খুলিও না।
তোমার কালা পাছা দেখে অলরেডি আমার বন্ধু আবরার কোমায় চলে গেছে।
আর কাউকে কোমায় পাঠাইও না বাবু।
আর একটা কথা
পাছায় লতা হারবাল ক্রিম ব্যবহার করিও। একটু ধলা হইবেনে।
বলেই কল কেটে টনির নাম্বারটা ব্লক করে দেয়। দেখ শালা কেমন লাগে।।
____
৩ দিন হয়ে গেলে আবরার কে দেখতে পায় না আদ্রিতা। পরান খানা যেনো ছটফট করছে। মানুষটা এখন কেমন আছে কে জানে?
বুকের ক্ষত কি শুকিয়েছে?
আর মাথার যে চোটটা
সেটার কি খবর?
এই তিন দিনে তিনশো বারের মতো কল করেছে আদ্রিতা। কিন্তু পাষাণ হাতি কল রিসিভ করছে না। সিয়াম ভাইয়েরও পাখা গজিয়ে গেছে
সে তার ফোনটাই বন্ধ করে রেখেছে। একবার হাতের কাছে পাক। তারপর চুল সব গুলো টেনে ছিঁড়ে দিবে।
আরিফ অফিসের জন্য বের হবে। রেডি হয়ে কক্ষ থেকে বের হতেই উদাসীন আদ্রিতাকে দেখতে পায়। এবং ব্যস্ত ভঙ্গিমায় বাসা থেকে বেড়িয়ে যেতে যেতে বলে
“আম্মু আজকে কলেজে যাওয়ার দরকার নেই।
বিকেলে রেডি থাকিও।
আমরা পার্কে ঘুরতে যাবো।
আদ্রিতা হ্যাঁ না কিছুই বললো না।
আরিফ চলে গেলো।
তারপর আবারও কল করলো আবরারের নাম্বারে।
এবারের কলটা রিসিভ হলো। তবে ওপাশ থেকে কোনো শব্দ আসলো না।
আদ্রিতাই আগে কথা বললো
” কেমন আছেন?
“তোমার সামনে এক প্লেট বিরিয়ানি দেওয়া হলো। দুই লোকমা খাওয়ার পরে বিরিয়ানির থালা কেড়ে নেওয়া হলো। কেমন থাকবে?
আদ্রিতা বুঝলো না কিছু। শুধু এতোটুকু বুঝলো আবরারের সামনে থেকে কেউ বিরিয়ানির থালা নিয়ে গিয়েছে।
” আপনি বিরিয়ানি খেতে চান?
“নাহহ
তোমাকে খেতে চাই।।
দিবে?
চলবে
Share On:
TAGS: তানিশা সুলতানা, তোমাতেই আসক্ত সিজন ২
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ১ (১ম অংশ+ শেষ অংশ)
-
অন্তরালে আগুন পর্ব (২৪+২৫)
-
তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ৫৩
-
তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ৫৫
-
তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ৫১
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ৪১
-
তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ৫৬
-
তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ৮
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ৯
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ২৮