Golpo romantic golpo তোমাতেই আসক্ত তোমাতেই আসক্ত সিজন ২

তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ৪১


#তোমাতেই_আসক্ত
#পর্ব:৪১
#তানিশা সুলতানা
বাসে ওঠার অভ্যাস প্রায় চলেই গিয়েছে সিয়ামের। কোনো জানি বাস দেখেই বমি পেয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কিছুই করার নেই। এই বাসে করেই কক্সবাজার যেতে হবে।
তার ওপর জানালার পাশে সিট পাওয়া যায় নি। বিপদ যখন আসে তখন চারিদিক থেকে আসে। পাশের সিটে একটা মেয়ে। আমান আহাদ ইভান ওরা অন্য সিটে বসেছে।
এসি বাস। জানালা বন্ধই থাকবে। তবুও সিয়ামের মাথা ঘুরাচ্ছে। সে ভুলেও পাশের মেয়েটির দিকে তাকাচ্ছে না। মুখের উপর ক্যাপ দিয়ে চোখ দুটো বন্ধ করে আছে।
এই মেয়ে মানুষ মানেই ঝামেলা।
একটা মেয়েকে পছন্দ করলো। আর তার বিয়ে ঠিক হয়ে গেলো। কি রে ভাই
পছন্দ করার আগেই বিয়ে ঠিক করতিস।
বিদেশি মেয়েরাই ভালো। তাদের বিয়ে-শাদীর এতো তারা নেই। পছন্দ করলাম, প্রপোজ করলাম
ব্যাস হয়ে গেলো।
৫০০ ছেলের সাথে নাচবে তবুও তোমারই থাকবে। ১০০ জনের সাথে লিভ ইন করবে তাও সমস্যা নাই বিয়ে তোমাকেই করবে।
সুইজারল্যান্ডের মেয়েগুলো আবার ধবধবে ফর্সা।
ছোট ছোট জামা পড়ে হাঁটু বের করে কোমর বাঁকিয়ে বাঁকিয়ে যখন হাটে সিয়ামের ইচ্ছা করে নিজের কিডনি বিক্রি করে হলেও ওদের জন্য হাঁটু থাকা জামা কিনে দেওয়ার।
আর বলতে ইচ্ছে করে “মোটা মোটা ঠ্যাং বের করে রাইখেন না খালাম্মোরা। মনে হয় সামনে দিয়ে জলহস্তির হেঁটে যাচ্ছে”
থাক গে
বাংলাদেশের মেয়েগুলোই ভালো। তাদের পছন্দ করলেই বিয়ে হয়ে যায় এটা কোনো বড় ব্যাপার না।
একটা গেছে তো কি হইছে
নতুন একটা পটানো উচিত।
বাপ্পারাজের মতো হওয়া যাবেনা। হতে হবে শাকিব খানের মতো।
যদিও সিয়াম দেখতে শাকিব খানের থেকে একটু বেশি সুন্দর।
মনে মনে নিজেকে ওয়ার্ল্ড এর বেস্ট সুদর্শন যুবকের অ্যাওয়ার্ড খানা ছুঁড়ে দিয়ে মুখের উপর থেকে ক্যাপ খানা সরিয়ে ফেলে। তারপর পাশে থাকা মেয়েটার দিকে তাকায়।
মুহূর্তে তার চোখ দুটো বড় বড় হয়ে যায়।
আরেহহ এটা তো ওই মেয়েটা
যাকে বাইক দিয়ে ধাক্কা মেরেছিলো।
ওইদিন তো ইনোসেন্ট হওয়ার ভাব ধরে বেঁচে গিয়েছিলো। আজকে কি তবে সিয়ামের চোখ দুটো তুলে নেওয়া হবে?
হায় আল্লাহ
চোখ চলে গেলে দেখবে কিভাবে?
আবারও মুখের উপর ক্যাপ খানা দিয়ে ফেলে।
“মেয়ে মানুষ বড়ই সেয়ানা
ওরেহহ সিয়াম তুই দিস না ধরা
ভালো ছেলের বড় অভাব
তুই ধরা দিয়ে নষ্ট করিস না স্বভাব
বিড়বিড় করে কবিতা খানা আওড়ালো।
ইশারা শুনলো। এবং চিনেও ফেলল। তবুও কিছু বলল না।
চুপচাপ চোখ বন্ধ করে থাকলো।


আবরার মনোযোগ দিয়ে ল্যাপটপে কিছু একটা করছে এবং সেই ফাঁকে ফাঁকে আদ্রিতা মুখে পিজ্জার স্লাইস তুলে দিচ্ছে।
মেয়েটা বড়ই ব্যস্ত।
হাতে ধরে খাওয়ার সময় নেই। সে আবরারের ফোনের লক খোলার চেষ্টা করছে।
তবে পারছে না।
এ্যানি এখনো ঘুমুচ্ছে।
দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা করার পরেও যখন লক খুলতে ব্যর্থ হয় তখন হতাশার আদ্রিতা ফোনটা জায়গা মতো রেখে দিয়ে দুই গালে হাত দেয়।
কিছু মুহূর্ত তাকিয়ে থাকে আবরারের মুখ পানে। লোকটা সব সময় এমন গম্ভীর মুখে থাকে কেনো? ঠোঁটগুলো একটু বেশিই গোলাপি কেনো? চুলগুলা এমন কপালে পড়ে থাকে কেনো? এত বেশি ফর্সা কেনো? নাকটা একটু বেশি পারফেক্ট।
খোঁচা খোঁচা দাঁড়িগুলো এত বেশি অ্যাট্রাক্টিভ কেনো?
সব কেনো একটা মানুষের মাঝেই কেনো?
পৃথিবীতে কি আর মানুষ ছিল না?
আর
একটা মানুষের মধ্যে সবকিছুই যখন পারফেক্ট তখন তার স্বভাব চরিত্র এতো বাজে কেনো? মুখে মধু নেই কেনো? হাসতে পারে না কেনো? মিষ্টি করে কথা বলতে পারি না কেনো?
হাতির মতো করে কেনো?
অবশ্য উনি তো একটা জল্লাদ হাতিই।
এতসব ভাবনার মাঝে একটা কলম এসে লাগে আদ্রিতার মাথায়। হালকা একটু ব্যথা পেলো। আহহহ শব্দ করে উঠতেই আবরার দাঁতে দাঁত চেপে বলে
” আমাকে বেরুতে হবে এখন। অশ্লীল আওয়াজ দিবে না। ওয়ার্নিং দিলাম।
আদ্রিতা কপালে হাত বুলাতে বুলাতে ভ্রু কুচকে তাকালো আবরারের পানে।
হিরো সাহেব তাহলে এখন বেরুবে।
সাজের কি বহর
যেনো মেয়ে দেখতে যাচ্ছে। একদম ফর্মাল লুক। এরে ফ্যাশন শেখায় কে?
যেটাই পড়বে সেটাতেই এতো মানায় কিভাবে?
“কোথায় যাবেন আপনি?
আবরার চুল গুলো ঠিকঠাক করতে করতে আয়নার মধ্যে দিয়েই এক পলক তাকালো আদ্রিতার মুখ পানে তবে জবাব দিলো না।
জবাবের অপেক্ষা করলোও না ও।
খাট থেকে নেমে আবরারের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো।
একটুখানি মিনমিন করে বললো
” আমায় ভালোবাসেন?
একটুও সময় নিলো না আবরার। স্পষ্ট স্বরে বললো
“নো
ফাকিং লাভ
আশাহত হলো আদ্রিতা। দুঃখ পেলো মনে মনে। মুহূর্তেই চোখে পানি চলে আসলো। নাকের পাটাতন ফোলাতে ফোলাতে বললো
” তাহলে আমার সাথে এমন করেন কেনো?
কলঙ্কিনী করছেন কেনো আমায়?
“বিকজ ইউ আর মাই ওয়াইফ।
আরেক দরফা চমকালো আদ্রিতা। বড় বড় চোখে তাকিয়ে বললো
” মজা করছেন?
ওয়ালেটে কার্ড ঢোকাতে ঢোকাতে আবরার বললো
“বিয়াই লাগি তোমার?
চোখ মুখ কুঁচকে ফেললো আদ্রিতা। দাঁতে দাঁত চেপে বলে
” আপনি একটা সাইকো
“ইয়েস
আমি সাইকো মাফিয়া প্রচন্ড লেভেল এর ব্যাডবয়
তবুও তোমাকে সারাজীবন আমার সাথেই থাকতে হবে।
আদ্রিতা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বলে
“কখনো হতাশ করেন
আবার কখনো স্পেশাল ফিল করান।
আপনি এমন কেনো আবরার?
আর বোধহয় সময় নেই আবরারের।
বা এই প্রশ্নের জবাব দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করলো না।
সে চলে যেতে যেতে বললো
“আসছি
অহনার রুমে চলে যাও এ্যানিকে নিয়ে।
ব্যাসস চলে গেলো মানুষটা। রেখে গেলো দুঃখ এবং সুখে ভাসতে থাকা আদ্রিতাকে।
চলবে See less

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply